দশম শ্রেণি বাংলা: অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান – জয় গোস্বামী

📘 পরবর্তী অধ্যায়: ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ (জয় গোস্বামী)


📖 শিক্ষকের বিশ্লেষণ ও ভূমিকা

‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতাটি কবি **জয় গোস্বামী** রচিত **’পাতাঝরার মরসুমে’** কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। এটি আধুনিক পৃথিবীতে যুদ্ধ, সন্ত্রাস ও অস্ত্রের আস্ফালনের বিরুদ্ধে এক **অহিংস প্রতিবাদ**। কবি মনে করেন, অস্ত্রকে কেবল অস্ত্র দিয়েই প্রতিহত করা যায় না, বরং গান, মানবতা ও ভালোবাসার শক্তি দিয়ে তাকে পরাজিত করা সম্ভব। কবির কাছে গান হলো প্রতিবাদের ভাষা এবং ধ্বংসের বিপরীতে সৃষ্টিশীলতার একমাত্র হাতিয়ার। মানবতাই হলো এই কবিতার মূল আদর্শ।


🎯 ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতা থেকে সম্ভাব্য নম্বর বিভাজন (লিখিত)

এই কবিতাংশ থেকে অস্ত্রের প্রতীকী তাৎপর্য, গানের ক্ষমতা, এবং কবি কর্তৃক প্রত্যাশিত অহিংস প্রতিরোধের রূপ নিয়ে প্রশ্ন আসে।

প্রশ্নের ধরন মোট নম্বর অনুমানিক সংখ্যা
MCQ (বহু বিকল্পভিত্তিক) ১-২টি
SAQ (অতি-সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর) ১-২টি
SAQ (সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাভিত্তিক) ১টি
LAQ (রচনাধর্মী) ১টি (বিকল্পসহ)

১. বহু বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ): ২০টি প্রশ্ন (৪টি অপশন সহ)

নির্দেশিকা: সঠিক বিকল্পটি বেছে নাও। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১।

১. ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতাটির কবি কে?

  • ক) শঙ্খ ঘোষ
  • খ) জয় গোস্বামী
  • গ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  • ঘ) শক্তি চট্টোপাধ্যায়

✅ উত্তর: খ

২. কবিতাটি কোন্ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?

  • ক) বজ্রবিদ্যুৎ ভর্তি খাতা
  • খ) পাতাঝরার মরসুমে
  • গ) ঘুমিয়েছো, ঝাউপাতা?
  • ঘ) ভূতুম ভগবান

✅ উত্তর: খ

৩. কবি অস্ত্র ফেলেন কোথায়?

  • ক) পায়ের কাছে
  • খ) জলে
  • গ) মাটিতে
  • ঘ) দূরে

✅ উত্তর: ক

৪. কোন্ দুটি হাত দিয়ে গান ফিরিয়ে নেওয়া উচিত?

  • ক) দুটোই বাঁ হাত
  • খ) ডান হাত আর বাঁ হাত
  • গ) বন্ধু আর শত্রুর হাত
  • ঘ) ঈশ্বরের হাত

✅ উত্তর: খ

৫. কবি কিসের মাথায় চুম্বন দিতে চেয়েছেন?

  • ক) পৃথিবীর
  • খ) ফুলের
  • গ) অস্ত্রের
  • ঘ) শিশুর

✅ উত্তর: গ

৬. ‘গান’ কীসের মতো কপালে থাকে?

  • ক) তিলকের
  • খ) বর্মের
  • গ) সিন্দুরের
  • ঘ) জয়রেখার

✅ উত্তর: খ

৭. অস্ত্রকে কোথায় লুকিয়ে রাখতে বলা হয়েছে?

  • ক) মাটির নিচে
  • খ) গানের দুটি পায়ে
  • গ) হৃদয়ে
  • ঘ) গাছের নিচে

✅ উত্তর: খ

৮. কীসের মতো মাথায় ঋজু গান বাঁধে?

  • ক) পাহাড়ের মতো
  • খ) মুকুটের মতো
  • গ) শান্তির মতো
  • ঘ) পাগড়ির মতো

✅ উত্তর: ঘ

৯. ‘আমি এখন কী করি’—এই দ্বিধা কার?

  • ক) অস্ত্রধারী মানুষের
  • খ) কবির
  • গ) সাধারণ মানুষের
  • ঘ) প্রকৃতির

✅ উত্তর: খ

১০. কীসের গায়ে হাত বুলিয়ে দেবার কথা বলা হয়েছে?

  • ক) শিশুর
  • খ) পাথরের
  • গ) অস্ত্রের
  • ঘ) গানের

✅ উত্তর: গ

১১. কবি কী দিয়ে গান ফিরিয়ে আনতে বলেছেন?

  • ক) ফুল দিয়ে
  • খ) দুটো হাত দিয়ে
  • গ) মন দিয়ে
  • ঘ) গান দিয়ে

✅ উত্তর: খ

১২. গানকে মাথায় মুকুটের মতো পরার কথা বলা হয়েছে কেন?

  • ক) সৌন্দর্যের জন্য
  • খ) গর্বের জন্য
  • গ) সম্মানের জন্য
  • ঘ) আনন্দের জন্য

✅ উত্তর: গ

১৩. কবি কিসের গায়ে নতুন করে রক্ত মাখার কথা বলেছেন?

  • ক) অস্ত্র
  • খ) গানের
  • গ) যুদ্ধের
  • ঘ) ভালোবাসার

✅ উত্তর: খ

১৪. ‘শিশু এক’ বলতে কবি কীসের প্রতীক বুঝিয়েছেন?

  • ক) নিষ্পাপ প্রাণ
  • খ) নতুন দিনের সম্ভাবনা
  • গ) ভালোবাসার
  • ঘ) ঈশ্বরের

✅ উত্তর: খ

১৫. কবি কাকে ভালোবাসার কথা বলেছেন?

  • ক) অস্ত্রকে
  • খ) গানকে
  • গ) পাথরকে
  • ঘ) দুঃখকে

✅ উত্তর: খ

১৬. ‘রক্ত’ এখানে কীসের প্রতীক?

  • ক) জীবনের
  • খ) ধ্বংস ও মৃত্যুর
  • গ) যুদ্ধের
  • ঘ) ভালোবাসার

✅ উত্তর: খ

১৭. কবি কাকে বর্মের মতো কপালে রাখতে বলেছেন?

  • ক) অস্ত্র
  • খ) গান
  • গ) মুকুট
  • ঘ) ভালোবাসার প্রতীক

✅ উত্তর: খ

১৮. কবি কী দিয়ে গান ফিরিয়ে আনতে চেয়েছেন?

  • ক) গান দিয়ে
  • খ) দুটো হাত দিয়ে
  • গ) মন দিয়ে
  • ঘ) প্রেম দিয়ে

✅ উত্তর: খ

১৯. গানকে পায়ে পায়ে কেন রাখতে বলা হয়েছে?

  • ক) সম্মান জানাতে
  • খ) সুরক্ষা দেওয়ার জন্য
  • গ) ভালোবাসার প্রতীক
  • ঘ) আনন্দের জন্য

✅ উত্তর: খ

২০. কবি অস্ত্রকে কোথায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন?

  • ক) গাছের নিচে
  • খ) গানের দুটি পায়ে
  • গ) জলের গভীরে
  • ঘ) মাটির নিচে

✅ উত্তর: খ


২, ৩ ও ৪. অতি-সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (VSAQ): ৪০টির বেশি প্রশ্ন

ক) শূন্যস্থান পূরণ করো (১৫টি)

নির্দেশিকা: উপযুক্ত শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থানগুলি পূরণ করো।

  • ১. গান তো এক ঋষি বালক।
  • ২. অস্ত্র ফেলো, অস্ত্র রাখো পায়ের কাছে।
  • ৩. গান মাথায় পাগড়ির মতো বাঁধে।
  • ৪. আমি এখন কী করি?
  • ৫. গান গায়ে রক্তের মতো মাখি।
  • ৬. গান তো একটা বর্ম, যার কোনোদিন নেই ক্ষয়।
  • ৭. অস্ত্রের গায়ে হাত বুলিয়ে দেবো।
  • ৮. অস্ত্রকে কবি চুম্বন দিতে চেয়েছেন।
  • ৯. ডান হাত নেই, বাঁ হাতও নেই
  • ১০. গান মাথায় মুকুটের মতো পরে।
  • ১১. গান কপালে বর্মের মতো থাকে।
  • ১২. আমি শুধু গান বলতে জানি।
  • ১৩. গানের দুটি পায়ে অস্ত্র রাখো।
  • ১৪. ঋজু গান মাথায় পাগড়ির মতো বাঁধে।
  • ১৫. কবি গানকে ভালোবাসেন

খ) সত্য-মিথ্যা নির্ণয় করো (১০টি)

নির্দেশিকা: বাক্যটি সত্য হলে (স) এবং মিথ্যা হলে (মি) লেখো।

  • ১. ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতাটি ‘পাতাঝরার মরসুমে’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। (স)
  • ২. কবি অস্ত্রকে পায়ের কাছে রাখতে বলেছেন। (স)
  • ৩. গান কপালে মুকুটের মতো থাকে। (মি) [সঠিক: বর্মের মতো]
  • ৪. ডান হাত আর বাঁ হাত দিয়ে কবি গান ফিরিয়ে নিতে চান। (স)
  • ৫. কবি গানকে মুকুটের মতো মাথায় পরতে বলেছেন। (স)
  • ৬. গান গায়ে রক্তের মতো মাখার কথা বলা হয়েছে। (স)
  • ৭. কবি অস্ত্রকে জলে ছুঁড়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। (মি) [সঠিক: গানের দুটি পায়ে রাখো]
  • ৮. গান একটি ক্ষয়হীন বর্ম। (স)
  • ৯. কবি অস্ত্রকে ভালোবাসা দিতে চেয়েছেন। (স)
  • ১০. গানকে মুকুটের মতো মাথায় বাঁধার কথা বলা হয়েছে। (মি) [সঠিক: পাগড়ির মতো বাঁধে]

গ) এক বাক্যে উত্তর দাও (১৫টি)

নির্দেশিকা: একটি সম্পূর্ণ বাক্যে নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও।

১. কবি কাকে ঋষি বালক বলেছেন?

✅ উত্তর: কবি গানকে ঋষি বালক বলেছেন।

২. কবি অস্ত্রকে কোথায় ফেলে দিতে বলেছেন?

✅ উত্তর: কবি অস্ত্রকে পায়ের কাছে ফেলে দিতে বলেছেন।

৩. গান কিসের মতো কপালে থাকে?

✅ উত্তর: গান বর্মের মতো কপালে থাকে।

৪. কবি কী দিয়ে অস্ত্রকে চুম্বন করতে চেয়েছেন?

✅ উত্তর: কবি হাত বুলিয়ে দিয়ে অস্ত্রকে চুম্বন করতে চেয়েছেন।

৫. কোন্ দুটি হাত দিয়ে গান ফিরিয়ে নিতে বলা হয়েছে?

✅ উত্তর: ডান হাত আর বাঁ হাত দিয়ে গান ফিরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।

৬. গান গায়ে কীসের মতো মাখার কথা বলা হয়েছে?

✅ উত্তর: গান গায়ে রক্তের মতো মাখার কথা বলা হয়েছে।

৭. গানের দুটি পায়ে কী লুকিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে?

✅ উত্তর: গানের দুটি পায়ে অস্ত্র লুকিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৮. গান মাথায় কীসের মতো বাঁধে?

✅ উত্তর: গান মাথায় পাগড়ির মতো বাঁধে।

৯. ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতাটি কোন্ সময়ের প্রেক্ষাপটে লেখা?

✅ উত্তর: আধুনিক পৃথিবীতে যুদ্ধ ও সন্ত্রাসের প্রেক্ষাপটে কবিতাটি লেখা।

১০. গানের দুটি পায়ে অস্ত্র রাখার তাৎপর্য কী?

✅ উত্তর: গানের দুটি পায়ে অস্ত্র রাখার তাৎপর্য হলো, ভালোবাসার শক্তি দিয়ে ধ্বংসের প্রতীক অস্ত্রকে নিষ্ক্রিয় করা।

১১. গান কিসের মতো মুকুটে পরে?

✅ উত্তর: গান মুকুটের মতো মাথায় পরে।

১২. গানকে কেন বর্ম বলা হয়েছে?

✅ উত্তর: গান আত্মিক সুরক্ষার প্রতীক, যা কোনোদিন ক্ষয় হয় না, তাই তাকে বর্ম বলা হয়েছে।

১৩. কবি ডান হাত ও বাঁ হাত দিয়ে কী ফিরিয়ে আনতে চেয়েছেন?

✅ উত্তর: কবি ডান হাত ও বাঁ হাত দিয়ে গান ফিরিয়ে আনতে চেয়েছেন।

১৪. কবি নিজেকে কেন ‘শিশু এক’ বলেছেন?

✅ উত্তর: কবি নিজেকে ‘শিশু এক’ বলেছেন কারণ তাঁর কাছে গান ছাড়া আর কোনো প্রতিবাদের ভাষা নেই।

১৫. গানকে মুকুটের মতো পরার মধ্য দিয়ে কবি কীসের প্রকাশ ঘটিয়েছেন?

✅ উত্তর: গানকে মুকুটের মতো পরার মধ্য দিয়ে কবি গানের গৌরব ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রকাশ ঘটিয়েছেন।


৫. সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান: ৩): ১০টি প্রশ্ন

প্রশ্ন ১. “গান তো একটা বর্ম, যার কোনোদিন ক্ষয় নেই।”—গানকে কেন বর্ম বলা হয়েছে? বর্মের ক্ষয় না হওয়ার তাৎপর্য কী? (মাধ্যমিক ২০১৭)

উত্তর:

  • গান বর্ম কেন: বর্ম যেমন শরীরকে আঘাত থেকে রক্ষা করে, তেমনি গান **আত্মিক সুরক্ষার** প্রতীক। গান হলো মানবতা, প্রেম ও সৃষ্টিশীলতার প্রতীক, যা মনের ভেতরের শক্তিকে রক্ষা করে।
  • ক্ষয় না হওয়ার তাৎপর্য: যুদ্ধ, অস্ত্র বা ধ্বংসের প্রতীকগুলি ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু মানবতা, ভালোবাসা এবং গানের আবেদন **চিরন্তন**। তাই অস্ত্রের আঘাত গানকে ধ্বংস করতে পারে না—এই কারণেই গানের কোনোদিন ক্ষয় নেই।

প্রশ্ন ২. “অস্ত্র ফেলো, অস্ত্র রাখো/ গানের দুটি পায়ে।”—কবি কেন এই নির্দেশ দিয়েছেন? (মাধ্যমিক ২০১৮)

উত্তর:

  • অহিংস প্রতিবাদ: কবি বিশ্বাস করেন, ধ্বংসের প্রতীক অস্ত্রকে অস্ত্র দিয়ে প্রতিহত করা যায় না। অস্ত্রের বিরুদ্ধে অহিংস ও মানবিক প্রতিবাদই একমাত্র পথ।
  • ক্ষমতা: গান হলো প্রেম, সৃষ্টি ও মানবতার প্রতীক। গানকে অস্ত্রকে নিষ্ক্রিয় করার বা তাকে পদদলিত করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
  • সমর্পণ: অস্ত্রকে পায়ের কাছে বা গানের দুটি পায়ে রাখার নির্দেশ দেওয়ার মাধ্যমে কবি বোঝান, অস্ত্র যেন তার ধ্বংসাত্মক শক্তি বর্জন করে মানবিকতা ও শান্তির কাছে আত্মসমর্পণ করে।

প্রশ্ন ৩. “আমি এখন কী করি!”—কবির এই দ্বিধার কারণ কী?

উত্তর:

  • অসহায়তা: কবি সমাজের দিকে তাকিয়ে দেখেন—চারিদিকে কেবল অস্ত্র আর হানাহানি। এই ধ্বংসলীলা দেখে তিনি হতবাক।
  • প্রতিবাদের ভাষা: তিনি একজন কবি, তাঁর হাতে অস্ত্র নেই। এই ধ্বংসের মোকাবিলা তিনি অস্ত্র দিয়ে করতে পারেন না, তাই তিনি দ্বিধায় পড়েন যে, তিনি কী করবেন?
  • সমাধান: এই দ্বিধা দূর করতে কবি তাঁর অস্ত্র, অর্থাৎ **গানকে** বেছে নেন। গানই তাঁর প্রতিবাদের ভাষা, যা অস্ত্রের চেয়েও শক্তিশালী।

প্রশ্ন ৪. গানকে কেন মুকুট ও পাগড়ির মতো মাথায় বাঁধার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর: মুকুট ও পাগড়ি হলো গৌরব, সম্মান এবং প্রতিরোধের প্রতীক।

  • সম্মান: গান হলো মানুষের প্রতিবাদের এবং সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় সম্পদ। গানকে মুকুটের মতো মাথায় পরার মধ্য দিয়ে কবি গানের **গৌরব ও শ্রেষ্ঠত্ব** প্রকাশ করতে চেয়েছেন।
  • প্রতিরোধ: পাগড়ি ও মুকুট যেমন যুদ্ধের সময় মাথায় সুরক্ষা দেয়, তেমনই এই ঋজু গান আত্মিক সুরক্ষা দেয়। এটি মানুষের মাথাকে কোনো অস্ত্রের সামনে নত হতে দেয় না।
  • অটুট বিশ্বাস: গানের মাধ্যমে মানুষ তার বিশ্বাসকে দৃঢ় রাখে। গান তাদের সত্যের পথে ঋজু (সোজা) থাকার শক্তি জোগায়।

প্রশ্ন ৫. “গান গায়ে রক্ত মাখা”—এই পঙ্‌ক্তিটির মধ্য দিয়ে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

উত্তর:

  • ত্যাগ ও উৎসর্গ: ‘রক্ত’ এখানে জীবন উৎসর্গ এবং ত্যাগের প্রতীক। কবি গানকে গায়ে রক্ত মাখার মতো করে নিতে বলেছেন, অর্থাৎ গানকে যেন জীবন দিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়।
  • শক্তি: এই রক্ত মাখা গান হলো মানবতা ও ভালোবাসার এক প্রতিজ্ঞা। এই গান সমস্ত আঘাত ও যন্ত্রণা সহ্য করার শক্তি দেয়।
  • অভিন্নতা: গানকে রক্তের মতো নিজের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। গানকে কেবল মুখের ভাষা নয়, হৃদয়ের স্পন্দন বানানোর কথা বলেছেন।

প্রশ্ন ৬. কবি কেন ডান হাত আর বাঁ হাত দিয়ে গান ফিরিয়ে নিতে চেয়েছেন?

উত্তর:

  • সম্পূর্ণ শক্তি: ডান হাত ও বাঁ হাত দিয়ে গান ফিরিয়ে আনার অর্থ হলো, **মনের সম্পূর্ণ শক্তি এবং আন্তরিকতা** দিয়ে গানকে ফিরিয়ে আনা।
  • প্রতিবাদ: অস্ত্র এখন মানুষের প্রধান আকর্ষণ। কবি সেই আকর্ষণ থেকে মানুষের মনোযোগ সরিয়ে গান বা সৃষ্টির দিকে ফিরিয়ে আনতে চেয়েছেন।
  • মানবতার পুনরুদ্ধার: দুই হাত দিয়ে গান ফিরিয়ে আনার মধ্য দিয়ে তিনি মানুষের মধ্যে লুপ্ত হয়ে যাওয়া মানবিকতাকে পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রশ্ন ৭. অস্ত্রকে কোথায় লুকিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে? এর ফল কী হতে পারে?

উত্তর:

  • লুকানোর স্থান: কবি অস্ত্রকে **গানের দুটি পায়ে** লুকিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
  • ফলাফল:
    • অস্ত্র তার ধ্বংসাত্মক শক্তি হারাবে এবং নিষ্ক্রিয় হবে।
    • অস্ত্রের প্রতি মানুষের আসক্তি কমবে এবং মানুষ ধ্বংসের পথ ছেড়ে সৃষ্টির পথে ফিরে আসবে।
    • গান অর্থাৎ ভালোবাসার শক্তি দিয়ে ধ্বংসের প্রতীক অস্ত্রকে পদদলিত করা হবে।

প্রশ্ন ৮. গানকে কেন বর্মের মতো কপালে রাখতে বলা হয়েছে?

উত্তর:

  • সুরক্ষা: বর্ম যেমন যুদ্ধের সময় সবচেয়ে দুর্বল অংশ (মাথা) কে রক্ষা করে, গানও তেমনি মানুষকে মানসিক ও আত্মিক আঘাত থেকে রক্ষা করে।
  • আত্মবিশ্বাস: গানকে কপালে রাখার মধ্য দিয়ে কবি বোঝান, গান যেন মানুষের বিশ্বাসের প্রতীক হয়। গান আত্মবিশ্বাস ও আত্মিক শক্তি জোগায়, যা কোনো আঘাত দ্বারা ক্ষয় হয় না।
  • আদর্শ: গানের আদর্শ যেন মানুষ কখনোই ভুলে না যায়। এটি মানুষের মন ও বিবেকের সুরক্ষা কবচ।

প্রশ্ন ৯. “গান তো এক ঋষি বালক।”—গানকে ঋষি বালক বলার তাৎপর্য কী?

উত্তর:

  • পবিত্রতা: ঋষি বালকের মতো গানও নিষ্পাপ, পবিত্র এবং নির্মল। এর কোনো ধ্বংসের উদ্দেশ্য নেই।
  • সৃষ্টি ও কল্যাণ: ঋষিরা যেমন সৃষ্টি ও কল্যাণের কথা বলতেন, গানও তেমনি ধ্বংসের বিপরীতে সৃষ্টি এবং প্রেমের কথা বলে।
  • সহজ সমাধান: ঋষি বালক যেমন সরল কথা বলত, গানও তেমনি জটিল সমস্যার সরল সমাধান নিয়ে আসে।

প্রশ্ন ১০. কবি কেন অস্ত্রকে চুম্বন দিতে চেয়েছেন?

উত্তর: অস্ত্রকে চুম্বন করার মধ্য দিয়ে কবি অহিংসা, প্রেম ও শান্তির সর্বোচ্চ আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন।

  • অহিংসার প্রকাশ: অস্ত্রকে ঘৃণা বা ধ্বংস না করে, তাকে ভালোবাসা দিয়ে জয় করার এই প্রক্রিয়া অহিংস প্রতিরোধের প্রতীক।
  • শান্তি প্রতিষ্ঠা: চুম্বন ভালোবাসার প্রতীক। কবি চেয়েছেন যেন অস্ত্রের উপরও ভালোবাসা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়, যাতে অস্ত্র আর কোনো ধ্বংস না ঘটায়।
  • চূড়ান্ত আহ্বান: এটি কবির চূড়ান্ত আহ্বান—যুদ্ধের কাছে নতি স্বীকার না করে বরং নিজের মানবিক শক্তি দিয়ে যুদ্ধকে পরাজিত করা।

৬. রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান: ৫): ৪টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

প্রশ্ন ১. ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতার মূলভাব ও কবির উদ্দেশ্য আলোচনা করো। (অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ)

উত্তর: জয় গোস্বামী রচিত এই কবিতার মূলভাব হলো **যুদ্ধ ও ধ্বংসের বিরুদ্ধে অহিংস প্রতিবাদ** এবং মানবিক সংহতি ও সৃষ্টিশীলতার জয়গান।

  • ১. উদ্দেশ্য: অস্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ: কবি দেখেছেন, চারিদিকে অস্ত্রের আস্ফালন। এই ধ্বংসলীলা বন্ধ করার জন্যই কবি এই গানকে অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তাঁর উদ্দেশ্য হলো—অস্ত্রকে ঘৃণা না করে, বরং ভালোবাসা দিয়ে তাকে নিষ্ক্রিয় করা।
  • ২. গানের শক্তি: গান এখানে সৃষ্টি, প্রেম ও মানবিকতার প্রতীক। কবি মনে করেন, এই গানই হলো মানুষের একমাত্র **ক্ষয়হীন বর্ম**। অস্ত্রের আঘাত সাময়িক, কিন্তু গানের আবেদন চিরন্তন।
  • ৩. সংহতির বার্তা: কবি একা নন, তিনি চান তাঁর মতো সমস্ত সাধারণ মানুষ **’ডান হাত আর বাঁ হাত দিয়ে’** গান ফিরিয়ে আনুক। এটি হলো সম্মিলিতভাবে প্রেম ও মানবতার শক্তিকে পুনরুদ্ধার করার আহ্বান।
  • ৪. চূড়ান্ত আহ্বান: কবি অস্ত্রকে পায়ের কাছে ফেলে রাখতে এবং তাকে চুম্বন করতে বলেছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি চূড়ান্ত অহিংসার আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন।

প্রশ্ন ২. ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় গান কীভাবে মানুষের কাছে প্রতিরোধের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে, বিশ্লেষণ করো। (মাধ্যমিক ২০১৬, ২০১৯)

উত্তর: এই কবিতায় গান কোনো মনোরঞ্জনের মাধ্যম নয়, বরং তা ধ্বংসের বিরুদ্ধে মানুষের প্রধান প্রতিরোধের হাতিয়ার।

  • ১. আত্মিক বর্ম: গানকে কবি **’বর্মের মতো কপালে’** রাখতে বলেছেন। বর্ম যেমন শরীরকে রক্ষা করে, গানও তেমনি মানুষকে মানসিক ও আত্মিক আঘাত থেকে সুরক্ষা দেয়। গান হলো আত্মিক শক্তির কেন্দ্র।
  • ২. নিষ্ক্রিয়করণ: কবি অস্ত্রকে **’গানের দুটি পায়ে’** লুকিয়ে রাখতে বলেছেন। এর অর্থ হলো, প্রেম ও মানবতার শক্তি দিয়ে অস্ত্রের ধ্বংসাত্মক শক্তিকে পদদলিত করে তাকে নিষ্ক্রিয় করা।
  • ৩. আত্মমর্যাদা: গানকে **’পাগড়ির মতো’** মাথায় বাঁধার অর্থ হলো, মানুষ যেন গানকে তার সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক করে তোলে এবং কোনো অস্ত্রের কাছে মাথা নত না করে।
  • ৪. জীবনের অংশ: গানকে **’রক্তের মতো গায়ে মাখা’** এবং **’মুছে না যাওয়ার’** কথা বলার মধ্য দিয়ে কবি বোঝান যে, গান যেন মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়, যা কোনো আঘাত দ্বারা ক্ষয় না হয়।

প্রশ্ন ৩. কবি কেন অস্ত্রকে চুম্বন করতে চেয়েছেন এবং এর ফলস্বরূপ কী হতে পারে?

উত্তর:

  • চুম্বনের কারণ: অস্ত্রকে ঘৃণা বা ধ্বংস করলে অস্ত্রের সংঘাত আরও বাড়বে। তাই কবি অহিংসা ও প্রেম দিয়ে অস্ত্রকে জয় করতে চেয়েছেন। চুম্বন হলো ভালোবাসা ও শান্তির চূড়ান্ত প্রকাশ।
  • উদ্দেশ্য: কবি চেয়েছেন, অস্ত্রের উপর যেন প্রেম ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। অস্ত্র যেন তার ধ্বংসাত্মক ভূমিকা ছেড়ে মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়।
  • ফলাফল:
    • অস্ত্রের প্রতি মানুষের অন্ধ আসক্তি কমবে।
    • অস্ত্রের স্থান হবে মানুষের হৃদয়ে নয়, বরং গানের পায়ে।
    • মানুষ ধ্বংসের পথ ছেড়ে সৃষ্টির পথে ফিরবে এবং পৃথিবীতে শান্তি ফিরে আসবে।

প্রশ্ন ৪. ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় কবি কীভাবে তাঁর দ্বিধা থেকে মুক্তি পেয়েছেন?

উত্তর:

  • কবির দ্বিধা: কবি যখন চারিদিকে অস্ত্রের আস্ফালন দেখেন, তখন তাঁর মনে দ্বিধা জাগে, **”আমি এখন কী করি!”**—কারণ তাঁর হাতে অস্ত্র নেই, তিনি একজন সাধারণ মানুষ। অস্ত্র দিয়ে তিনি অস্ত্রের মোকাবিলা করতে পারেন না।
  • মুক্তির পথ: এই দ্বিধা থেকে মুক্তি পেতে কবি তাঁর ভেতরের শক্তিকে আবিষ্কার করেন—যা হলো **গান**। গানই তাঁর একমাত্র অস্ত্র এবং প্রতিবাদ।
  • চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: তিনি গানকে বেছে নেন। তিনি অস্ত্রকে পায়ের কাছে ফেলে দিতে বলেন এবং **ডান হাত আর বাঁ হাত** দিয়ে গান ফিরিয়ে আনতে বলেন। এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই কবির দ্বিধা মোচন করে এবং তাঁকে আত্মিক শক্তি জোগায়।

## ❓ সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) – দৃশ্যমান বিভাগ

“`html


৭. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন ১. ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতাটির মূল প্রতিবাদ কী?

উত্তর: কবিতাটির মূল প্রতিবাদ হলো **যুদ্ধ ও ধ্বংসের বিরুদ্ধে অহিংস প্রতিবাদ** এবং মানবিক সংহতি ও সৃষ্টিশীলতার জয়গান।

প্রশ্ন ২. কবি গানকে কেন ‘বর্ম’ বলেছেন?

উত্তর: গান হলো **আত্মিক সুরক্ষার প্রতীক**, যা ধ্বংসের আঘাত থেকে মানুষের মনকে রক্ষা করে এবং যার কোনোদিন ক্ষয় নেই।

প্রশ্ন ৩. অস্ত্রকে কোথায় লুকিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে?

উত্তর: অস্ত্রকে **গানের দুটি পায়ে** লুকিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অর্থাৎ ভালোবাসার শক্তি দিয়ে অস্ত্রকে নিষ্ক্রিয় করতে বলা হয়েছে।

প্রশ্ন ৪. কবি ডান হাত আর বাঁ হাত দিয়ে কী ফিরিয়ে আনতে চেয়েছেন?

উত্তর: কবি **গানকে** ফিরিয়ে আনতে চেয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি মানুষের মধ্যে লুপ্ত মানবিকতাকে পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছেন।


JSON-LD স্কিমা (সার্চ ইঞ্জিনের জন্য)

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার