সপ্তম শ্রেণী: পরিবেশ ও বিজ্ঞান, অধ্যায় ৮: পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য, ২ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

অধ্যায় ৮: পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য — সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (মান ২)

1. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর মতে ‘স্বাস্থ্য’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: হু (WHO)-এর মতে, স্বাস্থ্য বলতে কেবল রোগমুক্ত শরীর বোঝায় না। শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিকভাবে ভালো থাকাকেই স্বাস্থ্য বলে।

2. ভেক্টর বা বাহক কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর: যেসব প্রাণী কোনো রোগের জীবাণুকে এক দেহ থেকে অন্য দেহে বা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বহন করে নিয়ে যায়, কিন্তু নিজেরা ওই রোগে আক্রান্ত হয় না, তাদের ভেক্টর বা বাহক বলে।
উদাহরণ: ম্যালেরিয়া রোগের বাহক হলো স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা।

3. প্যাথোজেন (Pathogen) কাকে বলে?

উত্তর: যেসব জীবাণু (ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, প্রোটোজোয়া ইত্যাদি) মানুষের বা অন্য প্রাণীর দেহে প্রবেশ করে রোগ সৃষ্টি করে, তাদের প্যাথোজেন বলে। যেমন— কলেরা রোগের প্যাথোজেন হলো *Vibrio cholerae*।

4. স্ত্রী মশা মানুষের রক্ত পান করে কেন? পুরুষ মশারা কী খায়?

উত্তর: স্ত্রী মশার ডিম পাড়ার জন্য প্রচুর প্রোটিনের প্রয়োজন হয়, যা তারা মানুষের বা অন্যান্য প্রাণীর রক্ত থেকে সংগ্রহ করে।
পুরুষ মশারা সাধারণত গাছের রস বা ফলের রস খেয়ে বেঁচে থাকে।

5. মশার জীবনচক্রের চারটি দশা কী কী?

উত্তর: মশার জীবনচক্রে চারটি দশা দেখা যায়:
১. ডিম (Egg)
২. লার্ভা বা শূককীট (Larva)
৩. পিউপা বা মূককীট (Pupa)
৪. পূর্ণাঙ্গ মশা (Adult Mosquito)

6. জৈবিক বা প্রাকৃতিকভাবে মশা দমন করার দুটি উপায় লেখো।

উত্তর:
১. জমা জলে গাপ্পি, শোল, ল্যাটা বা খলসে মাছ ছেড়ে দেওয়া, কারণ এরা মশার লার্ভা খেয়ে ফেলে।
২. ব্যাঙ ও ফড়িং সংরক্ষণ করা, কারণ এরা পূর্ণাঙ্গ মশা বা লার্ভা খেয়ে মশার বংশবিস্তার রোধ করে।

7. অ্যানোফিলিস ও কিউলেক্স মশার লার্ভা চেনার উপায় কী?

উত্তর:
অ্যানোফিলিস লার্ভা: জলের উপরিতলে মাটির সাথে সমান্তরালভাবে ভেসে থাকে।
কিউলেক্স লার্ভা: জলের উপরিতলে মাটির সাথে একটি কোণ করে ঝুলে থাকে।

8. সাধারণ মাছি কীভাবে রোগ ছড়ায়?

উত্তর: মাছিরা মলমূত্র, কফ বা পচা আবর্জনায় বসে, ফলে তাদের পায়ে ও ডানায় অসংখ্য জীবাণু লেগে যায়। এরপর তারা যখন আমাদের খাবারে বসে, তখন সেই জীবাণু খাবারে মিশে যায়। সেই খাবার খেলে আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ি।

9. যক্ষা বা টিবি (Tuberculosis) রোগের লক্ষণগুলি লেখো।

উত্তর:
১. টানা অনেকদিন ধরে কাশি ও জ্বর থাকে।
২. কাশির সাথে কফ ও রক্ত ওঠে।
৩. বুকে ব্যথা হয় এবং শরীরের ওজন দ্রুত কমে যায়।

10. পাস্টুরাইজেশন (Pasteurization) কী?

উত্তর: বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর আবিষ্কৃত যে পদ্ধতিতে তরল খাবারকে (যেমন দুধ বা ফলের রস) নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় (প্রায় ৬২-৭২°C) ফুটিয়ে জীবাণুমুক্ত করা হয় এবং তারপর দ্রুত ঠান্ডা করে সংরক্ষণ করা হয়, তাকে পাস্টুরাইজেশন বলে।

11. বাড়িতে ORS কীভাবে তৈরি করবে?

উত্তর: এক গ্লাস জলকে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে নিতে হবে। তারপর তাতে এক চিমটে নুন এবং ছয় চামচ (চা চামচ) চিনি ভালো করে গুলে নিলেই ORS তৈরি হয়ে যাবে।

12. সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগের মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর:
সংক্রামক রোগ: যে রোগ একজন আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে সুস্থ ব্যক্তির দেহে ছড়িয়ে পড়ে। যেমন— কলেরা, ইনফ্লুয়েঞ্জা, করোনা।
অসংক্রামক রোগ: যে রোগ একজন থেকে অন্যের দেহে ছড়ায় না। যেমন— ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, মানসিক অবসাদ।

13. ম্যালেরিয়া রোগের লক্ষণগুলি লেখো।

উত্তর:
১. হঠাৎ করে কাঁপুনি দিয়ে প্রবল জ্বর আসা।
২. কিছুক্ষণ পর ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে যাওয়া।
৩. মাথার যন্ত্রণা এবং লিভার বা প্লীহা বড় হয়ে যাওয়া।

14. ডেঙ্গু রোগের লক্ষণগুলি কী কী?

উত্তর:
১. খুব বেশি জ্বর এবং সারা শরীরে ব্যথা।
২. হাড়ের জোড়ায় তীব্র যন্ত্রণা (তাই একে হাড়ভাঙা জ্বর বলে)।
৩. রক্তে অনুচক্রিকার (Platelets) সংখ্যা কমে যাওয়া।

15. মিনামাটা ও ইতাই-ইতাই রোগ কেন হয়?

উত্তর:
মিনামাটা: জলে পারদ (Mercury) দূষণের ফলে হয়। এতে স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ইতাই-ইতাই: ক্যাডমিয়াম (Cadmium) দূষণের ফলে হয়। এতে হাড় ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং হাড়ের জোড়ায় খুব ব্যথা হয়।

16. ব্ল্যাকফুট ডিজিজ কী? এটি কেন হয়?

উত্তর: পানীয় জলে আর্সেনিকের মাত্রা বেড়ে গেলে হাতের তালু ও পায়ের তলায় কালো ছোপ পড়ে এবং ঘা হয়। একে ব্ল্যাকফুট ডিজিজ বলে। এটি আর্সেনিক দূষণের ফল।

17. ফ্লুরোসিস (Fluorosis) কী?

উত্তর: পানীয় জলে ফ্লোরাইড লবণের আধিক্যের কারণে দাঁত ও হাড়ের যে ক্ষতি হয়, তাকে ফ্লুরোসিস বলে। এর ফলে দাঁতে ছোপ পড়ে এবং হাড় দুর্বল ও বেঁকে যায়।

18. জৈব-ভঙ্গুর ও জৈব-অভঙ্গুর বর্জ্যের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

উত্তর:
জৈব-ভঙ্গুর: যে বর্জ্য পদার্থ প্রাকৃতিকভাবে (ব্যাকটেরিয়া দ্বারা) পচে মাটিতে মিশে যায়। যেমন— সবজির খোসা, কাগজ।
জৈব-অভঙ্গুর: যে বর্জ্য পদার্থ সহজে পচে না বা মাটিতে মেশে না। যেমন— প্লাস্টিক, কাঁচ, পলিথিন।

19. প্লাস্টিক দূষণের দুটি ক্ষতিকর প্রভাব লেখো।

উত্তর:
১. প্লাস্টিক মাটির উর্বরতা নষ্ট করে এবং জল নিকাশি ব্যবস্থা (ড্রেন) বন্ধ করে দেয়।
২. প্লাস্টিক পোড়ালে বিষাক্ত ধোঁয়া উৎপন্ন হয় যা শ্বাসকষ্ট ও বায়ুদূষণ ঘটায়।

20. রোনাল্ড রস এবং এডওয়ার্ড জেনার-এর অবদান কী?

উত্তর:
রোনাল্ড রস: তিনি প্রমাণ করেন যে স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশাই ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণু বহন করে।
এডওয়ার্ড জেনার: তিনি বসন্ত রোগের টিকা (Vaccine) আবিষ্কার করেন।

21. প্লেগ রোগের কারণ ও বাহকের নাম লেখো।

উত্তর: কারণ: *ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস* নামক ব্যাকটেরিয়া।
বাহক: ইঁদুরের গায়ে বসবাসকারী মাছি বা ‘র‌্যাট ফ্লি’ (Rat flea)।

22. মানসিক অবসাদ (Depression)-এর লক্ষণগুলি কী কী?

উত্তর:
১. মন খারাপ থাকা এবং কোনো কাজে উৎসাহ না পাওয়া।
২. অতিরিক্ত ঘুম বা ঘুম না হওয়া।
৩. নিজেকে একা রাখা এবং মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া।

23. হ্যালোজেন ট্যাবলেট কী কাজে লাগে? এটি আসলে কী?

উত্তর: হ্যালোজেন ট্যাবলেট মূলত পানীয় জল বিশুদ্ধ করতে বা জীবাণুমুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। এটি আসলে ক্লোরিন জাতীয় যৌগ।

24. অ্যালার্জি (Allergy) কী?

উত্তর: কোনো বিশেষ খাবার, ধুলোবালি বা ফুলের রেণু শরীরে প্রবেশ করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা যে অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখায় (যেমন- চুলকানি, হাঁচি, শ্বাসকষ্ট), তাকে অ্যালার্জি বলে। যে পদার্থগুলো অ্যালার্জি ঘটায়, তাদের অ্যালার্জেন বলে।

25. কালাজ্বর রোগের বাহক কে? এই রোগে শরীরের কোন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়?

উত্তর: বাহক: বেলে মাছি (Sandfly)।
ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গ: প্লীহা (Spleen) ও যকৃৎ বড় হয়ে যায় এবং গায়ের রং কালো হয়ে যায়।

26. DOTS কী?

উত্তর: যক্ষা রোগের চিকিৎসার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) নির্দেশিত একটি পদ্ধতি হলো DOTS (Directly Observed Treatment, Short-course)। এতে স্বাস্থ্যকর্মীর সামনে থেকে নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়।

27. বর্জ্য পদার্থ ব্যবস্থাপনার 4R পদ্ধতিটি কী?

উত্তর: বর্জ্য কমানোর চারটি উপায়:
১. Reduce (বর্জ্য কমানো)
২. Reuse (পুনরায় ব্যবহার করা)
৩. Recycle (পুনর্নবীকরণ করা)
৪. Refuse (প্রত্যাখ্যান করা, যেমন প্লাস্টিক ব্যাগ না নেওয়া)।

28. মশা ও মাছির মধ্যে দুটি গঠনগত পার্থক্য লেখো।

উত্তর:
১. মশার এক জোড়া ডানা থাকে, মাছিরও এক জোড়া ডানা থাকে কিন্তু মাছির ডানা অনেক চওড়া ও শক্তিশালী।
২. মশার মুখাঙ্গে সুঁচের মতো হুল (প্রবোসিস) থাকে যা চামড়া ভেদ করতে পারে, কিন্তু সাধারণ মাছির মুখাঙ্গে স্পঞ্জের মতো অংশ থাকে যা তরল খাবার শুষে খায়।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার