নবম শ্রেণি: ইতিহাস, অধ্যায় – 6 দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও তারপর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর মান ২

অধ্যায় ৬: সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

1. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ কী ছিল?

উত্তর দেখো

১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি ভার্সাই সন্ধির শর্ত অমান্য করে পোল্যান্ড আক্রমণ করে। হিটলার ডানজিগ বন্দর ও পোলিশ করিডর দাবি করলে পোল্যান্ড তা প্রত্যাখ্যান করে। এর প্রতিবাদে জার্মানি আক্রমণ চালালে ৩ সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে, যার ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।


2. ‘ব্লিটজক্রিগ’ (Blitzkrieg) বলতে কী বোঝো?

উত্তর দেখো

‘ব্লিটজক্রিগ’ একটি জার্মান শব্দ, যার অর্থ হলো ‘ঝটিকা যুদ্ধ’ বা বিদ্যুৎগতিতে আক্রমণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি এই কৌশল ব্যবহার করে প্রথমে আকাশপথে বোমা ফেলে এবং পরমুহুর্তেই ট্যাঙ্ক ও স্থলবাহিনী দিয়ে শত্রুপক্ষকে তছনছ করে দিত। এর উদ্দেশ্য ছিল শত্রুকে প্রস্তুতির কোনো সুযোগ না দেওয়া।


3. ‘ফনি ওয়্যার’ (Phoney War) বা মেকি যুদ্ধ কী?

উত্তর দেখো

১৯৩৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পোল্যান্ড পতন এবং ১৯৪০ সালের মে মাসে জার্মানির ফ্রান্স আক্রমণের মধ্যবর্তী সময়ে পশ্চিম ইউরোপে কোনো বড় যুদ্ধ হয়নি। ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স যুদ্ধ ঘোষণা করলেও জার্মানিকে আক্রমণ করেনি। যুদ্ধের এই নিষ্ক্রিয় অবস্থাকেই ‘মেকি যুদ্ধ’ বা Phoney War বলা হয়।


4. ভিশি সরকার (Vichy Government) কী?

উত্তর দেখো

১৯৪০ সালে জার্মানির কাছে ফ্রান্সের পতনের পর ফ্রান্সের ভিশি শহরে মার্শাল পেঁতার নেতৃত্বে জার্মানি-সমর্থিত একটি পুতুল সরকার গঠিত হয়। এই সরকার নাৎসি জার্মানির সহযোগী হিসেবে কাজ করত। একেই ভিশি সরকার বলা হয়।


5. ‘অপারেশন বারবারোসা’ (Operation Barbarossa) কী?

উত্তর দেখো

১৯৪১ সালের ২২ জুন হিটলার রুশ-জার্মান অনাক্রমণ চুক্তি ভঙ্গ করে হঠাৎ তিন দিক দিয়ে রাশিয়া আক্রমণ করেন। হিটলারের এই রাশিয়া অভিযানের সাংকেতিক নাম ছিল ‘অপারেশন বারবারোসা’। এর উদ্দেশ্য ছিল রাশিয়ার সম্পদ দখল করা এবং সাম্যবাদ ধ্বংস করা।


6. ‘পোড়া মাটি নীতি’ (Scorched Earth Policy) কী?

উত্তর দেখো

জার্মান বাহিনী যখন রাশিয়ার অভ্যন্তরে প্রবেশ করে, তখন রুশ লাল ফৌজ পিছু হটার সময় নিজেদের শস্যক্ষেত্র, কলকারখানা, রাস্তাঘাট, সেতু সব ধ্বংস করে দেয়। উদ্দেশ্য ছিল, জার্মানরা যেন দখলকৃত এলাকায় কোনো খাবার বা রসদ না পায়। এই আত্মঘাতী রক্ষণাত্মক কৌশলকেই ‘পোড়া মাটি নীতি’ বলে।


7. পার্ল হারবার ঘটনাটি (Pearl Harbor Incident) কী?

উত্তর দেখো

১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর জাপান প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের মার্কিন নৌঘাঁটি পার্ল হারবারে আকস্মিক বিমান আক্রমণ চালায়। এতে আমেরিকার বহু যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস হয়। এই ঘটনার পরই আমেরিকা সরাসরি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যোগ দেয়।


8. ‘আটলান্টিক চার্টার’ (Atlantic Charter) কী?

উত্তর দেখো

১৯৪১ সালের আগস্ট মাসে মার্কিন রাষ্ট্রপতি রুজভেল্ট এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে এক যুদ্ধজাহাজে মিলিত হয়ে বিশ্বশান্তি ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য ৮ দফা সম্বলিত যে যৌথ ইস্তাহার প্রকাশ করেন, তাকে আটলান্টিক চার্টার বলে। এটিই ছিল জাতিপুঞ্জ গঠনের প্রথম ধাপ।


9. ‘লেন্ড-লিজ’ আইন (Lend-Lease Act) কী?

উত্তর দেখো

১৯৪১ সালের মার্চ মাসে মার্কিন রাষ্ট্রপতি রুজভেল্ট এই আইন পাস করেন। এর মাধ্যমে আমেরিকা যুদ্ধে সরাসরি যোগ না দিয়েও মিত্রশক্তির দেশগুলিকে (ইংল্যান্ড, চিন, রাশিয়া) অস্ত্র, খাদ্য ও যুদ্ধ সরঞ্জাম ধার বা ইজারা দেওয়ার ব্যবস্থা করে, যা হিটলার বিরোধী শক্তিকে চাঙ্গা করে।


10. স্টালিনগ্রাদের যুদ্ধের গুরুত্ব কী ছিল?

উত্তর দেখো

১৯৪২-৪৩ সালে রাশিয়ার স্টালিনগ্রাদে জার্মানি ও রাশিয়ার মধ্যে এক ভয়াবহ যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে জার্মান বাহিনী শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়ে আত্মসমর্পণ করে। একে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ‘টার্নিং পয়েন্ট’ বলা হয়, কারণ এরপর থেকেই জার্মানির পতন শুরু হয়।


11. ‘দ্বিতীয় রণাঙ্গন’ (Second Front) বলতে কী বোঝো?

উত্তর দেখো

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি যখন পূর্ব দিক থেকে রাশিয়াকে আক্রমণ করছিল, তখন স্টালিন জার্মানির ওপর চাপ কমাতে পশ্চিম ইউরোপে আরেকটি ফ্রন্ট বা রণাঙ্গন খোলার জন্য মিত্রশক্তিকে অনুরোধ করেন। ১৯৪৪ সালে নরম্যান্ডিতে মিত্রশক্তির অবতরণের মাধ্যমে এই ‘দ্বিতীয় রণাঙ্গন’ খোলা হয়।


12. ‘ডি-ডে’ (D-Day) বা মুক্তি দিবস কী?

উত্তর দেখো

১৯৪৪ সালের ৬ জুন জেনারেল আইসেনহাওয়ারের নেতৃত্বে মিত্রশক্তির বাহিনী ফ্রান্সের নরম্যান্ডি উপকূলে সফলভাবে অবতরণ করে জার্মানির দখল থেকে ফ্রান্সকে মুক্ত করার অভিযান শুরু করে। এই দিনটিকেই ইতিহাসে ‘ডি-ডে’ বা মুক্তি দিবস বলা হয়।


13. ‘লুফৎবাফে’ এবং ‘রয়্যাল এয়ার ফোর্স’ কী?

উত্তর দেখো

‘লুফৎবাফে’ (Luftwaffe) হলো নাৎসি জার্মানির শক্তিশালী বিমানবাহিনী, যা ব্লিটজক্রিগ যুদ্ধে প্রধান ভূমিকা নিত। অন্যদিকে, ‘রয়্যাল এয়ার ফোর্স’ (RAF) হলো ইংল্যান্ডের বিমানবাহিনী, যা ‘ব্যাটল অফ ব্রিটেন’-এ জার্মানিকে প্রতিহত করেছিল।


14. ভি-ই ডে (V-E Day) কী?

উত্তর দেখো

১৯৪৫ সালের মে মাসের শুরুতেই হিটলারের আত্মহত্যা এবং বার্লিনের পতন ঘটে। ৭ মে জার্মানি বিনাশর্তে আত্মসমর্পণ করে এবং ৮ মে সরকারিভাবে ইউরোপে যুদ্ধ শেষ হয়। এই দিনটিকে ‘ভিক্টরি ইন ইউরোপ ডে’ বা V-E Day বলা হয়।


15. হিরোশিমা ও নাগাসাকির ঘটনা কী?

উত্তর দেখো

জাপানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার জন্য আমেরিকা ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট জাপানের হিরোশিমা শহরে ‘লিটল বয়’ এবং ৯ আগস্ট নাগাসাকি শহরে ‘ফ্যাট ম্যান’ নামক দুটি পরমাণু বোমা নিক্ষেপ করে। এতে লক্ষ লক্ষ মানুষ নিহত হয় এবং জাপান আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।


16. পটসডাম সম্মেলন (Potsdam Conference) কেন অনুষ্ঠিত হয়?

উত্তর দেখো

জার্মানির আত্মসমর্পণের পর ১৯৪৫ সালের জুলাই মাসে বার্লিনের কাছে পটসডামে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ট্রুম্যান, চার্চিল (পরে এটলি) ও স্টালিন যোগ দেন। পরাজিত জার্মানির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং জাপানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণই ছিল এর উদ্দেশ্য।


17. ‘কামিকাজে’ (Kamikaze) কারা ছিল?

উত্তর দেখো

‘কামিকাজে’ কথার অর্থ ‘দৈব বাতাস’। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে জাপানি বিমানবাহিনীর একদল পাইলট নিজেদের বিমানসহ সরাসরি মিত্রশক্তির যুদ্ধজাহাজে গিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালাত। এই আত্মঘাতী বাহিনীকেই কামিকাজে বলা হতো।


18. জেনারেল রোমেল কে ছিলেন?

উত্তর দেখো

আরউইন রোমেল ছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একজন বিখ্যাত জার্মান ফিল্ড মার্শাল। উত্তর আফ্রিকায় তাঁর দুর্দান্ত রণকৌশলের জন্য তিনি ‘মরুশৃগাল’ বা ‘Desert Fox’ নামে পরিচিত ছিলেন।


19. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ বা UNO কেন গঠিত হয়?

উত্তর দেখো

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলা দেখার পর বিশ্ববাসী বুঝতে পারে যে লিগ অফ নেশনস শান্তি রক্ষায় ব্যর্থ। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যুদ্ধের অভিশাপ থেকে বাঁচাতে এবং বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ১৯৪৫ সালে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ গঠিত হয়।


20. জাতিপুঞ্জের প্রধান অঙ্গগুলি কী কী?

উত্তর দেখো

জাতিপুঞ্জের প্রধান ৬টি অঙ্গ হলো: ১. সাধারণ সভা, ২. নিরাপত্তা পরিষদ, ৩. অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ, ৪. অছি পরিষদ, ৫. আন্তর্জাতিক বিচারালয় এবং ৬. কর্মদপ্তর বা সচিবালয়।


21. জাতিপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের গঠন কীরূপ?

উত্তর দেখো

নিরাপত্তা পরিষদ জাতিপুঞ্জের সবচেয়ে শক্তিশালী অঙ্গ। এটি মোট ১৫টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে ৫টি স্থায়ী সদস্য (আমেরিকা, রাশিয়া, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, চিন) যাদের ভেটো ক্ষমতা আছে এবং ১০টি অস্থায়ী সদস্য যারা ২ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়।


22. ‘ভেটো’ (Veto) ক্ষমতা বলতে কী বোঝো?

উত্তর দেখো

‘ভেটো’ একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ ‘আমি মানি না’ বা ‘নিষেধ করা’। নিরাপত্তা পরিষদের ৫টি স্থায়ী সদস্যের যেকোনো প্রস্তাব বাতিল করার বিশেষ ক্ষমতা আছে। কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একজন স্থায়ী সদস্যও যদি ভেটো দেয়, তবে সেই প্রস্তাব পাস হয় না।


23. ইয়াল্টা সম্মেলন (Yalta Conference) কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর দেখো

১৯৪৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে স্টালিন, রুজভেল্ট ও চার্চিল ক্রিমিয়ার ইয়াল্টায় মিলিত হন। এই সম্মেলনে জার্মানির বিভাজন, পোল্যান্ডের সীমানা নির্ধারণ এবং জাতিপুঞ্জ গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এটি যুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।


24. সান ফ্রান্সিসকো সম্মেলন (১৯৪৫) সম্পর্কে কী জানো?

উত্তর দেখো

১৯৪৫ সালের ২৫ এপ্রিল আমেরিকার সান ফ্রান্সিসকো শহরে ৫০টি দেশের প্রতিনিধিরা মিলিত হয়ে জাতিপুঞ্জের সনদের খসড়া চূড়ান্ত করেন। ২৬ জুন এই সনদে স্বাক্ষর করা হয় এবং ২৪ অক্টোবর থেকে জাতিপুঞ্জ আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করে।


25. জাতিপুঞ্জের মহাসচিবের (Secretary General) কাজ কী?

উত্তর দেখো

মহাসচিব হলেন জাতিপুঞ্জের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা। তাঁর কাজ হলো জাতিপুঞ্জের বিভিন্ন সভার আয়োজন করা, বিশ্বশান্তি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে নিরাপত্তা পরিষদকে জানানো এবং আন্তর্জাতিক বিবাদ মেটানোর জন্য মধ্যস্থতা করা।


26. নিউরেমবার্গ বিচার (Nuremberg Trials) কী?

উত্তর দেখো

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মিত্রশক্তি জার্মানির নিউরেমবার্গ শহরে একটি আন্তর্জাতিক আদালত গঠন করে। এখানে নাৎসি দলের শীর্ষ নেতাদের যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য বিচার ও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একেই নিউরেমবার্গ বিচার বলা হয়।


27. টোকিও বিচার (Tokyo Trials) কী?

উত্তর দেখো

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের টোকিও শহরে মিত্রশক্তি ‘আন্তর্জাতিক সামরিক আদালত’ গঠন করে। এখানে জাপানি প্রধানমন্ত্রী হিদেকি তোজো এবং অন্যান্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তি প্রদান করা হয়, যা টোকিও বিচার নামে পরিচিত।


28. হলোকস্ট (Holocaust) বলতে কী বোঝো?

উত্তর দেখো

‘হলোকস্ট’ একটি গ্রিক শব্দ যার অর্থ ‘আগুনে পোড়ানো’ বা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলার ও তাঁর নাৎসি বাহিনী কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে গ্যাস চেম্বারে ঢুকিয়ে পরিকল্পিতভাবে প্রায় ৬০ লক্ষ ইহুদিকে হত্যা করে। এই নারকীয় গণহত্যাকেই হলোকস্ট বলা হয়।


29. ‘ঠান্ডা লড়াই’ (Cold War) বলতে কী বোঝো?

উত্তর দেখো

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রত্যক্ষ যুদ্ধ না হলেও আমেরিকা (পুঁজিবাদী) এবং রাশিয়ার (সমাজতান্ত্রিক) মধ্যে যে আদর্শগত দ্বন্দ্ব, কূটনৈতিক সংঘাত এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরি হয়েছিল, তাকেই ‘ঠান্ডা লড়াই’ বা স্নায়ুযুদ্ধ বলা হয়।


30. চার্চিলের ‘ফুলটন বক্তৃতা’ বা ‘লৌহ যবনিকা’ (Iron Curtain) তত্ত্বটি কী?

উত্তর দেখো

১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল আমেরিকার ফুলটন শহরে এক বক্তৃতায় বলেন যে, “বাল্টিক থেকে আদ্রিয়াতিক সাগর পর্যন্ত ইউরোপে এক লৌহ যবনিকা নেমে এসেছে।” এর মাধ্যমে তিনি পূর্ব ইউরোপে রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক প্রভাব বিস্তারের সমালোচনা করেন এবং ঠান্ডা লড়াইয়ের সূচনা করেন।


31. ট্রুম্যান নীতি (Truman Doctrine) কী?

উত্তর দেখো

১৯৪৭ সালে মার্কিন রাষ্ট্রপতি হ্যারি এস. ট্রুম্যান ঘোষণা করেন যে, বিশ্বের যেকোনো দেশ যদি সাম্যবাদী আগ্রাসনের শিকার হয়, তবে আমেরিকা তাদের সামরিক ও অর্থনৈতিক সাহায্য দেবে। রাশিয়ার প্রভাব ঠেকানোর এই নীতিকেই ট্রুম্যান নীতি বলা হয়।


32. মার্শাল পরিকল্পনা (Marshall Plan) কী?

উত্তর দেখো

১৯৪৭ সালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ মার্শাল যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউরোপের দেশগুলিকে অর্থনৈতিকভাবে পুনর্গঠিত করার জন্য এক বিশাল সাহায্য পরিকল্পনা পেশ করেন। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল দারিদ্র্য দূর করে দেশগুলিকে কমিউনিজমের প্রভাব থেকে দূরে রাখা।


33. আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের (ICJ) গঠন ও কাজ কী?

উত্তর দেখো

আন্তর্জাতিক বিচারালয় নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত। এতে ১৫ জন বিচারক থাকেন যারা ৯ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। এর কাজ হলো আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি করা এবং আইনি বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া।


34. জাতিপুঞ্জের বিশেষায়িত সংস্থাগুলির নাম লেখো।

উত্তর দেখো

জাতিপুঞ্জের অধীনে জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য অনেক বিশেষ সংস্থা আছে। যেমন—WHO (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা), UNESCO (শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা), UNICEF (শিশু তহবিল), ILO (আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা) ইত্যাদি।


35. ‘ম্যানহাটান প্রকল্প’ (Manhattan Project) কী?

উত্তর দেখো

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকা গোপনে পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য যে বিশাল গবেষণা ও উন্নয়ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছিল, তার নাম ছিল ‘ম্যানহাটান প্রকল্প’। এর ফলেই বিশ্বের প্রথম পরমাণু বোমা তৈরি হয়।


36. ন্যাটো (NATO) কেন গঠিত হয়?

উত্তর দেখো

১৯৪৯ সালে আমেরিকার নেতৃত্বে পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলি রাশিয়ার সাম্যবাদী আগ্রাসন প্রতিরোধের জন্য ‘নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন’ বা ন্যাটো নামে একটি সামরিক জোট গঠন করে। এটি ছিল ঠান্ডা লড়াইয়ের অন্যতম হাতিয়ার।


37. ওয়ারশ চুক্তি (Warsaw Pact) কী?

উত্তর দেখো

ন্যাটো (NATO) গঠনের পাল্টা জবাব হিসেবে রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপের সমাজতান্ত্রিক দেশগুলি ১৯৫৫ সালে যে সামরিক জোট গঠন করে, তাকে ওয়ারশ চুক্তি বা ওয়ারশ প্যাক্ট বলা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল সমাজতান্ত্রিক দেশগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।


38. ‘উড়ন্ত দুর্গ’ (Flying Fortress) কী?

উত্তর দেখো

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকা ব্যবহৃত বোয়িং বি-১৭ (B-17) বোমারু বিমানকে ‘উড়ন্ত দুর্গ’ বা Flying Fortress বলা হতো। এটি জার্মানির শিল্পাঞ্চল ধ্বংস করতে এবং ব্যাপক বোমাবর্ষণে অত্যন্ত কার্যকর ছিল।


39. ১৯৪৫ সালের পর জার্মানির কী পরিণতি হয়েছিল?

উত্তর দেখো

যুদ্ধের পর জার্মানিকে মিত্রশক্তি চারটি ভাগে ভাগ করে নেয় (আমেরিকা, রাশিয়া, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণে)। পরে এটি দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়—পশ্চিম জার্মানি (গণতান্ত্রিক) এবং পূর্ব জার্মানি (সমাজতান্ত্রিক)।


40. সাধারণ সভা (General Assembly) কে ‘বিশ্বের বিতর্ক সভা’ বলা হয় কেন?

উত্তর দেখো

জাতিপুঞ্জের সাধারণ সভায় সব সদস্য রাষ্ট্র (বর্তমানে ১৯৩টি) তাদের প্রতিনিধি পাঠাতে পারে এবং আন্তর্জাতিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক করতে পারে। সবার সমান ভোটাধিকার থাকায় একে ‘বিশ্বের বিতর্ক সভা’ বা ‘বিশ্ব পার্লামেন্ট’ বলা হয়।


41. ‘ব্যাটল অফ ব্রিটেন’ (Battle of Britain) বা ইংল্যান্ডের বিমান যুদ্ধ কী?

উত্তর দেখো

১৯৪০ সালে জার্মানি ইংল্যান্ড দখলের উদ্দেশ্যে টানা কয়েক মাস ধরে ইংল্যান্ডের ওপর যে ভয়াবহ বিমান আক্রমণ চালায়, তাকে ‘ব্যাটল অফ ব্রিটেন’ বলে। ব্রিটিশ বিমানবাহিনী (RAF) সাহসিকতার সাথে জার্মান বিমানবাহিনী (Luftwaffe)-কে প্রতিহত করে এবং হিটলার পিছু হটতে বাধ্য হন।


42. চার্লস দ্য গল (Charles de Gaulle) কে ছিলেন?

উত্তর দেখো

চার্লস দ্য গল ছিলেন ফরাসি সেনাপতি ও রাষ্ট্রনায়ক। জার্মানি ফ্রান্স দখল করলে তিনি ইংল্যান্ডে পালিয়ে যান এবং সেখান থেকে ‘মুক্ত ফ্রান্স’ (Free France) বা স্বাধীন ফরাসি সরকার গঠন করে জার্মানির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান।


43. ‘কমিনফর্ম’ (Cominform) কী?

উত্তর দেখো

আমেরিকার মার্শাল পরিকল্পনার মোকাবিলা করার জন্য ১৯৪৭ সালে রাশিয়া এবং ইউরোপের ৯টি কমিউনিস্ট পার্টি মিলে যে সংস্থা গঠন করে, তাকে কমিনফর্ম (Communist Information Bureau) বলে। এর উদ্দেশ্য ছিল সাম্যবাদী দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করা।


44. তৃতীয় বিশ্ব (Third World) বলতে কী বোঝো?

উত্তর দেখো

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত এবং অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশগুলিকে ‘তৃতীয় বিশ্ব’ বলা হয়। এরা সাধারণত আমেরিকা (প্রথম বিশ্ব) বা রাশিয়া (দ্বিতীয় বিশ্ব)—কোনো জোটেই যোগ না দিয়ে নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করত।


45. বি-ঔপনিবেশায়ন (Decolonization) কী?

উত্তর দেখো

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপীয় শক্তিগুলির (যেমন—ইংল্যান্ড, ফ্রান্স) দুর্বলতার সুযোগে এশিয়া ও আফ্রিকার উপনিবেশগুলি একে একে স্বাধীনতা লাভ করে। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে এই মুক্তির প্রক্রিয়াকেই বি-ঔপনিবেশায়ন বা অব-ঔপনিবেশিকরণ বলা হয়।


46. ১৯৪১ সালটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর দেখো

১৯৪১ সালটি যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। কারণ এই বছরেই জার্মানি রাশিয়া আক্রমণ করে (জুন) এবং জাপান আমেরিকা আক্রমণ করে (ডিসেম্বর)। ফলে রাশিয়া ও আমেরিকা মিত্রশক্তিতে যোগ দেওয়ায় হিটলার বিরোধী জোট শক্তিশালী হয়।


Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার