দশম শ্রেণী: জীবন‌ বিজ্ঞান পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ

দশম শ্রেণী: জীবন‌ বিজ্ঞান সাঁতরা প্রকাশনীর বইয়ের প্রশ্নাত্তোর

পৃষ্ঠা নং 139 থেকে 141

1. বহু বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন [MCQ] (প্রশ্নমান-1)

1. মাটির নাইট্রোজেনের উৎস হল

(a) গ্যাসীয় নাইট্রোজেন

(b) অ্যামোনিয়া

(c) ইউরিয়া

(d) নাইট্রেট লবণ

উত্তর: (b) অ্যামোনিয়া

2. নীচের কোনটি মিথোজীবী ব্যাকটেরিয়া?

(a) অ্যাজোটোব্যাকটর

(b) অ্যানাবিনা

(c) রাইজোবিয়াম

(d) স্পাইরুলিনা

উত্তর: (c) রাইজোবিয়াম

3. কোনো একটি খাদ্যশৃঙ্খলে ক্লোরিনযুক্ত কীটনাশক প্রবেশ করলে নীচের কোন্ ঘটনাটি ঘটে?

(a) জীববিবর্ধন

(b) ইউট্রফিকেশন

(c) বিশ্ব উষ্ণায়ন

(d) বধিরত্ব

উত্তর: (a) জীববিবর্ধন

4. নাইট্রিফিকেশনে সাহায্য করে

(a) নাইট্রোব্যাকটর

(b) অ্যাজোলা

(c) অ্যাজোটোব্যাকটর

(d) সিউডোমোনাস

উত্তর: (a) নাইট্রোব্যাকটর

5. ডিনাইট্রিফাইং জীবাণু হল

(a) সিউডোমোনাস

(b) ব্যাসিলাস মাইকয়ডিস

(c) অ্যাজোটোব্যাকটর

(d) নাইট্রোব্যাকটর

উত্তর: (a) সিউডোমোনাস

6. কোন্টি কীটনাশক?

(a) ক্যাডমিয়াম

(b) ফেনল

(c) BHC

(d) $H_{2}SO_{4}$

উত্তর: (c) BHC

7. বায়ুতে পরাগরেণু, ছত্রাকের রেণু ও ধুলিকণার পরিমাণ হঠাৎ বেড়ে গেলে নীচের কোন্ সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়?

(a) যক্ষ্মা

(b) অ্যাজমা

(c) ম্যালেরিয়া

(d) ডেঙ্গু

উত্তর: (b) অ্যাজমা

8. একটি আগাছানাশক হল

(a) DDT

(b) ইউরিয়া

(c) 2, 4-D

(d) BHC

উত্তর: (c) 2, 4-D

9. ভারতের প্রথম জাতীয় উদ্যান

(a) কাজিরাঙা

(b) জলদাপাড়া

(c) করবেট

(d) কানহা

উত্তর: (c) করবেট

10. কোন্ দূষণের ফলে হাঁপানি হয়?

(a) বায়ুদূষণ

(b) শব্দদূষণ

(c) জলদূষণ

(d) বনদূষণ

উত্তর: (a) বায়ুদূষণ

11. কোন্টি ক্যানসার রোগের চিকিৎসা পদ্ধতি?

(a) ফিজিওথেরাপি

(b) অ্যান্টিবায়োটিক

(c) কেমোথেরাপি

(d) যোগাসন

উত্তর: (c) কেমোথেরাপি

12. কুইনাইন কোন্ রোগের ওষুধ?

(a) অ্যাজমা

(b) নিউমোনিয়া

(c) টাইফয়েড

(d) ম্যালেরিয়া

উত্তর: (d) ম্যালেরিয়া

13. কোন্টি জীববৈচিত্র্য হ্রাসের প্রধান কারণ?

(a) জলদূষণ

(b) শব্দদূষণ

(c) চোরাশিকার

(d) প্রাণীদের রোগ

উত্তর: (c) চোরাশিকার

14. সিউডোমোনাস জীবাণু নাইট্রোজেন চক্রের নীচের কোন্ ধাপের সঙ্গে যুক্ত?

(a) নাইট্রোজেন আবদ্ধকরণ

(b) নাইট্রিফিকেশন

(c) ডিনাইট্রিফিকেশন

(d) অ্যামোনিফিকেশন

উত্তর: (c) ডিনাইট্রিফিকেশন

15. পূর্ব হিমালয় জীববৈচিত্র্য হটস্পটের একটি বিপন্ন প্রজাতি হল

(a) লায়ন টেল্ড ম্যাকাও

(b) ওরাং ওটাং

(c) রেড পান্ডা

(d) নীলগিরি থর

উত্তর: (c) রেড পান্ডা

16. পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন হল

(a) অভয়ারণ্য

(b) জাতীয় পার্ক

(c) বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ

(d) সংরক্ষিত বন

উত্তর: (c) বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ

17. ক্রায়ো সংরক্ষণে উদ্ভিদ নমুনা কত তাপমাত্রায় সংরক্ষিত হয়?

(a) $-196^{\circ}C$

(b) $-5^{\circ}C$

(c) $-1^{\circ}C$

(d) $0^{\circ}C$

উত্তর: (a) $-196^{\circ}C$

18. পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন ছাড়া আর কোথায় ব্যাঘ্র প্রকল্প আছে?

(a) বেথুয়াডহরি

(b) বক্সা

(c) গোরুমারা

(d) জলদাপাড়া

উত্তর: (b) বক্সা

19. নিম্নলিখিত ব্যাঘ্র প্রকল্পগুলির মধ্যে কোন্টি আমাদের রাজ্যে অবস্থিত?

(a) বন্দীপুর

(b) সুন্দরবন

(c) সিমলিপাল

(d) কানহা

উত্তর: (b) সুন্দরবন

20. এক্স সিটু সংরক্ষণের একটি উদাহরণ হল

(a) সুন্দরবন ব্যাঘ্র সংরক্ষণ প্রকল্প

(b) করবেট জাতীয় উদ্যান

(c) নীলগিরি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ

(d) ক্রায়ো সংরক্ষণ

উত্তর: (d) ক্রায়ো সংরক্ষণ


2. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (প্রশ্নমান-1)

এককথায় উত্তর দাও:

1. প্রকৃতির নাইট্রোজেনের উৎস কোথায়?

উত্তর: প্রকৃতির নাইট্রোজেনের প্রধান উৎস হল বায়ুমণ্ডল।

2. শিম্বিগোত্রীয় উদ্ভিদের মূলে কোন্ ব্যাকটেরিয়া বসবাস করে?

উত্তর: রাইজোবিয়াম।

3. বায়ুর নাইট্রোজেন বৃষ্টির জলের সঙ্গে মিশে কীরূপে নেমে আসে?

উত্তর: নাইট্রিক অ্যাসিড ($HNO_3$) রূপে।

4. ক্লসট্রিডিয়াম কীরূপ জীব?

উত্তর: এটি একটি স্বাধীনজীবী, অবায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী ব্যাকটেরিয়া।

5. নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী একটি নীলাভ সবুজ শৈবালের উদাহরণ দাও।

উত্তর: অ্যানাবিনা বা নষ্টক।

6. একটি নাইট্রোজেনঘটিত সারের উদাহরণ দাও।

উত্তর: ইউরিয়া।

7. কোন্ ব্যাকটেরিয়া অ্যামোনিফিকেশনে সাহায্য করে?

উত্তর: ব্যাসিলাস মাইকয়ডিস।

8. একটি নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়ার উদাহরণ দাও।

উত্তর: নাইট্রোব্যাকটর বা নাইট্রোসোমোনাস।

9. একটি ডিনাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়ার উদাহরণ দাও।

উত্তর: সিউডোমোনাস।

10. একটি গ্রিনহাউস গ্যাসের উদাহরণ দাও।

উত্তর: কার্বন ডাইঅক্সাইড ($CO_2$) বা মিথেন ($CH_4$)।

11. SPM-এর পুরো নাম কী?

উত্তর: সাসপেন্ডেড পার্টিকুলেট ম্যাটার (Suspended Particulate Matter)।

12. বায়ুদূষণের ফলে ফুসফুসের যে রোগ হয় তার একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: হাঁপানি বা অ্যাজমা।

13. একটি কীটনাশকের উদাহরণ দাও।

উত্তর: BHC বা DDT।

14. একটি আগাছানাশকের উদাহরণ দাও।

উত্তর: 2, 4-D।

15. কত ডেসিবেল শব্দে মানুষ বধির হয়ে যায়?

উত্তর: 100 ডেসিবেল (dB) বা তার বেশি শব্দে।

16. জীববৈচিত্র্য হটস্পটের একটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: ওই অঞ্চলে প্রচুর সংখ্যায় এন্ডেমিক প্রজাতি (স্থানীয় প্রজাতি) থাকতে হবে।

17. একটি ক্যানসার বিরোধী পদার্থের উদাহরণ দাও।

উত্তর: নয়নতারা গাছ থেকে প্রাপ্ত ভিনক্রিস্টিন।

18. ভারতে কটি হটস্পট অঞ্চল আছে?

উত্তর: ৪টি।

19. স্থানীয় মানুষ ও বনদপ্তর যৌথভাবে জঙ্গল পুনরুদ্ধারের জন্য যে ব্যবস্থা অনুসরণ করে তার নাম লেখো।

উত্তর: জয়েন্ট ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট (JFM)।

20. সুন্দরবনের একটি সরীসৃপের উদাহরণ দাও।

উত্তর: কুমির।

21. টাইগার প্রোজেক্ট কোথায় আছে?

উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন ও বক্সায়।

22. পশ্চিমবঙ্গের অভয়ারণ্য কোন্টি?

উত্তর: জলদাপাড়া বা বেথুয়াডহরি।

23. ভারতের বিখ্যাত কুমির প্রজেক্ট কোন্টি?

উত্তর: ওড়িশার ভিতরকণিকা।

24. রেড পান্ডা প্রোজেক্ট কোথায় অবস্থিত?

উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যানে।

25. সুন্দরবনের পরিবেশ সংক্রান্ত সাম্প্রতিকতম উদ্বেগের কারণটির নাম লেখো।

উত্তর: বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রের জলতল বৃদ্ধি ও দ্বীপভূমির নিমজ্জন।

26. কোন্ ইন সিটু সংরক্ষণ ব্যবস্থায় অণুজীব, বন্যপ্রাণী ও বন্য উদ্ভিদসহ মানুষের বৈচিত্র্য, কৃষ্টি ও জীবনযাত্রা সংরক্ষণ করা হয়?

উত্তর: বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ।

27. PAN-পুরো নাম কী?

উত্তর: পারক্সিঅ্যাসিটাইল নাইট্রেট (Peroxyacetyl Nitrate)।

28. উত্তরবঙ্গের একটি পক্ষীরালয়ের নাম লেখো।

উত্তর: রায়গঞ্জের কুলিক পক্ষীনিবাস।

29. বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের কোন্ অঞ্চলে মানুষের অনুপ্রবেশ নিষিদ্ধ?

উত্তর: কোর অঞ্চল।

30. আর্সেনিক দূষণের ফলে কোন্ রোগ হয়?

উত্তর: ব্ল্যাকফুট ডিজিজ।

শূন্যস্থান পূরণ করো:

31. মটর গাছের অর্বুদে বসবাস করে ______ ব্যাকটেরিয়া।

উত্তর: রাইজোবিয়াম

32. নাইট্রোজেন চক্রের ______ পর্যায়ে অ্যামোনিয়া কতগুলি ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে নাইট্রাইট ও নাইট্রেটে রূপান্তরিত হয়।

উত্তর: নাইট্রিফিকেশন

33. সর্পগন্ধা গাছের মূল থেকে ______ পাওয়া যায় যা উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

উত্তর: রেসারপিন

34. 2, 4-D হল একটি ______ নাশক।

উত্তর: আগাছা

35. ত্বকের ক্যানসার ঘটায় ______ যৌগ।

উত্তর: বেঞ্জোপাইরিন

36. ধান খেত থেকে উৎপন্ন একটি দাহ্য গ্রিনহাউস গ্যাস হল ______।

উত্তর: মিথেন

37. স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করে এমন একটি বহিরাগত প্রজাতির নাম হল ______।

উত্তর: পার্থেনিয়াম

38. COD মাপার একক হল ______।

উত্তর: মিলিগ্রাম/লিটার (mg/L)

39. স্টোন ক্যানসারের জন্য দায়ী যৌগটি হল ______।

উত্তর: সালফার ডাইঅক্সাইড ($SO_2$)

সত্য (T) বা মিথ্যা (F) নির্ধারণ করো:

40. বায়ুর $N_{2}$ এর পরিমাণ 20.60%।

উত্তর: মিথ্যা (F)

41. অ্যাজোটোব্যাকটর মিথোজীবী ব্যাকটেরিয়া।

উত্তর: মিথ্যা (F) (এটি স্বাধীনজীবী)

42. পূর্ব হিমালয় হটস্পটে সংরক্ষিত একটি বিপন্ন উদ্ভিদ হল রডোডেনড্রন।

উত্তর: সত্য (T)

43. পশ্চিমবঙ্গের ‘মানস’ জাতীয় উদ্যানে একশৃঙ্গ গন্ডার সংরক্ষণ করা হয়।

উত্তর: মিথ্যা (F) (মানস আসামে অবস্থিত)

44. অ্যাসিড বৃষ্টির কারণ হল বায়ুদূষণের ফলে সৃষ্ট $SO_{2}$ এবং $NO_{2}$ গ্যাস।

উত্তর: সত্য (T)

45. শৈবাল ব্লুম জলাশয়ের ইউট্রিফিকেশনকে নির্দেশ করে।

উত্তর: সত্য (T)

প্রথম জোড়টির সম্পর্ক বুঝে দ্বিতীয় জোড়টির শূন্যস্থানে উপযুক্ত শব্দ বসাও:

46. ভারতের হটস্পট: 4টি:: পৃথিবীর হটস্পট: ______।

উত্তর: 36টি

47. রেড পান্ডা: সিঙ্গালিলা :: একশৃঙ্গ গন্ডার: ______।

উত্তর: জলদাপাড়া

48. চিড়িয়াখানা: এক্সসিটু সিস্টেম :: অভয়ারণ্য: ______।

উত্তর: ইনসিটু সিস্টেম

বিসদৃশটি বেছে লেখো:

49. সুন্দরবন, মানস, বক্সা, নকরেক।

উত্তর: নকরেক

50. অভয়ারণ্য, জাতীয় উদ্যান, চিড়িয়াখানা, বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ।

উত্তর: চিড়িয়াখানা

নীচের চারটি বিষয়ের মধ্যে তিনটি বিষয় একটি বিষয়ের অন্তর্গত তা চিহ্নিত করো:

51. SPM, বায়ুদূষণ, গ্রিনহাউস গ্যাস, ফুসফুসের রোগ।

উত্তর: বায়ুদূষণ

52. কোর অঞ্চল, বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ, বাফার অঞ্চল, ট্রানজিশন অঞ্চল।

উত্তর: বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ

53. কৃষিজমির হ্রাস, মিষ্টিজলের অভাব, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সমস্যা, অরণ্য ধ্বংস।

উত্তর: ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সমস্যা

বাম ও ডান স্তম্ভ মেলাও:

বাম স্তম্ভ

(i) বাঘ

(ii) গন্ডার

(iii) রেড পান্ডা

(iv) কুমির

ডান স্তম্ভ

(a) জলদাপাড়া

(b) সিকিম

(c) নন্দনকানন

(d) সুন্দরবন

(e) জিন ব্যাংক

উত্তর:

(i) বাঘ – (d) সুন্দরবন

(ii) গন্ডার – (a) জলদাপাড়া

(iii) রেড পান্ডা – (b) সিকিম

(iv) কুমির – (c) নন্দনকানন

3. সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (প্রশ্নমান-2)

1. নাইট্রোজেন চক্র কাকে বলে?

উত্তর: যে চক্রাকার পদ্ধতিতে বায়ুমণ্ডলের মুক্ত নাইট্রোজেন ($N_2$) জীবদেহে প্রবেশ করে, প্রোটোপ্লাজম গঠন করে এবং জীবের মৃত্যুর পর পুনরায় প্রকৃতিতে (বায়ুমণ্ডলে বা মাটিতে) ফিরে আসে, তাকে নাইট্রোজেন চক্র বলে।


2. নাইট্রিফিকেশন কাকে বলে?

উত্তর: যে পদ্ধতিতে মাটির অ্যামোনিয়া ($NH_3$) নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়ার (যেমন – নাইট্রোসোমোনাস ও নাইট্রোব্যাকটর) সাহায্যে প্রথমে নাইট্রাইট ($NO_2^-$) এবং পরে নাইট্রেটে ($NO_3^-$) রূপান্তরিত হয়, তাকে নাইট্রিফিকেশন বলে।


3. ডিনাইট্রিফিকেশন কাকে বলে?

উত্তর: যে প্রক্রিয়ায় মাটির নাইট্রেট যৌগ ডিনাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়ার (যেমন – সিউডোমোনাস) প্রভাবে ভেঙে গিয়ে মুক্ত নাইট্রোজেনে ($N_2$) পরিণত হয় এবং বায়ুমণ্ডলে ফিরে যায়, তাকে ডিনাইট্রিফিকেশন বলে।


4. লেগ হিমোগ্লোবিন কী?

উত্তর: শিম্বিগোত্রীয় উদ্ভিদের (যেমন- মটর, ছোলা) মূলের অর্বুদে এক ধরণের বিশেষ লাল রঙের রঞ্জক পদার্থ থাকে, যা নাইট্রোজেন সংবন্ধনে সাহায্যকারী ‘নাইট্রোজিনেজ’ উৎসেচককে অক্সিজেনের হাত থেকে রক্ষা করে। একেই লেগ-হিমোগ্লোবিন বলে।


5. দুটি স্বাধীনজীবী ব্যাকটেরিয়ার উদাহরণ দাও যারা নাইট্রোজেন সংবন্ধন ঘটায়।

উত্তর: দুটি স্বাধীনজীবী নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী ব্যাকটেরিয়া হলো:

1. অ্যাজোটোব্যাকটর (বায়বীয়)

2. ক্লসট্রিডিয়াম (অবায়বীয়)


6. পরিবেশ দূষণ কাকে বলে?

উত্তর: মানুষের বিভিন্ন কার্যকলাপের ফলে বা প্রাকৃতিক কারণে যখন পরিবেশের ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক উপাদানের অবাঞ্ছিত পরিবর্তন ঘটে, যা জীবজগতের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে, তখন তাকে পরিবেশ দূষণ বলে।


7. ইউট্রফিকেশন কাকে বলে?

উত্তর: জলাশয়ে ফসফেট, নাইট্রেট প্রভৃতি পুষ্টি উপাদান (কৃষিজমি থেকে আসা সার) অতিরিক্ত মাত্রায় মিশলে শৈবাল ও অন্যান্য জলজ উদ্ভিদের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে। এর ফলে জলে দ্রবীভূত অক্সিজেনের ($O_2$) অভাব দেখা দেয় এবং জলজ প্রাণীরা মারা যায়। এই ঘটনাকে ইউট্রফিকেশন বা শৈবাল ব্লুম বলে।


8. দুটি কৃষিক্ষেত্রের বর্জ্য পদার্থের উদাহরণ দাও।

উত্তর: দুটি কৃষিক্ষেত্রের বর্জ্য পদার্থ হলো:

1. ব্যবহৃত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক।

2. ফসলের অব্যবহৃত অংশ (যেমন – খড়, সবজির খোসা)।


9. কলকারখানা থেকে আগত কয়েকটি বর্জ্য বস্তুর নাম করো যারা জল দূষণ ঘটায়।

উত্তর: কলকারখানা থেকে আসা জল দূষণকারী কয়েকটি বর্জ্য বস্তু হলো – পারদ, সিসা, ক্যাডমিয়াম, আর্সেনিক এবং বিভিন্ন অ্যাসিড ও ক্ষার।


10. মাটি দূষণ ঘটায় এমন দুটি রাসায়নিক পদার্থের উদাহরণ দাও।

উত্তর: মাটি দূষণ ঘটায় এমন দুটি রাসায়নিক পদার্থ হলো:

1. রাসায়নিক কীটনাশক (যেমন – DDT, BHC)।

2. প্লাস্টিক ও পলিথিন।


11. কয়েকটি জলজ সম্পদের উদাহরণ দাও।

উত্তর: কয়েকটি জলজ সম্পদ হলো – মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া এবং বিভিন্ন জলজ উদ্ভিদ (যেমন – শৈবাল, পদ্ম)।


12. কী কী রাসায়নিক বস্তু জল দূষণ ঘটায়?

উত্তর: জল দূষণ ঘটায় এমন প্রধান রাসায়নিক বস্তুগুলি হলো – ডিটারজেন্ট, কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত কীটনাশক ও সার, কলকারখানার বর্জ্য (যেমন – পারদ, সিসা, ক্যাডমিয়াম) এবং আর্সেনিক।


13. ক্যানসারের দুটি চিকিৎসা পদ্ধতি উল্লেখ করো।

উত্তর: ক্যানসারের দুটি প্রধান চিকিৎসা পদ্ধতি হলো:

1. কেমোথেরাপি (Chemotherapy)

2. রেডিওথেরাপি (Radiotherapy) বা বিকিরণ থেরাপি।


14. রেসারপিন ও ডাটুরিন থেকে কোন্ রোগের ওষুধ তৈরি হয়?

উত্তর:

  • রেসারপিন: সর্পগন্ধা গাছ থেকে প্রাপ্ত রেসারপিন উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
  • ডাটুরিন: ধুতরো গাছ থেকে প্রাপ্ত ডাটুরিন হাঁপানি রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ তৈরিতে কাজে লাগে।

15. জীববৈচিত্র্যের হটস্পটগুলি কী কী?

উত্তর: জীববৈচিত্র্যের হটস্পট হলো পৃথিবীর সেই সমস্ত বিশেষ অঞ্চল, যেখানে অত্যন্ত বেশি সংখ্যায় প্রজাতি (বিশেষত স্থানীয় বা এন্ডেমিক প্রজাতি) বাস করে এবং যাদের অস্তিত্ব বর্তমানে মানুষের কার্যকলাপের ফলে বিপন্ন।


16. জীববৈচিত্র্য হ্রাস পাওয়ার দুটি কারণ উল্লেখ করো।

উত্তর: জীববৈচিত্র্য হ্রাস পাওয়ার দুটি প্রধান কারণ হলো:

1. বাসস্থানের ধ্বংস: অরণ্য ধ্বংস, নগরায়ণ ও শিল্পায়নের ফলে জীবদের প্রাকৃতিক বাসস্থান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

2. চোরাশিকার: অতিরিক্ত মুনাফার লোভে বেআইনিভাবে বন্যপ্রাণী হত্যা ও পাচার।


17. গ্রিনহাউস গ্যাস কীভাবে বিশ্ব উষ্ণায়ন ঘটায়?

উত্তর: বায়ুমণ্ডলে থাকা কার্বন ডাইঅক্সাইড ($CO_2$), মিথেন ($CH_4$) প্রভৃতি গ্রিনহাউস গ্যাসগুলি পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত তাপকে মহাকাশে ফিরে যেতে বাধা দেয়। এই গ্যাসগুলি তাপ শোষণ করে পৃথিবীপৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে তোলে। এইভাবেই গ্রিনহাউস গ্যাস বিশ্ব উষ্ণায়ন ঘটায়।


18. ইন-সিটু সংরক্ষণ কাকে বলে?

উত্তর: যখন কোনো বিপন্ন উদ্ভিদ বা প্রাণী প্রজাতিকে তার নিজস্ব প্রাকৃতিক বাসস্থানে বা পরিবেশে রেখে সংরক্ষণ করা হয়, তখন তাকে ইন-সিটু (In-situ) বা স্ব-স্থানে সংরক্ষণ বলে। উদাহরণ – জাতীয় উদ্যান, অভয়ারণ্য।


19. এক্স-সিটু সংরক্ষণ কাকে বলে?

উত্তর: যখন কোনো বিপন্ন উদ্ভিদ বা প্রাণী প্রজাতিকে তার নিজস্ব প্রাকৃতিক বাসস্থানের বাইরে, কোনো বিশেষ কৃত্রিম পরিবেশে রেখে সংরক্ষণ করা হয়, তখন তাকে এক্স-সিটু (Ex-situ) বা অ-স্থানে সংরক্ষণ বলে। উদাহরণ – চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন।


20. অভয়ারণ্য কাকে বলে?

উত্তর: অভয়ারণ্য হলো এমন একটি নির্দিষ্ট বনভূমি, যেখানে বন্যপ্রাণীদের নির্ভয়ে বসবাস, বিচরণ ও প্রজননের ব্যবস্থা করা হয়। এখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত থাকে এবং গাছ কাটা বা শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।


21. “চোরাশিকার ভারতের প্রাণীবৈচিত্র্যের বিপন্নতার একটি প্রধান কারণ”- যে যে কারণে এই চোরাশিকার ঘটে তার চারটি কারণ নির্ধারণ করো।

উত্তর: চোরাশিকার ঘটার চারটি প্রধান কারণ হলো:

1. অর্থনৈতিক লাভ: প্রাণীর চামড়া, দাঁত, হাড়, শিং ইত্যাদি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আন্তর্জাতিক বাজারে খুব চড়া দামে বিক্রি হয়।

2. দামি ওষুধ তৈরি: কিছু প্রাণীর অঙ্গ (যেমন – বাঘের হাড়) ঐতিহ্যবাহী ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

3. শৌখিন সামগ্রী: হাতির দাঁত, গন্ডারের শিং ইত্যাদি দিয়ে মূল্যবান শৌখিন সামগ্রী তৈরি করা হয়।

4. আইনের অভাব ও দুর্বল প্রয়োগ: অনেক ক্ষেত্রে চোরাশিকার রোধে আইনের দুর্বলতা বা সঠিক প্রয়োগের অভাব দেখা যায়।


22. বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ কাকে বলে? পশ্চিমবঙ্গের বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের উদাহরণ দাও।

উত্তর: বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ হলো একটি সুবিশাল এলাকা, যেখানে জীববৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং স্থানীয় মানুষের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে একযোগে সংরক্ষণ করা হয়।

  • উদাহরণ: পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন হলো একটি উল্লেখযোগ্য বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ।

23. দুটি রিজার্ভ ফরেস্টের উদাহরণ দাও।

উত্তর: দুটি রিজার্ভ ফরেস্টের (সংরক্ষিত বন) উদাহরণ হলো:

1. পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার চাপড়ামারি।

2. পশ্চিমবঙ্গের বক্সা অরণ্যের কিছু অংশ।


24. দুটি বিপন্ন উদ্ভিদ প্রজাতির উদাহরণ দাও।

উত্তর: দুটি বিপন্ন উদ্ভিদ প্রজাতি হলো:

1. সর্পগন্ধা (Rauwolfia serpentina)

2. সূর্যশিশির (Drosera)


25. দুটি বিপন্ন প্রাণী প্রজাতির উদাহরণ দাও।

উত্তর: দুটি বিপন্ন প্রাণী প্রজাতি হলো:

1. রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার (বাঘ)

2. একশৃঙ্গ গন্ডার


26. পৃথিবীর উষ্ণায়নের ফলে জীববৈচিত্র্যের যে ক্ষতি হচ্ছে তার চারটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে জীববৈচিত্র্যের ক্ষতিগুলি হলো:

1. মেরু অঞ্চলের বরফ গলন: মেরু ভালুক ও পেঙ্গুইনের বাসস্থান ধ্বংস হচ্ছে।

2. প্রবাল প্রাচীর ধ্বংস: সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়ায় প্রবাল (Coral) মরে যাচ্ছে, ফলে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হচ্ছে।
3. বাসস্থান পরিবর্তন: অনেক প্রাণী শীতল স্থানের খোঁজে তাদের স্বাভাবিক বাসস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে।

4. খাদ্য সংকট: আবহাওয়ার পরিবর্তনে উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ায় তৃণভোজী প্রাণীরা খাদ্য সংকটে পড়ছে।


27. পিপল্স বায়োডাইভারসিটি রেজিস্টার (PBR)-এর জীববৈচিত্র্য সংক্রান্ত যে প্রধান বিষয়গুলি লিপিবদ্ধ করা হয় তা লেখো।

উত্তর: PBR বা ‘জনসাধারণের জীববৈচিত্র্য পঞ্জি’-তে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি লিপিবদ্ধ করা হয়:

1. স্থানীয় অঞ্চলে প্রাপ্ত বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীবের প্রজাতিগত তালিকা।

2. সেই সমস্ত প্রজাতিগুলির প্রচলিত ব্যবহার (যেমন – ঔষধি, খাদ্য)।

3. জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে স্থানীয় মানুষের জ্ঞান ও ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি।


28. সিঙ্গলিলা জাতীয় উদ্যানে কোন্ প্রাণী সংরক্ষণ করা হয়?

উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং-এ অবস্থিত সিঙ্গলিলা জাতীয় উদ্যানে মূলত রেড পান্ডা সংরক্ষণ করা হয়।


29. স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে PBR-এর যে-কোনো দুটি ভূমিকা লেখো।

উত্তর: স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে PBR-এর দুটি ভূমিকা হলো:

1. নথিবদ্ধকরণ: এটি স্থানীয় উদ্ভিদ ও প্রাণীর প্রজাতিগুলিকে চিহ্নিত করে ও তার একটি লিখিত নথি তৈরি করে, যা সংরক্ষণের পরিকল্পনায় সাহায্য করে।

2. জ্ঞান সংরক্ষণ: এটি জীববৈচিত্র্য সম্পর্কিত স্থানীয় মানুষের ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানকে (Traditional Knowledge) স্বীকৃতি দেয় ও সংরক্ষণ করে।


30. মানব সভ্যতার বিকাশে নিম্নলিখিত দুটি ক্ষেত্রে জীববৈচিত্র্যের ভূমিকা উল্লেখ করো- খাদ্য উৎপাদন, ওষুধ প্রস্তুতি।

উত্তর:

  • খাদ্য উৎপাদন: জীববৈচিত্র্যের জন্যই আমরা বিভিন্ন প্রকার খাদ্যশস্য (ধান, গম, ভুট্টা), ফল, সবজি এবং মাছ, মাংস, দুধ ইত্যাদি প্রাণিজ প্রোটিন পেয়ে থাকি।
  • ওষুধ প্রস্তুতি: বহু মূল্যবান ওষুধ (যেমন – সর্পগন্ধা থেকে রেসারপিন, সিঙ্কোনা থেকে কুইনাইন) সরাসরি উদ্ভিদ বা জীবজগৎ থেকে সংগ্রহ করা হয়।

4. দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (প্রশ্নমান-5)

1. পরিবেশে নাইট্রোজেনের উৎসগুলি উল্লেখ করো। নাইট্রোজেন চক্রের রেখাচিত্র অঙ্কন করো।

উত্তর: পরিবেশে নাইট্রোজেনের প্রধান উৎসগুলি হলো:

  • বায়ুমণ্ডল: বায়ুমণ্ডলের প্রায় 78% হলো মুক্ত নাইট্রোজেন ($N_2$) গ্যাস, যা প্রধান উৎস।
  • জীবদেহ: উদ্ভিদ ও প্রাণীর প্রোটোপ্লাজম, প্রোটিন ও নিউক্লিক অ্যাসিডে নাইট্রোজেন থাকে।
  • মাটি: মাটির নাইট্রেট ($NO_3^-$), নাইট্রাইট ($NO_2^-$) ও অ্যামোনিয়াম ($NH_4^+$) লবণ নাইট্রোজেনের উৎস।

নাইট্রোজেন চক্রের রেখাচিত্র:

[attachment_0](attachment)

(একটি রেখাচিত্র আঁকতে হবে যা দেখায়: বায়ুমণ্ডলের $N_2$ -> ১. জৈবিক সংবন্ধন (ব্যাকটেরিয়া) ও ২. প্রাকৃতিক সংবন্ধন (বজ্রপাত) -> মাটির নাইট্রোজেন যৌগ -> উদ্ভিদ গ্রহণ -> প্রাণী গ্রহণ -> উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃত্যু -> অ্যামোনিফিকেশন (অ্যামোনিয়া) -> নাইট্রিফিকেশন (নাইট্রাইট ও নাইট্রেট) -> উদ্ভিদ পুনরায় গ্রহণ বা ডিনাইট্রিফিকেশন -> $N_2$ বায়ুতে ফেরা।)


2. প্রাকৃতিক নাইট্রোজেন সংবন্ধন ও জৈবিক নাইট্রোজেন সংবন্ধন সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর:

  • প্রাকৃতিক নাইট্রোজেন সংবন্ধন: যখন আকাশে বজ্রপাত হয়, তখন বায়ুর উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপে নাইট্রোজেন ($N_2$) ও অক্সিজেন ($O_2$) যুক্ত হয়ে নাইট্রোজেনের অক্সাইড (যেমন $NO, NO_2$) গঠন করে। এই অক্সাইড বৃষ্টির জলের সাথে মিশে নাইট্রিক অ্যাসিড ($HNO_3$) রূপে মাটিতে এসে নাইট্রেট লবণ তৈরি করে। একে প্রাকৃতিক নাইট্রোজেন সংবন্ধন বলে।
  • জৈবিক নাইট্রোজেন সংবন্ধন: যে পদ্ধতিতে কিছু জীব (যেমন- রাইজোবিয়াম, অ্যাজোটোব্যাকটর, ক্লসট্রিডিয়াম নামক ব্যাকটেরিয়া এবং অ্যানাবিনা, নষ্টক নামক নীলাভ-সবুজ শৈবাল) বায়ুমণ্ডলের মুক্ত নাইট্রোজেনকে সরাসরি গ্রহণ করে অ্যামোনিয়া ও পরে অ্যামাইনো অ্যাসিড রূপে নিজেদের দেহে আবদ্ধ করে, তাকে জৈবিক নাইট্রোজেন সংবন্ধন বলে।

3. মানুষের ক্রিয়াকলাপের জন্য নাইট্রোজেন চক্র কীভাবে ব্যাহত হয় তার দুটি কারণ উল্লেখ করো।

উত্তর: মানুষের কার্যকলাপের ফলে নাইট্রোজেন চক্র ব্যাহত হওয়ার দুটি কারণ হলো:

1. রাসায়নিক সারের ব্যবহার: কৃষিক্ষেত্রে অতিরিক্ত নাইট্রোজেনঘটিত সার (যেমন – ইউরিয়া) ব্যবহারের ফলে মাটির অতিরিক্ত নাইট্রেট যৌগ জলে মিশে ‘ইউট্রফিকেশন’ ঘটায় এবং ডিনাইট্রিকেশনের মাধ্যমে $N_2O$ (নাইট্রাস অক্সাইড) নামক গ্রিনহাউস গ্যাস তৈরি করে।

2. জীবাশ্ম জ্বালানির দহন: কলকারখানা ও যানবাহনে জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, পেট্রল) পোড়ানোর ফলে নাইট্রোজেনের বিভিন্ন অক্সাইড ($NO_x$) তৈরি হয়। এটি বায়ুদূষণ ঘটায় এবং অ্যাসিড বৃষ্টির কারণ হয়, যা মাটির স্বাভাবিক নাইট্রোজেন চক্রকে ব্যাহত করে।


4. মাটিদূষণ ও শব্দদূষণ কীভাবে ঘটে এবং তার কুপ্রভাব সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর:

  • মাটিদূষণ:কারণ: কৃষিক্ষেত্রে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার, প্লাস্টিক ও পলিথিন মাটিতে মেশা, কলকারখানার রাসায়নিক বর্জ্য এবং হাসপাতালের বর্জ্য পদার্থ মাটিতে ফেলার ফলে মাটি দূষিত হয়।

    কুপ্রভাব: মাটি দূষণের ফলে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়, ফসলের উৎপাদন কমে যায়। দূষিত মাটিতে উৎপন্ন ফসল খাওয়ার ফলে মানুষের দেহে নানা রোগ (যেমন- ক্যানসার) দেখা দেয়।

  • শব্দদূষণ:কারণ: যানবাহনের জোরালো হর্ন, কলকারখানার মেশিনের শব্দ, লাউডস্পিকারের উচ্চ আওয়াজ এবং বাজি ফাটানোর ফলে শব্দদূষণ ঘটে।

    কুপ্রভাব: শব্দদূষণের ফলে মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস পায় বা সম্পূর্ণ বধিরতা দেখা দিতে পারে। এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, মানসিক চাপ ও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে।


5. ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার ফলে কী ধরনের সমস্যা দেখা যায়? কয়েকটি সমস্যা সম্পর্কে আলোচনা করো।

উত্তর: ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার ফলে নানা ধরনের সমস্যা দেখা যায়, তার মধ্যে প্রধান কয়েকটি হলো:

1. খাদ্য সংকট: অধিক জনসংখ্যার জন্য প্রচুর খাদ্যের প্রয়োজন হয়, যা জোগান দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে ও খাদ্য সংকট দেখা দেয়।

2. বাসস্থান সংকট: বেশি মানুষের বসবাসের জন্য অরণ্য ধ্বংস করে, কৃষিজমি নষ্ট করে বাড়িঘর তৈরি করতে হয়, ফলে বাসস্থান সংকট তীব্র হয়।

3. প্রাকৃতিক সম্পদের হ্রাস: জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে জল, খনিজ পদার্থ, অরণ্য সম্পদ ইত্যাদির ব্যবহার অত্যধিক হারে বেড়ে যায়, ফলে এই প্রাকৃতিক সম্পদগুলি দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।

4. দূষণ বৃদ্ধি: বেশি মানুষ মানেই বেশি বর্জ্য পদার্থ, বেশি যানবাহন ও বেশি কলকারখানা। এর ফলে জল, মাটি ও বায়ুদূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করে।


6. পরিবেশ দূষিত হলে মানবস্বাস্থ্যের ওপর কীরূপ প্রভাব পড়ে তা কয়েকটি উদাহরণ দিয়ে আলোচনা করো।

উত্তর: পরিবেশ দূষিত হলে মানবস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। যেমন:

  • বায়ুদূষণ: বায়ুতে ভাসমান $SPM$, $SO_2$, $NO_2$ ইত্যাদি গ্যাসের ফলে মানুষের ফুসফুসের রোগ, যেমন – হাঁপানি (অ্যাজমা), ব্রঙ্কাইটিস এবং এমনকি ফুসফুসের ক্যানসারও হতে পারে।
  • জলদূষণ: পানীয় জলে আর্সেনিক মিশলে ‘ব্ল্যাকফুট ডিজিজ’ হয়। পারদ দূষণের ফলে ‘মিনামাটা’ রোগ হয়। এছাড়া দূষিত জল পান করলে কলেরা, টাইফয়েড, আমাশয় ইত্যাদি রোগ হয়।
  • মাটিদূষণ: দূষিত মাটিতে উৎপন্ন শাকসবজি ও ফসলের মাধ্যমে কীটনাশক ও ভারী ধাতু (যেমন – সিসা, ক্যাডমিয়াম) মানুষের শরীরে প্রবেশ করে এবং বিভিন্ন স্নায়বিক রোগ ও ক্যানসারের সৃষ্টি করে।
  • শব্দদূষণ: তীব্র শব্দের প্রভাবে মানুষের শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়ে যায়, রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় এবং মানসিক অবসাদ দেখা দেয়।

7. জীববৈচিত্র্য কাকে বলে? জীববৈচিত্র্যের তিনটি গুরুত্ব উল্লেখ করো।

উত্তর:

  • জীববৈচিত্র্য: কোনো একটি নির্দিষ্ট বাস্তুতন্ত্রে বা পৃথিবীতে উপস্থিত সমস্ত ধরণের জীবের (উদ্ভিদ, প্রাণী, অণুজীব) মধ্যে যে বিভিন্নতা দেখা যায়, তাকেই এককথায় জীববৈচিত্র্য (Biodiversity) বলে।
  • জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব:1. বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য: জীববৈচিত্র্য খাদ্যশৃঙ্খল ও খাদ্যজালকে সচল রাখে এবং নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন চক্রের মতো প্রাকৃতিক চক্রগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে।

    2. অর্থনৈতিক গুরুত্ব: আমরা খাদ্য (শস্য, ফল), ওষুধ (সর্পগন্ধা, সিঙ্কোনা), কাঠ, রবার, রেশম ইত্যাদি প্রয়োজনীয় সামগ্রী জীববৈচিত্র্য থেকেই পাই, যা দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে।

    3. জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ: অরণ্যের মতো বৃহৎ জীববৈচিত্র্যপূর্ণ অঞ্চল বৃষ্টিপাত ঘটাতে সাহায্য করে এবং বায়ুমণ্ডলের $CO_2$ শোষণ করে বিশ্ব উষ্ণায়ন কমাতে সাহায্য করে।


8. জীববৈচিত্র্য হ্রাসের চারটি কারণ উল্লেখ করো।

উত্তর: জীববৈচিত্র্য হ্রাস পাওয়ার প্রধান চারটি কারণ হলো:

1. বাসস্থানের ধ্বংস: অরণ্য নিধন, নগরায়ণ, শিল্পায়ন এবং কৃষিজমির সম্প্রসারণের ফলে বন্যপ্রাণীদের স্বাভাবিক বাসস্থান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

2. জলবায়ুর পরিবর্তন: বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে, মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাচ্ছে এবং সমুদ্রের জলতল বাড়ছে। এই পরিবর্তনের সাথে অনেক প্রজাতি মানিয়ে নিতে না পেরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

3. দূষণ: জল, মাটি ও বায়ুদূষণের ফলে বহু সংবেদনশীল উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। যেমন – অ্যাসিড বৃষ্টির ফলে অরণ্য ধ্বংস হয়।

4. চোরাশিকার ও অতিরিক্ত ব্যবহার: মূল্যবান চামড়া, দাঁত, শিং-এর লোভে বেআইনিভাবে বাঘ, হাতি, গন্ডার ইত্যাদি শিকার করার ফলে এদের সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে।


9. সুন্দরবনের পরিবেশগত সমস্যাগুলি সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উত্তর: সুন্দরবনের প্রধান পরিবেশগত সমস্যাগুলি হলো:

1. বিশ্ব উষ্ণায়ন ও দ্বীপভূমির নিমজ্জন: বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রের জলতল প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে সুন্দরবনের বহু দ্বীপ (যেমন – লোহাচরা, নিউ মুর) ইতিমধ্যেই জলের তলায় চলে গেছে এবং আরও অনেক দ্বীপ বিপদের মুখে।

2. লবণাক্ততা বৃদ্ধি: সমুদ্রের জলতল বাড়ার ফলে নদী ও মাটির লবণাক্ততা বাড়ছে। এর ফলে মিষ্টি জলের মাছ মারা যাচ্ছে এবং ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ (যেমন – সুন্দরী গাছ) ‘আগা মরা’ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

3. খাদ্য-খাদক ভারসাম্য নষ্ট: বাঘের সংখ্যা কমে যাওয়া বা চোরাশিকারের ফলে হরিণের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে, যা ম্যানগ্রোভ অরণ্যের ক্ষতি করছে। এইভাবে খাদ্যশৃঙ্খলের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

4. দূষণ: পর্যটকদের ফেলা প্লাস্টিক এবং নদীপথে চলাচলকারী লঞ্চ ও জাহাজ থেকে নির্গত তেল জলকে দূষিত করছে, যা জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের ক্ষতি করছে।


10. অভয়ারণ্য, জাতীয় উদ্যান ও সংরক্ষিত বনের তিনটি পার্থক্য উল্লেখ করো। প্রত্যেকের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ থেকে একটি করে উদাহরণ দাও।

উত্তর:

বৈশিষ্ট্য অভয়ারণ্য (Sanctuary) জাতীয় উদ্যান (National Park) সংরক্ষিত বন (Reserved Forest)
উদ্দেশ্য মূলত একটি নির্দিষ্ট বিপন্ন প্রাণী প্রজাতিকে সংরক্ষণ করা হয়। বাস্তুতন্ত্রের অন্তর্গত সমস্ত উদ্ভিদ, প্রাণী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে সংরক্ষণ করা হয়। বনজ সম্পদ উৎপাদন ও সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট বনভূমিকে রক্ষা করা হয়।
নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় এবং নিয়মকানুন অত্যন্ত কঠোর। রাজ্য সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
প্রবেশাধিকার গবেষণার কাজে বা পর্যটকদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রিতভাবে অনুমোদিত। সাধারণ মানুষের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বা বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষ। স্থানীয় মানুষের প্রবেশ ও সীমিত বনজ সম্পদ আহরণ অনুমোদিত হতে পারে।
উদাহরণ (পশ্চিমবঙ্গ) জলদাপাড়া অভয়ারণ্য সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যান বৈকুণ্ঠপুর সংরক্ষিত বন

11. ভারতের নিম্নলিখিত বিপন্ন প্রজাতিগুলি সংরক্ষণের জন্য কীরূপ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে? প্রোজেক্টগুলি কোথায় অবস্থিত? বাঘ, হরিণ, সিংহ, রেড পান্ডা।

উত্তর:

  • বাঘ:প্রকল্প: টাইগার প্রোজেক্ট (Project Tiger, 1973)

    অবস্থান: সুন্দরবন (পশ্চিমবঙ্গ), করবেট (উত্তরাখণ্ড), কানহা (মধ্যপ্রদেশ) ইত্যাদি।

  • সিংহ: (এশীয় সিংহ)প্রকল্প: গির লায়ন প্রোজেক্ট (Gir Lion Project)

    অবস্থান: গির জাতীয় উদ্যান (গুজরাট)।

  • রেড পান্ডা:প্রকল্প: প্রজেক্ট রেড পান্ডা (Project Red Panda, 1996)

    অবস্থান: সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যান (পশ্চিমবঙ্গ), কাঞ্চনজঙ্ঘা জাতীয় উদ্যান (সিকিম)।

  • হরিণ: (কাশ্মীরি স্ট্যাগ বা হাঙ্গুল)প্রকল্প: প্রজেক্ট হাঙ্গুল (Project Hangul)

    অবস্থান: দাচিগাম জাতীয় উদ্যান (জম্মু ও কাশ্মীর)।


12. ভারতীয় একশৃঙ্গ গণ্ডারের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য দুটি সংরক্ষণ সংক্রান্ত পদক্ষেপ প্রস্তাব করো। মিষ্টি জলের উৎসগুলি কী কী ভাবে দূষিত হয়-তোমার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে মতামত জানাও।

উত্তর:

গন্ডার সংরক্ষণে দুটি পদক্ষেপ:

1. চোরাশিকার বন্ধ করা: গন্ডারের শিং-এর জন্য চোরাশিকার বন্ধ করতে বনভূমি পাহারার (Patrolling) ব্যবস্থা আরও কঠোর করতে হবে এবং আধুনিক প্রযুক্তি (যেমন – ড্রোন, স্যাটেলাইট) ব্যবহার করতে হবে।

2. বাসস্থানের উন্নতি: গন্ডারের বসবাসের উপযুক্ত জলাময় ঘাসভূমি ও অরণ্যের পরিবেশ বজায় রাখা এবং প্রয়োজন হলে অন্য উপযুক্ত বাসস্থানে এদের স্থানান্তর (Translocation) করে নতুন পপুলেশন তৈরি করা।

মিষ্টি জলের উৎস দূষণের কারণ:

আমার অভিজ্ঞতায়, মিষ্টি জলের উৎস (নদী, পুকুর, হ্রদ) নিম্নলিখিতভাবে দূষিত হয়:

1. গৃহস্থালির বর্জ্য: বাড়ির আবর্জনা, প্লাস্টিক, ডিটারজেন্ট মেশা জল সরাসরি পুকুর বা নদীতে ফেলা হয়।

2. কৃষিক্ষেত্রের বর্জ্য: চাষের জমি থেকে ধুয়ে আসা রাসায়নিক সার ও কীটনাশক বৃষ্টির জলের সাথে মিশে নদী ও পুকুরের জলকে দূষিত করে।

3. শিল্পের বর্জ্য: কলকারখানার বহু ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ শোধন না করেই সরাসরি নদীতে ফেলা হয়।

4. অন্যান্য কারণ: পুকুরে গবাদি পশুকে স্নান করানো বা নদীর পাড়ে মলমূত্র ত্যাগের ফলেও জল দূষিত হয়।


13. পরিবেশে এমন একটি গ্যাস আছে যা উদ্ভিদ ও প্রাণী কেউ সরাসরি গ্রহণ করতে পারে না। গ্যাসটির নাম কী? বায়ুতে ওই গ্যাসটির স্বাভাবিক পরিমাণ কত? ওই গ্যাসটির প্রকৃতিতে কীভাবে ভারসাম্য বজায় থাকে তা একটি রেখাচিত্রের সাহায্যে দেখাও।

উত্তর:

  • গ্যাসটির নাম হলো নাইট্রোজেন ($N_2$)।
  • বায়ুতে এর স্বাভাবিক পরিমাণ প্রায় 78% (বা 78.08%)।
  • প্রকৃতিতে নাইট্রোজেনের ভারসাম্য: নাইট্রোজেন চক্রের মাধ্যমে প্রকৃতিতে এর ভারসাম্য বজায় থাকে।
    • নাইট্রোজেন সংবন্ধন: ব্যাকটেরিয়া ও বজ্রপাতের মাধ্যমে বায়ুর $N_2$ মাটিতে মেশে (নাইট্রেট রূপে)।
    • জীবদেহে প্রবেশ: উদ্ভিদ মাটি থেকে নাইট্রেট গ্রহণ করে প্রোটিন তৈরি করে। প্রাণীরা উদ্ভিদকে খেয়ে সেই নাইট্রোজেন পায়।
    • মাটিতে ফেরা: উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃত্যুর পর ব্যাকটেরিয়া (অ্যামোনিফাইং) তাদের দেহকে পচিয়ে অ্যামোনিয়া তৈরি করে, যা পরে নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া দ্বারা পুনরায় নাইট্রেটে পরিণত হয়।
    • বায়ুতে ফেরা (ডিনাইট্রিফিকেশন): ডিনাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া মাটির নাইট্রেটকে ভেঙে মুক্ত $N_2$ গ্যাসে পরিণত করে, যা বায়ুমণ্ডলে ফিরে যায়। এইভাবেই বায়ুতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ স্থির থাকে।

রেখাচিত্র:

[attachment_0](attachment)


14. জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে JFM এবং PBR-এর ভূমিকা লেখো।

উত্তর:

  • JFM (জয়েন্ট ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট) -এর ভূমিকা:JFM বা ‘যৌথ বন পরিচালন ব্যবস্থা’ হলো একটি প্রকল্প যেখানে স্থানীয় গ্রামবাসীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে বন দপ্তর অরণ্য সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের কাজ করে।

    1. অরণ্য সংরক্ষণ: স্থানীয় মানুষ বন পাহারা দেন, ফলে চোরাশিকার ও বেআইনি গাছ কাটা বন্ধ হয়।

    2. সম্পদের ভাগ: এর বিনিময়ে গ্রামবাসীরা বন থেকে শুকনো ডালপালা, মধু, ফলের মতো গৌণ বনজ সম্পদ সংগ্রহ করার অধিকার পান। এতে বনও রক্ষা পায় এবং মানুষের জীবিকাও চলে।

  • PBR (পিপল্স বায়োডাইভারসিটি রেজিস্টার) -এর ভূমিকা:PBR বা ‘জনসাধারণের জীববৈচিত্র্য পঞ্জি’ হলো একটি লিখিত নথি, যেখানে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়।

    1. নথিবদ্ধকরণ: PBR স্থানীয় উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীবের প্রজাতি, তাদের সংখ্যা এবং ব্যবহার (যেমন – ঔষধি গুণ) নথিভুক্ত করে।

    2. জ্ঞান সংরক্ষণ: এটি জীববৈচিত্র্য সম্পর্কিত স্থানীয় মানুষের ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানকে (Traditional Knowledge) স্বীকৃতি দেয় ও ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করে, যা গবেষণার কাজে লাগে।


15. ক্রায়োসংরক্ষণ কাকে বলে? এর বৈশিষ্ট্য কী? এর মাধ্যমে কী সংরক্ষণ করা হয়?

উত্তর:

  • ক্রায়োসংরক্ষণ (Cryopreservation): এটি একটি এক্স-সিটু (Ex-situ) সংরক্ষণ পদ্ধতি, যেখানে অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় (সাধারণত $-196^{\circ}C$ তরল নাইট্রোজেনের মধ্যে) কোষ, কলা বা কোনো অঙ্গকে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করা হয়।
  • বৈশিষ্ট্য: এই পদ্ধতিতে অতি নিম্ন তাপমাত্রায় কোষের সমস্ত জৈবনিক ক্রিয়া (বিপাক) সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে কোষ বা কলাটি বহু বছর অবিকৃত অবস্থায় থাকে এবং পরে সেটিকে পুনরুজ্জীবিত করা যায়।
  • কী সংরক্ষণ করা হয়: এর মাধ্যমে বিপন্ন বা উন্নত মানের উদ্ভিদ ও প্রাণীর শুক্রাণু, ডিম্বাণু, ভ্রূণ, উদ্ভিদের বীজ, পরাগরেণু এবং জিন (DNA) ইত্যাদি সংরক্ষণ করা হয়। একে ‘জিন ব্যাংক’-ও বলে।

16. পশ্চিমঘাট ও শ্রীলঙ্কা ও সুন্দাল্যান্ড হটস্পট সম্বন্ধে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করো।

উত্তর:

  • পশ্চিমঘাট ও শ্রীলঙ্কা: ভারতের পশ্চিম উপকূল বরাবর অবস্থিত পশ্চিমঘাট পর্বতমালা এবং শ্রীলঙ্কা দ্বীপ একত্রে একটি জীববৈচিত্র্য হটস্পট। এটি গভীর অরণ্য ও অসংখ্য নদী দ্বারা সমৃদ্ধ। এখানে বহু এন্ডেমিক (স্থানীয়) প্রজাতি, বিশেষত উভচর প্রাণী ও সপুষ্পক উদ্ভিদ পাওয়া যায়। লায়ন-টেল্ড ম্যাকাও (সিংহলেজি বানর) এখানকার একটি উল্লেখযোগ্য বিপন্ন প্রাণী।
  • সুন্দাল্যান্ড: এই হটস্পটটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত এবং ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এর অন্তর্গত। এটি মূলত ক্রান্তীয় বৃষ্টি অরণ্য ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের জন্য বিখ্যাত। এখানে ওরাংওটান, সুমাত্রান গন্ডার এবং বহু বিরল প্রজাতির পাখি ও উদ্ভিদ দেখা যায়। সমুদ্রতলের উচ্চতা বৃদ্ধি ও অরণ্য ধ্বংস এই অঞ্চলের জীববৈচিত্র্যের প্রধান বিপদ।

17. ‘ভারতবর্ষের বিভিন্ন শহরে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ভূগর্ভস্থ জলের সংকট তৈরি করেছে’- তোমার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বক্তব্যটি যুক্তিসহ সমর্থন করো। মানুষের বসতি বৃদ্ধি কীভাবে সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলছে তার একটি ধারণা মানচিত্র নির্মাণ করো।

উত্তর:

ভূগর্ভস্থ জলের সংকট:

বক্তব্যটি সম্পূর্ণ সত্য। আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, শহরে জনসংখ্যা বাড়ার ফলে ভূগর্ভস্থ জলের সংকট তীব্র হচ্ছে।

  • কারণ ১ (অতিরিক্ত ব্যবহার): শহরে লোকসংখ্যা বেশি হওয়ায় পানীয় জল, রান্না, স্নান এবং অন্যান্য গার্হস্থ্য কাজে প্রচুর জলের প্রয়োজন হয়। এই বিপুল চাহিদা মেটাতে মাটির তলা থেকে অতিরিক্ত জল পাম্প করে তোলা হচ্ছে।
  • কারণ ২ (পুনর্নবীকরণের অভাব): শহরের বেশিরভাগ রাস্তা, বাড়িঘর কংক্রিট দিয়ে বাঁধানো। ফলে বৃষ্টির জল মাটির ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না (Recharge হয় না) এবং ড্রেন দিয়ে সোজা নদীতে চলে যায়।

ফলে, একদিকে জলের ব্যবহার বাড়ছে আর অন্যদিকে জল মাটির তলায় ফিরতে পারছে না। এই দুই কারণে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর দ্রুত নেমে যাচ্ছে এবং সংকট তৈরি হচ্ছে।

সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রে বসতি বৃদ্ধির প্রভাব (ধারণা মানচিত্র):

(মানুষের বসতি বৃদ্ধি) –>

  1. অরণ্য ধ্বংস ও নগরায়ণ
    • –> ম্যানগ্রোভ কেটে বসতি নির্মাণ
    • –> বাঘ ও অন্যান্য প্রাণীর বাসস্থান সংকোচন
    • –> মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাত বৃদ্ধি
  2. দূষণ বৃদ্ধি
    • –> গৃহস্থালির বর্জ্য ও প্লাস্টিক জলে মেশা
    • –> জলজ প্রাণী (মাছ, কাঁকড়া) ও উদ্ভিদের ক্ষতি
  3. কৃষিজমির সম্প্রসারণ
    • –> ম্যানগ্রোভ কেটে চাষের জমি তৈরি
    • –> জমিতে কীটনাশক ও সারের ব্যবহার
    • –> জল দূষণ ও খাদ্যশৃঙ্খলে বিষক্রিয়া
  4. অতিরিক্ত সম্পদ আহরণ
    • –> অতিরিক্ত মাছ, কাঁকড়া ও মধু সংগ্রহ
    • –> প্রাকৃতিক সম্পদের ভারসাম্য নষ্ট

18. পরিবেশগত কী কী কারণে মানুষের ক্যান্সার হতে পারে? বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রের জলতলের উচ্চতা অধিক বৃদ্ধি পেলে সুন্দরবনের মানুষ ও জীববৈচিত্র্যের কী কী সমস্যা হতে পারে?

উত্তর:

ক্যানসারের পরিবেশগত কারণ:

1. বিকিরণ: সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি (UV rays) সরাসরি ত্বকে লাগলে ত্বকের ক্যানসার হতে পারে। এক্স-রে বা তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকেও ক্যানসার হতে পারে।

2. রাসায়নিক পদার্থ: কীটনাশক (DDT), আগাছানাশক, তামাকের ধোঁয়ায় থাকা ‘বেনজোপাইরিন’, কারখানার বর্জ্য (আর্সেনিক, ক্যাডমিয়াম) ইত্যাদি রাসায়নিক পদার্থ (কার্সিনোজেন) শরীরে প্রবেশ করলে ফুসফুস, যকৃৎ বা ত্বকের ক্যানসার হতে পারে।

3. বায়ুদূষণ: বায়ুতে ভাসমান $SPM$ এবং জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে উৎপন্ন বিষাক্ত গ্যাস ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

সমুদ্রের জলতল বৃদ্ধিতে সুন্দরবনের সমস্যা:

1. মানুষের সমস্যা:

বাসস্থান হারানো: দ্বীপগুলি (যেমন – ঘোড়ামারা, সাগর) জলের তলায় চলে যাওয়ায় লক্ষ লক্ষ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়বে।

জীবিকা সংকট: কৃষিজমি লবণাক্ত হয়ে পড়ায় চাষাবাদ অসম্ভব হয়ে পড়বে। মিষ্টি জলের অভাবে পানীয় জলের তীব্র সংকট দেখা দেবে।

2. জীববৈচিত্র্যের সমস্যা:

ম্যানগ্রোভ অরণ্য ধ্বংস: মাটির লবণাক্ততা খুব বেড়ে গেলে সুন্দরী গাছের মতো প্রধান ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদগুলি ‘আগা মরা’ রোগে মারা যাবে, ফলে গোটা অরণ্য ধ্বংস হয়ে যাবে।

বাসস্থান ধ্বংস: বাঘের শিকার করার ও বিশ্রাম নেওয়ার স্থলভূমি (জঙ্গল) কমে যাবে। হরিণের মতো তৃণভোজী প্রাণীর খাদ্যের অভাব দেখা দেবে।

মিষ্টি জলের প্রাণী লোপ: মিষ্টি জলের মাছ, কুমির ইত্যাদি প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাবে।


19. পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জাতীয় উদ্যান ও অভয়ারণ্যগুলির নাম ও তাদের মধ্যে সংরক্ষিত প্রাণীগুলির নাম লিপিবদ্ধ করো।

উত্তর:

১. সুন্দরবন জাতীয় উদ্যান (ব্যাঘ্র প্রকল্প): রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার (বাঘ), চিতল হরিণ, কুমির

২. জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান: একশৃঙ্গ গন্ডার, হাতি

৩. গোরুমারা জাতীয় উদ্যান: একশৃঙ্গ গন্ডার, বাইসন

৪. সিঙ্গলিলা জাতীয় উদ্যান: রেড পান্ডা, হিমালয়ান ব্ল্যাক বিয়ার

৫. বক্সা জাতীয় উদ্যান (ব্যাঘ্র প্রকল্প): বাঘ, হাতি, ক্লাউডেড লেপার্ড

৬. চাপড়ামারি অভয়ারণ্য: হাতি, বাইসন (গাউর)

৭. বেথুয়াডহরি অভয়ারণ্য: চিতল হরিণ, ঘড়িয়াল


20. বিপন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ বা প্রাণীদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে বলে তুমি মনে করো।

উত্তর: বিপন্ন প্রজাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করা যেতে পারে:

1. ইন-সিটু সংরক্ষণ: জাতীয় উদ্যান, অভয়ারণ্য ও বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ তৈরি করে বিপন্ন প্রজাতিদের তাদের নিজস্ব প্রাকৃতিক বাসস্থানে সুরক্ষিত রাখতে হবে।

2. এক্স-সিটু সংরক্ষণ: যে সমস্ত প্রজাতি প্রাকৃতিক পরিবেশে সুরক্ষিত নয়, তাদের চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন বা ক্রায়োসংরক্ষণের (জিন ব্যাংক) মাধ্যমে সংরক্ষণ করতে হবে।

3. আইন প্রণয়ন: চোরাশিকার ও বেআইনি বন্যপ্রাণী ব্যবসা সম্পূর্ণ বন্ধ করার জন্য কঠোর আইন প্রণয়ন ও তার সঠিক প্রয়োগ করতে হবে।

4. জনসচেতনতা বৃদ্ধি: জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে এবং বন সংরক্ষণ প্রকল্পে স্থানীয় মানুষকে যুক্ত করতে হবে (যেমন – JFM)।

5. দূষণ নিয়ন্ত্রণ: পরিবেশ দূষণ কমিয়ে বিপন্ন প্রজাতিদের বসবাসের উপযুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।


21. জীববৈচিত্র্য কী কী কারণে হ্রাস পায়?

উত্তর: জীববৈচিত্র্য হ্রাস পাওয়ার প্রধান কারণগুলি হলো:

1. বাসস্থানের ধ্বংস: অরণ্য নিধন, নগরায়ণ ও শিল্পায়নের ফলে জীবদের প্রাকৃতিক বাসস্থান নষ্ট হয়ে যাওয়া।

2. চোরাশিকার: অতিরিক্ত মুনাফার লোভে বেআইনিভাবে বন্যপ্রাণী (বাঘ, হাতি, গন্ডার) হত্যা করা।

3. দূষণ: জল, মাটি ও বায়ুদূষণের ফলে বহু সংবেদনশীল প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

4. জলবায়ুর পরিবর্তন: বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি, যা অনেক প্রজাতির বেঁচে থাকার পক্ষে অনুপযুক্ত।

5. বহিরাগত প্রজাতির অনুপ্রবেশ: কোনো নতুন পরিবেশে বহিরাগত প্রজাতির (যেমন – পার্থেনিয়াম) আগমনের ফলে স্থানীয় প্রজাতিরা বিলুপ্ত হয়ে যায়।


22. দুটি অঞ্চলের মধ্যে একটি জীববৈচিত্র্য হটস্পট বলে ঘোষণা করতে চাইলে কী কী শর্ত তুমি বিবেচনা করবে?

উত্তর: একটি অঞ্চলকে জীববৈচিত্র্য হটস্পট হিসেবে ঘোষণা করার প্রধান দুটি শর্ত হলো:

1. প্রজাতিগত প্রাচুর্য (Species Richness): ওই অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক প্রজাতির জীব (উদ্ভিদ, প্রাণী ইত্যাদি) থাকতে হবে।

2. এন্ডেমিজম (Endemism): ওই অঞ্চলে কমপক্ষে ১৫০০ টি এন্ডেমিক (Endemic) বা স্থানীয় সপুষ্পক উদ্ভিদ প্রজাতি থাকতে হবে, যাদের পৃথিবীর আর কোথাও পাওয়া যায় না।

3. বিপন্নতা (Threat): মানুষের কার্যকলাপের ফলে ওই অঞ্চলের প্রাথমিক জীববৈচিত্র্যের অন্তত ৭০% ইতিমধ্যেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বা বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে।


23. ‘মানুষের লাগামছাড়া অনেক কাজই পরিবেশ দূষিত করে।’-এর স্বপক্ষে তিনটি উদাহরণ দিয়ে উক্তিটি সমর্থন করো। পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত একটি ন্যাশনাল পার্ক ও একটি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের উদাহরণ দাও।

উত্তর:

উক্তিটি সম্পূর্ণ সঠিক। মানুষের লাগামছাড়া কাজের ফলেই পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এর তিনটি উদাহরণ হলো:

1. জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার: মানুষ কলকারখানা, গাড়ি চালাতে ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে লাগামছাড়াভাবে কয়লা ও পেট্রোলিয়াম পোড়াচ্ছে। এর ফলে বায়ুতে $CO_2$, $SO_2$ -এর মতো বিষাক্ত গ্যাস মিশে বায়ুদূষণ ও বিশ্ব উষ্ণায়ন ঘটাচ্ছে।

2. প্লাস্টিকের যথেচ্ছ ব্যবহার: মানুষ একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক (Single-use plastic) ব্যাপক হারে ব্যবহার করে যত্রতত্র ফেলছে। এই প্লাস্টিক মাটি ও জলে মিশে মাটি দূষণ ও জলদূষণ ঘটাচ্ছে এবং জলজ প্রাণীদের মৃত্যু ঘটাচ্ছে।

3. কৃষিক্ষেত্রে রাসায়নিকের ব্যবহার: অধিক ফসলের লোভে কৃষিজমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। এই রাসায়নিক বৃষ্টির জলে ধুয়ে নদী ও পুকুরে মিশে জল দূষিত করছে (ইউট্রফিকেশন) এবং মাটির উর্বরতাও নষ্ট করছে।

পশ্চিমবঙ্গের একটি ন্যাশনাল পার্ক: জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান।

পশ্চিমবঙ্গের একটি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ: সুন্দরবন।


24. সিংহ সংরক্ষণের জন্য ভারতবর্ষের গির জাতীয় উদ্যানে যে যে ইনসিটু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা উল্লেখ করো।

উত্তর: গুজরাটের গির জাতীয় উদ্যানে এশীয় সিংহ (Asiatic Lion) সংরক্ষণে গৃহীত ইন-সিটু ব্যবস্থাগুলি হলো:

1. বাসস্থানের সুরক্ষা: গির অরণ্যের প্রায় ১৪১২ বর্গ কিমি এলাকাকে জাতীয় উদ্যান ও অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করে সুরক্ষিত করা হয়েছে, যেখানে মানুষের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

2. চোরাশিকার রোধ: বনকর্মীদের দ্বারা নিয়মিত টহলদারি (Patrolling) এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে নজরদারি চালিয়ে চোরাশিকার বন্ধ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

3. খাদ্য ও জলের জোগান: অরণ্যের মধ্যে কৃত্রিম জলাশয় তৈরি করে গ্রীষ্মকালে প্রাণীদের জলের জোগান নিশ্চিত করা হয় এবং তৃণভোজী প্রাণীর (সিংহের শিকার) সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়।

4. চিকিৎসা ও গবেষণা: অসুস্থ বা আহত সিংহদের দ্রুত চিকিৎসা করা হয় এবং তাদের গতিবিধি ও স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের জন্য অনেক সিংহের গলায় রেডিও-কলার (Radio-collar) লাগানো হয়েছে।


25. সুন্দরবনে একটি গবেষণা করতে গিয়ে তুমি নিম্নলিখিত ৩টি সমস্যা শনাক্ত করলে- (i) খাদ্য-খাদক সংখ্যার ভারস্যের ব্যাঘাত, (ii) নগরায়ণের জন্য লবণাম্বু উদ্ভিদ ধ্বংস, (iii) উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে দ্বীপভূমির নিমজ্জন। জীববৈচিত্র্যের ওপর এদের প্রভাব কী কী হতে পারে তা বিশ্লেষণ করো।

উত্তর:

(i) খাদ্য-খাদক সংখ্যার ভারসাম্যের ব্যাঘাত: এর প্রভাবে সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র ভেঙে পড়বে। উদাহরণস্বরূপ, যদি চোরাশিকারের ফলে বাঘ (খাদক) কমে যায়, তবে হরিণের (খাদ্য) সংখ্যা অত্যধিক বেড়ে যাবে। এই অতিরিক্ত হরিণ ম্যানগ্রোভ গাছের চারা খেয়ে ফেলবে, ফলে অরণ্য ধ্বংস হয়ে যাবে।

(ii) নগরায়ণের জন্য লবণাম্বু উদ্ভিদ (ম্যানগ্রোভ) ধ্বংস: ম্যানগ্রোভ অরণ্য হলো সুন্দরবনের ভিত্তি। এই উদ্ভিদ ধ্বংস হলে:

1. বাঘ, হরিণ, পাখি ইত্যাদি প্রাণীর বাসস্থান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে।

2. ম্যানগ্রোভের শিকড়ে মাছ, কাঁকড়ারা আশ্রয় নেয় ও প্রজনন করে। গাছ কাটা হলে তাদের সংখ্যা কমে যাবে।

3. ম্যানগ্রোভ গাছ ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে দ্বীপগুলিকে রক্ষা করে। এই গাছ না থাকলে দ্বীপগুলি দ্রুত ধ্বংস হয়ে যাবে।

(iii) উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে দ্বীপভূমির নিমজ্জন: বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রের জলতল বেড়ে দ্বীপগুলি ডুবে গেলে সমগ্র জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাবে। স্থলভূমি না থাকায় বাঘ বা হরিণের মতো স্থলচর প্রাণীরা বাঁচতে পারবে না। মাটির লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় মিষ্টি জলের প্রাণী ও উদ্ভিদ বিলুপ্ত হয়ে যাবে।


26. পূর্ব হিমালয়ের পাদদেশে জলাময় ঘাসভূমিতেই শুধু পাওয়া যায় এরকম একটি বিলুপ্তপ্রায় স্তন্যপায়ীর সংখ্যাবৃদ্ধি করার জন্য কী কী সংরক্ষণ প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়েছে তার সংক্ষিপ্তসার লেখো। নদীর বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব আলোচনা করো।

উত্তর:

(প্রশ্নটি সম্ভবত ‘একশৃঙ্গ গন্ডার’-এর কথা বলা হয়েছে, যা পশ্চিমবঙ্গের জলদাপাড়ার সাথে প্রাসঙ্গিক।)

একশৃঙ্গ গন্ডার সংরক্ষণের প্রচেষ্টা:

1. ইন-সিটু সংরক্ষণ: আসামের কাজিরাঙা, পশ্চিমবঙ্গের জলদাপাড়া ও গোরুমারা জাতীয় উদ্যানকে গন্ডারের নিরাপদ বাসস্থান হিসেবে সুরক্ষিত করা হয়েছে।

2. চোরাশিকার দমন: এই উদ্যানগুলিতে সশস্ত্র বনরক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে এবং ২৪ ঘন্টা নজরদারির মাধ্যমে চোরাশিকার কঠোরভাবে দমন করা হয়েছে।

3. স্থানান্তরকরণ (Translocation): কাজিরাঙার মতো ঘনবসতিপূর্ণ অরণ্য থেকে গন্ডারদের এনে মানস বা ডিব্রু-সাইখোয়া-এর মতো নতুন সুরক্ষিত অরণ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে তাদের নতুন প্রজাতি গোষ্ঠী (Population) তৈরি হতে পারে।

4. প্রজনন ও স্বাস্থ্য: বন্দী অবস্থায় বা অরণ্যে তাদের প্রজনন ও স্বাস্থ্যের ওপর নজর রাখা হয়, যাতে গন্ডারের সংখ্যা স্বাভাবিক হারে বাড়তে পারে।

নদীর বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব:

নদীর বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য সম্পূর্ণভাবে জীববৈচিত্র্যের ওপর নির্ভরশীল।

1. জল শোধন: নদীতে থাকা বিভিন্ন অণুজীব (ব্যাকটেরিয়া) এবং জলজ উদ্ভিদ (শ্যাওলা, কচুরিপানা) জলের বর্জ্য পদার্থগুলিকে ভেঙে ফেলে বা শোষণ করে জলকে প্রাকৃতিকভাবে পরিশুদ্ধ রাখে।

2. খাদ্যশৃঙ্খল বজায় রাখা: নদীর জলে উদ্ভিদ-প্ল্যাঙ্কটন থাকে, যাদের ছোট মাছ খায়। সেই ছোট মাছকে বড় মাছ খায়, এবং বড় মাছকে খায় মাছরাঙা বা বকের মতো পাখি। এই খাদ্যশৃঙ্খল নদীর বাস্তুতন্ত্রকে সচল রাখে।

3. বন্যা নিয়ন্ত্রণ: নদীর তীরে থাকা গাছপালা ও ঘাস মাটিকে শক্ত করে ধরে রাখে, যা পাড়ের ভাঙন রোধ করে এবং বন্যার তীব্রতা কমাতে সাহায্য করে।


Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার