দশম শ্রেণী বাংলা: অসুখী একজন’ -পাবলো নেরুদা

📘 পরবর্তী অধ্যায়: ‘নদীর বিদ্রোহ’ (গল্প: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়)


📖 শিক্ষকের বিশ্লেষণ ও ভূমিকা

‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পটি লেখক **মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের** একটি মনস্তাত্ত্বিক সৃষ্টি। কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো ত্রিশ বছর বয়স্ক **নদের চাঁদ**, যিনি একজন স্টেশন মাস্টার এবং নদীর প্রতি তাঁর ছিল এক অদম্য ভালোবাসা। এই গল্পে একদিকে নদের চাঁদের **প্রকৃতিপ্রেম**, অন্যদিকে নদীর উপর মানুষের তৈরি **বাঁধ ও নিয়ন্ত্রণের** সংঘাত দেখানো হয়েছে। চার দিনের প্রবল বর্ষণে নদীর ফুলে ওঠা এবং তার ধ্বংসাত্মক রূপ নদের চাঁদের কাছে **প্রকৃতির বিদ্রোহ** বলে মনে হয়, যা শেষ পর্যন্ত তাঁর করুণ পরিণতি ডেকে আনে।


🎯 ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্প থেকে সম্ভাব্য নম্বর বিভাজন (লিখিত)

এই গল্প থেকে সাধারণত নদের চাঁদের চরিত্র বিশ্লেষণ, নদীর প্রতি তাঁর মানসিক আকর্ষণ এবং বিদ্রোহের তাৎপর্য নিয়ে প্রশ্ন আসে।

প্রশ্নের ধরন মোট নম্বর অনুমানিক সংখ্যা
MCQ (১ নম্বর) ১টি
SAQ (১ নম্বর) ১টি (২টি প্রশ্নের মধ্যে একটি)
LAQ (৩ নম্বর) ১টি (২টি প্রশ্নের মধ্যে একটি)
LAQ (৫ নম্বর) ১টি (২টি প্রশ্নের মধ্যে একটি)

১. বহু বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ): ২০টি প্রশ্ন (৪টি অপশন সহ)

নির্দেশিকা: সঠিক বিকল্পটি বেছে নাও। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১।

১. ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পটির লেখক কে?

  • ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  • খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  • গ) সুবোধ ঘোষ
  • ঘ) অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

✅ উত্তর: ক

২. গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম কী?

  • ক) নদেরকুমার
  • খ) শশী
  • গ) নদের চাঁদ
  • ঘ) শম্ভু

✅ উত্তর: গ

৩. নদের চাঁদের বয়স কত?

  • ক) পঁচিশ বছর
  • খ) সাঁইত্রিশ বছর
  • গ) ত্রিশ বছর
  • ঘ) চল্লিশ বছর

✅ উত্তর: গ

৪. নদের চাঁদ কতদিন থেকে নদীকে দেখেনি?

  • ক) এক সপ্তাহ
  • খ) একদিনও নয়
  • গ) চার দিন
  • ঘ) দশ দিন

✅ উত্তর: গ

৫. নদের চাঁদ নদীকে কীসের মতো ভালোবাসত?

  • ক) বন্ধুর মতো
  • খ) জনম দুঃখিনী মেয়ের মতো
  • গ) মায়ের মতো
  • ঘ) দেবীর মতো

✅ উত্তর: খ

৬. নদের চাঁদ তার হাতে থাকা কোন্ চিঠিটি নদীর জলে ছুঁড়ে ফেলেছিল?

  • ক) দ্বিতীয় চিঠি
  • খ) চতুর্থ চিঠি
  • গ) পাঁচ নম্বর চিঠি
  • ঘ) শেষ চিঠি

✅ উত্তর: গ

৭. চার দিনের অবিরাম বর্ষণে নদীর জল কেমন হয়েছিল?

  • ক) স্বচ্ছ ও নির্মল
  • খ) ঘোলা ও পঙ্কিল
  • গ) গভীর নীল
  • ঘ) শান্ত

✅ উত্তর: খ

৮. নদের চাঁদ নদীকে কীভাবে দেখতে অভ্যস্ত ছিল?

  • ক) উচ্ছৃঙ্খল রূপে
  • খ) শান্ত ও নিরীহ রূপে
  • গ) হিংস্র রূপে
  • ঘ) স্রোতহীন রূপে

✅ উত্তর: খ

৯. ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে নদীর দিকে চেয়ে নদের চাঁদের মনে কী হয়েছিল?

  • ক) আনন্দ
  • খ) ভয়
  • গ) বিষাদ
  • ঘ) ঘৃণা

✅ উত্তর: খ

১০. নদের চাঁদ তার স্ত্রীকে কিসের কথা লিখতে চেয়েছিল?

  • ক) শহরের কথা
  • খ) নদীর কথা
  • গ) ট্রেনের কথা
  • ঘ) চাকরির কথা

✅ উত্তর: খ

১১. নদীকে বিদ্রোহের কারণ হিসেবে নদের চাঁদ কী মনে করেছিল?

  • ক) দূষণ
  • খ) মানুষের তৈরি বাঁধ
  • গ) অতিরিক্ত বৃষ্টি
  • ঘ) জলের অভাব

✅ উত্তর: খ

১২. নদী কত ফুট উঁচুতে থাকা ব্রিজটিকে স্পর্শ করতে চেয়েছিল?

  • ক) পাঁচ ফুট
  • খ) বারো ফুট
  • গ) দশ ফুট
  • ঘ) পনেরো ফুট

✅ উত্তর: গ

১৩. নদের চাঁদের হৃদয় কিসের সঙ্গে বাঁধা ছিল?

  • ক) তার বাড়ির সঙ্গে
  • খ) নদীর সঙ্গে
  • গ) ট্রেনের সঙ্গে
  • ঘ) তার স্ত্রীর সঙ্গে

✅ উত্তর: খ

১৪. নদের চাঁদকে পিষিয়া দিয়া চলিয়া গেল—

  • ক) পুরাতন ট্রেন
  • খ) নতুন ট্রেন
  • গ) বাস
  • ঘ) নৌকা

✅ উত্তর: খ

১৫. নদের চাঁদের চাকরি কোথায় ছিল?

  • ক) রেললাইনে
  • খ) একটি ছোট্ট স্টেশন
  • গ) একটি শহরে
  • ঘ) নদীতে

✅ উত্তর: খ

১৬. নদের চাঁদ নদীকে কী বলে সম্বোধন করেছিলেন?

  • ক) জননী
  • খ) জনম দুঃখিনী মেয়ে
  • গ) প্রিয়তমা
  • ঘ) দেবী

✅ উত্তর: খ

১৭. নদী কিসের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল?

  • ক) প্রকৃতির
  • খ) মানুষের অত্যাচারের
  • গ) বৃষ্টির
  • ঘ) সূর্যের

✅ উত্তর: খ

১৮. নদের চাঁদ নদীকে কীভাবে দেখতে অভ্যস্ত ছিল?

  • ক) উগ্র রূপে
  • খ) শান্ত ও নিরীহ রূপে
  • গ) ধ্বংসাত্মক রূপে
  • ঘ) অলৌকিক রূপে

✅ উত্তর: খ

১৯. নদের চাঁদ নদীর দিকে চেয়েছিল কেন?

  • ক) ডিউটি শেষে
  • খ) ভালোবাসার টানে
  • গ) রিপোর্ট লিখতে
  • ঘ) ট্রেনের জন্য

✅ উত্তর: খ

২০. নদীর এক কলঙ্কিত ইতিহাসের সঙ্গে কার পরিচয় ছিল?

  • ক) লেখকের
  • খ) নদের চাঁদের
  • গ) ট্রেনের
  • ঘ) স্টেশনের

✅ উত্তর: খ

২, ৩ ও ৪. অতি-সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (VSAQ): ৫১টি প্রশ্ন

ক) শূন্যস্থান পূরণ করো (১৭টি)

নির্দেশিকা: উপযুক্ত শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থানগুলি পূরণ করো।

  • ১. আমি চলে গেলাম, আর সে জানত না
  • ২. আর বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল আমার পায়ের দাগ
  • ৩. বৃষ্টিতে ডুবে রইল এক লাঠি আর এক জোড়া জুতো।
  • ৪. শান্ত হলুদ দেবতারা হাজার বছর ধরে ডুবে রইল ধ্যানে।
  • ৫. উল্টে গেল কাঠের তৈরি মিষ্টি বাড়িটা।
  • ৬. রক্তের একটা কালি-মাখা দাগ ছড়ানো ছিল।
  • ৭. তারপর যুদ্ধ এল, রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়ের মতো।
  • ৮. সব চুরমার হয়ে গেল, জ্বলে গেল আগুন
  • ৯. সেই মিষ্টি বাড়িটার সব চিহ্ন হয়ে গেল পাথর।
  • ১০. অপেক্ষায় সে এক-পা দাঁড়িয়ে।
  • ১১. বছরগুলি নেমে এলো মাথার ওপরে।
  • ১২. ঘাস জন্মাল একটার পর একটা পাথরের ভাঁজে।
  • ১৩. আমি তাকে বলেছিলাম: অপেক্ষা করো
  • ১৪. সেই মিষ্টি বাড়িটি যার বারান্দায় লেগেছিল রক্তের কালো দাগ।
  • ১৫. যুদ্ধের ফলে শহর পরিণত হয়েছিল এক ধূ ধূ প্রান্তরে।
  • ১৬. কবির বিছানাটা ছিল ঝুলন্ত
  • ১৭. যেখানে ছিল শহর, সেখানে ছড়িয়ে রইল কাঠ কয়লা

খ) সত্য-মিথ্যা নির্ণয় করো (১৭টি)

নির্দেশিকা: বাক্যটি সত্য হলে (স) এবং মিথ্যা হলে (মি) লেখো।

  • ১. কবি তার ফিরে আসার কথা জানিয়ে গিয়েছিলেন। (মি)
  • ২. বৃষ্টিতে কবির পায়ের দাগ ধুয়ে যায়নি। (মি)
  • ৩. শান্ত হলুদ দেবতারা মন্দির থেকে নড়ে যাননি। (স)
  • ৪. অপেক্ষায় দাঁড়ানো মেয়েটি কবির জন্য সব ভুলে গিয়েছিল। (মি)
  • ৫. যুদ্ধের আগুন শহরকে ধ্বংস করে দেয়। (স)
  • ৬. ঝুলন্ত বিছানা কবির মাথার উপর ছিল না। (মি)
  • ৭. একটার পর একটা বছর নেমে এসেছিল মাথার ওপর। (স)
  • ৮. মিষ্টি বাড়িটির সমস্ত চিহ্ন পাথরে পরিণত হয়নি। (মি)
  • ৯. যুদ্ধের ফলে রক্তের দাগ আগ্নেয় পাহাড়ের মতো ছড়িয়ে ছিল। (স)
  • ১০. অপেক্ষায় দাঁড়ানো মেয়েটি কবির জন্য এক মুহূর্তের জন্যও অপেক্ষা করেনি। (মি)
  • ১১. বাড়ির বারান্দায় সারাদিন রোদ ঝলমল করত। (স)
  • ১২. সেই মেয়েটির মৃত্যু হয়েছিল। (মি)
  • ১৩. যুদ্ধের ফলস্বরূপ শহরের রাস্তাগুলো শান্ত ছিল। (মি)
  • ১৪. অপেক্ষায় দাঁড়ানো মেয়েটি ছিল সুখী। (মি)
  • ১৫. যুদ্ধ শহরকে বাঁচিয়ে রেখেছিল। (মি)
  • ১৬. ঘাস জন্মেছিল দেবতাদের মূর্তির গায়ে। (মি)
  • ১৭. যুদ্ধের পরও কবি আবার ফিরে এসেছিলেন। (মি)

গ) এক বাক্যে উত্তর দাও (১৭টি)

নির্দেশিকা: একটি সম্পূর্ণ বাক্যে নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও।

১. ‘অসুখী একজন’ কবিতাটির মূল কাব্যগ্রন্থের নাম কী?

✅ উত্তর: ‘অসুখী একজন’ কবিতাটি পাবলো নেরুদার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘Extravagaria’ (বিচিত্রা)-এর অন্তর্গত।

২. কবি কোথায় চলে গিয়েছিলেন? (মাধ্যমিক ২০১৫)

✅ উত্তর: কবি দূর দেশে চলে গিয়েছিলেন।

৩. বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল কী?

✅ উত্তর: বৃষ্টিতে কবির পায়ের দাগ ধুয়ে গিয়েছিল।

৪. বৃষ্টিতে ডুবে রইল কী?

✅ উত্তর: বৃষ্টিতে ডুবে রইল একটি লাঠি এবং এক জোড়া পুরোনো জুতো।

৫. কবির মাথার উপর কী ঝুলছিল?

✅ উত্তর: কবির মাথার উপর ঝুলন্ত বিছানা ঝুলছিল।

৬. শান্ত হলুদ দেবতারা কী নিয়ে গল্প করত?

✅ উত্তর: শান্ত হলুদ দেবতারা বছরগুলির ইতিহাস নিয়ে গল্প করত।

৭. একটার পর একটা কী নেমে এসেছিল?

✅ উত্তর: একটার পর একটা বছর নেমে এসেছিল।

৮. ‘অসুখী একজন’ কবিতায় কীসের মতো আগুন ছড়িয়ে গিয়েছিল?

✅ উত্তর: ‘অসুখী একজন’ কবিতায় রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়ের মতো আগুন ছড়িয়ে গিয়েছিল।

৯. মিষ্টি বাড়িটির সব চিহ্ন কী হয়েছিল?

✅ উত্তর: মিষ্টি বাড়িটির সব চিহ্ন পাথরে পরিণত হয়েছিল।

১০. কোথায় রক্তের একটা কালো দাগ ছড়ানো ছিল?

✅ উত্তর: মিষ্টি বাড়িটার বারান্দায় রক্তের একটা কালো দাগ ছড়ানো ছিল।

১১. উল্টে গেল কী?

✅ উত্তর: কাঠের তৈরি মিষ্টি বাড়িটি উল্টে গিয়েছিল।

১২. যেখানে শহর ছিল, সেখানে কী ছড়ানো ছিল? (মাধ্যমিক ২০১৬)

✅ উত্তর: যেখানে শহর ছিল, সেখানে কাঠ-কয়লা ছড়িয়ে ছিল।

১৩. কবি কাকে ‘অপেক্ষা করো’ বলে গিয়েছিলেন? (মাধ্যমিক ২০১৭)

✅ উত্তর: কবি তার প্রিয় নারীকে ‘অপেক্ষা করো’ বলে গিয়েছিলেন।

১৪. ‘অসুখী একজন’ কবিতাটি কোন্ ভাষা থেকে বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে?

✅ উত্তর: কবিতাটি মূল স্প্যানিশ ভাষা থেকে বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে।

১৫. অপেক্ষায় দাঁড়ানো মেয়েটি কবির জন্য কতক্ষণ অপেক্ষা করেছিল?

✅ উত্তর: অপেক্ষায় দাঁড়ানো মেয়েটি একটার পর একটা বছর ধরে অপেক্ষা করেছিল।

১৬. যুদ্ধের পর শহরের রাস্তা কেমন হয়েছিল?

✅ উত্তর: যুদ্ধের পর শহরের রাস্তাগুলোয় কাঠ কয়লা, দোমড়ানো লোহা আর পাথরের মূর্তির ভিড় হয়েছিল।

১৭. যুদ্ধ আসার ফলে কী ঘটেছিল?

✅ উত্তর: যুদ্ধ আসার ফলে মিষ্টি বাড়িটি উল্টে গেল এবং রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়ের মতো আগুন ছড়িয়ে গেল।


৫. সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান: ৩): ১০টি প্রশ্ন

প্রশ্ন ১. “তারপর যুদ্ধ এল।”—যুদ্ধের আগমন কীভাবে হয়েছিল? যুদ্ধকে আগ্নেয় পাহাড় বলার তাৎপর্য কী?

উত্তর:

  • আগমন: যুদ্ধ এসেছিল **রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়ের** মতো। আগ্নেয় পাহাড় যেমন হঠাৎ করে লাভা উদ্গীরণ করে ধ্বংস ঘটায়, যুদ্ধও তেমনি আকস্মিক, অপ্রতিরোধ্য ও ভয়াবহ ধ্বংস নিয়ে আসে।
  • তাৎপর্য: আগ্নেয় পাহাড় যেমন ধ্বংস ও মৃত্যুর প্রতীক, যুদ্ধও তেমনই। ‘রক্তের’ বিশেষণটি যুদ্ধের ভয়াবহতা, মৃত্যু ও রক্তপাতকে বোঝায়। যুদ্ধের ধ্বংসলীলা সমস্ত মানবিক সৌন্দর্যকে গ্রাস করেছিল।

প্রশ্ন ২. “সেই মিষ্টি বাড়িটির সব চিহ্ন পাথরে পরিণত হলো।”—মিষ্টি বাড়িটির এই পরিণতির কারণ কী?

উত্তর:

  • কারণ: মিষ্টি বাড়িটির এই পরিণতির কারণ হলো **যুদ্ধের ধ্বংসলীলা**। যুদ্ধ আসার ফলে বাড়িটি প্রথমে উল্টে যায় এবং তারপর চারদিকে ছড়িয়ে পড়া আগুনে জ্বলে ওঠে।
  • প্রতীকী তাৎপর্য: ‘পাথরে পরিণত হওয়া’ এখানে প্রতীকী অর্থে ব্যবহৃত। বাড়িটি ছিল প্রেম, শান্তি ও স্মৃতির প্রতীক। যুদ্ধ সমস্ত মানবিক সৌন্দর্য, শান্তি ও স্মৃতিকে ধ্বংস করে তাকে জড় ও প্রাণহীন পাথরের স্তূপে পরিণত করেছিল।

প্রশ্ন ৩. “শান্ত হলুদ দেবতারা” কেন হাজার বছর ধরে ডুবে রইল ধ্যানে?

উত্তর:

  • নিষ্ক্রিয়তা: শান্ত হলুদ দেবতারা হলেন ঐতিহ্য, ধর্ম ও বিশ্বাসের প্রতীক। তাঁরা হাজার বছর ধরে ধ্যানে ডুবে ছিলেন, অর্থাৎ জগতের কোনো বিপর্যয় বা মানব-জীবনে তাঁরা কোনো হস্তক্ষেপ করেননি।
  • যুদ্ধের কাছে পরাজয়: যুদ্ধ যখন এল, তখন দেবতারাও শহর বা মানুষকে রক্ষা করতে পারেননি। বরং যুদ্ধের আগুন তাঁদের মন্দিরসহ সব কিছুকেই নিশ্চিহ্ন করে দেয়। এটি বোঝায় যে, চরম ধ্বংসলীলার কাছে ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যও অসহায়।
  • গল্পের বিষয়: দেবতারা ডুবে রইল ধ্যানে—এই কথাটির মধ্য দিয়ে কবি সময়ের অনিবার্য পরিবর্তনকে তুলে ধরেছেন।

প্রশ্ন ৪. ‘অসুখী একজন’ কবিতায় বছরগুলো কীভাবে নেমে এসেছিল? এই নেমে আসার তাৎপর্য কী? (মাধ্যমিক ২০১৮)

উত্তর:

  • নেমে আসা: কবি চলে যাওয়ার পর অপেক্ষারত মেয়েটির মাথার ওপর **একটার পর একটা বছর** নেমে এসেছিল।
  • তাৎপর্য: এটি বছরের স্বাভাবিক আগমনকে বোঝায় না। ‘নেমে আসা’ শব্দটি মেয়েটির একাকী, দীর্ঘ অপেক্ষার ভারকে প্রতীকী অর্থে প্রকাশ করে। প্রতিটি বছর যেন তার অপেক্ষার বোঝা আরও ভারী করেছে। এটি সময়ের দীর্ঘসূত্রিতা ও অপেক্ষার অনিবার্য বেদনাকে ফুটিয়ে তোলে।

প্রশ্ন ৫. “আর বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল আমার পায়ের দাগ।”—পায়ের দাগ ধুয়ে যাওয়ার তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। (মাধ্যমিক ২০১৯)

উত্তর:

  • অপেক্ষা: পায়ের দাগ হলো কবির ফিরে আসার স্মারক বা প্রমাণ। মেয়েটি সেই দাগ দেখে কবির ফিরে আসার আশা রাখত।
  • তাৎপর্য: বৃষ্টিতে পায়ের দাগ ধুয়ে যাওয়া মানে কবির ফিরে আসার সমস্ত চিহ্ন বা প্রমাণ মুছে যাওয়া। এর ফলে অপেক্ষারত মেয়েটির কাছে কবির আগমন প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠল। এটি সময়ের দীর্ঘ পরিবর্তন ও স্মৃতির ক্ষণস্থায়ীতাকে প্রতীকী অর্থে প্রকাশ করে।

প্রশ্ন ৬. “রক্তের একটা কালো দাগ ছড়ানো ছিল।”—কোথায়, কেন এই দাগ ছড়ানো ছিল? (মাধ্যমিক ২০২০)

উত্তর:

  • স্থান: রক্তের একটা কালো দাগ ছড়ানো ছিল সেই **মিষ্টি বাড়ির বারান্দায়**।
  • কারণ ও তাৎপর্য: যুদ্ধের ভয়াবহতা বা আগ্নেয় পাহাড়ের মতো যুদ্ধ আসার ফলে যে রক্তপাত হয়েছিল, সেই রক্তের দাগই বারান্দায় লেগে ছিল। এই ‘কালো দাগ’ কেবল রক্ত নয়, তা যুদ্ধের নিষ্ঠুরতা, ধ্বংস এবং মানবিক মূল্যবোধের চিরস্থায়ী ক্ষতের প্রতীক।

প্রশ্ন ৭. ‘অসুখী একজন’ কবিতায় ঘাস কীভাবে জন্মাল? এর প্রতীকী তাৎপর্য কী?

উত্তর:

  • জন্ম: ঘাস জন্মাল **একটার পর একটা পাথরের ভাঁজে**। শহর যখন যুদ্ধের ফলে পাথরের ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল, তখন সেখানে ঘাস জন্মেছিল।
  • তাৎপর্য: ঘাস হলো জীবনের, সময়ের এবং প্রকৃতির চিরন্তনতার প্রতীক। যুদ্ধ সভ্যতাকে ধ্বংস করলেও, প্রকৃতিকে পুরোপুরি ধ্বংস করতে পারে না। ঘাস জন্ম নেওয়ার মধ্য দিয়ে কবি বোঝান যে জীবনযাত্রা থমকে গেলেও, সময়ের প্রবাহ এবং প্রকৃতির নিয়ম চিরকাল অটুট থাকে।

প্রশ্ন ৮. “সেই মেয়েটি আর অপেক্ষা করে না।”—মেয়েটি কেন অপেক্ষা করে না?

উত্তর:

  • কারণ: মেয়েটি অবশ্যই কবির জন্য অপেক্ষা করেছিল। কিন্তু যখন যুদ্ধ এল এবং সমস্ত শহর, বাড়ি ও পরিচিতি ধ্বংস হয়ে গেল, তখন তার অপেক্ষা করার স্থানটিই আর অক্ষত রইল না।
  • প্রতীকী পরিণতি: মেয়েটি নিজেই সেই ধ্বংসের মধ্যে ‘অসুখী একজন’ হিসেবে বেঁচে রইল। তার অপেক্ষার আর কোনো অর্থ রইল না। তার অপেক্ষা কবির জন্য ছিল না, ছিল অতীতের স্মৃতি ও ভালোবাসার জন্য। কিন্তু যুদ্ধ সেই অতীতকেও চুরমার করে দেওয়ায় তার অপেক্ষা করার প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়।

প্রশ্ন ৯. “আমি চলে গেলাম… আর সে জানত না” —এই না-জানা কিসের প্রতীক?

উত্তর:

  • অনিশ্চয়তা: কবি চলে গিয়েছিলেন, কিন্তু কবে ফিরবেন তা তিনি জানেন না। এই ‘না-জানা’ হলো জীবনের অনিশ্চয়তার প্রতীক। যুদ্ধে যাওয়ার কারণে কবির নিজের জীবনের কোনো স্থিরতা ছিল না।
  • অপেক্ষা ও বিচ্ছিন্নতা: কবির এই ‘না-জানা’ই মেয়েটির অপেক্ষাকে দীর্ঘ করেছে এবং তাদের দুজনের মধ্যেকার বিচ্ছিন্নতা বা দূরত্বের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

প্রশ্ন ১০. “বৃষ্টিতে ডুবে রইল এক লাঠি আর এক জোড়া জুতো।”—তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

উত্তর:

  • অপেক্ষা: লাঠি ও জুতো হলো কবির ব্যবহৃত ব্যক্তিগত সামগ্রী। এই জিনিসগুলো মেয়েটির কাছে কবির ফিরে আসার প্রতিক্ষার চিহ্ন ছিল।
  • তাৎপর্য: এই জিনিসগুলো বৃষ্টিতে ধুয়ে বা ডুবে গেল না, বরং ‘ডুবে রইল’। এর মধ্য দিয়ে কবি বোঝান, মেয়েটি কবিকে বিদায় দেওয়ার পর আর নড়েনি, কেবল অপেক্ষা করেছে। লাঠি আর জুতো, কবির শেষ স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে, তার অপেক্ষার সঙ্গী হয়ে স্থিরভাবে পড়েছিল।

৬. রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান: ৫): ৬টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

প্রশ্ন ১. ‘অসুখী একজন’ কবিতায় কবি কীভাবে যুদ্ধের ভয়াবহতা ও ধ্বংসের চিত্র এঁকেছেন? (অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ)

উত্তর: পাবলো নেরুদা তাঁর কবিতায় যুদ্ধের নির্মম, ভয়াবহ ও সর্বব্যাপী ধ্বংসলীলাকে অত্যন্ত শক্তিশালী প্রতীক ও চিত্রকল্পের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।

  • ১. আগ্নেয় পাহাড়ের আগমন: কবি যুদ্ধকে বর্ণনা করেছেন **”রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়ের মতো”**। আগ্নেয় পাহাড়ের মতো যুদ্ধ আকস্মিক, অপ্রতিরোধ্য এবং এর ফলস্বরূপ চারিদিকে রক্তপাত ও মৃত্যু ছড়িয়ে পড়ে।
  • ২. সামগ্রিক ধ্বংস: যুদ্ধের ফলে শুধু মানুষেরাই নয়, মানুষের তৈরি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও আশ্রয়ও ধ্বংস হয়। কবির প্রিয় সেই **”মিষ্টি বাড়িটা উল্টে গেল”** এবং তার **”সব চিহ্ন হয়ে গেল পাথর”**।
  • ৩. স্মৃতির বিনাশ: শহরের বাড়ি, মন্দির, চিমনি—সবই ধ্বংস হয়। যেখানে শহর ছিল, সেখানে ছড়িয়ে থাকে **”কাঠ কয়লা”** ও **”দোমড়ানো লোহা”**। যুদ্ধের আগুন সব সুন্দর স্মৃতি ও মানবিক সম্পর্ককে গ্রাস করে ফেলে।
  • ৪. চিরস্থায়ী ক্ষত: যুদ্ধের পরও যা টিকে থাকে, তা হলো কেবল **”রক্তের একটা কালো দাগ”** বারান্দায়। এই কালো দাগ প্রমাণ করে যে যুদ্ধ ক্ষণস্থায়ী নয়, তা সমাজে এক চিরস্থায়ী ক্ষত সৃষ্টি করে যায়।

প্রশ্ন ২. ‘অসুখী একজন’ নামকরণের সার্থকতা বিচার করো। (অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ)

উত্তর: কবিতাটির নামকরণ সম্পূর্ণভাবে সার্থক এবং ব্যঞ্জনাময়, যা মূল চরিত্রের অবস্থা এবং বিষয়বস্তুকে ফুটিয়ে তোলে।

  • ১. কেন্দ্রীয় চরিত্র: ‘অসুখী একজন’ বলতে মূলত কবি-প্রেমিকের জন্য অপেক্ষারত সেই নারীটিকে বোঝানো হয়েছে। কবির ফিরে আসার আশা তার মধ্যে এক দীর্ঘ ও নীরব বেদনা সৃষ্টি করেছে।
  • ২. দুঃখের কারণ: তার দুঃখ কেবল প্রেমিকের জন্য অপেক্ষা নয়, বরং সেই অপেক্ষার মধ্যে **অতীতের সমস্ত স্মৃতির ধ্বংস** দেখা। যুদ্ধ এসে তার বাড়ি, শহর এবং ভালোবাসার সমস্ত চিহ্ন ধ্বংস করে দেওয়ায় তার জীবনে গভীর শূন্যতা নেমে আসে।
  • ৩. প্রতীকী তাৎপর্য: মেয়েটি এখানে কেবল একজন ব্যক্তি নয়, সে যুদ্ধবিধ্বস্ত পৃথিবীর সমস্ত স্নেহ, ভালোবাসা এবং মানবিকতার প্রতীক। যুদ্ধের কাছে সভ্যতা পরাজিত হওয়ায়, মানবতাও অসুখী।
  • ৪. সার্থকতা: যুদ্ধের নির্মমতা, সময়ের পরিবর্তন এবং অপেক্ষারত নারীর চিরন্তন বেদনা—এই সমস্ত গভীর ভাবগুলি ‘অসুখী একজন’ নামকরণের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে, তাই নামকরণটি যথার্থ।

প্রশ্ন ৩. “সেই মেয়েটি আর অপেক্ষা করে না।”—অপেক্ষারত নারীটির স্বরূপ ও তার পরিণতি বিশ্লেষণ করো। (মাধ্যমিক ২০১৭, ২০১৯)

উত্তর:

অপেক্ষারত নারীটির স্বরূপ:

  • ১. বিশ্বস্ততা: কবি তাকে ‘অপেক্ষা করো’ বলে গিয়েছিলেন। মেয়েটি একটার পর একটা বছর ধরে এক-পা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেছিল। এটি তার বিশ্বস্ততা ও ধৈর্যের প্রতীক।
  • ২. স্মৃতিরক্ষক: সে ছিল কবির ব্যক্তিগত স্মৃতিচিহ্নগুলির নীরব রক্ষক। কবির পায়ের দাগ, লাঠি ও জুতোর নীরব সাক্ষী ছিল সে।
  • ৩. মানবিকতার প্রতীক: সে ছিল ভালোবাসা, স্মৃতি এবং শান্তির প্রতীক। যুদ্ধ আসার আগ পর্যন্ত তার অস্তিত্ব অবিচল ছিল।

পরিণতি:

  • অপেক্ষার সমাপ্তি: যুদ্ধ যখন এসে সবকিছু ধ্বংস করে দিল, তখন মেয়েটির অপেক্ষার কারণ বা ভিত্তি আর থাকল না। তার অপেক্ষার স্থান বা সেই মিষ্টি বাড়িটিই নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।
  • নতুন অস্তিত্ব: সে মারা যায়নি, বরং সেই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে **’অসুখী একজন’** হিসেবে বেঁচে রইল। তার অপেক্ষা কোনো সুনির্দিষ্ট সমাপ্তির জন্য ছিল না; তাই সেই মেয়েটি আর অপেক্ষা করে না—কারণ তার জীবনে অপেক্ষা করার মতো আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

প্রশ্ন ৪. ‘অসুখী একজন’ কবিতায় সময়ের পরিবর্তন কীভাবে দেখানো হয়েছে?

উত্তর: কবিতায় সময়ের পরিবর্তনকে দুটো ভিন্ন পর্যায়ে দেখানো হয়েছে—ধীর পরিবর্তন এবং আকস্মিক ধ্বংসাত্মক পরিবর্তন।

  • ১. ধীর পরিবর্তন (অপেক্ষা):
    • কবি চলে যাওয়ার পর বৃষ্টিতে তাঁর পায়ের দাগ মুছে যায়, যা স্মৃতির ক্ষয়কে নির্দেশ করে।
    • **”একটার পর একটা বছর নেমে এলো”**—এই নেমে আসা অপেক্ষার দীর্ঘতা ও ভারকে প্রতীকী অর্থে প্রকাশ করে।
    • পাথরের ভাঁজে ঘাস জন্মায়, যা প্রকৃতির চিরন্তন নিয়মে সময়ের ধীরে এগিয়ে যাওয়াকে বোঝায়।
  • ২. আকস্মিক পরিবর্তন (যুদ্ধ):
    • **”তারপর যুদ্ধ এল”**—এই অংশটি দ্রুত ও আকস্মিক পরিবর্তনকে বোঝায়।
    • যুদ্ধ এসে মুহূর্তের মধ্যে হাজার বছরের পুরোনো শান্ত হলুদ দেবতাকে ধ্যানে ডুবে থাকা অবস্থায় নিশ্চিহ্ন করে দেয় এবং মিষ্টি বাড়িটিকে **পাথরে পরিণত করে**।

এই দুই ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে কবি দেখান, ধীর সময় সবকিছুকে মলিন করলেও, যুদ্ধ সবকিছুকে এক লহমায় ধ্বংস করে দেয়।

প্রশ্ন ৫. ‘অসুখী একজন’ কবিতায় কবির ব্যবহৃত প্রতীক বা চিত্রকল্পগুলির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: এই কবিতায় ব্যবহৃত প্রতীক বা চিত্রকল্পগুলি এর মূল ভাবনাকে গভীরতা দিয়েছে।

  • ১. অপেক্ষায় দাঁড়ানো মেয়েটি: প্রেম, ভালোবাসা, স্মৃতি ও শান্তির প্রতীক।
  • ২. পায়ের দাগ ধুয়ে যাওয়া: কবির ফিরে আসার আশার বিলুপ্তি এবং স্মৃতির ক্ষণস্থায়ীত্ব।
  • ৩. শান্ত হলুদ দেবতারা: ধর্মীয় বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও সমাজের নিষ্ক্রিয়তা। যুদ্ধের কাছে এরাও অসহায়।
  • ৪. রক্তের আগ্নেয় পাহাড়: যুদ্ধের আকস্মিকতা, ভয়াবহতা এবং অপ্রতিরোধ্য ধ্বংসের ক্ষমতা।
  • ৫. কাঠ কয়লা ও দোমড়ানো লোহা: মানব-সভ্যতা ও নগরীর চূড়ান্ত ধ্বংসের প্রতীক।
  • ৬. ঘাস: জীবনের চিরন্তনতা, সময়ের নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ এবং প্রকৃতির টিকে থাকার ক্ষমতা।

প্রশ্ন ৬. “সব চুরমার হয়ে গেল, জ্বলে গেল আগুন।”—যুদ্ধের ফলে কী কী ধ্বংস হয়েছিল, তা নিজের ভাষায় লেখো।

উত্তর: যুদ্ধের ফলে কেবল মানুষ মারা যায়নি, বরং সভ্যতার সমস্ত চিহ্ন ও মানবিক স্মৃতি ধ্বংস হয়েছিল।

  • ১. স্মৃতির বিনাশ: কবির প্রিয় সেই **কাঠের তৈরি মিষ্টি বাড়িটি** প্রথমে উল্টে যায়। তার বারান্দায় লেগে থাকা **রক্তের কালো দাগ** এবং কবির অনুপস্থিতির সমস্ত চিহ্ন মুছে যায়।
  • ২. ধর্মের বিনাশ: শহরের **শান্ত হলুদ দেবতারা** হাজার বছরের ধ্যান ছেড়ে মন্দির থেকে নড়ে যাননি। কিন্তু যুদ্ধের আগুনে মন্দির ও দেবমূর্তি চুরমার হয়ে যায়।
  • ৩. নগরীর ধ্বংস: গোটা শহরটি **কাঠ কয়লা, দোমড়ানো লোহা** ও পাথরের স্তূপে পরিণত হয়। জীবনযাত্রা নিশ্চিহ্ন হয় এবং শহরটি এক ধূ ধূ প্রান্তরে পরিণত হয়।
  • ৪. চিরস্থায়ী ক্ষতি: যুদ্ধের পর অবশিষ্ট থাকে কেবল ধ্বংসাবশেষ এবং **পাথরের ভাঁজে জন্মানো ঘাস**, যা মানব-সভ্যতার ওপর যুদ্ধের আঘাতের প্রতীক।

JSON-LD স্কিমা (সার্চ ইঞ্জিনের জন্য)


৭. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন ১. ‘অসুখী একজন’ কবিতার কেন্দ্রীয় ভাববস্তু কী?

উত্তর: কবিতাটির কেন্দ্রীয় ভাববস্তু হলো—যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং সেই ধ্বংসের কাছে মানবিক প্রেম, স্মৃতি ও সৌন্দর্যের অনিবার্য পরাজয়।

প্রশ্ন ২. ‘অসুখী একজন’ কাকে বলা হয়েছে?

উত্তর: কবি-প্রেমিকের জন্য অপেক্ষারত সেই নারীকে ‘অসুখী একজন’ বলা হয়েছে, কারণ তিনি যুদ্ধের কারণে তাঁর প্রিয়জন ও স্মৃতির ধ্বংস দেখেছেন।

প্রশ্ন ৩. শান্ত হলুদ দেবতারা’ কেন ধ্যানে ডুবে রইল?

উত্তর: দেবতারা হলেন ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক, যাঁরা যুদ্ধের ধ্বংসলীলা থামাতে ব্যর্থ। তাঁদের নিষ্ক্রিয়তা সময়ের অনিবার্য পরিবর্তনকে বোঝায়।

প্রশ্ন ৪. যুদ্ধের ফলে শহরের রাস্তা কেমন হয়েছিল?

উত্তর: শহরের রাস্তাগুলোয় কাঠ-কয়লা, দোমড়ানো লোহা এবং পাথরের মূর্তির ভিড় ছড়িয়ে ছিল।


JSON-LD স্কিমা (সার্চ ইঞ্জিনের জন্য)

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার