দশম শ্রেণী বাংলা: হারিয়ে যাওয়া কালি কলম – শ্রীপান্থ

📘 পরবর্তী অধ্যায়: ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ (শ্রীপান্থ)


📖 শিক্ষকের বিশ্লেষণ ও ভূমিকা

‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধটি শ্রীপান্থ ছদ্মনামে লেখা **নিখিল সরকারের** এক স্মৃতিচারণামূলক রচনা। এই প্রবন্ধে লেখক আধুনিক যন্ত্রসভ্যতা ও টাইপরাইটারের আগমনের ফলে ঐতিহ্যবাহী **কালি ও কলমের বিলুপ্তির বেদনা** প্রকাশ করেছেন। এখানে কলমের ইতিহাস, কালি তৈরির পদ্ধতি, বিভিন্ন বিখ্যাত লেখকের কলমপ্রীতি এবং বর্তমান সময়ে এই উপকরণগুলির গুরুত্ব কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। প্রবন্ধটির মূল সুর হলো নস্টালজিয়া বা অতীতচারিতা।


🎯 ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধ থেকে সম্ভাব্য নম্বর বিভাজন (লিখিত)

এই প্রবন্ধ থেকে মূলত কালি-কলমের ইতিহাস, বিখ্যাত ব্যক্তিদের নাম এবং যন্ত্রসভ্যতা কীভাবে এই উপকরণগুলিকে ধ্বংস করেছে—এই বিষয়গুলি নিয়ে প্রশ্ন আসে।

প্রশ্নের ধরন মোট নম্বর অনুমানিক সংখ্যা
MCQ (বহু বিকল্পভিত্তিক) ১-২টি
SAQ (অতি-সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর) ১-২টি
SAQ (সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাভিত্তিক) ১টি
LAQ (রচনাধর্মী) ১টি (বিকল্পসহ)

১. বহু বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ): ২০টি প্রশ্ন (৪টি অপশন সহ)

নির্দেশিকা: সঠিক বিকল্পটি বেছে নাও। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১।

১. ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধটির লেখক কে?

  • ক) নিখিল সরকার
  • খ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  • গ) শ্রীপান্থ
  • ঘ) সত্যজিৎ রায়

✅ উত্তর: গ

২. শ্রীপান্থের আসল নাম কী?

  • ক) নিখিল সরকার
  • খ) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  • গ) সমরেশ বসু
  • ঘ) বিমল কর

✅ উত্তর: ক

৩. লেখক কলমকে কিসের সঙ্গে তুলনা করেছেন?

  • ক) তলোয়ার
  • খ) লাঠি
  • গ) বন্দুক
  • ঘ) তীর

✅ উত্তর: খ

৪. প্রাচীনকালে কিসের পালক দিয়ে কলম তৈরি হতো?

  • ক) ময়ূরের
  • খ) কোকিলের
  • গ) রাজহাঁসের
  • ঘ) চিলের

✅ উত্তর: গ

৫. কালি তৈরি করার জন্য কী ব্যবহার করা হতো?

  • ক) গোদুগ্ধ
  • খ) তিল তেল
  • গ) সর্ষের তেল
  • ঘ) নারকেল তেল

✅ উত্তর: খ

৬. লেখক ছেলেবেলায় কিসের দোয়াতে কালি রাখতেন?

  • ক) মাটির
  • খ) কাঁচের
  • গ) পাথরের
  • ঘ) টিনের

✅ উত্তর: ক

৭. ফাউন্টেন পেন কত সালে আবিষ্কার হয়?

  • ক) ঊনবিংশ শতকে
  • খ) অষ্টাদশ শতকে
  • গ) সপ্তদশ শতকে
  • ঘ) বিংশ শতকে

✅ উত্তর: খ

৮. লেখক কিসে লেখার জন্য টাইপরাইটারের প্রয়োজন নেই বলেছেন?

  • ক) উপন্যাস
  • খ) কবিতা
  • গ) নাটক
  • ঘ) চিঠি

✅ উত্তর: ঘ

৯. ‘কানে কলম গুঁজে’ থাকা কাদের অভ্যাস ছিল?

  • ক) লেখকদের
  • খ) সাধারণ মানুষের
  • গ) কেরানিদের
  • ঘ) ছাত্রদের

✅ উত্তর: গ

১০. রবীন্দ্রনাথের শেষ জীবনে লেখা কার হস্তাক্ষরে ছিল?

  • ক) পুত্র রথীন্দ্রনাথের
  • খ) পুত্রবধূ প্রতিমা দেবীর
  • গ) কন্যা মীরা দেবীর
  • ঘ) ভৃত্য মহাদেবের

✅ উত্তর: খ

১১. লেখক তাঁর প্রথম ফাউন্টেন পেন কার কাছ থেকে পেয়েছিলেন?

  • ক) বাবার
  • খ) মেজদার
  • গ) কাকার
  • ঘ) দিদির

✅ উত্তর: খ

১২. ‘দোয়াত-কলম’ কিসের প্রতীক?

  • ক) জ্ঞানের
  • খ) লেখকদের
  • গ) কেরানিদের
  • ঘ) ছাত্রদের

✅ উত্তর: খ

১৩. কিসের বদলে কম্পিউটার এসেছে?

  • ক) কালি
  • খ) ফাউন্টেন পেন
  • গ) দোয়াত
  • ঘ) বলপেন

✅ উত্তর: খ

১৪. ‘তিল তেল’ দিয়ে কালি তৈরি করার সময় কী মেশানো হতো?

  • ক) ভুষো কালি
  • খ) বালি
  • গ) গুঁড়ো পাথর
  • ঘ) লবণ

✅ উত্তর: ক

১৫. লেখক কিসের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন?

  • ক) কলমের
  • খ) কালির
  • গ) যন্ত্রের
  • ঘ) কাগজের

✅ উত্তর: গ

১৬. প্রাচীনকালে লিখবার উপকরণকে কী বলা হতো?

  • ক) কলম
  • খ) কড়ির লেখনি
  • গ) দোয়াত
  • ঘ) তুলি

✅ উত্তর: খ

১৭. ‘লেখার আমার নেই অবসর’—কার নেই অবসর?

  • ক) কবির
  • খ) লেখকের
  • গ) ছাত্রের
  • ঘ) শিক্ষকের

✅ উত্তর: খ

১৮. কালিকে কিসের সাথে তুলনা করা হয়েছে?

  • ক) ধোঁয়ার সাথে
  • খ) তেলের সাথে
  • গ) জলের সাথে
  • ঘ) চায়ের সাথে

✅ উত্তর: খ

১৯. ‘আমরাও তবে কি তাই?’—এখানে ‘তাই’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

  • ক) দাসত্ব
  • খ) কবি
  • গ) কেরানি
  • ঘ) কলম

✅ উত্তর: ক

২০. ‘কালি কলম মন, লেখে তিনজন’—এখানে তৃতীয় জন কে?

  • ক) লেখক
  • খ) কবি
  • গ) মন
  • ঘ) পাঠক

✅ উত্তর: গ


২, ৩ ও ৪. অতি-সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (VSAQ): ৪০টির বেশি প্রশ্ন

ক) শূন্যস্থান পূরণ করো (১৫টি)

নির্দেশিকা: উপযুক্ত শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থানগুলি পূরণ করো।

  • ১. ফাউন্টেন পেন বাংলায় বলা হয় ঝরনা কলম।
  • ২. লেখক ছেলেবেলায় যার দোয়াতে কালি রাখতেন, তা ছিল মাটির
  • ৩. কলমকে বলা হয় তলোয়ারের চেয়েও শক্তিধর।
  • ৪. কলম তৈরি হতো প্রধানত রাজহাঁসের পালক দিয়ে।
  • ৫. ফাউন্টেন পেনের আবিষ্কারক হলেন ওয়াটারম্যান
  • ৬. কালি কলম মন, লেখে তিনজন
  • ৭. লেখক তাঁর প্রথম ফাউন্টেন পেন পেয়েছিলেন মেজদার কাছ থেকে।
  • ৮. একসময় সরকারি কর্মচারীরা কানে কলম গুঁজে রাখতেন।
  • ৯. সব কিছুই আজ টাইপ বা কম্পোজ করা হয়।
  • ১০. ক্যালিগ্রাফিস্টরা হলেন লিপিকুশলী
  • ১১. কলম হলো লাঠি, লাঠি।
  • ১২. অনেক ধোঁয়া আর অনেক কালি খরচ হয়েছে।
  • ১৩. ফাউন্টেন পেনের নিব তৈরি হতো সোনার
  • ১৪. আগেকার দিনে লেখার কাজে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহৃত হতো।
  • ১৫. লুইস এডসন ওয়াটারম্যান ফাউন্টেন পেন তৈরি করেন।

খ) সত্য-মিথ্যা নির্ণয় করো (১০টি)

নির্দেশিকা: বাক্যটি সত্য হলে (স) এবং মিথ্যা হলে (মি) লেখো।

  • ১. ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ হলো একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা। (মি) [সঠিক: স্মৃতিচারণামূলক প্রবন্ধ]
  • ২. কলমকে লাঠির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। (স)
  • ৩. লেখক শৈশবে তিল তেল দিয়ে কালি তৈরি করতেন। (স)
  • ৪. রবীন্দ্রনাথের শেষ জীবনে লেখা তাঁর নিজের হাতের লেখা ছিল। (মি) [সঠিক: পুত্রবধূ প্রতিমা দেবীর]
  • ৫. রাজহাঁসের পালক কেটে কলম তৈরি করা হতো। (স)
  • ৬. কম্পিউটার আসার ফলে টাইপরাইটারের প্রয়োজন বেড়েছে। (মি) [সঠিক: কমেছে]
  • ৭. ফাউন্টেন পেনের নিব সাধারণত রূপার তৈরি হতো। (মি) [সঠিক: সোনার]
  • ৮. ‘কড়ির লেখনি’ হলো প্রাচীনকালে লিখবার উপকরণ। (স)
  • ৯. কালিকে কবিরা ভালোবাসা দিয়ে জয় করতে চেয়েছেন। (মি) [সঠিক: ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতার বিষয়]
  • ১০. লুইস এডসন ওয়াটারম্যান ছিলেন একজন সেলসম্যান। (স)

গ) এক বাক্যে উত্তর দাও (১৫টি)

নির্দেশিকা: একটি সম্পূর্ণ বাক্যে নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও।

১. লেখকের লেখা একটি উপন্যাসের নাম লেখো।

✅ উত্তর: লেখকের লেখা একটি উপন্যাসের নাম হলো—’যখন থামবে কোলাহল’।

২. লেখক কাদের কাছে পরাজয় স্বীকার করেছেন?

✅ উত্তর: লেখক টাইপরাইটার ও কম্পিউটারের মতো যন্ত্রের কাছে পরাজয় স্বীকার করেছেন।

৩. ফাউন্টেন পেনের বাংলা নাম কী?

✅ উত্তর: ফাউন্টেন পেনের বাংলা নাম হলো ঝরনা কলম।

৪. লেখক ছেলেবেলায় কালি তৈরি করতে কী মেশাতেন?

✅ উত্তর: লেখক ছেলেবেলায় তিল তেল ও ভুষো কালি মিশিয়ে কালি তৈরি করতেন।

৫. লুইস এডসন ওয়াটারম্যান কী আবিষ্কার করেন?

✅ উত্তর: লুইস এডসন ওয়াটারম্যান ফাউন্টেন পেন বা ঝরনা কলম আবিষ্কার করেন।

৬. ‘কানে কলম গুঁজে’ থাকা কাদের অভ্যাস ছিল?

✅ উত্তর: ‘কানে কলম গুঁজে’ থাকা সরকারি কর্মচারীদের অভ্যাস ছিল।

৭. লেখক তাঁর প্রথম ফাউন্টেন পেন কী কারণে হারিয়েছিলেন?

✅ উত্তর: লেখক তাঁর প্রথম ফাউন্টেন পেন অসাবধানতাবশত পকেটে ফুটো হয়ে যাওয়ায় হারিয়েছিলেন।

৮. দোয়াত-কলম কীভাবে বাঙালি লেখকদের প্রতীক হয়ে উঠেছিল?

✅ উত্তর: দোয়াত-কলম একসময় বাঙালি লেখকদের লেখার প্রধান উপকরণ হওয়ায় তা তাঁদের প্রতীক হয়ে উঠেছিল।

৯. ‘লেখার আমার নেই অবসর’—কার নেই অবসর?

✅ উত্তর: এই উক্তিটি স্বয়ং লেখকের, যিনি এখন আর হাতে লেখেন না।

১০. রাজশেখর বসুর নিব সংগ্রহের কারণ কী ছিল?

✅ উত্তর: রাজশেখর বসুর নিব সংগ্রহের কারণ ছিল, তিনি প্রায়শই লেখার সময় নিব চেঞ্জ করতেন।

১১. ‘কড়ির লেখনি’ কী?

✅ উত্তর: ‘কড়ির লেখনি’ হলো প্রাচীনকালে লিখবার উপকরণ, যা কড়ি দিয়ে তৈরি হতো।

১২. লেখক কলমকে তলোয়ারের চেয়ে শক্তিধর বলার কারণ কী?

✅ উত্তর: কলমের লেখা বা আদর্শ তলোয়ারের আঘাতের চেয়েও বেশি স্থায়ী ও শক্তিশালী বলে এই উক্তি।

১৩. শেষ পর্যন্ত ফাউন্টেন পেনের কীসের দরকার হলো?

✅ উত্তর: শেষ পর্যন্ত ফাউন্টেন পেনের বলপেন বা রোটারি পেনের দরকার হলো।

১৪. কালি কলমকে বিদায় জানিয়ে কবি কী নিয়ে মেতে আছেন?

✅ উত্তর: কালি কলমকে বিদায় জানিয়ে লেখক এখন কম্পিউটার ও টাইপরাইটার নিয়ে মেতে আছেন।

১৫. রবীন্দ্রনাথের কোন লেখা তাঁর পুত্রবধূ লিখেছিলেন?

✅ উত্তর: রবীন্দ্রনাথের শেষ জীবনের লেখাগুলো তাঁর পুত্রবধূ প্রতিমা দেবীর হস্তাক্ষরে লেখা হয়েছিল।


৫. সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান: ৩): ১৬টি প্রশ্ন

প্রশ্ন ১. “আমরা কালিও তৈরি করতাম নিজেরাই।”—লেখকের কালি তৈরির পদ্ধতিটি সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

উত্তর: লেখক শ্রীপান্থ তাঁর ছেলেবেলায় নিম্নলিখিত উপায়ে কালি তৈরি করতেন:

  • উপকরণ: প্রথমে কাঠ কয়লা, তিল তেল ও ভুষো কালি জোগাড় করা হতো।
  • প্রক্রিয়া: এই ভুষো কালি তিল তেল দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নেওয়া হতো।
  • মাটির দোয়াত: এই কালি মাটির দোয়াত বা ছোটো পাত্রে রাখা হতো। এই কালি তৈরি করতে অনেক পরিশ্রম এবং সতর্কতা প্রয়োজন ছিল।

প্রশ্ন ২. ফাউন্টেন পেনের আবিষ্কারক কে? ফাউন্টেন পেন কী কারণে অপরিহার্য ছিল?

উত্তর:

  • আবিষ্কারক: ফাউন্টেন পেনের (ঝরনা কলম) আবিষ্কারক হলেন মার্কিন শিল্পী **লুইস এডসন ওয়াটারম্যান** (L.E. Waterman), যিনি ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দে এটি আবিষ্কার করেন।
  • অপরিহার্যতার কারণ: আগেকার দিনে বাঁশের কঞ্চি বা খাগের কলমে বারবার কালির প্রয়োজন হতো। কিন্তু ফাউন্টেন পেন একবারে অনেকটা কালি ধরে রাখতে পারত। এর ফলে লেখকেরা একটানা দীর্ঘসময় ধরে লিখতে পারতেন। তাই ফাউন্টেন পেন দ্রুত জনপ্রিয় ও অপরিহার্য হয়ে উঠেছিল।

প্রশ্ন ৩. “সব জিনিসই টাইপ বা কম্পোজ করা হয়।”—বক্তব্যটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

উত্তর: এই উক্তিটির মধ্য দিয়ে লেখক আধুনিক যন্ত্রসভ্যতার কাছে মানুষের হাতের লেখার পরাজয়কে নির্দেশ করেছেন।

  • যান্ত্রিক নির্ভরতা: এখন প্রায় সব লেখালেখির কাজ (চিঠি, গল্প, উপন্যাস, দলিল) কম্পিউটার, টাইপরাইটার বা মোবাইলের মাধ্যমে করা হয়।
  • বিলুপ্তি: এর ফলে ঐতিহ্যবাহী কালি-কলম ও মানুষের হাতের লেখার সৌন্দর্য বিলুপ্ত হচ্ছে।
  • অতীতচারিতা: লেখক এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে তাঁর পুরোনো দিনের লেখার অভ্যাসের প্রতি এক গভীর নস্টালজিয়া বা অতীতচারিতা প্রকাশ করেছেন।

প্রশ্ন ৪. ‘দোয়াত-কলম’ কিসের প্রতীক এবং কেন?

উত্তর: ‘দোয়াত-কলম’ একসময়ের সাহিত্যিকদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল।

  • লেখকের প্রতীক: দোয়াত-কলম হলো প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী লেখকদের প্রতীক। একসময় লেখকের পেশাগত পরিচয় এই দুটি জিনিসের মাধ্যমেই ফুটে উঠত।
  • ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি: এই দুটি জিনিস কেবল লেখার উপকরণ ছিল না, বরং তা ছিল বাঙালি সংস্কৃতি ও সাহিত্যচর্চার প্রতীক।
  • নস্টালজিয়া: বর্তমানে এই উপকরণগুলি হারিয়ে যাওয়ায় লেখক অতীত সংস্কৃতির প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা ও নস্টালজিয়া প্রকাশ করেছেন।

প্রশ্ন ৫. “আমরা কালিও তৈরি করতাম নিজেরাই।”—এই অংশে প্রকাশিত ছাত্রদের মানসিকতা কেমন ছিল?

উত্তর: এই অংশে প্রকাশিত ছাত্রদের মানসিকতা ছিল সৃজনশীল, আত্মনির্ভরশীল এবং অধ্যবসায়ী।

  • সৃজনশীলতা: বাজারে তৈরি কালি না কিনে তারা নিজেরাই বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহার করে কালি তৈরি করত, যা তাদের সৃজনশীলতার পরিচয় দেয়।
  • সংগ্রামশীলতা: কালি তৈরি করা ছিল একটি কষ্টসাধ্য প্রক্রিয়া। এই কাজ থেকে বোঝা যায়, লেখাপড়ার প্রতি তাদের গভীর অনুরাগ ও শ্রম দেওয়ার মানসিকতা ছিল।
  • আনন্দ: নিজের হাতে তৈরি কালি দিয়ে লেখার মধ্যে তারা এক প্রকার আনন্দ ও তৃপ্তি পেত, যা বর্তমানের ফাউন্টেন বা বলপেনের যুগে অনুপস্থিত।

প্রশ্ন ৬. কলমকে কেন ‘লাঠি’ বা ‘তলোয়ারের চেয়েও শক্তিধর’ বলা হয়েছে?

উত্তর: কলমের শক্তি লাঠি বা তলোয়ারের শারীরিক শক্তি থেকে অনেক বেশি।

  • আদর্শের শক্তি: লাঠি বা তলোয়ার মুহূর্তের জন্য আঘাত হানে। কিন্তু কলমের লেখা (সাহিত্য, দর্শন, রাজনৈতিক আদর্শ) প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে এবং সমাজের মন ও চিন্তাকে বদলে দিতে পারে।
  • স্থায়ী প্রভাব: একটি তলোয়ারের আঘাত সাময়িক, কিন্তু কলমের দ্বারা লেখা একটি আদর্শের বাণী যুগ যুগ ধরে মানুষকে প্রভাবিত করে।
  • প্রবাদ: এই কারণেই বলা হয়, “পেন ইজ মাইটিয়ার দ্যান দ্য সোর্ড” (The pen is mightier than the sword)। লেখক এই প্রবাদের সূত্র ধরেই কলমকে লাঠি বা তলোয়ারের চেয়ে বেশি শক্তিশালী বলেছেন।

প্রশ্ন ৭. লেখক কেন কম্পিউটারকে কলমের চেয়ে দ্রুতগামী বলেছেন?

উত্তর:

  • যান্ত্রিক গতি: কম্পিউটারে কি-বোর্ডের মাধ্যমে টাইপ করা হয়। এই টাইপিং স্পিড এবং স্বয়ংক্রিয় শব্দ সংশোধনীর ফলে অল্প সময়ে অনেক বেশি লেখা তৈরি করা যায়।
  • অন্যান্য কাজ: কম্পিউটার দিয়ে শুধু টাইপ নয়, সম্পাদনা, ফরম্যাটিং, প্রিন্ট আউট এবং পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে সেই লেখা মুহূর্তের মধ্যে পাঠিয়ে দেওয়া যায়।
  • লেখককের আত্মসমর্পন: লেখক স্বয়ং স্বীকার করেছেন যে, তিনি যন্ত্রের কাছে হার মেনেছেন এবং এখন তিনিও লেখার জন্য কম্পিউটারের ওপর নির্ভরশীল।

প্রশ্ন ৮. ফাউন্টেন পেন কী কারণে বলপেনের কাছে হার মানলো?

উত্তর: ফাউন্টেন পেন বলপেনের কাছে হার মানার প্রধান কারণগুলি ছিল কার্যকারিতা ও ব্যবহারিক সুবিধা।

  • ১. কালির অসঙ্গতি: ফাউন্টেন পেন দিয়ে লিখতে গেলে কালি মাঝে মাঝে ঝরে পড়ত বা পকেটে ফুটো হয়ে যেত। বলপেনে এই সমস্যা ছিল না।
  • ২. রক্ষণাবেক্ষণ: ফাউন্টেন পেনের নিব খুব যত্ন করে রাখতে হতো এবং কালি ভরার প্রক্রিয়া ছিল জটিল। বলপেন রক্ষণাবেক্ষণহীনভাবে ব্যবহার করা যেত।
  • ৩. সুবিধাজনক ব্যবহার: বলপেন যেকোনো কাগজে এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে সহজে ব্যবহার করা যায়। অন্যদিকে, ফাউন্টেন পেন ব্যবহারের জন্য বেশ কিছু সতর্কতা প্রয়োজন ছিল।

প্রশ্ন ৯. “আশ্চর্য, সবই আজ হচ্ছে, কিন্তু সেই দোয়াত-কলম আর নেই।”—এই আক্ষেপের কারণ কী?

উত্তর:

  • নস্টালজিয়া: লেখকের কাছে দোয়াত-কলম কেবল লেখার উপকরণ ছিল না, বরং ছিল শৈশব ও প্রাচীন সংস্কৃতির প্রতীক।
  • হারিয়ে যাওয়া আনন্দ: নিজের হাতে কালি তৈরি করে বা কলম কেটে লেখার মধ্যে যে এক ধরনের আনন্দ ছিল, আধুনিক যন্ত্রসভ্যতায় তা অনুপস্থিত।
  • স্মৃতিচারণা: এই আক্ষেপের মধ্য দিয়ে লেখক বোঝাচ্ছেন, যন্ত্র অনেক সুবিধা দিলেও অতীতের সেই ঐতিহ্য ও মানসিক শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারেনি।

প্রশ্ন ১০. ক্যালিগ্রাফিস্ট বা লিপিকুশলী বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?

উত্তর:

  • সংজ্ঞা: ক্যালিগ্রাফিস্ট বা লিপিকুশলী হলেন সেই শিল্পী, যারা খুব সুন্দর এবং নিখুঁত হাতের লেখায় পারদর্শী। তাদের হাতে সাধারণ কলমের লেখা শিল্পের রূপ নিত।
  • প্রবন্ধে গুরুত্ব: একসময় কেরানি থেকে শুরু করে অনেক লেখকের হাতেই কলমের মাধ্যমে এই লিপিকুশলতার পরিচয় পাওয়া যেত। লেখক এই প্রবন্ধের মাধ্যমে সেই সব ক্যালিগ্রাফিস্টদের হারিয়ে যাওয়া শিল্পকে স্মরণ করেছেন।

প্রশ্ন ১১. রবীন্দ্রনাথের শেষ জীবনে লেখা কার হস্তাক্ষরে ছিল এবং কেন?

উত্তর:

  • হস্তাক্ষর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ জীবনে লেখা অনেক রচনা তাঁর পুত্রবধূ **প্রতিমা দেবীর** হস্তাক্ষরে লেখা হয়েছিল।
  • কারণ: বার্ধক্যজনিত কারণে এবং অসুস্থতার জন্য রবীন্দ্রনাথের পক্ষে নিজে লেখা সম্ভব হতো না। তাই তিনি মুখে মুখে বলে যেতেন এবং প্রতিমা দেবী সেইগুলি লিখে রাখতেন। এটি তাঁর লেখার প্রতি অনুরাগ এবং কলম-নির্ভর জীবনের এক করুণ প্রতিচ্ছবি।

প্রশ্ন ১২. “আমরাও তো প্রথম দিকে নিব-কলম ব্যবহার করেছি।”—লেখক কোন ধরনের কলমের কথা বলেছেন এবং তা কেমন ছিল?

উত্তর:

  • কলম: লেখক মূলত **ডুব-কলম (Dip Pen)** বা সাধারণ নিব কলমের কথা বলেছেন।
  • বৈশিষ্ট্য: এই কলমে কালি ভরে রাখার ব্যবস্থা ছিল না। লেখার সময় বারবার এটিকে দোয়াতের কালিতে ডুবিয়ে নিতে হতো। এই কলমের ডগায় বিভিন্ন আকারের ধাতু নির্মিত নিব বসানো হতো।
  • ব্যবহার: এটি ছিল ফাউন্টেন পেন আবিষ্কারের আগে পর্যন্ত সবচেয়ে প্রচলিত লেখার উপকরণ।

প্রশ্ন ১৩. একসময় সরকারি কর্মচারীদের ‘কানে কলম গুঁজে’ রাখার অভ্যাসের তাৎপর্য কী ছিল?

উত্তর:

  • কাজের চাপ: এর দ্বারা বোঝানো হতো যে কর্মচারীরা এতই ব্যস্ত এবং কাজের চাপে থাকেন যে তাঁদের হাতের কলমটি রাখারও সময় নেই।
  • পেশার প্রতীক: কলম ছিল কেরানিদের কাজের প্রধান উপকরণ। কানে কলম গুঁজে রাখা তাঁদের পেশাগত পরিচয় ও কাজের প্রতি নিষ্ঠা ফুটিয়ে তুলত।
  • নস্টালজিয়া: আধুনিক যন্ত্রের যুগে সেই দৃশ্য হারিয়ে যাওয়ায় লেখক অতীতকালের সেই কর্মব্যস্ততা ও কলম-প্রীতির প্রতি এক গভীর নস্টালজিয়া প্রকাশ করেছেন।

প্রশ্ন ১৪. ফাউন্টেন পেনের নিব সম্পর্কে লেখক কী তথ্য দিয়েছেন?

উত্তর: ফাউন্টেন পেনের নিব তৈরির প্রসঙ্গে লেখক দুটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন:

  • সোনার নিব: প্রথমদিকের অনেক মূল্যবান ফাউন্টেন পেনের নিব তৈরি হতো সোনার।
  • বিশেষ উপাদান: নিবগুলি মজবুত করার জন্য তার ডগায় একটি বিশেষ উপাদান লাগানো হতো, যাকে বলা হয় **’ইরিডিয়াম’**। এই উপাদানটি নিবকে ক্ষয় থেকে রক্ষা করত।

প্রশ্ন ১৫. “কালি কলম মন, লেখে তিনজন।”—এই প্রবাদটির তাৎপর্য আলোচনা করো।

উত্তর: এই প্রবাদটি সার্থক ও সৃজনশীল লেখার জন্য তিনটি অপরিহার্য উপাদানের গুরুত্ব বোঝায়।

  • **কালি ও কলম:** এগুলি লেখার বাহ্যিক উপকরণ, যার সাহায্যে চিন্তা কাগজের উপর রূপ নেয়।
  • **মন:** মন হলো আসল সৃজনশীল শক্তি। মন না থাকলে কেবল কালি-কলম দিয়ে মূল্যবান লেখা সম্ভব নয়। মন হলো লেখকের চিন্তাশক্তি, ভাবনা ও অনুভূতি।
  • তাৎপর্য: এই প্রবাদটির মধ্য দিয়ে প্রাচীন লেখকেরা বোঝাতে চেয়েছিলেন, মন হলো প্রধান চালিকা শক্তি, আর কালি-কলম হলো সেই চিন্তাকে মূর্ত করার বাহন।

প্রশ্ন ১৬. লেখক কীভাবে তাঁর প্রথম ফাউন্টেন পেনটি পেয়েছিলেন? সেই অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

উত্তর:

  • প্রাপ্তি: লেখক তাঁর প্রথম ফাউন্টেন পেনটি পেয়েছিলেন তাঁর **মেজদার** কাছ থেকে। মেজদা হয়তো উপহার হিসেবে বা তাঁর নিজের ব্যবহার না হওয়ায় লেখককে পেনটি দিয়েছিলেন।
  • অভিজ্ঞতা: ফাউন্টেন পেন পাওয়া লেখকের কাছে এক বিরাট আনন্দ ও গর্বের বিষয় ছিল। কিন্তু তার সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। অসাবধানতাবশত কলমটি পকেটে ফুটো হয়ে যায় এবং কালি লেগে তাঁর জামা নষ্ট হয়। এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তিনি ফাউন্টেন পেনের অসঙ্গতি উপলব্ধি করেন।

৬. রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান: ৫): ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

প্রশ্ন ১. “কালি কলম মন, লেখে তিনজন।”—প্রবাদটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। এই প্রসঙ্গে প্রাবন্ধিক আর কোন্ কোন্ প্রবাদ ব্যবহার করেছেন? (অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ)

উত্তর:

  • ১. তাৎপর্য: প্রবাদটির মধ্য দিয়ে লেখক বোঝাতে চেয়েছেন, সার্থক লেখা বা সৃষ্টি কেবল উপকরণ (কালি ও কলম) নির্ভর নয়, বরং লেখকের **মনই** হলো প্রধান চালিকা শক্তি। মন এখানে চিন্তাশক্তি, ভাবনা, অনুভূতি এবং সৃজনশীলতার প্রতীক।
  • ২. গুরুত্ব: এই তিনটি উপাদান একত্রে কাজ করলেই কেবল মূল্যবান সৃষ্টি সম্ভব। কলম ও কালি হলো সেই চিন্তাকে মূর্ত করার বাহন।
  • ৩. অন্যান্য প্রবাদ: এই প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থ আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবাদ ব্যবহার করেছেন:
    • **”তলোয়ারের চেয়েও শক্তিধর কলম”** (The pen is mightier than the sword)।
    • **”সব জিনিসেরই একটা শেষ আছে”**—এই প্রবাদটি তিনি ফাউন্টেন পেনের বিলুপ্তির প্রসঙ্গে ব্যবহার করেছেন।

প্রশ্ন ২. “কলমকে বলা হয় তলোয়ারের চেয়েও শক্তিধর।”—উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করে কলমকে ‘লাঠি’ বলার কারণ কী? (মাধ্যমিক ২০১৮)

উত্তর:

  • তলোয়ারের চেয়ে শক্তিধর: তলোয়ারের আঘাত শারীরিক, ক্ষণস্থায়ী এবং ধ্বংসাত্মক। অন্যদিকে, কলমের লেখা (জ্ঞান, আদর্শ, সাহিত্য, দর্শন) যুগ যুগ ধরে মানুষের মনকে প্রভাবিত করে এবং সমাজকে পরিবর্তিত করার ক্ষমতা রাখে। তাই কলমকে তলোয়ারের চেয়ে বেশি শক্তিশালী বলা হয়েছে।
  • কলমকে লাঠি বলার কারণ:
    • **প্রথম কারণ:** লেখক এই উপমাটি হয়তো স্রেফ একটি হালকা রসিকতার ছলে ব্যবহার করেছেন।
    • **দ্বিতীয় কারণ:** প্রাচীনকালে বাঁশের কঞ্চি বা খাগ দিয়ে কলম তৈরি হতো, যা দেখতে অনেকটা লাঠির মতো। তাই এটি প্রাবন্ধিকের শৈশবের স্মৃতি জাগিয়ে তোলে।

প্রশ্ন ৩. “ফাউন্টেন পেন শেষ পর্যন্ত বাজারে চলল না।”—ফাউন্টেন পেনের এই পরিণতির কারণ কী? ফাউন্টেন পেনের বদলে কোন জিনিস এলো, এবং কেন?

উত্তর: ফাউন্টেন পেনকে প্রতিস্থাপন করে বলপেন (Ballpoint Pen) বাজারে আসে এবং তা তার ব্যবহারিক সুবিধার জন্য দ্রুত জনপ্রিয় হয়।

  • ফাউন্টেন পেনের পরিণতির কারণ:
    • কালির অসঙ্গতি: অসাবধানতাবশত কালি ঝরে যেত বা পকেট ফুটো করে জামা নষ্ট করত।
    • রক্ষণাবেক্ষণ: এটির নিবের অত্যন্ত যত্ন নিতে হতো এবং কালি ভরার প্রক্রিয়া ছিল জটিল।
    • ব্যবহারিক সমস্যা: ফাউন্টেন পেন সব ধরনের কাগজে সহজে ব্যবহার করা যেত না।
  • বলপেনের আগমন ও কারণ:
    • ফাউন্টেন পেনের ত্রুটিগুলি এড়ানোর জন্য তৈরি হয় বলপেন।
    • এটি কালি লিক করত না বা জামা নষ্ট করত না।
    • কালি ভরার ঝামেলা নেই এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে (যেমন মহাকাশে) লেখা যেত। তাই বলপেন ফাউন্টেন পেনের স্থান দখল করে নেয়।

প্রশ্ন ৪. লেখক তাঁর ছেলেবেলায় কালি তৈরি করার পদ্ধতিটি বর্ণনা করো। সেই সময়কার ছাত্রদের লেখার প্রতি মনোভাব কেমন ছিল?

উত্তর:

  • কালি তৈরির পদ্ধতি: লেখক তাঁর ছেলেবেলায় নিজেরাই কালি তৈরি করতেন।
    • উপকরণ: প্রথমে কাঠ কয়লা বা তিল তেল থেকে ভুষো কালি সংগ্রহ করা হতো।
    • মিশ্রণ: এই ভুষো কালি তিল তেল দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নেওয়া হতো।
    • দোয়াত: এই কালি মাটির ছোটো দোয়াত বা পাত্রে রাখা হতো।
  • ছাত্রদের মনোভাব:
    • অধ্যবসায়: কালি তৈরি করা ছিল একটি কষ্টসাধ্য প্রক্রিয়া। এই শ্রমসাধ্য কাজ থেকে বোঝা যায় লেখাপড়ার প্রতি তাদের গভীর অনুরাগ ও অধ্যবসায় ছিল।
    • আত্মনির্ভরশীলতা: তারা বাজারজাত দ্রব্যের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেরাই লেখার উপকরণ প্রস্তুত করত, যা তাদের আত্মনির্ভরশীল মানসিকতার পরিচয় দেয়।

প্রশ্ন ৫. “আমরাও তবে কি তাই?”—’তাই’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? এই প্রশ্নের মধ্য দিয়ে লেখকের কোন মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে?

উত্তর:

  • **’তাই’ বলতে যা বোঝানো হয়েছে:** লেখক এখানে দোয়াত-কলম ও অন্যান্য লেখার সামগ্রীর মতো আধুনিক যন্ত্রসভ্যতার কাছে মানুষের **দাসত্ব** বা **পরাধীনতা**কে নির্দেশ করেছেন।
  • **মনোভাব:**
    • যন্ত্রের কাছে পরাজয়: টাইপরাইটার ও কম্পিউটারের মতো যন্ত্রের কাছে কলম যেমন তার গুরুত্ব হারিয়েছে, লেখকও তেমনি হাতে লেখার অভ্যাস হারিয়ে যন্ত্রনির্ভর হয়ে পড়েছেন। এই পরাধীনতাই লেখকের আক্ষেপ।
    • নস্টালজিয়া: এই উক্তিটির মধ্য দিয়ে লেখক তাঁর শৈশবের স্মৃতি, কলম-প্রীতি ও সৃজনশীলতার দিনগুলির কথা স্মরণ করে আধুনিক যান্ত্রিক সভ্যতার প্রতি হতাশা প্রকাশ করেছেন।

প্রশ্ন ৬. প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থের স্মৃতিচারণায় কালি-কলমের ব্যবহার ও বিলুপ্তির ইতিহাস সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর:

  • ১. প্রাচীন যুগের কলম: প্রাচীনকালে বাঁশের কঞ্চি বা খাগের কলম এবং রাজহাঁসের পালক কেটে কলম তৈরি হতো। কালি তৈরি হতো বাড়িতেই—ভুষো কালি ও তিল তেল দিয়ে।
  • ২. ফাউন্টেন পেনের যুগ: ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দে লুইস এডসন ওয়াটারম্যান ফাউন্টেন পেন আবিষ্কার করেন। এটি বাঙালি সাহিত্যিকদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় হয়ে ওঠে।
  • ৩. বিলুপ্তি: ফাউন্টেন পেনের কালি লিক করার অসুবিধা এবং রক্ষণাবেক্ষণের ঝামেলার জন্য এর বিলুপ্তি শুরু হয়। বলপেন বাজারে আসতেই ফাউন্টেন পেন এবং কালি-দোয়াতের ঐতিহ্য লুপ্ত হতে থাকে।
  • ৪. যন্ত্রের আগমন: শেষে টাইপরাইটার এবং কম্পিউটার আসার ফলে হাতে লেখার প্রয়োজন প্রায় শেষ হয়ে যায় এবং ঐতিহ্যবাহী কালি-কলম পুরোপুরি ‘হারিয়ে যায়’।

প্রশ্ন ৭. ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধে লেখক আধুনিক যন্ত্রসভ্যতার কাছে কীভাবে আত্মসমর্পণ করেছেন, লেখো।

উত্তর:

  • ১. হাতে লেখা ত্যাগ: লেখক নিজে স্বীকার করেছেন, লেখার আমার নেই অবসর। তিনি হাতে লেখার অভ্যাস ত্যাগ করে দ্রুতগামী টাইপরাইটার এবং কম্পিউটারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।
  • ২. যুক্তি মেনে নেওয়া: তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন, এখনকার সময়ে ‘সব জিনিসই টাইপ বা কম্পোজ করা হয়’। অর্থাৎ, তিনি বাস্তবতার কাছে হার মেনেছেন এবং দ্রুততাকে মেনে নিয়েছেন।
  • ৩. নস্টালজিয়ার প্রকাশ: যদিও তিনি দোয়াত-কলমের স্মৃতিচারণ করেছেন, তবুও তিনি যন্ত্রের সুবিধাগুলিকে উপেক্ষা করতে পারেননি। এই নস্টালজিয়া সত্ত্বেও যন্ত্রের ব্যবহারই লেখকের আত্মসমর্পণের চূড়ান্ত প্রমাণ।

প্রশ্ন ৮. লেখক কেন ‘দোয়াত-কলম’ নিয়ে নস্টালজিক? “সবই আজ হচ্ছে, কিন্তু সেই দোয়াত-কলম আর নেই।”—বক্তব্যটির তাৎপর্য কী?

উত্তর:

  • নস্টালজিয়ার কারণ: দোয়াত-কলম কেবল লেখার উপকরণ ছিল না, বরং তা ছিল লেখকের শৈশবের আনন্দের স্মৃতি এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী প্রতীক।
  • তাৎপর্য:
    • ‘সবই আজ হচ্ছে’: আধুনিক যুগে লেখার সমস্ত কাজ—দ্রুত কম্পোজ করা, ছাপানো ইত্যাদি—খুব সহজেই হচ্ছে।
    • ‘দোয়াত-কলম আর নেই’: কিন্তু এত আধুনিকতার মাঝেও লেখকেরা তাদের প্রিয় দোয়াত-কলমকে আর দেখতে পাচ্ছেন না।
    • আক্ষেপ: এই আক্ষেপের মধ্য দিয়ে লেখক আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া পুরোনো ঐতিহ্য, পরিশ্রম এবং হাতে লেখার আত্মিক আনন্দকে স্মরণ করেছেন।

প্রশ্ন ৯. প্রবন্ধটিতে উল্লিখিত বিভিন্ন ধরনের কলম ও তাদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।

উত্তর: প্রবন্ধটিতে লেখক বিভিন্ন প্রকার কলমের উল্লেখ করেছেন, যা নিম্নে আলোচনা করা হলো:

  • **১. বাঁশের কঞ্চি বা খাগের কলম:** প্রাচীনকালে ব্যবহৃত কলম, যা কালি ধরে রাখতে পারত না এবং বারবার কালিতে ডুবিয়ে লিখতে হতো।
  • **২. পালকের কলম:** রাজহাঁসের মতো বড়ো পাখির পালক কেটে তৈরি করা হতো, যা বিদেশে বহুল প্রচলিত ছিল।
  • **৩. ডুব-কলম (নিব কলম):** ফাউন্টেন পেনের আগে প্রচলিত ছিল। এটিতে ধাতু নির্মিত নিব থাকত এবং লেখার সময় বারবার দোয়াতের কালিতে ডুবিয়ে নিতে হতো।
  • **৪. ফাউন্টেন পেন (ঝরনা কলম):** লুইস এডসন ওয়াটারম্যান আবিষ্কৃত কলম। এটিতে কালি সংরক্ষণ করা যেত এবং একটানা লেখা যেত। নিব সোনার হতো।
  • **৫. বলপেন বা রোটারি পেন:** আধুনিকতম কলম, যা ফাউন্টেন পেনের অসঙ্গতি দূর করে বাজার দখল করে নেয়। এটি সহজেই ব্যবহার করা যেত।

প্রশ্ন ১০. ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো। (মাধ্যমিক ২০১৭)

উত্তর: প্রবন্ধটির নামকরণ যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত এবং সার্থক হয়েছে।

  • ১. মূল বিষয়বস্তু: প্রবন্ধের কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তু হলো—টাইপরাইটার ও কম্পিউটারের প্রভাবে ঐতিহ্যবাহী লেখার সামগ্রী, অর্থাৎ কালি ও কলমের বিলুপ্তি এবং লেখকের স্মৃতিচারণা।
  • ২. নস্টালজিয়া: ‘হারিয়ে যাওয়া’ শব্দটি গভীর নস্টালজিয়া বা অতীতচারিতার জন্ম দেয়। লেখক কেবল বস্তুগত বিলুপ্তি দেখাননি, বরং এই উপকরণগুলির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা আবেগ, সংস্কৃতি এবং হাতের লেখার শৈল্পিক গুরুত্ব হারিয়ে যাওয়ার বেদনা প্রকাশ করেছেন।
  • ৩. প্রতীকী তাৎপর্য: কালি ও কলম এখানে একটি যুগের, একটি সংস্কৃতির এবং সৃষ্টিশীলতার প্রতীক। নামকরণের মাধ্যমে লেখক সেই হারানো যুগকেই তুলে ধরেছেন।
  • **সিদ্ধান্ত:** যেহেতু প্রবন্ধটির প্রতিটি অংশ কালি-কলমের ইতিহাস, ব্যবহার এবং তার অনিবার্য বিলুপ্তির দিকে ইঙ্গিত করেছে, তাই এই নামকরণ অত্যন্ত সার্থক ও যথাযথ।

৭. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন ১. ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধের লেখক কে?

উত্তর: প্রবন্ধের লেখক হলেন **শ্রীপান্থ** (আসল নাম **নিখিল সরকার**)।

প্রশ্ন ২. ফাউন্টেন পেনের আবিষ্কারক কে?

উত্তর: ফাউন্টেন পেনের আবিষ্কারক হলেন মার্কিন শিল্পী **লুইস এডসন ওয়াটারম্যান**।

প্রশ্ন ৩. ‘কালি কলম মন, লেখে তিনজন’—এখানে তৃতীয় জন কে?

উত্তর: এই প্রবাদটিতে তৃতীয় জন হলো **’মন’** বা লেখকের সৃজনশীল চিন্তাশক্তি।

প্রশ্ন ৪. কলমকে কেন ‘লাঠি’ বা ‘তলোয়ারের চেয়েও শক্তিধর’ বলা হয়েছে?

উত্তর: কলমের লেখা বা আদর্শ তলোয়ারের আঘাতের চেয়েও বেশি স্থায়ী ও শক্তিশালী বলে এই উক্তি।

প্রশ্ন ৫. রবীন্দ্রনাথের শেষ জীবনের লেখা কার হস্তাক্ষরে ছিল?

উত্তর: রবীন্দ্রনাথের শেষ জীবনের লেখা তাঁর **পুত্রবধূ প্রতিমা দেবীর** হস্তাক্ষরে লেখা হয়েছিল।


JSON-LD স্কিমা (সার্চ ইঞ্জিনের জন্য)

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার