দশম শ্রেণী ইতিহাস: অধ্যায় -5 বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ
বিভাগ-ঘ: বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন ও বিস্তারিত সমাধান
বিষয়: ইতিহাস | অধ্যায়: বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ | পূর্ণমান: ৪
১. বাংলা মুদ্রণ শিল্পের ইতিহাসে চার্লস উইলকিন্স ও পঞ্চানন কর্মকারের অবদান আলোচনা করো।
বাংলায় আধুনিক মুদ্রণ শিল্পের বিকাশে এই দুই ব্যক্তির অবদান অনস্বীকার্য:
- চার্লস উইলকিন্স (বাংলার গুটেনবার্গ): ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির লেখক উইলকিন্স ছিলেন বাংলা ভাষায় সুপণ্ডিত। তিনিই প্রথম ছেনি কেটে বাংলা অক্ষরের নকশা তৈরি করেন এবং ধাতু দিয়ে বাংলা মুদ্রণ হরফ বা টাইপ তৈরির পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। ১৭৭৮ সালে হ্যালহেডের ব্যাকরণ বই তাঁর তৈরি হরফেই ছাপা হয়।
- পঞ্চানন কর্মকার: তিনি ছিলেন হুগলির এক দক্ষ স্বর্ণশিল্পী। উইলকিন্সের তত্ত্বাবধানে তিনি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বাংলা অক্ষরের ছাঁচ বা ডাইস তৈরি করেন। তাঁর তৈরি করা মার্জিত বাংলা হরফেই দীর্ঘকাল ধরে বাংলা বই ছাপা হতো। তাঁর জামাতা মনোহর কর্মকারও এই শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যান।
[attachment_0](attachment)
২. শ্রীরামপুর মিশন প্রেস কীভাবে একটি অগ্রণী মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়? [মাধ্যমিক ২০১৮]
১৮০০ সালে উইলিয়াম কেরি, মার্শম্যান ও ওয়ার্ড (শ্রীরামপুর ত্রয়ী) হুগলির শ্রীরামপুরে এই প্রেস প্রতিষ্ঠা করেন। এর সাফল্যের কারণ:
- প্রযুক্তি ও হরফ: পঞ্চানন কর্মকারের তৈরি উন্নত মানের বাংলা হরফ এবং কাঠের বদলে লোহার প্রেস ব্যবহারের ফলে ছাপার মান উন্নত হয়।
- বিপুল প্রকাশনা: ১৮০০-১৮৩২ সালের মধ্যে এখান থেকে ৪৫টি ভাষায় প্রায় ২ লক্ষ ১২ হাজার বই ছাপা হয়। এর মধ্যে বাইবেল, রামায়ণ, মহাভারত এবং পাঠ্যপুস্তক ছিল প্রধান।
- শিক্ষা বিস্তার: ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পাঠ্যবই এবং সাধারণ মানুষের জন্য সস্তায় বই ছাপিয়ে এটি গণশিক্ষার পথ প্রশস্ত করে।
- সাংবাদিকতা: ১৮১৮ সালে এখান থেকেই ‘দিগদর্শন’ ও ‘সমাচার দর্পণ’ প্রকাশিত হয়ে বাংলা সাংবাদিকতার সূচনা করে।
৩. ছাপাখানার ব্যবসায়িক উদ্যোগ সম্পর্কে আলোচনা করো (বিদ্যাসাগর ও অন্যান্য)।
উনিশ শতকে ছাপাখানা কেবল জ্ঞানচর্চা নয়, লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়।
- বিদ্যাসাগরের উদ্যোগ: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৪৭ সালে ‘সংস্কৃত যন্ত্র’ প্রেসটি কিনে নেন। তাঁর রচিত ‘বর্ণপরিচয়’, ‘বোধোদয়’, ‘কথামালা’ প্রভৃতি বই লাখ লাখ কপি বিক্রি হতো। তিনি নিজেই লেখক, প্রকাশক ও বিক্রেতা ছিলেন, যা তাঁকে প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে সাহায্য করে।
- গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য: তিনি ছিলেন প্রথম বাঙালি প্রকাশক ও বই বিক্রেতা। তিনি ফেরিওয়ালাদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি বই পৌঁছে দিয়ে এক নতুন বাজার তৈরি করেন।
- বটতলা সাহিত্য: সস্তায় রামায়ণ, মহাভারত, পাঁচালি ছেপে বটতলার প্রকাশকরা গরিব ও অল্পশিক্ষিত মানুষের মধ্যে বিশাল পাঠকগোষ্ঠী তৈরি করেছিলেন।
৪. বাংলা মুদ্রণ শিল্পের ইতিহাসে উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী বা ‘ইউ. এন. রায় অ্যান্ড সন্স’-এর অবদান লেখো। [মাধ্যমিক ২০১৭, ২০১৯]
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী ছিলেন বাংলা মুদ্রণ শিল্পের এক জাদুকর। তাঁর অবদানগুলি হলো:
- ইউ. এন. রায় অ্যান্ড সন্স: ১৮৯৫ সালে তিনি এই বিখ্যাত ছাপাখানাটি প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ছিল দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা প্রেস।
- হাফ-টোন ব্লক প্রিন্টিং: তিনি বিদেশ থেকে উন্নত ক্যামেরা ও লেন্স এনে ভারতে প্রথম ‘হাফ-টোন’ ব্লক প্রিন্টিং পদ্ধতি চালু করেন। এর ফলে বইয়ে আলোকচিত্রের মতো নিখুঁত ও রঙিন ছবি ছাপানো সম্ভব হয়।
- সচিত্র গ্রন্থ: তাঁর প্রেস থেকে প্রকাশিত ‘টুনটুনির বই’, ‘ছেলেদের রামায়ণ’, ‘সেকালের কথা’ প্রভৃতি বইয়ের ছবি ও মুদ্রণ মান ছিল আন্তর্জাতিক স্তরের।
- সন্দেশ পত্রিকা: ১৯১৩ সালে তিনি ছোটদের জন্য রঙিন ‘সন্দেশ’ পত্রিকা প্রকাশ শুরু করেন।
[attachment_1](attachment)
৫. ছাপা বইয়ের সাথে শিক্ষা বিস্তারের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।
ছাপাখানা আবিষ্কার শিক্ষা বিস্তারে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিল।
- সহজলভ্যতা: আগে হাতে লেখা পুঁথি ছিল দুষ্প্রাপ্য ও অত্যন্ত দামি। ছাপা বই সস্তায় এবং প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যাওয়ায় সাধারণ মানুষের হাতে বই পৌঁছে যায়।
- গণশিক্ষা: পাঠ্যপুস্তক ছাপার ফলে স্কুল-কলেজের প্রসার ঘটে। বিদ্যাসাগরের ‘বর্ণপরিচয়’ বা মদনমোহনের ‘শিশুশিক্ষা’ হাজার হাজার কপি বিক্রি হতো, যা সাক্ষরতা বাড়াতে সাহায্য করে।
- মানক ভাষা: ছাপা বইয়ের মাধ্যমে বাংলা গদ্যের একটি নির্দিষ্ট ও মার্জিত রূপ (Standard Language) তৈরি হয়, যা ভাষা শিক্ষাকে সহজ করে।
- নারীশিক্ষা: মেয়েদের জন্য ঘরে বসে পড়ার মতো বই ও পত্রিকা (যেমন- বামাবোধিনী) সহজলভ্য হওয়ায় নারীশিক্ষা বৃদ্ধি পায়।
৬. উনিশ শতকে বাংলায় বিজ্ঞানমনস্কতা তৈরিতে ছাপাখানার ভূমিকা কী ছিল?
ছাপাখানা কেবল সাহিত্য নয়, বিজ্ঞান চর্চারও বাহন ছিল।
- বিজ্ঞান বই প্রকাশ: অক্ষয়কুমার দত্তের ‘বাহ্যবস্তুর সহিত মানব প্রকৃতির সম্বন্ধ’ বা প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের বিজ্ঞান বিষয়ক বই সুলভে প্রকাশিত হওয়ায় মানুষ বিজ্ঞান সম্পর্কে জানতে পারে।
- পত্রিকা: ‘তত্ত্ববোধিনী’, ‘দিগদর্শন’, ‘প্রবাসী’ প্রভৃতি পত্রিকায় নিয়মিত বিজ্ঞান, ভূগোল ও জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক প্রবন্ধ ছাপা হতো।
- কুসংস্কার দূরীকরণ: ছাপা বইয়ের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক যুক্তিবাদ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, যা তাদের মন থেকে অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার দূর করতে সাহায্য করে।
৭. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ ও ছাপাখানার সম্পর্ক আলোচনা করো।
১৮০০ সালে লর্ড ওয়েলেসলি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- পাঠ্যপুস্তকের চাহিদা: এই কলেজে নবীন ব্রিটিশ সিভিলিয়ানদের বাংলা ও ভারতীয় ভাষা শেখানো হতো। এর জন্য প্রচুর বাংলা ব্যাকরণ ও গদ্য সাহিত্যের বইয়ের প্রয়োজন হয়।
- ছাপাখানার বিকাশ: এই চাহিদা মেটাতে কলেজের নিজস্ব ছাপাখানা এবং শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে মৃত্যুঞ্জয় তর্কালঙ্কার, রামরাম বসু প্রমুখের লেখা বই ছাপা হতে থাকে।
- ফলাফল: ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রয়োজনেই বাংলা মুদ্রণ শিল্প এবং বাংলা গদ্য সাহিত্যের দ্রুত বিকাশ ঘটে।
৮. ‘বটতলা সাহিত্য’ বলতে কী বোঝো? এর বৈশিষ্ট্য লেখো।
উনিশ শতকের মাঝামাঝি কলকাতার চিৎপুর ও শোভাবাজারের বটতলা অঞ্চলকে কেন্দ্র করে সস্তা ও চটি বই ছাপার এক বিশাল বাজার গড়ে ওঠে। এখান থেকে প্রকাশিত সাহিত্যকে ‘বটতলা সাহিত্য’ বলে।
- বিষয়বস্তু: এতে রামায়ণ, মহাভারত, পাঁচালি, পঞ্জিকা, গোয়েন্দা কাহিনী এবং লঘু রসাত্মক গল্প থাকত।
- বৈশিষ্ট্য: এই বইগুলি খুব নিম্নমানের কাগজে ছাপা হতো এবং দাম ছিল খুব কম। এতে প্রচুর কাটখোদাই করা ছবি (Woodcut) থাকত।
- পাঠক: এটি মূলত গরিব, অল্পশিক্ষিত মানুষ এবং গ্রামীণ পাঠকদের মনোরঞ্জনের জন্য তৈরি হতো।
৯. গঙ্গা কিশোর ভট্টাচার্য কেন স্মরণীয়?
গঙ্গা কিশোর ভট্টাচার্য ছিলেন বাংলা মুদ্রণ জগতের এক পথিকৃৎ।
- প্রথম বাঙালি প্রকাশক: ১৮১৬ সালে তিনি ভারতচন্দ্র রায় গুণাকরের সচিত্র ‘অন্নদামঙ্গল’ বই প্রকাশ করেন। তিনিই ছিলেন প্রথম বাঙালি যিনি বই প্রকাশ ও বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন।
- সাংবাদিকতা: ১৮১৮ সালে তিনি ‘বাঙাল গেজেটি’ নামে একটি সংবাদপত্র সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন, যা ছিল বাঙালিদের দ্বারা পরিচালিত প্রথম সংবাদপত্র।
- হকার প্রথা: তিনি ফেরিওয়ালাদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি বই পৌঁছে দিয়ে এক নতুন বিপণন কৌশল চালু করেন।
১০. লাইনোটাইপ (Linotype) কী? এর গুরুত্ব লেখো।
লাইনোটাইপ হলো একধরনের যান্ত্রিক কম্পোজ করার মেশিন, যা মুদ্রণ শিল্পে গতি এনেছিল।
- আবিষ্কার: সুরেশচন্দ্র মজুমদার ১৯৩৫ সালে বাংলা অক্ষরের লাইনোটাইপ মেশিন তৈরি করেন।
- গুরুত্ব: আগে হাতে একটা একটা করে অক্ষর সাজিয়ে কম্পোজ করতে হতো, যা ছিল সময়সাপেক্ষ। লাইনোটাইপের ফলে টাইপরাইটারের মতো দ্রুত টাইপ করে ছাপার প্লেট তৈরি করা সম্ভব হলো। আনন্দবাজার পত্রিকা এই প্রযুক্তিতে ছাপা হতো।
১১. বিজ্ঞান চর্চায় ‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স’ (IACS)-এর অবদান লেখো। [মাধ্যমিক ২০২০]
১৮৭৬ সালে ডা. মহেন্দ্রলাল সরকার এই প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করেন। এটি ছিল ভারতের প্রথম নিজস্ব বিজ্ঞান গবেষণাগার।
- স্বদেশী বিজ্ঞান চর্চা: পরাধীন ভারতে বিজ্ঞান গবেষণার কোনো সুযোগ ছিল না। IACS ভারতীয় বিজ্ঞানীদের সেই সুযোগ করে দেয়। মহেন্দ্রলাল চেয়েছিলেন এটি যেন লন্ডনের রয়্যাল ইনস্টিটিউশনের মতো হয়।
- বিখ্যাত বিজ্ঞানী: জগদীশচন্দ্র বসু, প্রফুল্লচন্দ্র রায়, আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, নীলরতন সরকার এখানে নিয়মিত ক্লাস নিতেন এবং গবেষণা করতেন।
- নোবেল জয়: এই প্রতিষ্ঠানে গবেষণা করেই ১৯৩০ সালে সি. ভি. রমন পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পান (‘রমন এফেক্ট’ আবিষ্কারের জন্য)।
- গবেষণা পত্রিকা: এখান থেকে ‘ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ ফিজিক্স’ প্রকাশিত হতো যা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়।
১২. বিজ্ঞান গবেষণায় ‘বসু বিজ্ঞান মন্দির’ (Bose Institute)-এর ভূমিকা আলোচনা করো। [মাধ্যমিক ২০১৮]
১৯১৭ সালে আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু এটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- উদ্দেশ্য: এর মূল লক্ষ্য ছিল “For the advancement of science and diffusion of knowledge” অর্থাৎ বিজ্ঞানের অগ্রগতি ও জ্ঞানের প্রসার।
- গবেষণা ক্ষেত্র: এখানে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, উদ্ভিদবিদ্যা, মাইক্রোবায়োলজি প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয়ে আন্তঃবিভাগীয় (Interdisciplinary) গবেষণা হতো। জগদীশচন্দ্র বসু নিজে এখানে উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা নিয়ে কাজ করেন।
- স্বদেশী উদ্যোগ: এটি ছিল সম্পূর্ণ ভারতীয় অর্থে ও উদ্যোগে তৈরি। জগদীশচন্দ্র বসু তাঁর নোবেল পুরস্কারের সমতুল্য খ্যাতি এবং সমস্ত সঞ্চিত অর্থ এই প্রতিষ্ঠানের জন্য দান করেছিলেন।
১৩. কারিগরি শিক্ষার বিকাশে ‘বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট’ (BTI)-এর ভূমিকা কী ছিল?
স্বদেশী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ১৯০৬ সালে তারকনাথ পালিত ও রাসবিহারী ঘোষের উদ্যোগে BTI প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বিকল্প শিক্ষা: ব্রিটিশদের অধীনস্থ শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের বিকল্প হিসেবে ভারতীয় ছাত্রদের কারিগরি শিক্ষা দেওয়াই ছিল এর লক্ষ্য।
- পাঠ্যক্রম: এখানে যন্ত্রকৌশল, রাসায়নিক প্রযুক্তি, সাবান তৈরি, চর্মশিল্প, রঞ্জনবিদ্যা, সেরামিক প্রভৃতি হাতে-কলমে শেখানো হতো যাতে ছাত্ররা স্বাবলম্বী হতে পারে।
- নেতৃত্ব: বিখ্যাত ভূতত্ত্ববিদ প্রমথনাথ বসু এর প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন।
- রূপান্তর: এটিই পরবর্তীকালে ১৯৫৫ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয় এবং ভারতের ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার পীঠস্থান হয়ে ওঠে।
১৪. আধুনিক বিজ্ঞান চর্চায় কলকাতা বিজ্ঞান কলেজ (Rajabazar Science College)-এর গুরুত্ব লেখো।
১৯১৪ সালে স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এবং তারকনাথ পালিত ও রাসবিহারী ঘোষের দানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞান কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- স্নাতকোত্তর শিক্ষা: এটিই ছিল ভারতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির স্নাতকোত্তর (M.Sc) পঠনপাঠনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র।
- বিখ্যাত শিক্ষক: প্রফুল্লচন্দ্র রায়, সি. ভি. রমন, মেঘনাদ সাহা, সত্যেন্দ্রনাথ বসুর মতো বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানীরা এখানে অধ্যাপনা ও গবেষণা করেছেন।
- স্বনির্ভরতা: ব্রিটিশ সরকারের সাহায্য ছাড়াই কেবল ভারতীয়দের দানে এই প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল, যা ছিল ‘বিকল্প উদ্যোগ’-এর সেরা উদাহরণ।
১৫. জাতীয় শিক্ষা পরিষদ (NCE) কেন গঠিত হয়েছিল? এর ব্যর্থতার কারণ কী? [মাধ্যমিক ২০২০]
গঠনের কারণ: ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্ররা ব্রিটিশ স্কুল-কলেজ বর্জন করে। তাদের জন্য সম্পূর্ণ দেশীয় নিয়ন্ত্রণে ও আদর্শে সাহিত্য, বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষা প্রদানের উদ্দেশ্যে ১৯০৬ সালে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সভাপতিত্বে জাতীয় শিক্ষা পরিষদ গঠিত হয়।
ব্যর্থতার কারণ:
- চাকরির অভাব: ঔপনিবেশিক সরকার এই প্রতিষ্ঠানের ডিগ্রি বা সার্টিফিকেটকে স্বীকৃতি দেয়নি। ফলে এখান থেকে পাস করা ছাত্রদের সরকারি চাকরি পাওয়ার সুযোগ ছিল না।
- আর্থিক সংকট: রাজা-জমিদারদের দানে এটি চলত। কিন্তু সরকারের ভয়ে অনেকেই দান বন্ধ করে দেন, ফলে অর্থাভাব দেখা দেয়।
- মধ্যবিত্তের অনীহা: বাঙালি মধ্যবিত্ত সমাজ তখনও ব্রিটিশ শিক্ষা ও চাকরির প্রতিই বেশি আস্থাশীল ছিল। তারা সন্তানদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলতে চায়নি।
১৬. বাংলায় বিজ্ঞান চর্চায় আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের অবদান লেখো।
আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় ছিলেন ভারতের রসায়ন চর্চার জনক।
- গবেষণা: তিনি মারকিউরাস নাইট্রাইট আবিষ্কার করে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পান। তাঁর লেখা ‘History of Hindu Chemistry’ গ্রন্থে তিনি প্রাচীন ভারতের বিজ্ঞানের গৌরবময় ঐতিহ্য তুলে ধরেন।
- শিল্পোদ্যোগ: ১৯০১ সালে তিনি ‘বেঙ্গল কেমিক্যালস অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়ার্কস’ প্রতিষ্ঠা করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল দেশীয় প্রযুক্তিতে ওষুধ ও রাসায়নিক দ্রব্য তৈরি করা এবং বাঙালি যুবকদের চাকরির ব্যবস্থা করা।
- শিক্ষক হিসেবে: প্রেসিডেন্সি কলেজ ও সায়েন্স কলেজে তিনি একদল তরুণ বিজ্ঞানী তৈরি করেছিলেন যারা ভারতের বিজ্ঞানকে এগিয়ে নিয়ে যান। তিনি বলতেন, “বিজ্ঞান অপেক্ষা আমি আমার ছাত্রদের বেশি ভালোবাসি।”
১৭. তারকনাথ পালিত শিক্ষা বিস্তারে কী ভূমিকা নেন?
স্যার তারকনাথ পালিত ছিলেন একজন বিশিষ্ট আইনজীবী ও দেশপ্রেমিক।
- বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট: ১৯০৬ সালে জাতীয় শিক্ষা পরিষদের অধীনে কারিগরি শিক্ষার জন্য BTI স্থাপনে তিনি প্রধান উদ্যোগী ছিলেন এবং প্রচুর অর্থ সাহায্য করেন।
- সায়েন্স কলেজ: ১৯১৪ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি তাঁর সারা জীবনের উপার্জন এবং বালিগঞ্জ ও রাজাবাজারের বিশাল সম্পত্তি (প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা) দান করেছিলেন।
- শর্ত: তাঁর দানের শর্ত ছিল, এই কলেজে কেবল ভারতীয় অধ্যাপকরাই পড়াবেন। তাঁর দানেই ভারতে উচ্চতর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার ভিত গড়ে ওঠে।
১৮. ‘ডন সোসাইটি’ (Dawn Society) কী উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়?
১৯০২ সালে সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ডন সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল:
- স্বদেশী ভাবধারা: ছাত্রসমাজকে ঔপনিবেশিক শিক্ষার কুফল সম্পর্কে সচেতন করা এবং স্বদেশী ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ করা।
- নৈতিক গঠন: ছাত্রদের নৈতিক চরিত্র গঠন এবং তাদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলা।
- দেশীয় শিল্প: ছাত্রদের দেশীয় পণ্য ব্যবহারে উৎসাহিত করা এবং দেশীয় শিল্পের প্রতি আগ্রহ তৈরি করা।
- এটি বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্রদের সংগঠিত করতে বড় ভূমিকা নিয়েছিল।
১৯. মহেন্দ্রলাল সরকার কে ছিলেন? তিনি কেন বিখ্যাত?
ডা. মহেন্দ্রলাল সরকার ছিলেন উনিশ শতকের একজন বিখ্যাত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক এবং সমাজসেবী।
- IACS প্রতিষ্ঠা: তিনি অনুভব করেছিলেন যে ভারতবাসীকে বিজ্ঞান মনস্ক করে তুলতে হলে নিজস্ব গবেষণা কেন্দ্র প্রয়োজন। তাই তিনি ১৮৭৬ সালে ‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স’ (IACS) প্রতিষ্ঠা করেন।
- জাতীয় বিজ্ঞান চর্চা: তাঁর এই উদ্যোগের ফলেই ভারতে আধুনিক বিজ্ঞান চর্চার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। তিনি রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবেরও চিকিৎসক ছিলেন।
২০. রাসবিহারী ঘোষ স্মরণীয় কেন?
রাসবিহারী ঘোষ ছিলেন একজন বিখ্যাত আইনজীবী এবং কংগ্রেস নেতা।
- জাতীয় শিক্ষা পরিষদ: ১৯০৬ সালে জাতীয় শিক্ষা পরিষদ বা NCE গঠিত হলে তিনি তার প্রথম সভাপতি নির্বাচিত হন।
- অর্থদান: তিনি জাতীয় শিক্ষা পরিষদ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞান কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য বিপুল অর্থ দান করেছিলেন। তাঁর দানেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাসায়নিক প্রযুক্তি বা অ্যাপ্লায়েড কেমিস্ট্রি বিভাগ চালু হয়।
২১. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষা চিন্তার মূল বৈশিষ্ট্য বা আদর্শগুলি কী ছিল? [মাধ্যমিক ২০১৮]
রবীন্দ্রনাথ গতানুগতিক স্কুল শিক্ষার বিরোধী ছিলেন। তাঁর শিক্ষা ভাবনার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
- প্রকৃতির সান্নিধ্য: তিনি মনে করতেন, চারদেওয়ালের বদ্ধ ঘরের চেয়ে প্রকৃতির কোলে মুক্ত আকাশ ও গাছপালার নিচে বসে শিক্ষা গ্রহণ করলে শিশুর মন সজীব থাকে। প্রকৃতিই হলো শ্রেষ্ঠ শিক্ষক।
- আনন্দময় শিক্ষা: শিক্ষা হবে আনন্দের, ভয়ের নয়। তিনি মুখস্থ বিদ্যার বদলে সৃজনশীলতা, খেলাধুলা ও কৌতূহলের ওপর জোর দেন।
- মাতৃভাষা: তিনি বিশ্বাস করতেন, বিদেশি ভাষা নয়, মাতৃভাষাই হলো শিক্ষার প্রকৃত বাহন (“শিক্ষার হেরফের” প্রবন্ধে উল্লিখিত)।
- সার্বিক বিকাশ: কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নয়, সঙ্গীত, নৃত্য, চারুকলা ও কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে তিনি মানুষের দৈহিক ও মানসিক—উভয় বিকাশে বিশ্বাসী ছিলেন।
২২. বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী ছিল? [মাধ্যমিক ২০১৮]
১৯২১ সালে রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল:
- বিশ্বমানবতা: তিনি চেয়েছিলেন এখানে সারা বিশ্বের জ্ঞান ও সংস্কৃতির আদান-প্রদান হবে। তাঁর মূলমন্ত্র ছিল—”যত্র বিশ্বম্ ভবত্যেকনীড়ম্” (যেখানে সারা বিশ্ব একটি নীড়ে মিলিত হয়)।
- প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য: ভারতের আধ্যাত্মিকতার সাথে পশ্চিমের বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী ভাবনার মিলন ঘটানো।
- পল্লী উন্নয়ন: কেবল কেতাবি শিক্ষা নয়, এর সাথে শ্রীনিকেতনের মাধ্যমে গ্রামের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতি ও কৃষির আধুনিকীকরণ করা।
[attachment_0](attachment)
২৩. মানুষ, প্রকৃতি ও শিক্ষার সমন্বয় বিষয়ে রবীন্দ্রনাথের চিন্তাধারা আলোচনা করো। [মাধ্যমিক ২০১৯]
রবীন্দ্রনাথের মতে, মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে কোনো বিরোধ নেই, বরং এক গভীর আত্মিক সম্পর্ক আছে।
- প্রকৃতিই শিক্ষক: তিনি মনে করতেন, প্রকৃতির পরিবর্তন (ঋতুচক্র, গাছপালা, পশুপাখি) থেকেই শিশুরা সবচেয়ে ভালো শেখে। তাই তিনি শান্তিনিকেতনে গাছতলায় ক্লাসের ব্যবস্থা করেন।
- উৎসব ও আনন্দ: প্রকৃতির সাথে মিশে থাকার জন্য তিনি বৃক্ষরোপণ, হলকর্ষণ, বর্ষামঙ্গল, বসন্তোৎসবের মতো নানা অনুষ্ঠানের প্রবর্তন করেন, যাতে শিক্ষার সাথে প্রকৃতির যোগসূত্র স্থাপিত হয়।
- মুক্তি: শহরের যান্ত্রিকতা থেকে মুক্তি দিয়ে তিনি শিশুদের মনের প্রসার ঘটাতে চেয়েছিলেন। তাঁর শিক্ষাদর্শনে ‘স্বাধীনতা’ বা মুক্তি ছিল প্রধান কথা।
২৪. ঔপনিবেশিক শিক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটিগুলি সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের সমালোচনা কী ছিল?
রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘শিক্ষার হেরফের’ প্রবন্ধ এবং ‘তোতাকাহিনী’ গল্পে ব্রিটিশ শিক্ষা ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেন:
- যান্ত্রিকতা: তিনি স্কুলকে ‘আণ্ডামানের জেলখানা’ বা ‘কলের কারখানা’ বলতেন। সেখানে শিশুদের জোর করে বিদ্যা গেলানো হতো, যা তাদের মনকে পঙ্গু করে দিত।
- ভাষার মাধ্যম: ইংরেজি ভাষায় শিক্ষা দেওয়ায় শিশুরা বিষয়বস্তু না বুঝেই মুখস্থ করত, যা তাদের বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ ঘটাতে পারত না।
- সমাজ বিচ্ছিন্নতা: এই শিক্ষা ভারতীয় ছাত্রকে তার নিজের সমাজ ও সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন করে তাকে ‘নকল ইংরেজ’-এ পরিণত করত।
২৫. শান্তিনিকেতন আশ্রম ও ব্রহ্মচর্যাশ্রম বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পটভূমি লেখো।
- শান্তিনিকেতন আশ্রম: ১৮৬৩ সালে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর বোলপুরের নির্জন পরিবেশে ঈশ্বর সাধনা এবং ধর্মালোচনার জন্য শান্তিনিকেতন আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন।
- ব্রহ্মচর্যাশ্রম বিদ্যালয়: ১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ এই আশ্রমেই মাত্র ৫ জন ছাত্র নিয়ে ‘ব্রহ্মচর্যাশ্রম’ বিদ্যালয় শুরু করেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল প্রাচীন ভারতের তপোবনের আদর্শে ছাত্র ও শিক্ষকের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং প্রকৃতির মাঝে সহজ সরল জীবনযাপন করা। এটিই পরে বিশ্বভারতীতে রূপান্তরিত হয়।
২৬. শ্রীনিকেতন কী উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়? এর কাজ কী ছিল?
১৯২২ সালে রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনের কাছেই সুরুল গ্রামে ‘শ্রীনিকেতন’ (Institute of Rural Reconstruction) প্রতিষ্ঠা করেন।
- উদ্দেশ্য: গ্রামের দরিদ্র কৃষকদের স্বনির্ভর করা এবং গ্রামোন্নয়ন।
- কাজ: এখানে আধুনিক কৃষি পদ্ধতি, পশুপালন, কুটির শিল্প (তাঁত, মৃৎশিল্প), স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং সমবায় প্রথার প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। রবীন্দ্রনাথ চেয়েছিলেন শিক্ষা যেন কেবল পুঁথিগত না হয়ে জীবনমুখী হয়।
২৭. ‘তোতাকাহিনী’ গল্পে রবীন্দ্রনাথ কী বার্তা দিয়েছেন?
‘তোতাকাহিনী’ একটি ব্যঙ্গাত্মক রূপক গল্প।
- কাহিনী: গল্পে দেখা যায়, রাজামশাই একটি তোতাপাখিকে শিক্ষিত করার জন্য সোনার খাঁচায় বন্দি করেন এবং পণ্ডিতরা তাকে জোর করে পুঁথির পাতা খাওয়াতে থাকেন। শেষে পাখিটি মারা যায়, তার পেট কেবল শুকনো কাগজে ভরা ছিল।
- বার্তা: এর মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ বুঝিয়েছেন যে, জোর করে চাপিয়ে দেওয়া মুখস্থ-নির্ভর শিক্ষা শিশুর প্রাণশক্তি ও সৃজনশীলতাকে হত্যা করে। শিক্ষার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মনের বিকাশ, কেবল তথ্য গেলা নয়।
২৮. বিশ্বভারতীর প্রতীক বা মূলমন্ত্র কী? এর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
বিশ্বভারতীর মূলমন্ত্র বা নীতিবাক্য হলো—“যত্র বিশ্বম্ ভবত্যেকনীড়ম্” (Yatra Visvam Bhavatyekanidam)।
- অর্থ: “যেখানে সারা বিশ্ব একটি নীড়ে বা পাখির বাসায় মিলিত হয়।”
- তাৎপর্য: রবীন্দ্রনাথ চেয়েছিলেন বিশ্বভারতী হবে এমন এক স্থান যেখানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বের সমস্ত মানুষ জ্ঞান ও সংস্কৃতির আদান-প্রদান করতে পারবে। এটি বিশ্বভ্রাতৃত্ব ও আন্তর্জাতিকতাবাদের প্রতীক।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) – বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ
প্রশ্ন: উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী মুদ্রণ শিল্পে কেন বিখ্যাত?
প্রশ্ন: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেন বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা করেন?
প্রশ্ন: জাতীয় শিক্ষা পরিষদ (NCE) ব্যর্থ হলো কেন?
প্রশ্ন: বসু বিজ্ঞান মন্দির প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী ছিল?
প্রশ্ন: শ্রীরামপুর মিশন প্রেসের অবদান কী?