দশম শ্রেণী বাংলা: আফ্রিকা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
📘 পরবর্তী অধ্যায়: ‘আফ্রিকা’ (কবিতা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
📖 শিক্ষকের বিশ্লেষণ ও ভূমিকা
‘আফ্রিকা’ কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা **’পত্রপুট’** কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। এটি ১৯৩৬ সালে ইতালির দ্বারা আবিসিনিয়া (ইথিওপিয়া) আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে রচিত। কবিতাটি তিনটি মূল পর্বে বিভক্ত: **১. আফ্রিকার সৃষ্টি ও জন্মকালীন নির্জনতা**, **২. তার বিচ্ছিন্নতা ও প্রকৃতির আবরণে আত্মগোপন**, এবং **৩. সভ্য মানুষের হাতে তার নির্মম শোষণ ও কবি কর্তৃক ইতিহাসের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা**। কবিতাটি সাম্রাজ্যবাদী শক্তির লোভ ও বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ প্রতিবাদ।
🎯 ‘আফ্রিকা’ কবিতা থেকে সম্ভাব্য নম্বর বিভাজন (লিখিত)
এই কবিতা থেকে মূলত জন্মকালীন বিচ্ছিন্নতা, প্রতীকী শব্দ (যেমন—ছিনিয়ে নিয়ে গেল, মন্ত্র পড়া), এবং ইতিহাসের কাছে ক্ষমা প্রার্থনার তাৎপর্য নিয়ে প্রশ্ন আসে।
| প্রশ্নের ধরন | মোট নম্বর | অনুমানিক সংখ্যা |
|---|---|---|
| MCQ (১ নম্বর) | ১ | ১টি |
| SAQ (১ নম্বর) | ১ | ১টি (২টি প্রশ্নের মধ্যে একটি) |
| LAQ (৩ নম্বর) | ৩ | ১টি (২টি প্রশ্নের মধ্যে একটি) |
| LAQ (৫ নম্বর) | ৫ | ১টি (২টি প্রশ্নের মধ্যে একটি) |
১. বহু বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ): ২০টি প্রশ্ন (৪টি অপশন সহ)
নির্দেশিকা: সঠিক বিকল্পটি বেছে নাও। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১।
১. ‘আফ্রিকা’ কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন্ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
- ক) মানসী
- খ) বলাকা
- গ) পত্রপুট
- ঘ) সেঁজুতি
✅ উত্তর: গ
২. স্রষ্টা তার নিজের সৃষ্টিকে বারবার কী দিয়ে গড়িয়েছেন?
- ক) সন্তোষের সাথে
- খ) অসন্তোষের সাথে
- গ) দুঃখের সাথে
- ঘ) প্রেমের সাথে
✅ উত্তর: খ
৩. আফ্রিকাকে কিসের পর্দার আড়ালে রাখা হয়েছিল?
- ক) ঘন অরণ্যের
- খ) সমুদ্রের জলের
- গ) মরুভূমির
- ঘ) পাহাড়ের
✅ উত্তর: ক
৪. আফ্রিকাকে ঘিরে থাকা রহস্যের আবরণকে কী বলা হয়েছে?
- ক) অচল
- খ) মন্ত্র
- গ) আদিম
- ঘ) অভিসন্ধি
✅ উত্তর: খ
৫. সমুদ্রের সেই বিশাল হাত কোথায় রেখেছিল?
- ক) পশ্চিম দিকে
- খ) উত্তর দিকে
- গ) পূর্ব দিগন্তের দিকে
- ঘ) দক্ষিণে
✅ উত্তর: গ
৬. কাদের নখ তীক্ষ্ণ আলোর চেয়েও অন্ধ?
- ক) অরণ্যের পশুর
- খ) সমুদ্রপারে আসা বর্বর দলের
- গ) বন্যদের
- ঘ) জলদস্যুদের
✅ উত্তর: খ
৭. ‘নগন্য’ বলে কাকে অপমান করা হয়েছিল?
- ক) সেখানকার মানুষদের
- খ) বনস্পতিকে
- গ) আফ্রিকাকে
- ঘ) পাহারাদারকে
✅ উত্তর: গ
৮. ‘মানহারা মানবী’ কে?
- ক) পৃথিবীর মানুষ
- খ) আফ্রিকা মহাদেশ
- গ) পরাধীন ভারত
- ঘ) বনস্পতি
✅ উত্তর: খ
৯. ‘অশুভ’ দূর করার জন্য আফ্রিকাকে কী করা হলো?
- ক) মন্ত্র পাঠ করা হলো
- খ) মন্ত্র পড়া জল ছিটিয়ে দেওয়া হলো
- গ) বলি দেওয়া হলো
- ঘ) অরণ্যে পাঠানো হলো
✅ উত্তর: খ
১০. কবি কাকে ‘যুগান্তের কবি’ বলে আহ্বান জানিয়েছেন?
- ক) রবীন্দ্রনাথকে
- খ) ইতিহাসের দেবতাকে
- গ) ভবিষ্যতের কবিকে
- ঘ) বর্তমানের কবিকে
✅ উত্তর: গ
১১. ‘এসো, যুগান্তের কবি’—কোন্ সময়ে আসতে বলা হয়েছে?
- ক) ভোরের বেলায়
- খ) দুপুরে
- গ) দিনের অন্তিম কালে
- ঘ) মধ্যরাতে
✅ উত্তর: গ
১২. আফ্রিকাকে কোন্ অস্ত্র ব্যবহার করে ভয় দেখানো হয়েছিল?
- ক) বন্দুক
- খ) তলোয়ার
- গ) তীর
- ঘ) মশাল
✅ উত্তর: খ
১৩. ‘পূণ্য’ শব্দটি অপভ্রংশে কী হয়?
- ক) অন্যায়
- খ) পাপ
- গ) অপাংক্তেয়
- ঘ) শান্তি
✅ উত্তর: গ
১৪. ‘নগ্ন করল আপন নির্লজ্জ অমানুষতা’—কারা নির্লজ্জ অমানুষতা নগ্ন করেছিল?
- ক) পশুর দল
- খ) সমুদ্রপারের বর্বর দল
- গ) লুঠেরা
- ঘ) বন্য মানুষেরা
✅ উত্তর: খ
১৫. আফ্রিকাকে সমুদ্রের জলদস্যুরা কী দিয়ে পরিহাস করেছিল?
- ক) অস্ত্রের ঝনঝনানি
- খ) অট্টহাসি
- গ) গান
- ঘ) মুদ্রা
✅ উত্তর: খ
১৬. আফ্রিকাকে কোন্ বাহু দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল?
- ক) সোনার
- খ) আদিম বাণীবাহু
- গ) লোহা
- ঘ) গাছের
✅ উত্তর: খ
১৭. ‘পশুরা এল গুপ্ত গহ্বর থেকে’—পশুরা কিসের প্রতীক?
- ক) হিংস্র বন্যপ্রাণী
- খ) বর্বর সাম্রাজ্যবাদী শক্তি
- গ) আদিম মানুষ
- ঘ) অরণ্যের জীব
✅ উত্তর: খ
১৮. ‘দাঁড়াও ঐ মানহারা মানবীর দ্বারে’—কবি কাকে দাঁড়াতে বলেছেন?
- ক) নিজেকে
- খ) যুগান্তের কবিকে
- গ) ঈশ্বরকে
- ঘ) শাসকদের
✅ উত্তর: খ
১৯. ‘সমুদ্রের বিশাল বাহু’ কেন আফ্রিকাকে সরিয়ে নিয়েছিল?
- ক) স্রষ্টার নির্দেশে
- খ) ভূমি গঠনের জন্য
- গ) জলদস্যুদের ভয়ে
- ঘ) সভ্যতাকে দূরে রাখতে
✅ উত্তর: খ
২০. কবি ইতিহাসকে কোন্ সময়ে ক্ষমা প্রার্থনা করতে আহ্বান জানিয়েছেন?
- ক) ভোরের বেলায়
- খ) দিনের অন্তিম কালে
- গ) দুপুরে
- ঘ) যখন যুদ্ধ শুরু হবে
✅ উত্তর: খ
২, ৩ ও ৪. অতি-সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (VSAQ): ৫৪টি প্রশ্ন
ক) শূন্যস্থান পূরণ করো (১৮টি)
নির্দেশিকা: উপযুক্ত শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থানগুলি পূরণ করো।
- ১. স্রষ্টা তার নিজের সৃষ্টিকে অসন্তোষের সাথে গড়িয়েছিলেন।
- ২. আফ্রিকা সমুদ্রের গর্বিত বাহু দিয়ে বাঁধা ছিল।
- ৩. আফ্রিকা বনস্পতির নিবিড় পাহারায় ছিল।
- ৪. সভ্যতার দ্রুত পদক্ষেপ থেকে সে ছিল দূরে।
- ৫. নিভৃত অবকাশে ছায়া ছিল তার সহচরী।
- ৬. লোহার হাতকড়ি নিয়ে এল।
- ৭. পশুরা এল গুপ্ত গহ্বর থেকে।
- ৮. তাদের নখ তীক্ষ্ণ আলোর চেয়ে অন্ধ।
- ৯. সমুদ্রপারে সেই বর্বর দল।
- ১০. মানহারা মানবী, দ্বার খোলো।
- ১১. সেই হোক তোমার শেষ পূণ্যবাণী।
- ১২. আফ্রিকা ছিল দাঁড়াও ঐ মানহারা মানবীর দ্বারে।
- ১৩. এসো যুগান্তের কবি।
- ১৪. ওরা তোমার ভাষাহীন ক্রন্দনে মিশে গেল।
- ১৫. মন্ত্ৰ পড়া জল ছিটিয়ে দিল।
- ১৬. গর্জে উঠল সুদূর পাহাড়ের গুহা।
- ১৭. সমুদ্রপারে সেই বর্বর দল।
- ১৮. দিনের অন্তিম কাল এলো।
খ) সত্য-মিথ্যা নির্ণয় করো (২১টি)
নির্দেশিকা: বাক্যটি সত্য হলে (স) এবং মিথ্যা হলে (মি) লেখো।
- ১. আফ্রিকা কবিতাটি ‘বলাকা’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া। (মি) [সঠিক: পত্রপুট]
- ২. স্রষ্টা সন্তুষ্ট হয়ে আফ্রিকাকে সৃষ্টি করেন। (মি) [সঠিক: অসন্তোষের সাথে]
- ৩. আফ্রিকা ঘন অরণ্যের পাহারায় ছিল। (স)
- ৪. পাহারাদার ছিল ছায়াবৃতা আফ্রিকার সহচরী। (মি) [সঠিক: ছায়া]
- ৫. বর্বর দল আফ্রিকার ঘুম ভাঙিয়েছিল। (স)
- ৬. যারা আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল, তাদের নখ ছিল তীক্ষ্ণ আলোর চেয়ে অন্ধ। (স)
- ৭. সেই বর্বর দল আফ্রিকাকে ‘নগন্য’ বলে অপমান করেছিল। (স)
- ৮. শিশুরা মানহারা মানবীর দ্বারে এসেছিল। (মি) [সঠিক: যুগান্তের কবি]
- ৯. যুগান্তের কবিকে ভোরের বেলায় আসতে বলা হয়েছে। (মি) [সঠিক: দিনের অন্তিম কাল]
- ১০. আফ্রিকার সৃষ্টি হয়েছিল প্রলয়ের মধ্যে। (মি) [সঠিক: আদিম যুগে]
- ১১. সমুদ্রপার থেকে যারা এসেছিল, তারা নিজেদের মানুষ বলে জাহির করত। (স)
- ১২. আফ্রিকার বনস্পতিরা তাদের নিবিড় পাহারা সরিয়ে নিয়েছিল। (মি) [আফ্রিকা নিজেই সরেছিল]
- ১৩. আফ্রিকার জন্মলগ্নে তাকে নিয়ে গিয়েছিল ছদ্মবেশী পাহারাদার। (মি) [সঠিক: স্রষ্টা]
- ১৪. নগ্ন করেছে আপন নির্লজ্জ অমানুষতা। (স)
- ১৫. কবি ইতিহাসের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। (মি) [সঠিক: কবি ইতিহাসকে ক্ষমা চাইতে বলেছেন]
- ১৬. ‘অশুভ’ শব্দটি অপভ্রংশে অপাংক্তেয় হয়। (মি) [সঠিক: পূণ্য]
- ১৭. আফ্রিকাকে হাতে হাতকড়ি পরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। (স)
- ১৮. সমুদ্রের সেই বিশাল হাত পূর্ব দিগন্তের দিকে ছিল। (স)
- ১৯. গুপ্ত গহ্বর থেকে মানুষ এসেছিল। (মি) [সঠিক: পশুরা]
- ২০. আফ্রিকার ক্রন্দনে রক্ত মিশ্রিত ছিল। (স)
- ২১. কবি যুদ্ধ থামাতে যুগান্তের কবিকে ডেকেছেন। (মি) [সঠিক: শেষ পূণ্যবাণী দেওয়ার জন্য]
গ) এক বাক্যে উত্তর দাও (১৫টি)
নির্দেশিকা: একটি সম্পূর্ণ বাক্যে নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও।
১. ‘আফ্রিকা’ কবিতাটি কোন্ সময়ের প্রেক্ষাপটে লেখা?
✅ উত্তর: কবিতাটি ইতালির আবিসিনিয়া আক্রমণের (১৯৩৫-৩৬) সময়ের প্রেক্ষাপটে লেখা।
২. আফ্রিকা কিসের হাতছানি থেকে দূরে ছিল?
✅ উত্তর: আফ্রিকা সভ্যতার দ্রুত পদক্ষেপের হাতছানি থেকে দূরে ছিল।
৩. আফ্রিকাকে ঘিরে থাকা রহস্যের আবরণ কী ছিল? (মাধ্যমিক ২০১৬)
✅ উত্তর: আফ্রিকাকে ঘিরে থাকা রহস্যের আবরণ ছিল নিবিড় অরণ্য।
৪. ‘ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে’—তোমাকে বলতে কার কথা বলা হয়েছে?
✅ উত্তর: এখানে ‘তোমাকে’ বলতে আফ্রিকাকে বলা হয়েছে।
৫. কাদের তীক্ষ্ণ আলোর চেয়েও অন্ধ নখ? (মাধ্যমিক ২০১৭)
✅ উত্তর: সমুদ্রপারের সেই বর্বর দলের নখ তীক্ষ্ণ আলোর চেয়েও অন্ধ।
৬. সমুদ্রপারে সেই বর্বর দল কিসের নেশায় এসেছিল?
✅ উত্তর: সমুদ্রপারে সেই বর্বর দল লোভের নেশায় এসেছিল।
৭. ‘মন্ত্র পড়া জল’ ছিটিয়ে কী করা হলো?
✅ উত্তর: মন্ত্র পড়া জল ছিটিয়ে আফ্রিকাকে অপমান করা হলো।
৮. ‘মানহারা মানবী’ কে?
✅ উত্তর: ‘মানহারা মানবী’ হল আফ্রিকা মহাদেশ।
৯. কাদের উপহাসের মাঝখানে আফ্রিকাকে দাঁড়াতে হয়েছিল?
✅ উত্তর: আফ্রিকার সমুদ্রের জলদস্যুদের অট্টহাসির উপহাসের মাঝখানে দাঁড়াতে হয়েছিল।
১০. স্রষ্টা আফ্রিকাকে বারবার কী দিয়ে গড়িয়েছিলেন?
✅ উত্তর: স্রষ্টা তার নিজের সৃষ্টিকে বারবার অসন্তোষের সাথে গড়িয়েছিলেন।
১১. কবি কাকে ‘যুগান্তের কবি’ বলেছেন?
✅ উত্তর: কবি সেই ভবিষ্যতের কবিকে ‘যুগান্তের কবি’ বলেছেন, যিনি পৃথিবীতে নতুন আদর্শ আনবেন।
১২. ‘পূণ্য’ শব্দটি অপভ্রংশে কী হয়?
✅ উত্তর: ‘পূণ্য’ শব্দটি অপভ্রংশে অপাংক্তেয় হয়।
১৩. সমুদ্রের বিশাল হাত কোথায় রেখেছিল?
✅ উত্তর: সমুদ্রের বিশাল হাত পূর্ব দিগন্তের দিকে রেখেছিল।
১৪. দিনের অন্তিম কাল বলতে কোন্ সময়কে বোঝানো হয়েছে?
✅ উত্তর: দিনের অন্তিম কাল বলতে সাম্রাজ্যবাদের পতনের সময় বা আধুনিক সভ্যতার শেষ পর্যায়কে বোঝানো হয়েছে।
১৫. কবি ইতিহাসের কাছে কী প্রার্থনা করেছেন?
✅ উত্তর: কবি ইতিহাসের কাছে তার **শেষ পূণ্যবাণী** অর্থাৎ ক্ষমাপ্রার্থনা করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
৫. সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান: ৩): ১০টি প্রশ্ন
প্রশ্ন ১. “অশুভ” দূর করার জন্য আফ্রিকাকে কী করা হলো? এর তাৎপর্য কী? (মাধ্যমিক ২০১৫)
✅ উত্তর:
- কাজটি: আফ্রিকাকে ‘অশুভ’ ও ‘নগন্য’ বলে অপমান করে তাকে অমানবিকতার শিকার হতে হলো। তার জন্য ‘মন্ত্র পড়া জল’ ছিটিয়ে দেওয়া হলো।
- তাৎপর্য: মন্ত্র পড়া জল ছিটিয়ে আফ্রিকাকে তথাকথিত ‘পূণ্য’ বা শুভ বানানোর চেষ্টা করা হয়। এই মন্ত্র আসলে উপনিবেশিক শক্তিগুলোর ধর্মীয় ভণ্ডামি ও মিথ্যাচারের প্রতীক, যার আড়ালে তারা শোষণ চালিয়েছিল।
- ফলাফল: এই ‘অশুভ’ দূর করতে গিয়ে তারা আফ্রিকাবাসীর জীবন ও সংস্কৃতিকেই ধ্বংস করে দিয়েছিল।
প্রশ্ন ২. “সেইখানে নিভৃত অবকাশে তুমি” —’তুমি’ কে? তার নিভৃত অবকাশ কেমন ছিল? (মাধ্যমিক ২০১৮)
✅ উত্তর: এখানে ‘তুমি’ হলো **আফ্রিকা মহাদেশ**।
- অবকাশ: আফ্রিকার জন্মলগ্নে তাকে সমুদ্র এবং বনস্পতির নিবিড় পাহারায় নির্জনতা দেওয়া হয়েছিল।
- নিভৃত স্বরূপ: এই অবকাশে আফ্রিকা ছিল বাইরের সভ্যতার দ্রুত পদক্ষেপ থেকে সম্পূর্ণ দূরে। সে ছিল তার আদিম রহস্যের আবরণে আবৃত। ছায়া ছিল তার সহচরী এবং পাহারাদার ছিল বন্যপ্রাণীরা।
- তাৎপর্য: এই নিভৃত অবকাশই ছিল আফ্রিকার স্বাধীনতা ও স্বকীয়তার প্রতীক, যা পরবর্তীকালে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দ্বারা লুণ্ঠিত হয়।
প্রশ্ন ৩. “ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে” —কাদের সম্পর্কে এই উক্তি? তারা কেন আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল?
✅ উত্তর:
- কারা ছিনিয়ে নিল: সমুদ্রপারে সেই বর্বর দল, অর্থাৎ **ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তি**।
- কারণ: তারা এসেছিল লোভের নেশায়। আফ্রিকার অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদ এবং সেখানকার মানুষদের দাস হিসেবে ব্যবহার করাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য।
- পদ্ধতি: তারা নিজেদের ‘মানুষ’ বলে জাহির করলেও, প্রকৃতপক্ষে তারা ছিল অমানবিক। তারা তাদের তীক্ষ্ণ অন্ধ নখের সাহায্যে তলোয়ারের চেয়েও ভয়ংকর নিষ্ঠুরতা নিয়ে আফ্রিকাকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়।
প্রশ্ন ৪. ‘মানহারা মানবী’র দ্বারে কবি কেন যুগান্তের কবিকে দাঁড়াতে বললেন?
✅ উত্তর:
- মানহানি: ‘মানহারা মানবী’ হলো আফ্রিকা। সাম্রাজ্যবাদী শক্তি আফ্রিকাকে লুঠ করে, তাকে ‘নগন্য’ বলে অপমান করে এবং তার মানুষকে ক্রীতদাসে পরিণত করে।
- ইতিহাসের ঋণ: কবি নিজে প্রত্যক্ষ করেছেন এই অন্যায়। কিন্তু তার হাতে কোনো প্রতিরোধ নেই। তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতের কবিই পারবেন এই পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে।
- পূণ্যবাণী: যুগান্তের কবিকে দাঁড়াতে বলার উদ্দেশ্য হলো—দিনের অন্তিমকালে ইতিহাসের চরমতম মুহূর্তে, সেই কবির কণ্ঠে যেন আফ্রিকার প্রতি সভ্যতার চরম অন্যায়ের **শেষ ক্ষমা প্রার্থনা** ধ্বনিত হয়।
প্রশ্ন ৫. “সমুদ্রের বিশাল বাহু” কোথায় আফ্রিকাকে বেঁধে রেখেছিল? এর তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
✅ উত্তর:
- স্থান: সমুদ্রের বিশাল হাত বা বাহু আফ্রিকাকে **পূর্ব দিগন্তের দিকে** বেঁধে রেখেছিল।
- তাৎপর্য:
- বিচ্ছিন্নতা: আফ্রিকা সৃষ্টির আদিতে এশিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। সমুদ্রের বিশাল বাহু এই ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতাকেই নির্দেশ করে।
- একাকীত্ব: এই বিচ্ছিন্নতাই আফ্রিকাকে বাইরের সভ্যতার লোভ ও দৃষ্টি থেকে দূরে, ঘন অরণ্যের আবরণে আত্মগোপন করে থাকতে সাহায্য করেছিল।
- প্রাকৃতিক সুরক্ষা: সমুদ্র ছিল তার প্রাকৃতিক প্রাচীর, যা তাকে প্রাথমিক পর্যায়ে রক্ষা করেছিল।
প্রশ্ন ৬. “পশুরা এল গুপ্ত গহ্বর থেকে।”—পশুরা কারা? তাদের নখের বৈশিষ্ট্য কী ছিল?
✅ উত্তর:
- পশুরা: এখানে ‘পশুরা’ হলো **ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তি বা বর্বর শোষক দল**। এরা গুপ্ত গহ্বর থেকে অর্থাৎ তাদের নিজেদের স্বার্থ ও লোভের অন্ধকূপ থেকে বেরিয়ে এসেছিল।
- নখের বৈশিষ্ট্য: তাদের নখ ছিল **’তীক্ষ্ণ আলোর চেয়েও অন্ধ’**।
- অন্ধ: তারা সভ্যতার আলোয় আলোকিত হলেও, তাদের হৃদয় ছিল অন্ধ। তারা লোভের বশবর্তী হয়ে মানুষের প্রতি কোনো দয়া দেখায়নি।
- তীক্ষ্ণতা: তাদের শোষণ, অত্যাচার ও নিষ্ঠুরতা ছিল তীক্ষ্ণ নখের মতোই ভয়ংকর।
প্রশ্ন ৭. ‘আফ্রিকা’ কবিতায় দিনের অন্তিম কাল বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
✅ উত্তর: ‘দিনের অন্তিম কাল’ বলতে কবি শুধুমাত্র দিনের শেষ বা সন্ধ্যা বোঝাননি, বরং এক ব্যাপক সময়ের সমাপ্তিকে ইঙ্গিত করেছেন।
- সাম্রাজ্যবাদের পতন: এর দ্বারা সাম্রাজ্যবাদ, শোষণ ও বর্ণবৈষম্যের যুগের শেষ সময়কে বোঝানো হয়েছে। কবি আশা করেছেন, এই অন্তিমকালেই সভ্যতার সমস্ত পাপের হিসেব নেওয়া হবে।
- ইতিহাসের শেষ: এটি হলো ইতিহাসের এক চরম মুহূর্ত, যখন সভ্যতার সমস্ত অন্যায় ও অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত প্রয়োজন। কবি চান, এই শেষ সময়েই যেন যুগান্তের কবির কণ্ঠে ক্ষমা প্রার্থনা উচ্চারিত হয়।
প্রশ্ন ৮. “নগ্ন করল আপন নির্লজ্জ অমানুষতা।”—কে কীভাবে তার অমানুষতাকে নগ্ন করেছিল?
✅ উত্তর:
- কে: সমুদ্রপারে সেই বর্বর দল বা ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তি।
- কীভাবে: তারা আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে এল, তাকে দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করল এবং অমানবিক নির্যাতন চালাল।
- নগ্নতা: তারা নিজেদের সভ্য বলে দাবি করলেও, তাদের তীক্ষ্ণ নখ, তলোয়ার এবং লোভের কারণে তারা পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট আচরণ করেছিল। এই নির্মম শোষণ ও বর্ণবৈষম্যের মাধ্যমে তারা তাদের নির্লজ্জ অমানুষতাকে বিশ্বের সামনে প্রকাশ করে।
প্রশ্ন ৯. “দাঁড়াও ঐ মানহারা মানবীর দ্বারে” —উদ্দিষ্ট মানহারা মানবী কে? কবি তাকে কোথায় দাঁড়াতে বললেন কেন?
✅ উত্তর:
- মানহারা মানবী: এখানে ‘মানহারা মানবী’ হলেন আফ্রিকা মহাদেশ।
- কোথায় দাঁড়াতে বললেন: কবি যুগান্তের কবিকে দিনের অন্তিমকালে সেই মানহারা মানবীর দ্বারে অর্থাৎ আফ্রিকার সামনে দাঁড়াতে বললেন।
- কারণ: কবি এই আহ্বান জানিয়েছেন ইতিহাসের কাছে **প্রায়শ্চিত্ত** করার জন্য। সভ্য মানুষ আফ্রিকাকে যে অকথ্য যন্ত্রণা দিয়েছে, তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনাই ছিল কবির এই আহ্বানের মূল উদ্দেশ্য।
প্রশ্ন ১০. আফ্রিকা কীভাবে ‘ছায়াবৃতা’ হয়েছিল?
✅ উত্তর: ‘ছায়াবৃতা’ কথাটির অর্থ হলো রহস্যের আবরণে আবৃত।
- জন্মকালীন বিচ্ছিন্নতা: সৃষ্টির আদিতে আফ্রিকাকে সমুদ্রের বিশাল বাহু পূর্ব দিগন্তের দিকে সরিয়ে নিয়েছিল। এই বিচ্ছিন্নতাই তাকে সভ্যতার আলো থেকে দূরে রাখে।
- প্রাকৃতিক আবরণে: ঘন অরণ্যের পাহারায় এবং দুর্গম প্রকৃতির আবরণে আফ্রিকা বহুকাল ধরে নিজেকে আত্মগোপন করে রেখেছিল। এই কারণেই আফ্রিকা বহির্বিশ্বের কাছে এক রহস্যময় ‘ছায়াবৃতা’ মহাদেশ ছিল।
৬. রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান: ৫): ৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
প্রশ্ন ১. ‘আফ্রিকা’ কবিতাটির মূল বক্তব্য বা বিষয়বস্তু আলোচনা করো। (অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ)
✅ উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আফ্রিকা’ কবিতাটির মূল বক্তব্য হলো **সাম্রাজ্যবাদী শক্তির শোষণ ও বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ প্রতিবাদ**।
- ১. সৃষ্টির আদিমতা ও নির্জনতা: সৃষ্টির আদিলগ্নে সমুদ্রের বাহু আফ্রিকাকে বিচ্ছিন্ন করে বনস্পতির নিবিড় পাহারায় রেখেছিল। সে সভ্যতার দ্রুত পদক্ষেপ থেকে দূরে আদিম রহস্যের আবরণে নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিল।
- ২. বর্বর লোভের আক্রমণ: ইউরোপের সাম্রাজ্যবাদী শক্তি (যাদের কবি ‘বর্বর’ বলেছেন) লোভের নেশায় আফ্রিকার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা তাদের নির্লজ্জ অমানুষতা নগ্ন করে আফ্রিকার সম্পদ লুঠ করে এবং সেখানকার মানুষকে দাস করে অপমান করে।
- ৩. মানবিক অবক্ষয়: এই কবিতায় তথাকথিত সভ্য মানুষের অমানবিকতা প্রকাশ পেয়েছে। তাদের নখ তীক্ষ্ণ আলোর চেয়েও অন্ধ। তারা আফ্রিকাকে ‘নগন্য’ বলে উপহাস করে এবং ‘পূণ্য’ প্রতিষ্ঠার নামে শোষণ চালায়।
- ৪. কবির ক্ষমা প্রার্থনা: কবি আধুনিক সভ্যতার প্রতিনিধি হিসেবে এই পাপের জন্য অনুতপ্ত। তাই দিনের অন্তিমকালে তিনি ইতিহাসের কাছে মানহারা মানবী আফ্রিকার দ্বারে দাঁড়িয়ে শেষ পূণ্যবাণী—ক্ষমা প্রার্থনা—জানানোর জন্য যুগান্তের কবিকে আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রশ্ন ২. “হায়, ছায়াবৃতা, কালো ঘোমটার নীচে/ অপরিচিত ছিল তোমার মানবরূপ।”—আফ্রিকাকে ‘ছায়াবৃতা’ বলার কারণ কী? তার মানবরূপ কেন অপরিচিত ছিল? (মাধ্যমিক ২০১৭)
✅ উত্তর:
‘ছায়াবৃতা’ বলার কারণ:
- ১. ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা: সৃষ্টির সময় সমুদ্রের বাহু আফ্রিকাকে এশিয়া থেকে দূরে সরিয়ে পূর্ব দিগন্তের দিকে রেখেছিল।
- ২. প্রাকৃতিক আবরণ: ঘন অরণ্যের দুর্গম প্রকৃতি ও বনস্পতির নিবিড় পাহারায় আফ্রিকা নিজেকে বহুকাল ধরে বহির্বিশ্বের দৃষ্টি থেকে আড়াল করে রেখেছিল। এই কারণেই সে ছিল রহস্যের আবরণে আবৃত, অর্থাৎ ‘ছায়াবৃতা’।
মানবরূপ অপরিচিত হওয়ার কারণ:
- ১. সভ্যতার দূরত্ব: আফ্রিকা সভ্যতার দ্রুত পদক্ষেপ থেকে দূরে থাকায় ইউরোপীয় শক্তিরা তার প্রকৃত মানবতা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারেনি।
- ২. বর্ণবিদ্বেষ: শ্বেতাঙ্গ সাম্রাজ্যবাদীরা কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকাবাসীকে মানুষ হিসেবে গণ্য করত না। তারা তাদের ‘নগন্য’, ‘অশুভ’ ও ‘অচ্ছুত’ বলে মনে করত এবং দাস হিসেবে ব্যবহার করত। এই মানসিকতার কারণেই তাদের কাছে আফ্রিকার প্রকৃত মানবরূপ চিরকাল অপরিচিত ছিল।
প্রশ্ন ৩. “এল তারা লোহার হাতকড়ি নিয়ে,/ নখ যাদের তীক্ষ্ণ তোমার নেকড়ের চেয়ে।”—এখানে ‘তারা’ কারা? তাদের চরিত্র সংক্ষেপে বিশ্লেষণ করো। (মাধ্যমিক ২০১৬, ২০২০)
✅ উত্তর:
‘তারা’ কারা:
- ‘তারা’ হলো **সমুদ্রপারে আসা বর্বর দল**, অর্থাৎ ইউরোপের সাম্রাজ্যবাদী শক্তি যারা লোভের নেশায় আফ্রিকাকে শোষণ করতে এসেছিল।
তাদের চরিত্র বিশ্লেষণ:
- ১. বর্বরতা: তারা গুপ্ত গহ্বর থেকে বেরিয়ে আসা পশুর মতো ছিল। তারা নিজেদের সভ্য বললেও তাদের হৃদয়ে কোনো মানবিকতা ছিল না। তারা নগ্ন করেছে আপন নির্লজ্জ অমানুষতা।
- ২. তীক্ষ্ণ অন্ধ নখ: তাদের নখ ছিল **’তীক্ষ্ণ আলোর চেয়েও অন্ধ’**। তীক্ষ্ণতা তাদের শোষণের তীব্রতাকে বোঝায়, আর অন্ধতা বোঝায় তাদের বিবেকহীনতাকে। অর্থাৎ, তারা সভ্যতার আলোয় থেকেও হৃদয় দিয়ে অন্ধ ও লোভী ছিল।
- ৩. শোষণের অস্ত্র: তারা আফ্রিকাবাসীদের পশুর মতো ক্রীতদাসে পরিণত করার জন্য **লোহার হাতকড়ি** নিয়ে এসেছিল। তলোয়ারের চেয়ে ভয়ংকর তাদের এই নিষ্ঠুরতা আফ্রিকার রক্তশ্রুত ইতিহাস রচনা করেছিল।
প্রশ্ন ৪. “দাঁড়াও ঐ মানহারা মানবীর দ্বারে,/ বলো ‘ক্ষমা করো’।”—উদ্ধৃতাংশটির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে কবির এই মন্তব্যের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
✅ উত্তর:
প্রসঙ্গ:
- ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তি আফ্রিকাকে অমানবিক উপায়ে শোষণ করেছে, অপমান করেছে এবং তার মানবরূপকে অস্বীকার করেছে। এই অমানবিক অত্যাচারের পটভূমিতে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আধুনিক সভ্যতার একজন প্রতিনিধি হিসেবে এই পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে চেয়েছেন।
তাৎপর্য ব্যাখ্যা:
- ১. প্রায়শ্চিত্ত: কবি জানেন যে সভ্য মানুষের এই অন্যায় অপূরণীয়। তাই দিনের অন্তিমকালে, অর্থাৎ সাম্রাজ্যবাদের পতনের শেষলগ্নে, তিনি ভবিষ্যতের কবিকে আহ্বান জানিয়েছেন—মানহারা মানবী আফ্রিকার দ্বারে দাঁড়িয়ে সব অন্যায়ের জন্য **’ক্ষমা করো’**—এই পূণ্যবাণী উচ্চারণ করার জন্য।
- ২. ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা: কবির এই আহ্বান প্রমাণ করে যে তিনি ইতিহাসের দায়ভার গ্রহণ করেছেন এবং তিনি বিশ্বাস করেন, সভ্যতার সব পাপের ভার শুধু শোষকের নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির।
- ৩. নৈতিকতা ও মানবতা: ‘ক্ষমা করো’ এই মন্ত্রটি কেবল একটি শব্দ নয়, এটি হলো মানুষের প্রতি মানুষের নৈতিকতা ও ভালোবাসা প্রতিষ্ঠার শেষ প্রত্যাশা।
প্রশ্ন ৫. ‘আফ্রিকা’ কবিতায় আফ্রিকার জন্মকালীন বৈশিষ্ট্য ও তার পরবর্তী পরিণতির চিত্রটি সংক্ষেপে আলোচনা করো।
✅ উত্তর:
জন্মকালীন বৈশিষ্ট্য (আদিমতা ও বিচ্ছিন্নতা):
- ১. স্রষ্টার সৃষ্টি: স্রষ্টা আফ্রিকাকে ‘অসন্তোষের সাথে’ বারবার গড়িয়েছিলেন।
- ২. বিচ্ছিন্নতা: সে সমুদ্রের বিশাল বাহুতে বাঁধা পড়ে পূর্ব দিগন্ত থেকে দূরে সরে গিয়েছিল।
- ৩. রহস্য: সে ঘন অরণ্যের পাহারায় এবং দুর্গম প্রকৃতির আবরণে নিজেকে ঢেকে রেখেছিল। ছায়া ছিল তার সহচরী এবং বন্যপ্রাণীরা ছিল পাহারাদার।
পরবর্তী পরিণতি (শোষণ ও নিগ্রহ):
- ১. বর্বর আক্রমণ: লোভী ইউরোপীয় শক্তি লোহার হাতকড়ি ও তলোয়ার নিয়ে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল।
- ২. নির্মম অত্যাচার: তারা আফ্রিকাবাসীদের উপর অকথ্য অত্যাচার চালায়, তাদের ‘নগন্য’ বলে অপমান করে এবং দাস বানায়।
- ৩. সংস্কৃতি ধ্বংস: তারা তাদের নির্লজ্জ অমানুষতার মাধ্যমে আফ্রিকার শান্তি, সংস্কৃতি ও মানবতাকে নগ্ন করে দিয়েছিল।
- ৪. উপসংহার: আফ্রিকানরা তাদের ভাষাহীন ক্রন্দনে রক্ত মিশিয়ে এক ভয়াবহ ইতিহাস তৈরি করতে বাধ্য হয়েছিল।
## ❓ সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) – দৃশ্যমান বিভাগ
“`html
৭. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন ১. ‘আফ্রিকা’ কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন্ কাব্যগ্রন্থের অংশ?
✅ উত্তর: এই কবিতাটি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের **’পত্রপুট’** কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন ২. ‘ছায়াবৃতা’ কাকে বলা হয়েছে?
✅ উত্তর: ঘন অরণ্যের দুর্গম আবরণে বহুকাল ধরে নিজেকে আড়াল করে রাখায় **আফ্রিকা মহাদেশকে** ‘ছায়াবৃতা’ বলা হয়েছে।
প্রশ্ন ৩. কাদের নখ তীক্ষ্ণ আলোর চেয়েও অন্ধ ছিল?
✅ উত্তর: সমুদ্রপারে আসা **ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তির** নখ তীক্ষ্ণ আলোর চেয়েও অন্ধ ছিল।
প্রশ্ন ৪. কবি ইতিহাসের কাছে কী প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়েছেন?
✅ উত্তর: কবি ইতিহাসের কাছে মানহারা মানবী আফ্রিকার দ্বারে দাঁড়িয়ে **’ক্ষমা করো’**—এই শেষ পূণ্যবাণী উচ্চারণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
JSON-LD স্কিমা (সার্চ ইঞ্জিনের জন্য)
৭. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন ১. ‘আফ্রিকা’ কবিতাটির মূল প্রতিবাদ কীসের বিরুদ্ধে?
✅ উত্তর: এই কবিতাটির মূল প্রতিবাদ হলো **ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তির শোষণ, লোভ ও বর্ণবিদ্বেষের** বিরুদ্ধে।
প্রশ্ন ২. আফ্রিকাকে ‘ছায়াবৃতা’ বলার কারণ কী?
✅ উত্তর: **ঘন অরণ্যের দুর্গম আবরণে** এবং ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার কারণে আফ্রিকা বহির্বিশ্বের দৃষ্টি থেকে নিজেকে আড়াল করে রেখেছিল, তাই তাকে ‘ছায়াবৃতা’ বলা হয়েছে।
প্রশ্ন ৩. ‘মানহারা মানবী’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
✅ উত্তর: ইউরোপীয় শক্তির হাতে নির্যাতিত, লাঞ্ছিত এবং শোষিত **আফ্রিকা মহাদেশকে** ‘মানহারা মানবী’ বলা হয়েছে।
প্রশ্ন ৪. ‘নখ যাদের তীক্ষ্ণ আলোর চেয়েও অন্ধ’—এখানে ‘আলো’ কিসের প্রতীক?
✅ উত্তর: এখানে ‘আলো’ হলো **সভ্যতা ও জ্ঞানের** প্রতীক। এর দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, তথাকথিত সভ্য হওয়া সত্ত্বেও শোষকদের মন ছিল অন্ধ ও বিবেকহীন।
প্রশ্ন ৫. কবি কাকে ‘যুগান্তের কবি’ বলে আহ্বান জানিয়েছেন?
✅ উত্তর: কবি **ভবিষ্যতের সেই কবিকে** ‘যুগান্তের কবি’ বলে আহ্বান জানিয়েছেন, যিনি ইতিহাসের চরম অন্যায়ের শেষলগ্নে সভ্যতার সমস্ত পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবেন।
JSON-LD স্কিমা (সার্চ ইঞ্জিনের জন্য)