সপ্তম শ্রেণী: পরিবেশ ও বিজ্ঞান, অধ্যায় ৬: পরমাণু, অণু ও রাসায়নিক বিক্রিয়া ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর

অধ্যায় ৬: পরমাণু, অণু ও রাসায়নিক বিক্রিয়া — সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (মান ২)

1. পরমাণু ও অণুর মধ্যে দুটি প্রধান পার্থক্য লেখো।

উত্তর:
(i) অস্তিত্ব: পরমাণুর স্বাধীন অস্তিত্ব সাধারণত থাকে না (নিষ্ক্রিয় গ্যাস ছাড়া), কিন্তু অণুর স্বাধীন অস্তিত্ব আছে।
(ii) গঠন: পরমাণু প্রোটন, ইলেকট্রন ও নিউট্রন দিয়ে গঠিত। আর অণু এক বা একাধিক পরমাণু দিয়ে গঠিত।

2. মৌলিক পদার্থ ও যৌগিক পদার্থের মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর:
মৌলিক পদার্থ: যে পদার্থকে ভাঙলে সেই পদার্থ ছাড়া অন্য কোনো ভিন্ন ধর্মের পদার্থ পাওয়া যায় না। যেমন— লোহা, অক্সিজেন।
যৌগিক পদার্থ: দুই বা ততোধিক মৌলিক পদার্থ নির্দিষ্ট ওজন অনুপাতে রাসায়নিকভাবে যুক্ত হয়ে যে নতুন পদার্থ তৈরি করে। যেমন— জল ($H_2O$), কার্বন ডাইঅক্সাইড ($CO_2$)।

3. ডাল্টনের পরমাণুবাদের দুটি প্রধান স্বীকার্য লেখো।

উত্তর:
১. প্রতিটি মৌলিক পদার্থ অসংখ্য অতি ক্ষুদ্র অবিভাজ্য কণা দ্বারা গঠিত, যাদের পরমাণু বলে।
২. একই মৌলিক পদার্থের পরমাণুগুলির ভর ও রাসায়নিক ধর্ম একই, কিন্তু ভিন্ন মৌলের পরমাণুগুলির ধর্ম ও ভর আলাদা।

4. পরিবর্তনশীল যোজ্যতা কাকে বলে? একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: কিছু কিছু মৌলের একাধিক যোজ্যতা দেখা যায়। মৌলের এই ধর্মকে পরিবর্তনশীল যোজ্যতা বলে।
উদাহরণ: লোহার ($Fe$) দুটি যোজ্যতা আছে— ২ (ফেরাস) এবং ৩ (ফেরিক)।

5. ক্যাটায়ন ও অ্যানায়ন কীভাবে সৃষ্টি হয়?

উত্তর:
ক্যাটায়ন: কোনো পরমাণু এক বা একাধিক ইলেকট্রন বর্জন করলে ধনাত্মক আধানযুক্ত ক্যাটায়ন সৃষ্টি হয়। ($Na – e^- \rightarrow Na^+$)।
অ্যানায়ন: কোনো পরমাণু এক বা একাধিক ইলেকট্রন গ্রহণ করলে ঋণাত্মক আধানযুক্ত অ্যানায়ন সৃষ্টি হয়। ($Cl + e^- \rightarrow Cl^-$)।

6. মূলক (Radical) কী? একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: একাধিক মৌলের পরমাণু জোটবদ্ধ হয়ে যখন একটি আয়ন বা পরমাণু গুচ্ছের মতো আচরণ করে এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নেয়, তখন তাকে মূলক বলে।
উদাহরণ: সালফেট মূলক ($SO_4^{2-}$), নাইট্রেট মূলক ($NO_3^{-}$)।

7. রাসায়নিক সমীকরণ (Chemical Equation) কাকে বলে?

উত্তর: চিহ্ন ও সংকেতের সাহায্যে কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়াকে সংক্ষেপে প্রকাশ করার পদ্ধতিকে রাসায়নিক সমীকরণ বলে। সমীকরণের বামদিকে বিক্রিয়ক এবং ডানদিকে বিক্রিয়াজাত পদার্থ লেখা হয়।

8. $Mg$ ও $Cl$ দিয়ে গঠিত যৌগের সংকেত কী হবে? (দেওয়া আছে: $Mg$-এর যোজ্যতা ২, $Cl$-এর যোজ্যতা ১)।

উত্তর: যোজ্যতা বিনিময়ের নিয়ম অনুযায়ী:
$Mg$-এর যোজ্যতা (২) যাবে $Cl$-এর কাছে, এবং $Cl$-এর যোজ্যতা (১) যাবে $Mg$-এর কাছে।
অতএব, যৌগটির সংকেত হবে: $MgCl_2$ (ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড)।

9. বিক্রিয়ক ও বিক্রিয়াজাত পদার্থ কাকে বলে?

উত্তর:
বিক্রিয়ক: রাসায়নিক বিক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে যে পদার্থগুলো নেওয়া হয়, তাদের বিক্রিয়ক বলে।
বিক্রিয়াজাত পদার্থ: বিক্রিয়ার ফলে যে নতুন পদার্থগুলো উৎপন্ন হয়, তাদের বিক্রিয়াজাত পদার্থ বলে।

10. সমতা বিধান করো: $Mg + O_2 \rightarrow MgO$

উত্তর:
বামপক্ষে অক্সিজেন পরমাণু ২টি, কিন্তু ডানপক্ষে ১টি। তাই $MgO$-র আগে ২ বসাতে হবে। তখন $Mg$ বেড়ে যাওয়ায় বামপক্ষে $Mg$-এর আগে ২ বসাতে হবে।
সঠিক সমীকরণ: $2Mg + O_2 = 2MgO$

11. সমতা বিধান করো: $N_2 + H_2 \rightarrow NH_3$

উত্তর:
বামপক্ষে $N=2$, $H=2$। ডানপক্ষে $N=1$, $H=3$।
$NH_3$-এর আগে ২ বসালে $N=2$ এবং $H=6$ হয়। তখন বামপক্ষে $H_2$-এর আগে ৩ বসালে $H=6$ হয়।
সঠিক সমীকরণ: $N_2 + 3H_2 = 2NH_3$

12. অনুঘটক কত প্রকার ও কী কী?

উত্তর: অনুঘটক মূলত দুই প্রকার:
১. ধনাত্মক অনুঘটক: যা বিক্রিয়ার গতি বা বেগ বৃদ্ধি করে।
২. ঋণাত্মক অনুঘটক (বা বাধক): যা বিক্রিয়ার গতি বা বেগ হ্রাস করে।

13. এনজাইমের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর:
১. এনজাইম হলো প্রোটিনধর্মী জৈব অনুঘটক।
২. একটি নির্দিষ্ট এনজাইম একটি নির্দিষ্ট শারীরবৃত্তীয় কাজের জন্যই ব্যবহৃত হয় (নির্দিষ্টতা)।

14. প্রত্যক্ষ সংযোগ বিক্রিয়া ও বিয়োজন বিক্রিয়ার উদাহরণ দাও।

উত্তর:
প্রত্যক্ষ সংযোগ: কার্বন ও অক্সিজেনের সংযোগে কার্বন ডাইঅক্সাইড গঠন। ($C + O_2 \rightarrow CO_2$)
বিয়োজন: চুনাপাথরকে উত্তপ্ত করলে ক্যালশিয়াম অক্সাইড ও কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন হয়। ($CaCO_3 \rightarrow CaO + CO_2$)

15. প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় একটি মৌল কোনো যৌগের অন্য মৌলকে সরিয়ে তার জায়গা দখল করে।
উদাহরণ: লোহার টুকরো তুঁতের দ্রবণে ডোবালে, লোহা ($Fe$) তামা ($Cu$)-কে সরিয়ে নিজে জায়গা নেয়।
$Fe + CuSO_4 \rightarrow FeSO_4 + Cu$

16. নিম্নলিখিত মৌলগুলির ল্যাটিন নাম লেখো: সোডিয়াম, লোহা, পটাশিয়াম, তামা।

উত্তর:
সোডিয়াম ($Na$) $\rightarrow$ নেট্রিয়াম (Natrium)
লোহা ($Fe$) $\rightarrow$ ফেরাম (Ferrum)
পটাশিয়াম ($K$) $\rightarrow$ কেলিয়াম (Kalium)
তামা ($Cu$) $\rightarrow$ কিউপ্রাম (Cuprum)

17. ভরের নিত্যতা সূত্রটি উদাহরণসহ বোঝাও।

উত্তর: রাসায়নিক বিক্রিয়ার আগে ও পরে মোট ভরের কোনো পরিবর্তন হয় না।
যেমন, ১২ গ্রাম কার্বন ৩২ গ্রাম অক্সিজেনের সাথে পুরোপুরি পুড়ে ৪৪ গ্রাম কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন করে।
এখানে বিক্রিয়কের মোট ভর ($১২+৩২=৪৪$ গ্রাম) = বিক্রিয়াজাত পদার্থের ভর ($৪৪$ গ্রাম)।

18. অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড ও ক্যালশিয়াম ক্লোরাইডের সংকেত লেখো।

উত্তর:
১. অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড: $Al_2O_3$ (কারণ $Al$-এর যোজ্যতা ৩, $O$-এর যোজ্যতা ২)
২. ক্যালশিয়াম ক্লোরাইড: $CaCl_2$ (কারণ $Ca$-এর যোজ্যতা ২, $Cl$-এর যোজ্যতা ১)

19. পারমাণবিকতা (Atomicity) বলতে কী বোঝো?

উত্তর: কোনো মৌলের একটি অণুতে যতগুলি পরমাণু থাকে, তাকে ওই মৌলের পারমাণবিকতা বলে।
যেমন— ওজোন গ্যাসের ($O_3$) পারমাণবিকতা ৩, হিলিয়ামের ($He$) পারমাণবিকতা ১।

20. আমাদের শরীরে থাকা দুটি ধাতব ও দুটি অধাতব মৌলের নাম লেখো।

উত্তর:
ধাতব মৌল: ক্যালশিয়াম ($Ca$), লোহা ($Fe$), সোডিয়াম ($Na$)।
অধাতব মৌল: অক্সিজেন ($O$), কার্বন ($C$), হাইড্রোজেন ($H$)।

21. দহন (Combustion) কী?

উত্তর: যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় কোনো পদার্থ বায়ুর অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পুড়ে আলো ও তাপ উৎপন্ন করে, তাকে দহন বলে। এটি একটি জারণ বিক্রিয়া।

22. রাসায়নিক সমীকরণের সমতা বিধান (Balancing) করা প্রয়োজন কেন?

উত্তর: ভরের নিত্যতা সূত্র বজায় রাখার জন্য সমতা বিধান করা প্রয়োজন। এর দ্বারা দেখানো হয় যে, বিক্রিয়ার আগে ও পরে প্রতিটি মৌলের পরমাণুর সংখ্যা সমান আছে, অর্থাৎ নতুন কোনো পরমাণু সৃষ্টি বা ধ্বংস হয়নি।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার