দশম শ্রেণী জীবন বিজ্ঞান: অধ্যায় – ২ জীবনের প্রবাহমানতা
বিভাগ-ঘ: দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন ও বিস্তারিত সমাধান
বিষয়: জীবন বিজ্ঞান | অধ্যায়: জীবনের প্রবাহমানতা | প্রশ্ন সংখ্যা: ১-৪২ | পূর্ণমান: ৫
১. ইউক্যারিওটিক ক্রোমোজোমের রাসায়নিক উপাদানগুলি ছকের সাহায্যে বর্ণনা করো। (৫) [মাধ্যমিক ২০১৭]
✅ বিস্তারিত উত্তর:
ক্রোমোজোম প্রধানত তিনটি রাসায়নিক উপাদান দিয়ে গঠিত:
১) নিউক্লিক অ্যাসিড (Nucleic Acid): ক্রোমোজোমে প্রায় ৯০% নিউক্লিক অ্যাসিড থাকে। এটি দুই প্রকার—
ক) DNA (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড): এটি বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন করে (প্রায় ৪৫%)।
খ) RNA (রাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড): এটি প্রোটিন সংশ্লেষে সাহায্য করে (১.২ – ১.৪%)।
২) প্রোটিন (Protein): এটি দুই প্রকার—
ক) হিস্টোন বা ক্ষারীয় প্রোটিন (৫৫%): এতে আরজিনিন, হিস্টিডিন ও লাইসিন অ্যামাইনো অ্যাসিড বেশি থাকে।
খ) নন-হিস্টোন বা আম্লিক প্রোটিন (৫%): এতে ট্রিপটোফ্যান ও টাইরোসিন অ্যামাইনো অ্যাসিড বেশি থাকে।
৩) ধাতব আয়ন (Metallic Ions): ক্রোমোজোমের গঠন ঠিক রাখতে ক্যালসিয়াম ($Ca^{2+}$), ম্যাগনেসিয়াম ($Mg^{2+}$) ও আয়রন ($Fe^{2+}$) আয়ন সাহায্য করে।
২. একটি ইউক্যারিওটিক ক্রোমোজোমের অঙ্গসংস্থানিক গঠনের চিত্র অঙ্কন করে নিম্নলিখিত অংশগুলি চিহ্নিত করো: (ক) ক্রোমাটিড, (খ) সেন্ট্রোমিয়ার, (গ) নিউক্লিওলার অরগানাইজার, (ঘ) টেলোমিয়ার। (৩+২=৫) [মাধ্যমিক ২০১৮]
✅ উত্তর:
(এটি চিত্রাঙ্কন ভিত্তিক প্রশ্ন। ছাত্রছাত্রীদের পেন্সিল দিয়ে পরিচ্ছন্ন চিত্র আঁকতে হবে।)
[attachment_0](attachment)
চিহ্নিতকরণ নির্দেশিকা:
– ক্রোমাটিড: ক্রোমোজোমের লম্বালম্বি দুটি সূত্রাকার অংশ।
– সেন্ট্রোমিয়ার: মুখ্য খাঁজ, যেখানে দুটি ক্রোমাটিড যুক্ত থাকে।
– নিউক্লিওলার অরগানাইজার (NOR): গৌণ খাঁজ, যা নিউক্লিওলাস তৈরি করে।
– টেলোমিয়ার: ক্রোমোজোমের দুই প্রান্তীয় অংশ।
৩. DNA অণুর গঠন (ওয়াটসন ও ক্রিক মডেল) সংক্ষেপে বর্ণনা করো। RNA-এর সাথে এর দুটি গঠনগত পার্থক্য লেখো। (৩+২)
✅ বিস্তারিত উত্তর:
DNA-এর গঠন:
১) DNA হলো একটি দ্বিতন্ত্রী, প্যাঁচানো সিঁড়ির মতো অণু (Double Helix)।
২) এর দুটি তন্তু ডি-অক্সিরাইবোজ শর্করা এবং ফসফেট দ্বারা গঠিত মেরুদণ্ড দিয়ে তৈরি।
৩) সিঁড়ির ধাপগুলো নাইট্রোজেন ক্ষারক (A, T, G, C) দিয়ে তৈরি। অ্যাডেনিন সর্বদা থাইমিনের সাথে (A=T) দুটি হাইড্রোজেন বন্ড এবং গুয়ানিন সাইটোসিনের সাথে (G≡C) তিনটি হাইড্রোজেন বন্ড দ্বারা যুক্ত থাকে।
[attachment_1](attachment)
পার্থক্য:
১) DNA দ্বিতন্ত্রী, কিন্তু RNA সাধারণত একতন্ত্রী।
২) DNA-তে থাইমিন ($T$) থাকে, কিন্তু RNA-তে থাইমিনের পরিবর্তে ইউরাসিল ($U$) থাকে।
৪. সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুযায়ী ক্রোমোজোমের শ্রেণিবিন্যাস চিত্রসহ আলোচনা করো। (৫)
✅ উত্তর:
সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুযায়ী ক্রোমোজোম চার প্রকার:
১) মেটাসেন্ট্রিক (Metacentric): সেন্ট্রোমিয়ার ঠিক মাঝখানে থাকে। আকৃতি: ইংরেজি ‘V’-এর মতো।
২) সাব-মেটাসেন্ট্রিক (Sub-metacentric): সেন্ট্রোমিয়ার মাঝখান থেকে একটু সরে থাকে। আকৃতি: ইংরেজি ‘L’-এর মতো।
৩) অ্যাক্রোসেন্ট্রিক (Acrocentric): সেন্ট্রোমিয়ার প্রায় প্রান্তের দিকে থাকে। আকৃতি: ইংরেজি ‘J’-এর মতো।
৪) টেলোসেন্ট্রিক (Telocentric): সেন্ট্রোমিয়ার একদম প্রান্তে থাকে। আকৃতি: ইংরেজি ‘I’-এর মতো।
[attachment_2](attachment)
৫. প্রাণীকোষের মাইটোসিস বিভাজনের মেটাফেজ ও অ্যানাফেজ দশার তিনটি করে বৈশিষ্ট্য চিত্রসহ লেখো। (২.৫ + ২.৫) [মাধ্যমিক ২০১৯]
✅ উত্তর:
মেটাফেজ দশা:
১) ক্রোমোজোমগুলি কোষের বিষুব অঞ্চলে বা নিরক্ষীয় তলে সজ্জিত হয়।
২) স্পিন্ডল ফাইবার বা বেমতন্তু গঠিত হয় এবং ক্রোমোজোমের কাইনেটোকোরের সাথে যুক্ত হয়।
৩) ক্রোমোজোমগুলি সর্বাধিক কুণ্ডলীকৃত, মোটা ও স্পষ্ট হয়।
[attachment_3](attachment)
অ্যানাফেজ দশা:
১) সেন্ট্রোমিয়ার দুভাগে বিভক্ত হয়ে যায় এবং ক্রোমাটিডগুলি আলাদা হয়ে অপত্য ক্রোমোজোম গঠন করে।
২) অপত্য ক্রোমোজোমগুলি বেমতন্তুর সংকোচনের ফলে বিপরীত মেরুর দিকে গমন করে (অ্যানাফেজীয় চলন)।
৩) ক্রোমোজোমগুলিকে V, L, J বা I আকৃতির দেখায়।
[attachment_4](attachment)
৬. উদ্ভিদ ও প্রাণী কোষের সাইটোকাইনেসিস পদ্ধতির পার্থক্য চিত্রসহ লেখো। সাইটোকাইনেসিস না হলে কী ঘটবে? (৩+২)
✅ উত্তর:
পার্থক্য:
১) উদ্ভিদ কোষ: টেলোফেজ দশায় কোষের মাঝখানে ফ্র্যাগমোপ্লাস্ট জমা হয়ে ‘কোষপাত’ (Cell plate) গঠিত হয়, যা পরে কোষপ্রাচীরে পরিণত হয়ে কোষকে দুভাগে ভাগ করে।
২) প্রাণী কোষ: কোষপর্দা দুই পাশ থেকে ভেতরের দিকে ভাঁজ হয়ে বা ‘ক্লিভেজ’ (Cleavage) পদ্ধতিতে গভীর হয় এবং মাঝখানে মিলিত হয়ে কোষকে বিচ্ছিন্ন করে।
[attachment_5](attachment)
সাইটোকাইনেসিস না হলে:
নিউক্লিয়াস বিভাজনের (ক্যারিওকাইনেসিস) পর সাইটোকাইনেসিস না হলে একটি কোষের মধ্যেই বহু নিউক্লিয়াস সৃষ্টি হবে। উদ্ভিদ কোষে একে সিনোসাইট এবং প্রাণী কোষে সিনসাইটিয়াম বলে।
৭. মাইটোসিসকে সমবিভাজন বলা হয় কেন? জীবদেহে মাইটোসিসের গুরুত্ব (তিনটি) লেখো। (২+৩)
✅ উত্তর:
সমবিভাজন বলার কারণ: মাইটোসিস বিভাজনে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম একবার বিভাজিত হয়ে সমআকৃতি, সমগুণ ও সমসংখ্যক ক্রোমোজোম বিশিষ্ট দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে। অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের সমান থাকে বলে একে সমবিভাজন বলে।
গুরুত্ব:
১) দৈহিক বৃদ্ধি: বহুকোষী জীবের দেহকোষের সংখ্যা বাড়িয়ে বৃদ্ধি ঘটায়।
২) ক্ষয়পূরণ: ক্ষতস্থান নিরাময় এবং পুরনো কোষের প্রতিস্থাপন করে।
৩) প্রজনন: এককোষী জীবের বংশবিস্তার এবং উদ্ভিদের অঙ্গজ জননে সাহায্য করে।
৮. মিয়োসিস কোষ বিভাজনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো। একে হ্রাস বিভাজন বলা হয় কেন? (৩+২)
✅ উত্তর:
বৈশিষ্ট্য:
১) এটি জনন মাতৃকোষে ঘটে।
২) নিউক্লিয়াস দুবার কিন্তু ক্রোমোজোম একবার বিভাজিত হয়।
৩) একটি মাতৃকোষ থেকে ৪টি অপত্য কোষ সৃষ্টি হয়।
৪) সমসংস্থ ক্রোমোজোমের মধ্যে ক্রসিং ওভার ঘটে।
হ্রাস বিভাজন বলার কারণ: মিয়োসিস বিভাজনে উৎপন্ন অপত্য কোষ বা গ্যামেটের ক্রোমোজোম সংখ্যা ($n$) মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার ($2n$) অর্ধেক হয়ে যায়। ক্রোমোজোম সংখ্যা হ্রাস পায় বলেই একে হ্রাস বিভাজন বলে।
৯. কোষচক্র (Cell Cycle) কাকে বলে? কোষচক্রের ইন্টারফেজ দশার বিভিন্ন উপদশাগুলির ($G_1, S, G_2$) গুরুত্ব লেখো। (২+৩) [মাধ্যমিক ২০২০]
✅ উত্তর:
সংজ্ঞা: একটি কোষের বিভাজন এবং বৃদ্ধি ও পরবর্তী বিভাজনের মধ্যবর্তী সময়ে যে চক্রাকার ধারাবাহিক ঘটনাগুলি ঘটে, তাকে কোষচক্র বলে।
ইন্টারফেজের গুরুত্ব:
১) $G_1$ দশা: কোষের বৃদ্ধি ঘটে, বিভিন্ন RNA ও প্রোটিন তৈরি হয়।
২) $S$ দশা (সংশ্লেষ দশা): DNA-এর প্রতিলিপিকরণ বা দ্বিত্বকরণ ঘটে এবং হিস্টোন প্রোটিন তৈরি হয়।
৩) $G_2$ দশা: কোষ বিভাজনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি (ATP) ও বেমতন্তু গঠনের উপাদান তৈরি হয়।
১০. ক্রসিং ওভার (Crossing Over) কাকে বলে? এটি কখন ঘটে? এর দুটি গুরুত্ব লেখো। (২+১+২)
✅ উত্তর:
সংজ্ঞা: মিয়োসিস-১ বিভাজনের সময় সমসংস্থ ক্রোমোজোম জোড়ের দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে দেহাংশের বিনিময় ঘটার পদ্ধতিকে ক্রসিং ওভার বলে।
সময়: এটি মিয়োসিস-১ এর প্রোফেজ-১ দশার প্যাকাইটিন উপদশায় ঘটে।
গুরুত্ব: ১) এর ফলে জিনের পুনর্বিন্যাস (Recombination) ঘটে।
২) নতুন বৈশিষ্ট্যযুক্ত অপত্য জীব সৃষ্টি হয় যা বিবর্তনে সাহায্য করে।
[attachment_6](attachment)
১১. ইউক্রোমাটিন ও হেটারোক্রোমাটিনের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো। জিনের প্রধান কাজ কী? (৩+২)
✅ উত্তর:
পার্থক্য:
| বৈশিষ্ট্য | ইউক্রোমাটিন | হেটারোক্রোমাটিন |
|---|---|---|
| ১. কুণ্ডলী | ইন্টারফেজ দশায় কম কুণ্ডলীকৃত থাকে। | বেশি কুণ্ডলীকৃত ও ঘন থাকে। |
| ২. সক্রিয়তা | এতে সক্রিয় জিন থাকে এবং প্রোটিন সংশ্লেষে অংশ নেয়। | এতে নিষ্ক্রিয় জিন থাকে। |
| ৩. রঞ্জক | হালকা রং ধারণ করে। | গাঢ় রং ধারণ করে। |
জিনের কাজ: জিন হলো বংশগতির একক। এটি প্রোটিন সংশ্লেষের সংকেত বহন করে এবং পিতামাতার বৈশিষ্ট্য সন্তানসন্ততির দেহে সঞ্চারিত করে।
১২. অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন কাকে বলে? এটি কাদের দেখা যায়? মাইটোসিসের প্রোফেজ দশার তিনটি পরিবর্তন উল্লেখ করো। (২+১+২)
✅ উত্তর:
অ্যামাইটোসিস: যে সরল কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় বেমতন্তু গঠন ছাড়াই নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম সরাসরি মাঝ বরাবর সংকুচিত হয়ে বিভাজিত হয়, তাকে অ্যামাইটোসিস বা প্রত্যক্ষ বিভাজন বলে। (উদাহরণ: অ্যামিবা, ব্যাকটেরিয়া, ইস্ট)।
প্রোফেজ দশার পরিবর্তন:
১) ক্রোমাটিন জালিকা ঘনীভূত হয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম গঠন করে।
২) নিউক্লিওলাস ও নিউক্লীয় পর্দা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হতে শুরু করে।
৩) সেন্ট্রোজোম দুভাগে বিভক্ত হয়ে দুই মেরুর দিকে সরে যেতে থাকে (প্রাণীকোষে)।
[attachment_7](attachment)
১৩. মিয়োসিস কোষ বিভাজনের তাৎপর্য বা গুরুত্ব লেখো। (৫)
✅ উত্তর:
১) ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক রাখা: মিয়োসিসে জনন কোষ তৈরির সময় ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক ($n$) হয়। ফলে নিষেকের পর জাইগোটে পুনরায় ডিপ্লয়েড ($2n$) সংখ্যা ফিরে আসে। এতে প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা বংশপরম্পরায় ধ্রুবক থাকে।
২) জিনগত বৈচিত্র্য: ক্রসিং ওভারের ফলে জিনের আদান-প্রদান ঘটে, যা জীবের মধ্যে নতুন বৈশিষ্ট্যের বা প্রকরণের (Variation) উদ্ভব ঘটায়।
৩) বিবর্তন: মিউটেশন ও প্রকরণের মাধ্যমে মিয়োসিস বিবর্তনে সাহায্য করে।
৪) জনুক্রম রক্ষা: উদ্ভিদের জীবনচক্রে রেণুধর ও লিঙ্গধর দশার আবর্তনে মিয়োসিস সাহায্য করে।
১৪. একটি কোষে ১২০টি ক্রোমোজোম আছে। মাইটোসিস, মিয়োসিস এবং অ্যামাইটোসিস বিভাজনের পর অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা কত হবে? স্বপরাগযোগ ও ইতর পরাগযোগের একটি করে সুবিধা লেখো। (৩+২)
✅ উত্তর:
ক্রোমোজোম সংখ্যা:
১) মাইটোসিস (সমবিভাজন): ১২০টি (মাতৃকোষের সমান)।
২) মিয়োসিস (হ্রাস বিভাজন): ৬০টি (অর্ধেক)।
৩) অ্যামাইটোসিস: ক্রোমোজোম সুনির্দিষ্ট হয় না, তবে ডিএনএ ভাগ হয়। সাধারণত এটি নিম্নশ্রেণিতে হয়।
সুবিধা:
১) স্বপরাগযোগ: পরাগরেণুর অপচয় কম হয় এবং প্রজাতির বিশুদ্ধতা বজায় থাকে।
২) ইতর পরাগযোগ: উন্নত ও নতুন বৈশিষ্ট্যযুক্ত উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়, যাদের অভিযোজন ক্ষমতা বেশি।
১৫. কোষ চক্রের নিয়ন্ত্রণ বিন্দু বা চেক পয়েন্ট (Checkpoints) বলতে কী বোঝো? ক্যান্সার কোষের বৈশিষ্ট্য কী? (২+৩)
✅ উত্তর:
চেক পয়েন্ট: কোষ চক্রের কিছু নির্দিষ্ট বিন্দুতে কোষের অভ্যন্তরীণ অবস্থা যাচাই করা হয় এবং পরবর্তী দশায় যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এদের চেক পয়েন্ট বলে (যেমন $G_1-S$, $G_2-M$)। যদি DNA ক্ষতিগ্রস্ত থাকে তবে চেক পয়েন্ট কোষ বিভাজন থামিয়ে দেয়।
ক্যান্সার কোষের বৈশিষ্ট্য:
১) চেক পয়েন্টগুলি কাজ করে না, ফলে কোষ অনিয়ন্ত্রিতভাবে ও দ্রুত বিভাজিত হয়।
২) কোষগুলি নির্দিষ্ট কাজ করার ক্ষমতা হারায় এবং পিণ্ড বা টিউমার সৃষ্টি করে।
৩) এই কোষগুলি রক্ত বা লসিকার মাধ্যমে দেহের অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ে (মেটাস্্যাসিস)।
১৬. “মাইটোসিস কোষ বিভাজন না হলে জীবের বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ সম্ভব হতো না”—উক্তিটি বিশ্লেষণ করো। উদ্ভিদ কোষে বেমতন্তু কীভাবে গঠিত হয়? (৩+২)
✅ উত্তর:
বিশ্লেষণ: বহুকোষী জীব একটিমাত্র জাইগোট থেকে সৃষ্টি হয়। মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে জাইগোট বারবার বিভাজিত হয়ে কোটি কোটি কোষ সৃষ্টি করে দেহের বৃদ্ধি ঘটায়। আবার কোনো অঙ্গ কেটে গেলে বা পুরনো কোষ মারা গেলে, মাইটোসিসের মাধ্যমে নতুন কোষ তৈরি হয়ে সেই স্থান পূরণ করে। তাই উক্তিটি যথার্থ।
বেমতন্তু গঠন: উদ্ভিদ কোষে সেন্ট্রোজোম থাকে না। সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত ‘মাইক্রোটিউবিউল’ (Microtubules) নামক প্রোটিন তন্তুগুলি একত্রিত হয়ে বেমতন্তু গঠন করে।
১৭. নিউক্লিয়াসের বিভাজন (Karyokinesis) ও সাইটোপ্লাজমের বিভাজন (Cytokinesis)-এর সম্পর্ক লেখো। ক্যারিওকাইনেসিস হলেও সাইটোকাইনেসিস না হলে কী হবে? (৩+২)
✅ উত্তর:
স্বাভাবিক কোষ বিভাজনে ক্যারিওকাইনেসিস শেষ হওয়ার পরপরই সাইটোকাইনেসিস শুরু হয়। ক্যারিওকাইনেসিসে দুটি অপত্য নিউক্লিয়াস তৈরি হয় এবং সাইটোকাইনেসিসে সেই দুটি নিউক্লিয়াসকে ঘিরে সাইটোপ্লাজম ভাগ হয়ে দুটি সম্পূর্ণ কোষ তৈরি করে।
ফলাফল: যদি ক্যারিওকাইনেসিসের পর সাইটোকাইনেসিস না হয়, তবে কোষটি বিভাজিত হবে না। পরিবর্তে একটি কোষের মধ্যেই একাধিক নিউক্লিয়াস জমা হবে। এই অবস্থাকে উদ্ভিদে সিনোসাইট এবং প্রাণীতে সিনসাইটিয়াম বলে।
১৮. প্রফেজ ও টেলোফেজ দশা পরস্পর বিপরীতধর্মী—যুক্তিসহ ব্যাখ্যা করো। (৫)
✅ উত্তর:
প্রোফেজ এবং টেলোফেজ দশায় ঘটা পরিবর্তনগুলি একে অপরের ঠিক উল্টো। যেমন:
| ঘটনা | প্রোফেজ (শুরুর দশা) | টেলোফেজ (শেষ দশা) |
|---|---|---|
| জল বিয়োজন/সংযোজন | জল বিয়োজিত হয়ে ক্রোমাটিন ঘন ও স্পষ্ট হয়। | জল শোষিত হয়ে ক্রোমোজোম সরু ও অস্পষ্ট হয়। |
| নিউক্লীয় পর্দা | ধীরে ধীরে অবলুপ্ত হয়। | পুনরায় গঠিত হয়। |
| বেমতন্তু | গঠিত হতে শুরু করে। | অবলুপ্ত হয়ে যায়। |
| ক্রোমোজোম | কুণ্ডলীকৃত হতে থাকে। | কুণ্ডলী খুলে জালিকাকার হয়। |
তাই এদের বিপরীতধর্মী বলা হয়।
১৯. DNA-এর রাসায়নিক গঠন সংক্ষেপে বর্ণনা করো। নিউক্লিওসাইড ও নিউক্লিওটাইডের পার্থক্য কী? (৩+২)
✅ উত্তর:
DNA গঠন: DNA একটি পলিনিউক্লিওটাইড শৃঙ্খল। প্রতিটি নিউক্লিওটাইড তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত:
১) পাঁচ কার্বনযুক্ত ডি-অক্সিরাইবোজ শর্করা।
২) নাইট্রোজেন ক্ষারক (পিউরিন: A, G এবং পিরিমিডিন: T, C)।
৩) ফসফরিক অ্যাসিড।
পার্থক্য:
১) নিউক্লিওসাইড = নাইট্রোজেন ক্ষারক + পেন্টোজ শর্করা।
২) নিউক্লিওটাইড = নিউক্লিওসাইড + ফসফেট গ্রুপ। (অর্থাৎ নিউক্লিওটাইডে ফসফেট থাকে, নিউক্লিওসাইডে থাকে না)।
২০. মানবদেহে লিঙ্গ নির্ধারণে পিতার ভূমিকা প্রধান—উক্তিটি চেকার বোর্ডের সাহায্যে ব্যাখ্যা করো। (৫) [মাধ্যমিক ২০১৮]
✅ উত্তর:
নারীদের সেক্স ক্রোমোজোম হলো XX (হোমোগ্যামেটিক) এবং পুরুষদের হলো XY (হেটারোগ্যামেটিক)।
মাতা কেবল এক প্রকার ডিম্বাণু (A+X) তৈরি করেন। কিন্তু পিতা দুই প্রকার শুক্রাণু তৈরি করেন: (A+X) এবং (A+Y)।
যদি পিতার X-যুক্ত শুক্রাণু ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে, তবে কন্যা সন্তান (XX) হয়। আর যদি Y-যুক্ত শুক্রাণু নিষিক্ত করে, তবে পুত্র সন্তান (XY) হয়।
যেহেতু সন্তান ছেলে হবে না মেয়ে, তা নির্ভর করে পিতার কোন শুক্রাণু ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করছে তার ওপর, তাই লিঙ্গ নির্ধারণে পিতার ভূমিকাই প্রধান।
২১. ক্রোমোজোমের রাসায়নিক উপাদান হিসেবে হিস্টোন ও নন-হিস্টোন প্রোটিনের ভূমিকা লেখো। সেন্ট্রোমিয়ারের কাজ কী? (৩+২)
✅ উত্তর:
প্রোটিনের ভূমিকা:
১) হিস্টোন: এটি ক্ষারীয় প্রোটিন যা DNA-কে পেঁচিয়ে নিউক্লিওজোম গঠন করে এবং ক্রোমোজোমের গঠন সুদৃঢ় করে।
২) নন-হিস্টোন: এটি আম্লিক প্রোটিন যা ক্রোমোজোমের ভারা বা কাঠামো গঠনে এবং জিনের কাজ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
সেন্ট্রোমিয়ারের কাজ: ১) ক্রোমোজোমের দুটি ক্রোমাটিডকে আটকে রাখে। ২) কোষ বিভাজনের সময় বেমতন্তুর সাথে ক্রোমোজোমকে যুক্ত করে (কাইনেটোকোরের মাধ্যমে) এবং মেরুর দিকে চলনে সাহায্য করে।
২২. অযৌন জনন কাকে বলে? বিভিন্ন প্রকার অযৌন জনন পদ্ধতি (বিভাজন, কোরকোদগম, খণ্ডীভবন, রেণু উৎপাদন, পুনুরুৎপাদন) উদাহরণসহ আলোচনা করো। (১+৪) [মাধ্যমিক ২০১৯]
✅ উত্তর:
অযৌন জনন: গ্যামেট উৎপাদন ও মিলন ছাড়াই কেবল দেহকোষ বিভাজিত হয়ে বা রেণু তৈরির মাধ্যমে জনিতৃ জীব থেকে অপত্য জীব সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে অযৌন জনন বলে।
পদ্ধতিসমূহ:
১) বিভাজন (Fission): মাতৃদেহ বিভাজিত হয়ে দুই বা ততোধিক অপত্য সৃষ্টি করে। (উদাহরন: অ্যামিবা – দ্বিবিভাজন, প্লাসমোডিয়াম – বহুবিভাজন)।
২) কোরকোদগম (Budding): মাতৃদেহে উপবৃদ্ধি বা কোরক সৃষ্টি হয় যা পরে বিচ্ছিন্ন হয়ে নতুন জীব হয়। (উদাহরন: হাইড্রা, ইস্ট)।
৩) খণ্ডীভবন (Fragmentation): আঘাতজনিত কারণে দেহ খণ্ড বিখণ্ড হলে প্রতিটি খণ্ড থেকে নতুন জীব হয়। (উদাহরন: স্পাইরোগাইরা)।
৪) রেণু উৎপাদন (Sporulation): রেণুস্থলি থেকে রেণু নির্গত হয়ে নতুন উদ্ভিদ জন্মায়। (উদাহরন: মিউকর, মস, ফার্ন)।
৫) পুনুরুৎপাদন (Regeneration): দেহের কোনো কাটা অংশ থেকে কোষ বিভাজনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ জীব গঠিত হয়। (উদাহরন: প্ল্যানেরিয়া)।
২৩. কৃত্রিম অঙ্গজ জনন বা কলম (Grafting) কাকে বলে? শাখা কলম ও জোড় কলম পদ্ধতি সংক্ষেপে লেখো। (১+২+২)
✅ উত্তর:
মানুষের প্রচেষ্টায় উদ্ভিদের কোনো বিচ্ছিন্ন দেহাংশ থেকে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টির পদ্ধতিকে কৃত্রিম অঙ্গজ জনন বা কলম বলে।
১) শাখা কলম (Cutting): কাণ্ড বা ডালের কাটা অংশকে মাটিতে পুঁতে নিয়মিত জল দিলে বা কৃত্রিম অক্সিন (IBA, NAA) প্রয়োগ করলে অস্থানিক মূল গজায় এবং নতুন চারাগাছ হয়। (যেমন- জবা, গোলাপ, লেবু)।
২) জোড় কলম (Grafting): একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ডালকে জুড়ে দিয়ে একটি উদ্ভিদে পরিণত করার পদ্ধতি। যে গাছটির মূল মাটিতে থাকে তাকে স্টক (Stock) এবং যে উন্নত ডালটি জোড়া হয় তাকে সিয়ন (Scion) বলে। (যেমন- আম, পেয়ারা)।
২৪. মাইক্রোপ্রোপাগেশন বা অণুবিস্তারণ কী? এই পদ্ধতির ধাপগুলি এবং সুবিধা লেখো। (২+৩) [মাধ্যমিক ২০১৮]
✅ উত্তর:
সংজ্ঞা: উদ্ভিদের কোনো ক্ষুদ্র অংশ বা কলা (এক্সপ্ল্যান্ট) নিয়ে পরীক্ষাগারে কৃত্রিম পুষ্টি মাধ্যমে (Tissue Culture) কর্ষণ করে দ্রুত প্রচুর সংখ্যক চারাগাছ উৎপাদনের পদ্ধতিকে মাইক্রোপ্রোপাগেশন বলে।
ধাপসমূহ:
১) এক্সপ্ল্যান্ট নির্বাচন ও জীবাণুমুক্তকরণ।
২) পুষ্টি মাধ্যমে এক্সপ্ল্যান্টের বৃদ্ধি ও কেলাস (Callus) গঠন।
৩) কেলাসে হরমোন প্রয়োগ করে এমব্রিয়য়েড (Embryoid) গঠন।
৪) এমব্রিয়য়েড থেকে ক্ষুদ্র চারাগাছ বা প্ল্যান্টলেট (Plantlet) সৃষ্টি।
সুবিধা: রোগমুক্ত চারাগাছ উৎপাদন এবং লুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ সংরক্ষণ।
২৫. সপুষ্পক উদ্ভিদের দ্বিনিষেক প্রক্রিয়াটি চিত্রসহ বর্ণনা করো। এর গুরুত্ব কী? (৪+১)
✅ উত্তর:
পরাগনালিকা ভ্রূণস্থলীতে প্রবেশ করে দুটি পুংগ্যামেট মুক্ত করে।
১) একটি পুংগ্যামেট ($n$) ডিম্বাণুর ($n$) সাথে মিলিত হয়ে জাইগোট ($2n$) গঠন করে (প্রকৃত নিষেক)।
২) অপর পুংগ্যামেটটি ($n$) নির্ণীত নিউক্লিয়াসের ($2n$) সাথে মিলিত হয়ে শস্য নিউক্লিয়াস ($3n$) গঠন করে (ত্রিলিন বা Triple Fusion)।
একই সাথে এই দুটি মিলনকে দ্বিনিষেক বলে।
গুরুত্ব: দ্বিনিষেকের ফলে শস্য গঠিত হয়, যা ভ্রূণের পুষ্টি জোগায়।
[attachment_0](attachment)
২৬. ফার্নের জনুক্রম (Alternation of Generations) রেখাচিত্রের সাহায্যে দেখাও। (৫) [মাধ্যমিক ২০২০]
✅ উত্তর:
ফার্নের জীবনচক্রে রেণুধর দশা ($2n$) এবং লিঙ্গধর দশা ($n$) পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়।
রেখাচিত্র:
পূর্ণাঙ্গ ফার্ন উদ্ভিদ ($2n$) $\rightarrow$ সোরাস বা রেণুস্থলি ($2n$) $\rightarrow$ মিয়োসিস বিভাজন $\rightarrow$ রেণু ($n$) $\rightarrow$ অঙ্কুরোদ্গম $\rightarrow$ লিঙ্গধর দেহ বা প্রোথ্যালাস ($n$) $\rightarrow$ পুংধানী ও স্ত্রীধানী $\rightarrow$ শুক্রাণু ($n$) ও ডিম্বাণু ($n$) $\rightarrow$ নিষেক $\rightarrow$ জাইগোট ($2n$) $\rightarrow$ নতুন রেণুধর উদ্ভিদ ($2n$)।
[attachment_1](attachment)
২৭. একটি আদর্শ ফুলের লম্বচ্ছেদের চিত্র অঙ্কন করে নিম্নলিখিত অংশগুলি চিহ্নিত করো: (ক) বৃত্তি, (খ) দলমণ্ডল, (গ) পুংকেশর, (ঘ) গর্ভাশয়। (৫) [মাধ্যমিক ২০১৭]
✅ উত্তর:
(এটি চিত্রাঙ্কন প্রশ্ন। একটি জবা বা ধুতুরা ফুলের লম্বচ্ছেদের চিত্র আঁকতে হবে।)
[attachment_2](attachment)
চিহ্নিতকরণ:
– বৃত্তি: ফুলের সবচেয়ে বাইরের সবুজ স্তবক।
– দলমণ্ডল: রঙিন পাপড়ির সমষ্টি।
– পুংকেশর: পরাগধানী ও পুংদণ্ড নিয়ে গঠিত।
– গর্ভাশয় বা ডিম্বাশয়: স্ত্রীস্তবকের স্ফীত নিচের অংশ, যার ভেতরে ডিম্বক থাকে।
২৮. স্বপরাগযোগ ও ইতর পরাগযোগের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো। কোন প্রকার পরাগযোগ উন্নত মানের এবং কেন? (৩+২)
✅ উত্তর:
পার্থক্য:
| বিষয় | স্বপরাগযোগ | ইতর পরাগযোগ |
|---|---|---|
| ১. উদ্ভিদ | একই ফুলের মধ্যে বা একই গাছের দুটি ফুলের মধ্যে ঘটে। | একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন গাছের ফুলের মধ্যে ঘটে। |
| ২. বাহক | বাহকের প্রয়োজন হয় না (উভলিঙ্গ ফুলে)। | বাহক (বায়ু, জল, পতঙ্গ) অপরিহার্য। |
| ৩. বৈশিষ্ট্য | নতুন বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব হয় না। | নতুন বৈশিষ্ট্যযুক্ত অপত্য উদ্ভিদ জন্মায়। |
উন্নত: ইতর পরাগযোগ বেশি উন্নত। কারণ এতে জিনের পুনর্বিন্যাস ঘটে, ফলে অপত্য উদ্ভিদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও অভিযোজন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
২৯. বিভিন্ন বাহকের (বায়ু, জল, পতঙ্গ, পাখি) মাধ্যমে ঘটা পরাগযোগের ফুলের বৈশিষ্ট্যগুলি উদাহরণসহ লেখো। (৫)
✅ উত্তর:
১) বায়ুপরাগী (ধান): ফুল ক্ষুদ্র, বর্ণহীন, গন্ধহীন। পরাগরেণু প্রচুর ও হালকা। গর্ভমুণ্ড রোশম ও আঠালো।
২) জলপরাগী (পাতাঝাঁঝি): ফুল হালকা, মোমাবৃত (পচে না)। পুংপুষ্প জলের ওপর ভাসে।
৩) পতঙ্গপরাগী (আম): ফুল বড়, উজ্জ্বল রঙের, সুগন্ধযুক্ত এবং মকরন্দ বা মধু থাকে। পরাগরেণু আঠালো।
৪) পক্ষীপরাগী (পলাশ): ফুল বড় ও উজ্জ্বল (লাল/কমলা) রঙের হয়। মকরন্দ থাকে কিন্তু গন্ধ থাকে না।
৩০. অযৌন জনন ও যৌন জননের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো। জনুর অস্তিত্ব রক্ষায় জননের গুরুত্ব কী? (৩+২)
✅ উত্তর:
পার্থক্য:
১) পদ্ধতি: অযৌন জননে গ্যামেট লাগে না (রেণু বা দেহাংশ দ্বারা হয়)। যৌন জননে পুং ও স্ত্রী গ্যামেটের মিলন ঘটে।
২) জনিতৃ জীব: অযৌন জননে একটি জীবই যথেষ্ট (Uniparental)। যৌন জননে সাধারণত দুটি জীবের প্রয়োজন হয় (Biparental)।
৩) বিভাজন: অযৌন জননে কেবল মাইটোসিস হয়। যৌন জননে গ্যামেট তৈরির সময় মিয়োসিস হয়।
গুরুত্ব: জননের মাধ্যমে জীব তার নিজস্ব প্রজাতিকে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে এবং বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখে।
৩১. বৃদ্ধি ও বিকাশের পার্থক্য লেখো। মানববিকাশের বিভিন্ন দশাগুলি কী কী? (২+৩)
✅ উত্তর:
পার্থক্য: বৃদ্ধি হলো জীবের আকার ও আয়তনের স্থায়ী পরিবর্তন (পরিমাণগত)। বিকাশ হলো বৃদ্ধির ফলস্বরূপ জীবের কার্যকারিতা ও জটিলতার পরিবর্তন (গুণগত)। বৃদ্ধি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত হয়, কিন্তু বিকাশ আমৃত্যু চলতে পারে (মানসিক)।
মানববিকাশের দশা (৫টি):
১) সদ্যজাত (Infancy) : জন্ম থেকে ২ বছর।
২) শৈশব (Childhood) : ২ থেকে ১০ বছর।
৩) বয়ঃসন্ধি (Adolescence) : ১০ থেকে ২০ বছর।
৪) পরিণত দশা (Adulthood) : ২০ থেকে ৬০ বছর।
৫) বার্ধক্য দশা (Senescence) : ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে।
৩২. সপুষ্পক উদ্ভিদের নিষেকের পর জাইগোট থেকে কীভাবে নতুন উদ্ভিদ গঠিত হয় (পরিবর্তনগুলি লেখো)? (৫)
✅ উত্তর:
নিষেকের পর ফুলের বিভিন্ন অংশে নিম্নলিখিত পরিবর্তন ঘটে:
১) জাইগোট: বিভাজিত হয়ে ভ্রূণ (Embryo) গঠন করে।
২) ডিম্বক: শক্ত আবরণে আবৃত হয়ে বীজে পরিণত হয়।
৩) ডিম্বাশয়: বৃদ্ধি পেয়ে ফলে পরিণত হয়।
৪) শস্য নিউক্লিয়াস: বিভাজিত হয়ে শস্য (Endosperm) গঠন করে যা ভ্রূণের খাদ্য।
পরবর্তীতে বীজ অনুকূল পরিবেশে অঙ্কুরিত হয়ে নতুন শিশু উদ্ভিদ বা চারাগাছ সৃষ্টি করে।
৩৩. একটি প্রাণী কোষের মাইটোসিস বিভাজনের মেটাফেজ দশার চিত্র অঙ্কন করে নিম্নলিখিত অংশগুলি চিহ্নিত করো: (ক) ক্রোমোজোম, (খ) বেমতন্তু, (গ) মেরু অঞ্চল, (ঘ) সেন্ট্রোজোম। (৫) [মাধ্যমিক ২০১৮]
✅ উত্তর:
(চিত্রাঙ্কন প্রশ্ন)
[attachment_3](attachment)
বৈশিষ্ট্য:
১) ক্রোমোজোমগুলি কোষের মাঝখানে নিরক্ষীয় তলে সজ্জিত থাকবে।
২) দুই মেরুতে দুটি সেন্ট্রোজোম (অ্যাস্ট্রাল রশ্মিসহ) থাকবে।
৩) বেমতন্তুগুলি সেন্ট্রোজোম থেকে ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে।
৩৪. একটি উদ্ভিদ কোষের মাইটোসিস বিভাজনের অ্যানাফেজ দশার চিত্র অঙ্কন করে নিম্নলিখিত অংশগুলি চিহ্নিত করো: (ক) অপত্য ক্রোমোজোম, (খ) বেমতন্তু, (গ) ইন্টারজোনাল তন্তু, (ঘ) মেরু। (৫)
✅ উত্তর:
(চিত্রাঙ্কন প্রশ্ন)
[attachment_4](attachment)
বৈশিষ্ট্য:
১) ক্রোমোজোমগুলি ‘V’, ‘L’, ‘J’ বা ‘I’ আকৃতির হবে।
২) অর্ধেক ক্রোমোজোম উত্তর মেরুর দিকে এবং বাকি অর্ধেক দক্ষিণ মেরুর দিকে যেতে থাকবে।
৩) উদ্ভিদ কোষ হওয়ায় সেন্ট্রোজোম থাকবে না (ব্যারেল আকৃতির বেম হবে)।
৩৫. “প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক রাখতে মিয়োসিস ও নিষেকের ভূমিকা অপরিসীম”—ব্যাখ্যা করো।
✅ উত্তর:
যৌন জননকারী জীবের দেহকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা ডিপ্লয়েড ($2n$)।
১) মিয়োসিসের ভূমিকা: গ্যামেট তৈরির সময় মিয়োসিস বিভাজনের ফলে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়ে হ্যাপ্লয়েড ($n$) হয়।
২) নিষেকের ভূমিকা: শুক্রাণু ($n$) ও ডিম্বাণু ($n$) মিলনের ফলে জাইগোট গঠিত হয় এবং ক্রোমোজোম সংখ্যা পুনরায় ডিপ্লয়েড ($n+n=2n$) হয়ে যায়।
এভাবে মিয়োসিস ক্রোমোজোম সংখ্যা কমায় এবং নিষেক তা পূরণ করে, ফলে বংশপরম্পরায় ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক থাকে।
৩৬. বয়ঃসন্ধিকালে ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে কী কী শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন দেখা যায়?
✅ উত্তর:
১) শারীরিক: জনন অঙ্গের বিকাশ ঘটে। ছেলেদের দাড়ি-গোঁফ গজায়, পেশি সুগঠিত হয় ও গলার স্বর ভারী হয়। মেয়েদের ঋতুচক্র শুরু হয় এবং স্তনগ্রন্থির বিকাশ ঘটে।
২) মানসিক: বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে, স্বাধীনচেতা মনোভাব তৈরি হয়, এবং আবেগপ্রবণতা বৃদ্ধি পায়। বুদ্ধির বিকাশ ঘটে।
৩৭. অ্যামিবার দ্বিবিভাজন ও প্লাসমোডিয়ামের বহুবিভাজন পদ্ধতি চিত্রসহ সংক্ষেপে লেখো।
✅ উত্তর:
১) দ্বিবিভাজন (অ্যামিবা): প্রথমে নিউক্লিয়াসটি ডাম্বেল আকৃতির হয়ে দুভাগে ভাগ হয় (অ্যামাইটোসিস)। এরপর সাইটোপ্লাজম মাঝখানে সংকুচিত হয়ে দুটি অপত্য অ্যামিবা তৈরি করে।
২) বহুবিভাজন (প্লাসমোডিয়াম): প্রতিকূল পরিবেশে প্লাসমোডিয়াম নিজের চারপাশে শক্ত আবরণ (সিস্ট) তৈরি করে। এর ভেতরে নিউক্লিয়াসটি বারবার বিভাজিত হয়ে অসংখ্য অপত্য নিউক্লিয়াস গঠন করে। অনুকূল পরিবেশে সিস্ট ফেটে বহু অপত্য জীব বেরিয়ে আসে।
৩৮. পার্থেনোকার্পি কী? এই প্রক্রিয়ায় বীজহীন ফল উৎপাদনের সুবিধা কী?
✅ উত্তর:
নিষেধ ছাড়াই কৃত্রিম হরমোন প্রয়োগে বীজহীন ফল উৎপাদনের প্রক্রিয়াকে পার্থেনোকার্পি বলে।
সুবিধা:
১) ফলের গুণমান ও শাঁসের পরিমাণ বাড়ে (বীজ থাকে না বলে)।
২) যে সব ফলের বীজ খাওয়ার সময় বিরক্তিকর (যেমন- আঙুর, তরমুজ, পেয়ারা), সেগুলির ক্ষেত্রে এটি খুব লাভজনক।
৩) পরাগযোগের ওপর নির্ভর করতে হয় না।
৩৯. কোষ বিভাজনের ‘চেক পয়েন্ট’ কাজ না করলে কী হতে পারে? টিউমার ও ক্যানসার কীভাবে সৃষ্টি হয়?
✅ উত্তর:
কোষচক্রের চেক পয়েন্টগুলি (Checkpoints) কোষের ত্রুটিপূর্ণ বিভাজন আটকায়। যদি চেক পয়েন্ট কাজ না করে বা নিয়ন্ত্রিত জিন (Proto-oncogene) মিউটেটেড হয়, তবে কোষ অনিয়ন্ত্রিতভাবে ও দ্রুত বিভাজিত হতে থাকে।
এই অনিয়ন্ত্রিত বিভাজনের ফলে কোষের পিণ্ড বা টিউমার সৃষ্টি হয়। যখন এই টিউমার কোষগুলি রক্ত বা লসিকার মাধ্যমে দেহের অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে এবং সুস্থ কোষকে আক্রমণ করে, তখন তাকে ক্যানসার (Malignant Tumor) বলে।
৪০. ডিএনএ (DNA) ও আরএনএ (RNA)-এর মধ্যে তিনটি গঠনগত ও একটি কার্যগত পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর:
| বিষয় | DNA | RNA |
|---|---|---|
| ১. গঠন | দ্বিতন্ত্রী (Double stranded)। | একতন্ত্রী (Single stranded)। |
| ২. শর্করা | ডি-অক্সিরাইবোজ শর্করা। | রাইবোজ শর্করা। |
| ৩. ক্ষারক | থাইমিন ($T$) থাকে। | ইউরাসিল ($U$) থাকে। |
| ৪. কাজ | বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন করা। | প্রোটিন সংশ্লেষ করা। |
৪১. সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জননের ধাপগুলি ফ্লো-চার্টের মাধ্যমে দেখাও।
✅ উত্তর:
জনন মাতৃকোষ ($2n$) $\rightarrow$ মিয়োসিস $\rightarrow$ পরাগরেণু ও ডিম্বাণু সৃষ্টি ($n$) $\rightarrow$ পরাগযোগ $\rightarrow$ পরাগনালিকা গঠন $\rightarrow$ পুংগ্যামেট ডিম্বকে প্রবেশ $\rightarrow$ নিষেক $\rightarrow$ জাইগোট ($2n$) $\rightarrow$ ভ্রূণ $\rightarrow$ ফল ও বীজ $\rightarrow$ অঙ্কুরোদ্গম $\rightarrow$ নতুন চারাগাছ।
৪২. ক্রোমোজোমের সংখ্যা ধ্রুবক রাখা এবং জীবের বৈশিষ্ট্যের সঞ্চারণে কোষ বিভাজনের ভূমিকা কী?
✅ উত্তর:
১) মাইটোসিস: দেহকোষে সমবিভাজনের মাধ্যমে ক্রোমোজোম সংখ্যা ও ডিএনএ পরিমাণ সমান রাখে, ফলে দেহের প্রতিটি কোষে একই জিনগত বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে।
২) মিয়োসিস: জনন কোষ তৈরির সময় ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক করে দেয়। নিষেকের পর তা আবার পূর্ণসংখ্যায় ফিরে আসে। এভাবেই প্রজন্মান্তরে ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক থাকে এবং জিনের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্য সঞ্চারিত হয়।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) – জীবনের প্রবাহমানতা
প্রশ্ন: ক্রোমোজোম, DNA ও জিনের মধ্যে সম্পর্ক কী?
✅ উত্তর: ক্রোমোজোম হলো নিউক্লিয়াসের ভেতরে থাকা সুতোর মতো অংশ যা বংশগতির ধারক। এই ক্রোমোজোম মূলত প্যাঁচানো DNA অণু দিয়ে তৈরি। আর DNA-এর যে নির্দিষ্ট ক্ষুদ্র অংশ নির্দিষ্ট প্রোটিন সংশ্লেষের সংকেত বহন করে এবং জীবের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে, তাকে জিন বলে। সহজ কথায়: জিন $\subset$ DNA $\subset$ ক্রোমোজোম।
প্রশ্ন: মাইটোসিস ও মিয়োসিসের মূল পার্থক্য কী?
✅ উত্তর: মাইটোসিস দেহকোষে ঘটে এবং এতে অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের সমান থাকে (সমবিভাজন), যা দৈহিক বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
মিয়োসিস জনন মাতৃকোষে ঘটে এবং এতে অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায় (হ্রাস বিভাজন), যা গ্যামেট তৈরিতে সাহায্য করে।
প্রশ্ন: দ্বিনিষেক (Double Fertilization) কাকে বলে?
✅ উত্তর: সপুষ্পক উদ্ভিদের নিষেকের সময় একটি পুংগ্যামেট ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে জাইগোট ($2n$) গঠন করে এবং অপর পুংগ্যামেটটি নির্ণীত নিউক্লিয়াসের সাথে মিলিত হয়ে শস্য নিউক্লিয়াস ($3n$) গঠন করে। একই সাথে ঘটা এই দুটি মিলনকে দ্বিনিষেক বলে।
প্রশ্ন: মাইক্রোপ্রোপাগেশন বা অণুবিস্তারণ কী?
✅ উত্তর: উদ্ভিদের কোনো ক্ষুদ্র দেহাংশ বা কলা (যাকে এক্সপ্ল্যান্ট বলে) নিয়ে পরীক্ষাগারে বিশেষ কর্ষণ দ্রবণে (Culture medium) দ্রুত বিভাজিত করে অসংখ্য নতুন চারাগাছ সৃষ্টি করার আধুনিক পদ্ধতিকে মাইক্রোপ্রোপাগেশন বলে। অর্কিড বা আলংকারিক উদ্ভিদ চাষে এটি বহুল ব্যবহৃত হয়।
প্রশ্ন: ক্রসিং ওভারের গুরুত্ব কী?
✅ উত্তর: মিয়োসিস বিভাজনের সময় ক্রসিং ওভারের ফলে সমসংস্থ ক্রোমোজোমের মধ্যে জিনের আদান-প্রদান ঘটে। এর ফলে জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয় এবং অপত্য জীবের মধ্যে নতুন বৈশিষ্ট্যের বা প্রকরণের (Variation) উদ্ভব হয়, যা বিবর্তনের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
[attachment_0](attachment)