দশম শ্রেণী ইতিহাস: অধ্যায় -6 রচনাধর্মী প্রশ্নত্তোর

বিভাগ-ঙ: রচনাধর্মী প্রশ্ন ও বিস্তারিত সমাধান

বিষয়: ইতিহাস | অধ্যায়: বিশ শতকের ভারতে কৃষক, শ্রমিক ও বামপন্থী আন্দোলন | প্রশ্ন সংখ্যা: ১-১০ | পূর্ণমান:


১. অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের পর্বে ভারতের কৃষক আন্দোলনের পরিচয় দাও। (৮) [খুব গুরুত্বপূর্ণ]

উত্তর:ভূমিকা: ১৯২০-২২ খ্রিস্টাব্দে গান্ধীজির নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন চলাকালীন ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে কৃষকরা ব্রিটিশ ও জমিদার বিরোধী আন্দোলনে শামিল হয়।

আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়:

  • কিসান সভা গঠন: ১৯২০ সালে বাবা রামচন্দ্রের নেতৃত্বে যুক্তপ্রদেশে ‘অযোধ্যা কিসান সভা’ গঠিত হয়। জওহরলাল নেহেরুও এই আন্দোলনের সাথে যুক্ত হন।
  • একা আন্দোলন (Eka Movement): ১৯২১ সালে যুক্তপ্রদেশের বারাবাঁকি, সীতাপুর ও রাইবেরিলিতে মাদারি পাশির নেতৃত্বে ‘একা’ বা একতা আন্দোলন শুরু হয়। বাড়তি কর না দেওয়া এবং জমিদারের অত্যাচারের বিরোধিতা ছিল এর লক্ষ্য।
  • মেদিনীপুরের আন্দোলন: বীরেন্দ্রনাথ শাসমলের নেতৃত্বে মেদিনীপুরে ইউনিয়ন বোর্ড কর-বিরোধী আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করে।
  • মোপলা বিদ্রোহ: ১৯২১ সালে কেরালার মালাবার উপকূলে মুসলিম মোপলা কৃষকরা হিন্দু জমিদার ও ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। এটি পরে সাম্প্রদায়িক রূপ নেয়।
  • রাজস্থান ও বাংলা: রাজস্থানে মোতিলাল তেজওয়াত এবং বাংলায় দেশপ্রাণ বীরেন্দ্রনাথ শাসমল কৃষকদের সংগঠিত করেন।

উপসংহার: এই আন্দোলনগুলি কংগ্রেসের মূল স্রোতের সাথে পুরোপুরি মিশতে না পারলেও ব্রিটিশ বিরোধী গণজাগরণে কৃষকদের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।

২. আইন অমান্য আন্দোলনের পর্বে কৃষক আন্দোলনের পরিচয় দাও। এই প্রসঙ্গে বরদৌলি সত্যাগ্রহের গুরুত্ব লেখো। (৫+৩)

উত্তর:ভূমিকা: ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনের সময় ভারতের কৃষকরা খাজনা বন্ধের আন্দোলনে যোগ দেয়।

কৃষক আন্দোলন:

  • উত্তরপ্রদেশ: এখানে জওহরলাল নেহেরু ও বাবা রামচন্দ্রের নেতৃত্বে ‘কর বন্ধ’ আন্দোলন শুরু হয়।
  • বাংলা: মেদিনীপুর, আরামবাগ ও মহিষাদলে চৌকিদারি কর বন্ধের আন্দোলন তীব্র হয়। বীরেন্দ্রনাথ শাসমল এতে নেতৃত্ব দেন।
  • বিহার ও ওড়িশা: স্বামী সহজানন্দ সরস্বতীর নেতৃত্বে বিহারে শক্তিশালী কিষাণ সভা আন্দোলন গড়ে ওঠে।

বরদৌলি সত্যাগ্রহ (১৯২৮):

আইন অমান্য আন্দোলনের ঠিক আগেই গুজরাটের সুরাট জেলার বরদৌলি তালুকে যে কৃষক আন্দোলন হয়, তা ইতিহাসে বিখ্যাত।

  • নেতৃত্ব: বল্লভভাই প্যাটেল এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। এখান থেকেই তিনি ‘সর্দার’ উপাধি পান।
  • কারণ: সরকার হঠাৎ রাজস্ব ৩০% বাড়িয়ে দিলে কৃষকরা খাজনা দেওয়া বন্ধ করে দেয়।
  • সাফল্য: কৃষকদের দৃঢ়তা ও নারীদের অংশগ্রহণে সরকার নতিস্বীকার করে এবং বর্ধিত রাজস্ব কমিয়ে দেয়। এটি ছিল কৃষক আন্দোলনের এক বিরাট জয়।

৩. বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় শ্রমিক শ্রেণির ভূমিকা আলোচনা করো। (৮)

উত্তর:ভূমিকা: ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন বাংলা ভাগ করলে যে স্বদেশী আন্দোলন শুরু হয়, তাতে শ্রমিক শ্রেণির অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত কিন্তু অসংগঠিত।

শ্রমিক আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য:

  • ধর্মঘট: ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর (রাখিবন্ধন দিন) বাংলার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা ধর্মঘট পালন করে। হাওড়ার বার্ন কোম্পানি, ফোর্ট গ্লস্টার জুট মিল এবং সরকারি ছাপাখানার শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রাখে।
  • রেল ধর্মঘট: ১৯০৬ সালে আসানসোল ও জামালপুরে রেল শ্রমিকরা ধর্মঘট করে, যা ছিল ব্রিটিশদের কাছে বড় আঘাত।
  • নেতৃত্ব: অশ্বিনীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রভাতকুসুম রায়চৌধুরী, লিয়াকত হোসেন প্রমুখ নেতারা শ্রমিকদের সংগঠিত করার চেষ্টা করেন।
  • সংগঠন: এই সময় ‘প্রিন্টার্স ইউনিয়ন’ এবং ‘ইন্ডিয়ান মিল হ্যান্ডস ইউনিয়ন’ গঠিত হয়।

সীমাবদ্ধতা ও উপসংহার: শ্রমিকরা আন্দোলনে যোগ দিলেও কংগ্রেস বা স্বদেশী নেতারা শ্রমিকদের সমস্যাকে রাজনৈতিক আন্দোলনের মূল এজেন্ডা করেননি। ফলে আন্দোলনটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

৪. ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে বামপন্থী আন্দোলনের ভূমিকা বা অবদান আলোচনা করো। (৮)

উত্তর:ভূমিকা: বিশ শতকে ভারতে সাম্যবাদী বা বামপন্থী ভাবধারার প্রসার ঘটে, যা স্বাধীনতা সংগ্রামকে এক নতুন মাত্রা দেয়।

বামপন্থীদের অবদান:

  • শ্রমিক-কৃষক ঐক্য: বামপন্থীরাই প্রথম শ্রমিক ও কৃষকদের সংগঠিত করে তাদের দাবিদাওয়াকে জাতীয় আন্দোলনের সাথে যুক্ত করে। ১৯২০ সালে AITUC এবং ১৯৩৬ সালে ‘সারা ভারত কিষাণ সভা’ গঠিত হয়।
  • পূর্ণ স্বরাজ: কংগ্রেস যখন স্বায়ত্বশাসনের দাবি করছিল, তখন বামপন্থীরাই প্রথম ১৯২১ সালে আমেদাবাদ অধিবেশনে ‘পূর্ণ স্বরাজ’ বা পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি তোলে।
  • সমাজতান্ত্রিক ভাবধারা: জওহরলাল নেহেরু ও সুভাষচন্দ্র বসু বামপন্থী আদর্শে প্রভাবিত হয়ে কংগ্রেসে সমাজতান্ত্রিক দল গঠন করেন।
  • সশস্ত্রীকরণ: মীরাট ষড়যন্ত্র মামলা (১৯২৯) এবং বিভিন্ন বিপ্লবী কার্যকলাপে বামপন্থীদের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য।

উপসংহার: বামপন্থীরা স্বাধীনতা সংগ্রামকে কেবল ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে সীমাবদ্ধ না রেখে তাকে শোষিত মানুষের মুক্তির আন্দোলনে পরিণত করেছিল।

৫. ‘ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজান্টস পার্টি’ (Workers’ and Peasants’ Party) সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো। (৪+৪)

উত্তর:প্রতিষ্ঠা: ১৯২০-র দশকে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে শ্রমিক ও কৃষকদের নিয়ে ছোট ছোট দল গড়ে ওঠে। ১৯২৮ সালে কলকাতায় এই সব দল একত্রিত হয়ে ‘সারা ভারত ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজান্টস পার্টি’ (WPP) গঠিত হয়। এর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আর. এস. নিম্বকর।

উদ্দেশ্য ও কর্মসূচি:

  • পূর্ণ স্বাধীনতা: দলের প্রধান লক্ষ্য ছিল ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতা অর্জন এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের অবসান।
  • শ্রমিক-কৃষক স্বার্থ: শ্রমিকদের কাজের সময় কমানো, ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ এবং কৃষকদের ওপর জমিদারি শোষণ বন্ধ করা।
  • সংগঠন বিস্তার: মুজাফফর আহমেদ, এস. এ. ডাঙ্গে, পি. সি. যোশী প্রমুখ নেতারা সাইমন কমিশন বিরোধী আন্দোলন এবং বিভিন্ন শ্রমিক ধর্মঘটে নেতৃত্ব দেন।
  • মীরাট ষড়যন্ত্র মামলা: ১৯২৯ সালে ব্রিটিশ সরকার এই দলের নেতাদের গ্রেফতার করে মীরাট ষড়যন্ত্র মামলা শুরু করলে দলটি দুর্বল হয়ে পড়ে।

৬. একা বা একতা আন্দোলনের (১৯২১) কারণ ও বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো। (৮)

উত্তর:ভূমিকা: ১৯২১ সালের শেষের দিকে যুক্তপ্রদেশের (বর্তমান উত্তরপ্রদেশ) উত্তর-পশ্চিমাংশে কৃষকরা যে আন্দোলন শুরু করে, তা একা বা একতা আন্দোলন নামে পরিচিত। এর প্রধান নেতা ছিলেন মাদারী পাশি।

আন্দোলনের কারণ:

  • অতিরিক্ত কর: জমিদার ও ইজারাদাররা নির্ধারিত রাজস্বের চেয়ে ৫০% বেশি কর আদায় করত।
  • অত্যাচার: কর দিতে না পারলে কৃষকদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো এবং জমি থেকে উচ্ছেদ করা হতো।
  • বেগার শ্রম: কৃষকদের বিনা পারিশ্রমিকে জমিদারের জমিতে কাজ করতে বাধ্য করা হতো।

বৈশিষ্ট্য ও শপথ:

  • আন্দোলনকারীরা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শপথ নিত যে—তারা ন্যায্য করের বেশি দেবে না, জমি থেকে উচ্ছেদ হলেও জমি ছাড়বে না এবং বিনা মজুরিতে কাজ করবে না।
  • এই আন্দোলনে ছোট জমিদাররাও যোগ দিয়েছিল।
  • এটি ছিল কংগ্রেসের অহিংস নীতির বাইরে এক উগ্র কৃষক বিদ্রোহ। ১৯২২ সালে ব্রিটিশ সরকার এটি দমন করে।

৭. ভারতের বামপন্থী আন্দোলনে মানবেন্দ্রনাথ রায়ের (M.N. Roy) ভূমিকা আলোচনা করো। (৮)

উত্তর:ভূমিকা: নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য বা মানবেন্দ্রনাথ রায় ছিলেন ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনের জনক এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিপ্লবী।

অবদান:

  • কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠা: ১৯২০ সালে রাশিয়ার তাসখন্দে তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (CPI) প্রতিষ্ঠা করেন। তিনিই প্রথম ভারতীয় যিনি লেনিনের সাথে কাজ করার সুযোগ পান।
  • মতাদর্শ প্রচার: তিনি ‘ভ্যানগার্ড’ (Vanguard) নামক পত্রিকার মাধ্যমে ভারতে সাম্যবাদী ভাবধারা প্রচার করেন এবং মুজাফফর আহমেদ ও ডাঙ্গে-র মতো নেতাদের সাথে যোগাযোগ রাখেন।
  • র‍্যাডিক্যাল হিউম্যানিজম: জীবনের শেষদিকে তিনি মার্কসবাদ থেকে সরে এসে ‘র‍্যাডিক্যাল হিউম্যানিজম’ বা নবমানবতাবাদের দর্শন প্রচার করেন।
  • সি.এস.পি ও কংগ্রেস: তিনি কংগ্রেসে থেকেও বামপন্থী ভাবধারা প্রসারে চেষ্টা করেছিলেন, যদিও পরে মতবিরোধ হয়।

৮. তেভাগা আন্দোলনের (১৯৪৬) পটভূমি ও গুরুত্ব আলোচনা করো। (৮)

উত্তর:পটভূমি: ১৯৪৬ সালে বাংলা ও ভারতের বিভিন্ন স্থানে কৃষক অসন্তোষ দেখা দেয়। ফ্লাউড কমিশনের সুপারিশ ছিল যে, বর্গাদার বা ভাগচাষিরা তাদের উৎপাদিত ফসলের তিন ভাগের দুই ভাগ (২/৩) পাবে এবং জমিদার পাবে এক ভাগ (১/৩)। কিন্তু জমিদাররা তা মানতে চায়নি। এর দাবিতেই দিনাজপুরে তেভাগা আন্দোলন শুরু হয়।

আন্দোলনের বিস্তার ও নেতৃত্ব:

  • কমিউনিস্ট পার্টি ও কিষাণ সভা এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়। চারু মজুমদার, ইলা মিত্র, কংসারি হালদার ছিলেন এর প্রধান নেতা।
  • স্লোগান ছিল—”নিজ খামারে ধান তোলো” এবং “আধ নয়, তেভাগা চাই”।

গুরুত্ব:

  • এটি ছিল ভারতের অন্যতম বৃহত্তম সংগঠিত কৃষক আন্দোলন।
  • এতে হিন্দু, মুসলিম ও আদিবাসী কৃষকরা এবং বিপুল সংখ্যক নারী (রানিমা, বিমলা) অংশ নিয়েছিল।
  • যদিও আন্দোলনটি পুরোপুরি সফল হয়নি, তবে এটি পরবর্তীকালে ভূমি সংস্কার আইনের পথ প্রশস্ত করে।

৯. ভারতের কৃষক ও শ্রমিক আন্দোলনের প্রতি জাতীয় কংগ্রেসের মনোভাব কেমন ছিল? আলোচনা করো। (৮)

উত্তর:কৃষক আন্দোলনের প্রতি মনোভাব:

  • জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্ব ছিল মূলত জমিদার ও উচ্চবিত্ত শ্রেণির হাতে। তাই তারা কৃষকদের সমর্থন করলেও জমিদার বিরোধী কঠোর আন্দোলনে যেতে চায়নি।
  • গান্ধীজি চম্পারণ বা খেড়ায় কৃষকদের পাশে দাঁড়ালেও, একা আন্দোলন বা তেভাগার মতো উগ্র কৃষক আন্দোলনকে কংগ্রেস সমর্থন করেনি। তারা চাইত না জমিদারদের সাথে সরাসরি সংঘাত হোক।

শ্রমিক আন্দোলনের প্রতি মনোভাব:

  • কংগ্রেস শ্রমিকদের দুঃখ-দুর্দশা সম্পর্কে সচেতন ছিল, কিন্তু তারা শ্রমিক আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনের সাথে মেশাতে চায়নি।
  • গান্ধীজি মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বা ‘অছি’ (Trusteeship) ব্যবস্থায় বিশ্বাসী ছিলেন।
  • বামপন্থীদের প্রভাবে শ্রমিক আন্দোলন উগ্র হলে কংগ্রেস তা থেকে দূরত্ব বজায় রাখত।

উপসংহার: কংগ্রেসের এই দোদুল্যমান নীতির ফলেই কৃষক ও শ্রমিকরা পরে বামপন্থী দলগুলির দিকে ঝুঁকে পড়ে।

১০. মীরাট ষড়যন্ত্র মামলা (১৯২৯) কী? এর ফলাফল ও গুরুত্ব লেখো। (৪+৪)

উত্তর:পটভূমি: ১৯২০-র দশকের শেষদিকে ভারতে শ্রমিক আন্দোলন ও কমিউনিস্ট প্রভাব বৃদ্ধি পেলে ব্রিটিশ সরকার ভীত হয়ে পড়ে। আন্দোলন দমন করতে ১৯২৯ সালে সরকার ৩৩ জন শ্রমিক নেতাকে (যার মধ্যে ৩ জন ব্রিটিশও ছিলেন) গ্রেপ্তার করে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে মীরাট ষড়যন্ত্র মামলা শুরু করে।

অভিযুক্ত নেতাগণ: মুজাফফর আহমেদ, এস. এ. ডাঙ্গে, পি. সি. যোশী, ফিলিপ স্প্র্যাট প্রমুখ।

ফলাফল ও গুরুত্ব:

  • দীর্ঘ ৪ বছর বিচার চলার পর নেতাদের কঠোর কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
  • এই মামলার ফলে কমিউনিস্ট পার্টি আন্তর্জাতিক পরিচিতি পায়। আইনস্টাইন, রোমা রোঁলার মতো বিশ্ববিখ্যাত ব্যক্তিরা এর প্রতিবাদ করেন।
  • যদিও এই মামলা সাময়িকভাবে বামপন্থী আন্দোলনকে দুর্বল করেছিল, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি শ্রমিক আন্দোলনকে আরও জনপ্রিয় করে তোলে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) – কৃষক ও শ্রমিক আন্দোলন (রচনাধর্মী)


প্রশ্ন: অসহযোগ আন্দোলনে কৃষকদের ভূমিকা কেমন ছিল?

উত্তর: ১৯২০-২২ সালে অসহযোগ আন্দোলনের সময় ভারতের কৃষকরা ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। যুক্তপ্রদেশে বাবা রামচন্দ্র এবং মাদারি পাশি (একা আন্দোলন)-র নেতৃত্বে কৃষকরা জমিদার ও সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। বাংলায় বীরেন্দ্রনাথ শাসমলের নেতৃত্বে এবং রাজস্থানে মোতিলাল তেজওয়াতের নেতৃত্বেও শক্তিশালী কৃষক আন্দোলন গড়ে ওঠে।

প্রশ্ন: স্বাধীনতা সংগ্রামে বামপন্থীদের অবদান কী?

উত্তর: বামপন্থীরা স্বাধীনতা আন্দোলনকে কেবল ব্রিটিশ বিরোধিতায় সীমাবদ্ধ না রেখে তাকে শোষিত মানুষের (কৃষক ও শ্রমিক) মুক্তির আন্দোলনে পরিণত করেছিল। তারা AITUCকিসান সভা গঠন করে গণ-আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করে এবং কংগ্রেসের আগেই ‘পূর্ণ স্বরাজ’-এর দাবি তোলে।

প্রশ্ন: বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে শ্রমিক শ্রেণির ভূমিকা কী ছিল?

উত্তর: ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে বাংলার শ্রমিকরা ধর্মঘটের মাধ্যমে ব্রিটিশ প্রশাসনকে অচল করার চেষ্টা করে। বিশেষ করে সরকারি ছাপাখানা, চটকল এবং রেলওয়ে শ্রমিকদের ধর্মঘট ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে জাতীয় নেতারা শ্রমিকদের সমস্যাকে গুরুত্ব না দেওয়ায় এই আন্দোলন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

প্রশ্ন: মানবেন্দ্রনাথ রায় স্মরণীয় কেন?

উত্তর: মানবেন্দ্রনাথ রায় (আসল নাম নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য) ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিপ্লবী এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা (১৯২০, তাসখন্দ)। তিনি ভারতে সমাজতান্ত্রিক ভাবধারা প্রসারে এবং পরবর্তীকালে ‘র‍্যাডিক্যাল হিউম্যানিজম’ বা নবমানবতাবাদের প্রবক্তা হিসেবে স্মরণীয়।

প্রশ্ন: আইন অমান্য আন্দোলনে শ্রমিকদের অংশগ্রহণ সীমিত ছিল কেন?

উত্তর: ১৯৩০-এর দশকে আইন অমান্য আন্দোলনের সময় শ্রমিকরা কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত ছিল। কারণ, কমিউনিস্ট পার্টি কংগ্রেসের আন্দোলন থেকে দূরে থাকার নীতি নিয়েছিল। তাছাড়া মিরাট ষড়যন্ত্র মামলায় (১৯২৯) প্রধান শ্রমিক নেতারা জেলে থাকায় আন্দোলনের গতি কমে গিয়েছিল।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার