সপ্তম শ্রেণী: পরিবেশ ও বিজ্ঞান, অধ্যায় ৬: পরিবেশের সজীব উপাদানের গঠনগত বৈচিত্র্য ও কার্যগত প্রক্রিয়া দুই নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

অধ্যায় ৬: সজীব উপাদানের গঠনগত বৈচিত্র্য — সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (মান ২)

1. স্থানিক মূল ও অস্থানিক মূলের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

উত্তর:
(i) উৎপত্তি: স্থানিক মূল সরাসরি ভ্রূণমূল থেকে উৎপন্ন হয়। অস্থানিক মূল ভ্রূণমূল ছাড়া উদ্ভিদের অন্য কোনো অংশ (যেমন- কাণ্ড বা পাতা) থেকে উৎপন্ন হয়।
(ii) গঠন: স্থানিক মূলে একটি প্রধান মূল থাকে। অস্থানিক মূলে কোনো প্রধান মূল থাকে না, গুচ্ছাকারে জন্মায়।

2. শ্বাসমূল (Pneumatophore) কী? এটি কেন সৃষ্টি হয়?

উত্তর: লবণাক্ত বা সুন্দরবন অঞ্চলের মাটিতে অক্সিজেনের অভাব থাকে। তাই সেখানকার উদ্ভিদের (সুন্দরী, গরান) কিছু মূল মাটির নিচে না গিয়ে মাটির ওপরে উঠে আসে এবং বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে। ছিদ্রযুক্ত এই বিশেষ মূলগুলিকে শ্বাসমূল বলে।

3. গোল আলু যে মূল নয়, একটি কাণ্ড—তা কীভাবে বুঝবে?

উত্তর: যদিও আলু মাটির নিচে জন্মে, তবুও এটি কাণ্ড কারণ:
1. আলুর গায়ে পর্ব (Node) বা ‘চোখ’ থাকে, যা থেকে মুকুল জন্মায়। মূলো বা গাজরে এমন পর্ব থাকে না।
2. আলুর গায়ে শল্কপত্র থাকে, যা কাণ্ডের বৈশিষ্ট্য।

4. পর্ণকাণ্ড (Phylloclade) কী? এর কাজ কী?

উত্তর: ফণীমনসা জাতীয় মরু উদ্ভিদের কাণ্ডটি পাতার মতো চ্যাপ্টা, সবুজ ও রসালো হয় এবং পাতাগুলি কাঁটায় রূপান্তরিত হয়। এই রূপান্তরিত সবুজ কাণ্ডকে পর্ণকাণ্ড বলে।
কাজ: খাদ্য তৈরি করা (সালোকসংশ্লেষ) এবং জল সঞ্চয় করে রাখা।

5. জালিকাকার ও সমান্তরাল শিরাবিন্যাসের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

উত্তর:
(i) জালিকাকার: শিরা-উপশিরাগুলি জালের মতো বিন্যস্ত থাকে। এটি দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদে (আম, জবা) দেখা যায়।
(ii) সমান্তরাল: শিরাগুলি একে অপরের সমান্তরালে থাকে। এটি একবীজপত্রী উদ্ভিদে (কলা, ধান) দেখা যায়।

6. আদর্শ বা সম্পূর্ণ ফুল কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে ফুলে চারটি স্তবকই (বৃত্তি, দলমণ্ডল, পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক) উপস্থিত থাকে, তাকে আদর্শ বা সম্পূর্ণ ফুল বলে।
উদাহরণ: জবা, ধুতুরা, অপরাজিতা।

[Image of parts of a complete flower]

7. ফুলের সাহায্যকারী ও অত্যাবশ্যকীয় স্তবকের মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর:
সাহায্যকারী স্তবক: বৃত্তি ও দলমণ্ডল। এরা জননে সরাসরি অংশ নেয় না, কিন্তু রোদ-বৃষ্টি থেকে ফুলকে বাঁচায় এবং পরাগযোগে সাহায্য করে।
অত্যাবশ্যকীয় স্তবক: পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক। এরা জনন কোষ উৎপন্ন করে সরাসরি বংশবিস্তারে অংশ নেয়।

8. একলিঙ্গ ও উভয়লিঙ্গ ফুলের সংজ্ঞা ও উদাহরণ দাও।

উত্তর:
একলিঙ্গ ফুল: যে ফুলে পুংস্তবক অথবা স্ত্রীস্তবকের যেকোনো একটি থাকে। যেমন— কুমড়ো, পেঁপে।
উভয়লিঙ্গ ফুল: যে ফুলে পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক দুটিই থাকে। যেমন— জবা, মটর।

9. পরাগযোগ (Pollination) কাকে বলে? এটি কত প্রকার?

উত্তর: ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণু স্থানান্তরিত হয়ে একই ফুল বা একই প্রজাতির অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে পড়ার ঘটনাকে পরাগযোগ বলে।
এটি দুই প্রকার— ১. স্ব-পরাগযোগ এবং ২. ইতর পরাগযোগ।

10. পতঙ্গপরাগী ফুলের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর:
1. ফুলগুলি সাধারণত বড়, উজ্জ্বল বর্ণের এবং সুগন্ধযুক্ত হয় যাতে পতঙ্গরা আকৃষ্ট হয়।
2. ফুলে মকরন্দ বা মধু থাকে। উদাহরণ— আম, জবা।

11. স্ব-পরাগযোগ ও ইতর পরাগযোগের মধ্যে একটি সুবিধা ও অসুবিধা লেখো।

উত্তর:
স্ব-পরাগযোগ: সুবিধা হলো বাহকের প্রয়োজন হয় না। অসুবিধা হলো নতুন বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন উদ্ভিদ জন্মায় না।
ইতর পরাগযোগ: সুবিধা হলো নতুন ও উন্নত বৈশিষ্ট্যযুক্ত উদ্ভিদ জন্মায়। অসুবিধা হলো বাহকের ওপর নির্ভর করতে হয় বলে পরাগযোগ অনিশ্চিত হতে পারে।

12. সরল ফল ও গুচ্ছিত ফলের মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর:
সরল ফল: একটি ফুলের একটিমাত্র ডিম্বাশয় থেকে যে ফল উৎপন্ন হয়। যেমন— আম।
গুচ্ছিত ফল: একটি ফুলের বহুযুক্ত গর্ভপত্রী ডিম্বাশয় থেকে যখন একগুচ্ছ ফল উৎপন্ন হয়। যেমন— আতা।

13. ফলের বিভিন্ন অংশগুলি কী কী?

উত্তর: একটি ফলের প্রধানত দুটি অংশ থাকে— ১. ফলত্বক (Pericarp) এবং ২. বীজ (Seed)।
ফলত্বক আবার তিনটি স্তরে বিভক্ত: বহিস্ত্বক (খোসা), মধ্যত্বক (শাঁস) এবং অন্তঃত্বক (আঁটি)।

14. একবীজপত্রী ও দ্বিবীজপত্রী বীজের দুটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর:
(i) বীজপত্র: একবীজপত্রী বীজে ১টি এবং দ্বিবীজপত্রী বীজে ২টি বীজপত্র থাকে।
(ii) খাদ্য সঞ্চয়: একবীজপত্রীতে খাদ্য সস্যে জমা থাকে (সস্যল), কিন্তু দ্বিবীজপত্রীতে খাদ্য বীজপত্রে জমা থাকে (অসস্যল, ব্যতিক্রম রেড়ি)।

15. মৃদভেদী ও মৃদবর্তী অঙ্কুরোদ্গমের পার্থক্য লেখো।

উত্তর:
মৃদভেদী (Epigeal): বীজপত্র মাটি ভেদ করে উপরে উঠে আসে। যেমন— কুমড়ো, তেঁতুল।
মৃদবর্তী (Hypogeal): বীজপত্র মাটির নিচেই থেকে যায়, উপরে ওঠে না। যেমন— ছোলা, আম।

16. জরায়ুজ অঙ্কুরোদ্গম (Viviparous Germination) কী? কোথায় দেখা যায়?

উত্তর: ফল গাছে থাকা অবস্থাতেই ফলের মধ্যে বীজের অঙ্কুরোদ্গম হওয়াকে জরায়ুজ অঙ্কুরোদ্গম বলে।
এটি লবণাক্ত মাটি বা সুন্দরবন অঞ্চলের উদ্ভিদে (যেমন— রাইজোফোরা বা গরান) দেখা যায়, কারণ ওখানকার মাটিতে অক্সিজেনের অভাব থাকে।

17. ব্যাপন (Diffusion) কাকে বলে? এর গুরুত্ব কী?

উত্তর: যে ভৌত প্রক্রিয়ায় কোনো পদার্থের অণুগুলো বেশি ঘনত্বের স্থান থেকে কম ঘনত্বের স্থানে ছড়িয়ে পড়ে এবং সমঘনত্বে পরিণত হয়, তাকে ব্যাপন বলে।
গুরুত্ব: উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষের সময় গ্যাসীয় আদান-প্রদান ব্যাপন প্রক্রিয়ায় ঘটে।

18. অভিস্রবণ (Osmosis) কাকে বলে?

উত্তর: যে প্রক্রিয়ায় অর্ধভেদ্য পর্দার মাধ্যমে পৃথক থাকা দুটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণের মধ্যে দ্রাবকের অণু (জল) কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে বেশি ঘনত্বের দ্রবণে প্রবেশ করে, তাকে অভিস্রবণ বলে। উদ্ভিদ এই প্রক্রিয়ায় মাটি থেকে জল শোষণ করে।

19. মূলের বিভিন্ন অংশগুলির নাম লেখো।

উত্তর: একটি আদর্শ মূলের চারটি অংশ থাকে:
১. মূলত্র অঞ্চল (Root cap region)
২. বর্ধনশীল অঞ্চল (Region of elongation)
৩. মূলরোম অঞ্চল (Root hair region)
৪. স্থায়ী অঞ্চল (Permanent region)

20. একক পত্র ও যৌগিক পত্রের পার্থক্য কী?

উত্তর:
একক পত্র: একটিমাত্র ফলক থাকে। ফলকের কিনারা অখণ্ডিত বা খণ্ডিত হলেও মধ্যশিরা পর্যন্ত কাটা থাকে না। যেমন— আম, বট।
যৌগিক পত্র: ফলকটি খণ্ডিত হয়ে ছোট ছোট অংশে (পত্রক) ভাগ হয়ে যায় এবং মধ্যশিরা পর্যন্ত পৌঁছায়। যেমন— তেঁতুল, গোলাপ।

21. পরাগযোগের বাহক (Agents of Pollination) কাদের বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর: যেসব প্রাণী বা জড় উপাদান পরাগরেণুকে এক ফুল থেকে অন্য ফুলে বয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে, তাদের পরাগযোগের বাহক বলে।
উদাহরণ: বায়ু, জল, পতঙ্গ (মৌমাছি, প্রজাপতি), পাখি।

22. ভুট্টা বা ধানের ফল ও বীজের মধ্যে সম্পর্ক কী?

উত্তর: ভুট্টা বা ধান হলো একবীজপত্রী সস্যল ফল। এদের ফলত্বক ও বীজত্বক পরস্পরের সাথে এমনভাবে জুড়ে থাকে যে এদের আলাদা করা যায় না। তাই এদের দানাকে ফলও বলা হয় আবার বীজও বলা হয়।

23. অর্ধভেদ্য পর্দা (Semi-permeable Membrane) কী? উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে পর্দার মধ্য দিয়ে কেবল দ্রাবকের অণু (যেমন জল) চলাচল করতে পারে কিন্তু দ্রাবের অণু পারে না, তাকে অর্ধভেদ্য পর্দা বলে।
উদাহরণ: মাছের পটকা, ডিমের খোসার ভিতরের পাতলা পর্দা, পার্চমেন্ট কাগজ।

24. রূপান্তরিত কাণ্ড ও রূপান্তরিত মূলের একটি করে উদাহরণ ও কাজ লেখো।

উত্তর:
রূপান্তরিত কাণ্ড: আদা। কাজ— খাদ্য সঞ্চয় করা ও বংশবিস্তার করা।
রূপান্তরিত মূল: গাজর। কাজ— ভবিষ্যতের জন্য খাদ্য সঞ্চয় করে রাখা।

25. গুচ্ছিত ফল ও যৌগিক ফলের মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর:
গুচ্ছিত ফল: একটি ফুলের মুক্ত গর্ভপত্র থেকে তৈরি হয় (যেমন— আতা, স্ট্রবেরি)।
যৌগিক ফল: সমগ্র পুষ্পমঞ্জরি বা ফুলের গুচ্ছ থেকে একটিমাত্র ফল তৈরি হয় (যেমন— কাঁঠাল, আনারস)।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার