নবম শ্রেণি জীবন বিজ্ঞান: জীবন ও তার বৈচিত্র্য’
📘 প্রথম অধ্যায়: জীবন ও তার বৈচিত্র্য (৫ নম্বরের যৌগিক প্রশ্ন ও উত্তর)
📖 শিক্ষকের বিশ্লেষণ ও ভূমিকা
৫ নম্বরের যৌগিক প্রশ্নের জন্য উত্তরগুলি সাধারণত ২+৩ বা ৩+২ বিভাজনে আসে। এই ক্ষেত্রে **পার্থক্য, বৈশিষ্ট্য এবং নামকরণের নীতি বা শ্রেণিবিন্যাসের গুরুত্ব**—এই তিনটি বিষয়কে একত্রিত করে প্রশ্ন তৈরি হয়। উত্তরে প্রতিটি ভাগের জন্য নম্বর বিভাজন মনে রেখে পয়েন্ট ভিত্তিক লেখা আবশ্যক।
৪. দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন: ১৫টি প্রশ্ন (প্রতিটি প্রশ্নের মান ৫)
নির্দেশিকা: প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর পয়েন্ট অনুযায়ী বিভাজিত করে লেখো।
১. জীবন ও তার বৈশিষ্ট্য: ক) উপচিতি ও অপচিতি বিপাকের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো। (৩)
খ) শ্রেণিবিন্যাসের মৌলিক একক কী? (২)
✅ উত্তর:
ক) **উপচিতি ও অপচিতি বিপাকের পার্থক্য (৩):**
১) **প্রকৃতি:** উপচিতি গঠনমূলক, অপচিতি ভাঙ্গনমূলক।
২) **শুষ্ক ওজন:** উপচিতিতে শুষ্ক ওজন বৃদ্ধি পায়, অপচিতিতে হ্রাস পায়।
৩) **উদাহরণ:** উপচিতির উদাহরণ সালোকসংশ্লেষ, অপচিতির উদাহরণ শ্বসন।
খ) **শ্রেণিবিন্যাসের মৌলিক একক (২):** শ্রেণিবিন্যাসের মৌলিক একক হল **প্রজাতি** (Species)। একই প্রজাতির জীবেরা নিজেদের মধ্যে প্রজননে সক্ষম এবং উর্বর সন্তান উৎপাদনে সক্ষম হয়।
২. শ্রেণিবিন্যাসের নীতি: ক) দ্বিপদ নামকরণের প্রবক্তা কে? দ্বিপদ নামকরণের তিনটি আন্তর্জাতিক নিয়ম লেখো। (৪)
খ) শ্রেণিবিন্যাসের দুটি প্রধান উদ্দেশ্য কী? (১)
✅ উত্তর:
ক) **দ্বিপদ নামকরণের প্রবক্তা ও নিয়ম (৪):** প্রবক্তা হলেন **ক্যারোলাস লিনিয়াস**। তিনটি নিয়ম:
১) নাম লাতিন ভাষায় বা তার থেকে উদ্ভূত হবে এবং মুদ্রণের সময় **তির্যক অক্ষরে (Italics)** লিখতে হবে।
২) নামের দুটি অংশ থাকবে—প্রথমটি **গণ** (Genus) এবং দ্বিতীয়টি **প্রজাতি** (Species)।
৩) হাতে লেখার সময় গণ ও প্রজাতি নামের নিচে **আলাদাভাবে দাগ** দিতে হবে।
খ) **শ্রেণিবিন্যাসের উদ্দেশ্য (১):** ক) বিপুল সংখ্যক জীবকে সহজে জানা এবং খ) জীবগোষ্ঠীর মধ্যে বিবর্তনগত সম্পর্ক নির্ণয় করা।
৩. হুইটেকারের শ্রেণিবিন্যাস: ক) প্রোটিস্টা ও মনেরা রাজ্যের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো। (৩)
খ) ইউক্যারিওটিক ও প্রোক্যারিওটিক কোশের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো। (২)
✅ উত্তর:
ক) **প্রোটিস্টা ও মনেরা রাজ্যের পার্থক্য (৩):**
১) **কোশ প্রকৃতি:** প্রোটিস্টা ইউক্যারিওটিক, মনেরা প্রোক্যারিওটিক।
২) **কোশ সংখ্যা:** প্রোটিস্টা এককোষী, মনেরাও এককোষী (যদিও সায়ানোব্যাকটেরিয়া কলোনি তৈরি করে)।
৩) **কোশ প্রাচীর:** প্রোটিস্টার কোশ প্রাচীর ভিন্ন প্রকৃতির (যদি থাকে), মনেরার কোশ প্রাচীর **পেপটিডোগ্লাইকান** নির্মিত।
খ) **ইউক্যারিওটিক ও প্রোক্যারিওটিক কোশের পার্থক্য (২):**
১) ইউক্যারিওটিকে সুগঠিত নিউক্লিয়াস উপস্থিত, প্রোক্যারিওটিকে অনুপস্থিত।
২) ইউক্যারিওটিকে মাইটোকন্ড্রিয়া, ই.আর. ইত্যাদি পর্দাঘেরা অঙ্গাণু উপস্থিত, প্রোক্যারিওটিকে অনুপস্থিত।
৪. ছত্রাক ও প্ল্যান্টাই রাজ্য: ক) ছত্রাক রাজ্যের তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো। (৩)
খ) ছত্রাককে কেন Plantae রাজ্য থেকে আলাদা করা হয়েছে? (২)
✅ উত্তর:
ক) **ছত্রাক রাজ্যের তিনটি বৈশিষ্ট্য (৩):**
১) এদের কোশপ্রাচীর **কাইটিন** নামক শর্করা দ্বারা গঠিত।
২) এদের পুষ্টি পদ্ধতি প্রধানত **শোষণধর্মী** (মৃতজীবী বা পরজীবী)।
৩) এরা হ্যাপ্লয়েড ও ডিপ্লয়েড নিউক্লিয়াসযুক্ত **দ্বিকেন্দ্রিক দশা (Dikaryon Phase)** দেখায়।
খ) **Plantae রাজ্য থেকে আলাদা করার কারণ (২):** Plantae রাজ্যের জীবেরা স্বভোজী (ক্লোরোফিল আছে) এবং কোশপ্রাচীর সেলুলোজ নির্মিত। কিন্তু ছত্রাকরা পরভোজী (ক্লোরোফিল নেই) এবং কোশপ্রাচীর কাইটিন নির্মিত। এই মৌলিক পার্থক্যের কারণে তাদের Plantae রাজ্য থেকে আলাদা করা হয়েছে।
৫. উদ্ভিদ রাজ্যের শ্রেণিবিন্যাস: ক) গুপ্তবীজী ও ব্যক্তবীজী উদ্ভিদের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো। (৩)
খ) দ্বি-বীজপত্রী ও একবীজপত্রী উদ্ভিদের দুটি পার্থক্য লেখো। (২)
✅ উত্তর:
ক) **গুপ্তবীজী ও ব্যক্তবীজী উদ্ভিদের পার্থক্য (৩):**
১) **বীজ:** গুপ্তবীজীর বীজ ডিম্বাশয় দ্বারা আবৃত থাকে (ফল হয়)। ব্যক্তবীজীর বীজ অনাবৃত থাকে (ফল হয় না)।
২) **সহকোশ:** গুপ্তবীজীর ফ্লোয়েম কলায় সহকোশ উপস্থিত। ব্যক্তবীজীর ফ্লোয়েম কলায় সহকোশ অনুপস্থিত।
৩) **নিষেধ:** গুপ্তবীজীতে দ্বি-নিষেধ ঘটে, ব্যক্তবীজীতে দ্বি-নিষেধ ঘটে না।
খ) **দ্বি-বীজপত্রী ও একবীজপত্রী উদ্ভিদের পার্থক্য (২):**
১) দ্বি-বীজপত্রী বীজে দুটি বীজপত্র থাকে, একবীজপত্রী বীজে একটি বীজপত্র থাকে।
২) দ্বি-বীজপত্রীর পাতায় জালিকা শিরাবিন্যাস দেখা যায়, একবীজপত্রীর পাতায় সমান্তরাল শিরাবিন্যাস দেখা যায়।
৬. প্রাণী রাজ্যের বৈশিষ্ট্য: ক) পরিফেরা, নিডারিয়া ও প্লাটিহেলমিন্থেস—এই তিনটি পর্বের একটি করে বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ দাও। (৩)
খ) সিলোমবিহীন প্রাণী কাকে বলে? দুটি উদাহরণ দাও। (২)
✅ উত্তর:
ক) **পর্বের বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ (৩):**
১) **পরিফেরা:** দেহ ছিদ্রযুক্ত (অস্টিয়া)। উদাহরণ: **স্পঞ্জিলা**।
২) **নিডারিয়া:** দেহে নিডোব্লাস্ট কোশ থাকে। উদাহরণ: **হাইড্রা**।
৩) **প্লাটিহেলমিন্থেস:** দেহ চ্যাপ্টা, ফিতার মতো। উদাহরণ: **ফিতাকৃমি**।
খ) **সিলোমবিহীন প্রাণী (২):** যে সকল প্রাণীর দেহগহ্বর মেসোডার্ম দ্বারা সম্পূর্ণরূপে আবৃত থাকে না, তাদের **সিলোমবিহীন প্রাণী** বা অ্যাসিলোমেট প্রাণী বলে। উদাহরণ: **ফিতাকৃমি**, **প্ল্যানারিয়া**।
৭. আর্থ্রোপোডা পর্ব: ক) আর্থ্রোপোডা পর্বের তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো। (৩)
খ) হিমোসিল কাকে বলে? কোন্ পর্বের প্রাণীতে দেখা যায়? (২)
✅ উত্তর:
ক) **আর্থ্রোপোডা পর্বের তিনটি বৈশিষ্ট্য (৩):**
১) এদের দেহে **যুগ্ম সন্ধিল উপাঙ্গ** (Jointed Appendages) দেখা যায়।
২) এদের বহিঃকঙ্কাল **কাইটিন** নির্মিত।
৩) এদের দেহ মাথা, বক্ষ ও উদর—এই তিনটি অঞ্চলে বিভক্ত।
খ) **হিমোসিল ও পর্ব (২):** আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের রক্তপূর্ণ দেহগহ্বরকে **হিমোসিল** বলে। এটি **আর্থ্রোপোডা** এবং **মোলাস্কা** পর্বের কিছু প্রাণীতে দেখা যায়।
৮. অ্যানিলিডা ও মোলাস্কা: ক) অ্যানিলিডা ও মোলাস্কা পর্বের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো। (৩)
খ) অ্যানিলিডা পর্বের প্রাণীর গমনাঙ্গ কী? (২)
✅ উত্তর:
ক) **অ্যানিলিডা ও মোলাস্কা পর্বের পার্থক্য (৩):**
১) **খণ্ডক:** অ্যানিলিডার দেহ খণ্ডকযুক্ত, মোলাস্কার দেহ খণ্ডকবিহীন।
২) **দেহাবরণ:** অ্যানিলিডার দেহ ত্বক দ্বারা আবৃত, মোলাস্কার দেহ ম্যান্টল ও খোলক দ্বারা আবৃত থাকতে পারে।
৩) **রক্ত:** অ্যানিলিডার রক্তে হিমোগ্লোবিন থাকে, মোলাস্কার রক্তে **হিমোসায়ানিন** থাকে।
খ) **অ্যানিলিডা পর্বের গমনাঙ্গ (২):** কেঁচোর গমনাঙ্গ হল **সিটা** (Setae) এবং নেরিসের গমনাঙ্গ হল **প্যারা পোডিয়া**।
৯. কর্ডাটা পর্ব: ক) কর্ডাটা ও নন-কর্ডাটা প্রাণীর মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো। (৩)
খ) নালীতন্ত্রের প্রধান কাজ কী? (২)
✅ উত্তর:
ক) **কর্ডাটা ও নন-কর্ডাটা প্রাণীর পার্থক্য (৩):**
১) **নোটোকর্ড:** কর্ডাটা প্রাণীর নোটোকর্ড উপস্থিত, নন-কর্ডাটা প্রাণীর অনুপস্থিত।
২) **স্নায়ুরজ্জু:** কর্ডাটা প্রাণীর পৃষ্ঠদেশে একটি ফাঁপা স্নায়ুরজ্জু থাকে, নন-কর্ডাটা প্রাণীর অঙ্কীয়দেশে নিরেট স্নায়ুরজ্জু থাকে।
৩) **ফুলকা ছিদ্র:** কর্ডাটার গলবিলে ফুলকা ছিদ্র থাকে, নন-কর্ডাটার থাকে না।
খ) **নালীতন্ত্রের প্রধান কাজ (২):** নালীতন্ত্র (একাইনোডার্মাটা পর্বের বৈশিষ্ট্য) প্রধানত প্রাণীর **চলন** এবং **খাদ্য গ্রহণে** সাহায্য করে।
১০. শীতল ও উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণী: ক) উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণী ও শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণীর মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো। (৩)
খ) পক্ষী ও স্তন্যপায়ী শ্রেণির হৃৎপিণ্ড কত প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট? (২)
✅ উত্তর:
ক) **উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট ও শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণীর পার্থক্য (৩):**
১) **দেহের তাপমাত্রা:** উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণীর তাপমাত্রা স্থির থাকে, শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণীর তাপমাত্রা পরিবেশের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়।
২) **নিয়ন্ত্রণ:** উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণীরা নিজেরাই দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণীরা পারে না।
৩) **উদাহরণ:** উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণী: পাখি, মানুষ। শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী: মাছ, ব্যাঙ।
খ) **হৃৎপিণ্ড প্রকোষ্ঠ সংখ্যা (২):** পক্ষী ও স্তন্যপায়ী উভয় শ্রেণির হৃৎপিণ্ডই **চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট** (দুটি অলিন্দ ও দুটি নিলয়)।
১১. উভচর ও সরীসৃপ: ক) উভচর শ্রেণির তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো। (৩)
খ) সরীসৃপ শ্রেণির হৃৎপিণ্ডের বিশেষত্ব কী? (২)
✅ উত্তর:
ক) **উভচর শ্রেণির তিনটি বৈশিষ্ট্য (৩):**
১) **বাসস্থান:** জীবনের প্রথম অংশে জলজ (ফুলকাযুক্ত) এবং পরবর্তীকালে স্থলজ (ফুসফুসযুক্ত) হয়।
২) **ত্বক:** এদের ত্বক নরম, গ্রন্থিময় ও আর্দ্র এবং শ্বাসকার্যে সাহায্য করে।
৩) **হৃৎপিণ্ড:** এদের হৃৎপিণ্ড **তিন প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট**।
খ) **সরীসৃপ শ্রেণির হৃৎপিণ্ডের বিশেষত্ব (২):** সরীসৃপ শ্রেণির হৃৎপিণ্ড সাধারণত **অসম্পূর্ণভাবে চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট**। ব্যতিক্রম হিসেবে **কুমিরের** হৃৎপিণ্ড সম্পূর্ণ চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট হয়।
১২. পক্ষী ও স্তন্যপায়ী: ক) পক্ষী শ্রেণির তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো। (৩)
খ) ম্যামালিয়া বা স্তন্যপায়ী শ্রেণির দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য লেখো। (২)
✅ উত্তর:
ক) **পক্ষী শ্রেণির তিনটি বৈশিষ্ট্য (৩):**
১) এদের দেহ **পালক** দ্বারা আবৃত এবং সামনের পা দু’টি ডানায় রূপান্তরিত হয়েছে।
২) এদের অস্থিগুলি হালকা ও বায়ুপূর্ণ বা **নিউম্যাটিক অস্থি**।
৩) এদের চোয়াল দাঁতবিহীন **চঞ্চু** বা ঠোঁটে পরিণত হয়েছে।
খ) **স্তন্যপায়ী শ্রেণির দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য (২):**
১) এদের দেহে **স্তন্যগ্রন্থি** (Mammary Gland) উপস্থিত।
২) এদের দেহ **লোম** বা চুল দ্বারা আবৃত থাকে।
১৩. শ্রেণিবিন্যাসের স্তর: ক) শ্রেণিবিন্যাসের সর্বোচ্চ ধাপ থেকে সর্বনিম্ন ধাপ পর্যন্ত ক্রমটি লেখো। (৩)
খ) প্রজাতিকে কেন শ্রেণিবিন্যাসের মৌলিক একক বলা হয়? (২)
✅ উত্তর:
ক) **শ্রেণিবিন্যাসের ক্রম (৩):**
**রাজ্য $\rightarrow$ পর্ব/বিভাগ $\rightarrow$ শ্রেণী $\rightarrow$ বর্গ $\rightarrow$ গোত্র $\rightarrow$ গণ $\rightarrow$ প্রজাতি**।
খ) **মৌলিক একক (২):** প্রজাতি হল শ্রেণিবিন্যাসের সর্বনিম্ন ধাপ, এবং এই ধাপের অন্তর্ভুক্ত জীবেরা নিজেদের মধ্যে প্রজননে সক্ষম এবং উর্বর সন্তান উৎপাদনে সক্ষম হয়। এই কারণে প্রজাতিকে শ্রেণিবিন্যাসের মৌলিক একক বলা হয়।
১৪. অ-মেরুদণ্ডী প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস: ক) আর্থ্রোপোডা ও মোলাস্কা পর্বের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো। (৩)
খ) একাইনোডার্মাটা পর্বের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো। (২)
✅ উত্তর:
ক) **আর্থ্রোপোডা ও মোলাস্কা পর্বের পার্থক্য (৩):**
১) **উপাঙ্গ:** আর্থ্রোপোডার উপাঙ্গ যুগ্ম সন্ধিল, মোলাস্কার উপাঙ্গ মাংসল পদ।
২) **দেহখণ্ডক:** আর্থ্রোপোডার দেহ খণ্ডকযুক্ত, মোলাস্কার দেহ খণ্ডকবিহীন।
৩) **দেহগহ্বর:** আর্থ্রোপোডার হিমোসিল থাকে, মোলাস্কার ক্ষেত্রে সিলোম ক্ষুদ্র।
খ) **একাইনোডার্মাটা পর্বের দুটি বৈশিষ্ট্য (২):**
১) এদের দেহে **নালীতন্ত্র** (Water Vascular System) উপস্থিত।
২) এদের প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় দেহ **অরীয় প্রতিসাম্য** দেখায়।
১৫. ট্যাক্সোনমি ও বিপাক: ক) ট্যাক্সোনমি ও সিস্টেমেটিক্স-এর মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো। (৩)
খ) একটি আদর্শ জীবের বিপাকের দুটি প্রধান কাজ লেখো। (২)
✅ উত্তর:
ক) **ট্যাক্সোনমি ও সিস্টেমেটিক্স-এর পার্থক্য (৩):**
১) **সংজ্ঞা:** ট্যাক্সোনমি শুধু নামকরণ ও শ্রেণিবদ্ধকরণ। সিস্টেমেটিক্স নামকরণ ও শ্রেণিবদ্ধকরণ সহ জাতিজনী সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা।
২) **উদ্দেশ্য:** ট্যাক্সোনমির মূল উদ্দেশ্য শ্রেণিকরণ। সিস্টেমেটিক্সের মূল উদ্দেশ্য বিবর্তনগত সম্পর্ক বোঝা।
৩) **ক্ষেত্র:** সিস্টেমেটিক্সের ক্ষেত্র ট্যাক্সোনমির চেয়ে ব্যাপক।
খ) **বিপাকের দুটি প্রধান কাজ (২):**
১) **শক্তি উৎপাদন:** শ্বসনের মাধ্যমে খাদ্য থেকে শক্তি উৎপাদন করে জীবের সমস্ত কাজ সম্পাদনে সাহায্য করা।
২) **দেহ গঠন:** প্রোটিন ও নিউক্লিক অ্যাসিড সংশ্লেষ করে নতুন কোষ ও কলা গঠনে সাহায্য করা।
❓ জীবন ও তার বৈচিত্র্য: সাধারণ জিজ্ঞাস্য প্রশ্নাবলী (FAQ – ৫ নম্বরের জন্য)
১. উপচিতি ও অপচিতি বিপাকের মধ্যে তিনটি মূল পার্থক্য কী?
✅ উত্তর:
ক) **প্রকৃতি:** উপচিতি **গঠনমূলক** (সরল $\rightarrow$ জটিল), অপচিতি **ভাঙ্গনমূলক** (জটিল $\rightarrow$ সরল)।
খ) **শুষ্ক ওজন:** উপচিতিতে শুষ্ক ওজন **বৃদ্ধি** পায়, অপচিতিতে **হ্রাস** পায়।
গ) **উদাহরণ:** উপচিতির উদাহরণ **সালোকসংশ্লেষ**, অপচিতির উদাহরণ **শ্বসন**।
২. কর্ডাটা ও নন-কর্ডাটা প্রাণীর তিনটি প্রধান পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **নোটোকর্ড:** কর্ডাটা প্রাণীর নোটোকর্ড **উপস্থিত**, নন-কর্ডাটা প্রাণীর **অনুপস্থিত**।
খ) **স্নায়ুরজ্জু:** কর্ডাটা প্রাণীর পৃষ্ঠদেশে **ফাঁপা** স্নায়ুরজ্জু থাকে, নন-কর্ডাটা প্রাণীর অঙ্কীয়দেশে **নিরেট** স্নায়ুরজ্জু থাকে।
গ) **ফুলকা ছিদ্র:** কর্ডাটার গলবিলে ফুলকা ছিদ্র থাকে, নন-কর্ডাটার থাকে না।
৩. দ্বিপদ নামকরণের প্রবক্তা কে? এর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম কী?
✅ উত্তর: দ্বিপদ নামকরণের প্রবক্তা হলেন **ক্যারোলাস লিনিয়াস**। তিনটি নিয়ম:
ক) নাম **লাতিন** ভাষায় লেখা এবং **তির্যক** অক্ষরে মুদ্রণ করতে হবে।
খ) প্রথম পদ **গণ** (Genus) এবং দ্বিতীয় পদ **প্রজাতি** (Species) নির্দেশ করবে।
গ) হাতে লেখার সময় গণ ও প্রজাতি নামের নিচে **আলাদাভাবে দাগ** দিতে হবে।
৪. প্রোটিস্টা ও মনেরা রাজ্যের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর:
ক) **কোশ প্রকৃতি:** প্রোটিস্টা **ইউক্যারিওটিক**, মনেরা **প্রোক্যারিওটিক**।
খ) **কোশ প্রাচীর:** মনেরার কোশ প্রাচীর **পেপটিডোগ্লাইকান** নির্মিত, প্রোটিস্টার কোশ প্রাচীর ভিন্ন প্রকৃতির (যদি থাকে)।
গ) **ঝিল্লি-আবদ্ধ অঙ্গাণু:** প্রোটিস্টাতে উপস্থিত, মনেরাতে অনুপস্থিত।
৫. উভচর ও সরীসৃপ শ্রেণির মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি কী?
✅ উত্তর:
ক) **ত্বক:** উভচরের ত্বক **নরম ও আর্দ্র**, সরীসৃপের ত্বক **শুষ্ক ও আঁশযুক্ত**।
খ) **হৃৎপিণ্ড:** উভচরের হৃৎপিণ্ড **তিন প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট**, সরীসৃপের হৃৎপিণ্ড **অসম্পূর্ণভাবে চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট**।
গ) **জীবনচক্র:** উভচর জীবনচক্রের শুরুতে জলজ, সরীসৃপ সম্পূর্ণ স্থলজ।
৬. পক্ষী ও স্তন্যপায়ী উভয়ই উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট, তাদের মধ্যে দুটি পার্থক্য কী?
✅ উত্তর:
ক) **দেহাবরণ:** পক্ষীর দেহ **পালক** দ্বারা আবৃত, স্তন্যপায়ীর দেহ **লোম** বা চুল দ্বারা আবৃত।
খ) **গ্রন্থি:** পক্ষীর দেহে স্তন্যগ্রন্থি অনুপস্থিত, স্তন্যপায়ীর দেহে **স্তন্যগ্রন্থি** উপস্থিত।
গ) **অগ্রপদ:** পক্ষীর অগ্রপদ **ডানায়** রূপান্তরিত, স্তন্যপায়ীর অগ্রপদ **হাতে/পায়ে** রূপান্তরিত।