দশম শ্রেণী ভূগোল: অধ্যায় – 3 ‘বারিমন্ডল’

বিভাগ-গ: সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (পর্ব-১)

বিষয়: ভূগোল | অধ্যায়: বারিমণ্ডল | প্রশ্ন সংখ্যা: ১-১৭


১. সমুদ্রস্রোত (Ocean Current) কাকে বলে?

উত্তর: বায়ুপ্রবাহ, পৃথিবীর আবর্তন, উষ্ণতা ও লবণাক্ততার পার্থক্যের কারণে সমুদ্রের জলরাশি নিয়মিতভাবে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নির্দিষ্ট পথে প্রবাহিত হয়। সমুদ্রের জলের এই অনুভূমিক প্রবাহকে সমুদ্রস্রোত বলে।

২. সমুদ্রতরঙ্গ (Ocean Wave) কী? সমুদ্রস্রোতের সাথে এর পার্থক্য কী?

উত্তর: বায়ুপ্রবাহের ঘর্ষণে সমুদ্রের জলরাশি একই স্থানে ওঠানামা বা আন্দোলন করে, কিন্তু স্থান পরিবর্তন করে না, একে সমুদ্রতরঙ্গ বলে।
পার্থক্য: স্রোতে জলরাশি স্থান পরিবর্তন করে (এগিয়ে যায়), কিন্তু তরঙ্গে জলরাশি কেবল ওঠানামা করে।

৩. শৈবাল সাগর (Sargasso Sea) কাকে বলে? [মাধ্যমিক ২০১৭]

উত্তর: উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে উপসাগরীয় স্রোত, ক্যানারি স্রোত ও উত্তর নিরক্ষীয় স্রোতের চক্রাকার আবর্তনের মাঝখানে একটি বিশাল স্থির ও স্রোতহীন জলভাগ সৃষ্টি হয়েছে। এখানে প্রচুর আগাছা ও শৈবাল জন্মায় বলে একে শৈবাল সাগর বলে।

৪. মগ্নচড়া (Bank) কী? এটি বাণিজ্যিক মৎস্যক্ষেত্র হিসেবে বিখ্যাত কেন? [মাধ্যমিক ২০১৮]

উত্তর: উষ্ণ ও শীতল সমুদ্রস্রোতের মিলনস্থলে হিমশৈল গলে গিয়ে নুড়ি, পাথর ও পলি সমুদ্রবক্ষে সঞ্চিত হয়ে যে অগভীর সমুদ্রতলের সৃষ্টি করে, তাকে মগ্নচড়া বলে।
কারণ: এখানে শীতল ও উষ্ণ জলের মিলনে মাছের প্রধান খাদ্য প্ল্যাঙ্কটন প্রচুর জন্মায়, তাই মাছের ঝাঁক আসে।

৫. হিমপ্রাচীর (Cold Wall) বলতে কী বোঝো?

উত্তর: আটলান্টিক মহাসাগরে গাঢ় নীল রঙের উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোত এবং সবুজ রঙের শীতল ল্যাব্রাডর স্রোত পাশাপাশি বিপরীত দিকে প্রবাহিত হয়। এদের মাঝখানের সীমারেখাটি স্পষ্ট প্রাচীরের মতো দেখায়, একেই হিমপ্রাচীর বলে।

[attachment_0](attachment)

৬. নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলে ঘন কুয়াশা ও ঝড়ঝঞ্ঝা সৃষ্টি হয় কেন?

উত্তর: এখানে উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোত এবং শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের মিলন ঘটে। উষ্ণ বায়ুর সংস্পর্শে শীতল বায়ু এসে ঘনীভূত হয়ে ঘন কুয়াশা সৃষ্টি করে। এছাড়া তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে প্রবল ঝড়ঝঞ্ঝাও হয়।

৭. সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান দুটি কারণ লেখো।

উত্তর: ১) নিয়ত বায়ুপ্রবাহ: আয়ন বায়ু ও পশ্চিমা বায়ু সমুদ্রের জলকে নির্দিষ্ট দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যায়।
২) উষ্ণতার পার্থক্য: নিরক্ষীয় অঞ্চলের উষ্ণ জল হালকা হয়ে মেরুর দিকে এবং মেরু অঞ্চলের শীতল জল ভারী হয়ে নিরক্ষরেখার দিকে প্রবাহিত হয়।

৮. উষ্ণ ও শীতল স্রোতের পার্থক্য লেখো।

উত্তর: ১) উষ্ণ স্রোত: নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে মেরুর দিকে প্রবাহিত হয় এবং হালকা হওয়ায় এটি বহিঃস্রোত বা পৃষ্ঠস্রোত।
২) শীতল স্রোত: মেরু অঞ্চল থেকে নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয় এবং ভারী হওয়ায় এটি অন্তঃস্রোত হিসেবে চলে।

৯. জায়র (Gyre) বা কুণ্ডলী কী?

উত্তর: পৃথিবীর আবর্তন ও বায়ুপ্রবাহের কারণে মহাসাগরগুলির মাঝখানে সমুদ্রস্রোতগুলি বিশাল চক্রাকারে আবর্তিত হয়। উত্তর গোলার্ধে এটি ঘড়ির কাঁটার দিকে এবং দক্ষিণে বিপরীতে ঘোরে। এই চক্রাকার স্রোতকে জায়র বা কুণ্ডলী বলে। (মোট ৫টি প্রধান জায়র আছে)।

১০. এল নিনো (El Nino) কী? এর প্রভাব লেখো। [মাধ্যমিক ২০১৯]

উত্তর: এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণ আমেরিকার পেরু উপকূল দিয়ে প্রবাহিত একটি অনিয়মিত উষ্ণ সমুদ্রস্রোত। এটি প্রতি ২-৭ বছর অন্তর দেখা দেয় (খ্রিস্টের শিশু)।
প্রভাব: এর ফলে ভারতে মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে এবং খরা দেখা দেয়।

১১. লা নিনা (La Nina) কী?

উত্তর: লা নিনা হলো এল নিনোর ঠিক বিপরীত অবস্থা। প্রশান্ত মহাসাগরে যখন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি শীতল স্রোত বা তাপমাত্রা দেখা যায়, তখন তাকে লা নিনা বলে। এর প্রভাবে ভারতে প্রবল বৃষ্টি ও বন্যা হয়।

১২. হিমশৈল (Iceberg) কী? এটি জাহাজ চলাচলে বিপজ্জনক কেন?

উত্তর: মহাদেশীয় হিমবাহ বা মেরু অঞ্চলের বরফের স্তূপ সমুদ্রে ভেঙে পড়ে ভাসতে থাকলে তাকে হিমশৈল বলে।
বিপদ: এর আয়তনের ১/৯ অংশ জলের ওপরে এবং ৮/৯ অংশ জলের নিচে থাকে। ফলে জাহাজের নাবিকরা এর সঠিক আকার বুঝতে না পেরে ধাক্কা লাগিয়ে দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে (যেমন টাইটানিক)।

১৩. ফেরেলের সূত্রানুসারে সমুদ্রস্রোত কীভাবে প্রবাহিত হয়?

উত্তর: পৃথিবীর আবর্তনের জন্য সৃষ্ট কোরিওলিস বলের প্রভাবে সমুদ্রস্রোত সোজাপথে প্রবাহিত না হয়ে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।

১৪. উপসাগরীয় স্রোত (Gulf Stream) কোন মহাসাগরে দেখা যায়? এর বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তর: এটি উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে দেখা যায়। এটি একটি উষ্ণ স্রোত এবং গাঢ় নীল রঙের জন্য একে ‘নীল স্রোত’ বলা হয়। এর প্রভাবে পশ্চিম ইউরোপের উপকূল শীতেও বরফমুক্ত থাকে।

১৫. গ্র্যান্ড ব্যাংকস কেন বিখ্যাত?

উত্তর: নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলের কাছে অবস্থিত এই অগভীর মগ্নচড়াটি বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাণিজ্যিক মৎস্যক্ষেত্র। এখানে উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলনে প্রচুর প্ল্যাঙ্কটন জন্মায়, যা মাছের প্রধান খাদ্য।

১৬. কুরোশিয় স্রোত বা জাপান স্রোত সম্পর্কে কী জানো?

উত্তর: এটি উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের একটি উষ্ণ স্রোত। জলের রঙ গাঢ় নীল বা কালচে হওয়ার কারণে জাপানিরা একে ‘কুরোশিয়’ বা ‘কালো স্রোত’ (Black Current) বলে। এটি জাপানের জলবায়ুকে উষ্ণ রাখে।

১৭. জোয়ারের সময় নদীতে জাহাজ ঢোকে কেন?

উত্তর: জোয়ারের সময় নদীর মোহনায় সমুদ্রের জল ঢুকে জলতল অনেক বেড়ে যায় (প্রায় ৬-৮ মিটার)। ফলে নদীর গভীরতা বাড়ে এবং বড় বড় জাহাজ সহজেই বন্দরের ভেতরে ঢুকতে পারে। (যেমন- কলকাতা বন্দরে ঢোকার জন্য জোয়ারের অপেক্ষা করতে হয়)।

বিভাগ-গ: সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (পর্ব-২)

বিষয়: ভূগোল | অধ্যায়: বারিমণ্ডল | প্রশ্ন সংখ্যা: ১৮-৩৪


১৮. জোয়ার-ভাটা (Tides) কাকে বলে?

উত্তর: চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণ এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাবে সমুদ্র ও নদীর জলরাশি নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে। এটি দিনে দুবার ঘটে।

১৯. সিজিগি (Syzygy) বলতে কী বোঝো? [মাধ্যমিক ২০২০]

উত্তর: যখন সূর্য, চাঁদ এবং পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে, তখন সেই জ্যোতির্বিজ্ঞানীয় অবস্থানকে সিজিগি বলে। এটি দুই প্রকার: সংযোগ (অমাবস্যায়) এবং প্রতিযোগ (পূর্ণিমায়)। এই সময় প্রবল জোয়ার বা ভরা কোটাল হয়।

২০. ভরা কোটাল (Spring Tide) ও মরা কোটাল (Neap Tide)-এর পার্থক্য কী?

উত্তর: ১) ভরা কোটাল: অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী এক সরলরেখায় থাকে, ফলে জোয়ার খুব প্রবল হয়।
২) মরা কোটাল: অষ্টমীর দিন চাঁদ ও সূর্য পৃথিবীর সাথে সমকোণে ($90^\circ$) থাকে, ফলে আকর্ষণ বল কাজ করে না এবং জোয়ারের বেগ কম হয়।

২১. অ্যাপোজী (Apogee) ও পেরিজি (Perigee) কী?

উত্তর: ১) পেরিজি: চাঁদ যখন পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে (৩,৫৬,০০০ কিমি) থাকে। এসময় জোয়ার ২০% বেশি প্রবল হয় (অনুভূ)।
২) অ্যাপোজী: চাঁদ যখন পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে (৪,০৭,০০০ কিমি) থাকে। এসময় জোয়ার দুর্বল হয় (অপভূ)।

২২. বান ডাকা (Tidal Bore) কাকে বলে? সারাষাঁড়ির বান কী? [মাধ্যমিক ২০১৭]

উত্তর: ভরা কোটালের সময় সমুদ্রের জল নদীর মোহনা দিয়ে প্রবল গর্জনে ও জলোচ্ছ্বাসে উজান দিকে ছুটে আসে, একে বান ডাকা বলে।
হুগলি নদীতে বর্ষাকালে অমাবস্যার কোটালে যে ভয়ংকর বান ডাকে, তাকে স্থানীয় ভাষায় ‘সারাষাঁড়ির বান’ বলে।

২৩. মুখ্য জোয়ার ও গৌণ জোয়ারের কারণ কী?

উত্তর: ১) মুখ্য জোয়ার: পৃথিবীর যে অংশ চাঁদের সামনে থাকে, সেখানে চাঁদের আকর্ষণে জল ফুলে ওঠে। এটি মুখ্য জোয়ার।
২) গৌণ জোয়ার: এর ঠিক বিপরীত দিকে পৃথিবীর ঘূর্ণনের ফলে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাবে জল ছিটকে গিয়ে ফুলে ওঠে। এটি গৌণ জোয়ার।

২৪. সংযোগ (Conjunction) ও প্রতিযোগ (Opposition) অবস্থানের পার্থক্য লেখো।

উত্তর: ১) সংযোগ: অমাবস্যা তিথিতে যখন সূর্য ও চাঁদ পৃথিবীর একই দিকে থাকে।
২) প্রতিযোগ: পূর্ণিমা তিথিতে যখন সূর্য ও চাঁদ পৃথিবীর বিপরীত দিকে থাকে (পৃথিবী মাঝখানে)।

২৫. দুটি মুখ্য জোয়ারের মধ্যে সময়ের ব্যবধান ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট হয় কেন?

উত্তর: পৃথিবী নিজের অক্ষে একবার ঘুরতে ২৪ ঘণ্টা সময় নেয়। কিন্তু এই সময়ে চাঁদ তার কক্ষপথে কিছুটা পথ এগিয়ে যায় ($১৩^\circ$) এবং পৃথিবীর সেই নির্দিষ্ট স্থানে আসতে চাঁদের বাড়তি ৫২ মিনিট সময় লাগে। তাই এই ব্যবধান হয়।

২৬. বান ডাকার অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশ বা শর্তগুলি কী কী?

উত্তর: ১) নদীর মোহনাটি ফানেল আকৃতির বা খুব চওড়া হতে হবে।
২) নদীতে জলের পরিমাণ ও স্রোত বেশি থাকতে হবে।
৩) অমাবস্যা বা পূর্ণিমার ভরা কোটালের প্রভাব থাকতে হবে।

২৭. জোয়ার-ভাটার দুটি সুবিধা ও দুটি অসুবিধা লেখো।

উত্তর: সুবিধা: ১) নদীর মোহনা পলি ও আবর্জনা মুক্ত থাকে। ২) বড় জাহাজ বন্দরে ঢুকতে পারে (যেমন- হলদিয়া, কলকাতা)।
অসুবিধা: ১) নোনা জল কৃষি জমিতে ঢুকে ফসল নষ্ট করে। ২) নৌকাডুবি বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে।

২৮. সোমালি স্রোত সম্পর্কে কী জানো?

উত্তর: ভারত মহাসাগরের একটি উষ্ণ স্রোত। এটি মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দিক পরিবর্তন করে। গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এটি উত্তরমুখী হয় এবং শীতকালে দক্ষিণমুখী হয়।

২৯. অন্তঃস্রোত ও বহিঃস্রোতের পার্থক্য কী?

উত্তর: বহিঃস্রোত: উষ্ণ ও হালকা জলরাশি সমুদ্রের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় (নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে মেরুর দিকে)।
অন্তঃস্রোত: শীতল ও ভারী জলরাশি সমুদ্রের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয় (মেরু থেকে নিরক্ষরেখার দিকে)।

৩০. জোয়ারের তীব্রতা চাঁদের আকর্ষণের ওপর বেশি নির্ভর করে কেন?

উত্তর: সূর্যের ভর চাঁদের চেয়ে অনেক গুণ বেশি হলেও, চাঁদ পৃথিবীর অনেক কাছে (৩.৮৪ লক্ষ কিমি) অবস্থিত। সূর্য অনেক দূরে (১৫ কোটি কিমি) থাকায় পৃথিবীর ওপর চাঁদের মহাকর্ষীয় টান বা জোয়ার উৎপাদন ক্ষমতা সূর্যের চেয়ে ২.২ গুণ বেশি।

৩১. মরা কোটালে জলস্ফীতি কম হয় কেন?

উত্তর: অষ্টমী তিথিতে চাঁদ ও সূর্য পৃথিবীর সাথে সমকোণে ($90^\circ$) অবস্থান করে। ফলে চাঁদ যেদিকে জল টানে, সূর্য তার সমকোণে জল টানে। একে অপরের আকর্ষণ বলকে প্রশমিত করে দেওয়ার ফলে জোয়ারের তীব্রতা বা জলস্ফীতি কম হয়।

[attachment_1](attachment)

৩২. জলবায়ুর ওপর সমুদ্রস্রোতের দুটি প্রভাব লেখো।

উত্তর: ১) উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণ: উষ্ণ স্রোত প্রবাহিত হলে উপকূলীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা বাড়ে (যেমন- ইউরোপ)। শীতল স্রোতে তাপমাত্রা কমে।
২) বৃষ্টিপাত: উষ্ণ স্রোতের ওপর দিয়ে আসা বায়ু প্রচুর জলীয় বাষ্প আনে এবং বৃষ্টি ঘটায়। শীতল স্রোতের বায়ু শুষ্ক হওয়ায় মরুভূমি সৃষ্টি করে (যেমন- আটাকামা মরুভূমি)।

৩৩. মগ্নচড়া ও মৎস্য আহরণের সম্পর্ক কী?

উত্তর: মগ্নচড়াগুলি অগভীর হওয়ায় সেখানে সূর্যালোক পৌঁছায় এবং উষ্ণ-শীতল স্রোতের মিলনে প্রচুর প্ল্যাঙ্কটন জন্মায়। প্ল্যাঙ্কটন মাছের প্রিয় খাদ্য, তাই মগ্নচড়াগুলিতে বিশ্বের সেরা মৎস্যক্ষেত্র (Fishing Ground) গড়ে ওঠে।

৩৪. চাঁদ পৃথিবীকে পরিক্রমণ করতে কত সময় নেয়?

উত্তর: চাঁদ পৃথিবীকে একবার পূর্ণ পরিক্রমণ করতে প্রায় ২৭ দিন ৮ ঘণ্টা সময় নেয়। একে নাক্ষত্র মাস বা চান্দ্র মাস বলা হয়। এই গতির ফলেই জোয়ার-ভাটার সময়ের পরিবর্তন ঘটে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) – বারিমণ্ডল (সংক্ষিপ্ত)


প্রশ্ন: সমুদ্রস্রোত ও সমুদ্রতরঙ্গের পার্থক্য কী?

উত্তর: সমুদ্রস্রোত: সমুদ্রের জলরাশি যখন নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট দিকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রবাহিত হয়।
সমুদ্রতরঙ্গ: সমুদ্রের জল যখন একই স্থানে কেবল ওঠানামা বা আন্দোলন করে কিন্তু স্থান পরিবর্তন করে না।

[attachment_0](attachment)

প্রশ্ন: মগ্নচড়া (Bank) কী?

উত্তর: উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলনস্থলে হিমশৈল গলে গিয়ে তার মধ্যকার নুড়ি, পাথর ও বালি সমুদ্রতলে জমা হয়ে যে অগভীর চড়া বা উচ্চভূমি তৈরি করে, তাকে মগ্নচড়া বলে। গ্র্যান্ড ব্যাংকস এর সেরা উদাহরণ।

প্রশ্ন: হিমপ্রাচীর (Cold Wall) কী?

উত্তর: উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের গাঢ় নীল জল এবং শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের সবুজ জলের মিলনস্থলে যে স্পষ্ট সীমারেখা দেখা যায়, তাকে হিমপ্রাচীর বলে।

প্রশ্ন: সারাষাঁড়ির বান কী?

উত্তর: হুগলি নদীতে ভরা কোটালের সময়, বিশেষ করে বর্ষাকালের অমাবস্যা তিথিতে সমুদ্রের জল প্রবল গর্জনে এবং জলোচ্ছ্বাসে নদীর উজান দিকে ছুটে আসে। একেই স্থানীয়ভাবে সারাষাঁড়ির বান বলা হয়।

প্রশ্ন: জোয়ার-ভাটা কেন হয়?

উত্তর: জোয়ার-ভাটা সৃষ্টির প্রধান দুটি কারণ হলো:
১) মহাকর্ষীয় আকর্ষণ: মূলত চাঁদের এবং আংশিকভাবে সূর্যের আকর্ষণে জল ফুলে ওঠে।
২) কেন্দ্রাতিগ বল: পৃথিবীর নিজের অক্ষের ওপর ঘোরার ফলে সৃষ্ট বলের প্রভাবে চাঁদের বিপরীত দিকে জল ছিটকে গিয়ে গৌণ জোয়ার সৃষ্টি করে।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার