নবম শ্রেণী: ইতিহাস, অধ্যায় – 3 উনবিংশ শতকের ইউরোপ: রাজতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারার সংঘাত সংক্ষিপ্ত প্রশ্নত্তোর
অধ্যায় ৩: ঊনবিংশ শতকের ইউরোপ – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (পর্ব-১)
1. ভিয়েনা সম্মেলনের (১৮১৫) প্রধান তিনটি নীতি কী ছিল?
উত্তর দেখো
ভিয়েনা সম্মেলনে গৃহীত তিনটি প্রধান নীতি হলো:
১) ন্যায্য অধিকার নীতি: ইউরোপের রাজবংশগুলিকে তাদের হারানো রাজ্য ফিরিয়ে দেওয়া।
২) ক্ষতিপূরণ নীতি: নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলিকে ভূখণ্ড দিয়ে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
৩) শক্তি-সাম্য নীতি: ভবিষ্যতে ফ্রান্স বা অন্য কোনো দেশ যাতে শক্তিশালী হয়ে ইউরোপের শান্তি বিঘ্নিত করতে না পারে, তার ব্যবস্থা করা।
2. ভিয়েনা সম্মেলনের ‘বিগ ফোর’ (Big Four) কাদের বলা হয়?
উত্তর দেখো
ভিয়েনা সম্মেলনে নেতৃত্বদানকারী চারটি প্রধান শক্তি—অস্ট্রিয়া, প্রুশিয়া, রাশিয়া এবং ইংল্যান্ডকে একত্রে ‘বিগ ফোর’ বলা হয়। এদের প্রতিনিধিরাই সম্মেলনের যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন।
3. মেটারনিক ব্যবস্থা (Metternich System) কী?
উত্তর দেখো
১৮১৫ থেকে ১৮৪৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর মেটারনিক ইউরোপে গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদী আন্দোলন কঠোর হাতে দমন করে পুরাতন রাজতন্ত্র টিকিয়ে রাখার জন্য যে রক্ষণশীল নীতি ও ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন, তাকে ‘মেটারনিক ব্যবস্থা’ বলা হয়।
4. ‘পবিত্র চুক্তি’ (Holy Alliance) কী?
উত্তর দেখো
১৮১৫ খ্রিষ্টাব্দে রাশিয়ার জার প্রথম আলেকজান্ডারের উদ্যোগে এবং প্রুশিয়া ও অস্ট্রিয়ার সমর্থনে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে বলা হয়, রাজারা খ্রিস্টধর্মের নীতি অনুসারে প্রজাদের সন্তানের মতো পালন করবেন এবং একে অপরকে সাহায্য করবেন। এটিই পবিত্র চুক্তি নামে পরিচিত।
5. কার্লসবাড ডিক্রি (Carlsbad Decrees) কেন জারি করা হয়?
উত্তর দেখো
জার্মানিতে ছাত্র ও যুবসমাজের মধ্যে জাতীয়তাবাদী ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রসার রোধ করার জন্য ১৮১৯ খ্রিষ্টাব্দে মেটারনিক কার্লসবাড ডিক্রি জারি করেন। এর দ্বারা ছাত্র সংগঠনগুলি নিষিদ্ধ করা হয় এবং সংবাদপত্রের ওপর কঠোর সেন্সরশিপ আরোপ করা হয়।
6. চতুঃশক্তি চুক্তি (Quadruple Alliance) কাদের মধ্যে হয়েছিল?
উত্তর দেখো
১৮১৫ খ্রিষ্টাব্দে ভিয়েনা সম্মেলনের সিদ্ধান্তগুলি বজায় রাখা এবং ফ্রান্সের শক্তিবৃদ্ধি রোধ করার জন্য ইংল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, প্রুশিয়া ও রাশিয়া—এই চারটি শক্তি মিলে চতুঃশক্তি চুক্তি স্বাক্ষর করে।
7. ‘ইউরোপীয় শক্তি সমবায়’ বা ‘কনসার্ট অফ ইউরোপ’ (Concert of Europe) কী?
উত্তর দেখো
ভিয়েনা সম্মেলনের পর ইউরোপে শান্তি ও স্থায়িত্ব বজায় রাখতে এবং যেকোনো সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য বৃহৎ শক্তিগুলি যে আন্তর্জাতিক সংস্থা গড়ে তোলে, তাকে ‘কনসার্ট অফ ইউরোপ’ বা ইউরোপীয় শক্তি সমবায় বলা হয়।
8. ১৮৩০ সালের জুলাই বিপ্লবের দুটি কারণ লেখো।
উত্তর দেখো
১) দশম চার্লসের স্বৈরাচার: রাজা দশম চার্লস সংবিধান অমান্য করে স্বৈরাচারী শাসন চালাচ্ছিলেন এবং অভিজাতদের বিশেষ সুবিধা ফিরিয়ে দিচ্ছিলেন।
২) জুলাই অর্ডিন্যান্স: ১৮৩০ সালের ২৫ জুলাই তিনি চারটি অর্ডিন্যান্স জারি করে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করেন এবং ভোটাধিকার সংকুচিত করেন, যা বিপ্লব ডেকে আনে।
9. জুলাই বিপ্লবের গুরুত্ব বা ফলাফল কী ছিল?
উত্তর দেখো
জুলাই বিপ্লবের ফলে ফ্রান্সে বুরবোঁ রাজবংশের অবসান ঘটে এবং অরলিয়েন্স বংশের লুই ফিলিপ রাজা হন। এর প্রভাবে বেলজিয়াম হল্যান্ড থেকে স্বাধীন হয় এবং ইউরোপ জুড়ে মেটারনিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু হয়।
10. লুই ফিলিপকে ‘নাগরিক রাজা’ বলা হয় কেন?
উত্তর দেখো
লুই ফিলিপ দৈবস্বত্বে বিশ্বাসী ছিলেন না এবং তিনি জনগণের ইচ্ছায় সিংহাসনে বসেছিলেন। তিনি রাজকীয় জাঁকজমক পরিহার করে সাধারণ বুর্জোয়া বা নাগরিকদের মতো পোশাক পরতেন এবং ছাতা মাথায় দিয়ে রাস্তায় হাঁটতেন। তাই তাঁকে ‘নাগরিক রাজা’ বলা হয়।
11. ১৮৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের দুটি কারণ লেখো।
উত্তর দেখো
১) লুই ফিলিপের ব্যর্থতা: লুই ফিলিপ কেবল ধনিক শ্রেণীর স্বার্থ দেখতেন, সাধারণ মানুষ ও শ্রমিকদের দুরবস্থা দূর করতে তিনি ব্যর্থ হন।
২) ভোটাধিকারের দাবি: ফ্রান্সের অধিকাংশ মানুষের ভোটাধিকার ছিল না। ভোটাধিকার সম্প্রসারণের দাবি রাজা প্রত্যাখ্যান করলে বিপ্লব শুরু হয়।
12. ১৮৪৮ সালকে ‘বিপ্লবের বছর’ বলা হয় কেন?
উত্তর দেখো
১৮৪৮ সালে শুধু ফ্রান্সে নয়, ফ্রান্সের দেখাদেখি অস্ট্রিয়া, প্রুশিয়া, ইতালি, জার্মানি ও হাঙ্গেরিতেও একযোগে বিপ্লব ছড়িয়ে পড়েছিল। সমগ্র ইউরোপ জুড়ে এই গণজাগরণের জন্য ১৮৪৮ সালকে ‘বিপ্লবের বছর’ বলা হয়।
13. কার্বোনারি (Carbonari) আন্দোলন কী?
উত্তর দেখো
‘কার্বোনারি’ ছিল ইতালির একটি গুপ্ত বিপ্লবী সমিতি। নেপোলিয়নের পতনের পর ইতালিতে অস্ট্রিয়ার শাসন ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এই দলটি গড়ে ওঠে। এদের লক্ষ্য ছিল বিদেশি শাসন উচ্ছেদ করে ইতালিতে নিয়মতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা।
14. মাৎসিনি বা ‘ইয়ং ইতালি’র লক্ষ্য কী ছিল?
উত্তর দেখো
জোসেফ মাৎসিনি ১৮৩১ সালে ‘ইয়ং ইতালি’ দল গঠন করেন। এর লক্ষ্য ছিল ইতালির যুবসমাজকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করা এবং অস্ট্রিয়াকে বিতাড়িত করে ইতালিকে একটি ঐক্যবদ্ধ প্রজাতন্ত্র হিসেবে গড়ে তোলা।
15. রিসর্জিমেন্টো (Risorgimento) কী?
উত্তর দেখো
‘রিসর্জিমেন্টো’ শব্দের অর্থ নবজাগরণ বা পুনর্জাগরণ। ইতালির সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের মাধ্যমে ইতালিবাসীর মনে যে জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটে এবং ঐক্য আন্দোলনের পটভূমি তৈরি হয়, তাকেই রিসর্জিমেন্টো বলা হয়।
16. প্লম্বিয়ার্স-এর চুক্তি (১৮৫৮) কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর দেখো
ইতালির ঐক্যের জন্য পিডমন্টের প্রধানমন্ত্রী কাভুর ফরাসি সম্রাট তৃতীয় নেপোলিয়নের সঙ্গে এই গোপন চুক্তি করেন। এর শর্তানুযায়ী, অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ফ্রান্স পিডমন্টকে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দেয়, বিনিময়ে ফ্রান্স নিস ও স্যাভয় প্রদেশ পাবে ঠিক হয়।
17. ভিল্লাফ্রাঙ্কার সন্ধি (১৮৫৯) সম্পর্কে কী জানো?
উত্তর দেখো
ইতালির যুদ্ধের মাঝপথে তৃতীয় নেপোলিয়ন পিডমন্টকে না জানিয়ে হঠাৎ অস্ট্রিয়ার সাথে এই সন্ধি করে যুদ্ধ থামিয়ে দেন। এতে ইতালির ঐক্যে সাময়িক বাধা সৃষ্টি হয় এবং কাভুর অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন। তবে এর ফলে লোম্বার্ডি পিডমন্টের সাথে যুক্ত হয়।
18. ‘রেড শার্টস’ বা ‘লাল কর্তা’ বাহিনী কে গঠন করেন এবং কেন?
উত্তর দেখো
ইতালির দেশপ্রেমিক গ্যারিবল্ডি তাঁর অনুগামীদের নিয়ে ‘লাল কর্তা’ বাহিনী গঠন করেন। দক্ষিণ ইতালির সিসিলি ও নেপলস রাজ্য দুটিকে বুরবোঁ রাজবংশের হাত থেকে মুক্ত করে ইতালির সাথে যুক্ত করাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য।
19. জোলভারাইন (Zollverein) প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব কী?
উত্তর দেখো
১৮১৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রুশিয়ার উদ্যোগে গঠিত ‘জোলভারাইন’ বা শুল্ক সংঘ জার্মানির বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে শুল্ক বাণিজ্যের বাধা দূর করে অর্থনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলে। এই অর্থনৈতিক ঐক্যই পরবর্তীকালে জার্মানির রাজনৈতিক ঐক্যের পথ প্রশস্ত করে।
20. বিসমার্কের ‘রক্ত ও লৌহ নীতি’ (Blood and Iron Policy) বলতে কী বোঝো?
উত্তর দেখো
বিসমার্ক বিশ্বাস করতেন যে, বক্তৃতা বা ভোটাভুটির মাধ্যমে জার্মানির ঐক্য সম্ভব নয়। একমাত্র সামরিক শক্তি বা তরবারির জোরে এবং রক্তপাতের মাধ্যমেই জার্মানিকে ঐক্যবদ্ধ করা সম্ভব। তাঁর এই কঠোর নীতিকেই ‘রক্ত ও লৌহ নীতি’ বলা হয়।
21. এমস টেলিগ্রাম (Ems Telegram) কী?
উত্তর দেখো
প্রুশিয়ার রাজা প্রথম উইলিয়াম এমস নামক স্থান থেকে একটি টেলিগ্রামের মাধ্যমে বিসমার্ককে ফরাসি দূতের সাথে আলোচনার কথা জানান। বিসমার্ক সেই টেলিগ্রামটি এমনভাবে কাটছাঁট করে সংবাদপত্রে প্রকাশ করেন যাতে মনে হয় ফরাসি দূত অপমানিত হয়েছেন। এটিই এমস টেলিগ্রাম, যা ফ্রান্স ও প্রুশিয়ার যুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ ছিল।
22. স্যাডোয়ার যুদ্ধের (১৮৬৬) গুরুত্ব কী?
উত্তর দেখো
স্যাডোয়ার যুদ্ধে প্রুশিয়া অস্ট্রিয়াকে পরাজিত করে। এর ফলে জার্মানির ওপর থেকে অস্ট্রিয়ার আধিপত্য চিরতরে দূর হয় এবং উত্তর জার্মানির রাজ্যগুলি প্রুশিয়ার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সুযোগ পায়।
23. সেডানের যুদ্ধের (১৮৭০) ফলাফল কী ছিল?
উত্তর দেখো
সেডানের যুদ্ধে প্রুশিয়ার কাছে ফ্রান্স শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় এবং তৃতীয় নেপোলিয়ন আত্মসমর্পণ করেন। এর ফলে জার্মানির ঐক্যের পথে শেষ বাধা দূর হয় এবং ফ্রাঙ্কফুর্টের সন্ধির মাধ্যমে জার্মানি ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
24. ফ্রাঙ্কফুর্টের সন্ধি (১৮৭১) সম্পর্কে কী জানো?
উত্তর দেখো
সেডানের যুদ্ধে ফ্রান্সের পরাজয়ের পর ১৮৭১ সালে ফ্রান্স ও প্রুশিয়ার মধ্যে এই সন্ধি হয়। এর দ্বারা ফ্রান্স জার্মানিকে আলসাস ও লোরেন প্রদেশ এবং বিপুল ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হয়। এই সন্ধির মাধ্যমেই আধুনিক জার্মানির জন্ম হয়।
25. ‘পূর্ব সমস্যা’ (Eastern Question) বলতে কী বোঝো?
উত্তর দেখো
ঊনবিংশ শতকে দুর্বল তুরস্ক সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীণ সমস্যা এবং বলকান অঞ্চলের খ্রিস্টান প্রজাদের ওপর তুর্কি অত্যাচারের সুযোগ নিয়ে ইউরোপীয় শক্তিগুলি (রাশিয়া, ইংল্যান্ড, অস্ট্রিয়া) যে জটিল রাজনীতির সৃষ্টি করে, তাকে ‘পূর্ব সমস্যা’ বলা হয়।
26. তুরস্ককে ‘ইউরোপের রুগ্ন মানুষ’ বলা হতো কেন?
উত্তর দেখো
ঊনবিংশ শতকে বিশাল উসমানীয় বা তুর্কি সাম্রাজ্য অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি, দুর্বলতা এবং জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ফলে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়। তার এই জরাজীর্ণ অবস্থার জন্য তাকে ‘ইউরোপের রুগ্ন মানুষ’ (Sick Man of Europe) বলা হতো।
27. গ্রিস কবে এবং কোন সন্ধির মাধ্যমে স্বাধীনতা পায়?
উত্তর দেখো
১৮৩২ খ্রিষ্টাব্দে কনস্টান্টিনোপলের সন্ধির মাধ্যমে তুরস্ক গ্রিসের স্বাধীনতা স্বীকার করে নেয়। এর আগে ১৮২৯ সালে আড্রিয়ানোপলের সন্ধিতে গ্রিস স্বায়ত্তশাসন পেয়েছিল।
28. ডিসেমেব্রিস্ট বিদ্রোহ (১৮২৫) কেন ব্যর্থ হয়েছিল?
উত্তর দেখো
রাশিয়ার জার প্রথম নিকোলাসের সিংহাসন আরোহণের সময় উদারপন্থী সেনা অফিসাররা এই বিদ্রোহ করেছিল। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা, জনসমর্থন এবং যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে জারের বিশাল বাহিনীর কাছে এই বিদ্রোহ সহজেই দমন হয়ে যায়।
29. দ্বিতীয় আলেকজান্ডারকে ‘মুক্তিদাতা জার’ বলা হয় কেন?
উত্তর দেখো
১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার এক ঘোষণার মাধ্যমে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের অমানবিক ভূমিদাস প্রথার বিলোপ ঘটান। তিনি লক্ষ লক্ষ ভূমিদাসকে দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন বলে তাঁকে ‘মুক্তিদাতা জার’ বলা হয়।
30. ‘মীর’ (Mir) ও ‘জেমস্তভ’ (Zemstvo) কী?
উত্তর দেখো
মীর: রাশিয়ার গ্রাম্য সমিতি বা পঞ্চায়েত, যা ভূমিদাস মুক্তির পর কৃষকদের জমির তদারকি করত।
জেমস্তভ: জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার প্রবর্তিত এক ধরণের জেলা ও প্রাদেশিক পরিষদ বা স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা।
31. ক্রিমিয়ার যুদ্ধ (১৮৫৪-৫৬) কেন হয়েছিল?
উত্তর দেখো
রাশিয়া তুরস্কের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বলকান অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করতে চাইলে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স তুরস্কের পক্ষ নেয়। মূলত রাশিয়ার আগ্রাসন রোধ এবং ভূমধ্যসাগরে শক্তিসাম্য বজায় রাখার জন্যই এই যুদ্ধ হয়েছিল।
32. প্যারিসের সন্ধি (১৮৫৬)-র প্রধান শর্ত কী ছিল?
উত্তর দেখো
ক্রিমিয়ার যুদ্ধের পর এই সন্ধির মাধ্যমে রাশিয়া তুরস্কের অখণ্ডতা মেনে নিতে বাধ্য হয়। কৃষ্ণসাগরকে নিরপেক্ষ অঞ্চল ঘোষণা করা হয় এবং সেখানে রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজ রাখার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়।
33. প্যান-স্লাভ আন্দোলন (Pan-Slav Movement) কী?
উত্তর দেখো
বলকান অঞ্চলে বসবাসকারী স্লাভ জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে তুরস্কের শাসন থেকে মুক্ত করে রাশিয়ার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ করার যে আন্দোলন শুরু হয়, তাকে প্যান-স্লাভ বা সর্ব-স্লাভ আন্দোলন বলা হয়।
34. সান স্টিফানোর সন্ধি (১৮৭৮) কেন বাতিল হয়?
উত্তর দেখো
রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই সন্ধিতে রাশিয়ার প্রভাব অত্যধিক বৃদ্ধি পায়, যা ইংল্যান্ড ও অস্ট্রিয়া মেনে নিতে পারেনি। তাই তাদের চাপে বার্লিন কংগ্রেসের মাধ্যমে এই সন্ধি বাতিল করে নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
35. বার্লিন কংগ্রেসের (১৮৭৮) গুরুত্ব কী?
উত্তর দেখো
বিসমার্কের পৌরোহিত্যে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে রাশিয়ার প্রভাব খর্ব করা হয় এবং তুরস্কের ভাঙন সাময়িকভাবে রোধ করা হয়। এর মাধ্যমে ইউরোপে বড় যুদ্ধের সম্ভাবনা কিছুদিনের জন্য এড়ানো সম্ভব হয়, যাকে ‘সশস্ত্র শান্তি’ বলা হয়।
36. ‘নাইহিলিজম’ বা শূন্যবাদ কী?
উত্তর দেখো
রাশিয়ার একদল বুদ্ধিজীবী ও বিপ্লবী বিশ্বাস করতেন যে, প্রচলিত সমাজ, ধর্ম ও রাষ্ট্রব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে শূন্যের ওপর নতুন সমাজ গড়তে হবে। এই মতবাদই ‘নাইহিলিজম’ বা শূন্যবাদ নামে পরিচিত।
37. ইতালির ঐক্যে মাৎসিনি ও কাভুর-এর মধ্যে মূল পার্থক্য কী ছিল?
উত্তর দেখো
মাৎসিনি ছিলেন আদর্শবাদী বিপ্লবী, তিনি গণঅভ্যুত্থান ও প্রজাতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন। অন্যদিকে, কাভুর ছিলেন বাস্তববাদী রাজনীতিবিদ, তিনি পিডমন্ট-সার্ডিনিয়ার নেতৃত্বে রাজতান্ত্রিক ঐক্য এবং বিদেশী সাহায্যের (ফ্রান্সের) প্রয়োজনীয়তায় বিশ্বাসী ছিলেন।
38. ‘নব্য-গুইলফ’ (Neo-Guelph) আন্দোলন কী?
উত্তর দেখো
ইতালির একদল মানুষ বিশ্বাস করতেন যে পোপের নেতৃত্বেই ইতালির ঐক্য সম্ভব। জিওবার্টি ছিলেন এই মতবাদের প্রবক্তা। পোপকে কেন্দ্র করে ইতালির ঐক্যের এই আন্দোলনকেই ‘নব্য-গুইলফ’ আন্দোলন বলা হয়।
39. ১৮৪৮ সালের বিপ্লবকে কেন ‘ব্যর্থ বিপ্লব’ বলা হয়?
উত্তর দেখো
১৮৪৮ সালে ইউরোপ জুড়ে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি হলেও শেষ পর্যন্ত রক্ষণশীল শক্তিগুলো (অস্ট্রিয়া, প্রুশিয়া, রাশিয়া) বিপ্লবীদের দমন করতে সক্ষম হয়। জার্মান ও ইতালীয় ঐক্য সেই মুহূর্তে অর্জিত হয়নি এবং পুরনো রাজতন্ত্র ফিরে আসে, তাই একে ব্যর্থ বিপ্লব বলা হয়।
40. বিসমার্ক কেন ক্যাথলিক গির্জার বিরুদ্ধে ‘কুলটুরক্যাম্ফ’ (Kulturkampf) ঘোষণা করেন?
উত্তর দেখো
জার্মানির ঐক্যের পর বিসমার্ক মনে করতেন ক্যাথলিকরা রোমের পোপের প্রতি বেশি অনুগত, যা জার্মান রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের বিরোধী। তাই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সুদৃঢ় করতে তিনি ক্যাথলিক চার্চের বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম ঘোষণা করেন, তাই ‘কুলটুরক্যাম্ফ’ বা ‘সংস্কৃতির সংগ্রাম’।
41. জার্মানির ঐক্যে ডেনমার্কের যুদ্ধের (১৮৬৪) গুরুত্ব কী?
উত্তর দেখো
স্লেশউইগ ও হলস্টেইন প্রদেশ দুটি দখলের জন্য বিসমার্ক অস্ট্রিয়ার সাথে জোট বেঁধে ডেনমার্ককে পরাজিত করেন। এই যুদ্ধের মাধ্যমেই বিসমার্কের কূটনীতির জয়যাত্রা শুরু হয় এবং পরবর্তী অস্ট্রো-প্রুশীয় যুদ্ধের পটভূমি তৈরি হয়।
42. ভিয়েনা সম্মেলনে গৃহীত ‘ক্ষতিপূরণ নীতি’ কী ছিল?
উত্তর দেখো
নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে দীর্ঘ যুদ্ধে যেসব দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তাদের ফ্রান্স বা তার মিত্রদের অধিকৃত ভূখণ্ড দিয়ে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। যেমন—অস্ট্রিয়া পায় ভেনিস ও লোম্বার্ডি, প্রুশিয়া পায় স্যাক্সনির অংশবিশেষ।