দশম শ্রেণী ইতিহাস: অধ্যায় -6 বিশ শতকের ভারতে কৃষক, শ্রমিক ও বামপন্থী আন্দোলন সংক্ষিপ্ত
বিভাগ-গ: সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন
বিষয়: ইতিহাস (অধ্যায় ৬) | প্রশ্ন সংখ্যা: ১-১১২
১. একা বা একতা আন্দোলন (১৯২১) কেন শুরু হয়েছিল? [মাধ্যমিক ২০১৭]
✅ উত্তর: যুক্তপ্রদেশের (বর্তমান উত্তরপ্রদেশ) কৃষকরা তিনটি প্রধান কারণে এই আন্দোলন শুরু করে:
১) নির্ধারিত রাজস্বের চেয়ে ৫০% বেশি কর আদায়।
২) রাজস্ব দিতে না পারলে জমি থেকে উচ্ছেদ করা।
৩) বিনা পারিশ্রমিকে বেগার খাটানো।
২. একা আন্দোলনের শপথগুলি কী ছিল?
✅ উত্তর: মাদারি পাশির নেতৃত্বে কৃষকরা শপথ নিয়েছিল যে:
১) তারা ন্যায্য রাজস্বের বেশি দেবে না।
২) জমি থেকে উচ্ছেদ করা হলেও তারা জমি ছাড়বে না।
৩) তারা বেগার খাটবে না এবং পঞ্চায়েতের সিদ্ধান্ত মেনে চলবে।
৩. বারদৌলি সত্যাগ্রহ (১৯২৮) কেন শুরু হয়েছিল?
✅ উত্তর: ১৯২৮ সালে গুজরাটের সুরাট জেলার বারদৌলি তালুকে ব্রিটিশ সরকার হঠাৎ করে ভূমিরাজস্ব ৩০% বাড়িয়ে দেয়। খরা ও বন্যার কারণে কৃষকরা দুর্দশাগ্রস্ত ছিল, তাই এই অন্যায় কর বৃদ্ধির প্রতিবাদে বল্লভভাই প্যাটেলের নেতৃত্বে সত্যাগ্রহ শুরু হয়।
৪. ‘কালিপরাজ’ ও ‘উজালিপরাজ’ কাদের বলা হতো?
✅ উত্তর: বারদৌলি অঞ্চলে নিম্নবর্ণের ভূমিহীন কৃষি শ্রমিকদের (কালো মানুষ) বলা হতো ‘কালিপরাজ’। আর উচ্চবর্ণের ভূস্বামীদের (সাদা মানুষ) বলা হতো ‘উজালিপরাজ’। গান্ধীজি কালিপরাজদের নাম দেন ‘রানিপ্রাজ’ বা বনবাসী।
৫. সারা ভারত কিষাণ সভা (All India Kisan Sabha) প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী ছিল? [মাধ্যমিক ২০১৯]
✅ উত্তর: ১৯৩৬ সালে স্বামী সহজানন্দ সরস্বতীর সভাপতিত্বে এটি গঠিত হয়। উদ্দেশ্য ছিল:
১) ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের বিচ্ছিন্ন কৃষক আন্দোলনগুলিকে এক ছাতার তলায় আনা।
২) জমিদারি প্রথার বিলোপ এবং কৃষকদের ঋণের বোঝা কমানোর দাবি তোলা।
৬. তেভাগা আন্দোলন (১৯৪৬) কেন হয়েছিল? এর স্লোগান কী ছিল?
✅ উত্তর: ফ্লাউড কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, বাংলার বর্গাদার বা ভাগচাষিরা দাবি করে যে উৎপন্ন ফসলের তিন ভাগের দুই ভাগ (২/৩) তাদের দিতে হবে এবং এক ভাগ (১/৩) জমিদার পাবে। এই দাবিতেই আন্দোলন হয়।
স্লোগান: “আধ নয়, তেভাগা চাই” এবং “নিজ খামারে ধান তোলো”।
৭. বাবা রামচন্দ্র কে ছিলেন?
✅ উত্তর: বাবা রামচন্দ্র ছিলেন যুক্তপ্রদেশের (ইউপি) একজন কৃষক নেতা। তিনি ১৯২০ সালে ‘অযোধ্যা কিষাণ সভা’ গঠন করেন এবং অসহযোগ আন্দোলনের সময় কৃষকদের জমিদার বিরোধী আন্দোলনে সংগঠিত করেন।
৮. মোপলা বিদ্রোহের (১৯২১) কারণ কী ছিল?
✅ উত্তর: কেরালার মালাবার উপকূলে মুসলিম মোপলা কৃষকরা হিন্দু জমিদার (জেনমি) এবং ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। কারণ ছিল—অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়, বেআইনি কর এবং জমি থেকে উচ্ছেদ।
৯. চম্পারণ সত্যাগ্রহের (১৯১৭) গুরুত্ব কী?
✅ উত্তর: এটি ছিল গান্ধীজির নেতৃত্বে ভারতে প্রথম সফল সত্যাগ্রহ আন্দোলন। বিহারের চম্পারণে নীলকরদের অত্যাচার এবং ‘তিনকাঠিয়া’ প্রথার (২০ কাঠার মধ্যে ৩ কাঠায় নীল চাষ বাধ্যতামূলক) বিরুদ্ধে এই আন্দোলন হয় এবং শেষপর্যন্ত সরকার এই প্রথা রদ করে।
১০. তিনকাঠিয়া প্রথা (Tinkathia System) বলতে কী বোঝো?
✅ উত্তর: বিহারের চম্পারণে নীলকর সাহেবরা কৃষকদের মোট জমির প্রতি ২০ কাঠার মধ্যে ৩ কাঠা জমিতে নীল চাষ করতে বাধ্য করত। এই শোষণমূলক ব্যবস্থাকেই তিনকাঠিয়া প্রথা বলা হতো।
১১. রম্পা বিদ্রোহের (১৯২২-২৪) কারণ কী?
✅ উত্তর: অন্ধ্রপ্রদেশের গোদাবরী উপত্যকার রম্পা উপজাতিরা ব্রিটিশদের কঠোর অরণ্য আইনের বিরুদ্ধে এবং অরণ্যে তাদের চিরাচরিত অধিকার ফিরে পাওয়ার দাবিতে আল্লুরি সীতারাম রাজুর নেতৃত্বে বিদ্রোহ করেছিল।
১২. বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে কৃষকরা কেন সেভাবে যোগ দেয়নি? [মাধ্যমিক ২০১৮]
✅ উত্তর: বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন ছিল মূলত শহরের উচ্চবিত্ত ও জমিদার শ্রেণির নেতৃত্বাধীন। এই আন্দোলনে কৃষকদের সমস্যা (খাজনা, উচ্ছেদ) নিয়ে কোনো কর্মসূচি ছিল না। তাই সাধারণ কৃষকরা এই আন্দোলন থেকে দূরে ছিল।
১৩. বীরেন্দ্রনাথ শাসমল স্মরণীয় কেন?
✅ উত্তর: তিনি ছিলেন মেদিনীপুরের প্রখ্যাত কৃষক নেতা এবং আইনজীবী। অসহযোগ আন্দোলনের সময় তিনি মেদিনীপুরে ‘ইউনিয়ন বোর্ড কর’ বিরোধী আন্দোলনে কৃষকদের সংগঠিত করে সাফল্য পান। তাঁকে ‘দেশপ্রাণ’ বলা হয়।
১৪. ‘বকস্ত’ জমি বলতে কী বোঝায়? বকস্ত আন্দোলন কোথায় হয়?
✅ উত্তর: মন্দার বা অন্য কারণে খাজনা দিতে না পারায় জমিদাররা কৃষকদের যে জমি কেড়ে নিত, কিন্তু নিলাম করত না (জমিদারদের খাস জমি), তাকে বকস্ত জমি বলে।
১৯৩৭-৩৮ সালে বিহারে স্বামী সহজানন্দের নেতৃত্বে এই জমি ফেরতের দাবিতে আন্দোলন হয়।
১৫. খেদা বা খেরা সত্যাগ্রহ কেন হয়েছিল?
✅ উত্তর: ১৯১৮ সালে গুজরাটের খেদা জেলায় অনাবৃষ্টির কারণে শস্যহানি ঘটে। ব্রিটিশ রাজস্ব বিধি অনুযায়ী, উৎপাদন ২৫%-এর কম হলে রাজস্ব মকুবের নিয়ম ছিল। কিন্তু সরকার জোর করে রাজস্ব আদায় করতে চাইলে গান্ধীজির নেতৃত্বে কৃষকরা সত্যাগ্রহ করে।
১৬. ‘হালি প্রথা’ কী?
✅ উত্তর: বারদৌলি অঞ্চলে উচ্চবর্ণের জমিদারদের কাছে নিম্নবর্ণের কৃষি শ্রমিকরা (কালিপরাজ) বংশপরম্পরায় ক্রীতদাসের মতো কাজ করতে বাধ্য থাকত। এই শোষণমূলক ব্যবস্থাকে হালি প্রথা বলা হতো।
১৭. ১৯২৯ সালের বিশ্বব্যাপী মহামন্দার প্রভাব ভারতের কৃষকদের ওপর কীভাবে পড়েছিল?
✅ উত্তর: মহামন্দার ফলে কৃষিপণ্যের দাম মারাত্মকভাবে কমে যায় (৫০% হ্রাস)। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার রাজস্ব কমায়নি। ফলে কৃষকরা ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ে এবং চরম দারিদ্র্যের শিকার হয়। এটি আইন অমান্য আন্দোলনে তাদের যোগ দিতে বাধ্য করে।
১৮. ফ্লাউড কমিশন (Floud Commission) কেন গঠিত হয়?
✅ উত্তর: ১৯৪০ সালে বাংলা সরকার ভাগচাষিদের সমস্যা খতিয়ে দেখতে ফ্লাউড কমিশন গঠন করে। এই কমিশন সুপারিশ করে যে, বর্গাদারদের ফসলের দুই-তৃতীয়াংশ পাওয়ার অধিকার আছে। এই সুপারিশই তেভাগা আন্দোলনের ভিত্তি ছিল।
১৯. আইন অমান্য আন্দোলনে কৃষকদের অংশগ্রহণ কেমন ছিল?
✅ উত্তর: এই আন্দোলনে ভারতের কৃষকরা ব্যাপকভাবে সাড়া দেয়। উত্তরপ্রদেশে ‘কর বন্ধ’ আন্দোলন, বাংলায় চৌকিদারি কর বন্ধ এবং বিহারে কিষাণ সভার নেতৃত্বে কৃষকরা সক্রিয় ভূমিকা নেয়।
২০. কাকাাবাবু নামে কে পরিচিত ছিলেন? তাঁর অবদান কী?
✅ উত্তর: মুজাফফর আহমেদ ‘কাকাবাবু’ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি ছিলেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ‘লাঙ্গল’ ও ‘গণবাণী’ পত্রিকার মাধ্যমে কৃষক ও শ্রমিকদের সংগঠিত করতেন।
২১. মাদারি পাশি কে ছিলেন?
✅ উত্তর: তিনি ছিলেন একা বা একতা আন্দোলনের (১৯২১) প্রধান নেতা। তিনি নিম্নবর্গের পাসি সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন এবং কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করে জমিদার ও ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলেন।
২২. স্বামী সহজানন্দ সরস্বতী কে ছিলেন?
✅ উত্তর: তিনি ছিলেন ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কৃষক নেতা। তিনি ১৯২৯ সালে ‘বিহার প্রাদেশিক কিষাণ সভা’ এবং ১৯৩৬ সালে ‘সারা ভারত কিষাণ সভা’র প্রথম সভাপতি হন।
২৩. বল্লভভাই প্যাটেলকে ‘সর্দার’ উপাধি কারা এবং কেন দেন?
✅ উত্তর: বারদৌলি সত্যাগ্রহে (১৯২৮) সফল নেতৃত্বের জন্য বারদৌলির মহিলারা (গান্ধীজির মাধ্যমে) বল্লভভাই প্যাটেলকে ‘সর্দার’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
২৪. নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস (AITUC) প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী ছিল? [মাধ্যমিক ২০১৭]
✅ উত্তর: ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত AITUC-এর উদ্দেশ্য ছিল:
১) ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা শ্রমিক সংগঠনগুলিকে ঐক্যবদ্ধ করা।
২) শ্রমিকদের কাজের সময় কমানো, মজুরি বৃদ্ধি এবং বাসস্থানের দাবি আদায় করা।
২৫. মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা (১৯২৯) কেন শুরু হয়েছিল? [মাধ্যমিক ২০২০]
✅ উত্তর: ভারতে কমিউনিস্ট ও শ্রমিক আন্দোলনের ক্রমবর্ধমান শক্তিতে ভীত হয়ে ব্রিটিশ সরকার এই মামলা শুরু করে। মুজাফফর আহমেদসহ ৩৩ জন শ্রমিক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল ভারতে সমাজতান্ত্রিক ভাবধারার প্রসার রোধ করা।
২৬. ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজান্টস পার্টি (WPP) কেন প্রতিষ্ঠিত হয়? [মাধ্যমিক ২০১৯]
✅ উত্তর: ১৯২৮ সালে কংগ্রেসের ভেতরে থেকে বামপন্থী ভাবধারা প্রচার এবং শ্রমিক ও কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য এই দল গঠিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল শ্রমিক-কৃষকদের সংগঠিত করে পূর্ণ স্বরাজ অর্জন করা।
২৭. মানবেন্দ্রনাথ রায় (M.N. Roy) স্মরণীয় কেন?
✅ উত্তর: নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য বা এম. এন. রায় ১৯২০ সালে তাসখন্দে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (CPI) প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি লেনিনের সাথে কাজ করেছেন এবং ভারতে সাম্যবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ ছিলেন।
২৮. ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে শ্রমিকদের ভূমিকা কী ছিল?
✅ উত্তর: বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে বাংলার বিভিন্ন কারখানায় (যেমন- বার্ন কোম্পানি, জুট মিল) শ্রমিকরা ধর্মঘট পালন করে। ১৯০৬ সালে রেলওয়ে শ্রমিকদের ধর্মঘট ব্রিটিশ প্রশাসনকে অচল করে দেওয়ার চেষ্টা করে।
২৯. ‘কংগ্রেস সমাজতন্ত্রী দল’ (CSP) প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী ছিল?
✅ উত্তর: ১৯৩৪ সালে জয়প্রকাশ নারায়ণ ও আচার্য নরেন্দ্র দেব কংগ্রেসের ভেতরেই এই দল গঠন করেন। উদ্দেশ্য ছিল কংগ্রেসের নীতিকে সমাজতন্ত্রের দিকে চালিত করা এবং শ্রমিক-কৃষকদের দাবিকে কংগ্রেসের কর্মসূচিতে স্থান দেওয়া।
৩০. ট্রেড ইউনিয়ন অ্যাক্ট (১৯২৬) বা শ্রমিক সংঘ আইনের গুরুত্ব কী?
✅ উত্তর: এই আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার ট্রেড ইউনিয়নগুলিকে আইনি স্বীকৃতি দেয়। তবে এতে শর্ত দেওয়া হয় যে শ্রমিক নেতারা রাজনৈতিক আন্দোলনে যোগ দিতে পারবেন না।
৩১. লালা লাজপত রায় শ্রমিক আন্দোলনে কী ভূমিকা নিয়েছিলেন?
✅ উত্তর: তিনি ছিলেন AITUC-এর প্রথম সভাপতি (১৯২০)। তিনি বিশ্বাস করতেন যে ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য শ্রমিক শ্রেণিকে সংগঠিত করা এবং সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা অপরিহার্য।
৩২. ১৯২৯ সালে জওহরলাল নেহেরু AITUC-এর অধিবেশনে কী বলেছিলেন?
✅ উত্তর: নাগপুর অধিবেশনে সভাপতি হিসেবে নেহেরু বলেছিলেন যে, “সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদ একে অপরের সহযোগী।” তিনি শ্রমিকদের জাতীয় কংগ্রেসের সাথে যুক্ত হয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
৩৩. রেডিক্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (RDP) কে, কেন গঠন করেন?
✅ উত্তর: মানবেন্দ্রনাথ রায় ১৯৪০ সালে এই দল গঠন করেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল কংগ্রেস ও কমিউনিস্ট পার্টির বাইরে একটি বিকল্প বামপন্থী ও মানবতাবাদী (Radical Humanism) রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলা যা ফ্যাসিবাদের বিরোধিতা করবে।
৩৪. ফরোয়ার্ড ব্লক দল কে, কেন গঠন করেন?
✅ উত্তর: ১৯৩৯ সালে সুভাষচন্দ্র বসু কংগ্রেসের সভাপতির পদ ত্যাগ করে ফরোয়ার্ড ব্লক গঠন করেন। উদ্দেশ্য ছিল কংগ্রেসের ভেতরে বামপন্থী ও প্রগতিশীল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং আপসহীন সংগ্রামের পথে চলা।
৩৫. তেলেঙ্গানা আন্দোলনের (১৯৪৬) গুরুত্ব কী?
✅ উত্তর: হায়দ্রাবাদের নিজাম শাসিত তেলেঙ্গানায় কৃষকরা জমিদারি শোষণ ও বেগার প্রথার বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ করে। এটি ছিল ভারতের অন্যতম সফল কমিউনিস্ট পরিচালিত কৃষক বিদ্রোহ, যা হায়দ্রাবাদকে ভারতের সাথে যুক্ত করতে সাহায্য করে।
৩৬. মাদ্রাজ লেবার ইউনিয়ন (১৯১৮)-এর গুরুত্ব কী?
✅ উত্তর: বি. পি. ওয়াদিয়া প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি ছিল ভারতের প্রথম আধুনিক ও সুসংগঠিত ট্রেড ইউনিয়ন। এটি ভারতের অন্যান্য স্থানে শ্রমিক সংগঠন তৈরিতে পথপ্রদর্শকের কাজ করে।
৩৭. মিরাট ষড়যন্ত্র মামলার ফলাফল কী হয়েছিল?
✅ উত্তর: এই মামলায় ৩৩ জন শ্রমিক নেতার দীর্ঘমেয়াদী জেল হয়। এর ফলে কমিউনিস্ট আন্দোলন সাময়িকভাবে দুর্বল হলেও, আন্তর্জাতিক স্তরে (আইনস্টাইন, রোমা রোঁলা প্রতিবাদ করেন) ভারতের শ্রমিক আন্দোলন পরিচিতি পায়।
৩৮. ‘লাঙ্গল’ ও ‘গণবাণী’ পত্রিকার ভূমিকা কী ছিল?
✅ উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত ‘লাঙ্গল’ এবং মুজাফফর আহমেদ সম্পাদিত ‘গণবাণী’ পত্রিকা শ্রমিক ও কৃষকদের সমস্যা তুলে ধরত এবং তাদের মধ্যে সমাজতান্ত্রিক চেতনার প্রসার ঘটাত।
৩৯. ভারতে বামপন্থী আন্দোলন গড়ে ওঠার দুটি কারণ লেখো।
✅ উত্তর: ১) রুশ বিপ্লবের প্রভাব: ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব ভারতীয় যুবকদের সমাজতন্ত্রে আকৃষ্ট করে।
২) অর্থনৈতিক মন্দা: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও বেকারত্ব শ্রমিক-কৃষকদের বামপন্থার দিকে ঠেলে দেয়।
৪০. কাকোরি ষড়যন্ত্র মামলা (১৯২৫) কী?
✅ উত্তর: হিন্দুস্তান রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশনের বিপ্লবীরা (রামপ্রসাদ বিসমিল, আশফাকুল্লা খান) রেল ডাকাতি করে সরকারি অর্থ লুণ্ঠন করেন। এই ঘটনায় যে মামলা হয়, তাকে কাকোরি ষড়যন্ত্র মামলা বলে।
৪১. ১৯৪৬ সালের নৌবিদ্রোহের গুরুত্ব কী ছিল?
✅ উত্তর: বোম্বাইয়ের তলোয়ার জাহাজে শুরু হওয়া এই বিদ্রোহ প্রমাণ করে যে ব্রিটিশরা আর ভারতের সেনাবাহিনীর ওপর নির্ভর করতে পারবে না। এটি ব্রিটিশদের ভারত ত্যাগের সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করে।
৪২. রশিদ আলি দিবস (১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৬) কেন পালিত হয়?
✅ উত্তর: আজাদ হিন্দ ফৌজের ক্যাপ্টেন রশিদ আলিকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলে, তার প্রতিবাদে কলকাতায় ব্যাপক ছাত্র আন্দোলন ও ধর্মঘট হয়। এই দিনটিকেই রশিদ আলি দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
৪৩. ভারত ছাড়ো আন্দোলনে শ্রমিকদের ভূমিকা কী ছিল?
✅ উত্তর: ১৯৪২-এর আন্দোলনে বোম্বাই, আমেদাবাদ, জামশেদপুর ও কলকাতার শ্রমিকরা ব্যাপক ধর্মঘট করে। তারা কলকারখানা বন্ধ করে দেয় এবং রেললাইন উপড়ে ফেলে ব্রিটিশ প্রশাসনকে অচল করে দেওয়ার চেষ্টা করে।
৪৪. লেবার স্বরাজ পার্টি (১৯২৫) কেন গঠিত হয়?
✅ উত্তর: বাংলায় শ্রমিক ও কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং পূর্ণ স্বাধীনতার দাবিতে মুজাফফর আহমেদ ও কাজী নজরুল ইসলাম এই দলটি গঠন করেন। এটি ছিল ভারতের প্রথম শ্রমিক-কৃষক ভিত্তিক রাজনৈতিক দল।
৪৫. ১৯০৮ সালে বোম্বাইতে শ্রমিক ধর্মঘট কেন হয়েছিল?
✅ উত্তর: বাল গঙ্গাধর তিলককে রাজদ্রুহের অপরাধে ৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলে, বোম্বাইয়ের সুতাকল শ্রমিকরা এর প্রতিবাদে ৬ দিন ধরে ঐতিহাসিক ধর্মঘট পালন করে।
৪৬. আইন অমান্য আন্দোলনের সময় শ্রমিকরা কেন দ্বিধাবিভক্ত ছিল?
✅ উত্তর: ১৯২৮ সালের পর থেকে কমিউনিস্টরা কংগ্রেসের আন্দোলন থেকে সরে আসে (তৃতীয় আন্তর্জাতিকের নির্দেশে)। ফলে আইন অমান্য আন্দোলনের সময় শ্রমিকদের একটি অংশ কংগ্রেসে যোগ দিলেও কমিউনিস্ট প্রভাবিত শ্রমিকরা দূরে ছিল।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) – কৃষক ও শ্রমিক আন্দোলন
প্রশ্ন: একা আন্দোলন কেন শুরু হয়েছিল?
✅ উত্তর: ১৯২১ সালে মাদারি পাশির নেতৃত্বে যুক্তপ্রদেশের কৃষকরা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়, বেগার শ্রম এবং অন্যায়ভাবে জমি থেকে উচ্ছেদের প্রতিবাদে একা বা একতা আন্দোলন শুরু করে। তারা শপথ নিয়েছিল যে তারা ন্যায্য হারের বেশি কর দেবে না।
প্রশ্ন: বারদৌলি সত্যাগ্রহের গুরুত্ব কী?
✅ উত্তর: ১৯২৮ সালে বল্লভভাই প্যাটেলের নেতৃত্বে গুজরাটের বারদৌলিতে কৃষকরা রাজস্ব বৃদ্ধির প্রতিবাদে সফল সত্যাগ্রহ করে। এই আন্দোলনের সাফল্য কৃষকদের সংগঠিত করার পথ দেখায় এবং প্যাটেল এখান থেকেই ‘সর্দার’ উপাধি পান।
প্রশ্ন: মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা কেন শুরু হয়েছিল?
✅ উত্তর: ভারতে কমিউনিস্ট ও শ্রমিক আন্দোলনের প্রভাব কমাতে ব্রিটিশ সরকার ১৯২৯ সালে মুজাফফর আহমেদসহ ৩৩ জন বামপন্থী নেতাকে গ্রেপ্তার করে এই মামলা শুরু করে। উদ্দেশ্য ছিল ভারতে সমাজতান্ত্রিক বা বলশেভিক মতাদর্শের প্রসার রোধ করা।
প্রশ্ন: সারা ভারত কিষাণ সভার উদ্দেশ্য কী ছিল?
✅ উত্তর: ১৯৩৬ সালে স্বামী সহজানন্দ সরস্বতীর নেতৃত্বে লখনউতে এই সভা গঠিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের বিচ্ছিন্ন কৃষক আন্দোলনগুলিকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং জমিদারি প্রথা বিলোপ ও ঋণের বোঝা কমানোর দাবি তোলা।
প্রশ্ন: তেভাগা আন্দোলনের স্লোগান কী ছিল?
✅ উত্তর: ১৯৪৬ সালে বাংলার ভাগচাষিরা দাবি করে যে উৎপাদিত ফসলের তিন ভাগের দুই ভাগ (২/৩) তাদের দিতে হবে। তাদের স্লোগান ছিল—‘আধ নয়, তেভাগা চাই’ এবং ‘নিজ খামারে ধান তোলো’।