নবম শ্রেণী জীবন বিজ্ঞান: অধ্যায় তিন জৈবনিক প্রক্রিয়া, পর্ব: সংবহন সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর মান ২

সংবহন: সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

1. সংবহন (Circulation) কাকে বলে?

উত্তর দেখো

যে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় উন্নত জীবদেহে সংবহন মাধ্যম (রক্ত বা লসিকা)-এর সাহায্যে খাদ্যরস, শ্বাসবায়ু, হরমোন, ভিটামিন ইত্যাদি দেহকোষে পৌঁছায় এবং কোষ থেকে দূষিত পদার্থ অপসারিত হয়ে নির্দিষ্ট অঙ্গে প্রেরিত হয়, তাকে সংবহন বলে।


2. রক্তকে ‘তরল যোগকলা’ (Fluid Connective Tissue) বলা হয় কেন?

উত্তর দেখো

কারণ:
১. রক্ত ভ্রূণজ মেসোডার্ম থেকে উৎপন্ন হয় (যোগকলার বৈশিষ্ট্য)।
২. রক্ত তরল ধাত্র বা প্লাজমা এবং রক্তকণিকা নিয়ে গঠিত।
৩. এটি দেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও তন্ত্রের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে এবং পুষ্টি ও শ্বাসবায়ু পরিবহন করে।


3. রক্তের প্রধান দুটি কাজ উল্লেখ করো।

উত্তর দেখো

১. পরিবহন: রক্ত পাচিত খাদ্যরস, শ্বাসবায়ু ($O_2$ ও $CO_2$), হরমোন, ভিটামিন এবং রেচন পদার্থ দেহের বিভিন্ন অংশে পরিবহন করে।
২. সুরক্ষা: শ্বেত রক্তকণিকা রোগজীবাণু ধ্বংস করে এবং অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে দেহকে রক্ষা করে।


4. মুক্ত সংবহন (Open Circulation) ও বদ্ধ সংবহনের (Closed Circulation) মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর দেখো

১. প্রবাহপথ: মুক্ত সংবহনে রক্ত রক্তবাহ ও দেহগহ্বরের (হিমোসিল) মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। বদ্ধ সংবহনে রক্ত সর্বদা রক্তবাহ ও হৃৎপিণ্ডের মধ্যেই আবদ্ধ থাকে।
২. সংস্পর্শ: মুক্ত সংবহনে রক্ত সরাসরি কলাকোষের সংস্পর্শে আসে, কিন্তু বদ্ধ সংবহনে রক্ত সরাসরি কোষের সংস্পর্শে আসে না।


5. লসিকা (Lymph) কাকে বলে? এর একটি কাজ লেখো।

উত্তর দেখো

সংজ্ঞা: রক্তজালক থেকে নির্গত, ঈষৎ ক্ষারীয়, স্বচ্ছ বা ঈষৎ হলুদ বর্ণের যে তরল যোগকলা কলাকোষের ফাঁকে অবস্থান করে এবং রক্ত ও কলারসের মধ্যে আদান-প্রদান ঘটায়, তাকে লসিকা বলে।
কাজ: লসিকা রক্ত ও দেহকোষের মধ্যে পুষ্টি ও বর্জ্য পদার্থের আদান-প্রদানে ‘মধ্যস্থতাকারী’ (Middle man) হিসেবে কাজ করে।


6. সিরাম (Serum) ও রক্তরস বা প্লাজমার (Plasma) মধ্যে মূল পার্থক্য কী?

উত্তর দেখো

প্লাজমা হলো রক্তের তরল অংশ যাতে ফাইব্রিনোজেন নামক প্রোটিন থাকে এবং এটি রক্ত তঞ্চনে সক্ষম। অন্যদিকে, সিরাম হলো রক্ত জমাট বাঁধার পর নিঃসৃত স্বচ্ছ তরল, যাতে ফাইব্রিনোজেন থাকে না এবং এটি রক্ত তঞ্চনে অক্ষম।


7. হিমোলিম্ফ (Haemolymph) কী?

উত্তর দেখো

পতঙ্গ শ্রেণির প্রাণী (যেমন—আরশোলা, ফড়িং)-এর মুক্ত সংবহনতন্ত্রে হিমোসিল বা দেহগহ্বরে যে বর্ণহীন রক্ত থাকে, তাকে হিমোলিম্ফ বলে। এতে শ্বাসরঞ্জক থাকে না, তাই এটি শ্বাসবায়ু পরিবহন করতে পারে না।


8. লোহিত রক্তকণিকার (RBC) দুটি কাজ লেখো।

উত্তর দেখো

১. লোহিত রক্তকণিকায় অবস্থিত হিমোগ্লোবিন ফুসফুস থেকে অক্সিজেন ($O_2$) কোষে এবং কোষ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড ($CO_2$) ফুসফুসে পরিবহন করে।
২. রক্তের সান্দ্রতা (Viscosity) বজায় রাখে এবং অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করে।


9. শ্বেত রক্তকণিকার (WBC) দুটি কাজ লেখো।

উত্তর দেখো

১. রোগজীবাণু ধ্বংস: নিউট্রোফিল ও মনোসাইট ফ্যাগোসাইটোসিস পদ্ধতিতে জীবাণু ভক্ষণ করে।
২. অ্যান্টিবডি সৃষ্টি: লিম্ফোসাইট কণিকা অ্যান্টিবডি বা গামা গ্লোবিউলিন তৈরি করে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।


10. অণুচক্রিকার (Platelets) কাজ কী?

উত্তর দেখো

কেটে যাওয়া বা ক্ষতস্থান থেকে রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে রক্ত জমাট বাঁধতে বা তঞ্চনে (Coagulation) সাহায্য করাই হলো অণুচক্রিকার প্রধান কাজ। এছাড়া এটি রক্তজালকের ক্ষতি মেরামত করে।


11. হিমোগ্লোবিন কী? এর কাজ কী?

উত্তর দেখো

হিমোগ্লোবিন: লোহিত রক্তকণিকায় অবস্থিত লৌহঘটিত প্রোটিনধর্মী শ্বাসরঞ্জক।
কাজ: এটি অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সি-হিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে কোষে অক্সিজেন পরিবহন করে।


12. রক্ত তঞ্চন (Blood Coagulation) কাকে বলে?

উত্তর দেখো

যে প্রক্রিয়ায় ক্ষতস্থানের রক্ত অর্ধ-কঠিন জেলি বা থকথকে পিণ্ডে পরিণত হয় এবং রক্তপাত বন্ধ হয়, তাকে রক্ত তঞ্চন বলে। এর স্বাভাবিক সময়কাল ৩-৮ মিনিট।


13. রক্ত তঞ্চনে সাহায্যকারী উপাদানগুলি কী কী?

উত্তর দেখো

রক্ত তঞ্চনের প্রধান ফ্যাক্টরগুলি হলো:
১. ফাইব্রিনোজেন,
২. প্রোথ্রম্বিন,
৩. থ্রম্বোপ্লাস্টিন (কলা ও অণুচক্রিকা থেকে নির্গত),
৪. ক্যালসিয়াম আয়ন ($Ca^{2+}$)।


14. অ্যান্টি-কোয়াগুল্যান্ট (Anticoagulant) কী? একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর দেখো

যেসব রাসায়নিক পদার্থ রক্তকে জমাট বাঁধতে দেয় না, তাদের অ্যান্টি-কোয়াগুল্যান্ট বলে।
উদাহরণ: হেপারিন (প্রাকৃতিক), সোডিয়াম সাইট্রেট (কৃত্রিম, ব্লাড ব্যাংকে ব্যবহৃত হয়)।


15. রক্তের গ্রুপ বা ব্লাড গ্রুপ কী?

উত্তর দেখো

লোহিত রক্তকণিকার পর্দায় অবস্থিত অ্যান্টিজেন (A ও B)-এর উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে মানুষের রক্তকে যে চারটি বিভাগে (A, B, AB, O) ভাগ করা হয়, তাকে রক্তের গ্রুপ বা ABO পদ্ধতি বলে। বিজ্ঞানী ল্যান্ডস্টেইনার এটি আবিষ্কার করেন।


16. ‘O’ গ্রুপের রক্তকে ‘সার্বিক দাতা’ (Universal Donor) বলা হয় কেন?

উত্তর দেখো

‘O’ গ্রুপের লোহিত কণিকায় কোনো অ্যান্টিজেন (A বা B) থাকে না। তাই এই রক্ত অন্য কোনো গ্রুপ বিশিষ্ট ব্যক্তির দেহে প্রবেশ করালে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া বা রক্ত জমাট বাঁধার ভয় থাকে না। তাই একে সার্বিক দাতা বলে।


17. ‘AB’ গ্রুপের রক্তকে ‘সার্বিক গ্রহীতা’ (Universal Recipient) বলা হয় কেন?

উত্তর দেখো

‘AB’ গ্রুপের রক্তরসে কোনো অ্যান্টিবডি (anti-a বা anti-b) থাকে না। ফলে অন্য যেকোনো গ্রুপের রক্ত এই ব্যক্তির দেহে প্রবেশ করালে কোনো বিক্রিয়া ঘটে না। তাই এরা সবার রক্ত নিতে পারে।


18. অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি কাকে বলে?

উত্তর দেখো

অ্যান্টিজেন: লোহিত কণিকার পর্দায় থাকা যে গ্লাইকোপ্রোটিন দেহে অ্যান্টিবডি তৈরিতে উদ্দীপনা যোগায় (যেমন- A, B)।
অ্যান্টিবডি: অ্যান্টিজেনের প্রভাবে রক্তরসে উৎপন্ন যে প্রোটিন অ্যান্টিজেনকে ধ্বংস বা প্রশমিত করে (যেমন- anti-a, anti-b)।


19. Rh ফ্যাক্টর (Rh Factor) কী?

উত্তর দেখো

Rh ফ্যাক্টর হলো রেসাস বানরের লোহিত কণিকায় প্রাপ্ত এক বিশেষ ধরণের অ্যান্টিজেন (D-অ্যান্টিজেন), যা মানুষের রক্তেও পাওয়া যায়। যার রক্তে এটি থাকে তাকে Rh পজিটিভ ($Rh^+$) এবং যার থাকে না তাকে Rh নেগেটিভ ($Rh^-$) বলে।


20. এরিথ্রোব্লাস্টোসিস ফিটালিস (Erythroblastosis Foetalis) কী?

উত্তর দেখো

যদি পিতা $Rh^+$ ও মাতা $Rh^-$ হয়, তবে গর্ভস্থ ভ্রূণ $Rh^+$ হলে মায়ের দেহে অ্যান্টি-Rh অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। এই অ্যান্টিবডি ভ্রূণের রক্তে মিশে ভ্রূণের লোহিত কণিকাকে ধ্বংস করে দেয়, ফলে ভ্রূণ নষ্ট হতে পারে বা মারাত্মক জন্ডিস নিয়ে জন্মাতে পারে। একে এরিথ্রোব্লাস্টোসিস ফিটালিস বলে।


21. দ্বি-চক্রী সংবহন (Double Circulation) কাকে বলে?

উত্তর দেখো

যে সংবহন ব্যবস্থায় রক্ত হৃৎপিণ্ড থেকে সারা দেহে ছড়িয়ে পড়া এবং পুনরায় হৃৎপিণ্ডে ফিরে আসার সময় হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে দুবার প্রবাহিত হয় (একবার বিশুদ্ধ রক্ত রূপে, আরেকবার দূষিত রক্ত রূপে), তাকে দ্বি-চক্রী সংবহন বলে। মানুষের ক্ষেত্রে এটি দেখা যায়।


22. ভেনাস হৃৎপিণ্ড (Venous Heart) কাকে বলে? এটি কাদের দেখা যায়?

উত্তর দেখো

যে হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে সর্বদা কম অক্সিজেনযুক্ত বা দূষিত রক্ত ($CO_2$ যুক্ত) প্রবাহিত হয় এবং যার মধ্যে কোনো বিশুদ্ধ রক্ত প্রবেশ করে না, তাকে ভেনাস হৃৎপিণ্ড বলে।
উদাহরণ: মাছেদের হৃৎপিণ্ড।


23. ধমনী ও শিরার মধ্যে দুটি প্রধান পার্থক্য লেখো।

উত্তর দেখো

১. প্রবাহের অভিমুখ: ধমনী হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত দেহের দিকে বহন করে, কিন্তু শিরা দেহ থেকে রক্ত হৃৎপিণ্ডের দিকে বহন করে।
২. কপাটিকা: ধমনীর গহ্বরে কোনো কপাটিকা থাকে না, কিন্তু শিরার গহ্বরে কপাটিকা থাকে।


24. রক্তচাপ (Blood Pressure) কাকে বলে? এর স্বাভাবিক মান কত?

উত্তর দেখো

রক্তনালীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় রক্ত রক্তনালীর প্রাচীরে লম্বভাবে যে পার্শ্বচাপ প্রয়োগ করে, তাকে রক্তচাপ বলে। সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের স্বাভাবিক রক্তচাপ হলো ১২০/৮০ mmHg।


25. সিস্টোল ও ডায়াস্টোল বলতে কী বোঝো?

উত্তর দেখো

হৃৎপিণ্ডের অলিন্দ বা নিলয়ের সংকোচনকে সিস্টোল এবং প্রসারণকে ডায়াস্টোল বলে। সিস্টোলের ফলে রক্ত হৃৎপিণ্ড থেকে বেরিয়ে যায় এবং ডায়াস্টোলের ফলে রক্ত হৃৎপিণ্ডে প্রবেশ করে।


26. করোনারি সংবহন (Coronary Circulation) কী?

উত্তর দেখো

যে বিশেষ সংবহন ব্যবস্থায় মহাধমনী থেকে উৎপন্ন করোনারি ধমনীর মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডের নিজের পেশিতে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত পৌঁছায় এবং করোনারি সাইনাসের মাধ্যমে দূষিত রক্ত ডান অলিন্দে ফিরে আসে, তাকে করোনারি সংবহন বলে।


27. হৃদধ্বনি বা Heart Sound (লুব-ডাব) কীভাবে সৃষ্টি হয়?

উত্তর দেখো

হৃৎপিণ্ডের কপাটিকাগুলি বন্ধ হওয়ার সময় যে শব্দের সৃষ্টি হয়, তাকে হৃদধ্বনি বলে।
১. নিলয়ের সংকোচনের শুরুতে দ্বিপত্রক ও ত্রিপত্রক কপাটিকা বন্ধ হলে ‘লুব’ (Lubb) শব্দ হয়।
২. নিলয়ের প্রসারণের শুরুতে অর্ধচন্দ্রাকার কপাটিকা বন্ধ হলে ‘ডাব’ (Dubb) শব্দ হয়।


28. পালস রেট বা নাড়ি স্পন্দন কী?

উত্তর দেখো

বাম নিলয়ের সংকোচনের ফলে ধমনীর গাত্রে যে তরঙ্গের সৃষ্টি হয় এবং যা ধমনীর স্থিতিস্থাপকতার জন্য ধমনীগাত্রের প্রসারণ ঘটায়, তাকে পালস বা নাড়ি স্পন্দন বলে। একজন সুস্থ মানুষের পালস রেট মিনিটে ৭২ বার।


29. পেসমেকার (Pacemaker) বা SA নোড কী?

উত্তর দেখো

মানুষের হৃৎপিণ্ডের ডান অলিন্দের প্রাচীরে অবস্থিত যে বিশেষ হৃদপেশি গুচ্ছ স্বতঃস্ফূর্তভাবে হৃৎস্পন্দন বা উদ্দীপনা সৃষ্টি করে হৃদক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে সাইনো-অ্যাট্রিয়াল নোড বা SA নোড বলে। একে হৃৎপিণ্ডের প্রাকৃতিক পেসমেকারও বলা হয়।


30. রক্তজালক বা কৈশিক জালিকা (Capillaries) কী? এর কাজ কী?

উত্তর দেখো

সংজ্ঞা: ধমনী ও শিরার সংযোগস্থলে অবস্থিত একস্তরীয় আবরণী কলা দ্বারা গঠিত জালের ন্যায় বিন্যস্ত অতি সূক্ষ্ম রক্তনালীকে রক্তজালক বলে।
কাজ: রক্ত ও দেহকোষের মধ্যে পুষ্টিদ্রব্য, শ্বাসবায়ু ও রেচন পদার্থের প্রত্যক্ষ আদান-প্রদান ঘটানো।


31. পেরিকার্ডিয়াম কী? এর কাজ কী?

উত্তর দেখো

সংজ্ঞা: হৃৎপিণ্ডকে বেষ্টন করে থাকা দ্বি-স্তরী পাতলা আবরণীকে পেরিকার্ডিয়াম বলে।
কাজ: এটি হৃৎপিণ্ডকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে এবং হৃদস্পন্দনের সময় ঘর্ষণজনিত বাধা কমায়।


32. হৃৎপিণ্ডের বাম নিলয়ের প্রাচীর ডান নিলয়ের চেয়ে পুরু কেন?

উত্তর দেখো

ডান নিলয়কে শুধুমাত্র ফুসফুসে রক্ত পাঠাতে হয়, কিন্তু বাম নিলয়কে মহাধমনীর মাধ্যমে সারা দেহে রক্ত পাম্প করতে হয়। তাই অধিক চাপ সহ্য করা ও শক্তিশালী সংকোচনের জন্য বাম নিলয়ের প্রাচীর অনেক বেশি পুরু ও পেশিবহুল হয়।


33. পোর্টাল সংবহন (Portal Circulation) কাকে বলে?

উত্তর দেখো

যে সংবহন ব্যবস্থায় কোনো অঙ্গ থেকে উৎপন্ন শিরা সরাসরি হৃৎপিণ্ডে না গিয়ে অন্য কোনো অঙ্গে (যেমন- যকৃৎ বা বৃক্ক) প্রবেশ করে এবং সেখানে পুনরায় রক্তজালক গঠন করে, তাকে পোর্টাল সংবহন বলে। (যেমন—হেপাটিক পোর্টাল সংবহন)।


34. হৃৎপিণ্ডের কপাটিকাগুলির সাধারণ কাজ কী?

উত্তর দেখো

কপাটিকাগুলি হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠে রক্তের একমুখী প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে এবং রক্তের বিপরীতমুখী প্রবাহে বাধা দেয়। যেমন—ত্রিপত্রক কপাটিকা ডান অলিন্দ থেকে ডান নিলয়ে রক্ত যেতে দেয় কিন্তু ফিরে আসতে দেয় না।


35. উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন (Hypertension) কী?

উত্তর দেখো

স্বাভাবিকের তুলনায় রক্তচাপ দীর্ঘস্থায়ীভাবে বেড়ে গেলে (সাধারণত ১৪০/৯০ mmHg এর বেশি) তাকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন বলে। এর ফলে হৃৎরোগ, স্ট্রোক বা কিডনি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।


36. রক্ত এবং লসিকার মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর দেখো

১. বর্ণ: রক্ত হিমোগ্লোবিন থাকার কারণে লাল বর্ণের হয়। লসিকা হিমোগ্লোবিন না থাকায় বর্ণহীন বা ঈষৎ হলুদ হয়।
২. উপাদান: রক্তে লোহিত কণিকা ও অণুচক্রিকা বেশি থাকে। লসিকায় শ্বেত কণিকা (লিম্ফোসাইট) বেশি থাকে, লোহিত কণিকা থাকে না।


37. পালমোনারি সংবহন ও সিস্টেমিক সংবহনের মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর দেখো

পালমোনারি: হৃৎপিণ্ড (ডান নিলয়) থেকে ফুসফুস এবং ফুসফুস থেকে হৃৎপিণ্ড (বাম অলিন্দ)-এর মধ্যে রক্ত সঞ্চালন। (উদ্দেশ্য: রক্ত শোধন)।
সিস্টেমিক: হৃৎপিণ্ড (বাম নিলয়) থেকে সারা দেহ এবং সারা দেহ থেকে হৃৎপিণ্ড (ডান অলিন্দ)-এর মধ্যে রক্ত সঞ্চালন। (উদ্দেশ্য: কোষে পুষ্টি ও অক্সিজেন সরবরাহ)।


38. ইসিজি (ECG) কী? এর উপযোগিতা কী?

উত্তর দেখো

ECG (Electrocardiogram): হৃৎপিণ্ডের সংকোচনের সময় যে তড়িৎ বিভব সৃষ্টি হয়, তা গ্রাফ পেপারে লিপিবদ্ধ করাকে ECG বলে।
উপযোগিতা: এর মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডের কোনো অস্বাভাবিকতা বা রোগ (যেমন—হার্ট ব্লক, ইস্কেমিয়া) নির্ণয় করা যায়।


39. হৃৎপিণ্ডের মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালনের পথটি সংক্ষেপে ছকের সাহায্যে দেখাও।

উত্তর দেখো

সারা দেহ $\rightarrow$ মহাশিরা $\rightarrow$ ডান অলিন্দ $\rightarrow$ ডান নিলয় $\rightarrow$ ফুসফুসীয় ধমনী $\rightarrow$ ফুসফুস (রক্ত শোধন) $\rightarrow$ ফুসফুসীয় শিরা $\rightarrow$ বাম অলিন্দ $\rightarrow$ বাম নিলয় $\rightarrow$ মহাধমনী $\rightarrow$ সারা দেহ।


40. রক্ত তঞ্চন ব্যাহত হলে কী সমস্যা হতে পারে?

উত্তর দেখো

রক্ত তঞ্চন ব্যাহত হলে সামান্য ক্ষত থেকেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে, যা প্রাণহানিকর হতে পারে। এই অবস্থাকে হিমোফিলিয়া রোগের লক্ষণ হিসেবেও ধরা হয়।


সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) — সংবহন

মুক্ত ও বদ্ধ সংবহনতন্ত্রের মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?

মুক্ত সংবহন: রক্ত রক্তবাহ ও দেহগহ্বর (হিমোসিল)-এর মাধ্যমে প্রবাহিত হয় এবং কলাকোষের প্রত্যক্ষ সংস্পর্শে আসে। যেমন—আরশোলা, চিংড়ি।

বদ্ধ সংবহন: রক্ত সর্বদা রক্তবাহ ও হৃৎপিণ্ডের মধ্যেই আবদ্ধ থাকে, কখনোই দেহগহ্বরে মুক্ত হয় না। যেমন—মানুষ, কেঁচো।

‘O’ গ্রুপকে সার্বিক দাতা এবং ‘AB’ গ্রুপকে সার্বিক গ্রহীতা বলা হয় কেন?

‘O’ গ্রুপের লোহিত কণিকায় কোনো অ্যান্টিজেন না থাকায় এটি যেকোনো ব্যক্তিকে দেওয়া যায় (সার্বিক দাতা)। অন্যদিকে, ‘AB’ গ্রুপের রক্তরসে কোনো অ্যান্টিবডি না থাকায় এরা যেকোনো গ্রুপের রক্ত গ্রহণ করতে পারে (সার্বিক গ্রহীতা)।

লসিকা (Lymph) কী এবং এর প্রধান কাজ কী?

লসিকা হলো রক্তজালক থেকে নিঃসৃত বর্ণহীন বা ঈষৎ হলুদ তরল যোগকলা। এর প্রধান কাজ হলো রক্ত ও কলাকোষের মধ্যে পুষ্টি ও বর্জ্য পদার্থের আদান-প্রদান করা। একারণে লসিকাকে ‘মধ্যস্থতাকারী’ (Middle Man) বলা হয়।

ধমনী ও শিরার মধ্যে মূল পার্থক্য কী?

ধমনী হৃৎপিণ্ড থেকে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত (পালমোনারি ধমনী বাদে) সারা দেহে বহন করে এবং এর প্রাচীর পুরু ও কপাটিকাবিহীন হয়। শিরা সারা দেহ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত হৃৎপিণ্ডে ফিরিয়ে আনে এবং এর প্রাচীর পাতলা ও কপাটিকাযুক্ত হয়।

মানুষের হৃৎপিণ্ডের বাম নিলয়ের প্রাচীর ডান নিলয়ের চেয়ে পুরু কেন?

ডান নিলয়কে শুধুমাত্র ফুসফুসে রক্ত পাঠাতে হয়। কিন্তু বাম নিলয়কে মহাধমনীর মাধ্যমে সারা দেহে রক্ত পাম্প করতে হয়, যার জন্য অনেক বেশি চাপের প্রয়োজন। এই অধিক চাপ সহ্য করার জন্যই বাম নিলয়ের প্রাচীর বেশি পুরু ও শক্তিশালী হয়।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার