নবম শ্রেণি: জীবন বিজ্ঞান, অধ্যায় ৪: জীববিদ্যা ও মানবকল্যাণ, পর্ব – অনাক্রম্যতা ও মানুষের রোগ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর মান ২

অনাক্রম্যতা ও মানুষের রোগ: সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

1. সহজাত ও অর্জিত অনাক্রম্যতার দুটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর দেখো
বিষয় সহজাত অনাক্রম্যতা অর্জিত অনাক্রম্যতা
উৎস জন্মগতভাবে প্রাপ্ত। জন্মের পর অর্জিত হয়।
স্থায়ীত্ব সারা জীবন থাকে। স্বল্পস্থায়ী বা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

2. সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় অনাক্রম্যতার মূল পার্থক্য কী?

উত্তর দেখো

সক্রিয় অনাক্রম্যতা: রোগজীবাণু বা টিকার প্রভাবে দেহ নিজেই অ্যান্টিবডি তৈরি করে (যেমন—টিকা নেওয়ার পর)। এটি দীর্ঘস্থায়ী।
নিষ্ক্রিয় অনাক্রম্যতা: বাইরে থেকে প্রস্তুত অ্যান্টিবডি দেহে প্রবেশ করানো হয় (যেমন—অ্যান্টিভেনম)। এটি ক্ষণস্থায়ী।


3. অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির দুটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর দেখো
  1. প্রকৃতি: অ্যান্টিজেন সাধারণত বিজাতীয় প্রোটিন বা পলিস্যাকারাইড। অ্যান্টিবডি হলো গ্লোবিউলিন জাতীয় প্রোটিন।
  2. কাজ: অ্যান্টিজেন রোগ সৃষ্টি করে বা অনাক্রম্যতা জাগায়। অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনকে ধ্বংস করে দেহকে রক্ষা করে।

4. টিকা বা ভ্যাকসিন (Vaccine) কাকে বলে?

উত্তর দেখো

মৃত, অর্ধমৃত বা নিষ্ক্রিয় রোগজীবাণু অথবা তাদের নিঃসৃত বিষ থেকে প্রস্তুত যে উপাদান সুস্থ দেহে প্রবেশ করালে ওই নির্দিষ্ট রোগের বিরুদ্ধে দেহে সক্রিয় প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে, তাকে টিকা বা ভ্যাকসিন বলে।


5. প্যাথোজেন (Pathogen) ও ভেক্টর (Vector)-এর পার্থক্য কী?

উত্তর দেখো

প্যাথোজেন: যারা সরাসরি দেহে রোগ সৃষ্টি করে (যেমন—ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া)।
ভেক্টর বা বাহক: যারা প্যাথোজেনকে এক দেহ থেকে অন্য দেহে বহন করে কিন্তু নিজেরা রোগ সৃষ্টি করে না (যেমন—মশা, মাছি)।


6. ম্যালেরিয়া রোগের দুটি প্রধান উপসর্গ লেখো।

উত্তর দেখো
  1. নির্দিষ্ট সময় অন্তর প্রবল কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা এবং ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে যাওয়া।
  2. রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া দেখা দেওয়া এবং প্লীহা (Spleen) বড় হয়ে যাওয়া।

7. ম্যালেরিয়া বা মশা নিয়ন্ত্রণের দুটি উপায় উল্লেখ করো।

উত্তর দেখো

১. জমে থাকা জলে ব্লিচিং পাউডার বা তেল স্প্রে করে মশার লার্ভা ধ্বংস করা।
২. গাপ্পি বা গ্যাম্বুসিয়া মাছ চাষ করে মশার লার্ভা ভক্ষণ করানো (জৈবিক নিয়ন্ত্রণ)।


8. ডেঙ্গু রোগের লক্ষণগুলি কী কী?

উত্তর দেখো

তীব্র জ্বর, মাথা ও চোখের পিছনে অসহ্য ব্যথা, হাড়ের জয়েন্টে ব্যথা (একে হাড়ভাঙা জ্বর বা Breakbone fever বলে) এবং চামড়ায় লালচে র‍্যাশ বের হওয়া। গুরুতর ক্ষেত্রে রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা কমে যায়।


9. ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগের কারণ ও লক্ষণ লেখো।

উত্তর দেখো

কারণ: Wuchereria bancrofti নামক গোলকৃমির সংক্রমণে হয়, যা কিউলেক্স মশা বহন করে।
লক্ষণ: লসিকা নালী ও লসিকা গ্রন্থি ফুলে যায়, হাত ও পা (বিশেষ করে পা) হাতির পায়ের মতো ফুলে ওঠে (Elephantiasis)।


10. অ্যাসকারিওসিস (Ascariasis) প্রতিরোধের দুটি উপায় লেখো।

উত্তর দেখো

১. খাবার আগে ও মলত্যাগের পরে সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধোয়া।
২. কাঁচা ফলমূল ও শাকসবজি ভালো করে ধুয়ে বা রান্না করে খাওয়া এবং খোলা খাবার না খাওয়া।


11. দাদ বা রিংওয়ার্ম (Ringworm) রোগের লক্ষণ কী?

উত্তর দেখো

ত্বকে গোলাকার, লালচে, আঁশযুক্ত দাগ সৃষ্টি হয় যা দেখতে আংটির মতো। ওই স্থানে প্রচণ্ড চুলকানি হয় এবং ধীরে ধীরে দাগটি পরিধির দিকে ছড়িয়ে পড়ে।


12. নিউমোনিয়া (Pneumonia) রোগের লক্ষণগুলি লেখো।

উত্তর দেখো

জ্বর, কাশি, বুকে ব্যথা এবং শ্বাসকষ্ট। ফুসফুসের অ্যালভিওলাই বা বায়ুথলিতে তরল জমে যাওয়ায় শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং নখ ও ঠোঁট নীলচে হয়ে যেতে পারে।


13. টাইফয়েড (Typhoid) রোগ কীভাবে ছড়ায়?

উত্তর দেখো

টাইফয়েড একটি জলবাহিত রোগ। দূষিত জল ও খাবারের মাধ্যমে Salmonella typhi ব্যাকটেরিয়া সুস্থ মানুষের দেহে প্রবেশ করে। মাছিও খাবার দূষিত করে এই রোগ ছড়াতে পারে।


14. সাধারণ সর্দি-কাশি (Common Cold) প্রতিরোধের দুটি উপায় লেখো।

উত্তর দেখো

১. আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি থেকে দূরে থাকা এবং মাস্ক ব্যবহার করা।
২. হাত পরিষ্কার রাখা এবং আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত রুমাল বা তোয়ালে ব্যবহার না করা।


15. বিনাইন (Benign) ও ম্যালিগন্যান্ট (Malignant) টিউমারের পার্থক্য কী?

উত্তর দেখো

বিনাইন টিউমার: এটি উৎপত্তিস্থলে সীমাবদ্ধ থাকে, দেহের অন্যত্র ছড়ায় না। এটি কম ক্ষতিকারক।
ম্যালিগন্যান্ট টিউমার: এটি দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং দেহের অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে (মেটাস্ফ্যাসিস)। এটি ক্যান্সার সৃষ্টি করে এবং প্রাণঘাতী।


16. মেটাস্ফ্যাসিস (Metastasis) বলতে কী বোঝো?

উত্তর দেখো

ম্যালিগন্যান্ট টিউমার থেকে ক্যান্সার কোশগুলি রক্ত বা লসিকার মাধ্যমে বাহিত হয়ে দেহের অন্য কোনো অঙ্গে বা কলাস্তরে পৌঁছায় এবং সেখানে নতুন টিউমার সৃষ্টি করে। ক্যান্সারের ছড়িয়ে পড়ার এই ধর্মকে মেটাস্ফ্যাসিস বলে।


17. এইডস (AIDS) রোগ কীভাবে সংক্রমিত হয়?

উত্তর দেখো

১. আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত সুস্থ ব্যক্তির দেহে সঞ্চালন করলে।
২. আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে অনিরাপদ যৌন মিলনের মাধ্যমে।
৩. আক্রান্ত মায়ের দেহ থেকে অমরা বা দুগ্ধপানের মাধ্যমে শিশুর দেহে।


18. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে স্বাস্থ্যের সংজ্ঞা কী?

উত্তর দেখো

স্বাস্থ্য বলতে কেবল রোগ বা দুর্বলতার অনুপস্থিতি বোঝায় না; এটি হলো শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিক—এই তিন অবস্থার সামগ্রিক কুশল বা মঙ্গলাবস্থা (Well-being)।


19. হ্যাপটেন (Hapten) কী? উদাহরণ দাও।

উত্তর দেখো

যেসব অসম্পূর্ণ অ্যান্টিজেন নিজে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারে না, কিন্তু কোনো বাহক প্রোটিনের সাথে যুক্ত হলে পূর্ণাঙ্গ অ্যান্টিজেনের মতো আচরণ করে, তাদের হ্যাপটেন বলে।
উদাহরণ: পেনিসিলিন, কিছু রাসায়নিক রঞ্জক।


20. ‘স্মৃতিকোশ’ বা মেমরি সেল (Memory Cell) কী?

উত্তর দেখো

যেসব লিম্ফোসাইট (B বা T কোশ) নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে প্রথমবার প্রতিক্রিয়া করার পর দীর্ঘকাল বেঁচে থাকে এবং ভবিষ্যতে একই জীবাণু আক্রমণ করলে দ্রুত ও প্রবলভাবে তাকে ধ্বংস করে, তাদের স্মৃতিকোশ বলে।


21. অ্যান্টিবডির গঠন সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

উত্তর দেখো

অ্যান্টিবডি অণু দেখতে ইংরেজি ‘Y’ অক্ষরের মতো। এটি ৪টি পলি-পেপটাইড শৃঙ্খল দিয়ে গঠিত—দুটি ভারী শৃঙ্খল (Heavy chain) এবং দুটি হালকা শৃঙ্খল (Light chain)। শৃঙ্খলগুলি ডাই-সালফাইড বন্ড দ্বারা পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে।

হৃদচক্রের ডায়াগ্রাম


22. প্রাথমিক ও গৌণ অনাক্রম্য সাড়ার (Immune Response) পার্থক্য কী?

উত্তর দেখো

প্রাথমিক সাড়া: জীবাণু প্রথমবার আক্রমণ করলে যে ধীরগতির ও স্বল্পস্থায়ী অনাক্রম্যতা তৈরি হয়।
গৌণ সাড়া: একই জীবাণু দ্বিতীয়বার আক্রমণ করলে স্মৃতিকোশের (Memory cell) সাহায্যে যে দ্রুত ও প্রবল অনাক্রম্যতা তৈরি হয়।


23. অ্যালার্জি (Allergy) কী? এর জন্য দায়ী কোশ ও অ্যান্টিবডির নাম লেখো।

উত্তর দেখো

পরিবেশের কিছু বিশেষ বস্তুর (অ্যালার্জেন) প্রতি দেহের অনাক্রম্যতন্ত্রের অতিসক্রিয়তাকে অ্যালার্জি বলে।
দায়ী কোশ: মাস্ট কোশ (Mast cell)।
দায়ী অ্যান্টিবডি: IgE।


24. সহজাত অনাক্রম্যতায় পাকস্থলী ও লালারসের ভূমিকা কী?

উত্তর দেখো

১. পাকস্থলী: পাকস্থলীর হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) খাদ্যের সাথে আগত জীবাণুদের মেরে ফেলে।
২. লালারস: এতে থাকা লাইসোজাইম উৎসেচক ব্যাকটেরিয়ার কোশপ্রাচীর ধ্বংস করে তাদের বিনাশ করে।


25. ইনকিউবেশন পিরিয়ড (Incubation Period) কাকে বলে?

উত্তর দেখো

জীবাণু দেহে প্রবেশ করার পর থেকে রোগের প্রথম লক্ষণ প্রকাশ পাওয়া পর্যন্ত সময়কালকে ইনকিউবেশন পিরিয়ড বা সুপ্তিকাল বলে। যেমন—ম্যালেরিয়ার ক্ষেত্রে এটি ১০-১৪ দিন।


26. ড্রপলেট সংক্রমণ (Droplet Infection) বলতে কী বোঝো?

উত্তর দেখো

আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা কথা বলার সময় মুখ ও নাক থেকে নির্গত জলকণা বা শ্লেষ্মার মাধ্যমে যখন জীবাণু বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং সুস্থ ব্যক্তিকে আক্রমণ করে, তখন তাকে ড্রপলেট সংক্রমণ বলে। যক্ষ্মা, ইনফ্লুয়েঞ্জা এভাবে ছড়ায়।


27. বাহক বা ক্যারিয়ার (Carrier) কাকে বলে? একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর দেখো

যে ব্যক্তি নিজের দেহে রোগজীবাণু বহন করে এবং অন্যদের সংক্রমিত করে, কিন্তু নিজে রোগের লক্ষণ প্রকাশ করে না, তাকে বাহক বলে।
উদাহরণ: টাইফয়েড রোগের বাহক (যেমন—মেরি ম্যালন বা টাইফয়েড মেরি)।


28. ম্যালেরিয়া পরজীবীর দুটি পোষকের নাম লেখো।

উত্তর দেখো

১. মুখ্য পোষক: স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা (যেখানে যৌন জনন ঘটে)।
২. গৌণ পোষক: মানুষ (যেখানে অযৌন জনন ঘটে)।


29. ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগ প্রতিরোধের দুটি উপায় লেখো।

উত্তর দেখো

১. মশার কামড় থেকে বাঁচতে মশারি ব্যবহার করা, কারণ কিউলেক্স মশা রাতে কামড়ায়।
২. জমা জল পরিষ্কার রাখা বা জমা জলে তেল ঢেলে মশার লার্ভা ধ্বংস করা।


30. কলেরা রোগের লক্ষণগুলি লেখো।

উত্তর দেখো

ক্রমাগত চাল-ধোয়া জলের মতো মলত্যাগ (Rice water stool), বমি হওয়া, শরীর থেকে জল বেরিয়ে গিয়ে চামড়া কুঁচকে যাওয়া এবং তীব্র জল পিপাসা পাওয়া।


31. সাধারণ মাছি কীভাবে রোগ ছড়ায়?

উত্তর দেখো

মাছি নোংরা আবর্জনা ও মলের ওপর বসে, ফলে তার পায়ে ও ডানায় অসংখ্য জীবাণু আটকে যায়। পরে ওই মাছি খোলা খাবারে বসলে জীবাণু খাবারে মিশে যায় এবং সেই খাবার খেলে মানুষ অসুস্থ হয়। এভাবেই কলেরা ও টাইফয়েড ছড়ায়।


32. বায়োপসি (Biopsy) কী?

উত্তর দেখো

ক্যান্সার নির্ণয়ের জন্য শরীরের সন্দেহজনক টিউমার বা কলা থেকে সামান্য অংশ কেটে নিয়ে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে পরীক্ষা করার পদ্ধতিকে বায়োপসি বলে।


33. স্বাভাবিক কোশ ও ক্যান্সার কোশের দুটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর দেখো

১. স্বাভাবিক কোশের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রিত, কিন্তু ক্যান্সার কোশের বৃদ্ধি অনিয়ন্ত্রিত ও দ্রুত।
২. স্বাভাবিক কোশে ‘কন্ট্যাক্ট ইনহিবিশন’ ধর্ম থাকে, ক্যান্সার কোশে তা নষ্ট হয়ে যায়।


34. ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি (Personal Hygiene) বলতে কী বোঝো?

উত্তর দেখো

নিজেকে রোগমুক্ত ও সুস্থ রাখার জন্য প্রতিদিনের জীবনে যেসব নিয়মকানুন মেনে চলা হয় (যেমন—নিয়মিত স্নান করা, হাত ধোয়া, নখ কাটা, দাঁত মাজা), তাকে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি বলে।


35. সমাজভিত্তিক স্বাস্থ্যবিধি (Community Hygiene) কী?

উত্তর দেখো

সমগ্র সমাজ বা গোষ্ঠীকে সুস্থ রাখার জন্য পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, আবর্জনা সঠিক স্থানে ফেলা, বিশুদ্ধ জলের ব্যবস্থা করা এবং নিকাশি ব্যবস্থা উন্নত করাকে সমাজভিত্তিক স্বাস্থ্যবিধি বলে।


36. জলবাহিত রোগ প্রতিরোধের দুটি উপায় লেখো।

উত্তর দেখো

১. সর্বদা জল ফুটিয়ে বা ফিল্টার করে পান করা।
২. পানীয় জলের উৎসকে (যেমন—কুঁ, টিউবওয়েল) শৌচাগার ও আবর্জনা থেকে দূরে রাখা।


37. রক্ত সঞ্চালনের আগে কী কী সতর্কতা নেওয়া উচিত?

উত্তর দেখো

দাতার রক্তে HIV, হেপাটাইটিস-বি বা ম্যালেরিয়ার জীবাণু আছে কিনা তা পরীক্ষা করে নেওয়া বাধ্যতামূলক। এটি না করলে গ্রহীতার দেহে এইডস বা হেপাটাইটিস ছড়াতে পারে।


38. টিকাকরণের (Vaccination) দুটি গুরুত্ব লেখো।

উত্তর দেখো

১. টিকাকরণ দেহে নির্দিষ্ট রোগের বিরুদ্ধে স্থায়ী প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে (যেমন—পোলিও, হাম)।
২. এটি মহামারী প্রতিরোধে এবং শিশু মৃত্যুহার কমাতে সাহায্য করে।


39. অ্যাসকারিওসিস বা গোলকৃমির সংক্রমণের লক্ষণ কী?

উত্তর দেখো

পেটে ব্যথা, বদহজম, বমি বমি ভাব এবং শিশুদের ক্ষেত্রে অপুষ্টি ও দৈহিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া। কৃমির সংখ্যা বাড়লে অন্ত্রে বাধার সৃষ্টি হতে পারে।


40. WASH কর্মসূচি বলতে কী বোঝো?

উত্তর দেখো

WASH মানে হলো Water, Sanitation and Hygiene। এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফের একটি যৌথ উদ্যোগ যা নিরাপদ পানীয় জল, উন্নত স্যানিটেশন বা শৌচাগার এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা গড়ে তোলে।


সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) — অনাক্রম্যতা ও রোগ

টিকা বা ভ্যাকসিন (Vaccine) কীভাবে কাজ করে?

টিকা হলো মৃত বা দুর্বল জীবাণু থেকে তৈরি একটি উপাদান। এটি দেহে প্রবেশ করালে শরীর একে শত্রু মনে করে এবং এর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে। ফলে ভবিষ্যতে আসল শক্তিশালী জীবাণু আক্রমণ করলে দেহের ইমিউন সিস্টেম বা স্মৃতিকোশ দ্রুত তাকে চিনে ধ্বংস করতে পারে।

অ্যান্টিবডি এবং অ্যান্টিবায়োটিকের মধ্যে পার্থক্য কী?

অ্যান্টিবডি: এটি আমাদের শরীরের রক্তে তৈরি হওয়া একপ্রকার প্রোটিন যা জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে।

অ্যান্টিবায়োটিক: এটি ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক থেকে তৈরি ওষুধ যা অন্য ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। অ্যান্টিবায়োটিক ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে না।

ডেঙ্গু এবং ম্যালেরিয়ার জ্বরের মধ্যে মূল পার্থক্য কী?

ম্যালেরিয়া জ্বরে সাধারণত নির্দিষ্ট সময় অন্তর কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে এবং ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ে। অন্যদিকে, ডেঙ্গু জ্বরে হাড়ের জয়েন্টে এবং চোখের পিছনে তীব্র ব্যথা হয়, যাকে ‘হাড়ভাঙা জ্বর’ বলা হয়, এবং শরীরে র‍্যাশ বের হতে পারে।

এইডস (AIDS) রোগ কীভাবে ছড়ায় না?

এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে করমর্দন, কোলাকুলি, একই থালা-বাসনে খাবার খাওয়া বা একই শৌচাগার ব্যবহার করলে এইডস ছড়ায় না। এটি কেবল রক্ত, যৌন মিলন বা মায়ের দুধের মাধ্যমে ছড়ায়।

ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি বা Personal Hygiene কেন গুরুত্বপূর্ণ?

নিয়মিত হাত ধোয়া, স্নান করা এবং পরিষ্কার পোশাক পরা শরীরকে জীবাণুমুক্ত রাখে। এটি দাদ, আমাশয়, কৃমি এবং করোনার মতো সংক্রামক রোগ থেকে আমাদের রক্ষা করে।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার