দশম শ্রেণী ইতিহাস: অধ্যায় – 3 রচনাধর্মী প্রশ্নত্তোর
বিভাগ-ঙ: রচনাধর্মী প্রশ্ন ও বিস্তারিত সমাধান (পর্ব-১)
বিষয়: ইতিহাস | অধ্যায়: প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ | প্রশ্ন সংখ্যা: ১-৬ | পূর্ণমান: ৮
১. সাঁওতাল বিদ্রোহের (১৮৫৫-৫৬) কারণ ও ফলাফল বা গুরুত্ব আলোচনা করো। (৫+৩) [মাধ্যমিক ২০১৭, ২০১৯]
✅ উত্তর:ভূমিকা: ঊনবিংশ শতকে ভারতের আদিবাসী বিদ্রোহগুলির মধ্যে সাঁওতাল বিদ্রোহ বা ‘হুল’ ছিল অন্যতম বৃহত্তম ও শক্তিশালী আন্দোলন। ১৮৫৫ সালে সিধু ও কানুর নেতৃত্বে রাজমহল পাহাড় ও মুর্শিদাবাদ অঞ্চলে এই বিদ্রোহ সংঘটিত হয়।
সাঁওতাল বিদ্রোহের কারণ:
- ১. মহাজনি শোষণ: সাঁওতালরা ছিল অত্যন্ত সরল প্রকৃতির। বহিরাগত মহাজন বা ‘দিকু’-রা তাদের অভাবের সুযোগ নিয়ে চড়া সুদে (৫০% থেকে ৫০০%) ঋণ দিত। একবার ঋণ নিলে তা বংশপরম্পরায় শোধ হতো না। ঋণের দায়ে মহাজনরা তাদের জমি, ফসল ও গবাদি পশু কেড়ে নিত এবং ক্রীতদাসের মতো খাটাত (কামিয়াতি প্রথা)।
- ২. ওজনে কারচুপি: মহাজনরা সাঁওতালদের ঠকানোর জন্য দুই ধরনের বাটখারা ব্যবহার করত। ফসল কেনার সময় ভারী বাটখারা বা ‘কেনারাম’ এবং পণ্য বিক্রির সময় হালকা বাটখারা বা ‘বেচারাম’ ব্যবহার করত।
- ৩. রাজস্ব বৃদ্ধি: সাঁওতালরা জঙ্গল পরিষ্কার করে রাজমহল পাহাড়ের পাদদেশে যে ‘দামিন-ই-কোহ’ অঞ্চল গড়ে তুলেছিল, ব্রিটিশ সরকার সেখানে চড়া হারে ভূমিরাজস্ব ধার্য করে। রাজস্ব দিতে না পারলে তাদের জমি থেকে উচ্ছেদ করা হতো।
- ৪. ইজ্জত হরণ: সাঁওতাল এলাকায় রেললাইন তৈরির কাজে যুক্ত ইংরেজ ঠিকাদার ও কর্মচারীরা সাঁওতাল নারীদের সম্মানহানি করত, যা তাদের ক্ষুব্ধ করে তোলে।
- ৫. নীলকরদের অত্যাচার: নীলকর সাহেবরা সাঁওতালদের জোর করে নীল চাষে বাধ্য করত এবং প্রতিবাদ করলে অকথ্য নির্যাতন চালাত।
ফলাফল ও গুরুত্ব:
- পৃথক জেলা গঠন: বিদ্রোহ দমনের পর ব্রিটিশ সরকার সাঁওতাল অধ্যুষিত এলাকা নিয়ে ‘সাঁওতাল পরগনা’ নামে একটি পৃথক জেলা গঠন করে।
- আইন পাস: ১৮৮৫ সালে ‘সাঁওতাল পরগনা টেন্যান্সি অ্যাক্ট’ পাস করে সাঁওতালদের জমি হস্তান্তর নিষিদ্ধ করা হয়।
- মহাজন নিয়ন্ত্রণ: দিকু বা বহিরাগত মহাজনদের শোষণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সুদের হার নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়।
- অনুপ্রেরণা: যদিও বিদ্রোহ দমন করা হয়েছিল, কিন্তু সাঁওতালদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগ পরবর্তীকালে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
২. নীল বিদ্রোহের (১৮৫৯-৬০) কারণ ও বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো। এই বিদ্রোহে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজের ভূমিকা কী ছিল? (৩+৩+২) [মাধ্যমিক ২০১৮, ২০২০]
✅ উত্তর:ভূমিকা: ১৮৫৯-৬০ সালে বাংলার নীল চাষিরা নীলকর সাহেবদের শোষণ ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে যে ব্যাপক গণ-আন্দোলন গড়ে তুলেছিল, তা নীল বিদ্রোহ নামে পরিচিত।
নীল বিদ্রোহের কারণ:
- ১. দাদন প্রথা: নীলকররা চাষিদের বিঘা প্রতি ২ টাকা অগ্রিম বা ‘দাদন’ দিয়ে উৎকৃষ্ট জমিতে নীল চাষ করতে বাধ্য করত। এই দাদনের ঋণ কোনোদিনই শোধ হতো না এবং বংশপরম্পরায় চলত।
- ২. অর্থনৈতিক ক্ষতি: নীল চাষ করলে ধান বা অন্য ফসল চাষ করা যেত না, ফলে কৃষকরা খাদ্যাভাবে পড়ত। তাছাড়া নীলের দাম ছিল বাজারের তুলনায় অনেক কম।
- ৩. দৈহিক ও সামাজিক অত্যাচার: নীল চাষে রাজি না হলে কৃষকদের কুঠিতে আটকে রেখে মারধর করা হতো, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হতো এবং নারীদের সম্মানহানি করা হতো।
- ৪. পঞ্চম আইন ও অবিচার: ১৮৩০ সালে লর্ড বেন্টিঙ্ক ‘পঞ্চম আইন’ পাস করে নীল চুক্তি ভঙ্গ করাকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করেন। ব্রিটিশ ম্যাজিস্ট্রেটরা নীলকরদের পক্ষ নিয়ে রায় দিত, ফলে কৃষকরা ন্যায়বিচার পেত না।
বৈশিষ্ট্য:
- ধর্মনিরপেক্ষতা: এই বিদ্রোহে হিন্দু-মুসলিম, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সমস্ত কৃষক ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। দিগম্বর বিশ্বাস, বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস, রফিক মণ্ডলের মতো নেতারা এতে নেতৃত্ব দেন।
- শক্তিশালী সংগঠন: কৃষকরা নিজেদের মধ্যে শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলে এবং লাঠি, বল্লম নিয়ে নীলকরদের মোকাবিলা করে।
শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজের ভূমিকা:
নীল বিদ্রোহই ছিল ভারতের প্রথম আন্দোলন যেখানে শহরের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজ কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছিল।
- হরিশ্চন্দ্র মুখোপাধ্যায়: তিনি তাঁর ‘হিন্দু প্যাট্রিয়ট’ পত্রিকায় নিয়মিত নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনী এবং কৃষকদের দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন।
- দীনবন্ধু মিত্র: তাঁর রচিত ‘নীলদর্পণ’ নাটক জনমত গঠনে বারুদের কাজ করে। এই নাটক দেখে বিদ্যাসাগরের মতো মানুষও বিচলিত হন।
- আইনজীবী ও সাংবাদিক: শিশিরকুমার ঘোষ গ্রামে ঘুরে সংবাদ সংগ্রহ করতেন এবং আইনজীবীরা কৃষকদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিতেন।
৩. কোল বিদ্রোহের (১৮৩১-৩২) কারণ ও গুরুত্ব আলোচনা করো। (৫+৩)
✅ উত্তর:ভূমিকা: ছোটনাগপুর অঞ্চলের (রাঁচি, মানভূম, হাজারিবাগ) কোল উপজাতিরা ১৮৩১-৩২ সালে ব্রিটিশ সরকার ও জমিদারদের শোষণের বিরুদ্ধে যে বিদ্রোহ করে, তা কোল বিদ্রোহ নামে পরিচিত। বুদ্ধু ভগত, জোয়া ভগত, সুই মুন্ডা ছিলেন এর নেতা।
কোল বিদ্রোহের কারণ:
- ১. উচ্চ রাজস্ব: ব্রিটিশ সরকার কোলদের নিষ্কর জমির ওপর চড়া হারে রাজস্ব বসায়। রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব বহিরাগত ইজারাদারদের হাতে দেওয়া হয়, যারা নির্মমভাবে কর আদায় করত।
- ২. দিকুদের শোষণ: বহিরাগত মহাজন বা ‘দিকু’রা কোলদের চড়া সুদে টাকা ধার দিত এবং ঋণ শোধ না করতে পারলে তাদের জমিজায়গা, ফসল ও গবাদি পশু কেড়ে নিত।
- ৩. আবগারি কর: কোলদের নিজস্ব পদ্ধতিতে তৈরি মদ বা হঁড়িয়া তাদের সংস্কৃতি ও খাদ্যের অঙ্গ ছিল। ব্রিটিশ সরকার এর ওপর আবগারি কর বসালে তারা ক্ষিপ্ত হয়।
- ৪. সামাজিক সম্মানহানি: ইংরেজ ও মহাজনরা কোল নারীদের সম্মানহানি করত এবং কোল পুরুষদের দিয়ে জোর করে বিনা পারিশ্রমিকে রাস্তা তৈরির কাজ করাত (বেগার শ্রম)।
গুরুত্ব বা ফলাফল:
- পৃথক প্রশাসন: বিদ্রোহ দমনের পর ১৮৩৩ সালে ব্রিটিশ সরকার ‘দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত এজেন্সি’ (South-West Frontier Agency) নামে একটি পৃথক প্রশাসনিক এলাকা গঠন করে।
- আইন সংস্কার: কোলদের জন্য বিশেষ আইন প্রণয়ন করা হয় এবং তাদের জমি যাতে বহিরাগতদের হাতে না যায়, তার ব্যবস্থা করা হয়।
- ঐক্যের প্রতীক: এই বিদ্রোহ প্রমাণ করে যে আদিবাসীরাও তাদের অধিকার রক্ষার জন্য সংগঠিত হতে পারে। এটি মুন্ডা ও সাঁওতাল বিদ্রোহের পথপ্রদর্শক ছিল।
৪. বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলনের চরিত্র ও প্রকৃতি বিশ্লেষণ করো। তিতুমিরের বারাসাত বিদ্রোহের গুরুত্ব কী? (৫+৩)
✅ উত্তর:
ভূমিকা: উনবিংশ শতকের প্রথমার্ধে মীর নিসার আলি বা তিতুমিরের নেতৃত্বে বাংলায় যে ওয়াহাবি আন্দোলন গড়ে ওঠে, তা বারাসাত বিদ্রোহ নামে পরিচিত।
আন্দোলনের চরিত্র ও প্রকৃতি:
- ১. ধর্মীয় সংস্কার: শুরুতে এটি ছিল ইসলাম ধর্মের শুদ্ধিকরণ আন্দোলন। তিতুমির মক্কায় গিয়ে সৈয়দ আহমেদের ভাবাদর্শে অনুপ্রাণিত হন এবং দেশে ফিরে কুসংস্কার মুক্ত ইসলামের প্রচার শুরু করেন।
- ২. কৃষক আন্দোলন: জমিদার কৃষ্ণদেব রায় এবং নীলকর সাহেবরা যখন তিতুমিরের অনুগামীদের ওপর অত্যাচার শুরু করে এবং ‘দাড়ি রাখার কর’ বসায়, তখন এটি একটি শক্তিশালী জমিদার ও নীলকর বিরোধী কৃষক আন্দোলনে পরিণত হয়।
- ৩. ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রাম: শেষপর্যন্ত তিতুমির ব্রিটিশ শাসন উচ্ছেদ করে নিজেকে ‘বাদশাহ’ ঘোষণা করেন এবং স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু করেন।
- ৪. অসাম্প্রদায়িকতা: হান্টার সাহেব একে মুসলিমদের আন্দোলন বললেও, বাস্তবে এটি ছিল শোষিত কৃষকদের সংগ্রাম। তিতুমিরের সেনাপতি গোলাম মাসুম মুসলমান হলেও তাঁর বাহিনীতে বহু হিন্দু কৃষক যোগ দিয়েছিল।
গুরুত্ব:
- বাঁশের কেল্লা: নারকেলবেড়িয়া গ্রামে তিতুমিরের তৈরি বাঁশের কেল্লা ছিল ব্রিটিশ শক্তির বিরুদ্ধে দেশীয় প্রতিরোধের এক অনন্য প্রতীক।
- সাহসিকতা: তীর-ধনুক নিয়ে আধুনিক ব্রিটিশ কামানের বিরুদ্ধে তিতুমিরের লড়াই প্রমাণ করে যে সাধারণ মানুষও সংগঠিত হলে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির ভিত কাঁপিয়ে দিতে পারে।
৫. ফরাজি আন্দোলন কি নিছক ধর্মীয় আন্দোলন ছিল? এই আন্দোলনে দুদু মিঞার ভূমিকা আলোচনা করো। (৩+৫)
✅ উত্তর:
ফরাজি আন্দোলনের প্রকৃতি:
হাজী শরিয়তউল্লাহ ঊনবিংশ শতকের শুরুতে পূর্ববঙ্গে ফরাজি আন্দোলনের সূচনা করেন। ‘ফরাজি’ কথার অর্থ হলো ইসলাম নির্দিষ্ট বাধ্যতামূলক কর্তব্য পালন। শুরুতে এর লক্ষ্য ছিল ইসলাম ধর্মকে কুসংস্কার মুক্ত করা। কিন্তু পরবর্তীকালে এটি জমিদার, নীলকর ও ব্রিটিশ বিরোধী চরিত্র লাভ করে। তাই একে নিছক ধর্মীয় আন্দোলন বলা যায় না, এটি ছিল একটি ধর্মীয় আবরণে আবৃত কৃষক বিদ্রোহ।
দুদু মিঞার ভূমিকা:
হাজী শরিয়তউল্লাহর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র মহসিন উদ্দিন আহমেদ বা দুদু মিঞা (১৮১৯-১৮৬০) এই আন্দোলনের হাল ধরেন। তাঁর অবদানগুলি হলো:
- রাজনৈতিক রূপান্তর: তিনি ফরাজি আন্দোলনকে সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংগ্রামে পরিণত করেন। তিনি ঘোষণা করেন, “জমি আল্লাহর দান, তাই জমির ওপর কর বসানোর অধিকার জমিদারের নেই।”
- সংগঠন ও খিলাফত: তিনি পূর্ববঙ্গকে কয়েকটি এলাকায় (Halqa) ভাগ করেন এবং প্রতিটি এলাকার দায়িত্ব একজন ‘খলিফা’র ওপর দেন। এভাবে তিনি ব্রিটিশ শাসনের সমান্তরালে একটি নিজস্ব প্রশাসন বা ‘খিলাফত’ ব্যবস্থা গড়ে তোলেন।
- লাঠিয়াল বাহিনী: জমিদার ও নীলকরদের মোকাবিলা করার জন্য তিনি একটি শক্তিশালী লাঠিয়াল বাহিনী গঠন করেন এবং কৃষকদের নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
- পঞ্চায়েত ব্যবস্থা: তিনি ব্রিটিশ আদালত বর্জন করে নিজস্ব পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় বিবাদ মীমাংসার নির্দেশ দেন।
৬. সন্ন্যাসী ও ফকির বিদ্রোহের (১৭৬৩-১৮০০) কারণ ও ব্যর্থতা আলোচনা করো। (৪+৪)
✅ উত্তর:
ভূমিকা: পলাশীর যুদ্ধের পর ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বাংলার প্রথম সংগঠিত প্রতিরোধ ছিল সন্ন্যাসী ও ফকির বিদ্রোহ। এর নেতা ছিলেন ভবানী পাঠক, দেবী চৌধুরানী ও মজনু শাহ।
বিদ্রোহের কারণ:
- ১. তীর্থকর ও বাধা: সন্ন্যাসী ও ফকিররা দলবেঁধে তীর্থভ্রমণ করত এবং ভক্তদের দানে চলত। ব্রিটিশ সরকার তাদের তীর্থযাত্রার ওপর কর আরোপ করে এবং অবাধ যাতায়াতে বাধা দেয়, যা তাদের ক্ষুব্ধ করে।
- ২. রাজস্ব শোষণ: ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের (১৭৭০) ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের পরেও কোম্পানি জোর করে কৃষকদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় করত। সন্ন্যাসী ও ফকিরদের অনেকেই ছিল কৃষক, তাই তারা এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়।
- ৩. জীবিকা সংকট: কোম্পানির নতুন ভূমি রাজস্ব নীতির ফলে অনেক ছোট জমিদার ও কৃষক জমি হারায়। পেশাদার সৈনিকরা কাজ হারিয়ে সন্ন্যাসী দলে যোগ দেয়।
ব্যর্থতার কারণ:
- ১. নেতৃত্বের অভাব: ভবানী পাঠক ও মজনু শাহের মৃত্যুর পর এই আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো কোনো যোগ্য ও দূরদর্শী নেতা ছিল না।
- ২. আদর্শের অভাব: এই বিদ্রোহের কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্য বা আদর্শ ছিল না। এটি ছিল মূলত খণ্ডযুদ্ধ ও অতর্কিত আক্রমণ।
- ৩. সংগঠনের অভাব: বিদ্রোহীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল, তাদের মধ্যে কোনো কেন্দ্রীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল না।
- ৪. আধুনিক অস্ত্র: ব্রিটিশদের উন্নত সেনাবাহিনী ও আধুনিক অস্ত্রের সামনে তাদের চিরাচরিত অস্ত্র (তলোয়ার, বর্শা) হার মেনেছিল।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) – ওয়াহাবি ও ফরাজি আন্দোলন
প্রশ্ন: তিতুমিরের আন্দোলন কি সাম্প্রদায়িক ছিল?
✅ উত্তর: না, এটি সাম্প্রদায়িক ছিল না। যদিও তিতুমির ইসলাম ধর্ম সংস্কারের ডাক দিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর মূল লড়াই ছিল অত্যাচারী জমিদার (তাঁরা হিন্দু বা মুসলিম যেই হোন) এবং নীলকর সাহেবদের বিরুদ্ধে। তাঁর আন্দোলনে ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সাধারণ কৃষকরা যোগ দিয়েছিল।
প্রশ্ন: ফরাজি আন্দোলনে দুদু মিঞার অবদান কী?
✅ উত্তর: দুদু মিঞা ফরাজি আন্দোলনকে নিছক ধর্মীয় গণ্ডি থেকে বের করে এনে একটি শক্তিশালী কৃষক আন্দোলনে রূপ দেন। তিনি কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করেন এবং ঘোষণা করেন—“জমি আল্লাহর দান, তাই এর ওপর কর বসানোর অধিকার কোনো জমিদারের নেই।”
প্রশ্ন: সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহ ব্যর্থ হলো কেন?
✅ উত্তর: ১) নেতৃত্বের অভাব: ভবানী পাঠক ও মজনু শাহের মৃত্যুর পর দক্ষ নেতার অভাব ঘটে।
২) লক্ষ্যহীনতা: এটি কোনো সুসংগঠিত রাজনৈতিক আন্দোলন ছিল না, বরং ছিল খণ্ডযুদ্ধ।
৩) অসম লড়াই: সন্ন্যাসীদের চিরাচরিত অস্ত্র ব্রিটিশদের আধুনিক বন্দুক ও কামানের সামনে টিকতে পারেনি।
প্রশ্ন: বাঁশের কেল্লা কেন বিখ্যাত?
✅ উত্তর: ১৮৩১ সালে তিতুমির নারকেলবেড়িয়া গ্রামে দেশীয় প্রযুক্তিতে বাঁশ ও মাটি দিয়ে একটি কেল্লা তৈরি করেন। এটি ছিল ব্রিটিশ শক্তির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সাহসিকতা ও প্রতিরোধের প্রতীক। কামানের গোলার আঘাতে ধ্বংস হওয়ার আগে পর্যন্ত এটি ছিল বিদ্রোহীদের প্রধান কেন্দ্র।