নবম শ্রেণী জীবন বিজ্ঞান: অধ্যায় তিন জৈবনিক প্রক্রিয়া, পর্ব – রেচন, ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর মান ৫
রেচন: রচনাধর্মী প্রশ্ন (LAQ) – সম্পূর্ণ প্রস্তুতি
1. মানুষের রেচনতন্ত্রের প্রধান অংশগুলির গঠন ও কাজ চিত্রসহ বর্ণনা করো। (৫)
উত্তর দেখো
মানুষের রেচনতন্ত্র নিম্নলিখিত অংশগুলি নিয়ে গঠিত:

- বৃক্ক (Kidney): উদরগহ্বরের কটিদেশে মেরুদণ্ডের দুপাশে দুটি শিম বীজের মতো দেখতে লালচে-বাদামী রঙের অঙ্গ। এর কাজ হলো রক্ত থেকে মূত্র উৎপাদন করা।
- গবিনী (Ureter): প্রতিটি বৃক্কের হাইলাম থেকে নির্গত যে সরু নালিকা মূত্রথলি পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে, তাকে গবিনী বলে। এর কাজ হলো বৃক্ক থেকে মূত্র বহন করে মূত্রথলিতে পৌঁছে দেওয়া।
- মূত্রথলি (Urinary Bladder): এটি পেশির তৈরি একটি থলি যা মূত্র সাময়িকভাবে সঞ্চয় করে রাখে। এতে প্রায় ৪০০-৮০০ মিলি মূত্র ধরে।
- মূত্রনালী (Urethra): মূত্রথলি থেকে নির্গত যে নালিপথ দিয়ে মূত্র দেহের বাইরে নির্গত হয়।
2. একটি নেফ্রনের চিত্র অঙ্কন করে বিভিন্ন অংশ চিহ্নিত করো। (৩+২)
উত্তর দেখো
নেফ্রনের গঠন: প্রতিটি নেফ্রন দুটি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত:

- ম্যালপিজিয়ান করপাসল (Malpighian Corpuscle): এটি নেফ্রনের অগ্রভাগ। এটি আবার দুটি অংশ নিয়ে গঠিত:
- বোম্যানস ক্যাপসুল: পেয়ালার মতো দেখতে অংশ।
- গ্লোমেরুলাস: রক্তজালকের গুচ্ছ যা রক্ত ছেঁকে নিতে সাহায্য করে।
- বৃক্কীয় নালিকা (Renal Tubule): এটি তিনটি অংশে বিভক্ত:
- পরাসংবর্ত নালিকা (PCT): গ্লুকোজ ও প্রয়োজনীয় বস্তু পুনঃশোষণ করে।
- হেনলির লুপ (Loop of Henle): ‘U’ আকৃতির অংশ।
- দূরসংবর্ত নালিকা (DCT): যা সংগ্রাহী নালিকার সাথে যুক্ত থাকে।
3. বৃক্কে মূত্র উৎপাদন পদ্ধতি সংক্ষেপে বর্ণনা করো। (৫)
উত্তর দেখো
মূত্র উৎপাদন প্রধানত তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়:
- পরাপরিশ্রাবণ (Ultrafiltration): গ্লোমেরুলাসে রক্তের উচ্চচাপের ফলে রক্তরস থেকে প্রোটিন বাদে জল, ইউরিয়া, গ্লুকোজ, খনিজ লবণ ছেঁকে বোম্যানস ক্যাপসুলে প্রবেশ করে। একে গ্লোমেরুলার ফিলট্রেট বলে।
- পুনঃশোষণ (Reabsorption): বৃক্কীয় নালিকার মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় ফিলট্রেট থেকে গ্লুকোজ, জল এবং প্রয়োজনীয় লবণ রক্তে পুনরায় শোষিত হয়।
- নালিকা নিঃসরণ (Tubular Secretion): রক্তজালক থেকে কিছু ক্ষতিকারক পদার্থ (যেমন- ক্রিয়েটিনিন, পটাসিয়াম আয়ন) সরাসরি নালিকার গহ্বরে ক্ষরিত হয় এবং মূত্রের সঙ্গে যুক্ত হয়।
এইভাবে পরিশ্রুত তরলটি অবশেষে মূত্রে পরিণত হয়ে সংগ্রাহী নালিকায় জমা হয়।
4. উদ্ভিদের রেচন ত্যাগের তিনটি প্রধান পদ্ধতি বা কৌশল বর্ণনা করো। (৫)
উত্তর দেখো
উদ্ভিদের নির্দিষ্ট রেচন অঙ্গ না থাকায় তারা নিম্নলিখিত উপায়ে রেচন ত্যাগ করে:
- পত্রমোচন: পর্ণমোচী উদ্ভিদ (শিমুল, আমড়া) বছরের নির্দিষ্ট সময়ে এবং চিরহরিৎ উদ্ভিদ (বট, আম) সারা বছর ধরে পাতার কোশে বর্জ্য জমিয়ে রাখে এবং পাতা ঝরিয়ে বর্জ্য ত্যাগ করে।
- বাকল মোচন: কিছু উদ্ভিদ (অর্জুন, পেয়ারা) তাদের কান্ডের ছালে বা বাকলে রেচন পদার্থ জমা রাখে এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর সেই বাকল দেহ থেকে ত্যাগ করে।
- ফল মোচন: কিছু উদ্ভিদ (লেবু, আপেল, তেঁতুল) ফলের ত্বকে বা শাঁসে রেচন পদার্থ (যেমন—জৈব অ্যাসিড) সঞ্চিত রাখে এবং ফল ঝরিয়ে তা ত্যাগ করে।
5. মানবদেহে রেচনে যকৃৎ এবং চর্মের ভূমিকা আলোচনা করো। (৩+২)
উত্তর দেখো
যকৃৎ-এর ভূমিকা:
- ইউরিয়া সংশ্লেষ: যকৃৎ কোষে অরনিথিন চক্রের মাধ্যমে ক্ষতিকারক অ্যামোনিয়া থেকে অপেক্ষাকৃত কম বিষাক্ত ইউরিয়া উৎপন্ন হয়।
- পিত্তরঞ্জক নিষ্কাশন: মৃত লোহিত কণিকা ভেঙে যকৃৎ বিলিরুবিন ও বিলিভার্ডিন নামক পিত্তরঞ্জক তৈরি করে, যা মলের মাধ্যমে দেহ থেকে বেরিয়ে যায়।
চর্ম বা ত্বকের ভূমিকা:
- চর্মে অবস্থিত ঘর্মগ্রন্থি থেকে ঘাম নিঃসৃত হয়। ঘামের মাধ্যমে দেহ থেকে অতিরিক্ত জল, খনিজ লবণ (NaCl) এবং সামান্য ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া বেরিয়ে যায়।
6. উপক্ষার কী? ভেষজ শিল্পে বা চিকিৎসাবিদ্যায় উপক্ষারের গুরুত্ব ছকের সাহায্যে লেখো। (২+৩)
উত্তর দেখো
উপক্ষার: উদ্ভিদের প্রোটিন বিপাকের ফলে উৎপন্ন নাইট্রোজেনযুক্ত বর্জ্য পদার্থ।
অর্থকরী গুরুত্ব:
| উপক্ষার | উৎস | গুরুত্ব / ব্যবহার |
|---|---|---|
| কুইনাইন | সিঙ্কোনার ছাল | ম্যালেরিয়ার ওষুধ তৈরি। |
| রেসারপিন | সর্পগন্ধার মূল | উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ওষুধ। |
| মরফিন | আফিম ফল | ব্যথানাশক ও ঘুমের ওষুধ। |
| ডাটুরিন | ধুতুরার পাতা ও ফল | হাঁপানির ওষুধ। |
7. রেচন ও ক্ষরণের পার্থক্য লেখো। উদ্ভিদের দুটি নাইট্রোজেনবিহীন রেচন পদার্থের নাম ও ব্যবহার লেখো। (২+৩)
উত্তর দেখো
রেচন ও ক্ষরণের পার্থক্য:
- রেচন: এটি বিপাকজাত দূষিত ও ক্ষতিকারক পদার্থের নিষ্কাশন (যেমন- মূত্র)।
- ক্ষরণ: এটি কোশ বা গ্রন্থি থেকে উৎপন্ন উপকারী পদার্থের নিঃসরণ যা দেহের কাজে লাগে (যেমন- উৎসেচক, হরমোন)।
নাইট্রোজেনবিহীন রেচন পদার্থ:
- গদ (Gum): বই বাঁধাই ও আঠা শিল্পে লাগে। (উৎস: বাবলা)।
- রজন (Resin): কাঠ পালিশ ও বার্নিশ করতে লাগে। (উৎস: পাইন)।