নবম শ্রেণী জীবন বিজ্ঞান: অধ্যায়- ৩ জৈবনিক প্রক্রিয়া সাঁতরা প্রকাশনীর বইয়ের প্রশ্ন উত্তর

✅ প্রথম পর্যায়: MCQ প্রশ্ন ও উত্তর (১ নম্বর)

🎯 বহু বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্ন [MCQ] – প্রশ্নমান ১

১. সালোকসংশ্লেষে আলোর প্রয়োজন কেন?

  1. তাপ উৎপাদনের জন্য
  2. পত্ররন্ধ্র খোলার জন্য
  3. $H_2$ উৎপাদনের জন্য
  4. জলের ফটোলাইসিসের জন্য

✅ উত্তর: জলের ফটোলাইসিসের জন্য

২. সালোকসংশ্লেষ কখন ঘটে?

  1. দিনের বেলায়
  2. অন্ধকারে
  3. দিন ও রাতে
  4. বর্ষাকালে

✅ উত্তর: দিনের বেলায়

৩. পাতার ক্লোরোফিলের প্রয়োজন হয় কী কারণে?

  1. জল বিয়োজনের জন্য
  2. আলোক শক্তি শোষণের জন্য
  3. পাতায় শ্বেতসার সঞ্চয়ের জন্য
  4. ATP উৎপাদনের জন্য

✅ উত্তর: আলোক শক্তি শোষণের জন্য

৪. সালোকসংশ্লেষে কোন্ গ্যাস ব্যবহৃত হয়?

  1. $O_2$
  2. $N_2$
  3. $CO_2$
  4. $H_2$

✅ উত্তর: $CO_2$

৫. জল পরিবহণ কার মাধ্যমে ঘটে?

  1. লসিকা
  2. ফ্লোয়েম
  3. জাইলেম
  4. কলারস

✅ উত্তর: জাইলেম

৬. বাষ্পমোচন নিয়ন্ত্রণ করে কোনটি?

  1. $H_2SO_4$
  2. অ্যাবসিসিক অ্যাসিড
  3. $HNO_3$
  4. $HCl$

✅ উত্তর: অ্যাবসিসিক অ্যাসিড

৭. বাহক প্রোটিন পাম্পের প্রয়োজন হয় কোন প্রক্রিয়ায়?

  1. ব্যাপনে
  2. অভিস্রবণে
  3. সক্রিয় পরিবহণে
  4. বাষ্পমোচনে

✅ উত্তর: সক্রিয় পরিবহণে

৮. বিষম পৃষ্ঠ পাতায় পত্ররন্ধ্র থাকে কোথায়?

  1. ঊর্ধ্বতলে
  2. নিম্নতলে
  3. উভয় তলে
  4. কিনারায়

✅ উত্তর: নিম্নতলে

৯. ট্রাকিয়া কোন্ প্রাণীর শ্বাসঅঙ্গ?

  1. কেঁচো
  2. অ্যামিবা
  3. ফড়িং
  4. বাদুড়

✅ উত্তর: ফড়িং

১০. ধূমপান থেকে কোন্ রোগ হয়?

  1. লাং ক্যানসার
  2. উদরাময়
  3. যকৃৎ প্রদাহ
  4. কনজাংটিভাইটিস

✅ উত্তর: লাং ক্যানসার

১১. ইথাইল অ্যালকোহল সৃষ্টি হয় কোন্ প্রক্রিয়ায়?

  1. সবাত শ্বসন
  2. অবাত শ্বসন
  3. ল্যাকটিক অ্যাসিড সন্ধান
  4. কোহল সন্ধান

✅ উত্তর: কোহল সন্ধান

১২. ভিটামিন-D নিম্নলিখিত কোন্ রোগটি প্রতিরোধ করে?

  1. রিকেট
  2. রক্তক্ষরণ
  3. স্কার্ভি
  4. বন্ধ্যাত্ব

✅ উত্তর: রিকেট

১৩. কোনটি প্রোটিনভঙ্গক উৎসেচক?

  1. অ্যামাইলেজ
  2. গ্যাসট্রিক লাইপেজ
  3. মলটেজ
  4. ট্রিপসিন

✅ উত্তর: ট্রিপসিন

১৪. গোবলেট কোশ থাকে কোথায়?

  1. পাকস্থলী
  2. অগ্ন্যাশয়
  3. আন্ত্রিক-গ্রন্থি
  4. যকৃৎ

✅ উত্তর: আন্ত্রিক-গ্রন্থি

১৫. কাদের ক্ষেত্রে মিথোজীবীয় পুষ্টি লক্ষ্য করা যায়?

  1. লাইকেন
  2. শ্বেতচন্দন
  3. মিউকর
  4. ইস্ট

✅ উত্তর: লাইকেন

১৬. কোন রঞ্জকের উপস্থিতিতে রক্ত লাল হয়?

  1. হিমোসায়ানিন
  2. হিমোগ্লোবিন
  3. হিমোএরিথ্রিন
  4. হিমাটিন

✅ উত্তর: হিমোগ্লোবিন

১৭. অস্থি সন্ধিতে থাকে কোনটি?

  1. লসিকা
  2. রক্ত
  3. কলারস
  4. সাইনোভিয়াল তরল

✅ উত্তর: সাইনোভিয়াল তরল

১৮. $O_2$ ও $CO_2$ পরিবহণ করা কোন রক্তকোশের কাজ?

  1. লোহিত রক্তকণিকা
  2. শ্বেত রক্তকণিকা
  3. অণুচক্রিকা
  4. সবগুলি

✅ উত্তর: লোহিত রক্তকণিকা

১৯. কোন বিভাগের রক্তকে সার্বিক দাতা বলা হয়?

  1. A বিভাগ
  2. B বিভাগ
  3. O বিভাগ
  4. AB বিভাগ

✅ উত্তর: O বিভাগ

২০. শর্করা ও ফ্যাট বিপাকের ফলে কোনটি উৎপন্ন হয়?

  1. ইউরিক অ্যাসিড
  2. অ্যামোনিয়া
  3. কার্বন ডাইঅক্সাইড
  4. ইউরিয়া

✅ উত্তর: কার্বন ডাইঅক্সাইড

২১. নিম্নলিখিত কোনটি উদ্ভিদের নাইট্রোজেনযুক্ত রেচন পদার্থ?

  1. নিকোটিন
  2. রজন
  3. ট্যানিন
  4. গদ

✅ উত্তর: নিকোটিন (বা গদ, তবে নিকোটিন একটি অ্যালকালয়েড যা নাইট্রোজেনযুক্ত রেচন পদার্থ)

২২. নীচের কোনটি কেঁচোর রেচন অঙ্গ?

  1. ম্যালপিজিয়ান নালিকা
  2. নেফ্রিডিয়াম
  3. সংকোচী গহ্বর
  4. ফ্লেম কোশ

✅ উত্তর: নেফ্রিডিয়াম

২৩. কোন্ প্রাণীর দেহে ফ্লেমকোশ দেখা যায়?

  1. অ্যামিবা
  2. ফিতাকৃমি
  3. কেঁচো
  4. হাইড্রা

✅ উত্তর: ফিতাকৃমি

📝 দ্বিতীয় পর্যায়: অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

🎯 এক কথায় উত্তর দাও [VSA] – প্রশ্নমান ১

১. জলের আলোক বিশ্লেষণকে কী বলে?

✅ উত্তর: ফটোলাইসিস

২. কোন্ বিজ্ঞানী সালোকসংশ্লেষের অন্ধকার বিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন?

✅ উত্তর: ব্ল্যাকম্যান (বা **মেলভিন কেলভিন**)

৩. ফোটন কণা কোথায় থাকে?

✅ উত্তর: আলোক রশ্মি বা **সূর্যালোক**-এ

৪. একটি গাছের উদাহরণ দাও যার মূলে সালোকসংশ্লেষ ঘটে।

✅ উত্তর: গুলঞ্চ বা **অর্কিড**

৫. একটি ব্যাকটেরিয়ার উদাহরণ দাও যেখানে সালোকসংশ্লেষ হয়।

✅ উত্তর: রোডোপসিউডোমোনাস বা **ক্রোমাটিয়াম**

৬. কোন্ বিজ্ঞানী প্রোটোপ্লাজমকে জীবনের ভৌত ভিত্তি বলে বর্ণনা করেছেন?

✅ উত্তর: **টি.এইচ. হাক্সলে (T.H. Huxley)**

৭. সক্রিয় পরিবহণ কাকে বলে?

✅ উত্তর: ATP-এর শক্তি ব্যবহার করে কম ঘনত্ব থেকে বেশি ঘনত্বের দিকে পদার্থের পরিবহণ

৮. ফুসফুসের আবরণীকে কী বলে?

✅ উত্তর: প্লুরা

৯. শ্বাসমূল কোন্ উদ্ভিদের শ্বাসঅঙ্গ?

✅ উত্তর: সুন্দরী বা ম্যানগ্রোভ জাতীয় উদ্ভিদ

১০. অ্যালভিওলাই কোথায় থাকে?

✅ উত্তর: ফুসফুসে

১১. শ্বসনে মোট কত অণু ATP উৎপন্ন হয়?

✅ উত্তর: ৩৮ অণু (সবাত শ্বসনে)

১২. রক্ষীকোশ কোথায় থাকে?

✅ উত্তর: পত্ররন্ধ্রে

১৩. অতিরিক্ত শ্বাসযন্ত্র বিশিষ্ট একটি প্রাণীর নাম কী?

✅ উত্তর: শিঙি বা মাগুর মাছ

১৪. হলোজোয়িক পুষ্টির শেষ ধাপটি কী?

✅ উত্তর: বহিষ্করণ

১৫. একটি প্রোটিনভঙ্গক উৎসেচকের উদাহরণ দাও যা অগ্ন্যাশয় রসে থাকে।

✅ উত্তর: ট্রিপসিন

১৬. BMR-এর পুরো নাম কী?

✅ উত্তর: Basal Metabolic Rate

১৭. একটি সুষম খাদ্যের উদাহরণ দাও।

✅ উত্তর: ডিম বা দুধ

১৮. পিত্ত মানুষের ক্ষুদ্রান্ত্রের কোন্ অংশে ক্ষরিত হয়?

✅ উত্তর: ডিওডিনাম (Duodenum)

১৯. কী কারণে চিংড়ির রক্ত নীলাভ?

✅ উত্তর: হিমোসায়ানিন রঞ্জকের উপস্থিতির কারণে

২০. একটি প্রাণীর উদাহরণ দাও যার দ্বৈত সংবহন দেখা যায়?

✅ উত্তর: মানুষ বা পাখি

২১. মানুষের সংবহন মুক্ত না বদ্ধ?

✅ উত্তর: বদ্ধ

২২. কপাটিকা থাকে কোন রক্তবাহে?

✅ উত্তর: শিরা

২৩. বাম অলিন্দ নিলয় সংযোগস্থলে কোন প্রকার কপাটিকা থাকে?

✅ উত্তর: দ্বি-পত্রক কপাটিকা (মাইট্রাল কপাটিকা)

২৪. মুক্ত সংবহন বিশিষ্ট একটি প্রাণীর উদাহরণ দাও।

✅ উত্তর: আরশোলা বা চিংড়ি

২৫. তরুক্ষীর কোথায় পাওয়া যায়?

✅ উত্তর: রবার বা বট গাছে

২৬. ট্যানিন কী?

✅ উত্তর: এক প্রকার নাইট্রোজেনবিহীন রেচন পদার্থ

২৭. শাল গাছের ছাল থেকে কী পাওয়া যায়?

✅ উত্তর: রজন বা ট্যানিন

২৮. মেরুদন্ডী প্রাণীদের প্রধান রেচন অঙ্গ কী?

✅ উত্তর: বৃক্ক (Kidney)

২৯. মানবদেহে ইউরিয়া কোথায় উৎপন্ন হয়?

✅ উত্তর: যকৃতে (Liver)

৩০. নাইট্রোজেনযুক্ত রেচন পদার্থের নাম লেখো।

✅ উত্তর: ইউরিয়া বা ইউরিক অ্যাসিড

৩১. হিল বিক্রিয়া কে আবিষ্কার করেন?

✅ উত্তর: **রবার্ট হিল**

৩২. কোন্ প্রকার জীব সালোকসংশ্লেষে অক্ষম?

✅ উত্তর: ছত্রাক বা **প্রাণী**

৩৩. কোন্ প্রকার সালোকসংশ্লেষে $O_2$ নির্গত হয় না?

✅ উত্তর: ব্যাকটেরিয়ার সালোকসংশ্লেষ

৩৪. সালোকসংশ্লেষে অংশগ্রহণকারী দুটি কো-এনজাইমের নাম কী?

✅ উত্তর: NADP ও ATP

৩৫. উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত জলের কত শতাংশ সালোকসংশ্লেষে ব্যয়িত হয়?

✅ উত্তর: ১ শতাংশের কম (প্রায় **০.২ থেকে ১.০ শতাংশ**)

৩৬. উদ্ভিদের কোন্ অঙ্গকে সালোকসংশ্লেষের কারখানা বলা হয়?

✅ উত্তর: পাতা

৩৭. সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত একটি উৎসেচকের নাম কী?

✅ উত্তর: রুবিসকো (RuBisCO)

৩৮. পাকস্থলীর গাত্রে কোন্ গ্রন্থিকোশ থাকে?

✅ উত্তর: গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি

৩৯. $HCl$ কোন্ কোশ থেকে ক্ষরিত হয়?

✅ উত্তর: অক্সিন্টিক কোশ (Oxyntic cell) বা **প্যারাইটাল কোশ**

৪০. পেপসিন কোন্ কোশ থেকে ক্ষরিত হয়?

✅ উত্তর: পেপটিক কোশ (Peptic cell) বা **চিফ কোশ**

৪১. ব্রুনার বর্ণিত গ্রন্থি কোথায় থাকে?

✅ উত্তর: ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডিনামে (Duodenum)

৪২. গোবলেট কোশ থেকে কী ক্ষরিত হয়?

✅ উত্তর: মিউকাস

৪৩. আরজেনটাফিন কোশ থেকে কী ক্ষরিত হয়?

✅ উত্তর: সেরোটোনিন

৪৪. জুনারের গ্রন্থি থেকে কী ক্ষরিত হয়?

✅ উত্তর: মিউকাস

৪৫. খাদ্যের চর্বণ কোথায় হয়?

✅ উত্তর: মুখ গহ্বরে

৪৬. পেরিস্টলসিস চলন কখন ঘটে?

✅ উত্তর: খাদ্য গ্রহণের পর পৌষ্টিক নালী দিয়ে খাদ্য পরিবহণের সময়

৪৭. চর্বণ ও পেরিস্টলসিস কোন্ ধরনের পরিপাকের অন্তর্গত?

✅ উত্তর: যান্ত্রিক পরিপাক

৪৮. উৎসেচকের সাহায্যে খাদ্য পরিপাককে কী বলে?

✅ উত্তর: রাসায়নিক পরিপাক

৪৯. পাকস্থলীতে কী ধরনের খাদ্যের পরিপাক হয়?

✅ উত্তর: প্রোটিন জাতীয় খাদ্য

৫০. পাকস্থলীতে প্রোটিনভঙ্গক উৎসেচক কী থাকে?

✅ উত্তর: পেপসিন

৫১. পাকস্থলীতে ফ্যাট ভঙ্গক উৎসেচকে কী থাকে?

✅ উত্তর: গ্যাস্ট্রিক লাইপেজ

৫২. পেপসিন প্রোটিনকে কীসে পরিণত করে?

✅ উত্তর: পেপটন ও প্রোটিওজ

৫৩. রেনিন-এর উৎস কী?

✅ উত্তর: পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি

🖊️ তৃতীয় পর্যায়: শূন্যস্থান পূরণ করো

🎯 শূন্যস্থান পূরণ করো – প্রশ্নমান ১

১. $\text{C}_6\text{H}_{12}\text{O}_6 + 6\text{O}_2 + \text{সূর্যালোক} \longrightarrow \_\_\_\_ + 6\text{CO}_2 + 12\text{H}_2\text{O}$।

✅ উত্তর: $\text{C}_6\text{H}_{12}\text{O}_6 + 6\text{O}_2 + \text{সূর্যালোক} \longrightarrow \mathbf{6\text{H}_2\text{O}} + 6\text{CO}_2 + 12\text{H}_2\text{O}$। (সমীকরণটির সঠিক রূপ $6\text{CO}_2 + 12\text{H}_2\text{O} \xrightarrow[\text{ক্লোরোফিল}]{\text{সূর্যালোক}} \text{C}_6\text{H}_{12}\text{O}_6 + 6\text{H}_2\text{O} + 6\text{O}_2$। শূন্যস্থানে **$\mathbf{6\text{O}_2}$** বা **$\mathbf{\text{C}_6\text{H}_{12}\text{O}_6}$** হতে পারে, কিন্তু প্রশ্নের বিন্যাস অনুযায়ী, সালোকসংশ্লেষের কাঁচামাল $\text{CO}_2$ এবং উৎপন্ন জল ও অক্সিজেন বোঝানো হয়েছে।)

২. পাতার $\_\_\_\_$ ত্বকে বেশি পত্ররন্ধ্র থাকে।

✅ উত্তর: পাতার **নিম্ন** ত্বকে বেশি পত্ররন্ধ্র থাকে।

৩. $\_\_\_\_$ মূলে সালোকসংশ্লেষ হয়।

✅ উত্তর: **গুলঞ্চ** বা **অর্কিড** মূলে সালোকসংশ্লেষ হয়।

৪. রঞ্জক $\_\_\_\_$ সৌরশক্তি শোষণ করে সক্রিয় হয়।

✅ উত্তর: রঞ্জক **ক্লোরোফিল** সৌরশক্তি শোষণ করে সক্রিয় হয়।

৫. জলের ফটোলাইসিস ঘটলে হাইড্রোজেন ও $\_\_\_\_$ উৎপন্ন হয়।

✅ উত্তর: জলের ফটোলাইসিস ঘটলে হাইড্রোজেন ও **অক্সিজেন ($\mathbf{O}_2$)** উৎপন্ন হয়।

৬. সালোকসংশ্লেষ একটি $\_\_\_\_$ বিপাক।

✅ উত্তর: সালোকসংশ্লেষ একটি **উপচিতি** বিপাক।

৭. ম্যাঙ্গানিজ একটি $\_\_\_\_$ উপাদান।

✅ উত্তর: ম্যাঙ্গানিজ একটি **ট্রেস** বা **আয়রণ** উপাদান।

৮. $\_\_\_\_$ মানুষের শ্বাসযন্ত্র।

✅ উত্তর: **ফুসফুস** মানুষের শ্বাসযন্ত্র।

৯. নিশ্বাস প্রক্রিয়ায় $\_\_\_\_$ গ্যাস নির্গত হয়।

✅ উত্তর: নিশ্বাস প্রক্রিয়ায় **কার্বন ডাইঅক্সাইড ($\mathbf{CO}_2$)** গ্যাস নির্গত হয়।

১০. $\_\_\_\_$ শ্বাসপেশি।

✅ উত্তর: **ডায়াফ্রাম** বা **মধ্যচ্ছদা** শ্বাসপেশি।

১১. গ্লাইকোলাইসিসের শেষ পদার্থ হল $\_\_\_\_$।

✅ উত্তর: গ্লাইকোলাইসিসের শেষ পদার্থ হল **পাইরুভিক অ্যাসিড**।

১২. শ্বসন প্রক্রিয়ায় মোট $\_\_\_\_$ অণু ATP উৎপন্ন হয়।

✅ উত্তর: শ্বসন প্রক্রিয়ায় মোট **৩৮** অণু ATP উৎপন্ন হয়।

১৩. $\_\_\_\_$ প্রাণীর পরজীবীয় পুষ্টি লক্ষ করা যায়।

✅ উত্তর: **ফিতাকৃমি** বা **গোলকৃমি** প্রাণীর পরজীবীয় পুষ্টি লক্ষ করা যায়।

১৪. $E. coli$ $\_\_\_\_$ এ বাস করে।

✅ উত্তর: $E. coli$ **মানুষের বৃহদন্ত্র** বা **অন্ত্র** এ বাস করে।

১৫. টায়ালিন সেদ্ধ শ্বেতসারকে $\_\_\_\_$ পরিণত করে।

✅ উত্তর: টায়ালিন সেদ্ধ শ্বেতসারকে **মল্টোজ** বা **ডাইস্যাকারাইড** এ পরিণত করে।

১৬. $\_\_\_\_$ রোগে BMR কমে যায়।

✅ উত্তর: **হাইপোথাইরয়েডিজম** বা **থাইরক্সিন** রোগে BMR কমে যায়।

১৭. মানুষের হৃদস্পন্দন মিনিটে $\_\_\_\_$ বার।

✅ উত্তর: মানুষের হৃদস্পন্দন মিনিটে **৭০-৮০** বার।

১৮. $\_\_\_\_$ বিভাগের রক্তকে সার্বিক গ্রহীতা বলে।

✅ উত্তর: **AB** বিভাগের রক্তকে সার্বিক গ্রহীতা বলে।

১৯. $\_\_\_\_$ রক্তবাহে ধমনিতে কপাটিকা থাকে।

✅ উত্তর: **শিরা** রক্তবাহে ধমনিতে কপাটিকা থাকে। (নোট: শিরাতে কপাটিকা থাকে। ধমনিতে কপাটিকা থাকে না। শূন্যস্থানে ধমনির জায়গায় শিরা হওয়া উচিত।)

২০. হৃৎপিণ্ডের $\_\_\_\_$ অলিন্দে দূষিত রক্ত থাকে।

✅ উত্তর: হৃৎপিণ্ডের **ডান** অলিন্দে দূষিত রক্ত থাকে।

২১. লসিকা একপ্রকারের $\_\_\_\_$।

✅ উত্তর: লসিকা একপ্রকারের **তরল যোগকলা**।

২২. ফুসফুসীয় ধমনিতে $\_\_\_\_$ রক্ত থাকে।

✅ উত্তর: ফুসফুসীয় ধমনিতে **দূষিত** রক্ত থাকে।

২৩. প্রোটিন বিপাকের ফলে $\_\_\_\_$ উৎপন্ন হয়।

✅ উত্তর: প্রোটিন বিপাকের ফলে **ইউরিয়া** বা **অ্যামোনিয়া** উৎপন্ন হয়।

২৪. কুইনাইন একপ্রকারের $\_\_\_\_$।

✅ উত্তর: কুইনাইন একপ্রকারের **অ্যালকালয়েড**।

২৫. $\_\_\_\_$ গাছের ক্ষেত্রে বাকল মোচন দেখা যায়।

✅ উত্তর: **পিয়ারা** বা **ইউক্যালিপটাস** গাছের ক্ষেত্রে বাকল মোচন দেখা যায়।

২৬. $\_\_\_\_$ প্রাণীদের রেচন পদার্থ।

✅ উত্তর: **ইউরিয়া** প্রাণীদের রেচন পদার্থ।

২৭. $\_\_\_\_$ উদ্ভিদের কার্বনযুক্ত রেচন পদার্থ।

✅ উত্তর: **রজন** বা **গদ** উদ্ভিদের কার্বনযুক্ত রেচন পদার্থ।

২৮. $\_\_\_\_$ পতঙ্গদের রেচন অঙ্গ।

✅ উত্তর: **ম্যালপিজিয়ান নালিকা** পতঙ্গদের রেচন অঙ্গ।

২৯. প্রাকৃতিক হিল বিকারক হল $\_\_\_\_$।

✅ উত্তর: প্রাকৃতিক হিল বিকারক হল **NADP**।

৩০. উদ্ভিদ $\_\_\_\_$ -এর মাধ্যমে $\text{CO}_2$ গ্যাস শোষণ করে।

✅ উত্তর: উদ্ভিদ **পত্ররন্ধ্র** -এর মাধ্যমে $\text{CO}_2$ গ্যাস শোষণ করে।

৩১. পৃথিবীর সকল শক্তির মূল উৎস হল $\_\_\_\_$।

✅ উত্তর: পৃথিবীর সকল শক্তির মূল উৎস হল **সূর্য**।

৩২. স্থলজ উদ্ভিদ $\_\_\_\_$ দিয়ে মাটির কৈশিক জল শোষণ করে।

✅ উত্তর: স্থলজ উদ্ভিদ **মূলরোম** দিয়ে মাটির কৈশিক জল শোষণ করে।

৩৩. ক্লোরোপ্লাসটিডের সালোকসংশ্লেষীয় একক হল $\_\_\_\_$ কণা।

✅ উত্তর: ক্লোরোপ্লাসটিডের সালোকসংশ্লেষীয় একক হল **কোয়ান্টাজোম** কণা।

৩৪. ক্লোরোফিল সূর্যালোকের $\_\_\_\_$ শোষণ করে সক্রিয় হয়।

✅ উত্তর: ক্লোরোফিল সূর্যালোকের **ফোটন** শোষণ করে সক্রিয় হয়।

৩৫. সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় $\_\_\_\_$ জারিত হয় এবং $\text{CO}_2$ বিজারিত হয়।

✅ উত্তর: সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় **জল** জারিত হয় এবং $\text{CO}_2$ বিজারিত হয়।

৩৬. সবুজপাতার $\_\_\_\_$ কলা সালোকসংশ্লেষের স্থান।

✅ উত্তর: সবুজপাতার **মেসোফিল** কলা সালোকসংশ্লেষের স্থান।

৩৭. প্রাণী পুষ্টির তৃতীয় পর্যায়টি হল $\_\_\_\_$।

✅ উত্তর: প্রাণী পুষ্টির তৃতীয় পর্যায়টি হল **শোষণ**।

৩৮. প্রাণী পুষ্টির শেষ পর্যায়টি হল $\_\_\_\_$।

✅ উত্তর: প্রাণী পুষ্টির শেষ পর্যায়টি হল **বহিষ্করণ**।

৩৯. উইপোকার পৌষ্টিক নালিতে $\_\_\_\_$ নামক আদ্যপ্রাণী বসবাস করে।

✅ উত্তর: উইপোকার পৌষ্টিক নালিতে **ট্রাইকোনিম্ফা** নামক আদ্যপ্রাণী বসবাস করে।

৪০. যেসব প্রাণী মল ভক্ষণ করে তাদের $\_\_\_\_$ বলে।

✅ উত্তর: যেসব প্রাণী মল ভক্ষণ করে তাদের **কপ্রোফাজি** বা **মলভোজী** বলে।

৪১. পাকস্থলীর আয়তন $\_\_\_\_$ লিটার।

✅ উত্তর: পাকস্থলীর আয়তন **১.০ থেকে ১.৫** লিটার।

৪২. ভিলাই-এর লসিকাবাহ দ্বারা $\_\_\_\_$ শোষিত হয়।

✅ উত্তর: ভিলাই-এর লসিকাবাহ দ্বারা **ফ্যাট (চর্বি)** শোষিত হয়।

৪৩. ভিলাই-এর রক্তজালক $\_\_\_\_$ শর্করা ও $\_\_\_\_$ শোষণে সাহায্য করে।

✅ উত্তর: ভিলাই-এর রক্তজালক **মনোস্যাকারাইড** শর্করা ও **অ্যামাইনো অ্যাসিড** শোষণে সাহায্য করে।

৪৪. আন্ত্রিক রসের অপর নাম $\_\_\_\_$।

✅ উত্তর: আন্ত্রিক রসের অপর নাম **সাক্কাস এন্টেরিকাস (Succus entericus)**।

৪৫. ভিলাসের কেন্দ্রীয় লসিকাবাহকে $\_\_\_\_$ বলে।

✅ উত্তর: ভিলাসের কেন্দ্রীয় লসিকাবাহকে **ল্যাকটিয়েল** বলে।

৪৬. পুষ্টির $\_\_\_\_$ পর্যায় পৌষ্টিক নালীর বাইরে ঘটে।

✅ উত্তর: পুষ্টির **আত্তীকরণ** পর্যায় পৌষ্টিক নালীর বাইরে ঘটে।

৪৭. প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের BMR $\_\_\_\_$ $kcal/hr/m^2$।

✅ উত্তর: প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের BMR **৪০** $kcal/hr/m^2$।

৪৮. প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মুখ গহ্বরে মোট $\_\_\_\_$ টি দাঁত থাকে।

✅ উত্তর: প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মুখ গহ্বরে মোট **৩২** টি দাঁত থাকে।

৪৯. WBC-এর মোট সংখ্যাকে $\_\_\_\_$ সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাওয়াকে $\_\_\_\_$ বলে।

✅ উত্তর: WBC-এর মোট সংখ্যাকে **লিউকোসাইটোসিস** বলে। (প্রশ্নটির বিন্যাস ভুল। এটি হওয়া উচিত: **WBC-এর মোট সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাওয়াকে লিউকোসাইটোসিস বলে।**)

৫০. অণুচক্রিকার $\_\_\_\_$ সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাওয়াকে $\_\_\_\_$ বলে।

✅ উত্তর: অণুচক্রিকার **সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাওয়াকে থ্রম্বোসাইটোসিস** বলে।

✨ পঞ্চম পর্যায়: সম্পর্ক, বিসদৃশ এবং অন্তর্গত প্রশ্ন

🎯 প্রথম জোড়টির সম্পর্ক বুঝে দ্বিতীয় জোড়টির শূন্যস্থানে উপযুক্ত শব্দ বসাও – প্রশ্নমান ১

১. C₃ উদ্ভিদ: PGA :: C₄ উদ্ভিদ: ___________।

✅ উত্তর: C₃ উদ্ভিদ: PGA :: C₄ উদ্ভিদ: **OAA** (Oxaloacetic Acid)। (সম্পর্ক: সালোকসংশ্লেষে উৎপন্ন প্রথম স্থায়ী পদার্থ।)

২. সবাত শ্বসন: শ্বসন বস্তুর সম্পূর্ণ জারণ :: অবাত শ্বসন: ___________।

✅ উত্তর: সবাত শ্বসন: শ্বসন বস্তুর সম্পূর্ণ জারণ :: অবাত শ্বসন: **শ্বসন বস্তুর অসম্পূর্ণ জারণ**।

৩. সাবম্যান্ডিবুলার গ্রন্থি: লালা গ্রন্থি :: লাইবারকুনের গ্রন্থি: ___________।

✅ উত্তর: সাবম্যান্ডিবুলার গ্রন্থি: লালা গ্রন্থি :: লাইবারকুনের গ্রন্থি: **আন্ত্রিক গ্রন্থি**।

৪. গ্র্যানুলোসাইট: বেসোফিল :: অ্যাগ্র্যানুলোসাইট: ___________।

✅ উত্তর: গ্র্যানুলোসাইট: বেসোফিল :: অ্যাগ্র্যানুলোসাইট: **লিম্ফোসাইট** বা **মনোসাইট**।

৫. ডায়াবেটিস মেলিটাস: ইনসুলিন :: ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস: ___________।

✅ উত্তর: ডায়াবেটিস মেলিটাস: ইনসুলিন :: ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস: **ADH** (Anti-diuretic hormone)।

৬. লিম্ফোসাইট: অ্যান্টিবডি :: বেসোফিল: ___________।

✅ উত্তর: লিম্ফোসাইট: অ্যান্টিবডি :: বেসোফিল: **হেপারিন/হিস্টামিন**।

৭. পারপিউরা: অণুচক্রিকার সংখ্যা হ্রাস :: অ্যানিমিয়া: ___________।

✅ উত্তর: পারপিউরা: অণুচক্রিকার সংখ্যা হ্রাস :: অ্যানিমিয়া: **RBC-এর সংখ্যা হ্রাস/হিমোগ্লোবিনের অভাব**।

৮. গ্রানুলোসাইট: বেসোফিল :: অ্যাগ্রানুলোসাইট: ___________।

✅ উত্তর: গ্রানুলোসাইট: বেসোফিল :: অ্যাগ্রানুলোসাইট: **মনোসাইট** বা **লিম্ফোসাইট**।

৯. ছন্দনিয়ামক: $\text{SA}$ নোড :: সংরক্ষিত ছন্দনিয়ামক: ___________।

✅ উত্তর: ছন্দনিয়ামক: $\text{SA}$ নোড :: সংরক্ষিত ছন্দনিয়ামক: **$\text{AV}$ নোড**।

১০. সার্বিক দাতা: $\text{O}$ গ্রুপ :: সার্বিক গ্রহীতা: ___________।

✅ উত্তর: সার্বিক দাতা: $\text{O}$ গ্রুপ :: সার্বিক গ্রহীতা: **$\text{AB}$ গ্রুপ**।

১১. $\text{CSF}$: নিউরোসিল :: সাইনোভিয়াল তরল: ___________।

✅ উত্তর: $\text{CSF}$: নিউরোসিল :: সাইনোভিয়াল তরল: **অস্থিসন্ধি** বা **সাইনোভিয়াল গহ্বর**।

১২. $\text{RBC}$: ১২০ দিন :: $\text{WBC}$: ___________।

✅ উত্তর: $\text{RBC}$: ১২০ দিন :: $\text{WBC}$: **১৩-২০ দিন** (বা **২-১৫ দিন**)।


🎯 বিসদৃশটি বেছে লেখো – প্রশ্নমান ১

১. ফেরিডক্সিন, প্লাস্টোকুইনোন, প্লাসটিড, প্লাস্টোসায়ানিন।

✅ উত্তর: **প্লাসটিড**। (কারণ বাকিগুলি সালোকসংশ্লেষের আলোক দশায় অংশগ্রহণকারী ইলেকট্রন বাহক।)

২. বায়ুর আর্দ্রতা, জলশোষণ, রসের উৎস্রোত, রসস্ফীতি চাপ।

✅ উত্তর: **বায়ুর আর্দ্রতা**। (কারণ এটি বাষ্পমোচনের বাহ্যিক প্রভাবক; বাকিগুলি জলের আভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া।)

৩. ইউরিয়া, গ্লুকোজ, অ্যালবুমিন, বিলিরুবিন।

✅ উত্তর: **গ্লুকোজ**। (কারণ গ্লুকোজ খাদ্য; বাকিগুলি রেচন বা বিপাকের ফল।)


🎯 অন্তর্গত বিষয়টি খুঁজে বার করো – প্রশ্নমান ১

১. নিষ্ক্রিয় পরিবহন, ব্যাপন, সহায়ক ব্যাপন, অভিস্রবণ।

✅ উত্তর: **নিষ্ক্রিয় পরিবহন**। (কারণ ব্যাপন, সহায়ক ব্যাপন এবং অভিস্রবণ হলো নিষ্ক্রিয় পরিবহনের প্রকারভেদ।)

২. সাইট্রিক অ্যাসিড, ম্যালিক অ্যাসিড, TCA চক্র, সাকসিনিক অ্যাসিড।

✅ উত্তর: **TCA চক্র** বা **ক্রে বস চক্র**। (কারণ বাকিগুলি TCA চক্রের অন্তর্গত উপাদান।)

৩. ডিওডিনাম, জেজুনাম, ক্ষুদ্রান্ত্র, ইলিয়াম।

✅ উত্তর: **ক্ষুদ্রান্ত্র**। (কারণ ডিওডিনাম, জেজুনাম এবং ইলিয়াম হলো ক্ষুদ্রান্ত্রের অংশ।)

৪. অ্যালবুমিন, প্রোথ্রম্বিন, প্রোটিন, গ্লোবিউনিন।

✅ উত্তর: **প্রোটিন**। (কারণ অ্যালবুমিন, প্রোথ্রম্বিন এবং গ্লোবিউনিন হলো প্রোটিন বা রক্তরসের প্রোটিন।)

৫. যকৃৎ, ইউরিয়া, কিটোনবস্তু, বিলিরুবিন।

✅ উত্তর: **যকৃৎ**। (কারণ যকৃৎ-এ ইউরিয়া ও কিটোনবস্তু উৎপন্ন হয় এবং বিলিরুবিন তৈরি হয়।)

🧩 ষষ্ঠ পর্যায়: বাম স্তম্ভের সঙ্গে ডান স্তম্ভ মেলাও (চূড়ান্ত ও হুবহু ফাইল অনুযায়ী)

১. বাম স্তম্ভের সঙ্গে ডান স্তম্ভ মেলাও:

বাম স্তম্ভ ডান স্তম্ভ সঠিক জোড়
(i) **সূর্যালোক** (a) ট্রেস এলিমেন্ট (i) – (c)
(ii) **অন্ধকার দশা** (b) অভিস্রবণ (ii) – (e)
(iii) **আয়রণ** (c) ফোটন কণা (iii) – (a)
(iv) **অর্ধভেদ্য পর্দা** (d) ব্যাপন (iv) – (b)

সঠিক উত্তর: (i) ফোটন কণা, (ii) ব্ল্যাকম্যান বিক্রিয়া, (iii) ট্রেস এলিমেন্ট, (iv) অভিস্রবণ

২. বাম স্তম্ভের সঙ্গে ডান স্তম্ভ মেলাও:

বাম স্তম্ভ ডান স্তম্ভ সঠিক জোড়
(i) **শ্বাসমূল** (a) সরীসৃপ (i) – (c)
(ii) **ফুসফুস** (b) মাইটোকন্ড্রিয়া (ii) – (a)
(iii) **গ্লাইকোলাইসিস** (c) সুন্দরী (iii) – (e)
(iv) **কেবস চক্র** (d) বট (iv) – (b)

সঠিক উত্তর: (i) সুন্দরী, (ii) সরীসৃপ (ফুসফুস সরীসৃপের শ্বাসযন্ত্র), (iii) EMP পথ, (iv) মাইটোকন্ড্রিয়া

৩. বাম স্তম্ভের সঙ্গে ডান স্তম্ভ মেলাও:

বাম স্তম্ভ ডান স্তম্ভ সঠিক জোড়
(i) **পতঙ্গভুক পুষ্টি** (a) অন্তঃপরজীবী (i) – (c)
(ii) **গোলকৃমি** (b) মলটেজ (ii) – (a)
(iii) **সিকাম** (c) ড্রসেরা (iii) – (e)
(iv) **আন্ত্রিক গ্রন্থি** (d) টায়ালিন (iv) – (b)

সঠিক উত্তর: (i) ড্রসেরা, (ii) অন্তঃপরজীবী, (iii) বৃহদন্ত্র (সিকাম বৃহদন্ত্রের অংশ), (iv) মলটেজ

৪. বাম স্তম্ভের সঙ্গে ডান স্তম্ভ মেলাও:

বাম স্তম্ভ ডান স্তম্ভ সঠিক জোড়
(i) **হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ** (a) ফাইব্রিনোজেন (i) – (c)
(ii) **রক্ততঞ্চক ফ্যাক্টর** (b) AB রক্তগ্রুপ (ii) – (a)
(iii) **হিমোলাইসিস** (c) ডায়াস্টোল (iii) – (e)
(iv) **সর্বজনীন গ্রহীতা** (d) O রক্তগ্রুপ (iv) – (b)

সঠিক উত্তর: (i) ডায়াস্টোল, (ii) ফাইব্রিনোজেন, (iii) RBC, (iv) AB রক্তগ্রুপ

📝 সপ্তম পর্যায়: সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন – প্রশ্নমান ২

📌 সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন – প্রশ্নমান ২

১. ফটোলাইসিস কাকে বলে?

✅ উত্তর:
* সংজ্ঞা: সালোকসংশ্লেষের আলোক দশায়, ক্লোরোফিল অণু কর্তৃক শোষিত সূর্যালোকের ফোটন কণার সাহায্যে যখন জল ($H_2O$) বিশ্লিষ্ট হয়ে হাইড্রোজেন আয়ন ($H^+$) এবং হাইড্রক্সিল আয়ন ($OH^-$) তৈরি করে, তখন সেই প্রক্রিয়াকে ফটোলাইসিস বা জলের আলোক বিশ্লেষণ বলে।
* গুরুত্ব: এই প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন $O_2$ গ্যাস বায়ুমণ্ডলে নির্গত হয়।

২. সালোকসংশ্লেষের প্রধান উপাদানগুলি কী কী?

✅ উত্তর:
* প্রধান উপাদান: সালোকসংশ্লেষের জন্য দুটি প্রধান কাঁচামাল এবং দুটি অপরিহার্য শর্ত প্রয়োজন।

  • কাঁচামাল: জল ($H_2O$) এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড ($CO_2$)
  • শর্ত: ক্লোরোফিল (রঞ্জক) এবং সূর্যালোক (শক্তি)।

৩. সালোকসংশ্লেষ কাকে বলে?

✅ উত্তর:
* সংজ্ঞা: যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ বা কিছু ব্যাকটেরিয়া, ক্লোরোফিলের সাহায্যে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে জল ও $CO_2$ ব্যবহার করে শর্করা জাতীয় খাদ্য (গ্লুকোজ) তৈরি করে, তাকে সালোকসংশ্লেষ বলে।
* প্রকৃতি: এটি একটি উপচিতিমূলক বিপাক প্রক্রিয়া।

৪. সালোকসংশ্লেষে জলের দুটি ভূমিকা উল্লেখ করো।

✅ উত্তর: সালোকসংশ্লেষে জলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হলো:

  • জলের ফটোলাইসিস: আলোক দশায় জল আলোক বিশ্লেষিত হয়ে অক্সিজেন ($O_2$) গ্যাস উৎপন্ন করে এবং হাইড্রোজেন আয়ন ($H^+$) সরবরাহ করে।
  • বিজারক রূপে: জল থেকে নির্গত হাইড্রোজেন আয়ন $CO_2$ গ্যাসকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য (গ্লুকোজ) উৎপাদনে সাহায্য করে।

৫. আলোক বিক্রিয়ায় শেষ পদার্থগুলি কী কী?

✅ উত্তর:
* শেষ পদার্থ: সালোকসংশ্লেষের আলোক বিক্রিয়া (আলোক দশা)-র ফলে উৎপন্ন প্রধান পদার্থগুলি হলো:

  • ATP (শক্তি): অ্যাডিনোসিন ট্রাইফসফেট (রাসায়নিক শক্তি)।
  • NADPH + H+ (বিজারক): নিকোটিনামাইড অ্যাডেনিন ডাইনিউক্লিওটাইড ফসফেট।
  • $O_2$ (উপজাত): অক্সিজেন গ্যাস।

৬. অঙ্গার আত্তীকরণ কাকে বলে?

✅ উত্তর:
* সংজ্ঞা: সালোকসংশ্লেষের অন্ধকার দশায় (কেলভিন চক্রে), বায়ুমণ্ডল থেকে গৃহীত কার্বন ডাইঅক্সাইড ($CO_2$), আলোক দশায় উৎপন্ন ATP ও NADPH-এর সাহায্যে বিজারিত হয়ে গ্লুকোজের মতো স্থায়ী কার্বোহাইড্রেট যৌগ সৃষ্টি করে। $CO_2$ ব্যবহারের এই প্রক্রিয়াকে অঙ্গার আত্তীকরণ বলে।

৭. অভিস্রবণ কাকে বলে?

✅ উত্তর:
* সংজ্ঞা: যে প্রক্রিয়ায় দ্রাবকের অণুগুলি (যেমন জল), অর্ধভেদ্য পর্দার মাধ্যমে কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে বেশি ঘনত্বের দ্রবণের দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে অভিস্রবণ বা অসমোসিস বলে।
* গুরুত্ব: উদ্ভিদের মূলরোম দ্বারা জল শোষণ এই প্রক্রিয়ায় ঘটে।

৮. গ্লাইকোলাইসিস কাকে বলে?

✅ উত্তর:
* সংজ্ঞা: শ্বসন প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে, কোশের সাইটোপ্লাজমে যে প্রক্রিয়ায় এক অণু গ্লুকোজ, উৎসেচকের সাহায্যে আংশিকভাবে জারিত হয়ে দুই অণু পাইরুভিক অ্যাসিড (Pyruvic Acid) উৎপন্ন করে, তাকে গ্লাইকোলাইসিস বলে।
* ফলাফল: এই প্রক্রিয়ায় মোট ৪ অণু ATP তৈরি হলেও নিট **২ অণু ATP** উৎপন্ন হয়।

৯. শ্বসনের দুটি তাৎপর্য উল্লেখ করো।

✅ উত্তর: শ্বসনের দুটি প্রধান তাৎপর্য হলো:

  • শক্তি উৎপাদন: শ্বসনের মাধ্যমে খাদ্যস্থ স্থিতিশক্তি গতিশক্তিতে বা ATP-তে রূপান্তরিত হয়, যা জীবের সকল শারীরবৃত্তীয় কাজের জন্য অপরিহার্য।
  • তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: এই প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন তাপশক্তি প্রাণীর দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং দেহকে উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে।

১০. মানুষের শ্বাসপেশিগুলি কী কী?

✅ উত্তর:
* প্রধান শ্বাসপেশি: মানুষের শ্বাসকার্যে অংশগ্রহণকারী প্রধান পেশিগুলি হলো:

  • মধ্যচ্ছদা (Diaphragm): এটি বক্ষগহ্বরকে উদর গহ্বর থেকে পৃথক করে এবং শ্বাসকার্যের প্রধান পেশি হিসেবে কাজ করে।
  • বহিঃস্থ ও অন্তঃস্থ ইন্টারকোস্টাল পেশি: এগুলি পাজর বা পাঁজরার খাঁচার সঙ্গে যুক্ত থাকে এবং শ্বাসগ্রহণ ও ত্যাগ নিয়ন্ত্রণ করে।

১১. সন্ধান কাকে বলে?

✅ উত্তর:
* সংজ্ঞা: যে অবাত শ্বসন প্রক্রিয়ায়, মুক্ত অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে, কিছু অণুজীবের (যেমন ইস্ট) প্রভাবে উৎসেচকের মাধ্যমে জটিল শর্করা আংশিকভাবে জারিত হয়ে **ইথাইল অ্যালকোহল**, ল্যাকটিক অ্যাসিড বা অন্যান্য জৈব যৌগ ও সামান্য শক্তি উৎপন্ন করে, তাকে সন্ধান বা ফার্মেন্টেশন বলে।
* প্রকার: কোহল সন্ধান ও ল্যাকটিক অ্যাসিড সন্ধান।

১২. টায়ালিন উৎসেচকটি কোন্ জাতীয় খাদ্যের পরিপাকে সাহায্য করে? এটি কোন্ গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত হয়?

✅ উত্তর:

  • খাদ্যের প্রকৃতি: টায়ালিন উৎসেচকটি শর্করা (শ্বেতসার) জাতীয় খাদ্যের পরিপাকে সাহায্য করে।
  • উৎসের গ্রন্থি: এটি মানুষের লালাগ্রন্থি (Salivary Gland) থেকে ক্ষরিত হয়।

১৩. আত্তীকরণ কাকে বলে?

✅ উত্তর:
* সংজ্ঞা: পুষ্টির যে ধাপে শোষিত খাদ্য উপাদানগুলি (যেমন গ্লুকোজ, অ্যামাইনো অ্যাসিড) কোশ বা প্রোটোপ্লাজমের অংশীভূত হয়ে জীবদেহের গঠন ও শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে, তাকে আত্তীকরণ বা অ্যাসিমিলেশন বলে।
* অবস্থান: এটি পৌষ্টিকনালীর বাইরে কোশের ভেতরে ঘটে।

১৪. উপচিতি ও অপচিতি বিপাকের দুটি পার্থক্য দেখাও।

✅ উত্তর: উপচিতি ও অপচিতি বিপাকের মধ্যে দুটি প্রধান পার্থক্য নিম্নরূপ:

বৈশিষ্ট্য উপচিতি (Anabolism) অপচিতি (Catabolism)
প্রকৃতি গঠনমূলক (সরল থেকে জটিল)। ভঙ্গনমূলক (জটিল থেকে সরল)।
উদাহরণ সালোকসংশ্লেষ। শ্বসন।

১৫. প্রাণী-পুষ্টির পর্যায়গুলি কী কী?

✅ উত্তর:
* পর্যায়ক্রম: হলোজোয়িক বা প্রাণী পুষ্টির প্রধানত পাঁচটি পর্যায় রয়েছে:

  1. খাদ্য গ্রহণ (Ingestion): খাদ্যকে দেহের মধ্যে প্রবেশ করানো।
  2. পরিপাক (Digestion): জটিল খাদ্যকে সরল উপাদানে পরিণত করা।
  3. শোষণ (Absorption): পরিপাক হওয়া খাদ্যকে রক্তে বা লসিকায় টেনে নেওয়া।
  4. আত্তীকরণ (Assimilation): শোষিত খাদ্যকে প্রোটোপ্লাজমের অংশীভূত করা।
  5. বহিষ্করণ (Egestion): অপ্রয়োজনীয় খাদ্য বর্জ্যকে দেহ থেকে বার করে দেওয়া।

১৬. মৃতজীবী ও মিথোজীবী উদ্ভিদের দুটি পার্থক্য দেখাও।

✅ উত্তর: মৃতজীবী ও মিথোজীবী উদ্ভিদের মধ্যে দুটি প্রধান পার্থক্য নিম্নরূপ:

বৈশিষ্ট্য মৃতজীবী (Saprotroph) মিথোজীবী (Symbiont)
খাদ্য উৎস মৃত ও গলিত জৈব পদার্থ। অন্য একটি জীবিত জীবের সঙ্গে পারস্পরিক সুবিধা নিয়ে।
সম্পর্ক এককভাবে খাদ্য গ্রহণ করে। উভয় জীব **পরস্পর উপকৃত** হয়।

১৭. সুষম খাদ্য কাকে বলে?

✅ উত্তর:
* সংজ্ঞা: যে খাদ্যে প্রতিটি খাদ্য উপাদান (শর্করা, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, খনিজ লবণ, জল) **বয়স, লিঙ্গ ও কাজ** অনুযায়ী **পর্যাপ্ত পরিমাণে** এবং **সঠিক অনুপাতে** থাকে, যার ফলে দেহের ক্যালোরি চাহিদা পূরণ হয় এবং দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও পুষ্টি বজায় থাকে, তাকে সুষম খাদ্য বা ব্যালেন্সড ডায়েট বলে।

১৮. উৎসেচককে কেন জৈব অনুঘটক বলা হয় তার দুটি কারণ লেখো।

✅ উত্তর: উৎসেচককে জৈব অনুঘটক বলার দুটি কারণ:

  • জৈব উৎস: উৎসেচকগুলি **জীবন্ত কোশের** ভেতরে তৈরি হয় এবং এদের রাসায়নিক প্রকৃতি প্রোটিন। তাই এরা ‘জৈব’।
  • অনুঘটকের ধর্ম: সাধারণ অনুঘটকের মতোই এরা রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতিকে **বহু গুণ বাড়িয়ে দেয়**, কিন্তু নিজেরা বিক্রিয়ার শেষে **অপরিবর্তিত** থাকে। তাই এরা ‘অনুঘটক’।

১৯. মুক্ত সংবহন কাকে বলে?

✅ উত্তর:
* সংজ্ঞা: যে সংবহনতন্ত্রে রক্ত **হৃৎপিণ্ড থেকে রক্তবাহের মাধ্যমে** নির্গত হয়ে সরাসরি দেহের **কোশ ও কলার সংস্পর্শে** আসে (অর্থাৎ রক্ত কখনও কৈশিকনালীতে আবদ্ধ থাকে না), তাকে মুক্ত সংবহন বা ওপেন সার্কুলেশন বলে।
* উদাহরণ: আরশোলা বা চিংড়ির মতো প্রাণীর দেহে এটি দেখা যায়।

২০. দ্বৈত সংবহন কত প্রকারের ও কী কী?

✅ উত্তর:
* সংজ্ঞা: যে সংবহনে রক্ত একটি চক্র পূর্ণ করার জন্য **হৃৎপিণ্ডের মধ্যে দিয়ে দুবার** প্রবাহিত হয়।
* প্রকারভেদ: দ্বৈত সংবহন প্রধানত দুই প্রকারের:

  • ফুসফুসীয় সংবহন: হৃৎপিণ্ড থেকে ফুসফুসে রক্ত যায় এবং ফিরে আসে।
  • দেহগত সংবহন: হৃৎপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত যায় এবং ফিরে আসে।

২১. হিমোলিম্ফ কাকে বলে?

✅ উত্তর:
* সংজ্ঞা: মুক্ত সংবহনতন্ত্রবিশিষ্ট প্রাণীদের (যেমন আরশোলা) দেহে রক্ত ও কলারস একত্রে মিশে যে তরল তৈরি করে এবং যা **দেহের বিভিন্ন অঙ্গকে ডুবিয়ে রাখে**, তাকে হিমোলিম্ফ বলে।
* বৈশিষ্ট্য: এতে সাধারণত কোনো **শ্বাসরঞ্জক (হিমোগ্লোবিন)** থাকে না।

২২. শ্বেত কণিকার দুটি কাজ উল্লেখ করো।

✅ উত্তর: শ্বেত রক্তকণিকা (WBC) বা লিউকোসাইটের দুটি কাজ হলো:

  • জীবাণু ধ্বংস: নিউট্রোফিল ও মনোসাইটের মতো WBC গুলি **ফ্যাগোসাইটোসিস** প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে সরাসরি গ্রাস করে ধ্বংস করে।
  • অ্যান্টিবডি তৈরি: B-লিম্ফোসাইটগুলি **অ্যান্টিবডি** তৈরি করে জীবাণুর টক্সিনকে নিষ্ক্রিয় করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে।

২৩. লসিকার দুটি কাজ লেখো।

✅ উত্তর: লসিকার দুটি কাজ হলো:

  • পুষ্টি উপাদান পরিবহণ: ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিলাই থেকে **ফ্যাট বা চর্বিজাতীয়** খাদ্য উপাদান শোষণ করে সংবহনতন্ত্রে পৌঁছে দেওয়া।
  • দেহরক্ষা: লসিকা গ্রন্থিতে থাকা **লিম্ফোসাইটগুলি** দেহের প্রতিরক্ষা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

২৪. মানবদেহে জলের দুটি ব্যবহার উল্লেখ করো।

✅ উত্তর: মানবদেহে জলের দুটি ব্যবহার হলো:

  • দেহ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: ঘামের মাধ্যমে জল বাষ্পীভূত হয়ে শরীর থেকে **অতিরিক্ত তাপ বার করে** দেয়, ফলে দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে।
  • পরিবহণ ও দ্রাবক: জল **রক্তের প্রধান উপাদান** হিসেবে দেহের সর্বত্র অক্সিজেন, পুষ্টিদ্রব্য এবং হরমোন পরিবহণে সাহায্য করে।

২৫. রেচন কাকে বলে?

✅ উত্তর:
* সংজ্ঞা: যে জৈবনিক প্রক্রিয়ায় জীবদেহে সৃষ্ট **নাইট্রোজেনঘটিত বিপাকীয় ক্ষতিকারক বর্জ্য পদার্থগুলি** (যেমন ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া) দেহের বাইরে নির্গত হয়, তাকে রেচন বলে।
* গুরুত্ব: দেহ থেকে এই ক্ষতিকারক পদার্থগুলি অপসারিত না হলে দেহে বিষক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

২৬. উদ্ভিদ রেচনের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

✅ উত্তর: উদ্ভিদ রেচনের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো:

  • কম বর্জ্য সৃষ্টি: উদ্ভিদের বিপাক হার কম হওয়ায় তাদের দেহে প্রাণী অপেক্ষা **অনেক কম পরিমাণে** নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য সৃষ্টি হয়।
  • ত্যাগ পদ্ধতি: উদ্ভিদদের রেচন পদার্থ ত্যাগের জন্য বৃক্কের মতো কোনো বিশেষ রেচন অঙ্গ নেই; তারা সাধারণত **বাকল মোচন** বা **পাতা ঝরানোর** মাধ্যমে রেচন পদার্থ ত্যাগ করে।

২৭. গঁদের দুটি অর্থকারী গুরুত্ব লেখো।

✅ উত্তর: গঁদের দুটি অর্থকারী গুরুত্ব হলো:

  • আঠা বা গাম: গঁদ আঠা বা গাম তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, যা কাগজ ও বস্ত্র শিল্পে লাগে।
  • খাদ্য ও ঔষধ: কিছু গঁদ (যেমন গঁদ-আঠা) খাদ্য ও ঔষধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

২৮. কুইনাইন এবং নিকোটিনের ব্যবহার লেখো।

✅ উত্তর:

  • কুইনাইন: এটি **সিঙ্কোনা গাছের ছাল** থেকে পাওয়া যায় এবং ম্যালেরিয়া রোগের ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
  • নিকোটিন: এটি **তামাক পাতা** থেকে পাওয়া যায় এবং **কীটনাশক** এবং মাদক দ্রব্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

২৯. গবিনী কী?

✅ উত্তর:
* সংজ্ঞা: প্রতিটি বৃক্ক থেকে মূত্রকে মূত্রাশয়ে (Urinary Bladder) নিয়ে যাওয়ার জন্য যে সংকোচন-প্রসারণক্ষম নালী থাকে, তাকে গবিনী বা ইউরেটার (Ureter) বলে।
* কাজ: এটি মূত্রকে বৃক্ক থেকে মূত্রাশয়ে পরিবহণ করে।

৩০. রেচনে ফুসফুসের ভূমিকাটি লেখো।

✅ উত্তর:
* ভূমিকা: রেচনে ফুসফুস একটি সহায়ক রেচন অঙ্গ হিসেবে কাজ করে।
* কার্য: ফুসফুস প্রধানত শ্বসন প্রক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন দুটি প্রধান বর্জ্য পদার্থ—কার্বন ডাইঅক্সাইড ($CO_2$) এবং জলীয় বাষ্প—নিঃশ্বাসের মাধ্যমে দেহ থেকে দ্রুত নির্গত করে।

৩১. কার্য বর্ণালি কাকে বলে?

✅ উত্তর:
* সংজ্ঞা: আলোর বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যে (অর্থাৎ বিভিন্ন রঙে) সালোকসংশ্লেষের হারের তারতম্য যে লেখচিত্রের মাধ্যমে দেখানো হয়, তাকে কার্য বর্ণালি বা অ্যাকশন স্পেকট্রাম বলে।
* ফলাফল: সাধারণত **নীল ও লাল** আলোতে সালোকসংশ্লেষের হার সর্বাধিক।

৩২. আলোক দশার প্রয়োজনীয় উপাদানগুলি কী কী?

✅ উত্তর: সালোকসংশ্লেষের আলোক দশার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলি হলো:

  • আলো: সূর্যালোক বা কৃত্রিম আলো।
  • ক্লোরোফিল: আলো শোষণের জন্য।
  • জল: ফটোলাইসিসের জন্য।
  • NADP এবং ADP: এগুলি ATP ও NADPH উৎপাদনে অংশ নেয়।

৩৩. ক্লোরোফিল-a ও b-এর কাজ কী?

✅ উত্তর:

  • ক্লোরোফিল-a: এটি সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় **আলোক শক্তিকে গ্রহণ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করার** প্রধান কাজ করে (Reaction Center)।
  • ক্লোরোফিল-b: এটি সহায়ক রঞ্জক হিসেবে কাজ করে এবং আলো শোষণ করে সেই শক্তি ক্লোরোফিল-a-তে স্থানান্তরিত করে (Antenna Pigment)।

৩৪. হিল বিক্রিয়া কাকে বলে?

✅ উত্তর:
* সংজ্ঞা: সালোকসংশ্লেষের আলোক দশায় **ক্লোরোফিল এবং সূর্যালোকের** উপস্থিতিতে, জল বিশ্লিষ্ট হয়ে অক্সিজেন উৎপন্ন হয় এবং হাইড্রোজেন গ্রাহক দ্বারা হাইড্রোজেন গৃহীত হয়। এই বিক্রিয়াটিকে বিজ্ঞানী রবার্ট হিলের নামানুসারে হিল বিক্রিয়া বলে।
* গুরুত্ব: এটি প্রমাণ করে যে, সালোকসংশ্লেষে উৎপন্ন $O_2$ জলের থেকেই আসে।

৩৫. ক্যারোটিনয়েডের কাজ কী?

✅ উত্তর:
* কাজ: ক্যারোটিনয়েড হলো এক প্রকার সহায়ক রঞ্জক (যেমন ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিল)। এর প্রধান কাজগুলি হলো:

  • আলো শোষণ: এরা সবুজ বর্ণালীর আলো শোষণ করে এবং সেই শক্তি ক্লোরোফিলে স্থানান্তরিত করে।
  • সুরক্ষা: এটি তীব্র আলোকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে **ক্লোরোফিল অণুকে রক্ষা করে**।

৩৬. আলোক নিরপেক্ষ দশায় প্রয়োজনীয় উপাদানগুলি কী কী?

✅ উত্তর: আলোক নিরপেক্ষ দশার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলি হলো:

  • $CO_2$: খাদ্য তৈরির জন্য কাঁচামাল।
  • ATP ও NADPH: আলোক দশায় উৎপন্ন এই দুটি রাসায়নিক শক্তি ও বিজারক পদার্থ।
  • উৎসেচক: কেলভিন চক্র পরিচালনার জন্য RuBisCO সহ বিভিন্ন উৎসেচক।

৩৭. আলোক নিরপেক্ষ দশায় উৎপন্ন দ্রব্যগুলি কী কী?

✅ উত্তর: আলোক নিরপেক্ষ দশায় উৎপন্ন প্রধান দ্রব্যগুলি হলো:

  • গ্লুকোজ: প্রধান খাদ্য বা শর্করা।
  • ADP ও NADP+: যেগুলি আলোক দশায় পুনরায় ব্যবহৃত হওয়ার জন্য ফিরে যায়।

৩৮. আলোক দশা কাকে বলে?

✅ উত্তর:
* সংজ্ঞা: সালোকসংশ্লেষের যে ধাপে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ক্লোরোপ্লাস্টের গ্রানায় বিক্রিয়া সংঘটিত হয় এবং **ATP, NADPH ও $O_2$** উৎপন্ন হয়, তাকে আলোক দশা বা লাইট ফেজ বলে।
* অবস্থান: ক্লোরোপ্লাস্টের গ্রানায় ঘটে।

৩৯. মুক্ত সংবহন কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

✅ উত্তর:
* সংজ্ঞা: যে সংবহনতন্ত্রে রক্ত **হৃৎপিণ্ড থেকে রক্তবাহের মাধ্যমে** নির্গত হয়ে সরাসরি দেহের **কোশ ও কলার সংস্পর্শে** আসে (অর্থাৎ রক্ত কখনও কৈশিকনালীতে আবদ্ধ থাকে না), তাকে মুক্ত সংবহন বা ওপেন সার্কুলেশন বলে।
* উদাহরণ: আরশোলা বা চিংড়ির মতো প্রাণী।

৪০. বদ্ধ সংবহন কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

✅ উত্তর:
* সংজ্ঞা: যে সংবহনতন্ত্রে রক্ত **সর্বদা ধমনী, শিরা এবং কৈশিকনালীর** মতো রক্তবাহের ভেতরেই আবদ্ধ থাকে এবং সরাসরি কোশের সংস্পর্শে আসে না, তাকে বদ্ধ সংবহন বা ক্লোজড সার্কুলেশন বলে।
* উদাহরণ: মানুষ বা মাছের মতো মেরুদণ্ডী প্রাণী।

৪১. হিমোসিল কী? আরশোলার হিমোসিল কত প্রকারের?

✅ উত্তর:
* হিমোসিল: মুক্ত সংবহনবিশিষ্ট আরশোলার মতো প্রাণীদের দেহে হিমোলিম্ফ দ্বারা পূর্ণ **দেহ গহ্বরকে** হিমোসিল বলে।
* প্রকারভেদ: আরশোলার হিমোসিল প্রধানত **তিন প্রকারের** (পেরিকার্ডিয়াল সাইনাস, পেরিনিউরাল সাইনাস, পেরিভিসেরাল সাইনাস)।

৪২. রক্ততঞ্চনের তাৎপর্য কী?

✅ উত্তর:
* তাৎপর্য: রক্ততঞ্চনের প্রধান তাৎপর্য হলো:

  • রক্তক্ষরণ রোধ: শরীরের কোনো অংশ কেটে গেলে রক্ত জমাট বাঁধিয়ে **অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বন্ধ** করে এবং প্রাণীর জীবন বাঁচায়।
  • জীবাণু প্রবেশে বাধা: রক্ত জমাট বাঁধলে সেই স্থানে একটি প্রাকৃতিক সুরক্ষা বেষ্টনী তৈরি হয়, যা ক্ষতস্থান দিয়ে **জীবাণুর প্রবেশে বাধা** দেয়।

৪৩. আরশোলার হৃৎপিন্ডের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।

✅ উত্তর: আরশোলার হৃৎপিণ্ডের দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো:

  • গঠন: এদের হৃৎপিণ্ডটি **নলাকার** এবং এটি **১৩টি প্রকোষ্ঠ** বা খণ্ডে বিভক্ত।
  • অবস্থান: এটি পৃষ্ঠদেশের দিকে **পেরিকার্ডিয়াল সাইনাসে** অবস্থান করে।

৪৪. মানবদেহে জলের দুটি ব্যবহার উল্লেখ করো।

✅ উত্তর: মানবদেহে জলের দুটি ব্যবহার হলো:

  • দেহ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: ঘামের মাধ্যমে জল বাষ্পীভূত হয়ে শরীর থেকে **অতিরিক্ত তাপ বার করে** দেয়, ফলে দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে।
  • পরিবহণ ও দ্রাবক: জল **রক্তের প্রধান উপাদান** হিসেবে দেহের সর্বত্র অক্সিজেন, পুষ্টিদ্রব্য এবং হরমোন পরিবহণে সাহায্য করে।

৪৫. লসিকার দুটি ভূমিকা উল্লেখ করো।

✅ উত্তর: লসিকার দুটি কাজ হলো:

  • পুষ্টি উপাদান পরিবহণ: ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিলাই থেকে **ফ্যাট বা চর্বিজাতীয়** খাদ্য উপাদান শোষণ করে সংবহনতন্ত্রে পৌঁছে দেওয়া।
  • দেহরক্ষা: লসিকা গ্রন্থিতে থাকা **লিম্ফোসাইটগুলি** দেহের প্রতিরক্ষা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

📝 নবম পর্যায়: দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন – প্রথম ভাগ (প্রশ্ন ১-১৪)

📌 ১. সালোকসংশ্লেষের আলোক বিক্রিয়াটি সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

✅ উত্তর:

* ভূমিকা ও অবস্থান:
সালোকসংশ্লেষের আলোক বিক্রিয়া বা ফটোকেমিক্যাল দশাটি ক্লোরোপ্লাস্টের **গ্রানা অঞ্চলে** (থাইলাকয়েডের পর্দায়) ঘটে। এটি সূর্যালোকের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে ঘটে এবং এর প্রধান লক্ষ্য হলো **ATP ও NADPH** নামক শক্তি ও বিজারক ক্ষমতা সম্পন্ন যৌগ তৈরি করা।

* পদ্ধতি:

  • ১. ক্লোরোফিলের সক্রিয়তা:
    ক্লোরোফিল অণু **ফোটন কণা** (আলোক শক্তি) শোষণ করে এবং ইলেক্ট্রন ত্যাগ করার মাধ্যমে সক্রিয় বা উত্তেজিত হয়।
  • ২. জলের ফটোলাইসিস:
    সক্রিয় ক্লোরোফিলের সাহায্যে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে জল ($H_2O$) ভেঙে গিয়ে $H^+$ আয়ন ও $OH^-$ আয়ন তৈরি করে। এই প্রক্রিয়াকে **হিল বিক্রিয়া** বা জলের আলোক বিশ্লেষণ বলে।

    $4H_2O \xrightarrow{\text{আলো, ক্লোরোফিল}} 4H^+ + 4OH^-$

  • ৩. O₂ নির্গমন:
    জল বিশ্লেষণের ফলে উৎপন্ন $OH^-$ আয়ন থেকে **অক্সিজেন ($O_2$) নির্গত** হয়, যা উপজাত বস্তু হিসেবে পরিবেশে মুক্ত হয়।

    $4OH^- \longrightarrow 2H_2O + O_2 + 4e^-$

  • ৪. শক্তির উৎপাদন (ফসফোরাইলেশন):
    ইলেক্ট্রন পরিবহন তন্ত্রের মাধ্যমে ADP থেকে ATP তৈরি হয় (**ফটোফসফোরাইলেশন**) এবং $NADP^+$ থেকে $H^+$ আয়ন গ্রহণ করে **NADPH** তৈরি হয়। এই ATP এবং NADPH-কেই **আত্তীকরণ শক্তি** বলা হয় এবং এটি অন্ধকার দশায় ব্যবহৃত হবে।

📌 ২. সালোকসংশ্লেষে ক্লোরোফিল ও সূর্যালোকের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

✅ উত্তর:

* ক্লোরোফিলের ভূমিকা (Role of Chlorophyll):

  • আলোক শোষণ:
    ক্লোরোফিল অণু (প্রধানত ক্লোরোফিল-a) আলোক বিক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় **ফোটন কণা** শোষণ করে। এটি প্রধানত **নীল ও লাল** আলো শোষণ করে। [attachment_0](attachment)
  • শক্তি রূপান্তর:
    শোষিত আলোক শক্তিকে **রাসায়নিক শক্তিতে** (ATP, NADPH-তে) রূপান্তরিত করার প্রাথমিক ধাপটি ক্লোরোফিলের সক্রিয়তার মাধ্যমেই শুরু হয়।
  • জলের ফটোলাইসিস:
    ক্লোরোফিল জলের আলোক বিশ্লেষণে বা **ফটোলাইসিস** প্রক্রিয়ায় অনুঘটক হিসেবে কাজ করে এবং $H_2O$ ভেঙে $O_2$ নির্গত হতে সাহায্য করে।

* সূর্যালোকের ভূমিকা (Role of Sunlight):

  • শক্তির মূল উৎস:
    সূর্যালোক হলো সালোকসংশ্লেষের জন্য প্রয়োজনীয় **শক্তির মূল উৎস**। এই শক্তি ছাড়া আলোক বিক্রিয়া শুরু হতেই পারে না।
  • আলোক বিক্রিয়ার চালনা:
    সূর্যালোকের উপস্থিতিতেই **জলের ফটোলাইসিস** এবং **ATP ও NADPH** তৈরি হয়, যা খাদ্য সংশ্লেষের জন্য অপরিহার্য।
  • পত্ররন্ধ্র উন্মুক্তকরণ:
    দিনের বেলায় আলোকের উপস্থিতিতে রক্ষীকোশের জলীয় বিভব পরিবর্তনের ফলে **পত্ররন্ধ্র খোলে**, যার ফলে $CO_2$ গ্যাস পাতার ভেতরে প্রবেশ করতে পারে।

📌 ৩. সালোকসংশ্লেষে কেলভিন চক্রটি ব্যাখ্যা করো।

✅ উত্তর:

* ভূমিকা ও অবস্থান:
কেলভিন চক্র বা $C_3$ চক্র হলো সালোকসংশ্লেষের **আলোক নিরপেক্ষ দশা** (অন্ধকার দশা)। এই দশাটি ক্লোরোপ্লাস্টের **স্ট্রোমা অঞ্চলে** ঘটে এবং এর প্রধান কাজ হলো $CO_2$ গ্যাস থেকে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করা।

* পদ্ধতি (কেলভিন চক্রের তিনটি প্রধান পর্যায়):

  • ১. কার্বন স্থিতিকরণ (Carboxylation):
    বায়ু থেকে গৃহীত $CO_2$ কে **RuBP** (রাইবিউলোজ-১,৫-বিসফসফেট) নামক ৫-কার্বনযুক্ত যৌগটি গ্রহণ করে। এই বিক্রিয়াটি **RuBisCO** (রাইবিউলোজ-১,৫-বিসফসফেট কার্বক্সিলেজ-অক্সিজিনেজ) নামক উৎসেচকের সাহায্যে হয়। এটি প্রথম স্থায়ী পদার্থ হিসেবে **৩-ফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিড (PGA)** নামক ৩-কার্বনযুক্ত যৌগ তৈরি করে।
  • ২. বিজারণ (Reduction):
    আলোক দশায় উৎপন্ন **ATP ও NADPH**-এর শক্তি ও হাইড্রোজেন ব্যবহার করে PGA বিজারিত হয়ে ফসফোগ্লিসারালডিহাইড এবং **গ্লুকোজ** তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করে। এই ধাপেই শক্তি ব্যয় হয়।
  • ৩. RuBP পুনরুৎপাদন (Regeneration):
    চক্রের শেষে বাকি ফসফোগ্লিসারালডিহাইড থেকে একাধিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে আবার **RuBP** তৈরি হয়, যাতে চক্রটি আবার চলতে পারে। এই ধাপেও ATP শক্তি ব্যবহৃত হয়। [attachment_1](attachment)

* গুরুত্ব:
এটিই সেই দশা যেখানে সৌরশক্তি দ্বারা সৃষ্ট শক্তিকে কাজে লাগিয়ে **অজৈব $CO_2$** গ্যাসকে **জৈব শর্করা খাদ্যে** পরিণত করা হয়।


📌 ৪. সালোকসংশ্লেষে কার্য বর্ণালি ব্যাখ্যা করো।

✅ উত্তর:

* সংজ্ঞা (Action Spectrum):
আলোর **বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যে** (বিভিন্ন রঙে) সালোকসংশ্লেষের **হারের তারতম্য** যে লেখচিত্রের মাধ্যমে দেখানো হয়, তাকে **কার্য বর্ণালি** বা অ্যাকশন স্পেকট্রাম বলে। এটি দেখায় কোন আলোতে সালোকসংশ্লেষ সবচেয়ে দ্রুত হয়। [attachment_2](attachment)

* ব্যাখ্যা:

  • ১. সর্বাধিক হার:
    কার্য বর্ণালি অনুযায়ী, সালোকসংশ্লেষের হার **নীল-বেগুনি (400-500 nm)** এবং **লাল (600-700 nm)** আলোতে **সর্বাধিক** হয়।
    **কারণ:** এই তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো ক্লোরোফিল দ্বারা সর্বাধিক পরিমাণে শোষিত হয় (যা ক্লোরোফিলের শোষণ বর্ণালি থেকে প্রমাণিত), ফলে বেশি শক্তি আলোক বিক্রিয়ায় প্রবেশ করে।
  • ২. সর্বনিম্ন হার:
    **সবুজ আলোতে** (500-600 nm) সালোকসংশ্লেষের হার **সবচেয়ে কম** হয়।
    **কারণ:** সবুজ উদ্ভিদ এই তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো শোষণ না করে বরং তা **প্রতিফলিত** করে দেয়, তাই সালোকসংশ্লেষের হার কমে যায়।

* গুরুত্ব:
এই বর্ণালি দ্বারা প্রমাণিত হয় যে সালোকসংশ্লেষের হার সরাসরি উদ্ভিদের **আলোক শোষণ ক্ষমতার** ওপর নির্ভরশীল।

৫. সালোকসংশ্লেষের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

✅ উত্তর:
* সালোকসংশ্লেষের গুরুত্ব: জীবজগতের অস্তিত্বের জন্য সালোকসংশ্লেষের তাৎপর্য অপরিসীম:

  • খাদ্য উৎপাদন: এটিই পৃথিবীতে **সকল জীবের খাদ্যের মূল উৎস**। সবুজ উদ্ভিদ খাদ্য তৈরি করে বলে তাদের উৎপাদক বলা হয়।
  • শক্তির উৎস: সূর্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে খাদ্যের মধ্যে সঞ্চয় করে। এটিই পৃথিবীর সকল শক্তির মূল উৎস।
  • বায়ুর ভারসাম্য: এই প্রক্রিয়ায় $CO_2$ শোষিত হয় এবং **অক্সিজেন ($O_2$) নির্গত হয়**, যা বায়ুমণ্ডলে গ্যাসীয় ভারসাম্য বজায় রাখে।

📌 ৬. ব্যাপন ও অভিস্রবণের পার্থক্য দেখাও।

✅ উত্তর: ব্যাপন ও অভিস্রবণের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি একটি তুলনামূলক আলোচনার মাধ্যমে নিচে দেওয়া হলো:

বৈশিষ্ট্য ব্যাপন (Diffusion) অভিস্রবণ (Osmosis)
১. সংজ্ঞা দ্রাবক বা দ্রাব অণু তাদের উচ্চ ঘনত্ব থেকে নিম্ন ঘনত্বের দিকে সরাসরিত সরণ। কেবলমাত্র দ্রাবক অণু (জল) অর্ধভেদ্য পর্দার মাধ্যমে নিম্ন ঘনত্বের দ্রবণ থেকে উচ্চ ঘনত্বের দ্রবণে প্রবেশ করে।
২. প্রবাহ দ্রাবক বা দ্রাব—উভয়েরই হতে পারে এবং উভয় দিকেই ঘটে। কেবলমাত্র **দ্রাবকের** (যেমন জল) অণু **একমুখীভাবে** প্রবাহিত হয়।
৩. পর্দা পর্দার প্রয়োজন হয় না। এটি কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় যেকোনো মাধ্যমে ঘটতে পারে। আবশ্যিকভাবে **অর্ধভেদ্য পর্দার** প্রয়োজন হয়।
৪. চাপ ব্যাপন চাপের পার্থক্যের কারণে ঘটে। এটি অভিস্রবণ চাপ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
৫. উদাহরণ উদ্ভিদের পাতার মাধ্যমে $CO_2$ গ্রহণ ও $O_2$ ত্যাগ, সেন্টের গন্ধ ছড়ানো। মূলরোম দ্বারা জল শোষণ, কিসমিসকে জলে ভেজালে ফুলে ওঠা।

📌 ৭. রসের উৎস্রোত কীভাবে ঘটে?

✅ উত্তর:

* সংজ্ঞা:
উদ্ভিদের মূল দ্বারা শোষিত জল ও খনিজ লবণ **জাইলেম কলার** মাধ্যমে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির বিপরীতে অভিকর্ষের ঊর্ধ্বমুখে কাণ্ড ভেদ করে পাতায় পৌঁছানোর সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে **রসের উৎস্রোত** (Ascent of Sap) বলে।

* পদ্ধতি ও চালিকা শক্তি:

  • ১. মূলজ চাপ (Root Pressure):
    মূলরোমের কোশগুলিতে জলের ঘনত্ব কম থাকায় অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পার্শ্ববর্তী মাটি থেকে জল প্রবেশ করে। এই অতিরিক্ত জল মূলের জাইলেমের ওপর যে ঊর্ধমুখী চাপ সৃষ্টি করে, তা জলকে প্রাথমিক ভাবে কাণ্ডের জাইলেমে ঠেলে দেয়।
  • ২. কৈশিক বল (Capillary Force):
    জাইলেম বাহিকাগুলি অত্যন্ত সরু নলের মতো হওয়ায়, জলের **পৃষ্ঠটান** ও **আঠালো বলের** প্রভাবে জল একটি কৈশিক বলের সৃষ্টি করে। এটি জলকে সামান্য উচ্চতা পর্যন্ত ওপরে উঠতে সাহায্য করে।
  • ৩. বাষ্পমোচন টান (Transpiration Pull) – প্রধান চালিকা শক্তি:
    পাতার পত্ররন্ধ্র দিয়ে বাষ্পমোচনের ফলে পাতা থেকে অনবরত জলীয় বাষ্প নির্গত হতে থাকে। এর ফলে পাতার জাইলেম কোশগুলির জলীয় ঘনত্ব কমে যায় এবং একটি তীব্র **টান বা ঋণাত্মক চাপ** সৃষ্টি হয়। এই টান জাইলেম কলার মধ্য দিয়ে একটি অবিচ্ছিন্ন জলস্তম্ভকে মূল থেকে পাতা পর্যন্ত টেনে তোলে। এটিই রসের উৎস্রোতের **সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ** এবং প্রধান চালিকা শক্তি।

📌 ৮. বাষ্পমোচনের চারটি প্রভাবক সম্পর্কে ব্যাখ্যা করো।

✅ উত্তর:

* বাষ্পমোচন:
উদ্ভিদের বায়বীয় অঙ্গের (প্রধানত পাতা) মাধ্যমে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প রূপে নির্গত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বাষ্পমোচন বলে। এর প্রধান প্রভাবকগুলি হলো:

  • ১. আলোক (Light):
    আলোর প্রভাবে পাতার **পত্ররন্ধ্র** উন্মুক্ত হয়, যা বাষ্পমোচনের প্রধান পথ। আলোর তীব্রতা যত বাড়ে, সাধারণত বাষ্পমোচনের হারও তত বাড়ে।
  • ২. তাপমাত্রা (Temperature):
    তাপমাত্রা বাড়লে বায়ুর জলীয় বাষ্প ধারণ ক্ষমতা বাড়ে এবং পাতার ভেতরে ও বাইরের বায়ুর মধ্যে বাষ্পঘনত্বের পার্থক্যও বাড়ে। ফলে বাষ্পমোচনের হার **বৃদ্ধি পায়**।
  • ৩. বায়ুর আর্দ্রতা (Atmospheric Humidity):
    বায়ুতে আর্দ্রতা **কম** থাকলে (শুষ্ক বায়ু) পাতার চারপাশের বাতাসে জলীয় বাষ্পের ঘনত্ব কম হয়। এর ফলে বাষ্পঘনত্বের পার্থক্য বাড়ে এবং বাষ্পমোচন **বাড়ে**। আর্দ্রতা বেশি হলে বাষ্পমোচন কমে যায়।
  • ৪. বায়ুর গতি (Wind Velocity):
    বাতাসের গতি বাড়লে পাতার চারপাশের জলীয় বাষ্পে সম্পৃক্ত বায়ুস্তরটি দ্রুত সরিয়ে দেয় এবং শুষ্ক বায়ু প্রতিস্থাপিত হয়। এর ফলে বাষ্পীভবনের হার বেড়ে যায় এবং বাষ্পমোচন **বাড়ে**।

📌 ৯. শ্বসন ও দহনের পার্থক্যগুলি লেখো।

✅ উত্তর: শ্বসন ও দহনের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি নিচে তুলে ধরা হলো:

বৈশিষ্ট্য শ্বসন (Respiration) দহন (Combustion)
১. প্রকৃতি এটি একটি **জৈব রাসায়নিক** প্রক্রিয়া যা উৎসেচকের সাহায্যে নিয়ন্ত্রিত হয়। এটি একটি **অজৈব রাসায়নিক** প্রক্রিয়া যা কোনো উৎসেচক ছাড়াই ঘটে।
২. তাপমাত্রা দেহের **স্বাভাবিক তাপমাত্রায়** ঘটে। উচ্চ তাপমাত্রায় (প্রজ্জ্বলন তাপমাত্রায়) ঘটে।
৩. শক্তি নির্গমন শক্তি ধীরে ধীরে **ধাপে ধাপে** এবং বৃহৎ অংশ **ATP** আকারে মুক্ত হয়। শক্তি দ্রুত ও **একসাথে** প্রধানত **তাপ ও আলো** আকারে নির্গত হয়।
৪. মধ্যবর্তী যৌগ এই প্রক্রিয়ায় একাধিক মধ্যবর্তী যৌগ সৃষ্টি হয় (যেমন—পাইরুভিক অ্যাসিড, সাইট্রিক অ্যাসিড)। এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত কোনো মধ্যবর্তী যৌগ সৃষ্টি হয় না।
৫. নিয়ন্ত্রণ উৎসেচক দ্বারা সুনিয়ন্ত্রিতভাবে ঘটে। সাধারণত নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ঘটে।

📌 ১০. মানুষের ফুসফুসের বর্ণনা দাও।

✅ উত্তর: মানুষের ফুসফুস হলো শ্বাসতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ। এটি গ্যাসীয় আদান-প্রদানে মূল ভূমিকা পালন করে।

* ১. অবস্থান:
মানুষের ফুসফুস বক্ষগহ্বরে (Thoracic Cavity) হৃৎপিণ্ডের দু’পাশে অবস্থিত। এটি বক্ষপিঞ্জর, স্টার্নাম (বক্ষাস্থি) ও ডায়াফ্রামের (মধ্যচ্ছদা) দ্বারা সুরক্ষিত।

* ২. গঠন:

  • আবরণী:
    ফুসফুস **প্লুরা** নামক দ্বিস্তরীয় পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে। দুই স্তরের মাঝে প্লুরাল ফ্লুইড থাকে, যা ফুসফুসের প্রসারণের সময় ঘর্ষণ কমায়।
  • লতি:
    ডান ফুসফুস অপেক্ষাকৃত বড় এবং এটি **৩টি** লতি (ঊর্ধ্ব, মধ্য ও নিম্ন) দ্বারা গঠিত। বাম ফুসফুস ছোট এবং এটি **২টি** লতি (ঊর্ধ্ব ও নিম্ন) দ্বারা গঠিত (হৃৎপিণ্ড থাকায়)।
  • শ্বাসনালীর শাখা:
    শ্বাসনালী ফুসফুসে প্রবেশ করে ব্রঙ্কাস, ব্রঙ্কিওল এবং সবশেষে অসংখ্য ক্ষুদ্র **অ্যালভিওলার নালী** তৈরি করে।
  • অ্যালভিওলাই:
    ব্রঙ্কিওলের শেষে আঙ্গুর থোকার মতো দেখতে অসংখ্য ক্ষুদ্র বায়ুথলি বা **অ্যালভিওলাই** থাকে। এগুলি একক কোষীয় স্তর দ্বারা গঠিত এবং প্রচুর রক্তজালক দ্বারা বেষ্টিত থাকে। এগুলিই গ্যাসীয় আদান-প্রদানের মূল স্থান। [attachment_0](attachment)

* ৩. কাজ:
অ্যালভিওলাইতে রক্ত ও বায়ুর মধ্যে $O_2$ (রক্তে সরবরাহ) এবং $CO_2$ (নির্গমন) আদান-প্রদান ঘটে।


📌 ১১. মানুষের শ্বাসকৌশল বর্ণনা করো।

✅ উত্তর:

* ভূমিকা:
শ্বাস গ্রহণ ও শ্বাস ত্যাগের সম্মিলিত প্রক্রিয়াকে শ্বাসকৌশল বলে। এটি মূলত বক্ষগহ্বরের আয়তন পরিবর্তন এবং **ডায়াফ্রাম** ও **ইন্টারকোস্টাল পেশির** সক্রিয়তার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়।

* ১. নিঃশ্বাস বা শ্বাস গ্রহণ (Inhalation): এটি একটি সক্রিয় প্রক্রিয়া

  • পেশির সংকোচন:
    মধ্যচ্ছদা বা ডায়াফ্রাম সংকুচিত হয়ে **নিচের দিকে নামে** এবং বক্ষগহ্বরের উল্লম্ব আয়তন বাড়ায়। বহিঃস্থ ইন্টারকোস্টাল পেশি সংকুচিত হয়ে পাঁজরকে **ওপরে ও বাইরের দিকে** তোলে, ফলে বক্ষগহ্বরের অনুভূমিক আয়তন বাড়ে।
  • চাপের পরিবর্তন:
    বক্ষগহ্বরের আয়তন বাড়লে ফুসফুসের অভ্যন্তরের বায়ুচাপ (ইন্ট্রাপালমোনারি চাপ) বাইরের বায়ুচাপের চেয়ে **কমে** যায়।
  • ফলাফল:
    চাপের পার্থক্যের কারণে বায়ু বাইরের পরিবেশ থেকে নাক বা মুখ দিয়ে ফুসফুসে দ্রুত **প্রবেশ করে**।

* ২. প্রশ্বাস বা শ্বাস ত্যাগ (Exhalation): এটি সাধারণত একটি নিষ্ক্রিয় প্রক্রিয়া

  • পেশির শিথিলতা:
    ডায়াফ্রাম ও বহিঃস্থ ইন্টারকোস্টাল পেশি **শিথিল** হয়ে পূর্বাবস্থায় ফিরে যায়।
  • চাপের পরিবর্তন:
    বক্ষগহ্বরের আয়তন **কমে** যায়। এর ফলে ফুসফুসের অভ্যন্তরের চাপ বাইরের চাপের চেয়ে **বেড়ে** যায়।
  • ফলাফল:
    ফুসফুসের ভেতরের উচ্চ চাপের কারণে $CO_2$ গ্যাস-যুক্ত বায়ু বাইরে **নির্গত হয়**। [attachment_1](attachment)

📌 ১২. ক্রেবস চক্রকে TCA চক্র বলে কেন? চক্রটি সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

✅ উত্তর:

* TCA চক্র বলার কারণ:
ক্রেবস চক্রের শুরুতে অ্যাসিটাইল কো-এ (২C) ৪-কার্বন-যুক্ত অক্সালো-অ্যাসিটিক অ্যাসিডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে **সাইট্রিক অ্যাসিড** তৈরি করে। যেহেতু সাইট্রিক অ্যাসিডে তিনটি কার্বক্সিলিক অ্যাসিড গ্রুপ (-COOH) থাকে, অর্থাৎ এটি একটি **ট্রাই-কার্বক্সিলিক অ্যাসিড**, তাই চক্রটিকে **TCA চক্র** (Tricarboxylic Acid Cycle) বলা হয়।

* ক্রেবস চক্রের বর্ণনা (সংক্ষেপে):

  • ১. অবস্থান:
    এই চক্রটি ইউক্যারিওটিক কোশের **মাইটোকনড্রিয়ার ম্যাট্রিক্সে** ঘটে।
  • ২. প্রাথমিক বিক্রিয়া:
    গ্লাইকোলাইসিসের শেষ উৎপাদ **পাইরুভিক অ্যাসিড** প্রথমে **অ্যাসিটাইল কো-এ** তৈরি করে। এই অ্যাসিটাইল কো-এ চক্রে প্রবেশ করে।
  • ৩. চক্র:
    অ্যাসিটাইল কো-এ (২C) অক্সালো-অ্যাসিটিক অ্যাসিড (৪C)-এর সঙ্গে মিলিত হয়ে সাইট্রিক অ্যাসিড (৬C) তৈরি করে। সাইট্রিক অ্যাসিড এরপর বিভিন্ন ধাপে চক্রাকারে জারিত হয়ে **$CO_2$** উৎপন্ন করে এবং **অক্সালো-অ্যাসিটিক অ্যাসিডে** ফিরে আসে। [attachment_2](attachment)
  • ৪. শক্তির ফল:
    চক্রে প্রতিটি অ্যাসিটাইল কো-এ-এর জন্য সরাসরি **১ অণু ATP/GTP** তৈরি হয় এবং প্রচুর পরিমাণে শক্তি বহনকারী যৌগ যেমন **NADH** (৩ অণু) ও **FADH₂** (১ অণু) উৎপন্ন হয়।
  • ৫. গুরুত্ব:
    NADH ও FADH₂ পরবর্তীতে ইলেকট্রন পরিবহন তন্ত্রে গিয়ে বৃহৎ পরিমাণে ATP উৎপাদনে সাহায্য করে, যা শ্বসনের মূল লক্ষ্য।

📌 ১৩. গ্লাইকোলাইসিস কাকে বলে? এর পর্যায়গুলি সংক্ষেপে লেখো।

✅ উত্তর:

* গ্লাইকোলাইসিস (Glycolysis):
যে প্রক্রিয়ায় কোশের **সাইটোপ্লাজমে** উৎসেচকের প্রভাবে এক অণু গ্লুকোজ (**৬ কার্বন**) আংশিকভাবে জারিত হয়ে দুই অণু **পাইরুভিক অ্যাসিড** (**৩ কার্বন**) এবং সামান্য পরিমাণে ATP ও NADH উৎপন্ন করে, তাকে গ্লাইকোলাইসিস বলে। এটি **EMP পথ** নামেও পরিচিত।

* পর্যায়গুলি (সংক্ষেপে):

  • ১. শক্তির ব্যবহার বা প্রস্তুতি পর্ব:
    গ্লুকোজকে সক্রিয় করতে প্রথমে **২ অণু ATP** ব্যবহৃত হয়। গ্লুকোজ প্রথমে গ্লুকোজ-৬-ফসফেট এবং পরে ফ্রুক্টোজ-১,৬-বিসফসফেটে পরিণত হয়।
  • ২. শর্করা বিভাজন পর্ব:
    ফ্রুক্টোজ-১,৬-বিসফসফেট ভেঙে গিয়ে দু’টি **তিন-কার্বনযুক্ত** যৌগ, প্রধানত **ফসফোগ্লিসারালডিহাইড** তৈরি হয়।
  • ৩. শক্তি উৎপাদন পর্ব:
    ফসফোগ্লিসারালডিহাইড জারিত হওয়ার সময় মোট **৪ ATP** তৈরি করে (সাবস্ট্রেট লেভেল ফসফোরাইলেশন) এবং **২ অণু NADH** উৎপন্ন করে।

* নিট ফল:
যেহেতু ২ ATP ব্যবহৃত হয়েছিল, তাই গ্লাইকোলাইসিসে নিট **২ অণু ATP** এবং **২ অণু NADH** লাভ হয়। [attachment_3](attachment)


📌 ১৪. কোন্ জাতীয় খাদ্য প্রাণীদেহে নাইট্রোজেনের চাহিদা পূরণ করে? তাপন মূল্য কত? শর্করার পুষ্টিগত গুরুত্ব উল্লেখ করো।

✅ উত্তর:

* নাইট্রোজেনের চাহিদা পূরণকারী খাদ্য:
প্রাণীদেহে নাইট্রোজেনের চাহিদা পূরণ করে **প্রোটিন জাতীয় খাদ্য**। (কারণ প্রোটিনের গাঠনিক একক অ্যামিনো অ্যাসিডের মধ্যে নাইট্রোজেন থাকে)।

* প্রোটিনের তাপন মূল্য:
প্রতি গ্রাম প্রোটিন জারণের ফলে প্রায় **৪.১ – ৪.২ Kcal** (বা ৪ Kcal) শক্তি পাওয়া যায়।

* শর্করার পুষ্টিগত গুরুত্ব (Nutritional Importance of Carbohydrates):

  • ১. তাৎক্ষণিক শক্তি:
    শর্করা দেহের প্রধান এবং **তাৎক্ষণিক শক্তির** উৎস। জারণের ফলে প্রতি গ্রাম শর্করা থেকে প্রায় **৪.১ Kcal** শক্তি পাওয়া যায়।
  • ২. প্রোটিন বাঁচানো (Protein Sparing):
    পর্যাপ্ত শর্করা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা হলে, দেহের অভ্যন্তরীণ প্রোটিন শক্তি উৎপাদনে ব্যবহৃত না হয়ে দেহ গঠন ও মেরামতের জন্য **সংরক্ষিত** থাকে।
  • ৩. স্নায়ুর ও মস্তিষ্কের খাদ্য:
    কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র, বিশেষত **মস্তিষ্কের** প্রধান খাদ্য হলো **গ্লুকোজ**, যা শর্করা থেকেই আসে। এটি না পেলে স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা ব্যাহত হয়।
  • ৪. ফ্যাট বিপাকে সাহায্য:
    ফ্যাট বা চর্বি সম্পূর্ণ জারিত হওয়ার জন্য শর্করার বিপাকজাত উপাদানের প্রয়োজন হয়।

📌 ১৫. BMR কাকে বলে? প্রাপ্তবয়স্ক লোকের BMR কত? আমাদের প্রত্যহ কত ক্যালোরি শক্তির প্রয়োজন এবং তা পূরণের জন্য কী পরিমাণ খাদ্য গ্রহণ করা উচিত?

✅ উত্তর:
* BMR (Basal Metabolic Rate):
পূর্ণ মানসিক ও দৈহিক বিশ্রামরত অবস্থায়, উষ্ণ পরিবেশে (সাধারণত ২৭°C), খাদ্য গ্রহণের ১৪-১৮ ঘণ্টা পর কোনো একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহ যে ন্যূনতম শক্তি ব্যয় করে, তাকে বিপাকীয় হার (BMR) বলে। এটি শরীরের মৌলিক কাজগুলি (যেমন হৃৎস্পন্দন, শ্বসন) চালু রাখতে প্রয়োজন।

* প্রাপ্তবয়স্ক লোকের BMR:
প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের BMR প্রায় ৪০ Kcal/ঘণ্টা/প্রতি বর্গমিটার দেহতল। প্রাপ্তবয়স্ক মহিলার BMR প্রায় ৩৫ Kcal/ঘণ্টা/প্রতি বর্গমিটার দেহতল।

* প্রত্যহ শক্তির প্রয়োজন ও খাদ্য গ্রহণ:

  • শক্তির চাহিদা: একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ক্যালোরির চাহিদা তার কাজ, বয়স ও লিঙ্গের ওপর নির্ভর করে। এটি সাধারণত ২০০০ থেকে ৩০০০ Kcal পর্যন্ত হতে পারে।
  • খাদ্য গ্রহণ: এই চাহিদা পূরণের জন্য শর্করা, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন এবং খনিজ লবণ সঠিক অনুপাতে সুষম খাদ্যের মাধ্যমে গ্রহণ করা উচিত।

📌 ১৬. পরভোজী পুষ্টি কাকে বলে? পরভোজী পুষ্টি কত রকমের হয় তাদের সংজ্ঞা ও উদাহরণ দাও।

✅ উত্তর:
* পরভোজী পুষ্টি:
যে পুষ্টি পদ্ধতিতে জীবেরা নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না এবং খাদ্যের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উৎপাদক বা অন্য কোনো জীবের ওপর নির্ভর করে, তাকে পরভোজী পুষ্টি বলে।

* পরভোজী পুষ্টির প্রকারভেদ:

  • পরজীবী পুষ্টি: জীব অন্য জীবন্ত পোষক দেহকে আশ্রয় করে এবং পোষকের ক্ষতি করে খাদ্য সংগ্রহ করে। উদাহরণ: গোলকৃমি, স্বর্ণলতা।
  • মৃতজীবী পুষ্টি: জীব মৃত বা গলিত জৈব পদার্থ থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে। উদাহরণ: ব্যাঙের ছাতা।
  • মিথোজীবী পুষ্টি: দুটি ভিন্ন প্রজাতির জীব পরস্পরকে সাহায্য করে এবং উভয়েই লাভবান হয়। উদাহরণ: রাইজোবিয়াম ও শিম্ব উদ্ভিদ।
  • হলোজোয়িক পুষ্টি: কঠিন বা তরল খাদ্যবস্তু গ্রহণ করে, পরিপাক, শোষণ ও বর্জন সম্পন্ন হয়। উদাহরণ: মানুষ, অ্যামিবা।

📌 ১৭. পরিপাক কাকে বলে? পাকস্থলীতে কীভাবে খাদ্য পরিপাক হয় বর্ণনা করো।

✅ উত্তর:
* পরিপাক (Digestion):
যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন উৎসেচকের সাহায্যে জটিল, অদ্রবণীয় ও শোষণ অযোগ্য খাদ্যবস্তু সরল, দ্রবণীয় ও শোষণযোগ্য খাদ্য উপাদানে রূপান্তরিত হয়, তাকে পরিপাক বলে।

* পাকস্থলীতে খাদ্য পরিপাক:

  • যান্ত্রিক পরিপাক: পাকস্থলীর পেশির সংকোচন ও প্রসারণে খাদ্য মন্থন হয় এবং কাইম তৈরি হয়।
  • HCl: উৎসেচক সক্রিয় করে, খাদ্য নরম করে ও জীবাণু ধ্বংস করে।
  • পেপসিন: প্রোটিনকে ভেঙে পেপটন ও প্রোটিওজে পরিণত করে।
  • রেনিন: শিশুদের ক্ষেত্রে দুধের কেসিন জমাট বাঁধানোর কাজ করে।

📌 ১৮. আরশোলার মুক্ত সংবহন রেখাচিত্রের সাহায্যে ব্যাখ্যা করো।

✅ উত্তর:
* মুক্ত সংবহন:
আরশোলার দেহে মুক্ত সংবহনতন্ত্র দেখা যায়। এখানে রক্ত (হিমোলিম্ফ) রক্তবাহের পরিবর্তে সরাসরি দেহগহ্বর বা হিমোসিল-এ প্রবাহিত হয়।

* পদ্ধতি:

  • হিমোলিম্ফ: কোনো শ্বাসরঞ্জক নেই।
  • অস্টিয়া: ফাঁক দিয়ে রক্ত হৃৎপিণ্ডে প্রবেশ করে।
  • অ্যাওর্টা: হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত সামনের দিকে প্রবাহিত হয়।
  • হিমোসিল: দেহগহ্বরে রক্ত ছড়িয়ে গিয়ে কোশে পুষ্টি পৌঁছে দেয়।
  • ফিরে আসা: হিমোসিল থেকে রক্ত আবার অস্টিয়া দিয়ে হৃৎপিণ্ডে ফিরে আসে।

📌 ১৯. মানুষের হৃৎপিন্ডে কীভাবে সংবহন হয় তা চিত্রের সাহায্যে বর্ণনা করো।

✅ উত্তর:
* দ্বৈত সংবহন:
মানুষের দেহে দ্বৈত সংবহন দেখা যায়—রক্ত এক পূর্ণচক্রে হৃদয় দিয়ে দুবার যায়।

* পদ্ধতি:

  • দেহ থেকে ডান অলিন্দে দূষিত রক্ত প্রবেশ করে।
  • ডান নিলয় → ফুসফুসীয় ধমনী → ফুসফুস : দূষিত রক্ত বিশুদ্ধ হয়।
  • ফুসফুস → বাম অলিন্দ : বিশুদ্ধ রক্ত ফিরে আসে।
  • বাম অলিন্দ → বাম নিলয় → মহাধমনী → দেহ : বিশুদ্ধ রক্ত দেহে ছড়িয়ে পড়ে।

📌 ২০. ABO গ্রুপ সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো।

✅ উত্তর:
* ABO ব্লাড গ্রুপ:
RBC–এর পৃষ্ঠে উপস্থিত অ্যান্টিজেন এবং রক্তরসে উপস্থিত অ্যান্টিবডি–র ভিত্তিতে চারটি গ্রুপ।

* গ্রুপগুলির বৈশিষ্ট্য:

রক্ত গ্রুপ অ্যান্টিজেন অ্যান্টিবডি
A A b
B B a
AB A ও B নেই
O নেই a ও b

📌 ২১. দ্বৈত সংবহন কাকে বলে? পদ্ধতিটি রেখাচিত্রের সাহায্যে ব্যাখ্যা করো।

✅ উত্তর:
* দ্বৈত সংবহন:
যে সংবহনে রক্ত একটি পূর্ণ চক্র সম্পূর্ণ করার জন্য হৃৎপিণ্ডের মধ্যে দিয়ে দুবার (একবার বিশুদ্ধ এবং একবার দূষিত রক্ত রূপে) প্রবাহিত হয়, তাকে দ্বৈত সংবহন বলে। এটি মানুষের হৃৎপিণ্ডে দেখা যায়।

* পদ্ধতি:
এই প্রক্রিয়া দুটি পৃথক বর্তনী বা সার্কিটে সম্পন্ন হয়:

  • ১. ফুসফুসীয় সংবহন: ডান নিলয় → ফুসফুস → বাম অলিন্দ
  • ২. দেহগত সংবহন: বাম নিলয় → দেহ → ডান অলিন্দ

📌 ২২. Rh ফ্যাক্টর বলতে কী বোঝো? Rh-এর গুরুত্ব উল্লেখ করো।

✅ উত্তর:
* Rh ফ্যাক্টর:
লোহিত রক্তকণিকার (RBC) পৃষ্ঠে D অ্যান্টিজেন নামে বিশেষ প্রোটিন অ্যান্টিজেনের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতিকে Rh ফ্যাক্টর বলে। উপস্থিত থাকলে রক্ত Rh পজিটিভ (Rh⁺) এবং অনুপস্থিত থাকলে Rh নেগেটিভ (Rh⁻)।

* Rh-এর গুরুত্ব:

  • রক্ত সঞ্চালনে: Rh⁻ রক্তগ্রহীতা Rh⁺ রক্ত পেলে তার দেহে Rh অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, যা পরবর্তী রক্ত সঞ্চালনে বিপদজনক।
  • গর্ভাবস্থায়: Rh⁻ মায়ের গর্ভে Rh⁺ শিশুর ভ্রূণ থাকলে দ্বিতীয় গর্ভে এরিথ্রোব্লাস্টোসিস ফিটালিস হতে পারে।

📌 ২৩. হৃৎপিন্ডের লম্বচ্ছেদের চিহ্নিত চিত্রাঙ্কন করো।

✅ উত্তর:
* নির্দেশনা: পরীক্ষার খাতায় মানুষের হৃৎপিণ্ডের লম্বচ্ছেদের একটি স্বচ্ছ ও সঠিক চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করতে হবে। চিত্রে নিম্নলিখিত অংশগুলি চিহ্নিত করা আবশ্যক:

  • প্রকোষ্ঠ: ডান অলিন্দ, ডান নিলয়, বাম অলিন্দ, বাম নিলয়।
  • কপাটিকা: ত্রিপত্রক কপাটিকা, দ্বিপত্রক (মাইট্রাল) কপাটিকা, অর্ধচন্দ্রাকার কপাটিকা।
  • রক্তবাহ: মহাধমনী, মহাকৈশিক শিরা, ফুসফুসীয় ধমনী, ফুসফুসীয় শিরা।

📌 ২৪. রেচনে যকৃৎ এবং চর্মের ভূমিকা আলোচনা করো।

✅ উত্তর:
* রেচনে যকৃতের ভূমিকা:
যকৃৎ প্রধান রেচন অঙ্গ না হলেও এটি সহায়ক রেচন অঙ্গ হিসেবে কাজ করে।

  • ইউরিয়া উৎপাদন: প্রোটিন বিপাকের ফলে উৎপন্ন অ্যামোনিয়া (NH₃) অর্ণিথিন চক্রের মাধ্যমে ইউরিয়ায় রূপান্তরিত হয়।
  • পিত্তরসের ভূমিকা: RBC ভেঙে উৎপন্ন বিলিরুবিন পিত্তরসের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়।

* রেচনে চর্মের ভূমিকা:

  • ঘাম নিঃসরণ: ঘামের মাধ্যমে অতিরিক্ত জল, সামান্য ইউরিয়া ও লবণ রেচিত হয়।
  • তাপ নিয়ন্ত্রণ: ঘাম বাষ্পীভবনের মাধ্যমে দেহতাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

📌 ২৫. জলসাম্য রক্ষায় রেচনের ভূমিকা কী? রেচনের গুরুত্ব লেখো।

✅ উত্তর:
* জলসাম্য রক্ষায় রেচনের ভূমিকা:
বৃক্ক মূত্র উৎপাদনের মাধ্যমে দেহে জল ও লবণের ভারসাম্য বজায় রাখে (Osmoregulation)।

  • পুনর্বিশোষণ: প্রয়োজন হলে ADH হরমোনের প্রভাবে বৃক্ক জল পুনঃশোষণ করে এবং জল অপচয় রোধ করে।
  • অতিরিক্ত জল নির্গমন: শরীরে জল বেশি হলে বৃক্ক পাতলা মূত্র তৈরি করে অতিরিক্ত জল বের করে দেয়।

* রেচনের গুরুত্ব:

  • বর্জ্য অপসারণ: ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি বিপাকজাত ক্ষতিকারক বর্জ্য অপসারণ করে।
  • অম্ল-ক্ষার ভারসাম্য: রক্তে অ্যাসিড-ক্ষারের ভারসাম্য বজায় রাখে।

📌 ২৬. উদ্ভিদের রেচনের পদ্ধতিগুলি বর্ণনা করো।

✅ উত্তর:
* উদ্ভিদের রেচনের পদ্ধতি:
উদ্ভিদদের বিশেষ রেচন অঙ্গ নেই। তারা বিভিন্ন উপায়ে রেচন সম্পন্ন করে:

  • পাতা মোচন: পুরাতন/হলুদ পাতায় বর্জ্য জমা করে তা ঝরিয়ে দেয়।
  • বাকল মোচন: ছালে বর্জ্য জমিয়ে ছাল ঝরিয়ে রেচন করে (যেমন পেয়ারা, ইউক্যালিপটাস)।
  • ফল বাষ্পমোচন: ফল অতিরিক্ত জল বাষ্পীভবনের মাধ্যমে ত্যাগ করে।
  • তরুক্ষীর/গঁদ/রজন: কাণ্ড বা ছাল কেটে দিলে বর্জ্য নির্গত হয় (যেমন রবার গাছ)।

📌 ২৭. গদ, রজন ও তরুক্ষীরের অর্থকরী গুরুত্বগুলি লেখো।

✅ উত্তর:

* গঁদ (Gum):

  • আঠা শিল্প: গঁদ থেকে আঠা/গাম তৈরি হয়; কাগজ ও বস্ত্র শিল্পে ব্যবহৃত।
  • ঔষধ: কিছু গঁদ খাদ্য ও ওষুধে ব্যবহৃত হয় (যেমন তিসির গঁদ)।

* রজন (Resin):

  • বার্নিশ ও রঙ: রজন থেকে বার্নিশ, রঙ ও জলরোধী পদার্থ তৈরি হয়।
  • আগরবাতি: রজন আগরবাতি ও ধূপ তৈরিতে ব্যবহৃত।

* তরুক্ষীর (Latex):

  • রবার শিল্প: রবার গাছের তরুক্ষীর থেকে প্রাকৃতিক রবার তৈরি হয়; টায়ার, টিউব ইত্যাদিতে ব্যবহৃত।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার