দশম শ্রেণী ভূগোল: অধ্যায় – ৬ ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র ও উপগ্রহ চিত্র

বিভাগ-ঘ: বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন (৩ নম্বর) (১-২১)

বিষয়: ভূগোল | অধ্যায়: ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র ও উপগ্রহ চিত্র


১. ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র ও উপগ্রহ চিত্রের মধ্যে প্রধান তিনটি পার্থক্য আলোচনা করো। (৩) [মাধ্যমিক ২০১৯, ২০]

উত্তর: ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র (Toposheet) এবং উপগ্রহ চিত্র (Satellite Image)-এর মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য হলো:

বিষয় ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র উপগ্রহ চিত্র
উৎস জরিপ কাজ ও সমীক্ষার মাধ্যমে তৈরি হয়। কৃত্রিম উপগ্রহে স্থাপিত সেন্সরের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে তৈরি হয়।
প্রকৃতি এটি একটি প্রতীকভিত্তিক রেখাচিত্র এবং স্কেলভিত্তিক। এটি একটি আলোকচিত্র বা ছবি, পিক্সেল দ্বারা গঠিত।
সময়কাল তৈরি করতে দীর্ঘ সময় লাগে এবং দ্রুত পরিবর্তন দেখানো সম্ভব নয়। তাৎক্ষণিক তথ্য সরবরাহ করে (Real-time data)।

২. উপগ্রহ চিত্রের প্রধান চারটি ব্যবহার আলোচনা করো। (৩) [মাধ্যমিক ২০১৯, ২০২২]

উত্তর: উপগ্রহ চিত্রের প্রধান চারটি ব্যবহার হলো:

  1. ১. আবহাওয়ার পূর্বাভাস: ঘূর্ণিঝড়ের উৎপত্তি, মেঘের অবস্থান ও গতিপথ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সঠিক ও দ্রুত আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হয়।
  2. ২. প্রাকৃতিক সম্পদ: বনভূমির পরিমাণ, শস্যের স্বাস্থ্য, জলের উৎস এবং মাটির নিচে খনিজ সম্পদের অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণ করা যায়।
  3. ৩. দুর্যোগ মোকাবিলা: বন্যা বা ভূমিকম্পের পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় এবং ত্রাণকার্য পরিচালনার জন্য উপগ্রহ চিত্র অপরিহার্য।
  4. ৪. সামরিক ক্ষেত্র: প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে শত্রু শিবিরের অবস্থান এবং সামরিক স্থাপনার তথ্য দ্রুত সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত হয়।

৩. ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রের তিনটি ব্যবহার লেখো। (৩) [মাধ্যমিক ২০২০]

উত্তর: ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রের তিনটি প্রধান ব্যবহার:

  • ১. পরিকল্পনা ও উন্নয়ন: একটি অঞ্চলে রাস্তা, রেললাইন, সেতু বা নগরায়ন প্রকল্পের জন্য প্রাথমিক সমীক্ষা ও নকশা তৈরির জন্য এই মানচিত্র ব্যবহৃত হয়।
  • ২. সামরিক প্রতিরক্ষা: ভূমির উচ্চতা, ঢাল, জনবসতি ও পরিবহন পথ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা থাকায় এটি সামরিক কৌশল ও প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় অপরিহার্য।
  • ৩. ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ: কন্টুর রেখা ব্যবহার করে ভূমির ঢাল ও উচ্চতা নির্ণয় করা যায়, যা ভূতাত্ত্বিক ও মৃত্তিকা গবেষণায় সাহায্য করে।

৪. দূর সংবেদনের (Remote Sensing) তিনটি সুবিধা উল্লেখ করো। (৩)

উত্তর: দূর সংবেদনের প্রধান তিনটি সুবিধা:

  • ১. তাৎক্ষণিক ও দ্রুত তথ্য: খুব অল্প সময়ে বড় অঞ্চলের তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়।
  • ২. দুর্গম অঞ্চলের তথ্য: দুর্গম, ঝুঁকিপূর্ণ বা অপ্রবেশযোগ্য স্থানের তথ্যও সহজে পাওয়া যায়।
  • ৩. ব্যয় ও শ্রম হ্রাস: প্রথাগত জরিপের চেয়ে এই পদ্ধতিতে সময় ও জনবল অনেক কম লাগে।

৫. দূর সংবেদনের তিনটি প্রধান অসুবিধা লেখো। (৩)

উত্তর: দূর সংবেদনের প্রধান তিনটি অসুবিধা:

  • ১. উচ্চ ব্যয়: কৃত্রিম উপগ্রহ নির্মাণ এবং উৎক্ষেপণ অত্যন্ত ব্যয়সাপেক্ষ।
  • ২. দক্ষতা: সংগৃহীত তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও বিশ্লেষণের জন্য অত্যন্ত দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মীর প্রয়োজন।
  • ৩. তথ্যের সীমাবদ্ধতা: ছবির গুণমান বা রেজোলিউশন কম হলে ক্ষুদ্র বস্তু বা তথ্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যায় না।

৬. রৈখিক স্কেলের তুলনায় R.F. স্কেলের তিনটি সুবিধা লেখো। (৩)

উত্তর: R.F. স্কেলের প্রধান তিনটি সুবিধা:

  • ১. আন্তর্জাতিক ব্যবহার: R.F. স্কেল হলো একক-নিরপেক্ষ স্কেল, তাই এটি বিশ্বের যেকোনো দেশের একক (মিটার, ফুট, ইঞ্চি) দ্বারা ব্যবহার করা যায়।
  • ২. গাণিতিক সরলতা: এটি একটি সরল অনুপাত হওয়ায় গাণিতিক পরিমাপের ক্ষেত্রে অনেক সরল ও নির্ভুল।
  • ৩. মানচিত্রের সংকোচন: মানচিত্রটি ছোট বা বড় করা হলেও R.F. স্কেলের মাধ্যমে দূরত্ব নির্ভুলভাবে মাপা যায়।

৭. ভূসমলয় (Geostationary) এবং ধ্রুবীয় (Sun-synchronous) উপগ্রহের মধ্যে পার্থক্য লেখো। (৩)

উত্তর: উপগ্রহের দুটি প্রধান প্রকারভেদ:

বিষয় ভূসমলয় উপগ্রহ ধ্রুবীয় উপগ্রহ
উচ্চতা প্রায় ৩৬,০০০ কিমি প্রায় ৮০০-৯০০ কিমি
পরিক্রমণ পথ নিরক্ষীয় তলে পৃথিবীর সাথে একই গতিতে ঘোরে। উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর ওপর দিয়ে আবর্তন করে।
প্রধান কাজ আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও যোগাযোগ স্থাপন। পৃথিবীর বিভিন্ন অংশের ছবি তোলা ও অনুসন্ধান।

৮. ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে ব্যবহৃত তিনটি প্রধান স্কেলের ধারণা দাও। (৩)

উত্তর: ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে প্রধানত তিন ধরনের স্কেল ব্যবহৃত হয়:

  • ১. মৌখিক স্কেল (Verbal Scale): মানচিত্রের দূরত্বকে কথার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। (যেমন—১ সেমি মানে ১০ কিমি)।
  • ২. রৈখিক স্কেল (Linear Scale): একটি সরল রেখার মাধ্যমে মানচিত্র ও ভূমির দূরত্ব প্রকাশ করা হয়।
  • ৩. প্রতিভূ অনুপাত (R.F. Scale): মানচিত্রের দূরত্ব ও ভূমির দূরত্বের মধ্যে গাণিতিক অনুপাত (যেমন ১:৫০,০০০) দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

৯. স্পেশিয়াল ও স্পেকট্রাল রেজোলিউশনের মধ্যে পার্থক্য কী? (৩)

উত্তর: উপগ্রহ চিত্রের গুণমানের এই দুটি দিক:

  • ১. স্পেশিয়াল রেজোলিউশন: এটি সেন্সরের ক্ষুদ্রতম বস্তু শনাক্ত করার ক্ষমতা। এটি ছবির ডিটেইলস বা সূক্ষ্মতা নির্ধারণ করে। একক হলো পিক্সেল।
  • ২. স্পেকট্রাল রেজোলিউশন: এটি সেন্সরের তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালীর কতগুলি তরঙ্গদৈর্ঘ্য (Band) শনাক্ত ও রেকর্ড করার ক্ষমতা। এটি বস্তুগুলির রং ও বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
  • সম্পর্ক: স্পেশিয়াল রেজোলিউশন চিত্রের ডিটেইলস দেয়, আর স্পেকট্রাল রেজোলিউশন ডিটেইলস-এর বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়ায়।

১০. উপগ্রহ চিত্রে ফলস কালার কম্পোজিট (FCC) কেন ব্যবহার করা হয়? (৩)

উত্তর: স্বাভাবিক রং বা True Colour Composite (TCC) ব্যবহার না করে FCC ব্যবহারের প্রধান কারণগুলি হলো:

  1. ১. উদ্ভিজ্জ শনাক্তকরণ: সুস্থ গাছপালা ইনফ্রারেড শক্তিকে বেশি প্রতিফলিত করে। FCC তে এই প্রতিফলিত শক্তিকে উজ্জ্বল লালে দেখানো হয়, যা স্বাভাবিক সবুজের তুলনায় স্বাস্থ্যকর গাছপালা চিহ্নিত করতে সাহায্য করে।
  2. ২. পার্থক্য স্পষ্ট করা: এটি বনভূমি, জলভাগ, এবং জনবসতি—এই তিনটি উপাদানের মধ্যে পার্থক্য আরও সহজে ও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান করে তোলে।
  3. ৩. তথ্য বিশ্লেষণ: বিভিন্ন ধরনের শস্যের স্বাস্থ্য, মাটির আর্দ্রতা এবং জলের উৎস নির্ণয়ের জন্য এটি অপরিহার্য।

১১. ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে চারটি প্রধান রং কী নির্দেশ করে? (৩)

উত্তর: টোপোশিটে ব্যবহৃত চারটি প্রধান রং এবং তাদের নির্দেশক:

  • বাদামী (Brown): সমোন্নতি রেখা, টিলা ও বালিয়াড়ির মতো ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য।
  • সবুজ (Green): সংরক্ষিত অরণ্য, বনভূমি, গাছপালা।
  • নীল (Blue): সমস্ত ধরনের জলভাগ—নদ-নদী, খাল, বিল, ঝরনা।
  • হলুদ (Yellow): চাষের জমি, আবাদী জমি।

১২. ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে পরিবহন ব্যবস্থা কীভাবে দেখানো হয়? (৩)

উত্তর: টোপোশিটে পরিবহন ব্যবস্থার তিনটি প্রধান রূপ:

  • ১. রেলপথ: কালো রং দ্বারা বিভিন্ন ধরনের রেললাইন (মিটার গেজ, ব্রড গেজ) দেখানো হয়।
  • ২. পাকা রাস্তা: প্রধান পাকা রাস্তাগুলি লাল রং দ্বারা এবং কাঁচা রাস্তাগুলি কালো রং দ্বারা দেখানো হয়।
  • ৩. নদী ও খাল: নদীপথ, খাল ও অন্যান্য জলপথগুলি নীল রং দ্বারা দেখানো হয়।

১৩. ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে ভূমিরূপ কীভাবে দেখানো হয়? (৩)

উত্তর: টোপোশিটে ভূমির উচ্চতা ও ঢাল তিনটি প্রধান উপায়ে দেখানো হয়:

  • ১. সমোন্নতি রেখা (Contours): বাদামী রং-এর এই রেখাগুলি সমান উচ্চতার স্থানগুলিকে যোগ করে। এদের ঘনত্ব ঢালের পরিমাণ বোঝায়।
  • ২. স্পট হাইট (Spot Height): একটি নির্দিষ্ট স্থানের সঠিক উচ্চতা (যেমন—৬৭২) একটি বিন্দু দ্বারা দেখানো হয়।
  • ৩. ট্রিগনোমেট্রিক্যাল স্টেশন (Trigonometrical Station): ত্রিকোণমিতি পদ্ধতির সাহায্যে নির্ণীত সর্বোচ্চ শৃঙ্গের উচ্চতাকে একটি ছোট ত্রিভুজের মাধ্যমে দেখানো হয়।

১৪. ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে প্রধান তিনটি বসতি বিন্যাস ব্যাখ্যা করো। (৩)

উত্তর: টোপোশিটে জনবসতির বিন্যাস (Settlement Patterns) মূলত তিনটি প্রধান রূপে দেখানো হয়:

  • ১. রৈখিক বসতি (Linear): নদী বা রাস্তার দুপাশ বরাবর ঘরবাড়ি সারিবদ্ধভাবে থাকলে, তাকে রৈখিক বসতি বলে।
  • ২. পুঞ্জীভূত বসতি (Nucleated): জলের উৎস বা বাজারের কেন্দ্রকে ঘিরে ঘরবাড়ি জমাট বেঁধে থাকলে, তাকে পুঞ্জীভূত বসতি বলে।
  • ৩. বিচ্ছিন্ন বসতি (Dispersed): কৃষি জমি বা বনভূমির মাঝে দূরে দূরে কয়েকটি ঘরবাড়ি থাকলে, তাকে বিচ্ছিন্ন বসতি বলে।

১৫. GIS (ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থা)-এর সংজ্ঞা দাও এবং এর দুটি ব্যবহার লেখো। (৩)

উত্তর:

  • সংজ্ঞা: GIS হলো এক ধরনের কম্পিউটার সিস্টেম, যার মাধ্যমে ভৌগোলিক তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও মানচিত্র আকারে উপস্থাপন করা যায়।
  • ব্যবহার: ১) পৌর-পরিকল্পনা (শহর ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা) এবং ২) আঞ্চলিক উন্নয়ন ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় GIS ব্যবহৃত হয়।

১৬. GPS (বিশ্ব অবস্থান নির্ণায়ক ব্যবস্থা) কী? এর দুটি সুবিধা লেখো। (৩)

উত্তর:

  • সংজ্ঞা: কৃত্রিম উপগ্রহের সাহায্যে পৃথিবীর যেকোনো স্থানের অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ ও উচ্চতা নির্ণয়ের আধুনিক ব্যবস্থাকে GPS বলা হয়।
  • সুবিধা: ১) বিমান, জাহাজ, গাড়ি ইত্যাদির অবস্থান নির্ভুলভাবে জানা যায় (নেভিগেশন)। ২) জরিপ ও মানচিত্র তৈরিতে এটি সময় বাঁচায়।

১৭. ভূসমলয় উপগ্রহের কক্ষপথ ধ্রুবীয় উপগ্রহের কক্ষপথের চেয়ে অনেক বেশি উচ্চতায় থাকে কেন? (৩)

উত্তর:

  • ১. পৃথিবীর সাথে গতি: ভূসমলয় উপগ্রহকে পৃথিবীর সাথে একই গতিতে ঘুরতে হয়, যাতে সেটি পৃথিবীর একটি নির্দিষ্ট অংশের ওপরে স্থির থাকে। এই গতি অর্জনের জন্য তাকে ৩৬,০০০ কিমি উচ্চতায় থাকতে হয়।
  • ২. ক্ষেত্রফল: বেশি উচ্চতায় থাকায় একটি ভূসমলয় উপগ্রহ পৃথিবীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ স্থান জুড়ে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।
  • ৩. কাজের প্রকৃতি: যোগাযোগ ও আবহাওয়ার মতো কাজগুলির জন্য বিস্তৃত এলাকা পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন, যা কম উচ্চতায় সম্ভব নয়।

১৮. প্রচলিত প্রতীক বা Conventional Sign কাকে বলে? এর দুটি গুরুত্ব লেখো। (৩)

উত্তর:

  • সংজ্ঞা: ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য বোঝাতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত যে ছোট ছবি বা চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, তাকে প্রচলিত প্রতীক বলে।
  • গুরুত্ব: ১) এই প্রতীকগুলি মানচিত্রকে সহজে পাঠযোগ্য করে তোলে। ২) এটি স্থান বাঁচাতে সাহায্য করে, কারণ বড় বৈশিষ্ট্যকে একটি ছোট চিহ্ন দ্বারা দেখানো যায়।

১৯. বিষয়ভিত্তিক মানচিত্র বা Thematic Map কী? দুটি উদাহরণ দাও। (৩)

উত্তর:

  • সংজ্ঞা: যে মানচিত্রে একটি নির্দিষ্ট বা বিশেষ বিষয় (যেমন—বৃষ্টিপাত, জনসংখ্যা, বা বনভূমি) প্রধানত দেখানো হয়, তাকে বিষয়ভিত্তিক মানচিত্র বলে।
  • পার্থক্য: ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে একাধিক তথ্য দেখানো হলেও, বিষয়ভিত্তিক মানচিত্রে কেবল একটি তথ্যকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।
  • উদাহরণ: ভারতের মৃত্তিকা মানচিত্র, পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা মানচিত্র।

২০. নিষ্ক্রিয় ও সক্রিয় দূর সংবেদনের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো। (৩)

উত্তর:

  • ১. শক্তির উৎস: নিষ্ক্রিয় সেন্সর সূর্যের ওপর নির্ভরশীল। সক্রিয় সেন্সরের নিজস্ব শক্তির উৎস (রাডার) থাকে।
  • ২. কাজের সময়: নিষ্ক্রিয় সেন্সর রাতে বা মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় কাজ করতে পারে না। সক্রিয় সেন্সর যেকোনো সময় কাজ করতে পারে।
  • ৩. উদাহরণ: নিষ্ক্রিয় সেন্সর: সাধারণ ক্যামেরা। সক্রিয় সেন্সর: রাডার (Radar)।

২১. উপগ্রহ চিত্রে তথ্য সংগ্রহের সময় দুটি প্রধান ত্রুটি (Error) উল্লেখ করো। (৩)

উত্তর: উপগ্রহ চিত্রে তথ্য সংগ্রহের সময় দুটি প্রধান ত্রুটি:

  • ১. বায়ুমণ্ডলীয় ত্রুটি (Atmospheric Error): বায়ুমণ্ডলে মেঘ, ধূলিকণা বা জলীয় বাষ্প থাকলে সেন্সরের তথ্য গ্রহণ প্রভাবিত হয়, ফলে ছবির গুণমান কমে যায়।
  • ২. সেন্সর ত্রুটি (Sensor Error): সেন্সর যন্ত্রের যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে ছবিতে বিকৃতি বা ত্রুটিপূর্ণ পিক্সেল তৈরি হতে পারে।
  • ৩. জ্যামিতিক ত্রুটি (Geometric Error): পৃথিবীর বক্রতা এবং উপগ্রহের অবস্থানের পরিবর্তনের কারণে ছবিতে স্কেলের অসঙ্গতি দেখা দিতে পারে।

সচরাচর জিজ্ঞাস্য প্রশ্ন: ৩ নম্বর প্রস্তুতি (FAQ) 🚀

অধ্যায়: ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র ও উপগ্রহ চিত্র (গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যামূলক অংশ)


১. ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র ও উপগ্রহ চিত্রের মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?

উত্তর: ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র হলো জরিপভিত্তিক প্রতীকযুক্ত রেখাচিত্র, যা তৈরি করতে দীর্ঘ সময় লাগে। অন্যদিকে, উপগ্রহ চিত্র হলো সেন্সরের মাধ্যমে তোলা আলোকচিত্র, যা তাৎক্ষণিক তথ্য সরবরাহ করে।

২. উপগ্রহ চিত্রে ফলস কালার কম্পোজিট (FCC) কেন ব্যবহার করা হয়?

উত্তর: FCC ব্যবহার করা হয় কারণ এটি স্বাভাবিক রঙের ব্যবহার পাল্টে দেয়। এতে সুস্থ গাছপালা বা বনভূমি উজ্জ্বল লালে দেখানো হয়। ফলে বনভূমি, জলভাগ এবং শস্যের স্বাস্থ্যের মধ্যেকার পার্থক্য খুব সহজে ও স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।

৩. R.F. স্কেলের দুটি প্রধান সুবিধা কী?

উত্তর: ১) এটি একক-নিরপেক্ষ স্কেল, তাই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং যেকোনো একক দ্বারা ব্যবহার করা যায়। ২) এটি একটি সরল গাণিতিক অনুপাত হওয়ায় পরিমাপের ক্ষেত্রে অনেক সহজ ও নির্ভুল।

৪. স্পেশিয়াল ও স্পেকট্রাল রেজোলিউশনের মূল পার্থক্য কী?

উত্তর: স্পেশিয়াল রেজোলিউশন ক্ষুদ্রতম বস্তু শনাক্ত করার ক্ষমতাকে বোঝায় (পিক্সেল)। আর স্পেকট্রাল রেজোলিউশন সেন্সরের তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালীর কতগুলি তরঙ্গদৈর্ঘ্য শনাক্ত করার ক্ষমতাকে বোঝায়।

৫. টোপোশিটে ব্যবহৃত দুটি Conventional Sign (প্রচলিত চিহ্ন) উল্লেখ করো।

উত্তর: টোপোশিটে ব্যবহৃত দুটি প্রচলিত চিহ্ন: ১) মন্দির বা মসজিদ—লাল রং-এর চূড়া আকৃতির প্রতীক। ২) পাকা কুয়ো—নীল রঙের ছোট বৃত্ত।

৬. দূর সংবেদনের (Remote Sensing) দুটি প্রধান সুবিধা কী?

উত্তর: দূর সংবেদনের দুটি সুবিধা: ১) দুর্গম বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের তথ্যও সহজে পাওয়া যায়। ২) এই পদ্ধতিতে সময় ও অর্থ অনেক কম লাগে।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার