নবম শ্রেণী জীবন বিজ্ঞান: অধ্যায় তিন জৈবনিক প্রক্রিয়া, পর্ব – পুষ্টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

পুষ্টি: সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

1. পুষ্টি (Nutrition) কাকে বলে?

উত্তর দেখো

যে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় জীব খাদ্যগ্রহণ, পরিপাক, শোষণ ও আত্তীকরণের মাধ্যমে দেহকোষের প্রোটোপ্লাজমে শক্তি অর্জন করে এবং দেহের বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ ঘটায়, তাকে পুষ্টি বলে।


2. পরজীবী পুষ্টি (Parasitic Nutrition) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর দেখো

যে পুষ্টি প্রক্রিয়ায় কোনো জীব অপর কোনো সজীব পোষকের দেহ থেকে পুষ্টিরস শোষণ করে পুষ্ট হয় এবং পোষকের ক্ষতিসাধন করে, তাকে পরজীবী পুষ্টি বলে।
উদাহরণ: স্বর্ণলতা (উদ্ভিদ), কৃমি (প্রাণী)।


3. মিথোজীবী পুষ্টি (Symbiotic Nutrition) বলতে কী বোঝো?

উত্তর দেখো

যখন দুটি ভিন্ন জীব পরস্পরের সাহচর্যে থেকে পুষ্টির আদান-প্রদান করে এবং উভয়েই উপকৃত হয়, তখন তাদের পুষ্টিকে মিথোজীবী পুষ্টি বলে।
উদাহরণ: লাইকেন (শৈবাল ও ছত্রাকের সহাবস্থান)।


4. মৃতজীবী পুষ্টি (Saprophytic Nutrition) কাকে বলে?

উত্তর দেখো

যে পুষ্টি প্রক্রিয়ায় জীব পচা-গলা উদ্ভিদ বা প্রাণীর দেহাংশ থেকে জৈব রস শোষণ করে পুষ্টি লাভ করে, তাকে মৃতজীবী পুষ্টি বলে।
উদাহরণ: অ্যাগারিকাস, মিউকর (ছত্রাক)।


5. পতঙ্গভুক উদ্ভিদরা পতঙ্গ ধরে খায় কেন? উদাহরণ দাও।

উত্তর দেখো

যেসব উদ্ভিদ নাইট্রোজেন-বিহীন মাটিতে জন্মায়, তারা দেহের প্রোটিন গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে পতঙ্গ ধরে খায়।
উদাহরণ: কলশপত্রী, সূর্যশিশির।


6. হলোজোয়িক পুষ্টি (Holozoic Nutrition) কাকে বলে?

উত্তর দেখো

যে পুষ্টি প্রক্রিয়ায় প্রাণীরা মুখবিবর বা বিশেষ অঙ্গের মাধ্যমে কঠিন বা তরল জটিল খাদ্য গ্রহণ করে এবং পরিপাক ও শোষণের মাধ্যমে দেহকোষে আত্তীকৃত করে, তাকে হলোজোয়িক পুষ্টি বলে। (মানুষ, অ্যামিবা ইত্যাদি)।


7. প্রাণীদের পুষ্টির ৫টি পর্যায়ের নাম ক্রমানুসারে লেখো।

উত্তর দেখো

প্রাণী পুষ্টির ৫টি পর্যায় হলো:
১. খাদ্যগ্রহণ (Ingestion)
২. পরিপাক (Digestion)
৩. শোষণ (Absorption)
৪. আত্তীকরণ (Assimilation)
৫. বহিষ্করণ (Egestion)


8. পরিপাক (Digestion) কাকে বলে?

উত্তর দেখো

যে জৈবরাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উৎসেচকের সাহায্যে অদ্রবণীয় ও জটিল খাদ্যবস্তু ভেঙে সরল, তরল ও শোষণযোগ্য খাদ্যরসে পরিণত হয়, তাকে পরিপাক বলে।


9. আত্তীকরণ (Assimilation) বলতে কী বোঝো?

উত্তর দেখো

শোষিত সরল খাদ্যবস্তু রক্ত বা লসিকার মাধ্যমে দেহকোষে পৌঁছে প্রোটোপ্লাজমের অংশীভূত হওয়া বা প্রোটোপ্লাজমে মিশে যাওয়াকে আত্তীকরণ বলে। এর ফলে জীবের শুষ্ক ওজন বৃদ্ধি পায়।


10. মানুষের দন্ত সংকেতটি লেখো ও ব্যাখ্যা করো।

উত্তর দেখো

প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দন্ত সংকেত হলো: $\frac{2123}{2123}$।
অর্থাৎ প্রতি চোয়ালের একপাশে:
ইনিসিজর (I) = ২টি, ক্যানাইন (C) = ১টি, প্রিমোলার (PM) = ২টি, মোলার (M) = ৩টি।
মোট দাঁত = $(২+১+২+৩) \times ৪ = ৩২$টি।


11. লালারসের দুটি কাজ উল্লেখ করো।

উত্তর দেখো

১. পরিপাক: লালারসে উপস্থিত টায়ালিন সেদ্ধ শ্বেতসারকে মলটোজে পরিণত করে।
২. জীবাণুনাশক: লালারসে অবস্থিত ‘লাইসোজাইম’ উৎসেচক খাদ্যের সঙ্গে আগত ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।


12. পেরিস্টলসিস বা ক্রমসংকোচন কী? এর গুরুত্ব কী?

উত্তর দেখো

সংজ্ঞা: পৌষ্টিক নালীর পেশিগুলোর পর্যায়ক্রমিক সংকোচন ও প্রসারণকে পেরিস্টলসিস বলে।
গুরুত্ব: এর ফলে খাদ্যবস্তু মণ্ড আকারে পৌষ্টিক নালীর মধ্য দিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হতে পারে।


13. পাকস্থলীর হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের (HCl) দুটি কাজ লেখো।

উত্তর দেখো

১. জীবাণু ধ্বংস: খাদ্যের সঙ্গে আগত ক্ষতিকারক জীবাণু মেরে ফেলে।
২. উৎসেচক সক্রিয়করণ: নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেনকে সক্রিয় পেপসিনে পরিণত করে প্রোটিন পরিপাকে সাহায্য করে।


14. যকৃৎকে ‘সুসজ্জত জৈব রসায়নাগার’ বলা হয় কেন?

উত্তর দেখো

যকৃতে দেহের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ জৈব-রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলি (যেমন—গ্লাইকোজেনেসিস, ইউরিয়া সংশ্লেষ, পিত্ত উৎপাদন, বিষক্রিয়া নষ্ট করা) সম্পন্ন হয়। তাই যকৃৎকে মানবদেহের ‘সুসজ্জত জৈব রসায়নাগার’ (Biochemical Laboratory) বলা হয়।


15. পিত্তরসের দুটি কাজ উল্লেখ করো।

উত্তর দেখো

১. ফ্যাট পরিপাক: পিত্তলবণ ফ্যাটের বড় কণাগুলিকে ভেঙে ছোট ছোট কণায় পরিণত করে (অবদ্রব বা Emulsification)।
২. ক্ষারীয় মাধ্যম সৃষ্টি: পাকস্থলী থেকে আসা আম্লিক খাদ্যকে প্রশমিত করে ক্ষারীয় করে তোলে, যাতে অগ্ন্যাশয়ের উৎসেচক কাজ করতে পারে।


16. অগ্ন্যাশয়কে মিশ্রগ্রন্থি বলা হয় কেন?

উত্তর দেখো

অগ্ন্যাশয় একই সাথে অনাল গ্রন্থি (হরমোন ক্ষরণকারী, যেমন—ইনসুলিন) এবং সনাল গ্রন্থি (উৎসেচক ক্ষরণকারী, যেমন—ট্রিপসিন) হিসেবে কাজ করে। তাই একে মিশ্রগ্রন্থি (Mixed Gland) বলা হয়।


17. ভিলাই (Villi) কী? এর কাজ কী?

উত্তর দেখো

ক্ষুদ্রান্ত্রর অন্তঃপ্রাচীরে অবস্থিত আঙুলের মতো যে প্রবর্ধকগুলি থাকে, তাদের ভিলাই বলে।
কাজ: এটি পরিপাক নালীর শোষণতল (Absorption Surface) বৃদ্ধি করে এবং পাচিত খাদ্যরস শোষণ করে।


18. শর্করা ও প্রোটিন পরিপাক হয়ে শেষ পর্যন্ত কীসে পরিণত হয়?

উত্তর দেখো

শর্করা পরিপাক হয়ে সরল শর্করা বা গ্লুকোজে এবং প্রোটিন পরিপাক হয়ে অ্যামাইনো অ্যাসিডে পরিণত হয়।


19. উপচিতি বিপাক ও অপচিতি বিপাকের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর দেখো

১. ওজন: উপচিতি বিপাকে জীবদেহের শুষ্ক ওজন বাড়ে (যেমন—পুষ্টি, সালোকসংশ্লেষ), কিন্তু অপচিতি বিপাকে শুষ্ক ওজন কমে (যেমন—শ্বসন, রেচন)।
২. শক্তি: উপচিতিতে সাধারণত শক্তির সঞ্চয় ঘটে, আর অপচিতিতে শক্তির মুক্তি ঘটে।


20. সুষম খাদ্য (Balanced Diet) কাকে বলে?

উত্তর দেখো

যে খাদ্যে খাদ্যের ছয়টি উপাদান (শর্করা, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও জল) গুণাগুণ ও পরিমাণ অনুসারে সঠিক অনুপাতে উপস্থিত থাকে এবং যা গ্রহণ করলে দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, কাজ করার শক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় থাকে, তাকে সুষম খাদ্য বলে। (যেমন—দুধ, ডিম)।


21. মৌল বিপাকীয় হার বা BMR (Basal Metabolic Rate) কাকে বলে?

উত্তর দেখো

একজন সুস্থ মানুষের সম্পূর্ণ শারীরিক ও মানসিক বিশ্রামরত অবস্থায়, হালকা খাদ্যগ্রহণের ১২-১৮ ঘণ্টা পর, আরামদায়ক তাপমাত্রায় দেহের প্রয়োজনীয় শারীরবৃত্তীয় কাজগুলি (যেমন—হৃদস্পন্দন, শ্বাসক্রিয়া) পরিচালনার জন্য যে ন্যূনতম তাপশক্তি উৎপন্ন হয়, তাকে BMR বলে।


22. ভিটামিন কাকে বলে?

উত্তর দেখো

যে বিশেষ জৈব পরিপোষক খাদ্যে খুব অল্প পরিমাণে উপস্থিত থেকে দেহের স্বাভাবিক পুষ্টি ও বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং যার অভাবে দেহে নির্দিষ্ট রোগলক্ষণ প্রকাশ পায়, তাকে ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ বলে।


23. প্রোভিটামিন (Pro-vitamin) কী? উদাহরণ দাও।

উত্তর দেখো

যেসব জৈব যৌগ খাদ্যে ভিটামিন হিসেবে থাকে না, কিন্তু প্রাণীদেহে প্রবেশের পর ভিটামিনে সংশ্লেষিত বা রূপান্তরিত হয়, তাদের প্রোভিটামিন বলে।
উদাহরণ: গাজরে থাকা বিটা-ক্যারোটিন ($\beta$-carotene) যা যকৃতে ভিটামিন A-তে পরিণত হয়।


24. ভিটামিন A-এর উৎস ও অভাবজনিত রোগ উল্লেখ করো।

উত্তর দেখো

উৎস: গাজর, পাকা আম, পেঁপে, কড মাছের যকৃৎ নি নিঃসৃত তেল, ডিমের কুসুম।
অভাবজনিত রোগ: রাতকানা (Nyctalopia) এবং ফিনোডার্মা বা টোড স্কিন (খসখসে চামড়া)।


25. ভিটামিন D-এর কাজ কী?

উত্তর দেখো

১. অন্ত্রে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণে সাহায্য করে।
২. হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত করে।
৩. শিশুদের রিকেট এবং বড়দের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ প্রতিরোধ করে।


26. ভিটামিন E এবং K-এর একটি করে কাজ লেখো।

উত্তর দেখো

ভিটামিন E: মাতৃস্তন্যে দুগ্ধক্ষরণ বৃদ্ধি করে এবং প্রজনন ক্ষমতা বজায় রেখে বন্ধাত্ব প্রতিরোধ করে।
ভিটামিন K: যকৃতে প্রোথ্রম্বিন সংশ্লেষ করে রক্ত তঞ্চনে বা জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।


27. জলে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলির (B-কমপ্লেক্স ও C) কাজ কী?

উত্তর দেখো

ভিটামিন B-কমপ্লেক্স: স্নায়ুতন্ত্র সুস্থ রাখে, রক্তকণিকা গঠনে সাহায্য করে এবং বেরিবেরি ও পেলেগ্রা রোগ প্রতিরোধ করে।
ভিটামিন C: মাড়ি সুস্থ রাখে, ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করে এবং স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করে।


28. মানবদেহে ক্যালসিয়াম (Ca) এবং আয়োডিন (I)-এর গুরুত্ব লেখো।

উত্তর দেখো

ক্যালসিয়াম: হাড় ও দাঁতের গঠন, রক্ত তঞ্চন এবং পেশি সংকোচনে সাহায্য করে।
আয়োডিন: থাইরয়েড গ্রন্থির হরমোন (থাইরক্সিন) গঠনে সাহায্য করে এবং গলগণ্ড রোগ প্রতিরোধ করে।


29. রাফেজ (Roughage) বা তন্তু জাতীয় খাদ্য কী? এর গুরুত্ব কী?

উত্তর দেখো

উদ্ভিজ্জ খাদ্যের সেলুলোজ ও লিগনিন যুক্ত তন্তুময় অংশ যা আমাদের পরিপাক হয় না, তাকে রাফেজ বলে (যেমন—শাকসবজি, ফলের খোসা)।
গুরুত্ব: এটি মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।


30. কোয়াশিওরকর ও ম্যারাসমাস রোগের মধ্যে মূল পার্থক্য কী?

উত্তর দেখো

কোয়াশিওরকর: এটি শিশুদের খাদ্যে কেবল প্রোটিনের অভাবে হয়। লক্ষণ—পেট ফোলা, গা-হাত-পায়ে জল জমা (Edema)।
ম্যারাসমাস: এটি খাদ্যে প্রোটিন ও শক্তি (ক্যালোরি) উভয়ের অভাবেই হয়। লক্ষণ—চরম শীর্ণকায় দেহ, চামড়া কুঁচকে যাওয়া।


31. তাপন মূল্য (Calorific Value) কাকে বলে? ফ্যাটের তাপন মূল্য কত?

উত্তর দেখো

প্রমাণ চাপ ও তাপমাত্রায় ১ গ্রাম কোনো খাদ্যবস্তুর সম্পূর্ণ জারণ বা দহনে যে পরিমাণ তাপশক্তি উৎপন্ন হয়, তাকে ওই খাদ্যের তাপন মূল্য বলে।
ফ্যাটের তাপন মূল্য সবচেয়ে বেশি: ৯.৩ Kcal/gm।


32. উৎসেচক (Enzyme) কাকে বলে? এর একটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর দেখো

সজীব কোষে উৎপন্ন প্রোটিনধর্মী জৈব অনুঘটক, যা জৈব-রাসায়নিক বিক্রিয়ার হার বাড়ায় বা কমায় এবং বিক্রিয়ার শেষে নিজে অপরিবর্তিত থাকে, তাকে উৎসেচক বলে।
বৈশিষ্ট্য: উৎসেচক সুনির্দিষ্ট সাবস্ট্রেটের (বস্তুর) ওপর কাজ করে (যেমন—প্রোটিনভঙ্গক উৎসেচক শর্করা ভাঙবে না)।


33. দেহ-সংরক্ষক খাদ্য ও দেহ-পরিপোষক খাদ্যের মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর দেখো

দেহ-পরিপোষক খাদ্য (শর্করা, প্রোটিন, ফ্যাট) দেহের গঠন, বৃদ্ধি ও শক্তি উৎপাদনে সরাসরি অংশ নেয়। কিন্তু দেহ-সংরক্ষক খাদ্য (ভিটামিন, খনিজ লবণ) শক্তি উৎপাদন করে না, বরং দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং স্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপ বজায় রাখে।


34. বৃহদন্ত্রের দুটি কাজ উল্লেখ করো।

উত্তর দেখো

১. শোষণ: অপাচ্য খাদ্যবস্তু থেকে অতিরিক্ত জল ও খনিজ লবণ শোষণ করা।
২. মল গঠন ও নিঃসরণ: অপাচ্য অংশকে মলে পরিণত করা এবং সাময়িকভাবে জমা রাখা।


35. স্বভোজী ও পরভোজী পুষ্টির মধ্যে একটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর দেখো

স্বভোজী পুষ্টিতে জীব (সবুজ উদ্ভিদ) অজৈব উপাদান থেকে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে। কিন্তু পরভোজী পুষ্টিতে জীব খাদ্যের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে স্বভোজীদের ওপর নির্ভরশীল, নিজের খাদ্য তৈরি করতে পারে না।


36. পরিপাক নালীতে জলের ভূমিকা কী?

উত্তর দেখো

১. খাদ্যবস্তুকে আর্দ্র ও নরম করে গলাধঃকরণে সাহায্য করে।
২. উৎসেচকের ক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তরল মাধ্যম হিসেবে কাজ করে এবং পাচিত খাদ্য শোষণে সাহায্য করে।


সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) — পুষ্টি

বিএমআর (BMR) কী এবং সুস্থ মানুষের BMR কত?

BMR বা ‘বেসাল মেটাবলিক রেট’ হলো পূর্ণ বিশ্রামরত অবস্থায় শরীরের অত্যাবশ্যকীয় কাজগুলি (যেমন হৃদস্পন্দন, শ্বাসক্রিয়া) চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম শক্তি। একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের BMR দৈনিক প্রায় 1600-1700 Kcal এবং মহিলার প্রায় 1400-1500 Kcal।

সুষম খাদ্য বা Balanced Diet বলতে কী বোঝায়?

যে খাদ্যে খাদ্যের ছয়টি উপাদান (শর্করা, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও জল) গুণাগুণ অনুসারে সঠিক অনুপাতে (শর্করা:প্রোটিন:ফ্যাট = 4:1:1) থাকে এবং যা দেহের পুষ্টি, বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখে, তাকে সুষম খাদ্য বলে। যেমন—দুধ, ডিম।

পিত্তরসে কোনো উৎসেচক থাকে না, তবুও এটি পরিপাকে কেন গুরুত্বপূর্ণ?

পিত্তরসে কোনো হজমকারী এনজাইম বা উৎসেচক থাকে না ঠিকই, কিন্তু এতে পিত্তলবণ থাকে। এই পিত্তলবণ ফ্যাটের বড় কণাগুলিকে ভেঙে ছোট ছোট কণায় পরিণত করে (ইমালসিফিকেশন), যার ফলে লাইপেজ উৎসেচক সহজেই ফ্যাট হজম করতে পারে। এছাড়া এটি পাকস্থলী থেকে আসা অ্যাসিডিক খাবারকে ক্ষারীয় করে।

ভিটামিন A এবং D-এর অভাবে কী কী রোগ হয়?

ভিটামিন A-এর অভাবে রাতকানা (Night Blindness) এবং চামড়ার রোগ (ফিনোডার্মা) হয়। ভিটামিন D-এর অভাবে শিশুদের হাড় বেঁকে যাওয়া বা রিকেট (Rickets) এবং বড়দের হাড় ভঙ্গুর হওয়া বা অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হয়।

হলোজোয়িক পুষ্টি (Holozoic Nutrition) কী?

এটি প্রাণীদের পুষ্টি পদ্ধতি। এই প্রক্রিয়ায় প্রাণী কঠিন বা তরল জটিল খাদ্য গ্রহণ করে এবং ৫টি ধাপের মাধ্যমে (খাদ্যগ্রহণ, পরিপাক, শোষণ, আত্তীকরণ ও বহিষ্করণ) পুষ্টি সম্পন্ন করে। মানুষ, অ্যামিবা ইত্যাদি এই পদ্ধতিতে পুষ্টি লাভ করে।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার