নবম শ্রেণি: ভৌত বিজ্ঞান, অধ্যায় – 4.6 ‘জল’ ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর মান 3

অধ্যায় 4.6: জল – রচনাধর্মী প্রশ্ন (পর্ব-১)

1. মৃদু জল ও খর জলের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো। (3)

উত্তর দেখো
বিষয় মৃদু জল খর জল
সাবানের ফেনা সহজেই প্রচুর ফেনা উৎপন্ন করে। সহজে ফেনা হয় না, সাদা অধঃক্ষেপ পড়ে।
লবণের উপস্থিতি Ca বা Mg-এর লবণ খুব কম থাকে বা থাকে না। Ca বা Mg-এর বাইকার্বনেট, ক্লোরাইড বা সালফেট লবণ দ্রবীভূত থাকে।
ব্যবহার রান্না ও কাপড় কাচার উপযোগী। রান্না বা কাপড় কাচার অনুপযুক্ত।

2. জলের খরতা কত প্রকার ও কী কী? খরতার কারণগুলি সংক্ষেপে লেখো। (1+2)

উত্তর দেখো

প্রকারভেদ: জলের খরতা দুই প্রকার—১) অস্থায়ী খরতা ও ২) স্থায়ী খরতা।
কারণ:
* অস্থায়ী খরতা: জলে ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামের বাইকার্বনেট লবণ [$Ca(HCO_3)_2, Mg(HCO_3)_2$] দ্রবীভূত থাকলে হয়।
* স্থায়ী খরতা: জলে ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামের ক্লোরাইড বা সালফেট লবণ [$CaCl_2, MgSO_4$ ইত্যাদি] দ্রবীভূত থাকলে হয়।


3. আয়ন-বিনিময় পদ্ধতিতে কীভাবে খর জলকে মৃদু করা হয়? (3)

উত্তর দেখো

[Image of ion exchange water softener diagram]

এই পদ্ধতিতে খর জলকে একটি স্তম্ভের মধ্য দিয়ে চালনা করা হয় যাতে কৃত্রিম রেজিন বা জিওলাইট থাকে। রেজিনে থাকা সোডিয়াম আয়ন ($Na^+$), খর জলে উপস্থিত ক্যালসিয়াম ($Ca^{2+}$) ও ম্যাগনেসিয়াম ($Mg^{2+}$) আয়নের সাথে বিনিময় করে।
ফলে জলের খরতা সৃষ্টিকারী $Ca^{2+}$ ও $Mg^{2+}$ আয়নগুলি রেজিনে আটকা পড়ে এবং জল মৃদু সোডিয়াম লবণে পরিণত হয়।
$Ca^{2+} + Na_2R (\text{রেজিন}) \rightarrow CaR + 2Na^+$


4. আয়নমুক্ত জল (Deionized Water) কীভাবে প্রস্তুত করা হয়? (3)

উত্তর দেখো

সাধারণ জলকে প্রথমে ক্যাটায়ন বিনিময়কারী রেজিন ($RH_2$) এবং পরে অ্যানায়ন বিনিময়কারী রেজিন ($R’ (OH)_2$)-এর মধ্য দিয়ে চালনা করা হয়।
১) ক্যাটায়ন রেজিন জল থেকে সমস্ত ধাতব ক্যাটায়ন ($Na^+, Ca^{2+}$) শোষণ করে $H^+$ আয়ন মুক্ত করে।
২) অ্যানায়ন রেজিন জল থেকে সমস্ত অ্যানায়ন ($Cl^-, SO_4^{2-}$) শোষণ করে $OH^-$ আয়ন মুক্ত করে।
৩) অবশেষে এই $H^+$ ও $OH^-$ আয়ন যুক্ত হয়ে বিশুদ্ধ জল ($H_2O$) গঠন করে।


5. খর জল ব্যবহারের তিনটি অসুবিধা উল্লেখ করো। (3)

উত্তর দেখো

১) কাপড় কাচা: খর জলে সাবান ফেনা দেয় না, ফলে সাবানের অপচয় হয় এবং কাপড় ভালো পরিষ্কার হয় না।
২) শিল্পক্ষেত্র: বয়লারে খর জল ব্যবহার করলে বয়লারের গায়ে লবণের শক্ত আস্তরণ বা ‘স্কেল’ পড়ে, যা তাপ পরিবাহিতা কমায় এবং বয়লার বিস্ফোরণের ঝুঁকি বাড়ায়।
৩) রান্না: খর জলে ডাল বা সবজি সেদ্ধ হতে দেরি হয়, ফলে জ্বালানির অপচয় হয়।


6. আয়নমুক্ত জল এবং পাতিত জলের মধ্যে পার্থক্য কী? কোনটি বেশি বিশুদ্ধ? (2+1)

উত্তর দেখো

পার্থক্য: পাতিত জল প্রস্তুত করা হয় জল ফুটিয়ে বাষ্পকে ঘনীভূত করে (ভৌত পদ্ধতি)। আয়নমুক্ত জল প্রস্তুত করা হয় আয়ন-বিনিময় রেজিন ব্যবহার করে (রাসায়নিক পদ্ধতি)। পাতিত জলে কিছু উদ্বায়ী অপদ্রব্য থাকতে পারে, কিন্তু আয়নমুক্ত জলে কোনো আয়ন থাকে না।
বিশুদ্ধতা: রাসায়নিকভাবে আয়নমুক্ত জল পাতিত জলের চেয়ে বেশি বিশুদ্ধ।


7. পানীয় জল বিশুদ্ধ করার তিনটি সাধারণ পদ্ধতি সংক্ষেপে লেখো। (3)

উত্তর দেখো

১) স্ফুটন (Boiling): জলকে ১০০°C উষ্ণতায় ২০ মিনিট ফোটালে বেশিরভাগ জীবাণু মারা যায়।
২) ক্লোরিনেশন: জলে ব্লিচিং পাউডার, ক্লোরিন ট্যাবলেট বা ক্লোরিন গ্যাস মেশালে জল জীবাণুমুক্ত হয়।
৩) অতিবেগুনী রশ্মি (UV Ray): আধুনিক ফিল্টারে UV রশ্মি পাঠিয়ে জলের ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ধ্বংস করা হয়।


8. পারমুটিট (Permutit) কী? এটি কীভাবে খরতা দূর করে? (1+2)

উত্তর দেখো

পারমুটিট: এটি হলো সোদক সোডিয়াম অ্যালুমিনিয়াম সিলিকেট ($Na_2Al_2Si_2O_8 \cdot xH_2O$), যা কৃত্রিম জিওলাইট নামেও পরিচিত।
পদ্ধতি: খর জল পারমুটিটের স্তরের মধ্য দিয়ে গেলে, জলের $Ca^{2+}$ ও $Mg^{2+}$ আয়ন পারমুটিটের $Na^+$ আয়ন দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। ফলে জল মৃদু হয়। কিছুদিন পর পারমুটিট অকার্যকর হয়ে পড়লে তীব্র ব্রাইন (NaCl দ্রবণ) চালনা করে একে পুনরায় সক্রিয় করা হয়।


9. বৃষ্টির জলকে ‘বিশুদ্ধ প্রাকৃতিক জল’ বলা হয় কেন? একে কীভাবে সংরক্ষণ করা যায়? (2+1)

উত্তর দেখো

সূর্যের তাপে ভূপৃষ্ঠের জল বাষ্পীভূত হয়ে মেঘ ও পরে বৃষ্টি রূপে ঝরে পড়ে। এই প্রক্রিয়াটি প্রাকৃতিকভাবে ঘটা একটি পাতন প্রক্রিয়া, তাই বৃষ্টির জলে খনিজ লবণ বা অপদ্রব্য প্রায় থাকে না বললেই চলে। তাই একে বিশুদ্ধ প্রাকৃতিক জল বলে।
সংরক্ষণ: বাড়ির ছাদ থেকে বৃষ্টির জল পাইপের মাধ্যমে নামিয়ে কোনো ভূগর্ভস্থ জলাধারে জমা করে বা পিট (Pit)-এর মাধ্যমে মাটির নিচে পাঠিয়ে ভৌমজলের স্তর বাড়িয়ে সংরক্ষণ করা যায়।


10. স্ফুটন পদ্ধতিতে কীভাবে জলের অস্থায়ী খরতা দূর করা হয়? সমীকরণসহ লেখো। (3)

উত্তর দেখো

অস্থায়ী খর জলকে ফোটালে জলে দ্রবীভূত ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম বাইকার্বনেট লবণ বিয়োজিত হয়ে অদ্রাব্য কার্বনেট লবণে পরিণত হয় এবং অধঃক্ষিপ্ত হয়। ছেঁকে নিলে জল মৃদু হয়।
সমীকরণ:
$Ca(HCO_3)_2 \xrightarrow{\Delta} CaCO_3 \downarrow + CO_2 + H_2O$
$Mg(HCO_3)_2 \xrightarrow{\Delta} MgCO_3 \downarrow + CO_2 + H_2O$


11. ক্লোরিনেশন পদ্ধতিতে জল শোধনের সুবিধা ও অসুবিধা লেখো। (1.5+1.5)

উত্তর দেখো

সুবিধা: এটি খুব সস্তা এবং কার্যকর পদ্ধতি। ক্লোরিন বা ব্লিচিং পাউডার সহজেই জলের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ধ্বংস করতে পারে।
অসুবিধা: অতিরিক্ত ক্লোরিন জলে কটু গন্ধ ও স্বাদ সৃষ্টি করে। এছাড়া ক্লোরিন জৈব পদার্থের সাথে বিক্রিয়া করে ট্রাই-হ্যালোমিথেন (Trihalomethane) তৈরি করতে পারে, যা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর।


12. খর জলে সাবান ঘষলে ফেনা হয় না কেন? রাসায়নিক বিক্রিয়াসহ ব্যাখ্যা করো। (3)

উত্তর দেখো

সাবান হলো উচ্চ ফ্যাটি অ্যাসিডের সোডিয়াম লবণ (যেমন সোডিয়াম স্টিয়ারেট)। খর জলে উপস্থিত $Ca^{2+}$ বা $Mg^{2+}$ আয়ন সাবানের সাথে বিক্রিয়া করে অদ্রাব্য ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়াম স্টিয়ারেট তৈরি করে, যা সাদা অধঃক্ষেপ বা ‘স্কাম’ (Scum) হিসেবে জমা হয়। যতক্ষণ না সমস্ত $Ca^{2+}$ বা $Mg^{2+}$ আয়ন অধঃক্ষিপ্ত হয়, ততক্ষণ ফেনা উৎপন্ন হয় না।
$2C_{17}H_{35}COONa + CaCl_2 \rightarrow (C_{17}H_{35}COO)_2Ca \downarrow + 2NaCl$


13. আর্সেনিক দূষণ কী? মানবদেহে এর দুটি ক্ষতিকর প্রভাব লেখো। (1+2)

উত্তর দেখো

আর্সেনিক দূষণ: ভূগর্ভস্থ শিলাস্তর থেকে আর্সেনিক যৌগ জলে মিশলে বা শিল্পবর্জ্য থেকে জলে আর্সেনিক মিশলে যে বিষক্রিয়া সৃষ্টি হয়, তাকে আর্সেনিক দূষণ বলে। WHO অনুযায়ী পানীয় জলে এর সহনশীল মাত্রা 0.01 mg/L।
প্রভাব: ১) ব্ল্যাকফুট ডিজিজ (হাতে ও পায়ে কালো ছোপ)। ২) ত্বকের ক্যান্সার এবং যকৃত ও ফুসফুসের ক্ষতি।


14. ফ্লোরাইড দূষণ কীভাবে ঘটে? এর প্রভাবে কী রোগ হয়? (1.5+1.5)

উত্তর দেখো

কারণ: ভূগর্ভস্থ ফ্লোরাইড যুক্ত খনিজ (যেমন ফ্লোরস্পার) থেকে বা ফসফেট সার তৈরির কারখানার বর্জ্য থেকে ফ্লোরাইড জলে মিশলে এই দূষণ হয়। পানীয় জলে 1.5 mg/L এর বেশি ফ্লোরাইড থাকলে তা ক্ষতিকর।
রোগ: এর প্রভাবে ‘ফ্লুরোসিস’ রোগ হয়। এতে দাঁতের এনামেল নষ্ট হয়ে যায় (Dental Fluorosis) এবং হাড় দুর্বল ও বাঁকা হয়ে যায় (Skeletal Fluorosis)।


15. ইউট্রোফিকেশন বা শৈবাল ব্লুম (Algal Bloom) কী? এর ফলাফল কী? (1.5+1.5)

উত্তর দেখো

সংজ্ঞা: কৃষিক্ষেত্র থেকে ধুয়ে আসা ফসফেট ও নাইট্রেট সার এবং ডিটারজেন্ট জলাশয়ে মিশলে জলজ উদ্ভিদ ও শৈবালের অতিবৃদ্ধি ঘটে। একে ইউট্রোফিকেশন বা শৈবাল ব্লুম বলে।
ফলাফল: শৈবাল পচে গিয়ে জলের অক্সিজেন নিঃশেষ করে ফেলে (BOD বাড়ে), ফলে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী অক্সিজেনের অভাবে মারা যায়।


16. ওজোন গ্যাস দ্বারা জল শোধন পদ্ধতিটি সংক্ষেপে লেখো। (3)

উত্তর দেখো

ওজোন ($O_3$) একটি অত্যন্ত শক্তিশালী জারক পদার্থ। জলের মধ্য দিয়ে ওজোন গ্যাস চালনা করলে এটি বিয়োজিত হয়ে জায়মান অক্সিজেন ($O$) উৎপন্ন করে, যা জলের ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসকে জারিত করে ধ্বংস করে।
$O_3 \rightarrow O_2 + [O]$
এই পদ্ধতিতে জল খুব ভালোভাবে জীবাণুমুক্ত হয় এবং জলে কোনো দুর্গন্ধ থাকে না।


17. কলিফর্ম কাউন্ট (Coliform Count) বলতে কী বোঝো? এর গুরুত্ব কী? (1.5+1.5)

উত্তর দেখো

সংজ্ঞা: প্রতি ১০০ মিলি জলে কতগুলি কলিফর্ম জাতীয় ব্যাকটেরিয়া (যেমন E.coli) আছে, তার সংখ্যা নির্ণয় করাকে কলিফর্ম কাউন্ট বলে।
গুরুত্ব: এর মাধ্যমে বোঝা যায় জলটি মল দ্বারা দূষিত কি না। পানীয় জলে কলিফর্ম কাউন্ট শূন্য হওয়া উচিত। এর উপস্থিতি আমাশয়, কলেরা ইত্যাদি রোগের ইঙ্গিত দেয়।


18. জলকে ‘সর্বজনীন দ্রাবক’ বলার তিনটি কারণ উল্লেখ করো। (3)

উত্তর দেখো

১) পোলার প্রকৃতি: জল একটি পোলার অণু হওয়ায় এটি অধিকাংশ আয়নীয় যৌগ (লবণ, ক্ষার) দ্রবীভূত করতে পারে।
২) জৈব যৌগ দ্রবীভবন: জল চিনি, গ্লুকোজ, অ্যালকোহলের মতো অনেক সমযোজী জৈব যৌগকেও দ্রবীভূত করতে পারে।
৩) উচ্চ ডাই-ইলেকট্রিক ধ্রুবক: এর মান বেশি হওয়ায় এটি যৌগের অণুগুলিকে সহজেই বিচ্ছিন্ন করতে পারে।


19. জলের ব্যতিক্রান্ত প্রসারণ (Anomalous expansion) কাকে বলে? জলজ প্রাণীদের ওপর এর প্রভাব কী? (1.5+1.5)

উত্তর দেখো

সাধারণত উষ্ণতা কমালে তরলের আয়তন কমে, কিন্তু জলের ক্ষেত্রে 4°C থেকে 0°C উষ্ণতা পর্যন্ত ঠান্ডা করলে আয়তন না কমে বরং বাড়ে। একে ব্যতিক্রান্ত প্রসারণ বলে।
প্রভাব: শীতপ্রধান দেশে জলাশয়ের ওপরের জল বরফে (0°C) পরিণত হলেও নিচের জল 4°C-এ তরল থাকে। ফলে মাছ ও জলজ প্রাণীরা নিচে বেঁচে থাকতে পারে।


20. অতিবেগুনী রশ্মি (UV) দ্বারা জল শোধনের সুবিধা ও অসুবিধা লেখো। (1.5+1.5)

উত্তর দেখো

সুবিধা: ১) এতে কোনো রাসায়নিক মেশাতে হয় না, তাই জলের স্বাদ ও গন্ধ অটুট থাকে। ২) এটি খুব দ্রুত জীবাণু ধ্বংস করে।
অসুবিধা: ১) জল ঘোলা থাকলে এই পদ্ধতি কাজ করে না (UV রশ্মি প্রবেশ করতে পারে না)। ২) এটি ব্যয়সাপেক্ষ এবং বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়।


21. পাতিত জলের চেয়ে পানীয় জল হিসেবে প্রাকৃতিক ঝর্না বা কুয়োর জল বেশি ভালো কেন? (3)

উত্তর দেখো

পাতিত জল হলো বিশুদ্ধ $H_2O$, এতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ লবণ (সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম) থাকে না এবং এর কোনো স্বাদ নেই। অন্যদিকে, প্রাকৃতিক জল বা কুয়োর জলে পরিমিত পরিমাণে খনিজ লবণ ও অক্সিজেন দ্রবীভূত থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং জলকে সুস্বাদু করে।


22. তাপীয় দূষণ (Thermal Pollution) কী? এর একটি প্রভাব লেখো। (2+1)

উত্তর দেখো

সংজ্ঞা: কলকারখানা বা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নির্গত গরম জল সরাসরি জলাশয়ে ফেলার ফলে জলের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়াকে তাপীয় দূষণ বলে।
প্রভাব: তাপমাত্রা বাড়লে জলে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়, ফলে মাছ ও জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটে।


23. ভারী জল (Heavy Water) কী? এর ব্যবহার কী? (1.5+1.5)

উত্তর দেখো

সংজ্ঞা: সাধারণ হাইড্রোজেনের আইসোটোপ ডয়টেরিয়াম ($D$ বা $_1^2H$) দ্বারা গঠিত জলকে ভারী জল ($D_2O$) বলে।
ব্যবহার: পারমাণবিক চুল্লিতে দ্রুতগামী নিউট্রনের গতিবেগ কমানোর জন্য ‘মডারেটর’ হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়।


24. জলের তড়িৎ বিশ্লেষণে অ্যাসিড মেশানো হয় কেন? ক্যাথোডে ও অ্যানোডে কী উৎপন্ন হয়? (1+2)

উত্তর দেখো

বিশুদ্ধ জল তড়িৎ কুপরিবাহী। তাই জলে আয়ন সংখ্যা বাড়িয়ে তড়িৎ পরিবহনক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য সামান্য অ্যাসিড (বা ক্ষার) মেশানো হয়।
উৎপন্ন গ্যাস: ক্যাথোডে হাইড্রোজেন ($H_2$) এবং অ্যানোডে অক্সিজেন ($O_2$) গ্যাস উৎপন্ন হয়।


25. ক্লার্কের পদ্ধতিতে (Clark’s Process) কীভাবে জলের অস্থায়ী খরতা দূর করা হয়? সমীকরণসহ লেখো। (3)

উত্তর দেখো

অস্থায়ী খর জলের সঙ্গে পরিমাণমতো চুন ($CaO$) বা কলিচুন [$Ca(OH)_2$] মিশিয়ে ভালোভাবে নাড়ালে দ্রবীভূত বাইকার্বনেট লবণগুলি অদ্রাব্য কার্বনেট লবণে পরিণত হয়ে থিতিয়ে পড়ে।
সমীকরণ:
$Ca(HCO_3)_2 + Ca(OH)_2 \rightarrow 2CaCO_3 \downarrow + 2H_2O$
$Mg(HCO_3)_2 + Ca(OH)_2 \rightarrow MgCO_3 \downarrow + CaCO_3 \downarrow + 2H_2O$


26. বয়লারের স্কেল (Scale) দূর করার উপায় কী? স্কেল পড়ার ফলে কী কী ক্ষতি হয়? (1+2)

উত্তর দেখো

দূরীকরণ: বয়লারের গায়ে জমা স্কেল দূর করতে লঘু অ্যাসিড বা সোডিয়াম ফসফেট বা সোডিয়াম কার্বনেট দ্রবণ ব্যবহার করা হয়।
ক্ষতি: ১) স্কেল তাপের কুপরিবাহী হওয়ায় প্রচুর জ্বালানির অপচয় হয়। ২) বয়লারের দেওয়াল অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে ফেটে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।


27. পরিবেশের উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে জলের উচ্চ আপেক্ষিক তাপের ভূমিকা কী? (3)

উত্তর দেখো

জলের আপেক্ষিক তাপ খুব বেশি (1 cal/g·°C) হওয়ায় জল গরম হতে যেমন বেশি তাপ নেয়, তেমনি ঠান্ডা হতেও প্রচুর তাপ বর্জন করতে হয়। সমুদ্র বা জলাশয়ের জল দিনের বেলা সূর্যের তাপ শোষণ করে পরিবেশকে খুব গরম হতে দেয় না এবং রাতে তাপ বর্জন করে খুব ঠান্ডা হতে দেয় না। ফলে সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকার আবহাওয়া মনোরম থাকে।


28. পানীয় জলের গুণমান (Quality Parameters) যাচাই করার তিনটি মাপকাঠি লেখো। (3)

উত্তর দেখো

১) pH মান: ৬.৫ থেকে ৮.৫ এর মধ্যে হতে হবে।
২) কলিফর্ম কাউন্ট: ১০০ মিলি জলে কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা শূন্য হতে হবে।
৩) দ্রবীভূত কঠিন পদার্থ (TDS): ৫০০ মিগ্রা/লিটার এর মধ্যে থাকা বাঞ্ছনীয় (তবে ২০০০ পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য)।


29. জলের তড়িৎ বিশ্লেষণে বিশুদ্ধ জল ব্যবহার না করে অ্যাসিড মিশ্রিত জল ব্যবহার করা হয় কেন? (3)

উত্তর দেখো

বিশুদ্ধ জল মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্য, অর্থাৎ এটি খুব কম পরিমাণে আয়নিত হয় ($H^+$ ও $OH^-$)। ফলে এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হতে পারে না। সামান্য অ্যাসিড (যেমন $H_2SO_4$) যোগ করলে জলে আয়নের সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে যায় এবং জল সুপরিবাহীতে পরিণত হয়, ফলে তড়িৎ বিশ্লেষণ সম্ভব হয়।


30. ইউভি (UV) ওয়াটার পিউরিফায়ার এবং আর.ও. (RO) পিউরিফায়ারের মূল পার্থক্য কী? (3)

উত্তর দেখো

UV (Ultra Violet): এটি অতিবেগুনী রশ্মি ব্যবহার করে কেবল জীবাণু (ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস) মারে, কিন্তু জলে দ্রবীভূত লবণ বা আর্সেনিক দূর করতে পারে না।
RO (Reverse Osmosis): এটি একটি আধা-ভেদ্য পর্দার মাধ্যমে জলকে ছেঁকে নেয়। এটি জীবাণুর পাশাপাশি দ্রবীভূত লবণ, আর্সেনিক এবং ভারী ধাতুও দূর করতে পারে।


শিক্ষার্থীদের সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ) — জল ও তার ব্যবহার

খর জল (Hard Water) ও মৃদু জলের (Soft Water) মধ্যে মূল পার্থক্য কী?

সহজ কথায়, যে জলে সাবান ঘষলে প্রচুর ফেনা হয়, তা হলো মৃদু জল (যেমন বৃষ্টির জল)। আর যে জলে সাবান ঘষলে ফেনা হতে চায় না এবং সাদা দইয়ের মতো অধঃক্ষেপ পড়ে, তা হলো খর জল (যেমন সমুদ্রের জল)। খর জলে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের লবণ বেশি থাকে।

আর্সেনিক ও ফ্লোরাইড দূষণের ফলে মানবদেহে কী কী রোগ হয়?

আর্সেনিক দূষণ: দীর্ঘ দিন আর্সেনিক যুক্ত জল পান করলে হাতে ও পায়ে কালো ছোপ পড়ে, একে ‘ব্ল্যাকফুট ডিজিজ’ (Blackfoot Disease) বলে।
ফ্লোরাইড দূষণ: ফ্লোরাইডের প্রভাবে দাঁতের এনামেল নষ্ট হয় এবং হাড় দুর্বল হয়ে বেঁকে যায়, একে ‘ফ্লুরোসিস’ (Fluorosis) বলে।

পাতিত জল (Distilled Water) কি পানের যোগ্য?

না, নিয়মিত পানের জন্য পাতিত জল উপযুক্ত নয়। যদিও এটি জীবাণুমুক্ত, কিন্তু এতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ লবণ (যেমন সোডিয়াম, পটাশিয়াম) থাকে না। এছাড়া এর স্বাদও ভালো হয় না। তবে ওষুধ তৈরিতে বা ইনজেকশনের জন্য এটি ব্যবহার করা হয়।

জলের ব্যতিক্রান্ত প্রসারণ (Anomalous Expansion) বলতে কী বোঝায়?

সাধারণত ঠান্ডা করলে তরলের আয়তন কমে, কিন্তু জলকে 4°C থেকে 0°C পর্যন্ত ঠান্ডা করলে আয়তন না কমে বরং বেড়ে যায়। একেই জলের ব্যতিক্রান্ত প্রসারণ বলে। এই ধর্মের জন্যই শীতকালে হ্রদের ওপরের জল বরফ হলেও নিচের জল তরল থাকে এবং মাছেরা বেঁচে থাকে।

ইউট্রোফিকেশন (Eutrophication) বা শৈবাল ব্লুম কী?

জলাশয়ে সাবান জল বা রাসায়নিক সার (ফসফেট ও নাইট্রেট) মিশলে শৈবাল বা আগাছার খুব দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে। এর ফলে জলের অক্সিজেন কমে যায় এবং জলজ প্রাণী মারা যায়। এই ঘটনাকে ইউট্রোফিকেশন বলে।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার