মাধ্যমিক পরিক্ষা তে ভালো ফল করার ১০‌টি কার্যকরী উপায়?

 মাধ্যমিক পরিক্ষা জীবনের প্রথম বড় পরিক্ষা। আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। কিভাবে প্রস্তুতি নেবে? রইল  হজপাঠ একাডেমির কিছু  গুরুত্বপূর্ণপরামর্শ।

পরীক্ষা হোক বা অন্য কোন প্রতিযোগিতা, সফলরা সব সময় সাধারণদের চেয়ে ব্যতিক্রমী। তাদের দৈনন্দিন রুটিন অর্থাৎ খাওয়া ঘুম, পড়াশোনার একটা সুবিন্যস্ত পরিকল্পনা থাকে। তুমিও সাজিয়ে নাও তোমার পরিকল্পনা –

১. খাওয়া দাওয়াঃ পুষ্টিবিদরা বলে থাকেন, ‘পেট হচ্ছে দ্বিতীয় ব্রেন’। বর্তমানে নিউরোসায়েন্টিস্ট-গণও এই বিষয়ে একমত। জাঙ্ক ফুড, চিপস, কোলড্রিংকসহ উচ্চ ক্যালরিযুক্ত ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলার চেষ্টা করো। এগুলির মধ্যে অনেক খাবার বাহ্যিকভাবে তোমাকে ক্ষতি না করলেও, পৌষ্টিকতন্ত্রকে উত্তেজিত করে।

২. পর্যাপ্ত ঘুমঃ সারাদিন আমাদের ব্রেন অনেক ব্যস্ত থাকে। ব্রেনকে সক্রিয় রাখতে বিশ্রাম দরকার। ব্রেনের বিশ্রাম হলো ঘুম। পড়াশোনার পাশাপাশি ঘুমটাও জরুরি। চেষ্টা করো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রাতে ঘুমোতে যেতে এবং যত সম্ভব ভোরে উঠে পড়াশোনা করতে। ভোরের নির্মল পরিবেশ পড়াশোনার পক্ষে অত্যন্ত উপযোগী।

নিয়মিত অনুশীলন বা প্র্যাকটিসঃ কথায় আছে ‘practice make a man perfect’. তোমার অনুশীলন অর্থাৎ প্র্যাকটিস যত ভালো হবে, পরীক্ষা তত ভালো হবে। আশা করা যায় এতদিনে তোমার নতুন পড়াশোনা শেষ। এখন সময় অনুশীলনের। নিয়মিত অনুশীলন তোমার ভালো ফল করতে সাহায্য করবে।

৪. সুবিন্যস্ত পরিকল্পনা ও দৈনন্দিন রুটিন: প্রতিদিনের নিয়মিত স্কুল, টিউশন ও প্র্যাকটিস এর জন্য চাই অত্যন্ত পরিকল্পনামাফিক একটি রুটিন। এ বিষয়ে বাড়ির বড়দেরও সাহায্য নিতে পারো। তোমার সময় অনুযায়ী বানিয়ে নাও একটি সুন্দর ও সুবিন্যস্ত রুটিন।

৫. তৈরি করো ‘কি-নোটস’: ইতিহাসের সাল-তারিখ, ভূগোলের জায়গা ও রাজধানীর নাম, বিজ্ঞানের সংকেত, সূত্র ও রাসায়নিক বিক্রিয়ার নিয়ে তৈরি কর ‘কি নোটস বা শর্ট নোটস’।

৬. নিয়মিত মহড়া পরীক্ষা বা মকটেস্ট দাও: তোমার প্রস্তুতি কেমন হলো, সেটা পরীক্ষা করো অত্যন্ত জরুরী। ফলে প্র্যাকটিস সেট নিয়ে নিয়মিত পরীক্ষা দাও, খাতা নিজেই দেখতে পারো অথবা তোমার শিক্ষকদের সাহায্য নাও।

৭. নিজের পড়ার জন্য সময় বার করো: তোমাদের বেশির ভাগেরই বিষয় বা বিভাগ ভিত্তিক একাধিক গৃহশিক্ষক-শিক্ষিকা আছে। তাদের পড়ার পাশাপাশি নিজের পড়ার জন্যও সময় বার করো।

৮. খেলাধুলা ও শরীর চর্চা করে: পড়াশোনার পাশাপাশি মাঝে মধ্যে খেলাধুলা ও শরীরচর্চা করবে। এতে শরীর ও মন উভয়ই তাজা হবে।

৯. পর্যাপ্ত জল পান করো: সর্বক্ষণ শরীরে ঘটে চলেছে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়া। তাই শরীরকে হাইড্রেট রাখা অত্যন্ত জরুরী। তাই পড়াশোনার মাঝে পর্যাপ্ত জল পান করতে ভুলনা।

১০. মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দাও: মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়াটা অত্যন্ত জরুরী। তোমার প্রস্তুতি যতই ভালো হোক না কেন, যদি মনসংযোগ ধরে না রাখতে পারো, সবই বৃথা হয়ে যেতে পারে!

              পরিশেষে বলবো মাধ্যমিক জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা। এই পরীক্ষাতে যে যত  মাথা ঠান্ডা রেখে পরীক্ষা দিতে পারবে, তার সফল হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি। সহজপাঠ একাডেমির পক্ষ থেকে তোমাদের সকলের জন্য রইল শুভেচ্ছা।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার