নবম শ্রেণী: ইতিহাস, অধ্যায় – 5 : বিশ শতকে ইউরোপ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর মান ২

অধ্যায় ৫: বিংশ শতকের ইউরোপ – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (পর্ব-১)

1. ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের গুরুত্ব কী?

উত্তর দেখো

এই বিপ্লবের ফলে রাশিয়ায় জারতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রভাবে পৃথিবীর শোষিত শ্রমিক ও কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়।


2. ‘এপ্রিল থিসিস’ (April Theses) কী?

উত্তর দেখো

১৯১৭ সালের ১৬ এপ্রিল বলশেভিক নেতা লেনিন রাশিয়ায় ফিরে এসে যে কর্মসূচী ঘোষণা করেন, তাকে ‘এপ্রিল থিসিস’ বলা হয়। এতে তিনি অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ, কৃষকদের জমি দান এবং সমস্ত ক্ষমতা সোভিয়েতগুলির হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানান।


3. ‘লাল ফৌজ’ (Red Army) ও ‘সাদা ফৌজ’ (White Army) কাদের বলা হতো?

উত্তর দেখো

রুশ বিপ্লবের পর বলশেভিক বা সমাজতন্ত্রী সমর্থকদের সেনাবাহিনীকে বলা হতো ‘লাল ফৌজ’। আর জারতন্ত্রী বা বলশেভিক বিরোধীদের সেনাবাহিনীকে বলা হতো ‘সাদা ফৌজ’।


4. ‘রক্তাক্ত রবিবার’ (Bloody Sunday) ঘটনাটি কী?

উত্তর দেখো

১৯০৫ সালের ২২ জানুয়ারি রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে ফাদার গ্যাপনের নেতৃত্বে এক বিশাল শ্রমিক মিছিল জারের কাছে স্মারকলিপি দিতে গেলে জারের পুলিশ তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে বহু শ্রমিক নিহত হয়। এই ঘটনাটি ‘রক্তাক্ত রবিবার’ নামে পরিচিত।


5. বলশেভিক ও মেনশেভিক কাদের বলা হতো?

উত্তর দেখো

রাশিয়ার সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক লেবার পার্টি ১৯০৩ সালে দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। লেনিনের নেতৃত্বে সংখ্যাগুরু দলটিকে বলা হয় ‘বলশেভিক’ এবং মারতভের নেতৃত্বে সংখ্যালঘু দলটিকে বলা হয় ‘মেনশেভিক’।


6. NEP বা ‘নতুন অর্থনৈতিক নীতি’ কী?

উত্তর দেখো

১৯২১ সালে লেনিন রাশিয়ার বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য সমাজতন্ত্রের কঠোর নিয়ম শিথিল করে যে মিশ্র অর্থনীতি চালু করেন, তাকে NEP বা New Economic Policy বলা হয়। এতে কৃষকদের উদ্বৃত্ত শস্য বিক্রির অধিকার দেওয়া হয়।


7. প্যারিস শান্তি সম্মেলনের ‘বিগ ফোর’ (Big Four) কারা ছিলেন?

উত্তর দেখো

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর প্যারিস শান্তি সম্মেলনে প্রধান চারজন নেতা ছিলেন—আমেরিকার রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লয়েড জর্জ, ফরাসি প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেনশ এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী অরল্যান্ডো।


8. ‘চৌদ্দ দফা নীতি’ (Fourteen Points) কী?

উত্তর দেখো

১৯১৮ সালের ৮ জানুয়ারি মার্কিন রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যৎ যুদ্ধ এড়ানোর জন্য যে ১৪টি প্রস্তাব পেশ করেন, তাকেই চৌদ্দ দফা নীতি বলা হয়। এর ভিত্তিতেই লিগ অফ নেশনস গঠিত হয়।


9. ভার্সাই সন্ধির (১৯১৯) প্রধান শর্তগুলি কী ছিল?

উত্তর দেখো

জার্মানিকে যুদ্ধের জন্য এককভাবে দায়ী করা হয় এবং তাকে বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা হয়। তার সেনাবাহিনী ১ লক্ষে নামিয়ে আনা হয় এবং সমস্ত উপনিবেশ কেড়ে নেওয়া হয়।


10. জাতিপুঞ্জ বা লিগ অফ নেশনস কেন গঠিত হয়েছিল?

উত্তর দেখো

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো বিশ্বযুদ্ধ না হয় এবং আন্তর্জাতিক বিবাদ আলোচনার মাধ্যমে মেটানো যায়, সেই উদ্দেশ্যে ১৯২০ সালে লিগ অফ নেশনস গঠিত হয়।


11. ভাইমার প্রজাতন্ত্র (Weimar Republic) কী?

উত্তর দেখো

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানিতে কাইজার দ্বিতীয় উইলিয়ামের পতন ঘটলে ১৯১৯ সালে ভাইমার শহরে যে নতুন গণতান্ত্রিক প্রজাতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয়, তাকে ভাইমার প্রজাতন্ত্র বলা হয়।


12. অর্থনৈতিক মহামন্দা (Great Depression) বলতে কী বোঝো?

উত্তর দেখো

১৯২৯ সালে আমেরিকার শেয়ার বাজারে ধস নামার ফলে সারা বিশ্বের অর্থনীতিতে যে চরম সংকট দেখা দেয়, তাকে অর্থনৈতিক মহামন্দা বলে। এর ফলে কলকারখানা বন্ধ হয়, বেকারত্ব বাড়ে এবং পণ্যের দাম অস্বাভাবিক কমে যায়।


13. ‘নিউ ডিল’ (New Deal) নীতি কী?

উত্তর দেখো

অর্থনৈতিক মহামন্দা মোকাবিলার জন্য আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট ১৯৩৩ সালে যে নতুন অর্থনৈতিক সংস্কার ও পুনর্বাসনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন, তাকে ‘নিউ ডিল’ বলা হয়।


14. হুভার মোরাটোরিয়াম (Hoover Moratorium) কী?

উত্তর দেখো

মহামন্দার সময় জার্মানির পক্ষে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়লে, ১৯৩১ সালে মার্কিন রাষ্ট্রপতি হার্বার্ট হুভার এক বছরের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান স্থগিত রাখার প্রস্তাব দেন। একেই হুভার মোরাটোরিয়াম বলা হয়।


15. ফ্যাসিবাদ (Fascism) কী?

উত্তর দেখো

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালিতে মুসোলিনির নেতৃত্বে যে উগ্র জাতীয়তাবাদী, একনায়কতান্ত্রিক ও গণতন্ত্রবিরোধী মতবাদের উদ্ভব হয়, তাকে ফ্যাসিবাদ বলা হয়। এটি রাষ্ট্রের সর্বময় কর্তৃত্বে বিশ্বাসী।


16. নাৎসিবাদ (Nazism) কী?

উত্তর দেখো

জার্মানিতে হিটলারের নেতৃত্বে যে উগ্র জাতীয়তাবাদী, ইহুদি-বিদ্বেষী ও একনায়কতান্ত্রিক মতবাদের প্রসার ঘটে, তাকে নাৎসিবাদ বলা হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল বিশুদ্ধ আর্য রক্তের জার্মান জাতির শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করা।


17. ‘মেইন ক্যাম্প’ (Mein Kampf) গ্রন্থটির বিষয়বস্তু কী?

উত্তর দেখো

হিটলার জেলে থাকাকালীন এই বইটি লেখেন। এতে তিনি জার্মানির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, নাৎসিবাদের আদর্শ এবং ইহুদিদের প্রতি তাঁর বিদ্বেষের কথা তুলে ধরেন। এটি নাৎসিদের ‘বাইবেল’ নামে পরিচিত।


18. ‘গেস্টাপো’ (Gestapo) কী?

উত্তর দেখো

‘গেস্টাপো’ ছিল হিটলারের কুখ্যাত গুপ্ত পুলিশ বাহিনী। এরা হিটলার বিরোধীদের খুঁজে বের করে হত্যা করত বা কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে পাঠাত। এর প্রধান কাজ ছিল জনগণের ওপর নজরদারি ও ভীতি প্রদর্শন।


19. স্পেনের গৃহযুদ্ধকে ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মহড়া’ বলা হয় কেন?

উত্তর দেখো

স্পেনের গৃহযুদ্ধে জার্মানি ও ইতালি জেনারেল ফ্রাঙ্কোকে সমর্থন করে তাদের নতুন মারণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। অন্যদিকে রাশিয়া প্রজাতান্ত্রিক সরকারকে সাহায্য করে। এটি ছিল আসন্ন বিশ্বযুদ্ধের দুই শিবিরের শক্তির পরীক্ষা, তাই একে ‘মহড়া’ বলা হয়।


20. তোষণ নীতি (Policy of Appeasement) কী?

উত্তর দেখো

ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে হিটলার ও মুসোলিনির অন্যায় দাবিগুলো মেনে নিয়ে তাদের সন্তুষ্ট রাখার যে নীতি গ্রহণ করেছিল, তাকে তোষণ নীতি বলা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধ এড়ানো এবং সাম্যবাদকে প্রতিহত করা।


21. মিউনিখ চুক্তি (Munich Pact) কেন স্বাক্ষরিত হয়েছিল?

উত্তর দেখো

১৯৩৮ সালে হিটলার চেকোশ্লোভাকিয়ার সুদেতেন অঞ্চল দাবি করলে যুদ্ধ এড়ানোর জন্য ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি এই চুক্তি করে। এতে চেকোশ্লোভাকিয়ার মতামত ছাড়াই সুদেতেন জার্মানিকে দিয়ে দেওয়া হয়।


22. রোম-বার্লিন-টোকিও অক্ষ (Axis) কী?

উত্তর দেখো

১৯৩৭ সালে জার্মানি (বার্লিন), ইতালি (রোম) এবং জাপান (টোকিও) সাম্যবাদ ও গণতন্ত্র বিরোধী যে সামরিক জোট গঠন করে, তাকে রোম-বার্লিন-টোকিও অক্ষ বলা হয়। এরাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ‘অক্ষশক্তি’ নামে পরিচিত।


23. রুশ-জার্মান অনাক্রমণ চুক্তি (১৯৩৯) কেন হয়েছিল?

উত্তর দেখো

হিটলার চেয়েছিলেন পোল্যান্ড আক্রমণের সময় রাশিয়া যেন নিরপেক্ষ থাকে। অন্যদিকে স্টালিন চেয়েছিলেন যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য কিছু সময় এবং পোল্যান্ডের কিছু অংশ। এই পারস্পরিক স্বার্থেই ১০ বছরের জন্য এই চুক্তি হয়।


24. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ কী ছিল?

উত্তর দেখো

১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি পোল্যান্ড আক্রমণ করে। এর প্রতিবাদে ৩ সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে, যার ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।


25. ‘ব্রাউন শার্ট’ ও ‘ব্ল্যাক শার্ট’ বাহিনী কী?

উত্তর দেখো

জার্মানিতে হিটলারের ব্যক্তিগত সেনাবাহিনীকে বলা হতো ‘ব্রাউন শার্ট’ বা এস.এ. (S.A.)। ইতালিতে মুসোলিনির স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীকে বলা হতো ‘ব্ল্যাক শার্ট’। এরা বিরোধীদের দমনে সন্ত্রাস চালাত।


26. ‘ফুয়েরার’ ও ‘ইল দুচে’ কথার অর্থ কী?

উত্তর দেখো

‘ফুয়েরার’ কথার অর্থ হলো ‘নেতা’ বা ‘পথপ্রদর্শক’, যা হিটলার গ্রহণ করেছিলেন। ‘ইল দুচে’ কথার অর্থ হলো ‘প্রধান নেতা’, যা মুসোলিনি গ্রহণ করেছিলেন।


27. তৃতীয় রাইখ (Third Reich) কী?

উত্তর দেখো

হিটলার তাঁর শাসনকালকে জার্মানির ইতিহাসে ‘তৃতীয় রাইখ’ বা তৃতীয় সাম্রাজ্য বলে ঘোষণা করেন। তিনি বলেছিলেন এই সাম্রাজ্য হাজার বছর ধরে টিকে থাকবে।


28. ‘অ্যান্টি-কমিন্টার্ন প্যাক্ট’ (Anti-Comintern Pact) কী?

উত্তর দেখো

১৯৩৬ সালে জার্মানি ও জাপান রাশিয়ার কমিউনিজমের বিরোধিতা করার জন্য যে চুক্তি স্বাক্ষর করে, তাকে অ্যান্টি-কমিন্টার্ন প্যাক্ট বা কমিউনবাদ বিরোধী চুক্তি বলা হয়। পরে ইতালি এতে যোগ দেয়।


29. ‘আন্তর্জাতিক বিচারালয়’ (Permanent Court of International Justice) কোথায় অবস্থিত ছিল?

উত্তর দেখো

এটি নেদারল্যান্ডসের হেগ (Hague) শহরে অবস্থিত ছিল। এটি লিগ অফ নেশনসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ছিল।


30. ‘প্রাভদা’ ও ‘ইস্করা’ কী?

উত্তর দেখো

এগুলি ছিল বলশেভিক দলের মুখপত্র বা সংবাদপত্র। ‘প্রাভদা’ মানে সত্য এবং ‘ইস্করা’ মানে স্ফুলিঙ্গ। এগুলির মাধ্যমে বিপ্লবের আদর্শ প্রচার করা হতো।


31. রুশিফিকেশন (Russification) নীতি কী?

উত্তর দেখো

জারের আমলে রাশিয়ার অ-রুশ জাতিগুলির ওপর জোরপূর্বক রুশ ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্ম চাপিয়ে দেওয়ার যে নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল, তাকে রুশিফিকেশন বা রুশীকরণ নীতি বলা হয়।


32. সেরাজেভো হত্যাকাণ্ড কী?

উত্তর দেখো

১৯১৪ সালের ২৮ জুন বসনিয়ার সেরাজেভো শহরে অস্ট্রিয়ার যুবরাজ ফ্রান্সিস ফার্দিনান্দকে এক সার্বীয় সন্ত্রাসবাদী হত্যা করে। এটিই ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের তাৎক্ষণিক কারণ।


33. ‘সোভিয়েত’ (Soviet) কথার অর্থ কী?

উত্তর দেখো

‘সোভিয়েত’ একটি রুশ শব্দ, যার অর্থ হলো পরিষদ, পঞ্চায়েত বা কাউন্সিল। রুশ বিপ্লবের সময় শ্রমিক ও কৃষকরা এই পরিষদগুলি গঠন করে ক্ষমতা দখল করেছিল।


34. ভার্সাই সন্ধিকে ‘জবরদস্তিমূলক সন্ধি’ (Dictated Peace) বলা হয় কেন?

উত্তর দেখো

কারণ জার্মানিকে আলোচনায় ডাকার সুযোগ না দিয়েই মিত্রশক্তি তাদের ইচ্ছেমতো শর্ত জার্মানির ওপর জোর করে চাপিয়ে দিয়েছিল এবং সই করতে বাধ্য করেছিল।


35. ‘ওয়ার কমিউনিজম’ (War Communism) কী?

উত্তর দেখো

বলশেভিক বিপ্লবের পর গৃহযুদ্ধের সময় (১৯১৮-২১) লেনিন যে কঠোর অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও খাদ্য সংগ্রহের নীতি গ্রহণ করেছিলেন, তাকে ‘ওয়ার কমিউনিজম’ বা যুদ্ধকালীন সাম্যবাদ বলা হয়।


36. ‘পপুলার ফ্রন্ট’ (Popular Front) কী?

উত্তর দেখো

স্পেনে ফ্যাসিস্ট শক্তির উত্থান রুখতে বামপন্থী, সমাজতন্ত্রী ও কমিউনিস্ট দলগুলি মিলে ১৯৩৬ সালে যে যুক্তফ্রন্ট গঠন করেছিল, তাকে পপুলার ফ্রন্ট বলা হয়।


37. স্পেনের গৃহযুদ্ধের গুরুত্ব কী?

উত্তর দেখো

এই যুদ্ধ গণতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের মধ্যে সরাসরি সংঘাত ছিল। এতে জেনারেল ফ্রাঙ্কোর জয়লাভ ইউরোপে ফ্যাসিস্ট শক্তির আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে অনিবার্য করে তোলে।


38. কোন ঘটনাকে ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মহড়া’ বলা হয়?

উত্তর দেখো

স্পেনের গৃহযুদ্ধকে (১৯৩৬-৩৯)। কারণ এখানে জার্মানি, ইতালি ও রাশিয়া তাদের আধুনিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছিল এবং বিশ্বযুদ্ধ শুরুর আগে নিজেদের শক্তি যাচাই করে নিয়েছিল।


39. ‘থার্ড ইন্টারন্যাশনাল’ বা ‘কমিন্টার্ন’ (Comintern) কেন গঠিত হয়েছিল?

উত্তর দেখো

১৯১৯ সালে লেনিন বিশ্বজুড়ে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এবং বিভিন্ন দেশের কমিউনিস্ট পার্টিগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য এটি গঠন করেন।


40. ‘উইলসন নীতি’ বা ‘চৌদ্দ দফা নীতি’র প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?

উত্তর দেখো

এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বযুদ্ধ এড়ানো, গোপনে কোনো চুক্তি না করা, জাতিগুলির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার দেওয়া এবং একটি আন্তর্জাতিক শান্তি সংস্থা (লিগ অফ নেশনস) গঠন করা।


41. ‘কালো বৃহস্পতিবার’ (Black Thursday) কী?

উত্তর দেখো

১৯২৯ সালের ২৪ অক্টোবর আমেরিকার নিউইয়র্কের ‘ওয়াল স্ট্রিট’ শেয়ার বাজারে হঠাৎ বিশাল ধস নামে। একদিনেই লাখ লাখ মানুষ দেউলিয়া হয়ে যায়। এই দিনটিকেই ‘কালো বৃহস্পতিবার’ বলা হয়, যা মহামন্দার সূচনা করে।


42. ‘অক্ষশক্তি’ (Axis Powers) কাদের বলা হয়?

উত্তর দেখো

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি, ইতালি ও জাপান—এই তিনটি প্রধান দেশ এবং তাদের মিত্র দেশগুলিকে একত্রে ‘অক্ষশক্তি’ বলা হয়। এরা রোম-বার্লিন-টোকিও অক্ষ চুক্তির মাধ্যমে জোটবদ্ধ হয়েছিল।


43. ‘মিত্রশক্তি’ (Allied Powers) কারা ছিল?

উত্তর দেখো

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, রাশিয়া এবং পরে আমেরিকা—এই দেশগুলিকে একত্রে ‘মিত্রশক্তি’ বলা হয়। এরা অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল।


44. ‘লেবেনস্রাম’ (Lebensraum) তত্ত্বটি কী?

উত্তর দেখো

হিটলার প্রচারিত এই তত্ত্বে বলা হয়, জার্মান জাতির বেঁচে থাকার ও বিকাশের জন্য পূর্ব ইউরোপে (বিশেষ করে রাশিয়ায়) আরও বাসযোগ্য স্থান বা জায়গার প্রয়োজন। এটি ছিল জার্মানির আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি।


Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার