নবম শ্রেণি জীবন বিজ্ঞান: জীবন ও তার বৈচিত্র্য’
📘 প্রথম অধ্যায়: জীবন ও তার বৈচিত্র্য (২ নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর)
📖 শিক্ষকের বিশ্লেষণ ও ভূমিকা
২ নম্বরের প্রশ্নের জন্য উত্তরগুলি সাধারণত দুটি বা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সাজানো উচিত। এই অধ্যায় থেকে **বৈশিষ্ট্য, পার্থক্য, সংজ্ঞা, গুরুত্ব, উদাহরণ** এবং **কারণ** ভিত্তিক প্রশ্নগুলি বেশি আসে। প্রশ্নের উত্তর লেখার সময় মূল বৈজ্ঞানিক শব্দগুলি ব্যবহার করা আবশ্যিক।
২. সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন: ৪৫টি প্রশ্ন (প্রতিটি প্রশ্নের মান ২)
নির্দেশিকা: প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দুই থেকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বাক্যে সম্পূর্ণ করো।
১. জীবনের দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **বিপাক:** জীবদেহে প্রতিনিয়ত উপচিতি (গঠনমূলক) ও অপচিতি (ভাঙ্গনমূলক) প্রক্রিয়াগুলি ঘটে, যা জীবের অন্যতম প্রধান ধর্ম।
খ) **উত্তেজিতা:** পরিবেশের কোনো উদ্দীপকে সাড়া দেওয়ার ক্ষমতাই হল উত্তেজিতা, যা জীবের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য।
২. বিপাক কাকে বলে? উপচিতি ও অপচিতি বিপাকের একটি করে উদাহরণ দাও।
✅ উত্তর: জীবদেহের অভ্যন্তরে সজীব কোশে যে গঠনমূলক (উপচিতি) ও ভাঙ্গনমূলক (অপচিতি) রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলি ঘটে, তাদের সম্মিলিত ফলকে বিপাক বলে।
→ উপচিতি বিপাকের উদাহরণ: **সালোকসংশ্লেষ**।
→ অপচিতি বিপাকের উদাহরণ: **শ্বসন**।
৩. উত্তেজিতা বা সংবেদনশীলতা বলতে কী বোঝো?
✅ উত্তর: জীবের যে বিশেষ ক্ষমতার জন্য পরিবেশের বিভিন্ন পরিবর্তন বা উদ্দীপকে (যেমন—আলো, উষ্ণতা, স্পর্শ) সাড়া দেয় এবং তার ফলে অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন ঘটায়, তাকে উত্তেজিতা বলে। যেমন— লজ্জাবতী লতাকে স্পর্শ করলে পাতাগুলি মুদে যায়।
৪. সজীব ও জড় বস্তুর মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **বিপাক:** সজীব বস্তুর দেহে বিপাক (উপচিতি ও অপচিতি) ঘটে, কিন্তু জড় বস্তুর দেহে বিপাক হয় না।
খ) **জনন:** সজীব বস্তু জনন প্রক্রিয়ায় বংশবৃদ্ধি করে, কিন্তু জড় বস্তুর বংশবৃদ্ধির ক্ষমতা নেই।
৫. জীববৈচিত্র্য কী? এর গুরুত্ব লেখো।
✅ উত্তর: জীবজগতে উপস্থিত প্রতিটি উদ্ভিদ, প্রাণী এবং অণুজীবের মধ্যে যে বৈচিত্র্য দেখা যায়, তাকেই জীববৈচিত্র্য বলে।
→ গুরুত্ব: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের উৎস হিসেবে জীববৈচিত্র্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৬. শ্রেণিবিন্যাস কাকে বলে? দুটি উদ্দেশ্য লেখো।
✅ উত্তর: বিজ্ঞানের যে পদ্ধতিতে জীবকে তাদের পারস্পরিক সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য অনুসারে ছোট থেকে বড় ধাপে সাজানো হয়, তাকে শ্রেণিবিন্যাস বলে।
→ উদ্দেশ্য: ক) বিপুল সংখ্যক জীবকে সহজে জানা। খ) জীবগোষ্ঠীর মধ্যে বিবর্তনীয় সম্পর্ক নির্ণয় করা।
৭. শ্রেণিবিন্যাসের জনকের নাম কী? তাঁর দুটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম লেখো।
✅ উত্তর: শ্রেণিবিন্যাসের জনক হলেন **ক্যারোলাস লিনিয়াস**।
→ তাঁর দুটি বিখ্যাত গ্রন্থ হল: ক) **Systema Naturae** (সিস্টেমা ন্যাচুরি) এবং খ) **Species Plantarum** (স্পিসিস প্ল্যান্টারাম)।
৮. ট্যাক্সোনমি ও সিস্টেমেটিক্স-এর মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **সংজ্ঞা:** ট্যাক্সোনমি জীবকে শনাক্তকরণ, নামকরণ ও শ্রেণিবদ্ধকরণ নিয়ে আলোচনা করে, আর সিস্টেমেটিক্স জীবের শ্রেণিবিন্যাসের পাশাপাশি তাদের জাতিজনী সম্পর্ক (বিবর্তনগত সম্পর্ক) নিয়ে আলোচনা করে।
খ) **ক্ষেত্র:** সিস্টেমেটিক্সের ক্ষেত্র ট্যাক্সোনমির চেয়ে বিস্তৃত।
৯. দ্বিপদ নামকরণের প্রবর্তন কে করেন? দ্বিপদ নামকরণের দুটি নিয়ম লেখো।
✅ উত্তর: দ্বিপদ নামকরণের প্রবর্তন করেন সুইডিশ বিজ্ঞানী **ক্যারোলাস লিনিয়াস**।
→ নিয়ম: ক) নাম লাতিন ভাষায় লিখতে হবে এবং মুদ্রণের সময় ইতালিক বা তির্যক অক্ষরে লিখতে হবে। খ) নামের দুটি অংশ থাকবে— প্রথমটি গণ এবং দ্বিতীয়টি প্রজাতি।
১০. গণের সংজ্ঞা দাও। একটি উদাহরণ দাও।
✅ উত্তর: শ্রেণিবিন্যাসের যে ধাপে পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ একাধিক প্রজাতিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তাকে **গণ** বলে।
→ উদাহরণ: মানুষ এবং শিম্পাঞ্জি – উভয়ের গণ হল ***Homo***।
১১. প্রজাতি কী? প্রজাতিকে শ্রেণিবিন্যাসের মৌলিক একক বলা হয় কেন?
✅ উত্তর: প্রজাতি হল শ্রেণিবিন্যাসের ক্ষুদ্রতম বা মৌলিক একক। একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত জীবেরা নিজেদের মধ্যে প্রজননে সক্ষম এবং উর্বর সন্তান উৎপাদনে সক্ষম হয়।
→ কারণ: যেহেতু প্রজাতি হল শ্রেণিবিন্যাসের সর্বনিম্ন ধাপ এবং এর অন্তর্ভুক্ত জীবদের মধ্যে সাদৃশ্য সবচেয়ে বেশি, তাই এটিকে মৌলিক একক বলা হয়।
১২. শ্রেণিবিন্যাসের ধাপগুলির সঠিক ক্রমটি লেখো।
✅ উত্তর: শ্রেণিবিন্যাসের ধাপগুলির সঠিক ক্রম (উচ্চতম থেকে নিম্নতম):
**রাজ্য $\rightarrow$ পর্ব/বিভাগ $\rightarrow$ শ্রেণী $\rightarrow$ বর্গ $\rightarrow$ গোত্র $\rightarrow$ গণ $\rightarrow$ প্রজাতি**।
১৩. আর. এইচ. হুইটেকারের পাঁচ রাজ্য শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিগুলি কী কী?
✅ উত্তর: হুইটেকারের পাঁচ রাজ্য শ্রেণিবিন্যাসের প্রধান তিনটি ভিত্তি হল:
ক) **কোশের প্রকৃতি** (প্রোক্যারিওটিক বা ইউক্যারিওটিক)।
খ) **কোশের সংখ্যা** (এককোষী বা বহুকোষী)।
গ) **পুষ্টি পদ্ধতি** (স্বভোজী, পরভোজী বা শোষণ)।
১৪. মনেরা রাজ্যের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো। দুটি উদাহরণ দাও।
✅ উত্তর:
ক) এরা এককোষী ও **প্রোক্যারিওটিক** প্রকৃতির জীব।
খ) এদের কোশপ্রাচীর **পেপটিডোগ্লাইকান** দ্বারা গঠিত।
→ উদাহরণ: **ব্যাকটেরিয়া**, **সায়ানোব্যাকটেরিয়া** (নীলাভ-সবুজ শৈবাল)।
১৫. প্রোটিস্টা রাজ্যের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো। দুটি উদাহরণ দাও।
✅ উত্তর:
ক) এরা এককোষী ও **ইউক্যারিওটিক** প্রকৃতির জীব।
খ) এদের গমনাঙ্গ হিসাবে ক্ষণপদ, সিলিয়া বা ফ্ল্যাজেলা থাকতে পারে।
→ উদাহরণ: **অ্যামিবা**, **প্যারামোসিয়াম**।
১৬. ছত্রাক রাজ্যের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো। এদের পুষ্টি পদ্ধতি কেমন?
✅ উত্তর:
ক) এরা সাধারণত বহুকোষী ও ইউক্যারিওটিক জীব।
খ) এদের কোশপ্রাচীর প্রধানত **কাইটিন** নামক শর্করা দ্বারা গঠিত।
→ পুষ্টি পদ্ধতি: এদের পুষ্টি পদ্ধতি প্রধানত **শোষণধর্মী (মৃতজীবী বা পরজীবী)**।
১৭. ইউক্যারিওটিক ও প্রোক্যারিওটিক কোশের দুটি পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **নিউক্লিয়াস:** ইউক্যারিওটিকে সুগঠিত নিউক্লিয়াস উপস্থিত, কিন্তু প্রোক্যারিওটিকে নিউক্লিয়াস সুগঠিত নয় (নিউক্লিওয়েড থাকে)।
খ) **কোশ অঙ্গাণু:** ইউক্যারিওটিকে পর্দাঘেরা কোশ অঙ্গাণু (যেমন—মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম) থাকে, কিন্তু প্রোক্যারিওটিকে তা অনুপস্থিত।
১৮. প্ল্যান্টি ও অ্যানিম্যালিয়া রাজ্যের দুটি পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **পুষ্টি পদ্ধতি:** প্ল্যান্টাই স্বভোজী (সালোকসংশ্লেষকারী), কিন্তু অ্যানিম্যালিয়া পরভোজী (খাদ্য গ্রহণকারী)।
খ) **কোশ প্রাচীর:** প্ল্যান্টাই কোশে সেলুলোজ নির্মিত কোশ প্রাচীর উপস্থিত, কিন্তু অ্যানিম্যালিয়া কোশে তা অনুপস্থিত।
১৯. ভাইরাসকে কেন মনেরা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয় না?
✅ উত্তর: ভাইরাসকে মনেরা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয় না, কারণ এটি এককভাবে কোনো জীবের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে না। এটি একটি বাধ্যতামূলক অন্তঃকোশীয় পরজীবী, যা পুষ্টি, বিপাক, বৃদ্ধি—এইসব মৌলিক কাজগুলি সম্পন্ন করার জন্য একটি পোষক কোশের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল।
২০. ফানজাই (ছত্রাক) রাজ্যের কোশপ্রাচীর কী উপাদান দিয়ে গঠিত? এর কাজ কী?
✅ উত্তর: ফানজাই রাজ্যের কোশপ্রাচীর প্রধানত **কাইটিন** নামক একপ্রকার পলিস্যাকারাইড (শর্করা) দিয়ে গঠিত।
→ কাজ: এটি ছত্রাক কোশের বাইরের শক্ত আবরণ তৈরি করে এবং কোশকে সুরক্ষা প্রদান করে।
২১. প্রোটিস্টা রাজ্যের দুটি প্রাণীর গমনাঙ্গের নাম লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **অ্যামিবা:** এর গমনাঙ্গ হল **ক্ষণপদ** (Pseudopodia)।
খ) **প্যারামোসিয়াম:** এর গমনাঙ্গ হল **সিলিয়া** (Cilia)।
২২. ব্রায়োফাইটা ও টেরিডোফাইটার মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **পরিবহন কলা:** ব্রায়োফাইটায় জাইলেম ও ফ্লোয়েম কলার মতো পরিবহন কলা অনুপস্থিত, কিন্তু টেরিডোফাইটায় পরিবহন কলা উপস্থিত।
খ) **উদাহরণ:** ব্রায়োফাইটায় উদাহরণ হল **মস**, কিন্তু টেরিডোফাইটায় উদাহরণ হল **ফার্ন**।
২৩. অপুষ্পক উদ্ভিদ কাকে বলে? দুটি অপুষ্পক উদ্ভিদের উদাহরণ দাও।
✅ উত্তর: যে সকল উদ্ভিদে ফুল, ফল ও বীজ উৎপন্ন হয় না, কেবলমাত্র রেণুর মাধ্যমে বংশবিস্তার করে, তাদের **অপুষ্পক উদ্ভিদ** বলে।
→ উদাহরণ: **স্পাইরোগাইরা** (শৈবাল) এবং **মস** (ব্রায়োফাইটা)।
২৪. ব্যক্তবীজী উদ্ভিদ কাকে বলে? একটি উদাহরণ দাও।
✅ উত্তর: যে সকল উদ্ভিদের বীজ ডিম্বাশয় দ্বারা আবৃত না থেকে খোলা অবস্থায় থাকে, অর্থাৎ বীজগুলি ফল দ্বারা আবৃত থাকে না, তাদের **ব্যক্তবীজী উদ্ভিদ** বলে।
→ উদাহরণ: **পাইনাস** বা **সাইকাস**।
২৫. গুপ্তবীজী ও ব্যক্তবীজী উদ্ভিদের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **ডিম্বাশয়:** গুপ্তবীজীর বীজ ডিম্বাশয় দ্বারা আবৃত থাকে (অর্থাৎ ফল উৎপন্ন হয়), কিন্তু ব্যক্তবীজীর বীজ অনাবৃত থাকে।
খ) **ফ্লোয়েম কলা:** গুপ্তবীজীর ফ্লোয়েম কলায় সহকোশ (Companion cell) থাকে, কিন্তু ব্যক্তবীজীর ফ্লোয়েম কলায় সহকোশ অনুপস্থিত।
২৬. দ্বি-বীজপত্রী ও একবীজপত্রী উদ্ভিদের দুটি পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **বীজপত্র:** দ্বি-বীজপত্রী বীজে দুটি বীজপত্র থাকে, কিন্তু একবীজপত্রী বীজে একটি বীজপত্র থাকে।
খ) **শিরাবিন্যাস:** দ্বি-বীজপত্রীর পাতায় জালিকা শিরাবিন্যাস দেখা যায়, কিন্তু একবীজপত্রীর পাতায় সমান্তরাল শিরাবিন্যাস দেখা যায়।
২৭. কর্ডাটা ও নন-কর্ডাটা প্রাণীর দুটি পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **নোটোকর্ড:** কর্ডাটা প্রাণীর জীবনের কোনো দশায় নোটোকর্ড উপস্থিত থাকে, কিন্তু নন-কর্ডাটা প্রাণীর দেহে নোটোকর্ড অনুপস্থিত।
খ) **স্নায়ুরজ্জু:** কর্ডাটা প্রাণীর পৃষ্ঠদেশে একটি ফাঁপা স্নায়ুরজ্জু থাকে, কিন্তু নন-কর্ডাটা প্রাণীর অঙ্কীয়দেশে নিরেট স্নায়ুরজ্জু থাকে।
২৮. পরিফেরা পর্বের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো। উদাহরণ দাও।
✅ উত্তর:
ক) এদের দেহ অসংখ্য ছিদ্র বা **অস্টিয়া** দ্বারা আবৃত, যার মাধ্যমে জল প্রবেশ করে।
খ) এদের দেহে কলা বা অঙ্গ গঠিত হয় না।
→ উদাহরণ: **স্পঞ্জিলা** (Spongilla)।
২৯. নিডারিয়া পর্বের দুটি বৈশিষ্ট্য ও একটি উদাহরণ দাও।
✅ উত্তর:
ক) এদের দেহে **নিডোব্লাস্ট** নামক দংশক কোশ থাকে।
খ) এদের দেহ অরীয় প্রতিসম (Radial symmetry)।
→ উদাহরণ: **হাইড্রা** বা **জেলিফিশ**।
৩০. নিডোব্লাস্ট কোশ কী? এর কাজ কী?
✅ উত্তর: নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের (যেমন—হাইড্রা) কর্ষিকায় উপস্থিত দংশক কোশগুলিকে **নিডোব্লাস্ট কোশ** বলে।
→ কাজ: এই কোশগুলি শিকার ধরা এবং আত্মরক্ষায় সাহায্য করে।
৩১. প্লাটিহেলমিন্থেস পর্বের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো। এই পর্বের প্রাণীদের কেন চ্যাপ্টা কৃমি বলা হয়?
✅ উত্তর:
ক) এদের দেহ চ্যাপ্টা এবং দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম।
খ) এরা সিলোমবিহীন (Acoelomate) প্রাণী।
→ কারণ: এদের দেহ পাতার মতো চ্যাপ্টা হওয়ায় এদের **চ্যাপ্টা কৃমি** (Flatworm) বলা হয়।
৩২. নেমাটোডা পর্বের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো। একটি উদাহরণ দাও।
✅ উত্তর:
ক) এদের দেহ নলাকার ও অখণ্ডায়িত।
খ) এদের দেহগহ্বরকে **সিউডোসিলোম** (Pseudo-coelom) বা ছদ্ম-সিলোম বলে।
→ উদাহরণ: **গোলকৃমি**।
৩৩. অ্যানিলিডা পর্বের প্রাণীর দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো। এদের গমনাঙ্গ কী?
✅ উত্তর:
ক) এদের দেহ প্রকৃতভাবে খণ্ডকযুক্ত (Segmented)।
খ) এদের বদ্ধ সংবহনতন্ত্র দেখা যায়।
→ গমনাঙ্গ: কেঁচোর গমনাঙ্গ হল **সিটা** (Setae) এবং জোঁকের গমনাঙ্গ হল **চোষক**।
৩৪. আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) এদের দেহে **যুগ্ম সন্ধিল উপাঙ্গ** (Jointed appendages) দেখা যায়।
খ) এদের বহিঃকঙ্কাল কাইটিন নির্মিত।
৩৫. হিমোসিল কাকে বলে? একটি উদাহরণ দাও।
✅ উত্তর: আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের রক্তপূর্ণ দেহগহ্বরকে **হিমোসিল** বলে।
→ উদাহরণ: **আরশোলা** বা **চিংড়ি**। এদের দেহে রক্ত সংবহনের জন্য হিমোসিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৩৬. মোলাস্কা পর্বের প্রাণীর দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো। এদের শ্বাস অঙ্গ কী?
✅ উত্তর:
ক) এদের দেহ নরম এবং একটি চুনময় খোলক বা **ম্যান্টল** দ্বারা আবৃত থাকে।
খ) রক্তে **হিমোসায়ানিন** নামক রঞ্জক পদার্থ থাকে।
→ শ্বাস অঙ্গ: ফুলকা বা ফুসফুসের মাধ্যমে শ্বাসকার্য সম্পন্ন করে।
৩৭. একাইনোডার্মাটা পর্বের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো। এদের প্রধান গমনাঙ্গ কী?
✅ উত্তর:
ক) এদের দেহে **নালীতন্ত্র** (Water Vascular System) দেখা যায়।
খ) প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় এদের দেহ **অরীয় প্রতিসাম্য** দেখায়।
→ গমনাঙ্গ: নালীতন্ত্রের সাহায্যে সৃষ্ট **নালীপদ** (Tube feet)।
৩৮. দ্বিপার্শ্বীয় ও অরীয় প্রতিসাম্য বলতে কী বোঝো? একটি করে উদাহরণ দাও।
✅ উত্তর:
ক) **দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য:** যে প্রাণীর দেহকে শুধুমাত্র একটি কেন্দ্রীয় তল বরাবর সমান দুটি ভাগে ভাগ করা যায় (যেমন—মানুষ, প্রজাপতি), তাকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে।
খ) **অরীয় প্রতিসাম্য:** যে প্রাণীর দেহকে কেন্দ্রীয় অক্ষ বরাবর যেকোনো তলে সমান অংশে বিভক্ত করা যায় (যেমন—হাইড্রা, জেলিফিশ), তাকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে।
৩৯. কর্ডাটা পর্বের তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য কী কী?
✅ উত্তর:
ক) পৃষ্ঠদেশে স্থিতিস্থাপক দণ্ডাকার **নোটোকর্ড** উপস্থিত।
খ) পৃষ্ঠদেশে একটি ফাঁপা **স্নায়ুরজ্জু** (Nerve Cord) উপস্থিত।
গ) গলবিলের পার্শ্বে ফুলকা ছিদ্র বা **গলবিলীয় ক্লেম ছিদ্র** থাকে।
৪০. শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী কাকে বলে? দুটি উদাহরণ দাও।
✅ উত্তর: যে সকল প্রাণী পরিবেশের তাপমাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের দেহের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রাও পরিবর্তন করে, তাদের **শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী** বা পোইকিলোথার্মিক প্রাণী বলে।
→ উদাহরণ: **রুই মাছ** (মৎস্য) এবং **ব্যাঙ** (উভচর)।
৪১. মৎস্য শ্রেণির দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো। এদের হৃৎপিণ্ড কেমন?
✅ উত্তর:
ক) এদের দেহ আঁশ (Scale) দ্বারা আবৃত এবং শ্বাস অঙ্গ হল **ফুলকা**।
খ) এদের চলনের জন্য **জোড় ও বিজোড় পাখনা** থাকে।
→ হৃৎপিণ্ড: এদের হৃৎপিণ্ড **দ্বি-প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট**।
৪২. উভচর প্রাণীর দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো। একটি উদাহরণ দাও।
✅ উত্তর:
ক) এদের জীবনচক্রের প্রথম দিকে জলজ ও ফুলকাযুক্ত এবং পরবর্তীকালে স্থলজ ও ফুসফুসযুক্ত হয়।
খ) এদের হৃৎপিণ্ড **তিন প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট** (দুটি অলিন্দ ও একটি নিলয়)।
→ উদাহরণ: **সোনা ব্যাঙ**।
৪৩. সরীসৃপ শ্রেণির দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো। এদের হৃৎপিণ্ড কেমন?
✅ উত্তর:
ক) এদের ত্বক শুষ্ক ও আঁশ বা প্লেট দ্বারা আবৃত।
খ) এরা বুকে ভর করে হাঁটে বা হামাগুড়ি দিয়ে চলে।
→ হৃৎপিণ্ড: এদের হৃৎপিণ্ড **অসম্পূর্ণভাবে চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট** (কুমিরের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম)।
৪৪. পক্ষী শ্রেণির দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো। এদের হৃৎপিণ্ড কত প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট?
✅ উত্তর:
ক) এদের দেহ **পালক** দ্বারা আবৃত এবং সামনের পদ দু’টি ডানায় রূপান্তরিত হয়েছে।
খ) এদের অস্থি বায়ুপূর্ণ হওয়ায় দেহ হালকা হয় (নিউম্যাটিক অস্থি)।
→ হৃৎপিণ্ড: এদের হৃৎপিণ্ড **চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট**।
৪৫. স্তন্যপায়ী প্রাণীর দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো। এর দুটি উপশ্রেণির নাম লেখো।
✅ উত্তর:
ক) এদের দেহে **স্তন্যগ্রন্থি** (Mammary Gland) এবং **লোম** বা চুল থাকে।
খ) এদের হৃৎপিণ্ড চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট এবং এরা **উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট**।
→ উপশ্রেণি: **প্রোটোথেরিয়া** (ডিম্বপ্রসূ) এবং **মেটাথেরিয়া/ইউথেরিয়া** (শিশুপ্ৰসূ)।
❓ জীবন ও তার বৈচিত্র্য: সাধারণ জিজ্ঞাস্য প্রশ্নাবলী (FAQ)
১. সজীব ও জড় বস্তুর মধ্যে প্রধান দুটি পার্থক্য কী?
✅ উত্তর:
ক) **বিপাক:** সজীব বস্তুর দেহে বিপাক (উপচিতি ও অপচিতি) ঘটে; জড় বস্তুর দেহে তা অনুপস্থিত।
খ) **বৃদ্ধি:** সজীব বস্তুর অভ্যন্তরীণ বৃদ্ধি ঘটে; জড় বস্তুর বৃদ্ধি বাইরের বস্তু জমার ফলে ঘটে।
২. শ্রেণিবিন্যাসের মৌলিক একক প্রজাতি কেন?
✅ উত্তর: প্রজাতিকে শ্রেণিবিন্যাসের মৌলিক একক বলা হয়, কারণ এটি শ্রেণিবিন্যাসের সর্বনিম্ন ধাপ এবং একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত জীবেরা নিজেদের মধ্যে প্রজননে সক্ষম হয়ে উর্বর সন্তান উৎপাদনে সক্ষম হয়।
৩. দ্বিপদ নামকরণের দুটি নিয়ম উল্লেখ করো।
✅ উত্তর:
ক) নাম লাতিন ভাষায় বা লাতিন থেকে উদ্ভূত হবে এবং মুদ্রণের সময় অবশ্যই **তির্যক অক্ষরে (Italics)** লিখতে হবে।
খ) নামের দুটি অংশ থাকবে: প্রথম অংশ **গণ** এবং দ্বিতীয় অংশ **প্রজাতি**।
৪. হুইটেকারের পাঁচ রাজ্য শ্রেণিবিন্যাসের প্রধান ভিত্তিগুলি কী কী?
✅ উত্তর: এই শ্রেণিবিন্যাসের তিনটি প্রধান ভিত্তি হল:
ক) **কোশের প্রকৃতি** (প্রোক্যারিওটিক বা ইউক্যারিওটিক)।
খ) **কোশের সংখ্যা** (এককোষী বা বহুকোষী)।
গ) **পুষ্টি পদ্ধতি** (স্বভোজী, পরভোজী বা শোষণ)।
৫. প্রোক্যারিওটিক ও ইউক্যারিওটিক কোশের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **নিউক্লিয়াস:** প্রোক্যারিওটিকে সুগঠিত নিউক্লিয়াস অনুপস্থিত, কিন্তু ইউক্যারিওটিকে সুগঠিত নিউক্লিয়াস উপস্থিত।
খ) **পর্দাঘেরা অঙ্গাণু:** প্রোক্যারিওটিকে মাইটোকন্ড্রিয়া বা ER-এর মতো অঙ্গাণু অনুপস্থিত, কিন্তু ইউক্যারিওটিকে তা উপস্থিত।
৬. মনেরা ও ছত্রাক রাজ্যের কোশপ্রাচীর কী উপাদান দিয়ে গঠিত?
✅ উত্তর:
ক) **মনেরা:** এদের কোশপ্রাচীর প্রধানত **পেপটিডোগ্লাইকান** দ্বারা গঠিত।
খ) **ছত্রাক:** এদের কোশপ্রাচীর প্রধানত **কাইটিন** নামক শর্করা দিয়ে তৈরি।
৭. কর্ডাটা পর্বের প্রাণীর দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) এদের জীবনের কোনো না কোনো দশায় **নোটোকর্ড** উপস্থিত থাকে।
খ) এদের পৃষ্ঠদেশে একটি **ফাঁপা স্নায়ুরজ্জু** উপস্থিত থাকে।
৮. শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী কাকে বলে? দুটি উদাহরণ দাও।
✅ উত্তর: যে সকল প্রাণী পরিবেশের তাপমাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের দেহের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রাও পরিবর্তন করে, তাদের **শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী** বলে।
→ উদাহরণ: **মাছ** (মৎস্য শ্রেণি) এবং **সাপ** (সরীসৃপ শ্রেণি)।
৯. যুগ্ম সন্ধিল উপাঙ্গ ও হিমোসিল কোন্ পর্বের প্রাণীর বৈশিষ্ট্য?
✅ উত্তর: এই দুটি বৈশিষ্ট্যই **আর্থ্রোপোডা** পর্বের প্রাণীর প্রধান ধর্ম। যুগ্ম সন্ধিল উপাঙ্গ চলনে সাহায্য করে এবং রক্তপূর্ণ দেহগহ্বরকে হিমোসিল বলা হয়।
১০. মৎস্য ও উভচর শ্রেণির হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠ সংখ্যা কত?
✅ উত্তর:
ক) **মৎস্য:** এদের হৃৎপিণ্ড **দ্বি-প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট**।
খ) **উভচর:** এদের হৃৎপিণ্ড **তিন প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট**।