দশম শ্রেণী বাংলা: পথের দাবী – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
📘 পরবর্তী অধ্যায়: ‘পথের দাবী’ (উপন্যাস অংশ: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)
📖 শিক্ষকের বিশ্লেষণ ও ভূমিকা
‘পথের দাবী’ উপন্যাস অংশটি অমর কথাশিল্পী **শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের** বিখ্যাত উপন্যাস ‘পথের দাবী’ থেকে সংকলিত। পরাধীন ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে বিপ্লবী দলগুলির সংগ্রাম ও আদর্শ এই গল্পের মূল উপজীব্য। কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো বিপ্লবী **সব্যসাচী মল্লিক**। পুলিশ ইনস্পেক্টর **নিমাই বাবু** এবং অন্যান্য চরিত্রগুলির মাধ্যমে লেখক এই বিপ্লবী দলের কার্যকলাপ ও ব্রিটিশ প্রশাসনের সন্দেহের পরিবেশ তুলে ধরেছেন। এই অংশটি আত্মত্যাগ, দেশপ্রেম এবং তৎকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে রচিত।
🎯 ‘পথের দাবী’ গল্প থেকে সম্ভাব্য নম্বর বিভাজন (লিখিত)
এই অংশ থেকে সাধারণত চরিত্র বিশ্লেষণ, উক্তির তাৎপর্য এবং লেখকের রাজনৈতিক ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন আসে।
| প্রশ্নের ধরন | মোট নম্বর | অনুমানিক সংখ্যা |
|---|---|---|
| MCQ (১ নম্বর) | ১ | ১টি |
| SAQ (১ নম্বর) | ১ | ১টি (২টি প্রশ্নের মধ্যে একটি) |
| LAQ (৩ নম্বর) | ৩ | ১টি (২টি প্রশ্নের মধ্যে একটি) |
| LAQ (৫ নম্বর) | ৫ | ১টি (২টি প্রশ্নের মধ্যে একটি) |
১. বহু বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ): ২০টি প্রশ্ন (৪টি অপশন সহ)
নির্দেশিকা: সঠিক বিকল্পটি বেছে নাও। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১।
১. ‘পথের দাবী’ উপন্যাসের লেখক কে?
- ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- ঘ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
✅ উত্তর: খ
২. সব্যসাচী মল্লিককে গ্রেপ্তার করার দায়িত্ব কার উপর ছিল?
- ক) রামদাস তলোয়ারকর
- খ) পুলিশ কমিশনার
- গ) নিমাই বাবু
- ঘ) অপূর্ব
✅ উত্তর: গ
৩. গিরিশ মহাপাত্রের সঙ্গে কোন্ বস্তুটি ছিল না?
- ক) গাঁজার কলিকা
- খ) ছাতা
- গ) ট্যাগ লাগানো টিনের তোরঙ্গ
- ঘ) রুমাল
✅ উত্তর: খ
৪. নিমাই বাবুর মাসিক মাইনে কত ছিল?
- ক) পঞ্চাশ টাকা
- খ) একশো টাকা
- গ) দুশো টাকা
- ঘ) আশি টাকা
✅ উত্তর: খ
৫. গিরীশ মহাপাত্রের মাথার চুলে কিসের বাণ্ডিল বাঁধা ছিল?
- ক) টাকাপয়সা
- খ) গুলি
- গ) শুকনো গাঁজা
- ঘ) আফিম
✅ উত্তর: গ
৬. অপূর্বকে কে সসম্মানে তার ঘরে পৌঁছে দিয়েছিল?
- ক) নিমাই বাবু
- খ) রামদাস
- গ) পুলিশ
- ঘ) গিরীশ মহাপাত্র
✅ উত্তর: খ
৭. তেওয়ারী নামে একজন কে ছিলেন?
- ক) পুলিশ অফিসার
- খ) বিপ্লবী নেতা
- গ) পাঞ্জাবি ব্রাহ্মণ
- ঘ) কেরানি
✅ উত্তর: গ
৮. নিমাই বাবু কাকে সসম্মানে তার ঘরে পৌঁছে দিতে বলেছিলেন?
- ক) অপূর্বকে
- খ) গিরীশ মহাপাত্রকে
- গ) সব্যসাচীকে
- ঘ) রামদাসকে
✅ উত্তর: ক
৯. ‘তার জামাটা ছিল…।’—জামাটা কেমন ছিল?
- ক) দামি
- খ) বিলাতি
- গ) সাদা
- ঘ) ছেঁড়া
✅ উত্তর: খ
১০. সব্যসাচীর বেশ ছিল—
- ক) পাগলের মতো
- খ) সাধারণ মানুষের মতো
- গ) বিলাসী মানুষের মতো
- ঘ) সন্ন্যাসীর মতো
✅ উত্তর: খ
১১. তেওয়ারী কীসের নেশা করত?
- ক) আফিম
- খ) গাঁজা
- গ) মদ
- ঘ) চরস
✅ উত্তর: খ
১২. ‘পথের দাবী’ উপন্যাসের কোন্ অংশে সব্যসাচীর পরিচয় জানা যায়?
- ক) প্রথম অংশে
- খ) উপন্যাসের বিভিন্ন অংশে
- গ) শেষ অংশে
- ঘ) কোনো অংশেই নয়
✅ উত্তর: খ
১৩. পুলিশ নিমাই বাবুর কাছে কাকে সন্দেহ করত?
- ক) রামদাসকে
- খ) সব্যসাচীকে
- গ) অপূর্বকে
- ঘ) তেওয়ারীকে
✅ উত্তর: খ
১৪. গিরিশ মহাপাত্রের কোন্ অঙ্গটি কদর্য ছিল?
- ক) মুখ
- খ) হাত
- গ) পা
- ঘ) চোখ
✅ উত্তর: গ
১৫. অপূর্বকে কোথায় যেতে বলা হয়েছিল?
- ক) থানায়
- খ) তার নিজের ঘরে
- গ) চায়ের দোকানে
- ঘ) কাস্টম হাউসে
✅ উত্তর: খ
১৬. নিমাই বাবু কাকে ‘গাজার সরঞ্জাম’ বলে উপহাস করেছিলেন?
- ক) গিরিশ মহাপাত্রকে
- খ) তেওয়ারীকে
- গ) অপূর্বকে
- ঘ) রামদাসকে
✅ উত্তর: ক
১৭. অপূর্ব কোন অফিসে চাকরি করত?
- ক) রেল অফিসে
- খ) বার্মাফাইল অফিসে
- গ) কাস্টম অফিসে
- ঘ) ডাকঘরে
✅ উত্তর: খ
১৮. গিরীশ মহাপাত্রের বেশের উদ্দেশ্য কী ছিল?
- ক) ভিখারি সাজা
- খ) বিপ্লবীকে আড়াল করা
- গ) হাস্যরস সৃষ্টি করা
- ঘ) অর্থ উপার্জন
✅ উত্তর: খ
১৯. ‘আমরা তো তোমার বাড়িতে অনেকদিন আছি।’—বক্তা কে?
- ক) অপূর্ব
- খ) তেওয়ারী
- গ) নিমাই বাবু
- ঘ) রামদাস
✅ উত্তর: খ
২০. নিমাই বাবু ছিলেন পেশায়—
- ক) গোয়েন্দা
- খ) পুলিশ ইনস্পেক্টর
- গ) ব্যারিস্টার
- ঘ) সাহিত্যিক
✅ উত্তর: খ
২, ৩ ও ৪. অতি-সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (VSAQ): ৪৫টির বেশি প্রশ্ন
ক) শূন্যস্থান পূরণ করো (১৫টি)
নির্দেশিকা: উপযুক্ত শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থানগুলি পূরণ করো।
- ১. নিমাই বাবু ছিলেন পেশায় পুলিশ ইনস্পেক্টর।
- ২. গিরিশ মহাপাত্রের গায়ে ছিল বিলাতি ফ্লানেলের জামা।
- ৩. অপূর্বর ঘরের ঠিক নিচে তেওয়ারী নামে একজন পাঞ্জাবি ব্রাহ্মণ বাস করত।
- ৪. নিমাই বাবুর মাসিক মাইনে ছিল একশো টাকা।
- ৫. গিরীশ মহাপাত্রের মাথার চুলে শুকনো গাঁজা বাঁধা ছিল।
- ৬. অপূর্ব বার্মাফাইল অফিসে চাকরি করত।
- ৭. নিমাই বাবু গিরিশ মহাপাত্রকে সাজা করার হুমকি দেন।
- ৮. রামদাস অপূর্বকে সসম্মানে তার ঘরে পৌঁছে দিয়েছিল।
- ৯. তেওয়ারী গাঁজার নেশা করত।
- ১০. সব্যসাচী মল্লিক ছিলেন একজন বিপ্লবী নেতা।
- ১১. গিরিশ মহাপাত্রের কদর্য পা দেখে মনে হয়েছিল যেন সে পঙ্গু।
- ১২. অপূর্বকে দেখেই নিমাই বাবুর মন খুশি হলো না।
- ১৩. গিরিশ মহাপাত্রের পকেটে শুধু একটি পয়সা ছিল।
- ১৪. নিমাই বাবু গিরিশকে গাঁজার সরঞ্জাম বলে উপহাস করেছিলেন।
- ১৫. রামদাস অপূর্বকে সাহায্য করতে চেয়েছিল।
খ) সত্য-মিথ্যা নির্ণয় করো (১৫টি)
নির্দেশিকা: বাক্যটি সত্য হলে (স) এবং মিথ্যা হলে (মি) লেখো।
- ১. গিরিশ মহাপাত্র সব্যসাচীর ছদ্মবেশ ছিল। (স)
- ২. নিমাই বাবুর মাসিক বেতন ছিল ৫০ টাকা। (মি) [সঠিক: ১০০ টাকা]
- ৩. অপূর্ব তার বন্ধু রামদাসের সাথে রেঙ্গুনে বাস করত। (স)
- ৪. গিরিশ মহাপাত্রের টিনের তোরঙ্গে কোনো ট্যাগ ছিল না। (মি) [সঠিক: ট্যাগ ছিল]
- ৫. তেওয়ারী অপূর্বকে তার ঘরে সসম্মানে পৌঁছে দিয়েছিল। (মি) [সঠিক: রামদাস]
- ৬. গিরিশ মহাপাত্রের গাঁজার কলিকা তার রুমাল দিয়ে ঢাকা ছিল। (স)
- ৭. নিমাই বাবু বিপ্লবী সব্যসাচীকে খুঁজছিলেন। (স)
- ৮. গিরিশ মহাপাত্রের সাজ-সজ্জা ছিল রুচিসম্মত। (মি) [সঠিক: কদর্য ও বেমানান]
- ৯. অপূর্ব নিমাই বাবুর কাছে তার মামা সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল। (মি) [সঠিক: চাকরির জন্য]
- ১০. অপূর্বকে দেখেই নিমাই বাবু খুশি হয়েছিলেন। (মি)
- ১১. তেওয়ারী একজন পাঞ্জাবি ব্রাহ্মণ। (স)
- ১২. সব্যসাচী মল্লিকের বেশ ছিল সাধারণ মানুষের মতো। (স)
- ১৩. অপূর্ব বর্মা ফাইল অফিসে চাকরি করত। (স)
- ১৪. নিমাই বাবু গিরিশ মহাপাত্রকে গ্রেপ্তার করেছিলেন। (মি)
- ১৫. গিরিশ মহাপাত্রের টিনের তোরঙ্গে কোনো গোপন বস্তু ছিল না। (স)
গ) এক বাক্যে উত্তর দাও (১৬টি)
নির্দেশিকা: একটি সম্পূর্ণ বাক্যে নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও।
১. ‘পথের দাবী’ উপন্যাসের লেখক কে?
✅ উত্তর: ‘পথের দাবী’ উপন্যাসের লেখক হলেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
২. বিপ্লবী সব্যসাচীকে ধরার দায়িত্ব কার উপর ছিল?
✅ উত্তর: বিপ্লবী সব্যসাচীকে ধরার দায়িত্ব পুলিশ ইনস্পেক্টর নিমাই বাবুর উপর ছিল।
৩. গিরিশ মহাপাত্র কোথায় যাচ্ছিল?
✅ উত্তর: গিরিশ মহাপাত্র আফিমের আড্ডায় যাচ্ছিল।
৪. গিরিশ মহাপাত্রের মাথার চুলে কী বাঁধা ছিল?
✅ উত্তর: গিরিশ মহাপাত্রের মাথার চুলে শুকনো গাঁজা বাঁধা ছিল।
৫. অপূর্ব কোন্ অফিসে চাকরি করত?
✅ উত্তর: অপূর্ব বার্মাফাইল অফিসে চাকরি করত।
৬. নিমাই বাবু গিরিশকে কী দিয়ে উপহাস করেছিলেন?
✅ উত্তর: নিমাই বাবু গিরিশকে ‘গাঁজার সরঞ্জাম’ ও ‘গাজার কলিকা’ বলে উপহাস করেছিলেন।
৭. তেওয়ারী নামে লোকটি কীসের নেশা করত?
✅ উত্তর: তেওয়ারী নামে লোকটি গাঁজার নেশা করত।
৮. নিমাই বাবুর মাসিক মাইনে কত ছিল?
✅ উত্তর: নিমাই বাবুর মাসিক মাইনে ছিল একশো টাকা।
৯. সব্যসাচী মল্লিক কোন্ ধরনের মানুষ?
✅ উত্তর: সব্যসাচী মল্লিক ছিলেন একজন বিপ্লবী নেতা।
১০. গিরিশ মহাপাত্রের জামা কেমন ছিল?
✅ উত্তর: গিরিশ মহাপাত্রের জামা ছিল বিলাতি ফ্লানেলের।
১১. নিমাই বাবু কাকে সসম্মানে তার ঘরে পৌঁছে দিতে বলেছিলেন?
✅ উত্তর: নিমাই বাবু অপূর্বকে সসম্মানে তার ঘরে পৌঁছে দিতে বলেছিলেন।
১২. নিমাই বাবু কেন অপূর্বকে দেখে খুশি হননি?
✅ উত্তর: অপূর্বকে দেখে নিমাই বাবু খুশি হননি কারণ অপূর্বকে সব্যসাচীর মতো সন্দেহজনক মনে হয়নি।
১৩. গিরিশ মহাপাত্রের পায়ের চেহারা কেমন ছিল?
✅ উত্তর: গিরিশ মহাপাত্রের পায়ের চেহারা ছিল কদর্য ও অস্বাভাবিক, যা হাঁটাচলায় পঙ্গুত্বের ইঙ্গিত করত।
১৪. গিরিশ মহাপাত্রের বেশের উদ্দেশ্য কী ছিল?
✅ উত্তর: গিরিশ মহাপাত্রের বেশের উদ্দেশ্য ছিল বিপ্লবী সব্যসাচীকে আড়াল করা।
১৫. রামদাস তলোয়ারকর কে ছিলেন?
✅ উত্তর: রামদাস তলোয়ারকর ছিলেন অপূর্বের বন্ধু।
৫. সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান: ৩): ১০টি প্রশ্ন
প্রশ্ন ১. গিরিশ মহাপাত্রের বেশভূষা এবং তার উদ্দেশ্য সংক্ষেপে বর্ণনা করো। (অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ)
✅ উত্তর:
- বেশভূষা: গিরিশ মহাপাত্রের মাথায় ছিল লম্বা চুল, গায়ে বিলাতি ফ্লানেলের জামা। জামার রং ছিল সবুজ। পায়ে ছিল পামসু-এর মতো জুতো। তার জামা-কাপড় ছিল বেমানান ও কদর্য।
- উদ্দেশ্য: গিরিশ মহাপাত্র আসলে বিপ্লবী **সব্যসাচী মল্লিককে আড়াল করার জন্য** এই অদ্ভুত ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন। তিনি এমন বেশ ধরেছিলেন, যাতে ইংরেজ পুলিশের চোখে তিনি একজন তুচ্ছ, গাঁজাখোর এবং সামান্য লোক বলে মনে হন এবং তাঁকে দেখে কোনোভাবেই বিপ্লবী বলে সন্দেহ না হয়।
প্রশ্ন ২. “মুহূর্তের মধ্যে আমার ভুল ভেঙে গেল।”—কার ভুল ভেঙে গেল? সেই ভুল ভাঙার কারণ কী ছিল?
✅ উত্তর: উক্তিটির বক্তা হলেন পুলিশ ইনস্পেক্টর **নিমাই বাবু**।
- ভুল: নিমাই বাবু প্রথমে ভেবেছিলেন, অপূর্বও হয়তো বিপ্লবী সব্যসাচীর মতো কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি।
- ভুল ভাঙার কারণ: অপূর্বকে তার অফিসে চাকরি করতে দেখে এবং তার পোশাক-আশাক ও চেহারায় সন্দেহজনক কিছু না পাওয়ায় নিমাই বাবুর ভুল ভেঙে যায়। তাছাড়া, অপূর্ব তাঁর আত্মীয় হওয়ায় তিনি নিশ্চিন্ত হন।
- তাৎপর্য: এই ভুল ভাঙার পরই তিনি অপূর্বকে সসম্মানে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রশ্ন ৩. গিরিশ মহাপাত্রকে ‘গাঁজার সরঞ্জাম’ বলে উপহাস করার তাৎপর্য কী?
✅ উত্তর:
- উপহাস: উক্তিটি করেছিলেন নিমাই বাবু। তিনি গিরিশ মহাপাত্রের মাথার চুলে বাঁধা শুকনো গাঁজা এবং রুমাল দিয়ে ঢাকা গাঁজার কলিকা দেখে এই উপহাস করেছিলেন।
- তাৎপর্য: এই উপহাস ছিল **বিপ্লবীকে আড়াল করার কৌশল**। গিরিশ মহাপাত্র এমন ভাব করেছিলেন যাতে পুলিশের চোখে তিনি সামান্য গাঁজাখোর ছাড়া আর কিছুই নন। নিমাই বাবু তাঁকে তুচ্ছ বলে মনে করে ছেড়ে দেন, যা গিরিশের ছদ্মবেশকে সফল করেছিল।
প্রশ্ন ৪. গিরিশ মহাপাত্রের ‘কদর্য পা’-এর তাৎপর্য কী?
✅ উত্তর:
- বিশেষত্ব: গিরিশ মহাপাত্রের পা ছিল অস্বাভাবিক, যা হাঁটাচলায় পঙ্গুত্বের ইঙ্গিত করত।
- তাৎপর্য: এই কদর্য পা ছিল **সব্যসাচীর ছদ্মবেশের একটি অংশ**। বিপ্লবী সব্যসাচী শারীরিক দিক থেকে অত্যন্ত সুস্থ ও সবল ছিলেন। তাঁর বিপ্লবী কার্যকলাপ আড়াল করার জন্যই তাঁর ছদ্মবেশীর পা ছিল এমন কদর্য, যাতে কেউ তাঁকে দেখে বিপ্লবী বলে সন্দেহ না করে।
- বিপর্যয়: তবে পুলিশের তল্লাশিতে তাঁর পা নিয়ে কোনো কথা হয়নি।
প্রশ্ন ৫. ‘পথের দাবী’ উপন্যাসের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সংক্ষেপে আলোচনা করো।
✅ উত্তর:
- সময়কাল: উপন্যাসের প্রেক্ষাপট হলো পরাধীন ভারতবর্ষ। তখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে গোপনে বিপ্লবী আন্দোলন দানা বাঁধছিল।
- সংঘাত: ব্রিটিশ পুলিশ এবং বিপ্লবী দলের (পথের দাবী) মধ্যেকার সংঘাতই এই গল্পের মূল চালিকাশক্তি।
- বাস্তবতা: লেখক দেখিয়েছেন, কীভাবে ব্রিটিশ সরকার সামান্য সন্দেহের বশে নিরপরাধ মানুষদের উপর অত্যাচার করত এবং বিপ্লবী নেতারা ছদ্মবেশের আশ্রয় নিতে বাধ্য হতেন।
প্রশ্ন ৬. নিমাই বাবুর চরিত্র সংক্ষেপে আলোচনা করো।
✅ উত্তর:
- ১. পেশাগত পরিচয়: নিমাই বাবু ছিলেন একজন পুলিশ ইনস্পেক্টর। তিনি সরকারের প্রতি অনুগত এবং সব্যসাচীকে ধরার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন।
- ২. রসিকতা: তিনি একজন রসিক ব্যক্তি ছিলেন। গিরিশ মহাপাত্রের বেশভূষা নিয়ে তিনি বেশ মজা করেছিলেন।
- ৩. সংবেদনশীলতা: তিনি তাঁর আত্মীয় অপূর্বকে চিনতে পারার পরই তার প্রতি সংবেদনশীল হন এবং তাকে সসম্মানে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে পেশার ক্ষেত্রে তাঁর কোনো আপস ছিল না।
প্রশ্ন ৭. ‘পথের দাবী’ উপন্যাসে রামদাস তলোয়ারকর ও অপূর্বের কথোপকথন কেমন ছিল?
✅ উত্তর:
- সম্পর্ক: রামদাস ছিল অপূর্বের বন্ধু। রামদাস অপূর্বের প্রতি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল ছিল।
- আলোচনা: পুলিশি তল্লাশির সময় অপূর্ব যখন অপমানিত হয়, তখন রামদাস তার প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছিল এবং তাকে সাহস জুগিয়েছিল। রামদাস অপূর্বকে সসম্মানে তার ঘরে পৌঁছে দিয়েছিল।
- তাৎপর্য: এই কথোপকথন তৎকালীন বাঙালি সমাজের দেশপ্রেম ও সহমর্মিতার চিত্র তুলে ধরে।
প্রশ্ন ৮. তেওয়ারী নামে লোকটি কে ছিল? অপূর্বর সঙ্গে তার সম্পর্ক কেমন ছিল?
✅ উত্তর:
- পরিচয়: তেওয়ারী নামে লোকটি ছিল অপূর্বর ঘরের ঠিক নিচে থাকা পাঞ্জাবি ব্রাহ্মণ এবং সে গাঁজার নেশা করত।
- সম্পর্ক: তেওয়ারী অপূর্বের প্রতি খুব বেশি সহানুভূতিশীল ছিল না। পুলিশের তল্লাশি নিয়ে সে অপূর্বর প্রতি কোনো বিশেষ আগ্রহ দেখায়নি। সে পুলিশের সামনে অপূর্বের সম্পর্কে তথ্য দিয়েছিল।
- তাৎপর্য: তেওয়ারীর চরিত্রটি তৎকালীন সমাজে সাধারণ মানুষের নিষ্ক্রিয়তা এবং নেশাগ্রস্ততাকে তুলে ধরে।
প্রশ্ন ৯. গিরিশ মহাপাত্রের বেশভূষা দেখে নিমাই বাবু কেন তাকে সব্যসাচী বলে সন্দেহ করেননি?
✅ উত্তর:
- কারণ: নিমাই বাবু মনে করতেন, সব্যসাচী মল্লিকের মতো একজন শিক্ষিত ও প্রভাবশালী বিপ্লবী এত কদর্য, বেমানান ও হাস্যকর বেশ ধারণ করতে পারে না।
- বিপ্লবীদের ধারণা: পুলিশ প্রশাসনের ধারণা ছিল, বিপ্লবী মানেই ধূর্ত ও বিচক্ষণ। গিরিশের এই উন্মাদ পাগলের মতো বেশভূষা তাদের সেই ধারণা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ছিল।
- উপসংহার: গিরিশের বেশভূষা ছিল এতটাই নিখুঁতভাবে বেমানান যে, নিমাই বাবু তাকে বিপ্লবী না ভেবে তুচ্ছ গাঁজাখোর মনে করেছিলেন।
প্রশ্ন ১০. সব্যসাচী মল্লিকের চরিত্রের রহস্যময়তা ব্যাখ্যা করো।
✅ উত্তর:
- ১. ছদ্মবেশ: সব্যসাচীর চরিত্রের প্রধান রহস্য হলো তাঁর ছদ্মবেশ। তিনি গিরিশ মহাপাত্রের মতো অদ্ভুত বেশ ধারণ করে বিপ্লবের কাজ চালিয়ে যান।
- ২. অদৃশ্যতা: পুলিশ তাঁকে ধরার জন্য সর্বত্র খোঁজ করলেও তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তিনি যেন ছিলেন সব সময় অদৃশ্য।
- ৩. বুদ্ধিমত্তা: সব্যসাচী ছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিমান। তিনি জানতেন, তাঁর আসল রূপ প্রকাশ করলে পুলিশ সহজে তাঁকে ধরে ফেলবে। তাই এই রহস্যময়তা ছিল তাঁর কাজ করার কৌশল।
৬. রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান: ৫): ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
প্রশ্ন ১. “কেবল আশ্চর্য সেই রোগা লোকটির কথা।”—রোগা লোকটি কে? তার সাজসজ্জার বর্ণনা দিয়ে এই উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। (অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ)
✅ উত্তর:
- **১. রোগা লোকটির পরিচয়:** আলোচ্য অংশে রোগা লোকটি হলো ছদ্মবেশী বিপ্লবী **গিরিশ মহাপাত্র**। সে আসলে বিপ্লবী নেতা **সব্যসাচী মল্লিকের** ছদ্মবেশ ধারণ করেছিল।
- **২. সাজসজ্জার বর্ণনা:**
- মাথায় লম্বা চুল, গায়ে বিলাতি ফ্লানেলের জামা (সবুজ রঙের)।
- পায়ে পামসু-এর মতো জুতোর বদলে গোড়ালি পর্যন্ত ঢেকে থাকা মোজা ও বার্নিশ করা পাম্প-সু পরা।
- হাতে ছিল ট্যাগ লাগানো টিনের তোরঙ্গ এবং একটি রুমাল দিয়ে ঢাকা গাঁজার কলিকা।
- তার বেশভূষা ছিল অত্যন্ত **কদর্য, বেমানান ও হাস্যকর**, যা কোনো সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের সাজ হতে পারে না।
- **৩. তাৎপর্য:** গিরিশ মহাপাত্রের এই **আশ্চর্য ও অস্বাভাবিক সাজসজ্জা** ছিল সব্যসাচীর নিখুঁত বিপ্লবী কৌশলের প্রতীক। এই কদর্য সাজের মাধ্যমে সে পুলিশ প্রশাসনের চোখে নিজেকে একজন তুচ্ছ, গাঁজাখোর সাধারণ মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। এর ফলে নিমাই বাবুর মতো পুলিশ ইনস্পেক্টরও তাকে সন্দেহ করার প্রয়োজন মনে করেননি এবং সব্যসাচী আত্মগোপনে সফল হন।
প্রশ্ন ২. নিমাই বাবুর চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো। স্বদেশপ্রেম এবং দায়িত্ববোধের সংঘাতে তার ভূমিকা কেমন ছিল?
✅ উত্তর: নিমাই বাবু ছিলেন ব্রিটিশ সরকারের একজন অনুগত পুলিশ ইনস্পেক্টর।
- **১. পেশাদার পুলিশ:** তিনি তাঁর দায়িত্ব সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন ছিলেন এবং সব্যসাচী মল্লিকের মতো বিপ্লবীকে ধরার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন। পেশার প্রতি তাঁর আনুগত্য ছিল প্রশ্নাতীত।
- **২. মানবতা ও আত্মীয়তাবোধ:** তিনি ছিলেন অপূর্বর আত্মীয়। অপূর্বকে তল্লাশি করার পর ভুল ভেঙে যাওয়ায় তিনি তাকে সসম্মানে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এখানে তাঁর মানবিক দিকটি প্রকাশিত হয়েছে।
- **৩. রসিকতা ও ব্যঙ্গ:** গিরিশ মহাপাত্রের অদ্ভুত বেশভূষা দেখে তিনি হাসাহাসি করেন এবং তাকে ‘গাঁজার সরঞ্জাম’ বলে উপহাস করেন। এর দ্বারা তাঁর রসিক এবং ব্যঙ্গপ্রিয় দিকটি বোঝা যায়।
- **৪. স্বদেশপ্রেমের অভাব:** নিমাই বাবু ঔপনিবেশিক শক্তির চাকর হয়েও স্বদেশপ্রেমের কোনো চিহ্ন দেখাননি। উল্টে, বিপ্লবীকে ধরার জন্য তিনি সক্রিয় ছিলেন।
প্রশ্ন ৩. “আমরা তো তোমার বাড়িতে অনেকদিন আছি।”—বক্তা কে? কোন্ প্রসঙ্গে, কাকে এই কথা বলা হয়েছে? এই উক্তির মাধ্যমে বক্তার মানসিকতা বিশ্লেষণ করো।
✅ উত্তর:
- **১. বক্তা ও প্রসঙ্গ:** উক্তিটির বক্তা হলেন **তেওয়ারী** নামে এক পাঞ্জাবি ব্রাহ্মণ, যে অপূর্বের ঘরের নিচে থাকত। পুলিশ তল্লাশির সময় অপূর্ব যখন তেওয়ারীকে জিজ্ঞাসা করে যে সে কখন থেকে অপূর্বের বাড়িতে আছে, তখন তেওয়ারী এই কথা বলে।
- **২. কাকে বলা হয়েছে:** তেওয়ারী এই কথাগুলি গল্পের প্রধান চরিত্র **অপূর্বকে** বলেছিল।
- **৩. বক্তার মানসিকতা:**
- নির্বিকারত্ব: তেওয়ারী ছিল অত্যন্ত নির্বিকার। পুলিশ তল্লাশির মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাতেও তার কোনো চাঞ্চল্য ছিল না।
- নেশাগ্রস্ততা: সে গাঁজার নেশায় মগ্ন থাকত এবং পার্থিব বিষয়ে তার কোনো আগ্রহ ছিল না। তার এই মন্তব্যে তার নিজের প্রতি এবং চারপাশের ঘটনার প্রতি উদাসীনতা প্রকাশ পায়।
- সহানুভূতিহীনতা: অপূর্বের মতো একজন সহযাত্রীর এমন পুলিশি হেনস্থার পরেও তার মধ্যে কোনো সহানুভূতি জাগেনি। এই চরিত্রটি সমাজে এক শ্রেণির মানুষের নিষ্ক্রিয়তাকে তুলে ধরে।
প্রশ্ন ৪. ‘পথের দাবী’ উপন্যাস অংশে পরাধীন ভারতের সাধারণ মানুষের প্রতি ব্রিটিশ সরকারের মনোভাব কেমন ছিল—আলোচনা করো।
✅ উত্তর: ‘পথের দাবী’ অংশে পরাধীন ভারতে ব্রিটিশ সরকারের মনোভাব ছিল কঠোর, সন্দেহপ্রবণ ও দমনমূলক।
- **১. সন্দেহের বাতাবরণ:** পুলিশ সর্বদাই বিপ্লবী কার্যকলাপ সম্পর্কে সতর্ক থাকত। সব্যসাচীর মতো বিপ্লবীকে ধরার জন্য তারা সব জায়গায় তল্লাশি চালাত এবং সন্দেহভাজন মনে হলেই সাধারণ মানুষকেও হেনস্থা করত।
- **২. অসহযোগিতা ও অবিশ্বাস:** ব্রিটিশ সরকার দেশবাসীকে অবিশ্বাস করত। অপূর্ব বার্মা অফিসে চাকরি করলেও, শুধুমাত্র পুলিশ ইনস্পেক্টরের পরিচিতি না থাকায় তাকে সন্দেহের চোখে দেখা হয়েছিল।
- **৩. ঔদ্ধত্য ও অসম্মান:** পুলিশি তল্লাশির সময় সাধারণ মানুষের প্রতি তাদের আচরণ ছিল চরম অসম্মানজনক ও রুক্ষ। এর প্রমাণ মেলে অপূর্বের প্রতি নিমাই বাবুর প্রাথমিক ব্যবহারে।
- **৪. অনুগতদের সুবিধা:** ব্রিটিশ সরকারের প্রতি অনুগত ব্যক্তিরা (যেমন নিমাই বাবু) নিজেদের সুবিধা ভোগ করতেন, কিন্তু স্বদেশপ্রেমীদের প্রতি ছিল কঠোর দমননীতি।
প্রশ্ন ৫. অপূর্বের প্রতি নিমাই বাবুর প্রথম দিকের আচরণ এবং শেষ দিকের আচরণের মধ্যেকার পার্থক্য আলোচনা করো।
✅ উত্তর: অপূর্বের প্রতি নিমাই বাবুর আচরণে দু’ধরনের বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যায়।
- **১. প্রথম দিকের আচরণ (সন্দেহ ও কঠোরতা):**
- নিমাই বাবু প্রথমে অপূর্বকে দেখে খুশি হননি, কারণ অপূর্বকে দেখে সব্যসাচীর মতো কোনো বিপ্লবী বলে সন্দেহ হয়নি।
- পুলিশ তল্লাশির সময় তিনি কঠোর ছিলেন এবং অপূর্বকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন। এখানে তাঁর আচরণ ছিল সম্পূর্ণ পেশাদারী।
- **২. শেষ দিকের আচরণ (স্নেহ ও সহৃদয়তা):**
- যখন নিমাই বাবুর ভুল ভাঙে এবং তিনি জানতে পারেন যে অপূর্ব তাঁর আত্মীয়ের ছেলে, তখন তাঁর কঠোরতা উবে যায়।
- তিনি তৎক্ষণাৎ অপূর্বকে সসম্মানে তার ঘরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন।
- এই আচরণ পরিবর্তনের কারণ হলো, তাঁর দায়িত্ববোধের ঊর্ধ্বে তাঁর **ব্যক্তিগত আত্মীয়তাবোধ** এবং মানবিকতা প্রকাশ পায়।
- **উপসংহার:** এই পরিবর্তন প্রমাণ করে যে, নিমাই বাবু পেশার ক্ষেত্রে কঠোর হলেও ব্যক্তিগত জীবনে তিনি আত্মীয় এবং পরিচিতদের প্রতি সংবেদনশীল ছিলেন।
প্রশ্ন ৬. ‘পথের দাবী’ উপন্যাস অংশে রামদাস তলোয়ারকরের ভূমিকা আলোচনা করো।
✅ উত্তর: রামদাস তলোয়ারকর ছিলেন এই গল্পের এক সহানুভূতিশীল ও মানবতাবাদী চরিত্র।
- **১. অপূর্বের বন্ধু:** রামদাস ছিল অপূর্বের বন্ধু এবং সহকর্মী। সে সবসময় অপূর্বকে সমর্থন করত।
- **২. সহানুভূতিশীল:** পুলিশের হাতে অপূর্ব যখন অপমানিত হয়, তখন তার বন্ধু রামদাসই তার প্রতি সহানুভূতি ও সমবেদনা দেখিয়েছিল। সে অপূর্বকে মানসিক শক্তি জুগিয়েছিল।
- **৩. সহযোগিতা:** নিমাই বাবুর নির্দেশে রামদাসই অপূর্বকে সসম্মানে তার নিজের ঘরে পৌঁছে দিয়েছিল।
- **৪. বিবেচক চরিত্র:** রামদাস শান্ত, বিবেচক এবং সংবেদনশীল ছিল। সে অপূর্বের প্রতি নিমাই বাবুর আচরণকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেয়নি, তবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে কাজ করেছিল। এই চরিত্রটি ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে থাকা সাধারণ মানুষের সহমর্মিতাকে তুলে ধরে।
প্রশ্ন ৭. ‘পথের দাবী’ উপন্যাসের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো। (অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ)
✅ উত্তর:
- **১. প্রত্যক্ষ অর্থ:** ‘পথের দাবী’ হলো বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিকের প্রতিষ্ঠিত বিপ্লবী দলের নাম। এই দল পরাধীন দেশের মুক্তির জন্য সংগ্রাম করত।
- **২. প্রতীকী অর্থ:**
- **মুক্তির দাবী:** এই নামকরণ পরাধীন ভারতের জনগণের **স্বাধিকার ও স্বাধীনতা লাভের দাবীকে** প্রতীকীভাবে ফুটিয়ে তোলে।
- **আদর্শের পথ:** এই দল একটি বিশেষ আদর্শে বিশ্বাসী ছিল, যে পথে দেশের মুক্তি আসবে—সেই **মুক্তির পথ বা আদর্শের দাবীই** উপন্যাসের মূল সুর।
- **৩. কেন্দ্রীয় ভাবনা:** উপন্যাসটির মূল বিষয়বস্তু হলো ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিপ্লবীদের সংগ্রাম। নামকরণ সেই সংগ্রামের দিকেই সরাসরি নির্দেশ করে।
- **উপসংহার:** যেহেতু, উপন্যাসের প্রতিটি ঘটনা, চরিত্র এবং রাজনৈতিক সংঘাত এই বিপ্লবী দলের আদর্শ ও লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে, তাই এই নামকরণটি সার্থক ও যথার্থ।
প্রশ্ন ৮. “বুড়ো মানুষের কথাটা শুনো অপূর্ব। এই দেশের মাটির কাজ যে ভালো করে আয়ত্ত করতে পারে, তার এখানে এসে ওসব কথা মনে হবে না।”—বক্তা কে? কোন প্রসঙ্গে তিনি এই কথা বলেছিলেন? মন্তব্যটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
✅ উত্তর:
- **১. বক্তা ও প্রসঙ্গ:** উক্তিটির বক্তা হলেন পুলিশ ইনস্পেক্টর **নিমাই বাবু**। অপূর্ব যখন স্বদেশপ্রেম এবং ব্রিটিশের অত্যাচারের কথা বলে তার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে, তখন নিমাই বাবু এই কথা বলেন।
- **২. তাৎপর্য:**
- **ব্যঙ্গ ও নিরাসক্তি:** এই কথা বলার মাধ্যমে নিমাই বাবু অপূর্বকে একপ্রকার ব্যঙ্গ করেন। তিনি বলতে চেয়েছেন, অপূর্বের মতো ব্যক্তিরা নিজের দেশের কাজ ভুলে বিদেশের (বার্মার) মাটিতে এসে স্বদেশপ্রেমের বড় বড় কথা বলে।
- **ঔপনিবেশিক মানসিকতা:** নিমাই বাবু ব্রিটিশদের অধীনে চাকরি করতেন। তাঁর মতে, ব্রিটিশদের প্রতি অনুগত থেকে চাকরি করাই নিরাপদ। তাঁর এই মন্তব্যের মধ্যে তাঁর **নিষ্ক্রিয়তা ও ঔপনিবেশিক শক্তির প্রতি আনুগত্য** প্রকাশ পায়।
- **অপূর্বের প্রতি উপদেশ:** যদিও উপদেশের ভঙ্গিতে বলা, কিন্তু এর মূল বক্তব্য ছিল রাজনীতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া।
প্রশ্ন ৯. “তখন কি আর এক তিলও সন্দেহ থাকে?”—কার সম্পর্কে এই উক্তি? তার সন্দেহ করার কারণ কী ছিল? সন্দেহভঞ্জনের কারণ কী?
✅ উত্তর:
- **১. কার সম্পর্কে উক্তি:** উক্তিটি পুলিশ ইনস্পেক্টর **নিমাই বাবুর** সম্পর্কে করা হয়েছিল।
- **২. সন্দেহ করার কারণ:** অপূর্ব ব্রিটিশ বিরোধী কার্যকলাপের কারণে সব্যসাচী মল্লিকের মতো একজনকে সন্দেহ করার জন্য পুলিশের কাছে গিয়েছিল। পুলিশও অপূর্বকে প্রথমে সন্দেহ করেছিল, কারণ সে ছিল একজন বাঙালি। নিমাই বাবু প্রথমে অপূর্বের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত ছিলেন না।
- **৩. সন্দেহভঞ্জনের কারণ:**
- অপূর্বকে যখন বার্মাফাইল অফিসের কেরানি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- সবচেয়ে বড় কারণ হলো, নিমাই বাবু যখন নিশ্চিত হন যে অপূর্ব তাঁর একজন **আত্মীয়ের ছেলে**।
- **তাৎপর্য:** এই সন্দেহভঞ্জন তৎকালীন সমাজে বাঙালির প্রতি ব্রিটিশ প্রশাসনের সন্দেহপ্রবণ ও বৈষম্যমূলক মানসিকতাকে তুলে ধরে।
প্রশ্ন ১০. সব্যসাচী মল্লিকের চরিত্রটি সংক্ষেপে আলোচনা করো। এই চরিত্র কেন আজও আমাদের প্রেরণা যোগায়?
✅ উত্তর: সব্যসাচী মল্লিক ছিলেন ‘পথের দাবী’ উপন্যাসের মূল বিপ্লবী চরিত্র।
- **১. আদর্শবাদী বিপ্লবী:** তিনি দেশের মুক্তির জন্য কাজ করতেন এবং বিপ্লবী দলের নেতা ছিলেন। তাঁর কাছে ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে দেশপ্রেম বড় ছিল।
- **২. দূরদর্শী ও বিচক্ষণ:** তিনি অত্যন্ত দূরদর্শী ছিলেন। গিরিশ মহাপাত্রের মতো হাস্যকর ছদ্মবেশ ধারণ করে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার কৌশল তার বিচক্ষণতার প্রমাণ।
- **৩. অদম্য সাহস:** তিনি ঝুঁকি নিতে ভয় পেতেন না এবং পুলিশের চোখ এড়িয়ে নিজের কাজ চালিয়ে যেতেন।
- **৪. প্রেরণার কারণ:** তাঁর চরিত্রটি পরাধীন দেশের মানুষের মধ্যে **দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ ও সাহসের** আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে। দেশের মুক্তির জন্য সব ধরনের প্রতিকূলতা সহ্য করার তাঁর মানসিকতা আজও মানুষকে অনুপ্রেরণা যোগায়।
৭. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন ১. ‘পথের দাবী’ উপন্যাসের লেখক কে?
✅ উত্তর: ‘পথের দাবী’ উপন্যাসের লেখক হলেন **শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়**।
প্রশ্ন ২. বিপ্লবী সব্যসাচীকে ধরার দায়িত্ব কার উপর ছিল?
✅ উত্তর: বিপ্লবী সব্যসাচীকে ধরার দায়িত্ব **পুলিশ ইনস্পেক্টর নিমাই বাবুর** উপর ছিল।
প্রশ্ন ৩. গিরিশ মহাপাত্রের বেশভূষার উদ্দেশ্য কী ছিল?
✅ উত্তর: গিরিশ মহাপাত্রের বেশভূষার উদ্দেশ্য ছিল **বিপ্লবী সব্যসাচীকে আড়াল করা** এবং নিজেকে তুচ্ছ ব্যক্তি প্রমাণ করা।
প্রশ্ন ৪. নিমাই বাবুর মাসিক মাইনে কত ছিল?
✅ উত্তর: নিমাই বাবুর মাসিক মাইনে ছিল **একশো টাকা**।
প্রশ্ন ৫. ‘পথের দাবী’ নামকরণের সার্থকতা কী?
✅ উত্তর: নামকরণের সার্থকতা হলো বিপ্লবী দলের নাম এবং পরাধীন দেশের **স্বাধীনতার দাবী**।
JSON-LD স্কিমা (সার্চ ইঞ্জিনের জন্য)