নবম শ্রেণি: ভূগোল, অধ্যায় – 2 পৃথিবীর গতি, 5 নম্বরের প্রশ্নত্তোর

অধ্যায় ২: রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর (মান – ৫)

১. পৃথিবীর পরিক্রমণ গতির ফলে কীভাবে ঋতু পরিবর্তন সংঘটিত হয়? চিত্রসহ বর্ণনা করো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: পৃথিবীর উপবৃত্তাকার কক্ষপথ এবং মেরুরেখার হেলানো অবস্থানের জন্য সূর্যকে পরিক্রমণ করার সময় ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থানে সূর্যরশ্মির পতন কোণের তারতম্য ঘটে। এর ফলে উষ্ণতার পরিবর্তন হয় এবং ঋতুচক্র সংঘটিত হয়। এই পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তনকে চারটি প্রধান অবস্থানের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যায়।

[এখানে ঋতুচক্রের বা পৃথিবীর পরিক্রমণ গতির চিত্রটি আঁকতে হবে]

১. গ্রীষ্মকাল (২১ জুন – কর্কটসংক্রান্তি):
এই সময় উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে এবং ২১ জুন সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে উত্তর গোলার্ধে দিন বড় ও রাত ছোট হয় এবং প্রবল উষ্ণতা বিরাজ করে। একে উত্তর গোলার্ধের গ্রীষ্মকাল বলে। বিপরীতভাবে দক্ষিণ গোলার্ধে তখন শীতকাল।

২. শরৎকাল (২৩ সেপ্টেম্বর – জলবিষুব):
২১ জুনের পর পৃথিবী সরতে সরতে ২৩ সেপ্টেম্বর এমন অবস্থানে আসে যখন সূর্য বিষুবরেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। এই দিন পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত্রি সমান হয়। তখন উত্তর গোলার্ধে গরমও থাকে না, ঠান্ডাও থাকে না—এই সময়কে শরৎকাল বলে।

৩. শীতকাল (২২ ডিসেম্বর – মকরসংক্রান্তি):
এই সময় দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে এবং ২২ ডিসেম্বর সূর্য মকরক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে উত্তর গোলার্ধে সূর্যরশ্মি অত্যন্ত তির্যকভাবে পড়ে। তাই উত্তর গোলার্ধে দিন ছোট ও রাত বড় হয় এবং শীতকাল বিরাজ করে। তখন দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল।

৪. বসন্তকাল (২১ মার্চ – মহাবিষুব):
২২ ডিসেম্বরের পর পৃথিবী সরতে সরতে ২১ মার্চ এমন অবস্থানে আসে যখন সূর্য পুনরায় বিষুবরেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। দিন-রাত্রি সমান হয়। তখন উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল বিরাজ করে।

উপসংহার: এভাবেই পরিক্রমণ গতির ফলে গ্রীষ্ম, শরৎ, শীত ও বসন্ত—এই চারটি ঋতু চক্রাকারে আবর্তিত হয়।


২. দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্যের হ্রাস-বৃদ্ধির কারণগুলি চিত্রসহ আলোচনা করো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: বিষুবরেখা ছাড়া পৃথিবীর সর্বত্র সারা বছর দিন ও রাত্রি সমান হয় না। কোথাও দিন বড়, আবার কোথাও রাত বড়। এর প্রধান কারণগুলি নিচে আলোচনা করা হলো।

১. পৃথিবীর অভিগত গোলক আকৃতি:
পৃথিবী গোলাকার হওয়ায় এর অর্ধেক অংশে সূর্যের আলো পড়ে (দিন) এবং বাকি অর্ধেক অন্ধকার থাকে (রাত)। কিন্তু পৃথিবী যদি চ্যাপ্টা হতো তবে সব জায়গায় একসাথে দিন বা রাত হতো।

২. পৃথিবীর উপবৃত্তাকার কক্ষপথ:
পৃথিবীর কক্ষপথটি উপবৃত্তাকার হওয়ায় সূর্য সব সময় কেন্দ্রে থাকে না (ফোকাসে থাকে)। ফলে সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্বের পরিবর্তন হয়, যা দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্যে প্রভাব ফেলে।

৩. পৃথিবীর আবর্তন ও পরিক্রমণ গতি:
আবর্তন গতির জন্য দিন-রাত্রি হয়, কিন্তু পরিক্রমণ গতির জন্য পৃথিবী স্থান পরিবর্তন করে বলে দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্যের পরিবর্তন হয়।

৪. মেরুরেখার হেলানো অবস্থান (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ):
পৃথিবীর মেরুরেখা কক্ষতলের সঙ্গে ৬৬ ১/২ ডিগ্রি কোণে হেলে থাকে। এর ফলে—

  • ২১ জুন: উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে। তাই সুমেরুবৃত্ত থেকে উত্তর মেরু পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা দিন থাকে। অর্থাৎ উত্তর গোলার্ধে দিন বড় হয়।
  • ২২ ডিসেম্বর: দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে। তখন উত্তর গোলার্ধে রাত বড় হয় এবং দিন ছোট হয়।
  • ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর: মেরুরেখা সূর্যের দিকে বা বিপরীতে ঝুঁকে থাকে না, তাই পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত্রি সমান (১২ ঘণ্টা করে) হয়।

[এখানে দিন-রাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধির চিত্রটি আঁকতে হবে]


৩. পৃথিবীর আবর্তন গতির স্বপক্ষে প্রমাণ দাও। (পৃথিবী যে নিজের অক্ষের চারদিকে ঘুরছে তা আমরা বুঝব কী করে?)

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: আমরা পৃথিবীর আবর্তন গতি সরাসরি অনুভব করতে পারি না, তবে বিভিন্ন পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এটি প্রমাণ করা যায়।

১. ফুকো-র দোলক পরীক্ষা (প্রত্যক্ষ প্রমাণ):
১৮৫১ সালে ফরাসি বিজ্ঞানী ফুকো একটি ৬৭ মিটার লম্বা তারের নিচে ভারী লোহার বল ঝুলিয়ে প্রমাণ করেন যে, দোলকটি সময়ের সাথে সাথে তার দোলনের তল পরিবর্তন করছে। পৃথিবী স্থির থাকলে দোলকটি একই রেখায় দুলত। পৃথিবীর আবর্তনের ফলেই দোলকের নিচে দাগ সরে যায়।

২. পৃথিবীর আকৃতি (পরোক্ষ প্রমাণ):
নিউটন বলেছিলেন, কোনো নমনীয় বস্তু নিজের অক্ষের চারদিকে দ্রুত ঘুরলে তার মাঝখানটা ফুলে যাবে এবং দুই প্রান্ত চ্যাপ্টা হবে। পৃথিবীও মেরুপ্রদেশে চাপা এবং নিরক্ষীয় প্রদেশে স্ফীত। এটি প্রমাণ করে যে পৃথিবী ঘুরছে (কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাবে)।

৩. দিন-রাত্রির সংগঠন:
পৃথিবী যদি স্থির হতো এবং সূর্য ঘুরত, তবে হঠাৎ করে দিন বা রাত হতো না। কিন্তু আমরা দেখি ক্রমান্বয়ে দিন ও রাত হয়, যা পৃথিবীর আবর্তনের ফল।

৪. উঁচু স্থান থেকে প্রস্তর খণ্ড পতন:
অনেক উঁচু জায়গা থেকে কোনো পাথর নিচে ফেললে তা সরাসরি উল্লম্বভাবে না পড়ে সামান্য পূর্ব দিকে সরে গিয়ে পড়ে। পৃথিবীর পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তনের ফলেই এমনটি ঘটে।

৫. উপগ্রহ চিত্র (আধুনিক প্রমাণ):
মহাকাশ থেকে পাঠানো কৃত্রিম উপগ্রহের ছবিতে স্পষ্টভাবে দেখা যায় যে পৃথিবী নিজের অক্ষের চারদিকে ঘুরছে।


৪. পৃথিবীর আবর্তন গতির ফলাফলগুলি আলোচনা করো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: পৃথিবী নিজের মেরুরেখার ওপর পশ্চিম থেকে পূর্বে অবিরাম আবর্তন করে চলেছে। এর ফলে পৃথিবীতে নানা ধরণের পরিবর্তন ঘটে। নিচে এর প্রধান ফলাফলগুলি আলোচনা করা হলো।

১. দিন ও রাত্রির সংগঠন:
আবর্তন গতির প্রধান ফল হলো দিন ও রাত্রি। পৃথিবী গোলাকার বলে এর এক অর্ধাংশ সূর্যের দিকে থাকে (দিন) এবং অন্য অর্ধাংশ বিপরীতে থাকে (রাত)। আবর্তনের ফলে এই পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন ঘটে।

২. সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত:
পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বে ঘোরে বলেই আমরা প্রতিদিন সকালে পুব আকাশে সূর্যোদয় এবং বিকেলে পশ্চিম আকাশে সূর্যাস্ত দেখতে পাই।

৩. জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি:
আবর্তন গতির ফলে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিগ বল এবং চাঁদ-সূর্যের আকর্ষণে সমুদ্রের জল ফুলে ওঠে (জোয়ার) এবং নেমে যায় (ভাটা)। আবর্তন না থাকলে নির্দিষ্ট স্থানে প্রতিদিন জোয়ার-ভাটা হতো না।

৪. বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের দিক বিক্ষেপ:
পৃথিবীর আবর্তনের ফলে ‘কোরিওলিস বল’ সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে এবং ফেরেলের সূত্রানুসারে বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়।

৫. সময় গণনা:
পৃথিবীর একবার পূর্ণ আবর্তনে সময় লাগে প্রায় ২৪ ঘণ্টা। এই সময়কে ভিত্তি করেই ঘণ্টা, মিনিট ও সেকেন্ডের হিসাব করা হয়।

৬. উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতের সৃষ্টি:
দিন ও রাত্রির পর্যায়ক্রমিক আবর্তনের ফলেই উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষ করতে পারে এবং প্রাণীকুল বিশ্রাম ও কাজের সুযোগ পায়।

৫. চিত্রসহ কর্কটসংক্রান্তি (Summer Solstice) ও মকরসংক্রান্তির (Winter Solstice) অবস্থান বর্ণনা করো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: পৃথিবীর পরিক্রমণ গতির ফলে সূর্যরশ্মির পতন কোণের তারতম্য ঘটে। এর ফলে কর্কটসংক্রান্তি ও মকরসংক্রান্তি নামক দুটি বিশেষ অবস্থার সৃষ্টি হয়।

[Image of Summer and Winter Solstice diagram]

ক) কর্কটসংক্রান্তি (২১ জুন):
১. সূর্যের অবস্থান: ২১ জুন তারিখে পৃথিবী তার কক্ষপথে এমন এক অবস্থানে আসে যে উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকে থাকে। এদিন সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার (২৩.৫° উত্তর) ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়।
২. দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য: এই দিন উত্তর গোলার্ধে দিন সবচেয়ে বড় (প্রায় ১৪ ঘণ্টা) এবং রাত সবচেয়ে ছোট হয়। দক্ষিণ গোলার্ধে ঠিক এর বিপরীত অবস্থা দেখা যায়।
৩. ঋতু: উত্তর গোলার্ধে তখন গ্রীষ্মকাল এবং দক্ষিণ গোলার্ধে শীতকাল বিরাজ করে।

খ) মকরসংক্রান্তি (২২ ডিসেম্বর):
১. সূর্যের অবস্থান: ২২ ডিসেম্বর তারিখে দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের দিকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকে থাকে। এদিন সূর্য মকরক্রান্তি রেখার (২৩.৫° দক্ষিণ) ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়।
২. দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য: এই দিন দক্ষিণ গোলার্ধে দিন সবচেয়ে বড় এবং রাত সবচেয়ে ছোট হয়। উত্তর গোলার্ধে তখন দিন ছোট ও রাত বড় হয়।
৩. ঋতু: দক্ষিণ গোলার্ধে তখন গ্রীষ্মকাল এবং উত্তর গোলার্ধে শীতকাল বিরাজ করে।


৬. চিত্রসহ ‘মহাবিষুব’ ও ‘জলবিষুব’ বা বিষুবের অবস্থান বর্ণনা করো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: ‘বিষুব’ কথাটির অর্থ সমান। বছরের যে দুটি দিন পৃথিবীর সর্বত্র দিন ও রাত্রি সমান হয়, তাকে বিষুব বলে।

ক) মহাবিষুব (২১ মার্চ):
১. সূর্যের অবস্থান: ২১ মার্চ তারিখে সূর্য নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়।
২. ফলাফল: এই দিন পৃথিবীর উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত সর্বত্র দিন ও রাত্রি সমান (১২ ঘণ্টা করে) হয়।
৩. ঋতু: এই সময় উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল বিরাজ করে বলে একে ‘বসন্তকালীন বিষুব’ও বলা হয়।

খ) জলবিষুব (২৩ সেপ্টেম্বর):
১. সূর্যের অবস্থান: ২৩ সেপ্টেম্বর তারিখেও সূর্য পুনরায় নিরক্ষরেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়।
২. ফলাফল: এই দিনও পৃথিবীর সর্বত্র দিন ও রাত্রি সমান হয়।
৩. ঋতু: এই সময় উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল বিরাজ করে বলে একে ‘শরৎকালীন বিষুব’ বলা হয়।

ছায়াবৃত্তের অবস্থান: বিষুবের দিনগুলিতে ছায়াবৃত্ত বা থার্মিনেটর রেখা ঠিক উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরুকে স্পর্শ করে অবস্থান করে।


৭. পৃথিবীর পরিক্রমণ গতির স্বপক্ষে প্রমাণ দাও। (পৃথিবী যে সূর্যের চারদিকে ঘুরছে তা আমরা বুঝব কী করে?)

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: পৃথিবী যে স্থির নয় এবং সূর্যের চারদিকে ঘুরছে, তার স্বপক্ষে বেশ কিছু প্রমাণ রয়েছে।

১. নক্ষত্রদের অবস্থান পরিবর্তন (প্যারালাক্স):
রাতের আকাশে আমরা দেখি নক্ষত্রমণ্ডলগুলি সারা বছর একই জায়গায় থাকে না। ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে আকাশের নক্ষত্রদের অবস্থানও বদলে যায়। পৃথিবী ঘুরছে বলেই আমরা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন নক্ষত্র বা নক্ষত্রমণ্ডল (যেমন—কালপুরুষ শীতকালে, বৃশ্চিক গ্রীষ্মকালে) দেখতে পাই।

২. অন্যান্য গ্রহের পরিক্রমণ পর্যবেক্ষণ:
শক্তিশালী দূরবীন দিয়ে দেখা গেছে যে বুধ, শুক্র, মঙ্গল, বৃহস্পতি প্রভৃতি গ্রহগুলি সূর্যের চারদিকে ঘুরছে। পৃথিবীও একটি গ্রহ, তাই মহাকর্ষ সূত্রানুসারে পৃথিবীও সূর্যের চারদিকে ঘুরছে।

৩. ঋতু পরিবর্তন:
যদি পৃথিবী সূর্যের চারদিকে না ঘুরত, তবে সারা বছর একই ঋতু থাকত। কিন্তু ঋতু পরিবর্তন প্রমাণ করে যে পৃথিবী সূর্যের সাপেক্ষে তার অবস্থান পরিবর্তন করছে।

৪. দিন-রাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি:
পৃথিবী এক জায়গায় স্থির থাকলে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য সারা বছর সমান হতো। কিন্তু তা হয় না। এটিও পরিক্রমণ গতির পরোক্ষ প্রমাণ।

৫. মহাকাশ অভিযান (আধুনিক প্রমাণ):
মহাকাশচারীরা এবং কৃত্রিম উপগ্রহগুলি মহাকাশ থেকে পর্যবেক্ষণ করে নিশ্চিত করেছেন যে পৃথিবী সূর্যের চারদিকে একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে পরিক্রমণ করছে।


৮. ‘নিশীথ সূর্যের দেশ’ বা মধ্যরাত্রির সূর্য (Midnight Sun) কীভাবে দেখা যায়? চিত্রসহ ব্যাখ্যা করো।

বিস্তারিত উত্তর

ভূমিকা: উচ্চ অক্ষাংশে বা মেরু অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে গভীর রাতেও সূর্যকে দিগন্তের ওপরে দেখা যায়। একে নিশীথ সূর্য বা মধ্যরাত্রির সূর্য বলা হয়।

কারণ ও ব্যাখ্যা:

  • ১. মেরুরেখার হেলানো অবস্থান: পৃথিবীর মেরুরেখা কক্ষতলের সঙ্গে ৬৬.৫° কোণে হেলে থাকে।
  • ২. উত্তর গোলার্ধের গ্রীষ্মকাল: ২১ জুন বা তার আশেপাশের সময়ে উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে। ফলে সুমেরুবৃত্ত (৬৬.৫° উঃ) থেকে উত্তর মেরু (৯০° উঃ) পর্যন্ত পুরো এলাকাটি ২৪ ঘণ্টাই আলোকিত থাকে।
  • ৩. আবর্তন গতি: পৃথিবী নিজের অক্ষে ঘুরলেও এই অঞ্চলের কোনো অংশই ছায়াবৃত্তের অন্ধকার দিকে প্রবেশ করতে পারে না।

ঘটনা:
এই সময় নরওয়ের হ্যামারফেস্ট বন্দর (৭০° উঃ) থেকে স্থানীয় সময় রাত ১২টার সময়ও সূর্যকে দিগন্তের ওপরে দেখা যায়। সূর্য অস্ত না গিয়ে দিগন্তরেখা বরাবর সামান্য নিচে নেমে আবার ওপরে উঠে আসে। তাই নরওয়েকে ‘নিশীথ সূর্যের দেশ’ বলা হয়। দক্ষিণ গোলার্ধেও কুমেরুবৃত্ত অঞ্চলে ২২ ডিসেম্বরের সময় একই ঘটনা ঘটে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

অধ্যায় ২: পৃথিবীর গতিসমূহ | নবম শ্রেণী ভূগোল

১. পৃথিবীর আবর্তন গতি ও পরিক্রমণ গতির প্রধান পার্থক্য কী?

আবর্তন গতি (Rotation): পৃথিবী নিজের অক্ষের চারদিকে লাট্টুর মতো ঘুরপাক খায়, যার ফলে দিন ও রাত্রি হয়।
পরিক্রমণ গতি (Revolution): পৃথিবী নিজের অক্ষে ঘুরতে ঘুরতে সূর্যের চারদিকে নির্দিষ্ট পথে প্রদক্ষিণ করে, যার ফলে ঋতু পরিবর্তন হয়।

২. অপসূর (Aphelion) ও অনুষূর (Perihelion) অবস্থান কবে হয়?

অপসূর: ৪ জুলাই তারিখে সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব সবচেয়ে বেশি (১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিমি) হয়।
অনুষূর: ৩ জানুয়ারি তারিখে সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব সবচেয়ে কম (১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিমি) হয়।

[Image of aphelion and perihelion diagram]

৩. ফেরেলের সূত্র (Ferrel’s Law) কী?

পৃথিবীর আবর্তন গতির ফলে সৃষ্ট কোরিওলিস বলের প্রভাবে বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত সোজা পথে না গিয়ে উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়। একেই ফেরেলের সূত্র বলা হয়।

৪. অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ার (Leap Year) কেন হয়?

পৃথিবী সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড সময় নেয়। কিন্তু ক্যালেন্ডারে ৩৬৫ দিন ধরা হয়। প্রতি বছর এই অতিরিক্ত প্রায় ৬ ঘণ্টা সময় যোগ করে প্রতি ৪ বছর অন্তর ফেব্রুয়ারি মাসের সঙ্গে ১ দিন বাড়িয়ে ৩৬৬ দিনে বছর গণনা করা হয়। একেই অধিবর্ষ বলে।

৫. কর্কটসংক্রান্তি ও মকরসংক্রান্তি কবে হয়?

কর্কটসংক্রান্তি: ২১ জুন তারিখে সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয় (উত্তর গোলার্ধে দিন বড়)।
মকরসংক্রান্তি: ২২ ডিসেম্বর তারিখে সূর্য মকরক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয় (দক্ষিণ গোলার্ধে দিন বড়)।

৬. মহাবিষুব ও জলবিষুব কী?

যে দিনগুলিতে পৃথিবীর সর্বত্র দিন ও রাত্রি সমান হয়, তাকে বিষুব বলে।
মহাবিষুব: ২১ মার্চ (বসন্তকাল)।
জলবিষুব: ২৩ সেপ্টেম্বর (শরৎকাল)।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার