নবম শ্রেণী: ইতিহাস, অধ্যায় -1 ফরাসি বিপ্লবের কয়েকটি দিক, ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর মান 4

অধ্যায় ১: ফরাসি বিপ্লবের কয়েকটি দিক – বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন

1. ফরাসি বিপ্লবের প্রাক্কালে ফ্রান্সের সমাজ কাঠামো কেমন ছিল?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দের ফরাসি বিপ্লব ছিল মূলত বৈষম্যমূলক সমাজ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক প্রবল প্রতিবাদ। বিপ্লবের পূর্বে ফরাসি সমাজ তিনটি শ্রেণিতে বা ‘এস্টেট’-এ বিভক্ত ছিল।

সমাজ কাঠামো:

  • প্রথম এস্টেট (যাজক): যাজকরা ছিল সমাজের সুবিধভোগী শ্রেণি। তারা দেশের বিপুল জমির মালিক ছিল এবং সরকারকে কোনো কর দিত না। উল্টে তারা কৃষকদের কাছ থেকে ‘টাইদ’ বা ধর্মকর আদায় করত।
  • দ্বিতীয় এস্টেট (অভিজাত): এরা ছিল সমাজের অপর এক সুবিধভোগী শ্রেণি। সরকারি উচ্চপদ, বিচারালয় এবং সেনাবাহিনীতে এদের একচেটিয়া অধিকার ছিল। এরাও প্রায় করমুক্ত ছিল এবং কৃষকদের ওপর নানা কর চাপাত।
  • তৃতীয় এস্টেট (সাধারণ মানুষ): সমাজের ৯৭% মানুষই ছিল এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। বুর্জোয়া, কৃষক, শ্রমিক, সাকুলৎ—সবাই ছিল এই দলে। এদের কোনো রাজনৈতিক অধিকার ছিল না, অথচ রাষ্ট্রের সমস্ত করের বোঝা এদেরই বহন করতে হতো।

উপসংহার: এই সামাজিক বৈষম্য এবং তৃতীয় এস্টেটের বঞ্চনাই ফরাসি বিপ্লবের বারুদে অগ্নিসংযোগ করেছিল।


2. ফরাসি বিপ্লবে দার্শনিকদের অবদান আলোচনা করো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ফরাসি বিপ্লব কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। ফরাসি দার্শনিকরা তাদের লেখনীর মাধ্যমে জনগণের মনে বিপ্লবের মানসিক ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিলেন।

দার্শনিকদের ভূমিকা:

  • মন্তেস্কু (Montesquieu): তিনি তাঁর ‘দ্য স্পিরিট অফ লজ’ গ্রন্থে রাজতন্ত্রের স্বৈরাচারী ক্ষমতার সমালোচনা করেন এবং ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির কথা বলেন।
  • ভলতেয়ার (Voltaire): তিনি চার্চের দুর্নীতি এবং ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বাকস্বাধীনতার সপক্ষে জনমত গড়ে তোলেন।
  • রুশো (Rousseau): তিনি ছিলেন বিপ্লবের প্রাণপুরুষ। তাঁর ‘সামাজিক চুক্তি’ (Social Contract) গ্রন্থে তিনি বলেন—”রাজা ঈশ্বরের প্রতিনিধি নন, জনগণের ইচ্ছার ফল।” তাঁর সাম্য ও মৈত্রীর বাণী জনগণকে উদ্দীপ্ত করে।

উপসংহার: দার্শনিকরা সরাসরি বিপ্লবে যোগ দেননি ঠিকই, কিন্তু তাদের চিন্তাধারা ফরাসি জাতিকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করেছিল।


3. ফরাসি বিপ্লবের অর্থনৈতিক কারণগুলি কী ছিল?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ফরাসি বিপ্লবের পশ্চাতে ফ্রান্সের দেউলিয়া অর্থনীতি এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ঐতিহাসিকরা একে ‘রুটি ও মাখনের লড়াই’ বলেও অভিহিত করেছেন।

কারণসমূহ:

  • বৈষম্যমূলক কর ব্যবস্থা: ফ্রান্সের কর ব্যবস্থার মূল ত্রুটি ছিল—”যারা কর দিতে পারত (যাজক ও অভিজাত), তারা কর দিত না; আর যারা পারত না (তৃতীয় শ্রেণি), তাদের সব কর দিতে হতো।”
  • রাজপরিবারের বিলাসিতা: ভার্সাই রাজপ্রাসাদে রাজা ও রানির বিলাসিতার জন্য বিপুল অর্থ অপচয় হতো। রানি মেরি আঁতোয়ানেত ছিলেন অপচয়ের প্রতিমূর্তি।
  • যুদ্ধজনিত ব্যয়: আমেরিকা স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহায্য করতে গিয়ে ফ্রান্সের রাজকোষ শূন্য হয়ে পড়ে এবং ঋণের বোঝা বাড়ে।
  • দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি: প্রাকৃতিক দুর্যোগে শস্যহানি হওয়ায় রুটির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়।

উপসংহার: এই অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করতে গিয়েই রাজা ষোড়শ লুই স্টেটস জেনারেলের অধিবেশন ডাকতে বাধ্য হন, যা বিপ্লবের সূচনা করে।


4. ‘টেনিস কোর্টের শপথ’ (Tennis Court Oath) সম্পর্কে টীকা লেখো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ফরাসি বিপ্লবের ইতিহাসে টেনিস কোর্টের শপথ (১৭৮৯ সালের ২০ জুন) একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এটি ছিল রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে বুর্জোয়াদের প্রথম প্রত্যক্ষ চ্যালেঞ্জ।

ঘটনা: স্টেটস জেনারেলের অধিবেশনে তৃতীয় এস্টেটের প্রতিনিধিরা মাথা পিছু ভোটের দাবি জানালে রাজা তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং তাদের সভাকক্ষ বন্ধ করে দেন। তখন ক্ষুব্ধ প্রতিনিধিরা নিকটবর্তী এক টেনিস খেলার মাঠে সমবেত হন।

শপথ: মিরাব ও অ্যাবে সিয়াসের নেতৃত্বে তারা শপথ নেন যে, “যতদিন না ফ্রান্সের জন্য একটি নতুন সংবিধান রচিত হচ্ছে, ততদিন তারা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।”

গুরুত্ব: এই শপথের ফলে রাজা নতিস্বীকার করতে বাধ্য হন এবং তৃতীয় এস্টেটের জয় সূচিত হয়। এটি ছিল বিপ্লবের পথে প্রথম বড় পদক্ষেপ।


5. বাস্তিল দুর্গের পতনের গুরুত্ব আলোচনা করো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ জুলাই প্যারিসের উত্তেজিত জনতা কুখ্যাত বাস্তিল দুর্গ আক্রমণ ও ধ্বংস করে। এই ঘটনা বিপ্লবের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যোগ করে।

গুরুত্ব:

  • স্বৈরাচারের পতন: বাস্তিল দুর্গ ছিল বোরবন রাজতন্ত্রের স্বৈরাচার ও অত্যাচারের প্রতীক। এর পতন রাজতন্ত্রের মূলেই কুঠারাঘাত করে।
  • জনগণের জয়: এটি ছিল সাধারণ মানুষের প্রথম বড় সামরিক বিজয়। এর ফলে জনতার আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বেড়ে যায়।
  • বিপ্লবের বিস্তার: এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সারা ফ্রান্সের গ্রামাঞ্চলে কৃষকরা জমিদারদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করে।
  • জাতীয় উৎসব: এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ফ্রান্সে ১৪ জুলাই ‘জাতীয় দিবস’ হিসেবে পালিত হয়।

6. ফরাসি বিপ্লবে নারীদের ভূমিকা কী ছিল?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ফরাসি বিপ্লবে নারীরা কেবল নীরব দর্শক ছিলেন না, তাঁরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

অবদান:

  • ভার্সাই অভিযান: ১৭৮৯ সালের ৫ অক্টোবর খাদ্যের দাবিতে প্রায় ৭ হাজার নারী প্যারিস থেকে ভার্সাই রাজপ্রাসাদ অভিমুখে পদযাত্রা করেন। তাঁরা রাজাকে প্যারিসে ফিরে আসতে বাধ্য করেন।
  • ক্লাব গঠন: নারীরা নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য প্রায় ৬০টি ক্লাব গঠন করেন। এর মধ্যে ‘সোসাইটি অফ রেভোলিউশনারি রিপাবলিকান উইমেন’ ছিল বিখ্যাত।
  • সশস্ত্র অংশগ্রহণ: বাস্তিল দুর্গ আক্রমণেও অনেক নারী অংশ নিয়েছিলেন।

উপসংহার: যদিও বিপ্লব নারীদের ভোটাধিকার দেয়নি, তবুও এটি তাদের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ ঘটিয়েছিল।


7. ‘ব্যক্তি ও নাগরিকের অধিকার ঘোষণাপত্র’ (Declaration of the Rights of Man) সম্পর্কে কী জানো?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ১৭৮৯ সালের ২৬ আগস্ট ফ্রান্সের সংবিধান সভা ‘ব্যক্তি ও নাগরিকের অধিকার ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ করে। এটি রুশোর মতবাদ এবং আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের দ্বারা প্রভাবিত ছিল।

মূল নীতিসমূহ:

  • মানুষ জন্মগতভাবে স্বাধীন এবং সমান অধিকারের অধিকারী।
  • আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান।
  • বাকস্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার।
  • ব্যক্তিগত সম্পত্তি দখলের অধিকার অলঙ্ঘনীয়।
  • সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস হলো জনগণ।

গুরুত্ব: এই দলিলটি ফরাসি জাতিকে পরাধীন প্রজা থেকে স্বাধীন নাগরিকে উন্নীত করে এবং সামন্ততন্ত্রের মৃত্যুঘণ্টা বাজিয়ে দেয়।


8. ‘মহাতঙ্ক’ বা ‘দ্য গ্রেট ফিয়ার’ (The Great Fear) কী?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: বাস্তিল দুর্গের পতনের পর ১৭৮৯ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ফ্রান্সের গ্রামাঞ্চলে যে ব্যাপক কৃষক বিদ্রোহ ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়, তাকে ‘মহাতঙ্ক’ বলে।

কারণ: গ্রামে গুজব ছড়ায় যে, অভিজাতরা ভাড়াটে গুণ্ডা দিয়ে কৃষকদের শস্য ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছে। এই ভয়ে কৃষকরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে।

ঘটনা: কৃষকরা আত্মরক্ষার জন্য লাঠি, কাস্তে নিয়ে জমিদারদের প্রাসাদ আক্রমণ করে, নথিপত্র পুড়িয়ে দেয় এবং লুটপাট চালায়।

ফলাফল: এই বিদ্রোহের ফলে ভীত হয়ে অভিজাতরা দেশ ছেড়ে পালাতে শুরু করে এবং ৪ আগস্ট সংবিধান সভা সামন্তপ্রথার বিলোপ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।


9. ‘সাকুলৎ’ (Sans-culottes) কাদের বলা হতো? বিপ্লবে তাদের ভূমিকা কী?

বিস্তারিত উত্তর

পরিচয়: ফরাসি বিপ্লবের সময় শহরের দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষ, যেমন—দিনমজুর, কুলি, মালি, ভিস্তিওয়ালাদের ‘সাকুলৎ’ বলা হতো। আভিধানিক অর্থে এর মানে ‘ব্রিচেস বা পাজামা হীন’। তারা অভিজাতদের মতো পাজামা না পরে ঢিলেঢালা প্যান্ট পরত।

ভূমিকা:

  • তারা ছিল বিপ্লবের জঙ্গি বাহিনী। বাস্তিল দুর্গ আক্রমণ ও সেপ্টেম্বরের হত্যাকাণ্ডে তারা নেতৃত্ব দেয়।
  • রাজতন্ত্রের পতনে এবং জ্যাকোবিন দলের ক্ষমতা দখলে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
  • তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমানো এবং ধনীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানায়।

10. ফরাসি বিপ্লবে বুর্জোয়া শ্রেণির ভূমিকা কী ছিল?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ফরাসি বিপ্লবকে অনেকে ‘বুর্জোয়া বিপ্লব’ বলে থাকেন। তৃতীয় এস্টেটের মধ্যে শিক্ষিত ও ধনী অংশ (আইনজীবী, চিকিৎসক, ব্যবসায়ী) বুর্জোয়া নামে পরিচিত ছিল।

ভূমিকা:

  • নেতৃত্ব দান: বিপ্লবের নেতৃত্ব ছিল মূলত বুর্জোয়াদের হাতে। টেনিস কোর্টের শপথ থেকে সংবিধান সভা গঠন—সবকিছুতেই তাদের প্রাধান্য ছিল।
  • আদর্শ প্রচার: দার্শনিকদের সাম্য ও স্বাধীনতার বাণী তারা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়।
  • স্বার্থ রক্ষা: বিপ্লবের প্রথম পর্যায়ে তারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য সংবিধান রচনা করে এবং ভোটাধিকার কেবল ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে।

11. ষোড়শ লুই-এর অযোগ্যতা বিপ্লবের জন্য কতটা দায়ী ছিল?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: রাজা ষোড়শ লুই ছিলেন ব্যক্তিগতভাবে সৎ কিন্তু শাসক হিসেবে দুর্বল ও ব্যক্তিত্বহীন।

দায়ী হওয়ার কারণ:

  • সিদ্ধান্তহীনতা: তিনি নিজের বুদ্ধিতে দেশ চালাতে পারতেন না। তিনি রানি মেরি আঁতোয়ানেত ও চাটুকার সভাসদদের দ্বারা প্রভাবিত হতেন।
  • সংস্কার বিমুখতা: তুর্গ বা নেকারের মতো যোগ্য অর্থমন্ত্রীদের পরামর্শ মেনে তিনি অভিজাতদের ওপর কর বসালে বিপ্লব এড়ানো যেত। কিন্তু রানির কথায় তিনি তাদের বরখাস্ত করেন।
  • বাস্তবতা বর্জন: জনগণের দুঃখ-কষ্ট সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণা ছিল না। তাঁর এই উদাসীনতা ও অযোগ্যতাই রাজতন্ত্রের পতন ত্বরান্বিত করে।

12. ১৭৮৯ সালে বিপ্লব কেন ফ্রান্সে হয়েছিল (অন্য দেশে নয়)?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: অষ্টাদশ শতকে ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় ফ্রান্সের অবস্থা ছিল ভিন্ন। তাই বিপ্লব ফ্রান্সেই প্রথম হয়।

কারণ:

  • দার্শনিকদের প্রভাব: ফ্রান্সে যত প্রতিভাবান দার্শনিক জন্মেছিলেন, ইউরোপের অন্য কোথাও তা দেখা যায়নি।
  • বুর্জোয়াদের অসন্তোষ: ফ্রান্সের বুর্জোয়ারা ছিল অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী কিন্তু রাজনৈতিকভাবে অধিকারহীন। এই অসামঞ্জস্য তাদের বিপ্লবী করে তোলে।
  • বিপ্লবী ঐতিহ্য: ফরাসি জনগণ ছিল অনেক বেশি সচেতন এবং অন্যায়ের প্রতিবাদে মুখর।
  • কেন্দ্রীয় শাসন: প্যারিস কেন্দ্রিক শাসন ব্যবস্থা বিপ্লবকে দ্রুত ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করেছিল।

13. ‘সন্ত্রাসের রাজত্ব’ (Reign of Terror) বলতে কী বোঝো?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ১৭৯৩ থেকে ১৭৯৪ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সে রোবোস্পিয়রের নেতৃত্বে জেকোবিন দল যে কঠোর ও ভীতিপ্রদ শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছিল, তাকে ‘সন্ত্রাসের রাজত্ব’ বলা হয়।

উদ্দেশ্য:

  • অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমন করা এবং রাজতন্ত্রী ও প্রতিবিপ্লবীদের হাত থেকে বিপ্লবকে রক্ষা করা।
  • বিদেশি আক্রমণের মোকাবিলা করে ফ্রান্সের স্বাধীনতা বজায় রাখা।

কার্যকলাপ: এই সময় সন্দেহের বশে প্রায় ৩৫-৪০ হাজার মানুষকে গিলোটিনে হত্যা করা হয়। রানি মেরি আঁতোয়ানেত এবং বহু জিরন্ডিস্ট নেতাকেও হত্যা করা হয়।

উপসংহার: ঐতিহাসিকরা একে ‘জরুরি অবস্থা’ বা ‘বিপ্লবের আত্মরক্ষা’ বলে অভিহিত করেছেন, যদিও এর বাড়াবাড়ি ছিল অমানবিক।


14. রোবোস্পিয়র (Robespierre) কে ছিলেন? তাঁর পতনের কারণ কী?

বিস্তারিত উত্তর

পরিচয়: ম্যাক্সিমিলিয়ান রোবোস্পিয়র ছিলেন জেকোবিন দলের প্রধান নেতা এবং সন্ত্রাসের রাজত্বের মূল পরিচালক। তাঁকে ‘দুর্নীতিহীন’ (Incorruptible) বলা হতো।

পতনের কারণ:

  • অতিরিক্ত কঠোরতা: তিনি নিজের দলের সদস্যদেরও রেহাই দিতেন না। ড্যান্টন ও হেবার্টের মতো সতীর্থদের হত্যা করায় দলের মধ্যেই তাঁর শত্রু তৈরি হয়।
  • জনসমর্থন হ্রাস: সন্ত্রাসের বাড়াবাড়ি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় সাধারণ মানুষ তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়।
  • থার্মিডোরীয় প্রতিক্রিয়া: অবশেষে ১৭৯৪ সালের ২৭ জুলাই (৯ থার্মিডোর) কনভেনশনের সদস্যরা তাঁকে গ্রেপ্তার করে এবং পরদিন গিলোটিনে হত্যা করে।

15. জেকোবিন ও জিরন্ডিস্ট দলের মধ্যে পার্থক্য কী ছিল?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ফরাসি বিপ্লবের সময় আইনসভায় দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল ছিল—জেকোবিন ও জিরন্ডিস্ট।

বিষয় জেকোবিন জিরন্ডিস্ট
মতাদর্শ চরমপন্থী বামপন্থী। তারা প্যারিস কেন্দ্রিক শাসনে বিশ্বাসী ছিল। নরমপন্থী ও উদারতন্ত্রী। তারা প্রাদেশিক স্বায়ত্ত্বশাসনে বিশ্বাসী ছিল।
সমর্থক নিম্নবিত্ত ও সাকুলৎ শ্রেণি (শহুরে গরিব)। ধনী বুর্জোয়া ও ব্যবসায়ী শ্রেণি।
নেতা রোবোস্পিয়র, ড্যান্টন, ম্যারা। ব্রিসো, ভার্নিয়া।

16. ডাইরেক্টরি শাসন (Directory Rule) সম্পর্কে কী জানো?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: সন্ত্রাসের রাজত্বের অবসানের পর ১৭৯৫ থেকে ১৭৯৯ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সে ৫ জন ডাইরেক্টর বা পরিচালকের নেতৃত্বে যে শাসন ব্যবস্থা চলে, তাকে ডাইরেক্টরি শাসন বলে।

বৈশিষ্ট্য:

  • এটি ছিল মূলত বুর্জোয়াদের শাসন।
  • আইনসভায় দুটি কক্ষ ছিল—পাঁচশো জনের সভা ও বয়োজ্যেষ্ঠদের সভা।

ব্যর্থতা: এই শাসন ছিল অত্যন্ত দুর্নীতিগ্রস্ত, অদক্ষ এবং বিশৃঙ্খল। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণে তারা ব্যর্থ হয়। ফলে জনগণ এর ওপর আস্থা হারায় এবং নেপোলিয়নের উত্থানের পথ প্রশস্ত হয়।


17. ১৮ ব্রুমিয়ারের ঘটনা (Coup of 18 Brumaire) কী?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দের ৯ নভেম্বর (ফরাসি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৮ ব্রুমিয়ার) নেপোলিয়ন বোনাপার্ট এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ডাইরেক্টরি শাসনের অবসান ঘটান।

ঘটনা: নেপোলিয়ন আইনসভার সদস্যদের ভয় দেখিয়ে ক্ষমতা দখল করেন এবং নিজেকে ‘প্রথম কনসাল’ হিসেবে ঘোষণা করেন।

গুরুত্ব: এই ঘটনার মাধ্যমেই ফরাসি বিপ্লবের একটি পর্বের সমাপ্তি ঘটে এবং নেপোলিয়নীয় যুগের সূচনা হয়। তিনি ফ্রান্সে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন।


18. কোড নেপোলিয়ন (Code Napoleon)-এর গুরুত্ব আলোচনা করো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: নেপোলিয়নের শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো ১৮০৪ সালে প্রবর্তিত ফ্রান্সের আইনবিধি বা ‘কোড নেপোলিয়ন’। তিনি নিজে বলেছিলেন, “আমার ৪০টি যুদ্ধজয়ের চেয়ে এই সিভিল কোড আমাকে বেশিদিন বাঁচিয়ে রাখবে।”

বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব:

  • আইনের দৃষ্টিতে সাম্য: এই আইনে জন্মগত সুযোগ-সুবিধা বাতিল করে আইনের চোখে সবাইকে সমান ঘোষণা করা হয়।
  • সম্পত্তির অধিকার: ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
  • ধর্মীয় সহিষ্ণুতা: ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার দেওয়া হয়।
  • পারিবারিক শৃঙ্খলা: পরিবারের ওপর পিতার কর্তৃত্ব স্থাপন করা হয়।

উপসংহার: এই আইনবিধি কেবল ফ্রান্স নয়, ইউরোপের বহু দেশের আইন ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করেছিল।


19. মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা (Continental System) কী? এটি কেন ব্যর্থ হয়?

বিস্তারিত উত্তর

সংজ্ঞা: ইংল্যান্ডকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার জন্য নেপোলিয়ন ১৮০৬ সালে বার্লিন ডিক্রির মাধ্যমে ইউরোপের বন্দরগুলোতে ব্রিটিশ পণ্য ঢোকা নিষিদ্ধ করেন। এই অর্থনৈতিক অবরোধকেই মহাদেশীয় ব্যবস্থা বলা হয়।

ব্যর্থতার কারণ:

  • নৌবাহিনীর দুর্বলতা: ইংল্যান্ডের শক্তিশালী নৌবাহিনীর সামনে ফ্রান্সের অবরোধ কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।
  • পণ্যের অভাব: ব্রিটিশ পণ্যের বিকল্প জোগান দিতে ফ্রান্স ব্যর্থ হয়, ফলে ইউরোপে হাহাকার দেখা দেয়।
  • মিত্রদের অসহযোগিতা: রাশিয়া, পর্তুগাল ও স্পেন এই ব্যবস্থা মানতে অস্বীকার করে, যা নেপোলিয়নকে যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলে।

20. নেপোলিয়নকে কেন ‘বিপ্লবের সন্তান’ বলা হয়?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ফরাসি বিপ্লবের আদর্শ ও পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই ক্ষমতায় এসেছিলেন।

যুক্তি:

  • সুযোগের সদ্ব্যবহার: বিপ্লব না হলে এক সাধারণ কর্সিকান পরিবারের সন্তান হয়ে তিনি ফ্রান্সের সম্রাট হতে পারতেন না। বিপ্লবই মেধা অনুযায়ী পদোন্নতির সুযোগ করে দিয়েছিল।
  • আদর্শ রক্ষা: তিনি বিপ্লবের মূল নীতি—সাম্য ও মৈত্রীকে রক্ষা করেছিলেন। কোড নেপোলিয়নের মাধ্যমে তিনি সামন্ততন্ত্রের বিনাশ এবং আইনের সাম্য প্রতিষ্ঠা করেন।
  • বিপ্লবের প্রসার: তিনি ইউরোপের যেখানেই অভিযান চালিয়েছেন, সেখানেই বিপ্লবের বাণী পৌঁছে দিয়েছেন।

মন্তব্য: যদিও তিনি গণতন্ত্র হত্যা করেছিলেন, তবুও সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন বিপ্লবের ধারক ও বাহক।


21. সিভিল কনস্টিটিউশন অফ দ্য ক্লার্জি (Civil Constitution of the Clergy) কী?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ১৭৯০ সালে ফরাসি সংবিধান সভা চার্চের ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য এই আইন পাস করে।

বৈশিষ্ট্য:

  • গির্জার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রের সম্পত্তিতে পরিণত করা হয়।
  • যাজকদের সরকারি কর্মচারী হিসেবে গণ্য করা হয় এবং তাদের বেতন রাষ্ট্র থেকে দেওয়ার ব্যবস্থা হয়।
  • পোপের ক্ষমতা খর্ব করে যাজকদের নির্বাচনের মাধ্যমে নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়।

ফলাফল: এই আইনের ফলে ফরাসি সমাজ ও যাজক সম্প্রদায় দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। পোপ এর তীব্র বিরোধিতা করেন, যা বিপ্লবীদের সমস্যায় ফেলেছিল।


22. ফরাসি বিপ্লবের আদর্শগুলি (সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতা) আলোচনা করো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ফরাসি বিপ্লবের মূল মন্ত্র ছিল তিনটি শব্দ—সাম্য (Equality), মৈত্রী (Fraternity) এবং স্বাধীনতা (Liberty)।

ব্যাখ্যা:

  • সাম্য: জন্মগত ও শ্রেণিগত বৈষম্য দূর করে আইনের দৃষ্টিতে সকলকে সমান অধিকার দেওয়া।
  • মৈত্রী: মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলে ভ্রাতৃত্ববোধ ও জাতীয়তাবোধ জাগিয়ে তোলা।
  • স্বাধীনতা: স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে বাকস্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তি স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করা।

গুরুত্ব: এই আদর্শ কেবল ফ্রান্স নয়, সারা বিশ্বের গণতন্ত্রকামী মানুষকে আজও অনুপ্রাণিত করে।


23. নেপোলিয়নের পতনের জন্য রাশিয়া অভিযান কতটা দায়ী?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ১৮১২ সালে নেপোলিয়নের রাশিয়া অভিযান বা ‘মস্কো অভিযান’ ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল।

বিপর্যয়: ৬ লক্ষ সৈন্যের বিশাল ‘গ্র্যান্ড আর্মি’ নিয়ে তিনি রাশিয়া আক্রমণ করেন। কিন্তু রুশ সেনাপতি কুটুজভের ‘পোড়া মাটি নীতি’ এবং রাশিয়ার ভয়াবহ শীত (জেনারেল উইন্টার) ফরাসি বাহিনীকে ধ্বংস করে দেয়।

ফলাফল: খাদ্য ও আশ্রয়ের অভাবে এবং রোগাক্রান্ত হয়ে প্রায় ৫ লক্ষ সৈন্য মারা যায়। এই বিপর্যয় নেপোলিয়নের সামরিক শক্তি ও মর্যাদা ধুলিসাৎ করে দেয়, যা তাঁর পতন ত্বরান্বিত করে।


24. ফরাসি বিপ্লবের ফলাফল বা প্রভাব আলোচনা করো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ফরাসি বিপ্লব কেবল ফ্রান্সের নয়, সমগ্র ইউরোপের ইতিহাস বদলে দিয়েছিল।

প্রভাব:

  • পুরাতন তন্ত্রের বিনাশ: সামন্ততন্ত্র, চার্চের আধিপত্য এবং স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে।
  • গণতন্ত্রের উদ্ভব: ব্যক্তি স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের স্বীকৃতি মেলে।
  • জাতীয়তাবাদের প্রসার: বিপ্লব মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধের জন্ম দেয়, যা পরে ইতালি ও জার্মানির ঐক্যে সাহায্য করে।
  • আধুনিক যুগ: এই বিপ্লবের মধ্য দিয়েই ইউরোপে আধুনিক যুগের সূচনা হয়।

25. পোপের সঙ্গে নেপোলিয়নের ধর্মমীমাংসা চুক্তি বা ‘কনকর্ড্যাট’ (Concordat, 1801) আলোচনা করো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: বিপ্লবকালে রাষ্ট্রের সঙ্গে চার্চের যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল, তা মেটানোর জন্য ১৮০১ সালে নেপোলিয়ন পোপ সপ্তম পায়াসের সঙ্গে যে চুক্তি করেন, তাকে ‘কনকর্ড্যাট’ বলে।

শর্তাবলী:

  • ক্যাথলিক ধর্মকে ‘ফরাসি জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্ম’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
  • বাজেয়াপ্ত করা চার্চের সম্পত্তি আর ফেরত দেওয়া হবে না বলে পোপ মেনে নেন।
  • যাজকদের নিয়োগ করবেন নেপোলিয়ন, তবে পোপ তাদের পদে অভিষিক্ত করবেন।

গুরুত্ব: এর ফলে ফ্রান্সের ধর্মীয় বিভেদ দূর হয় এবং নেপোলিয়ন দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের সমর্থন লাভ করেন।


26. ফিজিওক্র্যাট (Physiocrats) কাদের বলা হতো? তাদের মতবাদ কী ছিল?

বিস্তারিত উত্তর

পরিচয়: ফরাসি বিপ্লবের প্রাক্কালে একদল অর্থনীতিবিদের আবির্ভাব ঘটে, যারা অবাধ বাণিজ্য এবং কৃষির ওপর গুরুত্ব দিতেন। এদের ফিজিওক্র্যাট বলা হতো। এদের নেতা ছিলেন কুয়েসনে (Quesnay) ও তুর্গ।

মতবাদ:

  • তারা মার্কেন্টাইল মতবাদ বা রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বিরোধী ছিলেন।
  • তাদের মতে, জমি বা কৃষিই হলো সম্পদের একমাত্র উৎস।
  • তারা ‘অবাধ বাণিজ্য নীতি’ (Laissez-faire)-র সমর্থক ছিলেন। অ্যাডাম স্মিথ এদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।

27. অ্যাসাইনেট (Assignats) সম্পর্কে টীকা লেখো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ফরাসি বিপ্লব চলাকালীন তীব্র অর্থ সংকট মেটানোর জন্য সংবিধান সভা এক ধরণের কাগজের নোট বা বন্ড চালু করে, যা ‘অ্যাসাইনেট’ নামে পরিচিত।

ভিত্তি: চার্চের বাজেয়াপ্ত করা ভূ-সম্পত্তিকে জামানত রেখে এই নোট ছাপানো হতো।

পরিণতি: প্রথমদিকে এটি কাজে দিলেও, পরে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নোট ছাপানোর ফলে এর মূল্য দ্রুত কমে যায় এবং ফ্রান্সে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়। নেপোলিয়ন ক্ষমতায় এসে এটি বাতিল করেন।


28. উপদ্বীপের যুদ্ধ বা স্পেনীয় ক্ষত (Spanish Ulcer) নেপোলিয়নের পতনের জন্য কতটা দায়ী?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: নেপোলিয়ন নিজের ভাই জোসেফকে স্পেনের সিংহাসনে বসালে স্পেনবাসী বিদ্রোহ করে। ১৮০৮ থেকে ১৮১৩ সাল পর্যন্ত চলা এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধকে নেপোলিয়ন নিজেই ‘স্পেনীয় ক্ষত’ বা ক্যান্সার বলেছিলেন।

পতনের কারণ:

  • এই যুদ্ধে ফ্রান্সের প্রায় ৩ লক্ষ সেরা সৈন্য মারা যায়।
  • স্পেনের জাতীয়তাবাদী বিদ্রোহ নেপোলিয়নের অপরাজেয় ভাবমূর্তি নষ্ট করে দেয়।
  • এই সুযোগে ইংল্যান্ড স্পেনকে সাহায্য করে এবং ফ্রান্সের দক্ষিণ সীমান্ত অরক্ষিত হয়ে পড়ে।

29. ‘শত দিবসের রাজত্ব’ (Hundred Days Rule) কী?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ১৮১৪ সালে মিত্রশক্তির কাছে পরাজিত হয়ে নেপোলিয়ন এলবা দ্বীপে নির্বাসিত হন। কিন্তু সেখান থেকে পালিয়ে তিনি ফ্রান্সে ফিরে আসেন এবং পুনরায় ক্ষমতা দখল করেন।

সময়কাল: ১৮১৫ সালের ২০ মার্চ থেকে ২২ জুন—নেপোলিয়নের এই দ্বিতীয় দফায় ১১০ দিনের (প্রায় ১০০ দিন) শাসনকালকে ‘শত দিবসের রাজত্ব’ বলা হয়।

পরিণতি: ওয়াটারলুর যুদ্ধে (১৮ জুন, ১৮১৫) তিনি চূড়ান্তভাবে পরাজিত হন এবং সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসিত হন, যেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।


30. ব্রাসউইক ঘোষণা (Brunswick Manifesto) কী? এর ফলাফল কী হয়েছিল?

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ফরাসি বিপ্লব চলাকালীন রাজা ষোড়শ লুই বিদেশি শক্তির সাহায্য চাইছিলেন। এই সময় অস্ট্রিয়া ও প্রুশিয়ার সেনাপতি ডিউক অফ ব্রাসউইক এক ঘোষণা জারি করেন।

ঘোষণা: তিনি হুমকি দেন যে, ফরাসি রাজপরিবারের কোনো ক্ষতি হলে প্যারিস শহর ধ্বংস করে দেওয়া হবে এবং বিপ্লবীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।

ফলাফল: এই ঘোষণায় ফরাসি জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা মনে করে রাজা বিদেশিদের সাথে ষড়যন্ত্র করছেন। এর ফলেই ১৭৯২ সালের ১০ আগস্ট উত্তেজিত জনতা টুইলারিস রাজপ্রাসাদ আক্রমণ করে এবং রাজতন্ত্রের পতন ঘটে।


Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার