নবম শ্রেণী জীবন বিজ্ঞান: অধ্যায় ৪ জীববিদ্যা ও মানব কল্যাণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর
🌿 চতুর্থ অধ্যায়: জীববিদ্যা ও মানবকল্যাণ (অতিরিক্ত প্রশ্ন ও উত্তর)
📜 অনাক্রম্যতা এবং রোগের প্রশ্নোত্তর
১. অনাক্রমতা কাকে বলে?
✅ উত্তর: জীবদেহের যে বিশেষ ক্ষমতা বহিরাগত ক্ষতিকারক জীবাণু, টক্সিন বা অন্য কোনো অ্যান্টিজেনকে চিনতে পারে এবং তাদের নিষ্ক্রিয় বা ধ্বংস করে দেহকে রোগমুক্ত রাখে, তাকে অনাক্রম্যতা বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বলে।
২. সহজাত অনাক্রমতা কাকে বলে?
✅ উত্তর: যে অনাক্রমতা কোনো প্রাণী জন্মসূত্রে লাভ করে এবং যা জন্ম থেকেই দেহে উপস্থিত থাকে, তাকে সহজাত অনাক্রম্যতা বলে। এটি একটি সাধারণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যা কোনো একটি নির্দিষ্ট জীবাণুর উপর নির্ভর করে না। ত্বক, শ্লৈষ্মিক ঝিল্লি এবং লালার মতো উপাদানগুলি এই প্রতিরক্ষায় সাহায্য করে।
৩. সহজত অনাক্রমতাকে অনির্দিষ্ট অনাক্রমতা বলে কেন?
✅ উত্তর: সহজাত অনাক্রম্যতাকে অনির্দিষ্ট অনাক্রম্যতা বলা হয় কারণ এটি কোনো নির্দিষ্ট জীবাণু বা অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা দেয় না। এটি বিভিন্ন জীবাণুর বিরুদ্ধে একই সাধারণ পদ্ধতিতে কাজ করে। এই ব্যবস্থা আক্রমণকারী যেকোনো জীবাণুর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক এবং প্রথম সারির প্রতিরক্ষা প্রদান করে।
৪. অর্জিত অনাক্রমতা কাকে বলে?
✅ উত্তর: যে অনাক্রম্যতা কোনো প্রাণী তার জন্মের পর জীবনকালে নির্দিষ্ট জীবাণু বা টিকার সংস্পর্শে এসে লাভ করে, তাকে অর্জিত অনাক্রম্যতা বলে। এই ব্যবস্থা নির্দিষ্ট জীবাণুকে চিনে নিয়ে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা গড়ে তোলে। এটি সহজাত অনাক্রম্যতার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও কার্যকর।
৫. অর্জিত অনাক্রমতাকে সুনির্দিষ্ট অনাক্রমতা বলে কেন?
✅ উত্তর: অর্জিত অনাক্রম্যতাকে সুনির্দিষ্ট অনাক্রম্যতা বলা হয় কারণ এই ব্যবস্থাটি শুধুমাত্র সেই নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেন বা জীবাণুর বিরুদ্ধেই কাজ করে, যার সংস্পর্শে এসে এটি তৈরি হয়েছে। একবার অর্জিত হওয়ার পর এই ব্যবস্থা দ্রুত ও কার্যকরভাবে সেই জীবাণুকে শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে।
৬. সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় অনাক্রমতা কাকে বলে?
✅ উত্তর: সক্রিয় অনাক্রমতা: যখন দেহে জীবাণু বা টিকা প্রবেশের ফলে দেহ নিজেই অ্যান্টিবডি তৈরি করে, তাকে সক্রিয় অনাক্রম্যতা বলে। নিষ্ক্রিয় অনাক্রমতা: যখন রোগ প্রতিরোধের জন্য বাইরে থেকে সরাসরি তৈরি অ্যান্টিবডি দেহে প্রবেশ করানো হয়, তাকে নিষ্ক্রিয় অনাক্রম্যতা বলে।
৭. সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় অনাক্রমতার পার্থক্য লেখো।
✅ **সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় অনাক্রমতার পার্থক্য:**
| বৈশিষ্ট্য | সক্রিয় অনাক্রমতা | নিষ্ক্রিয় অনাক্রমতা |
|---|---|---|
| উৎপাদন | দেহ **নিজে** অ্যান্টিবডি তৈরি করে। | বাইর থেকে **তৈরি অ্যান্টিবডি** সরবরাহ করা হয়। |
| স্থায়িত্ব | সাধারণত **দীর্ঘস্থায়ী**। | সাধারণত **স্বল্পস্থায়ী**। |
৮. অ্যান্টিজেন কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
✅ উত্তর: অ্যান্টিজেন হলো সেই বহিরাগত বা অভ্যন্তরীণ বস্তু, যা দেহে প্রবেশ করলে ইমিউন রেসপন্স জাগায় এবং যার বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। অ্যান্টিজেন সাধারণত প্রোটিন, পলিস্যাকারাইড বা নিউক্লিক অ্যাসিড দিয়ে গঠিত হতে পারে। উদাহরণ: ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর, ভাইরাসের ক্যাপসিড অথবা ধূলিকণা।
৯. এক্সোজেনাস অ্যান্টিজেন কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
✅ উত্তর: যে সমস্ত অ্যান্টিজেন দেহের বাইরে থেকে প্রবেশ করে এবং ইমিউন রেসপন্স সৃষ্টি করে, তাদের এক্সোজেনাস অ্যান্টিজেন বলে। এই অ্যান্টিজেনগুলি সাধারণত রক্তে বা লসিকা কোষে মুক্ত অবস্থায় থাকে। উদাহরণ: কোনো ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ধূলিকণা বা পরাগরেণু।
১০. ইন্ডোজেনাস অ্যান্টিজেন কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
✅ উত্তর: যে অ্যান্টিজেনগুলি সংক্রমিত কোষের অভ্যন্তরে তৈরি হয় এবং কোষের পৃষ্ঠে প্রকাশিত হয়, তাদের ইন্ডোজেনাস অ্যান্টিজেন বলে। এগুলি সাধারণত ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত কোষ বা ক্যান্সারের কোষ দ্বারা তৈরি হয়। উদাহরণ: ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত কোষের উপরিভাগের ভাইরাস প্রোটিন।
১১. অ্যান্টিবডি কাকে বলে?
✅ উত্তর: অ্যান্টিবডি হলো ইমিউনোগ্লোবিউলিন নামে পরিচিত বিশেষ ধরনের প্রতিরক্ষামূলক প্রোটিন যা দেহের প্লাজমা কোষ দ্বারা তৈরি হয়। এগুলি অ্যান্টিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেগুলিকে নিষ্ক্রিয় করে এবং মানবদেহকে রোগ থেকে রক্ষা করে। অ্যান্টিবডি সাধারণত ‘Y’ আকৃতির হয়। [attachment_0](attachment)
১২. প্যারাটোপ ও এপিটোপ কাকে বলে?
✅ উত্তর: এপিটোপ: অ্যান্টিজেনের যে নির্দিষ্ট অংশটির সঙ্গে অ্যান্টিবডি যুক্ত হয়, তাকে এপিটোপ বলে। প্যারাটোপ: অ্যান্টিবডির যে নির্দিষ্ট অংশটি এপিটোপের সঙ্গে যুক্ত হয়, তাকে প্যারাটোপ বলে। এপিটোপ ও প্যারাটোপের যুক্ত হওয়ার মাধ্যমেই ইমিউন রেসপন্স কার্যকর হয়।
১৩. অ্যান্টিবডি কয় প্রকার ও কী কী?
✅ উত্তর: অ্যান্টিবডি প্রধানত **পাঁচ প্রকার**: এই প্রকারগুলি তাদের ভারী শৃঙ্খলের ধরনের ভিত্তিতে বিভক্ত। প্রকারগুলি হলো: IgG, IgA, IgM, IgE এবং IgD। এদের মধ্যে IgG হলো মানবদেহে সর্বাধিক পরিমাণে উপস্থিত অ্যান্টিবডি।
১৪. অনাক্রম্যতায় সাড়া বা ইমিউন রেসপন্স কাকে বলে?
✅ উত্তর: দেহে অ্যান্টিজেন বা জীবাণু প্রবেশের পর তাকে শনাক্ত করা, তার বিরুদ্ধে লিম্ফোসাইট কোষকে সক্রিয় করা এবং অ্যান্টিবডি উৎপাদনের মাধ্যমে শরীর যে সুসংগঠিত প্রতিরক্ষামূলক প্রক্রিয়া দেখায়, তাকে অনাক্রম্যতায় সাড়া বা ইমিউন রেসপন্স বলে। এই সাড়ার ফলেই শরীর দ্রুত রোগমুক্ত হয়।
১৫. স্মৃতিকোষ বা মেমরি সেলের কাজ কী?
✅ উত্তর: স্মৃতিকোষ (B- বা T-লিম্ফোসাইট) প্রথমবার অ্যান্টিজেনের সংস্পর্শে আসার পর তৈরি হয় এবং দেহে দীর্ঘদিন সুপ্ত অবস্থায় থাকে। এদের প্রধান কাজ হলো ভবিষ্যতে সেই একই অ্যান্টিজেন আবার প্রবেশ করলে তাকে দ্রুত শনাক্ত করা এবং দ্রুত ও শক্তিশালী ইমিউন রেসপন্স (অ্যান্টিবডি উৎপাদন) শুরু করে রোগটি প্রতিরোধ করা।
১৬. রস নির্ভর অনাক্রমতা কাকে বলে?
✅ উত্তর: যে অনাক্রমতা মূলত **রক্তের রস** (প্লাজমা) এবং লসিকার মধ্যে থাকা অ্যান্টিবডির মাধ্যমে কাজ করে, তাকে রস নির্ভর অনাক্রম্যতা (Humoral Immunity) বলে। এই প্রতিরক্ষায় B-লিম্ফোসাইট কোষগুলি অ্যান্টিবডি তৈরি করে এবং কোষের বাইরে থাকা জীবাণু বা টক্সিনকে ধ্বংস করে।
১৭. কোশ নির্ভর অনাক্রমতা কাকে বলে?
✅ উত্তর: যে অনাক্রমতা T-লিম্ফোসাইট কোষের মাধ্যমে কাজ করে এবং সরাসরি আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করে, তাকে কোশ নির্ভর অনাক্রম্যতা (Cell-Mediated Immunity) বলে। এটি প্রধানত ভাইরাস আক্রান্ত কোষ, ক্যান্সার কোষ বা দেহে প্রতিস্থাপিত বহির্গত অঙ্গের বিরুদ্ধে কাজ করে।
১৮. B কোষ এবং T কোষ বলতে কী বোঝায়?
✅ উত্তর: B কোষ এবং T কোষ হলো এক ধরনের লিম্ফোসাইট (শ্বেত রক্তকণিকা)। B কোষ প্রধানত অ্যান্টিবডি তৈরি করে রস নির্ভর অনাক্রমতা যোগায়। T কোষ সরাসরি আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করে (সাইটোটক্সিক T কোষ) বা ইমিউন রেসপন্সকে নিয়ন্ত্রণ করে কোশ নির্ভর অনাক্রমতা যোগায়।
১৯. টিকা বা ভ্যাকসিন কাকে বলে? দুটি ভ্যাকসিনের উদাহরণ লেখো।
✅ উত্তর: টিকা হলো রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুর দুর্বল, মৃত বা নিষ্ক্রিয় অংশ যা শরীরে প্রবেশ করানো হলে দেহ সেই রোগের বিরুদ্ধে অনাক্রম্যতা বা প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করে। টিকার মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে সক্রিয় অনাক্রম্যতা সৃষ্টি করা হয়। উদাহরণ: BCG (যক্ষ্মা) এবং OPV (পোলিও) টিকা।
২০. টিকাকরণ কাকে বলে?
✅ উত্তর: রোগ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে সুনির্দিষ্ট টিকা বা ভ্যাকসিন কোনো সুস্থ ব্যক্তির দেহে পরিকল্পিতভাবে প্রবেশ করানোর প্রক্রিয়াকে টিকাকরণ বা ভ্যাকসিনেশন বলে। টিকাকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই মানবদেহ ভবিষ্যতের রোগ সংক্রমণের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা পায়।
২১. সংক্রমণ রোধে টিকাকরণের ভূমিকা লেখো।
✅ উত্তর: টিকাকরণ দেহে স্মৃতিকোষ তৈরি করে রাখে, ফলে আসল জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হওয়ার আগেই দেহ দ্রুত অ্যান্টিবডি তৈরি করে জীবাণুকে ধ্বংস করে। এর ফলে শুধু রোগটি প্রতিরোধই হয় না, বরং সমাজের বেশিরভাগ মানুষ টিকা নিলে রোগটি **ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায় না** (Herd Immunity) এবং সংক্রমণ রোধ হয়।
২২. টিটেনাস টক্সয়েড কী?
✅ উত্তর: টিটেনাস রোগ সৃষ্টিকারী ক্লস্ট্রিডিয়াম টিটানি নামক ব্যাকটেরিয়া একটি বিষাক্ত টক্সিন নিঃসরণ করে। এই টক্সিনকে নিষ্ক্রিয় করে যে টিকা তৈরি করা হয়, তাকে টিটেনাস টক্সয়েড (TT) বলে। এই টিকাটি টিটেনাস রোগের বিরুদ্ধে সক্রিয় অনাক্রম্যতা প্রদান করে।
২৩. DPT ভ্যাকসিন কেন ব্যবহৃত হয়?
✅ উত্তর: DPT হলো একটি সংযুক্ত টিকা যা তিনটি গুরুতর রোগ প্রতিরোধের জন্য ব্যবহৃত হয়। এই টিকাটি যথাক্রমে ডিপথেরিয়া, পারটুসিস (হুপিং কাশি) এবং টিটেনাস রোগের বিরুদ্ধে অনাক্রম্যতা প্রদান করে। শিশুদের শৈশবকালে এই টিকা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
২৪. বুস্টার ডোজ কী? উদাহরণ দাও।
✅ উত্তর: প্রথমবার টিকা বা ভ্যাকসিন দেওয়ার পর কিছুকাল পরে সেই টিকার **কার্যকারিতা ও স্থায়িত্ব বাড়াতে** যে অতিরিক্ত ডোজ দেওয়া হয়, তাকে বুস্টার ডোজ বলে। এটি দেহে দ্রুত ও শক্তিশালী ইমিউন রেসপন্স তৈরি করে। উদাহরণ: টিটেনাস টক্সয়েড (TT) বা পোলিও টিকার বুস্টার ডোজ।
২৫. MMR ভ্যাকসিন ব্যবহার করা হয় কেন?
✅ উত্তর: MMR ভ্যাকসিন হলো তিনটি ভাইরাসজনিত রোগ প্রতিরোধের জন্য ব্যবহৃত একটি সংযুক্ত টিকা। এই টিকাটি যথাক্রমে হাম (Measles), মাম্পস (Mumps) এবং রুবেলা (Rubella) রোগের বিরুদ্ধে অনাক্রম্যতা প্রদান করে। এটি সাধারণত শিশুদের শৈশবকালেই দেওয়া হয়।
২৬. ডায়রিয়া রোগের উপসর্গসমূহ লেখো।
✅ উত্তর: ডায়রিয়া রোগের প্রধান উপসর্গ হলো ঘন ঘন **পাতলা মলত্যাগ** হওয়া। এর সাথে **পেটে ব্যথা**, **জ্বর** এবং বমি হতে পারে। বারবার মলত্যাগের কারণে দ্রুত জলশূন্যতা (ডিহাইড্রেশন) এবং শরীরে লবণের ঘাটতি দেখা যায়, যা রোগীর জন্য মারাত্মক হতে পারে।
২৭. আমাশয় রোগ সৃষ্টিকারী আদ্যপ্রাণীটির নাম কী? এই রোগ কীভাবে সংক্রমিত হয়?
✅ উত্তর: আমাশয় রোগ সৃষ্টিকারী আদ্যপ্রাণীটির নাম হলো এন্টামিবা হিস্টোলাইটিকা (Entamoeba histolytica)। এই রোগ প্রধানত দূষিত জল ও খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। অপরিষ্কার হাতে খাবার খেলে বা খোলা ও অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে এই জীবাণু মানবদেহে প্রবেশ করে।
২৮. ডিপথেরিয়া রোগের জীবাণুর নাম ও এর প্রকৃতি লেখো।
✅ উত্তর: ডিপথেরিয়া রোগের জীবাণুর নাম হলো করিনেব্যাকটেরিয়াম ডিপথেরি (Corynebacterium diphtheriae)। এটি হলো এক ধরনের **ব্যাকটেরিয়া**। জীবাণুটি গলায় সংক্রমণ ঘটিয়ে এক ধরণের টক্সিন নিঃসরণ করে, যা গলায় **কৃত্রিম পর্দা** সৃষ্টি করে এবং শ্বাসকষ্ট ঘটায়।
২৯. নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণগুলি লেখো।
✅ উত্তর: নিউমোনিয়া রোগ হলো ফুসফুসের একটি সংক্রমণ। এর প্রধান লক্ষণগুলি হলো: **তীব্র শ্বাসকষ্ট** এবং দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া, **বুকে ব্যথা**, উচ্চ তাপমাত্রা সহ **জ্বর**, এবং কফযুক্ত **কাশি**। কখনো কখনো রোগীর ঠোঁট ও আঙুলের ডগা নীল হয়ে যেতে পারে।
৩০. ডেঙ্গু রোগের লক্ষণগুলি লেখো। এই রোগের জীবাণুর নাম কী?
✅ উত্তর: ডেঙ্গু রোগের লক্ষণগুলি হলো: **তীব্র জ্বর**, **মাথাব্যথা**, চোখের পিছনে ব্যথা, এবং **হাড় ও গাঁটে তীব্র ব্যথা**। কখনো কখনো চামড়ায় ফুসকুড়ি দেখা যায়। এই রোগের জীবাণুর নাম হলো **ডেঙ্গু ভাইরাস**।
৩১. হেপাটাইটিস রোগ কত প্রকারের? এই রোগ কীভাবে সংক্রমিত হয়?
✅ উত্তর: হেপাটাইটিস হলো যকৃতের প্রদাহজনিত রোগ। এই রোগ প্রধানত A, B, C, D এবং E প্রকারের হয়। **হেপাটাইটিস A** দূষিত জল ও খাদ্য দ্বারা সংক্রমিত হয়। **হেপাটাইটিস B** সংক্রমিত রক্ত, অরক্ষিত যৌন মিলন বা মা থেকে শিশুর দেহে সংক্রমিত হয়।
৩২. এইডস রোগের জীবাণুর নাম কী? এই রোগ কীভাবে সংক্রমিত হয়?
✅ উত্তর: এইডস রোগের জীবাণুর নাম হলো **হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস (HIV)**। এই রোগ প্রধানত সংক্রমিত রক্ত আদান-প্রদান, HIV আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে অসুরক্ষিত যৌন মিলন, বা মা থেকে শিশুর দেহে সংক্রমিত হতে পারে। এটি হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়ায় না।
📜 মানবকল্যাণে জীববিদ্যার প্রশ্নোত্তর
৩৩. ধৌতকরণ বলতে কী বোঝায়?
✅ উত্তর: ধৌতকরণ বলতে বোঝায় সাবান, ডিটারজেন্ট এবং জল ব্যবহার করে শরীর বা কোনো বস্তুর উপরিভাগ থেকে ময়লা, ধুলো এবং **রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু** দূর করার প্রক্রিয়াকে। এটি মানবস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা এবং রোগ প্রতিরোধের জন্য একটি অপরিহার্য প্রাথমিক পদক্ষেপ।
৩৪. জীবাণুনাশক কাকে বলে? একটি উদাহরণ দাও।
✅ উত্তর: যে সমস্ত রাসায়নিক পদার্থ বা কৌশল ব্যবহার করে **রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবদের** বৃদ্ধি ব্যাহত করা হয় বা তাদের ধ্বংস করা হয়, তাদের জীবাণুনাশক (Disinfectant) বলে। এই পদার্থগুলি সাধারণত জড় বস্তুর উপর ব্যবহার করা হয়। উদাহরণ: **ফেনল** বা **ব্লিচিং পাউডার**।
৩৫. রোগ প্রতিরোধে ধৌতকরণের ভূমিকা লেখো।
✅ উত্তর: ধৌতকরণ হাত ও খাদ্যবস্তু থেকে জীবাণু ও সংক্রমণকারী পদার্থ দূর করে। এর ফলে কলেরা, টাইফয়েড, ডায়রিয়ার মতো **মল-মৌখিক পথবাহিত** রোগের বিস্তার কার্যকরভাবে রোধ করা যায়। এটি সংক্রামক রোগ প্রতিরোধের প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঢাল হিসেবে কাজ করে।
৩৬. হাত ধোয়ার সঠিক পদ্ধতিটি লেখো।
✅ উত্তর: হাত ধোয়ার সঠিক পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে: প্রথমে জল দিয়ে হাত ভেজানো, পর্যাপ্ত সাবান নিয়ে **অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে** হাতের তালু, আঙুলের ফাঁক, নখ এবং কবজি ঘষে পরিষ্কার করা। এরপর পরিষ্কার জল দিয়ে সাবান ধুয়ে ফেলা এবং পরিষ্কার কাপড় বা এয়ার ড্রায়ার দিয়ে হাত শুকিয়ে নেওয়া।
৩৭. জৈবিক নিয়ন্ত্রণে ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা লেখো।
✅ উত্তর: কিছু ব্যাকটেরিয়া (যেমন – ব্যাসিলাস থুরিনজিয়েনসিস বা Bt) জৈবিক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ। এই ব্যাকটেরিয়াগুলি এমন টক্সিন তৈরি করে যা ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গের জন্য বিষাক্ত, কিন্তু মানুষ বা পরিবেশের অন্যান্য জীবের জন্য ক্ষতিকর নয়। এই টক্সিনগুলি ফসলের পোকা দমনে ব্যবহৃত হয়।
৩৮. জৈবিক নিয়ন্ত্রণে ভাইরাসের ব্যবহার লেখো।
✅ উত্তর: জৈবিক নিয়ন্ত্রণে কিছু বিশেষ ভাইরাস (যেমন – ব্যাকটেরিওফাজ) ব্যবহার করা হয়। ব্যাকটেরিওফাজগুলি নির্দিষ্ট ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে এবং ধ্বংস করে। এছাড়াও কিছু ভাইরাস ক্ষতিকারক পতঙ্গকে সংক্রমিত করে তাদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
৩৯. জৈবিক নিয়ন্ত্রণে প্রোটোজোয়ার ভূমিকা লেখো।
✅ উত্তর: কিছু প্রোটোজোয়া ক্ষতিকারক পতঙ্গের **রোগ সৃষ্টি করে**। উদাহরণস্বরূপ, কিছু প্রোটোজোয়া পোকাদের হজম সিস্টেমে সংক্রমণ ঘটিয়ে তাদের দুর্বল করে দেয় বা মেরে ফেলে, যা শস্যের পোকা দমনে এবং তাদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
🌿 চতুর্থ অধ্যায়: জীববিদ্যা ও মানবকল্যাণ (৪৪ থেকে ৪৭ নম্বর প্রশ্ন)
📜 মানবকল্যাণে জীববিদ্যার প্রশ্নোত্তর (৪০ – ৪৭)
৪০. বর্তমানে রাসায়নিক সার ব্যবহারে কী সমস্যা হচ্ছে?
✅ উত্তর: বর্তমানে রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে প্রধান সমস্যা হলো মাটির গুণাগুণ নষ্ট হওয়া এবং মাটির অম্লতা বৃদ্ধি পাওয়া। এছাড়া এই সারগুলি ধুয়ে গিয়ে নদী ও পুকুরের জল দূষণ ঘটায় (ইউট্রোফিকেশন), যা জলজ প্রাণীর ক্ষতি করে এবং পরিবেশের উপকারী অণুজীবদেরও ধ্বংস করে।
৪১. বায়োফার্টিলাইজার কাকে বলে?
✅ উত্তর: বায়োফার্টিলাইজার হলো সেই সমস্ত জৈব পদার্থ যা উপকারী অণুজীব ধারণ করে এবং প্রয়োগের পর মাটিতে উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানগুলি সরবরাহ করে। এগুলি প্রধানত বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে বা ফসফরাসের মতো পুষ্টি দ্রবীভূত করে উদ্ভিদের পুষ্টি যোগায়।
৪২. এজোলা কী? এর গুরুত্ব লেখো।
✅ উত্তর: এজোলা হলো একটি জলজ ফার্ন, যা এর পাতার মধ্যে অ্যানাবিনা নামক সায়ানোব্যাকটেরিয়াকে মিথোজীবী রূপে আশ্রয় দেয়। এর গুরুত্ব হলো, অ্যানাবিনা নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে এজোলাকে বায়োফার্টিলাইজার বা অণুজীব সার হিসেবে ব্যবহারযোগ্য করে তোলে। এটি বিশেষত ধান চাষে খুবই উপযোগী।
৪৩. অণুজীব সার রূপে ব্যাকটেরিয়ার দুটি ভূমিকা লেখো।
✅ উত্তর: অণুজীব সার রূপে ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকাগুলি হলো: (১) নাইট্রোজেন সংবন্ধন: রাইজোবিয়ামের মতো ব্যাকটেরিয়া বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেনকে উদ্ভিদের গ্রহণ উপযোগী যৌগে পরিণত করে। (২) ফসফেট দ্রবীভূতকরণ: কিছু ব্যাকটেরিয়া মাটির মধ্যে জমে থাকা ফসফেটকে দ্রবীভূত করে উদ্ভিদের গ্রহণ উপযোগী করে তোলে।
৪৪. অণুজীব সার রূপে সায়ানোব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা লেখো।
✅ উত্তর: সায়ানোব্যাকটেরিয়াকে **নীলাভ সবুজ শৈবাল**ও বলা হয়। অণুজীব সার রূপে এদের প্রধান ভূমিকা হলো বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেনকে জৈব যৌগে সংবন্ধন করা। এগুলি বিশেষত জলমগ্ন মাটিতে (যেমন – ধানক্ষেত) নাইট্রোজেন সারের যোগান দেয় এবং মাটির উর্বরতা বাড়ায়।
৪৫. VAM কি? এর ব্যবহারের সুবিধা লেখো।
✅ উত্তর: VAM-এর পূর্ণরূপ হলো ভেসি্কুলার অ্যারবাসকুলার মাইকোরাইজা। এটি হলো উদ্ভিদ মূল এবং এক ধরনের ছত্রাকের মিথোজীবী সম্পর্ক। এর ব্যবহারের সুবিধা হলো, VAM মাটি থেকে জল ও ফসফরাসের মতো পুষ্টি উপাদান বেশি পরিমাণে শোষণ করে উদ্ভিদকে সরবরাহ করে, যার ফলে উদ্ভিদের বৃদ্ধি দ্রুত হয়।
৪৬. অণুজীব সার কিভাবে তৈরি হয়?
✅ উত্তর: অণুজীব সার তৈরির জন্য প্রথমে নির্দিষ্ট উপকারী অণুজীবের বিশুদ্ধ কালচার তৈরি করা হয়। এরপর সেই অণুজীবগুলিকে পিট (peat) বা কাঠের গুঁড়োর মতো বাহক মাধ্যমে মিশ্রিত করে নেওয়া হয়। এই মিশ্রিত রূপেই অণুজীব সারগুলি মাঠে প্রয়োগের জন্য প্রস্তুত করা হয়।
৪৭. জীব বিবর্ধন কাকে বলে? এর অসুবিধা কী?
✅ উত্তর: জীব বিবর্ধন: খাদ্য শৃঙ্খলের নিম্ন স্তর থেকে উচ্চ স্তরে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থগুলির (যেমন – DDT) ঘনত্ব বৃদ্ধি পাওয়াকে জীব বিবর্ধন বলে। এর অসুবিধা হলো, খাদ্য শৃঙ্খলের শীর্ষের জীবগুলিতে (যেমন – মানুষ) এই বিষাক্ত পদার্থগুলির ঘনত্ব বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছায়, যা গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করে।
❓ নবম শ্রেণির জীববিদ্যা ও মানবকল্যাণ FAQ
বায়োফার্টিলাইজার বা অণুজীব সার কী?
বায়োফার্টিলাইজার হলো উপকারী অণুজীব সমৃদ্ধ জৈব সার যা মাটির উর্বরতা বাড়াতে এবং রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমাতে সাহায্য করে। উদাহরণ: রাইজোবিয়াম ও সায়ানোব্যাকটেরিয়া।
VAM কী কাজে লাগে? (জীববিদ্যা ও মানবকল্যাণ)
VAM (ভেসি্কুলার অ্যারবাসকুলার মাইকোরাইজা) হলো ছত্রাক ও উদ্ভিদের মূলের মিথোজীবী সম্পর্ক। এটি উদ্ভিদকে মাটি থেকে **জল এবং ফসফরাস** শোষণে সাহায্য করে, যার ফলে ফসলের বৃদ্ধি দ্রুত হয়।
জীব বিবর্ধন বলতে কী বোঝো?
খাদ্য শৃঙ্খলের নিম্ন স্তর থেকে উচ্চ স্তরে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থগুলির (যেমন – DDT) ঘনত্ব ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাওয়াকে জীব বিবর্ধন বলে। এটি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
রাসায়নিক সার ব্যবহারের দুটি প্রধান অসুবিধা কী?
রাসায়নিক সার ব্যবহারের দুটি প্রধান অসুবিধা হলো: মাটির গুণাগুণ (pH) নষ্ট হওয়া এবং জল দূষণ (ইউট্রোফিকেশন) সৃষ্টি করা।