দশম শ্রেণী ভূগোল: অধ্যায় – 1 ‘বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ’

বিভাগ-ঙ: রচনাধর্মী প্রশ্ন ও বিস্তারিত সমাধান

বিষয়: ভূগোল | অধ্যায়: বহির্জাত প্রক্রিয়া ও ভূমিরূপ | প্রশ্ন সংখ্যা: ১-১৬ | পূর্ণমান:


১. নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট তিনটি প্রধান ভূমিরূপ চিত্রসহ বর্ণনা করো। [মাধ্যমিক ২০১৭, ২০১৯]

উত্তর:
নদীর উচ্চগতি বা পার্বত্য প্রবাহে প্রবল স্রোতের কারণে ক্ষয়কার্য বেশি হয়। এর ফলে সৃষ্ট প্রধান তিনটি ভূমিরূপ হলো:

  • ১. ‘V’ আকৃতির উপত্যকা ও গিরিখাত: পার্বত্য অঞ্চলে নদীর স্রোত খুব বেশি থাকায় নিম্নক্ষয় প্রবল হয়, কিন্তু পার্শ্বক্ষয় কম হয়। ফলে নদী উপত্যকাটি সংকীর্ণ ও গভীর হয়ে ইংরেজি ‘V’ অক্ষরের মতো দেখতে হয়। খুব গভীর গিরিখাতকে ক্যানিয়ন (I-আকৃতির) বলা হয় (যেমন- গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন)।
  • ২. জলপ্রপাত (Waterfall): নদীর গতিপথে কঠিন ও কোমল শিলাস্তর আড়াআড়িভাবে অবস্থান করলে, কোমল শিলাটি দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নিচু হয়ে যায় এবং কঠিন শিলাটি খাড়াভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। নদী তখন খাড়া ঢাল বেয়ে প্রবল বেগে নিচে পড়ে, একে জলপ্রপাত বলে। (যেমন- যোগ জলপ্রপাত)।

    [attachment_0](attachment)
  • ৩. মন্থকূপ (Pot Holes): প্রবল স্রোতের সাথে বাহিত নুড়ি-পাথর নদীর তলদেশে অবঘর্ষ প্রক্রিয়ায় আঘাত করে ছোট ছোট গর্ত তৈরি করে। জলের ঘূর্ণনে পাথরগুলো ঘুরতে ঘুরতে এই গর্তগুলোকে বড় ও গভীর করে হাঁড়ির মতো আকৃতি দেয়, এদের মন্থকূপ বলে।

২. নদীর সঞ্চয়কার্যের ফলে সৃষ্ট তিনটি ভূমিরূপের বর্ণনা দাও। [মাধ্যমিক ২০১৮]

উত্তর:
নদীর মধ্য ও নিম্ন গতিতে ভূমির ঢাল ও স্রোত কমে যাওয়ায় সঞ্চয়কার্য প্রাধান্য পায়।

  • ১. প্লাবনভূমি (Flood Plain): বর্ষাকালে নদীর দুকূল ছাপিয়ে বন্যা হলে পলিমাটি বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। জল সরে গেলে পলি সঞ্চিত হয়ে যে উর্বর সমভূমি গঠিত হয়, তাকে প্লাবনভূমি বলে। (যেমন- গঙ্গার প্লাবনভূমি)।

    [attachment_1](attachment)
  • ২. স্বাভাবিক বাঁধ (Natural Levee): বন্যার সময় নদীর তীরের কাছে মোটা দানাযুক্ত পলি বেশি পরিমাণে সঞ্চিত হয়। বারবার সঞ্চয়ের ফলে নদীর দুই তীরে বাঁধের মতো উঁচু যে ভূমি তৈরি হয়, তাকে স্বাভাবিক বাঁধ বলে।
  • ৩. বদ্বীপ (Delta): নদীর মোহনায় নদীবাহিত পলি, বালি ও কাদা সঞ্চিত হয়ে গ্রিক অক্ষর ডেল্টা ($\Delta$) বা মাত্রাহীন ‘ব’-এর মতো যে ভূমিরূপ গঠন করে, তাকে বদ্বীপ বলে। (যেমন- গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ)।

৩. বদ্বীপ গঠনের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশ বা শর্তগুলি আলোচনা করো।

উত্তর:
সব নদীর মোহনায় বদ্বীপ গড়ে ওঠে না। বদ্বীপ গঠনের প্রধান শর্তগুলি হলো:

  • ১. দীর্ঘ গতিপথ ও পলিরাশি: নদীকে দীর্ঘপথ অতিক্রম করতে হবে এবং প্রচুর পরিমাণে ক্ষয়জাত পদার্থ (পলি) বহন করে আনতে হবে।
  • ২. শান্ত মোহনা: মোহনা অঞ্চলে সমুদ্রের জল শান্ত হতে হবে। প্রবল সমুদ্রস্রোত বা জোয়ার-ভাটা থাকলে পলি ধুয়ে গভীর সমুদ্রে চলে যায়।
  • ৩. অগভীর সমুদ্র: মোহনার কাছে সমুদ্র খুব গভীর হলে পলি ভরাট হয়ে বদ্বীপ তৈরি হতে অনেক সময় লাগে। তাই অগভীর সমুদ্র বদ্বীপ গঠনের জন্য আদর্শ।
  • ৪. লবণাক্ততা: সমুদ্রের জলে লবণের পরিমাণ বেশি থাকলে সূক্ষ্ম পলি কণাগুলি দ্রুত দলা পাকিয়ে থিতিয়ে পড়তে পারে (Flocculation)।

৪. সুন্দরবন অঞ্চলের ওপর বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব আলোচনা করো। (৫) [মাধ্যমিক ২০২০]

উত্তর:
বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে সুন্দরবন মারাত্মক পরিবেশগত সংকটের মুখে পড়েছে:

  • ১. দ্বীপ নিমজ্জন: মেরুপ্রদেশের বরফ গলে সমুদ্রের জলতল বাড়ছে। এর ফলে সুন্দরবনের লোহাচড়া, নিউমুর, ঘোড়ামারা প্রভৃতি দ্বীপগুলি জলের তলায় তলিয়ে যাচ্ছে এবং মানুষ বাস্তুহারা হচ্ছে।
  • ২. লবণাক্ততা বৃদ্ধি: সমুদ্রের জলস্তর বাড়ায় এবং মিষ্টি জলের প্রবাহ কমায় জোয়ারের নোনা জল কৃষি জমিতে ঢুকে পড়ছে। এতে মাটির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং ‘আগামরা’ রোগে সুন্দরী গাছ মারা যাচ্ছে।
  • ৩. জীববৈচিত্র্য হ্রাস: ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড় (যেমন- আইলা, আমফান) এবং বাসস্থানের অভাবে রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ বহু প্রাণীর অস্তিত্ব বিপন্ন হচ্ছে।

৫. হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট তিনটি প্রধান ভূমিরূপ চিত্রসহ বর্ণনা করো। [মাধ্যমিক ২০১৮]

উত্তর:
হিমবাহ প্রধানত উৎপাটন ও অবঘর্ষ প্রক্রিয়ায় ক্ষয় করে।

  • ১. সার্ক বা করি (Cirque/Corrie): উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে হিমবাহের ক্ষয়ে পাহাড়ের গায়ে হাতলযুক্ত ডেকচেয়ার বা চামচের মতো যে গর্তের সৃষ্টি হয়, তাকে সার্ক বা করি বলে। এর মধ্যে জল জমে ‘টার্ন’ হ্রদ তৈরি হয়।
  • ২. অ্যারেট ও পিরামিড চূড়া (Arete & Pyramidal Peak): একটি পাহাড়ের দুপাশ থেকে দুটি সার্ক তৈরি হলে মাঝখানের তীক্ষ্ণ প্রাচীরকে ‘অ্যারেট’ বলে। আর তিন-চারদিক থেকে সার্ক তৈরি হলে মাঝখানের চূড়াটি পিরামিডের মতো খাড়া হয়, একে পিরামিড চূড়া বলে (যেমন- ম্যাটারহর্ন)।
  • ৩. ‘U’ আকৃতির উপত্যকা (U-shaped Valley): হিমবাহ উপত্যকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় তলদেশ ও পার্শ্বদেশ সমানভাবে ক্ষয় করে। ফলে উপত্যকাটি ইংরেজি ‘U’ অক্ষরের মতো দেখতে হয়। একে হিমদ্রোণীও বলে।

৬. হিমবাহ ও জলধারার মিলিত কার্যে সৃষ্ট সঞ্চয়জাত ভূমিরূপগুলির বর্ণনা দাও। [মাধ্যমিক ২০১৯]

উত্তর:
পর্বতের পাদদেশে হিমবাহ গলে জলধারায় পরিণত হলে যেসব ভূমিরূপ গড়ে ওঠে:

  • ১. বহিঃধৌত সমভূমি (Outwash Plain): হিমবাহ গলা জল ও বাহিত নুড়ি, বালি বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমি গঠন করে, তাকে বহিঃধৌত সমভূমি বলে।
  • ২. এসকার (Esker): হিমবাহের তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত জলস্রোত নুড়ি-বালি বহন করে নিয়ে যায়। জল সরে গেলে এগুলি লম্বা, আঁকাবাঁকা শৈলশিরার মতো দেখায়। একে এসকার বলে।
  • ৩. কেম (Kame): হিমবাহের প্রান্তে বালি ও কাদা জমে যে ছোট ছোট টিলা বা ঢিবি তৈরি হয়, তাকে কেম বলে।
  • ৪. কেটল (Kettle): বহিঃধৌত সমভূমিতে বড় বরফখণ্ড চাপা পড়ে গর্তের সৃষ্টি হয়। পরে বরফ গলে সেখানে জল জমে হ্রদ তৈরি হলে তাকে কেটল বলে।

৭. রসে মতানে ও ড্রামলিনের পার্থক্য এবং গঠন প্রক্রিয়া আলোচনা করো।

উত্তর:
গঠন প্রক্রিয়া:

  • রসে মতানে (ক্ষয়জাত): হিমবাহের প্রবাহপথে কোনো কঠিন শিলা থাকলে, প্রবাহের দিকের অংশটি অবঘর্ষে মসৃণ হয় এবং বিপরীত দিকটি উৎপাটন প্রক্রিয়ায় এবড়ো-খেবড়ো হয়। দেখতে ভেড়ার মাথার মতো হয়।
  • ড্রামলিন (সঞ্চয়জাত): হিমবাহের নিচে কাদা, বালি ও পাথর জমে উল্টানো নৌকার মতো স্তূপ তৈরি করে।

পার্থক্য: রসে মতানে হলো কঠিন শিলা এবং ক্ষয়কার্যের ফল। ড্রামলিন হলো পলি-বালির স্তূপ এবং সঞ্চয়কার্যের ফল।

৮. ঝুলন্ত উপত্যকা (Hanging Valley) কীভাবে সৃষ্টি হয়? এখানে কেন জলপ্রপাত দেখা যায়?

উত্তর:
সৃষ্টি: নদী অববাহিকার মতো হিমবাহেরও উপনদী থাকে। প্রধান হিমবাহটি আকারে অনেক বড় হওয়ায় এটি উপত্যকাকে গভীর করে ক্ষয় করে। কিন্তু ছোট উপনদী হিমবাহগুলি অল্প ক্ষয় করে। বরফ গলে গেলে মনে হয় ছোট উপত্যকাগুলি প্রধান উপত্যকার ওপর ঝুলে আছে। একে ঝুলন্ত উপত্যকা বলে।
জলপ্রপাত: নদী যখন এই ঝুলন্ত উপত্যকা দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন প্রধান উপত্যকায় নামার সময় খাড়া ঢালের কারণে জলপ্রপাতের সৃষ্টি হয়। (যেমন- কুপার জলপ্রপাত)।

[attachment_2](attachment)

৯. বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট তিনটি প্রধান ভূমিরূপ চিত্রসহ বর্ণনা করো। [মাধ্যমিক ২০১৭, ২০১৯]

উত্তর:
মরু অঞ্চলে বায়ুর অবঘর্ষ ও অপসারণ প্রক্রিয়ায় নানা ভূমিরূপ গড়ে ওঠে। প্রধান তিনটি হলো:

  • ১. গৌর (Gaur) বা মাশরুম রক: মরুভূমিতে কোনো শিলাস্তূপের ওপরের অংশ কঠিন এবং নিচের অংশ কোমল শিলা দিয়ে গঠিত হলে, বায়ুবাহিত বালুকণা ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি (১-২ মিটার) বেশি আঘাত করে। ফলে শিলার নিচের অংশ বেশি ক্ষয় হয়ে সরু হয় এবং ওপরের অংশ কম ক্ষয় হয়ে চওড়া থাকে। দেখতে ব্যাঙের ছাতার মতো হয় বলে একে গৌর বলে।

    [attachment_0](attachment)
  • ২. ইয়ার্দাঙ (Yardang): কঠিন ও কোমল শিলাস্তর পাশাপাশি বা উল্লম্বভাবে অবস্থান করলে, বায়ু কোমল শিলাকে দ্রুত ক্ষয় করে নালির মতো গর্ত সৃষ্টি করে এবং কঠিন শিলাগুলি প্রাচীরের মতো বা মোরগের ঝুঁটির মতো দাঁড়িয়ে থাকে। একে ইয়ার্দাঙ বলে।

    [attachment_1](attachment)
  • ৩. ইনসেলবার্জ (Inselberg): বায়ুর দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়কার্যের ফলে মরুভূমির কোমল শিলা অপসারিত হয়ে গেলে, কঠিন শিলা গঠিত টিলাগুলি ক্ষয় প্রতিরোধ করে মসৃণ ও গোলাকার গম্বুজের মতো দাঁড়িয়ে থাকে। এদের ইনসেলবার্জ বা ‘দ্বীপ পাহাড়’ বলে।

১০. বায়ুর সঞ্চয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলির (বালিয়াড়ি ও লোয়েস) বর্ণনা দাও। [মাধ্যমিক ২০১৮]

উত্তর:
বায়ুপ্রবাহের গতিপথে বাধা পেলে বা বেগ কমে গেলে বালি ও ধূলিকণা সঞ্চিত হয়ে ভূমিরূপ গঠন করে।

  • ১. বার্খান (Barchan): বায়ুপ্রবাহের পথের আড়াআড়িভাবে গড়ে ওঠা আধখানা চাঁদের মতো দেখতে বালিয়াড়িকে বার্খান বলে। এর বায়ুমুখী ঢাল উত্তল ও মৃদু হয় এবং বিপরীত ঢাল অবতল ও খাড়া হয়। এর দুই প্রান্তে দুটি শিং-এর মতো অংশ থাকে।

    [attachment_2](attachment)
  • ২. সিফ (Seif) বা অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি: বায়ুপ্রবাহের সমান্তরালে দীর্ঘ ও সংকীর্ণ শৈলশিরার মতো যে বালিয়াড়ি গড়ে ওঠে, তাকে সিফ বলে। এটি দেখতে তলোয়ারের মতো। এগুলি কয়েকশো কিলোমিটার লম্বা হতে পারে।
  • ৩. লোয়েস (Loess): মরুভূমি থেকে অতি সূক্ষ্ম বালি বা পলি কণা বায়ুর মাধ্যমে উড়ে গিয়ে বহু দূরে সঞ্চিত হয়ে যে উর্বর সমভূমি গঠন করে, তাকে লোয়েস বলে। (যেমন- চীনের হোয়াংহো অববাহিকার লোয়েস সমভূমি)।

১১. মরু অঞ্চলে বায়ু ও জলধারার মিলিত কার্যে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি (পেডিমেন্ট, বাজাদা, প্লায়া, ওয়াদি) আলোচনা করো। [মাধ্যমিক ২০২০]

উত্তর:
মরুভূমিতে মাঝে মাঝে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে সাময়িক জলধারা সৃষ্টি হয়। বায়ু ও জলধারার মিলিত কাজে নিম্নলিখিত ভূমিরূপগুলি গঠিত হয়:

  • ১. ওয়াদি (Wadi): মরুভূমির শুষ্ক নদীখাতকে ওয়াদি বলে। বৃষ্টির সময় এতে জল প্রবাহিত হয়, বাকি সময় শুকনো থাকে।
  • ২. পেডিমেন্ট (Pediment): পর্বতের পাদদেশে ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত শিলাময় ও মৃদু ঢালযুক্ত সমতলভূমিকে পেডিমেন্ট বলে।
  • ৩. বাজাদা (Bajada): পেডিমেন্টের নিচে জলিবাহিত নুড়ি, বালি ও পলি সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমি গঠিত হয়, তাকে বাজাদা বলে।
  • ৪. প্লায়া (Playa): মরুভূমির নিম্নভূমিতে জল জমে যে লবণাক্ত হ্রদ সৃষ্টি হয়, তাকে প্লায়া বলে। গ্রীষ্মকালে জল শুকিয়ে গেলে এর ওপর লবণের স্তর পড়ে।

১২. ইয়ার্দাঙ ও জিউগেন-এর মধ্যে পার্থক্য চিত্রসহ আলোচনা করো। (৫)

উত্তর:
উভয়ই বায়ুর ক্ষয়জাত ভূমিরূপ, কিন্তু গঠন প্রক্রিয়া ভিন্ন।

বিষয় ইয়ার্দাঙ (Yardang) জিউগেন (Zeugen)
১. শিলা বিন্যাস কঠিন ও কোমল শিলাস্তর উলম্বভাবে (পাশাপাশি) অবস্থান করে। কঠিন ও কোমল শিলাস্তর অনুভূমিকভাবে (ওপর-নিচে) অবস্থান করে।
২. আকৃতি দেখতে মোরগের ঝুঁটির মতো হয়। দেখতে চ্যাপ্টা মাথাযুক্ত টেবিল বা ওষুধের ক্যাপসুলের মতো হয়।
৩. ক্ষয় প্রক্রিয়া কোমল শিলা দ্রুত ক্ষয় হয়ে নালির মতো গর্ত তৈরি করে। ওপরের কঠিন শিলা ফেটে গেলে নিচের কোমল শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।

১৩. বার্খান ও সিফ বালিয়াড়ির পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

বিষয় বার্খান সিফ
১. গঠন বায়ুপ্রবাহের আড়াআড়িভাবে গঠিত হয়। বায়ুপ্রবাহের সমান্তরালে গঠিত হয়।
২. আকৃতি অর্ধচন্দ্রাকৃতি বা আধখানা চাঁদের মতো। দীর্ঘ, সংকীর্ণ ও তলোয়ারের মতো।
৩. বৈশিষ্ট্য এর দুটি শিং বা প্রান্ত থাকে। এর কোনো শিং থাকে না, শীর্ষদেশ ধারালো হয়।
৪. উৎস বার্খান থেকেই সিফ বালিয়াড়ির উৎপত্তি হতে পারে (বায়ুর দিক পাল্টালে)। এটি বার্খানের পরিবর্তিত রূপ।

১৪. মরুভূমির সম্প্রসারণ বা মরুকরণের (Desertification) কারণ ও প্রতিরোধের উপায়গুলি লেখো। (৩+২)

উত্তর:
কারণ:
১) জলবায়ু পরিবর্তন: বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে খরা ও অনাবৃষ্টি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
২) বৃক্ষচ্ছেদন: মরুভূমির প্রান্তে গাছ কাটার ফলে বালি সহজেই উড়ে গিয়ে উর্বর জমি ঢেকে ফেলছে।
৩) অতিচারণ: গবাদি পশুর অতিরিক্ত চারণে মাটির ওপরের ঘাস নষ্ট হয়ে ভূমিক্ষয় বাড়ছে।

প্রতিরোধের উপায়:
১) সবুজ প্রাচীর (Green Wall): মরুভূমির সীমানায় সারিবদ্ধভাবে খরা-সহনশীল গাছ (যেমন বাবলা) লাগানো। (উদাহরণ: সাহারার গ্রেট গ্রিন ওয়াল)।
২) বালিয়াড়ি স্থিতিকরণ: বালির ওপর ঘাস ও গুল্মজাতীয় গাছ লাগিয়ে বালি ওড়া বন্ধ করা।

১৫. মরু অঞ্চলে বায়ুর কাজের প্রাধান্য বেশি দেখা যায় কেন? (৫টি কারণ)

উত্তর:
মরুভূমিতে বায়ু প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করে কারণ:

  • ১. যান্ত্রিক আবহবিকার: দিন ও রাতের তাপমাত্রার বিশাল পার্থক্যের কারণে শিলা ফেটে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয় এবং প্রচুর বালুকণা তৈরি হয়।
  • ২. উদ্ভিদহীনতা: গাছপালা না থাকায় বায়ু বাধাহীনভাবে প্রবল বেগে প্রবাহিত হতে পারে।
  • ৩. শুষ্ক মাটি: বৃষ্টির অভাবে মাটি ও বালি শুষ্ক ও আলগা থাকে, যা সহজেই বায়ুর দ্বারা একস্থান থেকে অন্যস্থানে বাহিত হয়।
  • ৪. ক্ষয়যন্ত্র: বালুকণা বায়ুর সাথে মিশে ‘সিরিজ কাগজ’-এর মতো কাজ করে এবং শিলাগাত্রে ঘর্ষণ বা অবঘর্ষ ক্ষয় চালায়।

১৬. টীকা লেখো: (ক) ইনসেলবার্জ, (খ) লোয়েস। (২.৫ + ২.৫)

উত্তর:
(ক) ইনসেলবার্জ: জার্মান শব্দ ‘ইনসেলবার্জ’-এর অর্থ ‘দ্বীপ পাহাড়’। মরুভূমি অঞ্চলে দীর্ঘকাল ধরে বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে কোমল শিলাস্তর অপসারিত হয়ে যায়। কিন্তু কঠিন শিলাস্তরগুলি (গ্রানাইট বা নিস) ক্ষয় প্রতিরোধ করে সমভূমির ওপর বিচ্ছিন্ন টিলার মতো দাঁড়িয়ে থাকে। এদের গা মসৃণ ও গোলাকার হয়। কালাহারি মরুভূমিতে এটি দেখা যায়।

(খ) লোয়েস: মরুভূমি অঞ্চল থেকে প্রবল বায়ুর দ্বারা অতি সূক্ষ্ম বালি ও পলি কণা (০.০৫ মিমি-এর কম) উড়ে গিয়ে বহু দূরে কোনো আর্দ্র বা নিচু জায়গায় সঞ্চিত হলে তাকে লোয়েস বলে। এই মাটি হলুদ বা ধূসর রঙের এবং খুব উর্বর হয়। উদাহরণ: গোবি মরুভূমি থেকে বালি উড়ে এসে চীনের হোয়াংহো অববাহিকায় লোয়েস সমভূমি সৃষ্টি করেছে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) – বহির্জাত প্রক্রিয়া (রচনাধর্মী)


প্রশ্ন: সব নদীর মোহনায় বদ্বীপ গড়ে ওঠে না কেন?

উত্তর: বদ্বীপ গঠনের জন্য নদীতে প্রচুর পলি থাকা এবং মোহনায় শান্ত সমুদ্র থাকা প্রয়োজন। যদি মোহনায় প্রবল সমুদ্রস্রোত বা জোয়ার-ভাটা থাকে, তবে পলি ধুয়ে গভীর সমুদ্রে চলে যায়, ফলে বদ্বীপ গঠিত হতে পারে না। ভারতের নর্মদা ও তাপ্তী নদীতে এই কারণেই বদ্বীপ নেই।

[attachment_0](attachment)

প্রশ্ন: রসে মতানে ও ড্রামলিনের মূল পার্থক্য কী?

উত্তর: রসে মতানে হলো হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট কঠিন শিলাটিলা (দেখতে ভেড়ার মাথার মতো)। কিন্তু ড্রামলিন হলো হিমবাহের সঞ্চয়কার্যের ফলে সৃষ্ট নুড়ি-বালির স্তূপ (দেখতে উল্টানো নৌকার মতো)।

প্রশ্ন: সুন্দরবন অঞ্চলে বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব কী?

উত্তর: বিশ্ব উষ্ণায়নে সমুদ্রের জলতল বাড়ার ফলে সুন্দরবনের ঘোড়ামারা, নিউমুর ও লোহাচড়া দ্বীপগুলি ডুবে যাচ্ছে। এছাড়া নোনা জল নদীতে ঢুকে ম্যানগ্রোভ অরণ্য ধ্বংস করছে এবং কৃষি জমি নষ্ট করে দিচ্ছে।

প্রশ্ন: মরু অঞ্চলে বায়ুর কাজ বেশি দেখা যায় কেন?

উত্তর: মরুভূমিতে গাছপালা নেই বলে বাতাস বাধাহীনভাবে জোরে বইতে পারে। তাছাড়া বৃষ্টি না হওয়ায় সেখানকার মাটি ও বালি খুব শুকনো ও আলগা থাকে, যা বায়ু সহজেই ক্ষয় বা বহন করতে পারে।

প্রশ্ন: লোয়েস সমভূমি কীভাবে গঠিত হয়?

উত্তর: ‘লোয়েস’ কথার অর্থ স্থানচ্যুত বস্তু। মরুভূমি থেকে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা বাতাসের সাহায্যে উড়ে গিয়ে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে জমা হয়ে যে উর্বর সমভূমি তৈরি করে, তাকে লোয়েস সমভূমি বলে। (যেমন- চীনের লোয়েস সমভূমি)।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার