দশম শ্রেণী বাংলা: জ্ঞান চক্ষু – আশাপূর্ণা দেবী
📘 দ্বিতীয় অধ্যায়: ‘জ্ঞানচক্ষু’ (গল্প: আশাপূর্ণা দেবী)
📖 লেখকের বিশ্লেষণ ও ভূমিকা
বিখ্যাত সাহিত্যিক **আশাপূর্ণা দেবী** রচিত ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পটি কিশোর **তপন**-এর লেখক হওয়ার স্বপ্ন ও সেই স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণার কাহিনি। গল্পের শুরুতেই তপনের নতুন মেসোমশাইয়ের লেখক পরিচয়ে তার মনে যে বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়, তা থেকেই গল্পের মূল ভাবনা শুরু। লেখকেরাও যে সাধারণ মানুষ, এই বোধ তার কাছে ছিল না। প্রথম গল্প লিখে ছাপার অক্ষরে দেখার প্রবল আকাঙ্ক্ষা পূরণের সময় মেসোমশাইয়ের দ্বারা সংশোধিত গল্পের করুণ পরিণতি তাকে বাস্তব জগতের রূঢ় সত্যের মুখোমুখি করে। এই অপমানবোধই তপনের **’জ্ঞানচক্ষু’ উন্মীলন**-এ সাহায্য করে। গল্পটি এক কিশোরের সংবেদনশীল মন ও আত্ম-প্রতিষ্ঠার তীব্র আকাঙ্ক্ষার এক মনস্তাত্ত্বিক দলিল।
🎯 ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্প থেকে সম্ভাব্য নম্বর বিভাজন (লিখিত)
এই গল্প থেকে সাধারণত নিম্নলিখিত নম্বর বিভাজন অনুযায়ী প্রশ্ন আসে:
| প্রশ্নের ধরন | মোট নম্বর | অনুমানিক সংখ্যা |
|---|---|---|
| MCQ (১ নম্বর) | ১ | ১টি |
| SAQ (১ নম্বর) | ১ | ১টি (২টি প্রশ্নের মধ্যে একটি) |
| LAQ (৩ নম্বর) | ৩ | ১টি (২টি প্রশ্নের মধ্যে একটি) |
| LAQ (৫ নম্বর) | ৫ | ১টি (২টি প্রশ্নের মধ্যে একটি) |
১. বহু বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ): ২০টি প্রশ্ন (৪টি অপশন সহ)
নির্দেশিকা: সঠিক বিকল্পটি বেছে নাও। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১।
১. ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের লেখক কে?
- ক) সুবোধ ঘোষ
- খ) আশাপূর্ণা দেবী
- গ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
- ঘ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
✅ উত্তর: খ
২. ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের প্রধান চরিত্র কে?
- ক) মেসোমশাই
- খ) ছোটোমাসি
- গ) তপন
- ঘ) মা
✅ উত্তর: গ
৩. তপনের নতুন মেসোমশাই কী করেন?
- ক) ডাক্তার
- খ) অধ্যাপক
- গ) শিক্ষক
- ঘ) লেখক
✅ উত্তর: ঘ
৪. তপনের মেসোমশাই কোন পত্রিকার সম্পাদককে চিনতেন?
- ক) ভারতী
- খ) কৃত্তিবাস
- গ) সন্ধ্যাতারা
- ঘ) সচিত্র সাপ্তাহিক
✅ উত্তর: গ
৫. তপনের লেখা গল্পের নাম কী ছিল?
- ক) প্রথম দিন
- খ) স্কুলজীবন
- গ) প্রথম দিন
- ঘ) আমার লেখক হওয়ার গল্প
✅ উত্তর: গ
৬. তপন তার প্রথম গল্পটি লিখেছিল—
- ক) পড়ার টেবিলের উপরে
- খ) দুপুরবেলা তিনতলার সিঁড়িতে
- গ) রাতে ঘুমোনোর আগে
- ঘ) ছাদে বসে
✅ উত্তর: খ
৭. তপনের লেখা গল্পের বিষয় কী ছিল?
- ক) তার অ্যাডভেঞ্চার
- খ) তার গ্রামের ছবি
- গ) বন্ধুদের দুষ্টুমি
- ঘ) ইস্কুলে ভর্তি হওয়ার দিনের অভিজ্ঞতা
✅ উত্তর: ঘ
৮. ছোটোমাসি তপনের চেয়ে কত বছরের বড়?
- ক) দু-এক বছরের
- খ) বছর আষ্টেকের
- গ) দশ বছরের
- ঘ) পনেরো বছরের
✅ উত্তর: খ
৯. তপন গল্পটি প্রথমে কাকে দেখতে দিয়েছিল?
- ক) মাকে
- খ) ছোটোমাসিকে
- গ) মেসোমশাইকে
- ঘ) বাবাকে
✅ উত্তর: গ
১০. মেসোমশাই গল্পটি পড়ে কী মন্তব্য করেছিলেন?
- ক) খুবই ভালো হয়েছে
- খ) আরো লেখার দরকার
- গ) একটু কারেকশন করে দিতে হবে
- ঘ) ছাপার যোগ্য নয়
✅ উত্তর: গ
১১. তপনের মেসোমশাই কোন পত্রিকার জন্য তপনের গল্প নিয়ে গিয়েছিলেন?
- ক) শিশুসাথী
- খ) সবুজপত্র
- গ) সন্ধ্যাতারা
- ঘ) কিশোর ভারতী
✅ উত্তর: গ
১২. গল্প ছাপার পর তপন নিজেকে কত নম্বর লেখকের সম্মান দিতে চেয়েছিল?
- ক) এক নম্বর
- খ) দুই নম্বর
- গ) তিন নম্বর
- ঘ) চার নম্বর
✅ উত্তর: খ
১৩. ‘যেন নেশাগ্রস্তের মতো হয়ে যায়।’—তপন কী কারণে নেশাগ্রস্ত হয়েছিল?
- ক) ভালো খাবারের জন্য
- খ) গল্প ছাপার খবর শোনার জন্য
- গ) নতুন বই কেনার জন্য
- ঘ) ভালো রেজাল্টের জন্য
✅ উত্তর: খ
১৪. তপন তার গল্পটি কারেকশন করার কথা শুনে কী ভাবল?
- ক) আনন্দিত হলো
- খ) গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল
- গ) হতাশ হলো
- ঘ) বিরক্ত হলো
✅ উত্তর: খ
১৫. ‘পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে?’—অলৌকিক ঘটনাটি হলো—
- ক) তপনের ভালো ফল করা
- খ) তপনের গল্প ছাপানো
- গ) মেসোমশাইয়ের বিখ্যাত লেখক হওয়া
- ঘ) ছুটি পাওয়া
✅ উত্তর: খ
১৬. মেসোমশাইয়ের ছাপানো গল্পটির প্রথম লাইনটি কী ছিল?
- ক) যা লিখেছিল তপন
- খ) তার ইস্কুলের অভিজ্ঞতার কথা
- গ) নতুন করে লেখা লাইন
- ঘ) ছোটোমাসির লেখা লাইন
✅ উত্তর: গ
১৭. মেসোমশাই তপনের লেখা গল্পটি সংশোধন করতে কতক্ষণ সময় নিয়েছিলেন?
- ক) এক ঘণ্টা
- খ) সারাদিন
- গ) ঘণ্টাখানেক
- ঘ) মিনিট দশেক
✅ উত্তর: গ
১৮. ‘গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো তপনের।’—কেন?
- ক) ভয়ের কারণে
- খ) লেখার পর মেসোমশাইয়ের হাতে সেটি কারেকশনের জন্য দেওয়া হবে শুনে
- গ) ছোটোমাসির কথা শুনে
- ঘ) বিখ্যাত লেখকের সঙ্গে দেখা হবে শুনে
✅ উত্তর: খ
১৯. তপন তার গল্পটি কোথায় ছাপানো দেখল?
- ক) দৈনিক খবরের কাগজে
- খ) একটা মাসিক পত্রিকায়
- গ) ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায়
- ঘ) ‘ভারতী’ পত্রিকায়
✅ উত্তর: গ
২০. ‘আজ তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন।’—কেন?
- ক) পরীক্ষায় খারাপ ফল করায়
- খ) গল্প ছাপানো না হওয়ায়
- গ) নিজের গল্প অন্যের হাতে পরিবর্তিত হয়ে প্রকাশিত হওয়ায়
- ঘ) বন্ধুদের হাসির পাত্র হওয়ায়
✅ উত্তর: গ
২, ৩ ও ৪. অতি-সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (VSAQ): ৫০টি প্রশ্ন
ক) শূন্যস্থান পূরণ করো (১৮টি)
নির্দেশিকা: সঠিক শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থানগুলি পূরণ করো।
- ১. তপন শুধু বিস্মিত চোখে চাহিয়া রহিল।
- ২. মেসোর হাতেই নাকি তার প্রথম লেখা ছাপা হবে।
- ৩. গল্প লেখার ব্যাপারটা যেনো এক নেশা পেয়েছে।
- ৪. দুপুরবেলা সবাই যখন নিদ্রার আয়োজন করে, তখন তপন লিখছিল।
- ৫. তপনের লেখা গল্পটি ছাপা হয়েছিল সন্ধ্যের তারা পত্রিকায়।
- ৬. তপন বুঝল, ছাপার অক্ষরে একটাও নিজের লাইন তার নেই।
- ৭. জ্ঞানচক্ষু কথাটির অর্থ হলো বোধোদয়।
- ৮. পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে! তাই না, মাসি?
- ৯. তপনের চোখ মার্বেলের মতো গোল হয়ে গেল।
- ১০. মেসোমশাই তখন শুধু বলেন, একটু কারেকশন করে দিতে হল।
- ১১. “বুকটা গর্জনে ওঠে।” – তপনের বুক গর্জে উঠেছিল।
- ১২. এখন শুধু ছাপা-আক্ষরের ভয়।
- ১৩. দুঃখ হয়, কিন্তু সে দুঃখটা সহজ নয়।
- ১৪. তপন একান্তে বসে গল্পটি কম করে দশবার পড়েছিল।
- ১৫. তপনের লেখা গল্পটি কোনো বিশেষ ঘটনা নিয়ে ছিল না, ছিল তার দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার কথা।
- ১৬. তপন ভেবেছিল, লেখকরা যেন অন্য গ্রহের জীব।
- ১৭. নতুন মেসোমশাই গ্রীষ্মের ছুটিতে তপনদের বাড়ি এসেছিলেন।
- ১৮. ছাপা-আক্ষরের প্রতি তপনের এখন গাঢ় বিদ্বেষ।
খ) সত্য-মিথ্যা নির্ণয় করো (১৬টি)
নির্দেশিকা: বাক্যটি সত্য হলে (স) এবং মিথ্যা হলে (মি) লেখো।
- ১. তপন গল্পটি লিখেছিল ছোট মাসির অনুরোধে। (মি)
- ২. তপনের নতুন মেসোমশাই ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক। (মি)
- ৩. তপনের লেখা প্রথম গল্পের নাম ছিল ‘প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা’। (স)
- ৪. ছোট মাসি তপনের গল্প শুনে হেসে উঠেছিলেন। (স)
- ৫. ‘সন্ধ্যের তারা’ পত্রিকার সম্পাদককে তপনের মামা চিনতেন। (মি)
- ৬. প্রকাশিত গল্পে তপনের একটিও লাইন অক্ষত ছিল না। (স)
- ৭. প্রকাশিত গল্পের প্রথম অক্ষরটি মেসোমশাই পাল্টে দিয়েছিলেন। (স)
- ৮. তপন গল্পটি পড়ে আনন্দ ও গর্ব অনুভব করেছিল। (মি)
- ৯. তপন গল্পটি লিখেছিল দুপুরবেলা যখন সবাই ঘুমাচ্ছিল। (স)
- ১০. জ্ঞানচক্ষু বলতে তপনের চোখের জ্যোতি বেড়ে যাওয়াকে বোঝায়। (মি)
- ১১. তপন প্রতিজ্ঞা করেছিল যে, সে আর কখনো লেখা ছাপতে দেবে না। (মি)
- ১২. তপনের মেসোমশাইকে দেখে তপন প্রথমে বিস্মিত হয়নি। (মি)
- ১৩. ছোট মাসি শ্বশুরবাড়ি থেকে এসেছিল। (স)
- ১৪. তপনের গল্প আদ্যোপান্ত কম করে দশবার পড়া হয়েছিল। (স)
- ১৫. তপন ছাদের সিঁড়িতে বসে তার লেখা পড়ছিল। (মি)
- ১৬. তপন নিজেই তার গল্পটিকে করুণার দান বলে মনে করেছিল। (স)
গ) এক বাক্যে উত্তর দাও (১৬টি)
নির্দেশিকা: একটি সম্পূর্ণ বাক্যে নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও।
১. তপন কোন ছুটিতে মামার বাড়িতে এসেছিল?
✅ উত্তর: তপন গরমের ছুটিতে (গ্রীষ্মের ছুটিতে) মামার বাড়িতে এসেছিল।
২. তপন প্রথম তার লেখা গল্প কাকে দেখায়?
✅ উত্তর: তপন প্রথম তার লেখা গল্প ছোট মাসিকে দেখায়।
৩. তপনের লেখা প্রথম গল্পের নাম কী ছিল?
✅ উত্তর: তপনের লেখা প্রথম গল্পের নাম ছিল ‘প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা’।
৪. মেসোমশাই কোন পত্রিকার সম্পাদককে চিনতেন?
✅ উত্তর: মেসোমশাই ‘সন্ধ্যের তারা’ পত্রিকার সম্পাদককে চিনতেন।
৫. প্রকাশিত গল্পে তপনের লেখা কতটুকু অংশ অক্ষত ছিল?
✅ উত্তর: প্রকাশিত গল্পে তপনের লেখা একটি লাইনও অক্ষত ছিল না।
৬. তপনের ‘মাথা ঝিমঝিম’ করার কারণ কী ছিল?
✅ উত্তর: প্রকাশিত গল্পটিতে নিজের লেখা কোনো অংশ না দেখতে পেয়ে অপমানিত বোধ করায় তপনের ‘মাথা ঝিমঝিম’ করছিল।
৭. জ্ঞানচক্ষু কথাটির অর্থ কী?
✅ উত্তর: ‘জ্ঞানচক্ষু’ শব্দের অর্থ হলো জ্ঞানের দ্বারা খুলে যাওয়া চোখ বা বোধোদয়।
৮. তপন কোন গভীর সংকল্প করেছিল?
✅ উত্তর: তপন সংকল্প করেছিল যে যদি কোনোদিন লেখা ছাপতে দেয়, তবে সে নিজে গিয়ে দেবে।
৯. তপন কেন বই নিয়ে একতলার সিঁড়িতে বসেছিল?
✅ উত্তর: তীব্র লজ্জা ও অপমানে অসহ্য লাগায় তপন বই নিয়ে একতলার সিঁড়িতে বসেছিল।
১০. ছোট মাসি তপনের গল্প শুনে কী বলে হেসে উঠেছিল?
✅ উত্তর: ছোট মাসি তপনের গল্প শুনে ‘ও মা, এতো সত্যি গল্প!’ বলে হেসে উঠেছিল।
১১. তপন গল্পটি লিখেছিল কখন?
✅ উত্তর: তপন গল্পটি দুপুরবেলা লিখেছিল।
১২. তপন কাদের দেখে বিস্মিত হয়েছিল?
✅ উত্তর: তপন লেখক তথা তার মেসোমশাইকে সাধারণ মানুষের মতো দেখে বিস্মিত হয়েছিল।
১৩. ‘বুকটা গর্জনে ওঠে’ – কেন এমন হয়?
✅ উত্তর: প্রকাশিত গল্পের অসম্মানজনক অবস্থা দেখে তপনের আত্মমর্যাদাবোধ জেগে ওঠায় এমন হয়।
১৪. তপনের মেসোমশাইয়ের মুখ দেখে তপন কী সন্দেহ করেছিল?
✅ উত্তর: তপন সন্দেহ করেছিল যে মেসোমশাই গল্পটি ছাপানো নিয়ে সিরিয়াস নন।
১৫. তপনের কাছে এখন কিসের ভয়?
✅ উত্তর: তপনের কাছে এখন ছাপা-আক্ষরের ভয়।
১৬. তপনের মা কাকে তার লেখা গল্প শোনাতে বারণ করেন?
✅ উত্তর: তপনের মা তার মেসোমশাইকে লেখা গল্প শোনাতে বারণ করেন।
৫. সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান: ৩)
প্রশ্ন ১. “রত্নের মূল্য জহুরীর কাছেই।”—কে, কাকে, কেন একথা বলেছিলেন?
✅ উত্তর: উদ্ধৃত কথাটি তপনের ছোট মাসি তার স্বামী অর্থাৎ তপনের নতুন মেসোমশাইকে বলেছিলেন।
কারণ:
- গল্পের গুরুত্ব: তপন দুপুরে ঘুমন্ত পরিবেশে তার লেখা ‘প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা’ গল্পটি লিখেছিল। এই গল্পটি ছোট মাসি পড়ে প্রথমে হেসে উঠলেও, তিনি বুঝতে পারেন যে ছেলেটির লেখার মধ্যে একটা স্বতঃস্ফূর্ততা ও মৌলিকতা আছে।
- লেখকের মর্যাদা: মাসি তার লেখক স্বামী (মেসোমশাই)-এর কাছে তপনের গল্পটিকে গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরে এই উক্তিটি করেন। মাসির ধারণা ছিল, একজন প্রকৃত লেখকই তপনের প্রতিভার সঠিক কদর করতে পারবেন।
- ছাপার অনুরোধ: এই উক্তির মাধ্যমে মাসি মেসোমশাইকে অনুরোধ করেন যেন তিনি তার পরিচিত ‘সন্ধ্যের তারা’ পত্রিকার সম্পাদকের কাছে গল্পটি ছাপানোর জন্য দেন।
প্রশ্ন ২. “যেন নেশায় পেয়েছে।”—কোন্ নেশার কথা বলা হয়েছে? নেশার ফল কী হয়েছিল?
✅ উত্তর: এখানে গল্প লেখার নেশার কথা বলা হয়েছে। মেসোমশাইকে লেখক হিসেবে দেখার পর থেকে তপনের মধ্যে এই নেশা জন্ম নেয়।
নেশার ফল:
- সৃষ্টির আনন্দ: এই নেশার ফলে তপন মামার বাড়িতে গরমের ছুটির দিনগুলি দুপুরবেলা ঘুম বাদ দিয়ে গোপনে গল্প লিখতে শুরু করে।
- প্রথম সৃষ্টি: এই নেশার ফলস্বরূপই সে তার জীবনের প্রথম গল্প, ‘প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা’ রচনা করে ফেলে।
- প্রাথমিক উৎসাহ: তার প্রথম লেখাটি ছোট মাসি ও মেসোমশাইয়ের কাছে প্রশংসা পাওয়ায় তার উৎসাহ বহুগুণ বেড়ে যায়।
প্রশ্ন ৩. “তপনের চোখ মার্বেলের মতো গোল হইয়া গেল।”—তপনের এমন হওয়ার কারণ কী?
✅ উত্তর: তপনের এমন হওয়ার প্রধান কারণ হলো, একজন লেখকের ধারণা তার কাছে অলৌকিক বা কল্পনাতীত ছিল, কিন্তু তার মেসোমশাইকে দেখে সেই ধারণা ভেঙে যায়।
- ভ্রান্ত ধারণা: তপন ভাবত লেখকরা বুঝি সাধারণ মানুষের চেয়ে আলাদা, তারা হয়তো আকাশের তারা বা ভিনগ্রহের জীব।
- বাস্তব উপলব্ধি: যখন সে দেখল মেসোমশাই স্নান করেন, হাসেন, গল্প করেন—অর্থাৎ পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই আচরণ করেন, তখন তার মনে বিস্ময় জন্ম নেয়।
- ফল: এই বিস্ময়কর বাস্তব উপলব্ধি তার ভেতরের লেখক-সত্তাকে জাগিয়ে তোলে এবং তার চোখ মার্বেলের মতো গোল হয়ে যায়।
প্রশ্ন ৪. “গল্পটা ছেপে আসার পর তপনের মনে যে দুঃখ হয়, কিন্তু সে দুঃখটা সহজ নয়।”—’অসহজ’ দুঃখের কারণ কী?
✅ উত্তর: তপনের দুঃখটি ‘অসহজ’ ছিল কারণ এটি কেবল প্রকাশিত না হওয়ার বা খারাপ সমালোচনার দুঃখ ছিল না; এটি ছিল আত্মমর্যাদাবোধে আঘাত লাগার এবং করুণার শিকার হওয়ার দুঃখ।
- আত্ম-সৃষ্টির অপলাপ: প্রকাশিত গল্পে তপন নিজের একটি লাইনও খুঁজে পায়নি। মেসোমশাই গল্পটিকে ‘আদ্যোপান্ত সংশোধন’ করে দিয়েছিলেন। ফলে লেখাটি তপনের সৃষ্টি হলেও তার আর কোনো অধিকার রইল না।
- করুণার শিকার: বাড়ির লোকেরা তার লেখার প্রশংসা না করে, মেসোমশাইয়ের ‘বদান্যতা’ নিয়ে আলোচনা করছিল। তপন বুঝল, লেখাটি তার প্রতি মেসোর করুণার দান মাত্র।
- লজ্জা: নিজের মৌলিকতা হারানো এবং করুণার পাত্র হওয়ায় তপন তীব্র লজ্জা ও অপমানে জর্জরিত হয়, যা তার দুঃখকে আরও গভীর ও অসহজ করে তুলেছিল।
প্রশ্ন ৫. “বুকটা গর্জনে ওঠে।”—কখন ও কেন তপনের এমন অনুভূতি হয়?
✅ উত্তর: যখন তপন প্রকাশিত গল্পটি পড়তে গিয়ে দেখে যে তার লেখার একটিও লাইন সেখানে নেই এবং এটি অন্যের করুণার দান মাত্র, তখন তার বুক গর্জনে ওঠে।
- অপমান ও আঘাত: নিজের মৌলিকতা ও সৃষ্টি অন্যের দ্বারা পরিবর্তিত হওয়ায় তার আত্মমর্যাদায় আঘাত লাগে।
- আবেগের বহিঃপ্রকাশ: তপন কিশোর হলেও তার ভেতরের লেখক-সত্তাটি এই চরম অপমান সহ্য করতে পারেনি। এই ‘গর্জন’ ছিল তার ভেতরের ক্রোধ, প্রতিবাদ এবং যন্ত্রণার প্রতীকী বহিঃপ্রকাশ।
- বোধোদয়ের সূচনা: এই তীব্র কষ্টের মুহূর্তটিই ছিল তপনের জ্ঞানচক্ষু খুলে যাওয়ার সূচনা, যা তাকে বাস্তবতা উপলব্ধি করতে শিখিয়েছিল।
৬. রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান: ৫)
প্রশ্ন ৬. ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে তপনের চরিত্র বিশ্লেষণ করো। (গুরুত্বপূর্ণ)
✅ উত্তর: আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো কিশোর তপন। তার চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি নিচে আলোচনা করা হলো:
- ১. স্বপ্নবিলাসী ও কল্পনাসমৃদ্ধ: তপন প্রথমে লেখকদের অলৌকিক জীব ভাবত। তার মধ্যে লেখক হওয়ার সুপ্ত বাসনা ছিল, যা মেসোমশাইকে দেখে জেগে ওঠে।
- ২. স্বতঃস্ফূর্ত ও সরল: তার লেখা প্রথম গল্প ‘প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা’ প্রমাণ করে যে সে কোনো জটিল বিষয় নিয়ে নয়, বরং নিজের চারপাশের সাধারণ বিষয় নিয়েই সহজে লিখতে পারে।
- ৩. সংবেদনশীল ও উৎসাহী: তার গল্পটি ছাপানো হবে শুনে সে আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠে। আবার প্রকাশিত গল্পে নিজের লেখা না দেখে সে তীব্র লজ্জা ও দুঃখ অনুভব করে।
- ৪. আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন: প্রকাশিত গল্পটি করুণার দান মাত্র—এটা বুঝতে পেরে তপনের মনে বিদ্রোহ আসে। সে গল্পটি দশবার পড়ার পরিবর্তে ছিঁড়ে ফেলতে চেয়েছিল, যা তার দৃঢ় আত্মমর্যাদাবোধের পরিচায়ক।
- ৫. বাস্তববাদী ও সংকল্পবদ্ধ: গল্পের শেষে তার প্রকৃত ‘জ্ঞানচক্ষু’ খুলে যায়। সে সংকল্প করে যে নিজের লেখা ছাপাতে হলে সে নিজে গিয়ে দেবে—যা তার বাস্তবমুখী মনোভাব ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধতার প্রকাশ।
প্রশ্ন ৭. ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো। (গুরুত্বপূর্ণ)
✅ উত্তর: ‘জ্ঞানচক্ষু’ কথাটির আভিধানিক অর্থ হলো জ্ঞানের দ্বারা খুলে যাওয়া চোখ বা প্রকৃত বোধোদয়। এই গল্পে তপনের জীবনে দুটি ধাপে ‘চক্ষু’ খুলেছিল, যার ওপর নির্ভর করে নামকরণটি সার্থক:
- ১. প্রথম চক্ষু উন্মোচন (বিস্ময়ের চক্ষু): তপন জানত না লেখকরা সাধারণ মানুষ হয়। মেসোমশাইকে সাধারণ মানুষের মতো দেখে তার মনে প্রথমে বিস্ময়ের সৃষ্টি হয় এবং তার লেখক হওয়ার আকাঙ্ক্ষা জাগে। এটি ছিল তার কল্পনার জগতের প্রাথমিক উন্মোচন।
- ২. প্রকৃত জ্ঞানচক্ষু উন্মোচন (সত্য উপলব্ধির চক্ষু): গল্পের শেষে, যখন সে প্রকাশিত গল্পটিতে নিজের একটিও লাইন খুঁজে পেল না এবং বুঝল যে তার লেখাটি মেসোর করুণার দান, তখন তার চরম লজ্জা ও দুঃখ হয়। এই কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি হওয়াই ছিল তার জীবনের প্রকৃত জ্ঞানচক্ষু।
- সার্থকতা: গল্পটি তপনের লেখক হয়ে ওঠার বা গল্প ছাপানোর গল্প নয়, বরং করুণা, আত্মমর্যাদা এবং সত্য উপলব্ধির মাধ্যমে তার মানসিক পরিপক্বতা লাভের গল্প। যেহেতু এই বোধোদয়ই গল্পের মূল বিষয়, তাই ‘জ্ঞানচক্ষু’ নামকরণটি যথার্থ ও সার্থক।
প্রশ্ন ৮. “তখন তপনের জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল।”—জ্ঞানচক্ষু বলতে কী বোঝানো হয়েছে? কীভাবে তপনের জ্ঞানচক্ষু খুলেছিল?
✅ উত্তর:
জ্ঞানচক্ষুর অর্থ: ‘জ্ঞানচক্ষু’ বলতে বোঝানো হয়েছে জ্ঞানের দ্বারা উদ্ভাসিত চোখ বা প্রকৃত বোধোদয়। এটি ব্যক্তির মন থেকে সমস্ত কল্পনা, ভ্রান্তি এবং ভুল ধারণা দূর করে বাস্তব সত্যকে উপলব্ধি করার ক্ষমতাকে বোঝায়।
জ্ঞানচক্ষু উন্মোচনের প্রক্রিয়া: তপনের জ্ঞানচক্ষু দুটি অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে খুলেছিল:
- ক. প্রাথমিক বিস্ময়: লেখককে সাধারণ মানুষের মতো দেখে তপনের মনে যে বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছিল, তা তাকে নতুন সৃষ্টির পথে চালিত করে।
- খ. চরম উপলব্ধি: এটিই আসল জ্ঞানচক্ষু। প্রকাশিত পত্রিকায় নিজের লেখা গল্পটি পড়তে গিয়ে যখন সে দেখল, মেসোমশাইয়ের সংশোধনের ভারে তার মৌলিকতা পুরোপুরি মুছে গেছে এবং তার লেখাটি করুণার দান মাত্র—তখন তার আত্মমর্যাদায় চরম আঘাত লাগে।
- ফলাফল: এই তীব্র অপমানের অনুভূতিই তপনকে শিখিয়েছিল যে জগতে করুণা বা উপকারের আশা করে নিজের সৃষ্টিকে বিকৃত করা উচিত নয়। নিজের লেখা যদি ছাপতে হয়, তবে তা নিজের যোগ্যতায় হতে হবে। এটিই ছিল তপনের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বোধোদয়।
প্রশ্ন ৯. “গভীরভাবে সংকল্প করে তপন।”—তপন কী সংকল্প করেছিল? তার সংকল্পের কারণ বিশ্লেষণ করো।
✅ উত্তর:
সংকল্প: তপন সংকল্প করেছিল যে: “যদি কোনোদিন লেখা ছাপতে দেয়, তবে তপন নিজে গিয়ে দেবে। নিজের কাঁচা লেখা ছাপা হোক, না হোক, সে আর কখনো অন্যের করুণার পাত্র হবে না।”
সংকল্পের কারণ: তপনের এই সংকল্পের পেছনে ছিল গভীর মানসিক যন্ত্রণা এবং আত্মমর্যাদাবোধের জাগরণ:
- মৌলিকতা হারানো: মেসোমশাই তপনের লেখার ‘আদ্যোপান্ত’ সংশোধন করে দেওয়ায় সে তার সৃষ্টির ওপর নিজের অধিকার হারায়।
- করুণার অপমান: বাড়ির লোকের মুখে মেসোমশাইয়ের মহত্ত্বের কথা শুনে তপন বুঝতে পারে, তার প্রকাশিত লেখাটি তার মেধার ফল নয়, বরং মেসোর দয়া ও করুণার প্রতীক। এই অপমান তপনকে বিধ্বস্ত করে দেয়।
- আত্মমর্যাদার প্রতিষ্ঠা: এই তীব্র দুঃখ এবং অপমানের ফলেই তপন সিদ্ধান্ত নেয় যে ভবিষ্যতে সে কোনো লেখকের দয়ায় নয়, বরং নিজের যোগ্যতায় লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তার কাঁচা লেখা হলেও তা অপরিবর্তিত থাকবে।
প্রশ্ন ১০. ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে নতুন মেসোমশাইয়ের ভূমিকা আলোচনা করো।
✅ উত্তর: ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে মেসোমশাইয়ের চরিত্রটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও তাঁর উদ্দেশ্য ভালো ছিল, কিন্তু তাঁর কার্যকলাপ তপনের বোধোদয়ের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
- লেখক হিসেবে আকর্ষণ: মেসোমশাই একজন লেখক ও অধ্যাপক হওয়ায় তপনের লেখক সত্তাকে প্রথম জাগিয়ে তোলেন। তপনের কাছে তিনিই ছিলেন প্রথম লেখকের বাস্তব মূর্তি।
- গল্প ছাপানোর উদ্যোগী: তিনি তপনের প্রতি স্নেহবশত গল্পটি ‘সন্ধ্যের তারা’ পত্রিকায় ছাপানোর ব্যবস্থা করেন, যা তার প্রথম কাজটি।
- স্বেচ্ছাচারী সংশোধন: তিনি তপনের কাঁচা লেখাটিকে ‘উন্নত’ করার জন্য আদ্যোপান্ত সংশোধন করে দেন, যা আপাতদৃষ্টিতে সাহায্য মনে হলেও তপনের আত্মমর্যাদায় আঘাত করে।
- বোধোদয়ের কারণ: তাঁর এই সংশোধনই তপনের জীবনে সবচেয়ে বড় শিক্ষা নিয়ে আসে। মেসোমশাইয়ের এই কাজটিই পরোক্ষভাবে তপনের প্রকৃত ‘জ্ঞানচক্ষু’ উন্মোচনের মূল কারণ।
প্রশ্ন ১১. “তাতে আর নতুন কী আছে?”—উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। (৩)
✅ উত্তর: এই উক্তিটির তাৎপর্য তপনের ভ্রান্ত ধারণাকে নির্দেশ করে। তপন মনে করত লেখকরা এমন সব বিষয়ে লেখেন, যা সাধারণ মানুষ ভাবে না বা জানে না।
- নতুনত্বের প্রত্যাশা: তপন তার মেসোমশাইকে সাধারণ মানুষের মতো দেখে বিস্মিত হয়। তার মনে প্রশ্ন জাগে, তবে লেখকরাও কি সাধারণ মানুষের মতো জীবন যাপন করে?
- গল্প লেখার বিষয়: এই উপলব্ধির পরেই তপন বোঝে, লেখক হতে হলে অন্য কোনো অলৌকিক বিষয় নয়, বরং তার জীবনের সাধারণ বিষয়গুলিই লেখার বিষয় হতে পারে। তাই সে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে গল্প লেখা শুরু করে।
- বোধের সূচনা: এই উপলব্ধিই তার প্রথম ‘জ্ঞানচক্ষু’ উন্মোচন—সে বুঝতে পারে, গল্প লেখার জন্য আলাদা কোনো অলৌকিক চোখ দরকার হয় না।
প্রশ্ন ১২. “যেন একটা বাজ পড়ার মতো।”—তপনের কাছে এই অনুভূতি হওয়ার কারণ কী? (৩)
✅ উত্তর: তপনের কাছে বাজ পড়ার মতো অনুভূতির কারণ ছিল, তার লেখা গল্পটি ছাপার অক্ষরে দেখার আনন্দকে ঘিরে তার মনে তৈরি হওয়া চরম প্রত্যাশা ও উত্তেজনা।
- আশা ও প্রত্যাশা: তপন প্রথমবার তার লেখা ছাপার অক্ষরে দেখবে—এই আনন্দ ছিল তার কাছে এক অলৌকিক ও কল্পনাতীত ঘটনা।
- অদম্য উত্তেজনা: গল্পটি যখন মামার বাড়ি আসে, তখন সেই মুহূর্তের চরম উত্তেজনা, আনন্দ এবং ভয় মেশানো আবেগ তপনের কাছে বাজ পড়ার মতো মনে হয়েছিল।
প্রশ্ন ১৩. ‘ছাপা-আক্ষরের ভয়’ বলতে তপন কী বুঝিয়েছে? (৩)
✅ উত্তর: ‘ছাপা-আক্ষরের ভয়’ বলতে তপন ছাপার অক্ষরের মাহাত্ম্যকে ভয় পায়নি, বরং সেই করুণা মিশ্রিত অপমানকে ভয় পেয়েছিল, যা ছাপার অক্ষরের মাধ্যমে তার সামনে প্রকট হয়েছিল।
- অপমানের ভয়: প্রকাশিত গল্পে নিজের লেখার একটিও লাইন না দেখে তপন লজ্জিত ও অপমানিত হয়েছিল।
- করুণার প্রতীক: তার কাছে এখন ছাপার অক্ষর মানে নিজের মেধার প্রকাশ নয়, বরং অন্যের দয়ায় প্রাপ্ত করুণার দান।
- সংকল্প: এই ভয় থেকে মুক্তি পেতেই সে সংকল্প করেছিল যে নিজের লেখা ছাপাতে হলে নিজে গিয়ে দেবে।
প্রশ্ন ১৪. তপনের লেখা ‘প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা’ গল্পটির বিষয়বস্তু কী ছিল? (৩)
✅ উত্তর: তপন তার গল্পে কোনো কাল্পনিক বা আজগুবি বিষয় লেখেনি। তার গল্পের বিষয়বস্তু ছিল তার নিজের জীবনের দেখা অতি সাধারণ অভিজ্ঞতা।
- সাধারণ বিষয়: স্কুলে ভর্তি হওয়ার প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা, বন্ধুদের সঙ্গে কথোপকথন, চারপাশের মানুষ ও পরিবেশ ইত্যাদি।
- লেখক হিসেবে তপন: সে বুঝতে পারে লেখক হতে হলে বড় কোনো ঘটনা বা চিন্তা দরকার নেই, নিজের দেখা বিষয়গুলিই যথেষ্ট। এই সারল্যই তার গল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল।
প্রশ্ন ১৫. “নতুন মেসোকে দেখে জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল তপনের।”—উদ্ধৃতিটির তাৎপর্য লেখো। (৩)
✅ উত্তর: এই উক্তিটির তাৎপর্য হলো—তপনের লেখক সম্পর্কিত ভ্রান্ত ধারণার অবসান ঘটা।
- পুরাতন ধারণা: তপন মনে করত লেখকরা সাধারণ মানুষ নন, তাঁরা অন্য গ্রহের জীব। তারা কেবল বইতেই থাকে, বাস্তবে তাদের দেখা মেলে না।
- জ্ঞানচক্ষু উন্মোচন: নতুন মেসোমশাইকে একজন সাধারণ মানুষের মতোই হাসতে, গল্প করতে, সিগারেট খেতে দেখে তপনের সেই ভ্রান্ত ধারণা ভেঙে যায়।
- ফলাফল: এই উপলব্ধির ফলে তপন সাহস সঞ্চয় করে এবং বুঝতে পারে যে সেও একজন সাধারণ মানুষ হয়ে গল্প লিখতে পারে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
৭. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন ১. জ্ঞানচক্ষু গল্পটির রচয়িতা কে?
✅ উত্তর: জ্ঞানচক্ষু গল্পটির রচয়িতা হলেন **আশাপূর্ণা দেবী**।
প্রশ্ন ২. জ্ঞানচক্ষু বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
✅ উত্তর: জ্ঞানচক্ষু বলতে **জ্ঞানের দ্বারা খুলে যাওয়া চোখ বা বাস্তব সত্য সম্পর্কে প্রকৃত বোধোদয়কে** বোঝানো হয়েছে।
প্রশ্ন ৩. তপন কী সংকল্প করেছিল?
✅ উত্তর: তপন সংকল্প করেছিল যে ভবিষ্যতে সে **নিজের লেখা ছাপাতে হলে নিজে গিয়ে দেবে** এবং অন্যের করুণা মিশ্রিত লেখা প্রকাশ করবে না।
প্রশ্ন ৪. তপনের গল্পটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
✅ উত্তর: তপনের লেখা প্রথম গল্পটি **’সন্ধ্যের তারা’** পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।