সপ্তম শ্রেণী: পরিবেশ ও বিজ্ঞান; অধ্যায় – আলো; ৩ নম্বরের ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর
অধ্যায় ২: আলো (Light) — ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন ও উত্তর (মান ৩)
1. আলো যে সরলরেখায় চলে তা একটি পরীক্ষার সাহায্যে প্রমাণ করো।
উত্তর:
উপকরণ: তিনটি সমান মাপের পিচবোর্ড, একটি মোমবাতি।
পরীক্ষা: পিচবোর্ড তিনটির ঠিক মাঝখানে একটি করে ছিদ্র করা হলো। এবার বোর্ডগুলিকে টেবিলের ওপর এমনভাবে সাজানো হলো যাতে ছিদ্র তিনটি একই সরলরেখায় থাকে। একপাশে একটি জ্বলন্ত মোমবাতি রাখা হলো এবং অন্যপাশ থেকে চোখ রাখা হলো।
পর্যবেক্ষণ: চোখ দিয়ে মোমবাতির শিখাটি দেখা যাবে। কিন্তু মাঝখানের যেকোনো একটি বোর্ডকে সামান্য সরিয়ে দিলে ছিদ্রগুলি আর একই সরলরেখায় থাকে না, তখন আর শিখাটি দেখা যায় না।
সিদ্ধান্ত: এই পরীক্ষা প্রমাণ করে যে আলো বক্রপথে চলতে পারে না, সর্বদা সরলরেখায় চলে।
[attachment_0](attachment)
উপকরণ: তিনটি সমান মাপের পিচবোর্ড, একটি মোমবাতি।
পরীক্ষা: পিচবোর্ড তিনটির ঠিক মাঝখানে একটি করে ছিদ্র করা হলো। এবার বোর্ডগুলিকে টেবিলের ওপর এমনভাবে সাজানো হলো যাতে ছিদ্র তিনটি একই সরলরেখায় থাকে। একপাশে একটি জ্বলন্ত মোমবাতি রাখা হলো এবং অন্যপাশ থেকে চোখ রাখা হলো।
পর্যবেক্ষণ: চোখ দিয়ে মোমবাতির শিখাটি দেখা যাবে। কিন্তু মাঝখানের যেকোনো একটি বোর্ডকে সামান্য সরিয়ে দিলে ছিদ্রগুলি আর একই সরলরেখায় থাকে না, তখন আর শিখাটি দেখা যায় না।
সিদ্ধান্ত: এই পরীক্ষা প্রমাণ করে যে আলো বক্রপথে চলতে পারে না, সর্বদা সরলরেখায় চলে।
[attachment_0](attachment)
2. সূচিছিদ্র ক্যামেরার গঠন ও কার্যনীতি সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর:
গঠন: একটি মুখ খোলা এবং ভেতরটা কালো রং করা কাঠের বা পিচবোর্ডের বাক্স নেওয়া হয়। খোলা মুখে একটি ঘষা কাঁচ বা ট্রেসিং পেপার (পর্দা হিসেবে) লাগানো থাকে এবং বিপরীত দিকের দেওয়ালে একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ছিদ্র থাকে।
কার্যনীতি: কোনো আলোকিত বস্তুকে ছিদ্রের সামনে রাখলে, বস্তু থেকে আগত আলোকরশ্মি ছিদ্র দিয়ে সরলরেখায় গিয়ে বিপরীত দিকের পর্দায় পড়ে। আলোর সরলরৈখিক গতির জন্য বস্তুর উপরের অংশের আলো পর্দার নিচে এবং নিচের অংশের আলো পর্দার উপরে পড়ে। ফলে পর্দায় বস্তুর একটি উল্টো প্রতিকৃতি (Inverted Image) গঠিত হয়।
[attachment_1](attachment)
গঠন: একটি মুখ খোলা এবং ভেতরটা কালো রং করা কাঠের বা পিচবোর্ডের বাক্স নেওয়া হয়। খোলা মুখে একটি ঘষা কাঁচ বা ট্রেসিং পেপার (পর্দা হিসেবে) লাগানো থাকে এবং বিপরীত দিকের দেওয়ালে একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ছিদ্র থাকে।
কার্যনীতি: কোনো আলোকিত বস্তুকে ছিদ্রের সামনে রাখলে, বস্তু থেকে আগত আলোকরশ্মি ছিদ্র দিয়ে সরলরেখায় গিয়ে বিপরীত দিকের পর্দায় পড়ে। আলোর সরলরৈখিক গতির জন্য বস্তুর উপরের অংশের আলো পর্দার নিচে এবং নিচের অংশের আলো পর্দার উপরে পড়ে। ফলে পর্দায় বস্তুর একটি উল্টো প্রতিকৃতি (Inverted Image) গঠিত হয়।
[attachment_1](attachment)
3. ছায়া ও প্রতিবিম্বের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
| বিষয় | ছায়া (Shadow) | প্রতিবিম্ব (Image) |
| ১. বর্ণ | ছায়া সবসময় কালো বা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়। বস্তুর রঙের কোনো প্রভাব থাকে না। | প্রতিবিম্ব বস্তুর মতোই রঙিন হয়। |
| ২. গঠন কারণ | আলোর গতিপথে অস্বচ্ছ বস্তু বাধা দিলে ছায়া তৈরি হয়। | আলোর প্রতিফলন বা প্রতিসরণের ফলে প্রতিবিম্ব তৈরি হয়। |
| ৩. বিবরণ | ছায়ায় বস্তুর কোনো খুঁটিনাটি বিবরণ থাকে না, শুধু সীমারেখা বোঝা যায়। | প্রতিবিম্বে বস্তুর হুবহু বিবরণ ও গঠন ফুটে ওঠে। |
4. সূর্যগ্রহণ কীভাবে সংঘটিত হয়? চিত্রসহ বর্ণনা করো।
উত্তর:
সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে চাঁদ এসে পড়লে এবং তারা একই সরলরেখায় অবস্থান করলে, চাঁদের ছায়া পৃথিবীর ওপর পড়ে। পৃথিবীর ওই ছায়াচ্ছন্ন অংশ থেকে সূর্যকে আর দেখা যায় না বা আংশিক দেখা যায়। এই ঘটনাকে সূর্যগ্রহণ বলে।
এটি সাধারণত অমাবস্যা তিথিতে ঘটে। চাঁদের প্রচ্ছায়া যেখানে পড়ে সেখানে পূর্ণগ্রাস এবং উপচ্ছায়া যেখানে পড়ে সেখানে খণ্ডগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যায়।
[attachment_2](attachment)
সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে চাঁদ এসে পড়লে এবং তারা একই সরলরেখায় অবস্থান করলে, চাঁদের ছায়া পৃথিবীর ওপর পড়ে। পৃথিবীর ওই ছায়াচ্ছন্ন অংশ থেকে সূর্যকে আর দেখা যায় না বা আংশিক দেখা যায়। এই ঘটনাকে সূর্যগ্রহণ বলে।
এটি সাধারণত অমাবস্যা তিথিতে ঘটে। চাঁদের প্রচ্ছায়া যেখানে পড়ে সেখানে পূর্ণগ্রাস এবং উপচ্ছায়া যেখানে পড়ে সেখানে খণ্ডগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যায়।
[attachment_2](attachment)
5. চন্দ্রগ্রহণ কীভাবে সংঘটিত হয়? চিত্রসহ বর্ণনা করো।
উত্তর:
সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে পৃথিবী এসে পড়লে এবং তারা একই সরলরেখায় অবস্থান করলে, পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পড়ে। ফলে চাঁদকে আর দেখা যায় না বা ম্লান দেখায়। এই ঘটনাকে চন্দ্রগ্রহণ বলে।
এটি সাধারণত পূর্ণিমা তিথিতে ঘটে। চাঁদ পুরোপুরি পৃথিবীর প্রচ্ছায়ায় ঢুকে গেলে পূর্ণগ্রাস এবং আংশিক ঢুকলে খণ্ডগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ হয়।
সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে পৃথিবী এসে পড়লে এবং তারা একই সরলরেখায় অবস্থান করলে, পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পড়ে। ফলে চাঁদকে আর দেখা যায় না বা ম্লান দেখায়। এই ঘটনাকে চন্দ্রগ্রহণ বলে।
এটি সাধারণত পূর্ণিমা তিথিতে ঘটে। চাঁদ পুরোপুরি পৃথিবীর প্রচ্ছায়ায় ঢুকে গেলে পূর্ণগ্রাস এবং আংশিক ঢুকলে খণ্ডগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ হয়।
6. প্রতি অমাবস্যায় সূর্যগ্রহণ এবং প্রতি পূর্ণিমায় চন্দ্রগ্রহণ হয় না কেন?
উত্তর:
গ্রহণ হওয়ার প্রধান শর্ত হলো সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদকে একই সরলরেখায় থাকতে হবে। কিন্তু চাঁদের কক্ষপথ পৃথিবীর কক্ষপথের সঙ্গে প্রায় $5^{\circ}$ কোণে হেলে থাকে।
এই কারণে প্রতি অমাবস্যায় চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে আসলেও একই সরলরেখায় থাকে না (একটু উপরে বা নিচে থাকে)। একইভাবে প্রতি পূর্ণিমায় পৃথিবী, সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে থাকলেও একই সরলরেখায় থাকে না। তাই প্রতি মাসে গ্রহণ হয় না।
গ্রহণ হওয়ার প্রধান শর্ত হলো সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদকে একই সরলরেখায় থাকতে হবে। কিন্তু চাঁদের কক্ষপথ পৃথিবীর কক্ষপথের সঙ্গে প্রায় $5^{\circ}$ কোণে হেলে থাকে।
এই কারণে প্রতি অমাবস্যায় চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে আসলেও একই সরলরেখায় থাকে না (একটু উপরে বা নিচে থাকে)। একইভাবে প্রতি পূর্ণিমায় পৃথিবী, সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে থাকলেও একই সরলরেখায় থাকে না। তাই প্রতি মাসে গ্রহণ হয় না।
7. নিয়মিত ও বিক্ষিপ্ত প্রতিফলনের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
| বিষয় | নিয়মিত প্রতিফলন | বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন |
| ১. প্রতিফলক তল | মসৃণ ও চকচকে তল (যেমন— আয়না)। | অমসৃণ ও খসখসে তল (যেমন— দেওয়াল)। |
| ২. প্রতিফলিত রশ্মি | সমান্তরাল আলোকরশ্মি গুচ্ছ প্রতিফলনের পরও সমান্তরাল থাকে। | সমান্তরাল আলোকরশ্মি গুচ্ছ প্রতিফলনের পর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে (অসমান্তরাল হয়)। |
| ৩. প্রতিবিম্ব | বস্তুর স্পষ্ট প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। | কোনো প্রতিবিম্ব গঠিত হয় না, তবে বস্তুটি দৃশ্যমান হয়। |
8. সিনেমার পর্দা সাদা এবং অমসৃণ রাখা হয় কেন?
উত্তর:
অমসৃণ হওয়ার কারণ: সিনেমার পর্দা অমসৃণ বা খসখসে হওয়ায় সেখানে আলোর ‘বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন’ ঘটে। ফলে প্রতিফলিত আলোকরশ্মি হলের সবদিকে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং হলের যেকোনো আসনে বসা দর্শক ছবি সমান উজ্জ্বলভাবে দেখতে পান।
সাদা হওয়ার কারণ: সাদা রং নিজের ওপর আপতিত সমস্ত বর্ণের আলোকেই প্রতিফলিত করে, কোনো বর্ণ শোষণ করে না। ফলে ছবির আসল রংগুলি অবিকৃত ও উজ্জ্বল দেখায়।
অমসৃণ হওয়ার কারণ: সিনেমার পর্দা অমসৃণ বা খসখসে হওয়ায় সেখানে আলোর ‘বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন’ ঘটে। ফলে প্রতিফলিত আলোকরশ্মি হলের সবদিকে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং হলের যেকোনো আসনে বসা দর্শক ছবি সমান উজ্জ্বলভাবে দেখতে পান।
সাদা হওয়ার কারণ: সাদা রং নিজের ওপর আপতিত সমস্ত বর্ণের আলোকেই প্রতিফলিত করে, কোনো বর্ণ শোষণ করে না। ফলে ছবির আসল রংগুলি অবিকৃত ও উজ্জ্বল দেখায়।
9. সমতল দর্পণে গঠিত প্রতিবিম্বের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
উত্তর:
১. প্রতিবিম্বটি অসদ (Virtual) এবং সমশীর্ষ (Erect) হয়।
২. দর্পণ থেকে বস্তুর দূরত্ব এবং দর্পণ থেকে প্রতিবিম্বের দূরত্ব সমান হয়।
৩. বস্তুর আকার এবং প্রতিবিম্বের আকার সমান হয়।
৪. প্রতিবিম্বের পার্শ্বীয় পরিবর্তন (Lateral Inversion) ঘটে।
১. প্রতিবিম্বটি অসদ (Virtual) এবং সমশীর্ষ (Erect) হয়।
২. দর্পণ থেকে বস্তুর দূরত্ব এবং দর্পণ থেকে প্রতিবিম্বের দূরত্ব সমান হয়।
৩. বস্তুর আকার এবং প্রতিবিম্বের আকার সমান হয়।
৪. প্রতিবিম্বের পার্শ্বীয় পরিবর্তন (Lateral Inversion) ঘটে।
10. পেরিস্কোপ কী? এর গঠন ও একটি ব্যবহার লেখো।
উত্তর:
পেরিস্কোপ: প্রতিফলনের নীতি কাজে লাগিয়ে তৈরি যে আলোকীয় যন্ত্রের সাহায্যে দৃষ্টির আড়ালে থাকা বস্তু দেখা যায়, তাকে পেরিস্কোপ বলে।
গঠন: এটি একটি ‘Z’ আকৃতির লম্বা নল। নলের দুই বাঁকে দুটি সমতল দর্পণ পরস্পরের সমান্তরালে এবং নলের অক্ষের সাথে $45^{\circ}$ কোণে বসানো থাকে।
ব্যবহার: ডুবোজাহাজ বা সাবমেরিন জলের নিচে থাকলেও জলের উপরের দৃশ্য দেখতে পেরিস্কোপ ব্যবহৃত হয়। এছাড়া বাঙ্কারে লুকিয়ে থাকা সৈন্যরা বাইরের দৃশ্য দেখতে এটি ব্যবহার করে।
[attachment_3](attachment)
পেরিস্কোপ: প্রতিফলনের নীতি কাজে লাগিয়ে তৈরি যে আলোকীয় যন্ত্রের সাহায্যে দৃষ্টির আড়ালে থাকা বস্তু দেখা যায়, তাকে পেরিস্কোপ বলে।
গঠন: এটি একটি ‘Z’ আকৃতির লম্বা নল। নলের দুই বাঁকে দুটি সমতল দর্পণ পরস্পরের সমান্তরালে এবং নলের অক্ষের সাথে $45^{\circ}$ কোণে বসানো থাকে।
ব্যবহার: ডুবোজাহাজ বা সাবমেরিন জলের নিচে থাকলেও জলের উপরের দৃশ্য দেখতে পেরিস্কোপ ব্যবহৃত হয়। এছাড়া বাঙ্কারে লুকিয়ে থাকা সৈন্যরা বাইরের দৃশ্য দেখতে এটি ব্যবহার করে।
[attachment_3](attachment)
11. আলোর বিচ্ছুরণ কাকে বলে? একটি পরীক্ষার সাহায্যে দেখাও।
উত্তর:
সংজ্ঞা: সাদা বা যৌগিক আলো প্রিজমের মতো কোনো স্বচ্ছ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় বিশ্লিষ্ট হয়ে সাতটি মৌলিক বর্ণে ভেঙে যাওয়ার ঘটনাকে আলোর বিচ্ছুরণ বলে।
পরীক্ষা: অন্ধকার ঘরে একটি ছোট ছিদ্র দিয়ে সাদা আলো (সূর্যালোক) এনে একটি প্রিজমের ওপর ফেললে দেখা যাবে, প্রিজমের অপর পাশে রাখা সাদা পর্দার ওপর সাতটি রঙের একটি রঙিন পটি বা বর্ণালি তৈরি হয়েছে। এটি প্রমাণ করে সাদা আলো সাতটি বর্ণের সমষ্টি। বিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটন এই পরীক্ষাটি করেছিলেন।
[attachment_4](attachment)
সংজ্ঞা: সাদা বা যৌগিক আলো প্রিজমের মতো কোনো স্বচ্ছ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় বিশ্লিষ্ট হয়ে সাতটি মৌলিক বর্ণে ভেঙে যাওয়ার ঘটনাকে আলোর বিচ্ছুরণ বলে।
পরীক্ষা: অন্ধকার ঘরে একটি ছোট ছিদ্র দিয়ে সাদা আলো (সূর্যালোক) এনে একটি প্রিজমের ওপর ফেললে দেখা যাবে, প্রিজমের অপর পাশে রাখা সাদা পর্দার ওপর সাতটি রঙের একটি রঙিন পটি বা বর্ণালি তৈরি হয়েছে। এটি প্রমাণ করে সাদা আলো সাতটি বর্ণের সমষ্টি। বিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটন এই পরীক্ষাটি করেছিলেন।
[attachment_4](attachment)
12. সদবিম্ব ও অসদবিম্বের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
| বিষয় | সদবিম্ব (Real Image) | অসদবিম্ব (Virtual Image) |
| ১. গঠন | প্রতিফলিত বা প্রতিসৃত রশ্মিগুলো প্রকৃতপক্ষে মিলিত হয়ে এটি গঠন করে। | রশ্মিগুলো প্রকৃতপক্ষে মিলিত হয় না, কোনো বিন্দু থেকে অপসৃত হচ্ছে বলে মনে হয়। |
| ২. পর্দা | একে পর্দায় ফেলা যায়। | একে পর্দায় ফেলা যায় না। |
| ৩. প্রকৃতি | এটি সর্বদা উল্টো (অবশীর্ষ) হয়। | এটি সর্বদা সোজা (সমশীর্ষ) হয়। |
13. আলোর প্রতিফলনের সূত্র দুটি লেখো এবং চিত্রের সাহায্যে বোঝাও।
উত্তর:
প্রথম সূত্র: আপতিত রশ্মি, প্রতিফলিত রশ্মি এবং আপতন বিন্দুতে প্রতিফলকের ওপর অঙ্কিত অভিলম্ব সর্বদা একই সমতলে থাকে।
দ্বিতীয় সূত্র: আপতন কোণ ($\angle i$) এবং প্রতিফলন কোণ ($\angle r$) পরস্পর সমান হয়। অর্থাৎ, $\angle i = \angle r$।
[চিত্র: একটি সমতল দর্পণ এঁকে আপতিত রশ্মি, প্রতিফলিত রশ্মি ও অভিলম্ব চিহ্নিত করতে হবে।]
[attachment_5](attachment)
প্রথম সূত্র: আপতিত রশ্মি, প্রতিফলিত রশ্মি এবং আপতন বিন্দুতে প্রতিফলকের ওপর অঙ্কিত অভিলম্ব সর্বদা একই সমতলে থাকে।
দ্বিতীয় সূত্র: আপতন কোণ ($\angle i$) এবং প্রতিফলন কোণ ($\angle r$) পরস্পর সমান হয়। অর্থাৎ, $\angle i = \angle r$।
[চিত্র: একটি সমতল দর্পণ এঁকে আপতিত রশ্মি, প্রতিফলিত রশ্মি ও অভিলম্ব চিহ্নিত করতে হবে।]
[attachment_5](attachment)
14. অ্যাম্বুলেন্স গাড়িতে ‘AMBULANCE’ কথাটি উল্টো করে লেখা থাকে কেন?
উত্তর:
সমতল দর্পণে বস্তুর পার্শ্বীয় পরিবর্তন ঘটে। অ্যাম্বুলেন্সের সামনে থাকা গাড়ির চালক যখন তাঁর গাড়ির রিয়ার ভিউ মিরর (Rear View Mirror)-এ পিছনের অ্যাম্বুলেন্সের দিকে তাকাবেন, তখন আয়নায় পার্শ্বীয় পরিবর্তনের ফলে গাড়ির গায়ে উল্টো করে লেখা ‘AMBULANCE’ শব্দটি তিনি সোজা এবং সঠিক বানানে দেখতে পাবেন।
এর ফলে চালক দ্রুত বুঝতে পারেন যে পিছনে অ্যাম্বুলেন্স আছে এবং তিনি সেটিকে যাওয়ার জন্য পথ ছেড়ে দেন।
সমতল দর্পণে বস্তুর পার্শ্বীয় পরিবর্তন ঘটে। অ্যাম্বুলেন্সের সামনে থাকা গাড়ির চালক যখন তাঁর গাড়ির রিয়ার ভিউ মিরর (Rear View Mirror)-এ পিছনের অ্যাম্বুলেন্সের দিকে তাকাবেন, তখন আয়নায় পার্শ্বীয় পরিবর্তনের ফলে গাড়ির গায়ে উল্টো করে লেখা ‘AMBULANCE’ শব্দটি তিনি সোজা এবং সঠিক বানানে দেখতে পাবেন।
এর ফলে চালক দ্রুত বুঝতে পারেন যে পিছনে অ্যাম্বুলেন্স আছে এবং তিনি সেটিকে যাওয়ার জন্য পথ ছেড়ে দেন।
15. রামধনু কখন এবং কেন দেখা যায়?
উত্তর:
কখন দেখা যায়: বৃষ্টির ঠিক পরেই বা বৃষ্টির সময় যদি রোদ ওঠে, তখন সূর্যের বিপরীত দিকের আকাশে রামধনু দেখা যায়।
কেন দেখা যায়: বৃষ্টির পর বাতাসে অসংখ্য ছোট ছোট জলকণা ভেসে বেড়ায়। এই জলকণাগুলি এক একটি ছোট প্রিজমের মতো কাজ করে। সূর্যের সাদা আলো এই জলকণাগুলির মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় বিচ্ছুরিত হয়ে সাতটি বর্ণে ভেঙে যায় এবং আকাশে একটি অর্ধবৃত্তাকার রঙিন পটি সৃষ্টি করে, যা আমরা রামধনু হিসেবে দেখি।
কখন দেখা যায়: বৃষ্টির ঠিক পরেই বা বৃষ্টির সময় যদি রোদ ওঠে, তখন সূর্যের বিপরীত দিকের আকাশে রামধনু দেখা যায়।
কেন দেখা যায়: বৃষ্টির পর বাতাসে অসংখ্য ছোট ছোট জলকণা ভেসে বেড়ায়। এই জলকণাগুলি এক একটি ছোট প্রিজমের মতো কাজ করে। সূর্যের সাদা আলো এই জলকণাগুলির মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় বিচ্ছুরিত হয়ে সাতটি বর্ণে ভেঙে যায় এবং আকাশে একটি অর্ধবৃত্তাকার রঙিন পটি সৃষ্টি করে, যা আমরা রামধনু হিসেবে দেখি।
16. প্রচ্ছায়া ও উপচ্ছায়ার মধ্যে পার্থক্য কী? বিন্দু আলোক উৎসে কী গঠিত হয়?
উত্তর:
পার্থক্য: প্রচ্ছায়া হলো ছায়ার মাঝখানের গাঢ় অন্ধকার অংশ যেখানে কোনো আলো পৌঁছায় না। অন্যদিকে, উপচ্ছায়া হলো প্রচ্ছায়ার চারপাশের আবছা অন্ধকার অংশ যেখানে আংশিক আলো পৌঁছায়।
বিন্দু আলোক উৎস: আলোক উৎস যদি খুব ছোট বা বিন্দু আকৃতির হয়, তবে শুধুমাত্র প্রচ্ছায়া গঠিত হয়, কোনো উপচ্ছায়া গঠিত হয় না। বিস্তৃত আলোক উৎসের ক্ষেত্রে প্রচ্ছায়া ও উপচ্ছায়া উভয়ই গঠিত হয়।
পার্থক্য: প্রচ্ছায়া হলো ছায়ার মাঝখানের গাঢ় অন্ধকার অংশ যেখানে কোনো আলো পৌঁছায় না। অন্যদিকে, উপচ্ছায়া হলো প্রচ্ছায়ার চারপাশের আবছা অন্ধকার অংশ যেখানে আংশিক আলো পৌঁছায়।
বিন্দু আলোক উৎস: আলোক উৎস যদি খুব ছোট বা বিন্দু আকৃতির হয়, তবে শুধুমাত্র প্রচ্ছায়া গঠিত হয়, কোনো উপচ্ছায়া গঠিত হয় না। বিস্তৃত আলোক উৎসের ক্ষেত্রে প্রচ্ছায়া ও উপচ্ছায়া উভয়ই গঠিত হয়।
17. সূচিছিদ্র ক্যামেরার ছিদ্র বড় করা হলে প্রতিকৃতির কী পরিবর্তন হয় এবং কেন?
উত্তর:
ছিদ্র বড় করা হলে প্রতিকৃতিটি অস্পষ্ট হয়ে যায়।
কারণ: বড় ছিদ্রকে অসংখ্য ছোট ছোট ছিদ্রের সমষ্টি হিসেবে ধরা যায়। প্রতিটি ছোট ছিদ্রের জন্য পর্দায় বস্তুর একটি করে আলাদা প্রতিকৃতি তৈরি হয়। এই অসংখ্য প্রতিকৃতি একে অপরের ওপর আংশিকভাবে উপরিপাতিত (Overlap) হয়। এর ফলে প্রতিকৃতির ধারগুলো মিশে গিয়ে একটি অস্পষ্ট বা ঝাপসা প্রতিকৃতি তৈরি করে।
ছিদ্র বড় করা হলে প্রতিকৃতিটি অস্পষ্ট হয়ে যায়।
কারণ: বড় ছিদ্রকে অসংখ্য ছোট ছোট ছিদ্রের সমষ্টি হিসেবে ধরা যায়। প্রতিটি ছোট ছিদ্রের জন্য পর্দায় বস্তুর একটি করে আলাদা প্রতিকৃতি তৈরি হয়। এই অসংখ্য প্রতিকৃতি একে অপরের ওপর আংশিকভাবে উপরিপাতিত (Overlap) হয়। এর ফলে প্রতিকৃতির ধারগুলো মিশে গিয়ে একটি অস্পষ্ট বা ঝাপসা প্রতিকৃতি তৈরি করে।
18. একটি সমতল দর্পণের সামনে $5$ সেমি দূরে একটি বস্তু রাখা আছে। দর্পণটি থেকে বস্তুর প্রতিবিম্বের দূরত্ব কত? যদি দর্পণটি বস্তুর দিকে $2$ সেমি এগিয়ে আনা হয়, তবে এখন বস্তু ও প্রতিবিম্বের মধ্যে দূরত্ব কত হবে?
উত্তর:
প্রথম ক্ষেত্রে: দর্পণ থেকে বস্তুর দূরত্ব = $5$ সেমি।
আমরা জানি, সমতল দর্পণে বস্তু দূরত্ব = প্রতিবিম্ব দূরত্ব।
$\therefore$ দর্পণ থেকে প্রতিবিম্বের দূরত্ব = $5$ সেমি।
প্রথম ক্ষেত্রে: দর্পণ থেকে বস্তুর দূরত্ব = $5$ সেমি।
আমরা জানি, সমতল দর্পণে বস্তু দূরত্ব = প্রতিবিম্ব দূরত্ব।
$\therefore$ দর্পণ থেকে প্রতিবিম্বের দূরত্ব = $5$ সেমি।
দ্বিতীয় ক্ষেত্রে: দর্পণটি $2$ সেমি এগিয়ে আনলে, এখন বস্তু দূরত্ব = $5 – 2 = 3$ সেমি।
$\therefore$ নতুন প্রতিবিম্ব দূরত্ব = $3$ সেমি।
$\therefore$ এখন বস্তু ও প্রতিবিম্বের মধ্যে মোট দূরত্ব = $3 + 3 = 6$ সেমি।