অধ্যায় ৩: নির্বাচিত ২৮টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ)
১. নিরক্ষরেখা (Equator) কাকে বলে?
উত্তর দেখো
পৃথিবীর ঠিক মাঝখান দিয়ে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টনকারী যে কাল্পনিক রেখা পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণ—এই দুটি সমান গোলার্ধে ভাগ করেছে, তাকে নিরক্ষরেখা বলে। এর মান ০°।
২. নিরক্ষরেখাকে ‘বিষুবরেখা’ বলা হয় কেন?
উত্তর দেখো
‘বিষুব’ কথাটির অর্থ সমান। নিরক্ষরেখায় সারা বছর সূর্যরশ্মি লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে এই রেখা বরাবর দিন ও রাত্রি সর্বদা সমান হয়। তাই এর অপর নাম বিষুবরেখা।
৩. অক্ষাংশ (Latitude) বলতে কী বোঝো?
উত্তর দেখো
ভূপৃষ্ঠের কোনো স্থান নিরক্ষরেখা থেকে কতটা উত্তরে বা দক্ষিণে অবস্থিত, তার কৌণিক দূরত্বকে সেই স্থানের অক্ষাংশ বলে। এটি পৃথিবীর কেন্দ্রের সঙ্গে কোণ তৈরি করে মাপা হয়।
৪. অক্ষরেখা (Parallels of Latitude) কাকে বলে?
উত্তর দেখো
নিরক্ষরেখার সমান্তরালে পূর্ব-পশ্চিমে অঙ্কিত কাল্পনিক পূর্ণবৃত্ত রেখাগুলিকে অক্ষরেখা বলে। যেমন—কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩.৫° উঃ)।
৫. নিরক্ষীয় তল (Equatorial Plane) কী?
উত্তর দেখো
নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীকে কাল্পনিকভাবে কাটলে যে তল পাওয়া যায়, যা পৃথিবীর কেন্দ্রের মধ্য দিয়ে যায় এবং অক্ষদণ্ডের সঙ্গে সমকোণে থাকে, তাকে নিরক্ষীয় তল বলে।
৬. মহাবৃত্ত (Great Circle) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর দেখো
যে কাল্পনিক বৃত্তের কেন্দ্র এবং পৃথিবীর কেন্দ্র একই বিন্দুতে অবস্থান করে এবং যা পৃথিবীকে দুটি সমান ভাগে ভাগ করে, তাকে মহাবৃত্ত বলে।
উদাহরণ: নিরক্ষরেখা এবং যেকোনো দুটি বিপরীত দ্রাঘিমারেখার (যেমন ০° ও ১৮০°) সমষ্টি।
৭. উষ্ণমণ্ডলে সারা বছর উষ্ণতা বেশি থাকে কেন?
উত্তর দেখো
কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি রেখার মধ্যবর্তী অঞ্চলে সূর্যরশ্মি সারা বছর লম্বভাবে বা প্রায় লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে ভূপৃষ্ঠ খুব বেশি উত্তপ্ত হয় বলে এখানে উষ্ণতা সর্বদা বেশি থাকে।
৮. হিমমণ্ডলে সারা বছর উষ্ণতা খুব কম থাকে কেন?
উত্তর দেখো
মেরু অঞ্চলে সূর্যরশ্মি অত্যন্ত তির্যকভাবে পড়ে এবং বছরের একটি দীর্ঘ সময় সূর্য দেখাই যায় না। তাই তাপের অভাবে এখানে সারা বছর উষ্ণতা হিমাঙ্কের নিচে বা খুব কম থাকে।
৯. দ্রাঘিমা বা দ্রাঘিমাংশ (Longitude) কী?
উত্তর দেখো
মূলমধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমে অবস্থিত কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে সেই স্থানের দ্রাঘিমা বলে। এটি নিরক্ষীয় তলে পৃথিবীর কেন্দ্রের সঙ্গে কোণ উৎপন্ন করে।
১০. দ্রাঘিমারেখা (Meridians of Longitude) কাকে বলে?
উত্তর দেখো
পৃথিবীর উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত যে কাল্পনিক অর্ধবৃত্তাকার রেখাগুলি নিরক্ষরেখাকে সমকোণে ছেদ করে, তাদের দ্রাঘিমারেখা বলে।
১১. দ্রাঘিমারেখার অপর নাম ‘দেশান্তর রেখা’ কেন?
উত্তর দেখো
‘দেশ’ মানে স্থান এবং ‘অন্তর’ মানে তফাত বা দূরত্ব। দ্রাঘিমারেখার সাহায্যে দুটি স্থানের মধ্যে দূরত্ব বা সময়ের পার্থক্য নির্ণয় করা যায় বলে একে দেশান্তর রেখা বলা হয়।
১২. মূলমধ্যরেখা (Prime Meridian) কী?
উত্তর দেখো
লন্ডনের গ্রিনিচ মান মন্দিরের ওপর দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত যে নির্দিষ্ট দ্রাঘিমারেখার মান ০° ধরা হয় এবং যার সাপেক্ষে অন্য সব স্থানের দ্রাঘিমা নির্ণয় করা হয়, তাকে মূলমধ্যরেখা বলে।
১৩. স্থানীয় সময় (Local Time) বলতে কী বোঝো?
উত্তর দেখো
আকাশে সূর্যের সর্বোচ্চ অবস্থান অর্থাৎ ঠিক দুপুর ১২টা ধরে কোনো নির্দিষ্ট দ্রাঘিমারেখায় অবস্থিত স্থানের যে সময় গণনা করা হয়, তাকে সেই স্থানের স্থানীয় সময় বলে।
১৪. প্রমাণ সময় (Standard Time) কাকে বলে?
উত্তর দেখো
একটি দেশের প্রশাসনিক ও অন্যান্য কাজের সুবিধার জন্য সেই দেশের মাঝখান দিয়ে যাওয়া কোনো নির্দিষ্ট দ্রাঘিমারেখার স্থানীয় সময়কে সারা দেশের সাধারণ সময় হিসেবে গণ্য করা হলে, তাকে প্রমাণ সময় বলে।
১৫. গ্রিনিচ গড় সময় বা GMT কী?
উত্তর দেখো
০° দ্রাঘিমা বা মূলমধ্যরেখার স্থানীয় সময়কে গ্রিনিচ গড় সময় বা Greenwich Mean Time (GMT) বলে। এটি সারা পৃথিবীর সময় গণনার ভিত্তি।
১৬. AM ও PM বলতে কী বোঝায়?
উত্তর দেখো
AM (Ante Meridiem): রাত ১২টার পর থেকে দুপুর ১২টার আগে পর্যন্ত সময়।
PM (Post Meridiem): দুপুর ১২টার পর থেকে রাত ১২টার আগে পর্যন্ত সময়।
১৭. প্রতিপাদ স্থান (Antipode) কাকে বলে?
উত্তর দেখো
ভূপৃষ্ঠের কোনো বিন্দুর ঠিক বিপরীতে পৃথিবীর কেন্দ্রের মধ্য দিয়ে অঙ্কিত ব্যাস অপর প্রান্তে যে বিন্দুতে ছেদ করে, তাকে প্রথম বিন্দুর প্রতিপাদ স্থান বলে।
১৮. কোনো স্থান ও তার প্রতিপাদ স্থানের সময়ের পার্থক্য কত এবং কেন?
উত্তর দেখো
সময়ের পার্থক্য ১২ ঘণ্টা। কারণ, দুটি স্থানের দ্রাঘিমার পার্থক্য ১৮০° হয়। আমরা জানি ১° দ্রাঘিমায় সময়ের পার্থক্য ৪ মিনিট, তাই ১৮০ × ৪ = ৭২০ মিনিট বা ১২ ঘণ্টা।
১৯. আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা (International Date Line) কী?
উত্তর দেখো
১৮০° দ্রাঘিমারেখাকে অনুসরণ করে প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে যে কাল্পনিক রেখা টানা হয়েছে, যা অতিক্রম করলে তারিখ ও বারের পরিবর্তন হয়, তাকে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা বলে।
২০. ১৮০° দ্রাঘিমাকে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা ধরা হলো কেন?
উত্তর দেখো
কারণ ১৮০° পূর্ব ও ১৮০° পশ্চিম দ্রাঘিমা মূলত একই রেখা। মূলমধ্যরেখা থেকে দুদিকে গিয়ে এই রেখাতেই সময়ের পার্থক্য সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা হয়। তাই তারিখ পরিবর্তনের বিভ্রান্তি এড়াতে এই রেখাটিকেই বেছে নেওয়া হয়েছে।
২১. আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা অতিক্রম করলে তারিখ কীভাবে পরিবর্তন করতে হয়?
উত্তর দেখো
পূর্ব গোলার্ধ (এশিয়া) থেকে পশ্চিম গোলার্ধে (আমেরিকা) গেলে ১ দিন কমাতে হয় (যেমন—রবিবার হলে শনিবার ধরা হয়)। আর পশ্চিম থেকে পূর্বে এলে ১ দিন বাড়াতে হয়।
২২. আন্তর্জাতিক তারিখ রেখাটি সোজা না হয়ে বাঁকানো কেন?
উত্তর দেখো
যদি রেখাটি কোনো দ্বীপ বা দেশের ওপর দিয়ে যেত, তবে একই দেশে দুটি আলাদা তারিখ হয়ে যেত। এই অসুবিধা এড়াতে স্থলভাগ এড়িয়ে জলভাগের ওপর দিয়ে রেখাটিকে মাঝে মাঝে বাঁকিয়ে দেওয়া হয়েছে (যেমন—অ্যালিউশিয়ান দ্বীপপুঞ্জের কাছে)।
২৩. ভারতের প্রমাণ দ্রাঘিমা ৮২°৩০’ পূর্ব ধরা হয়েছে কেন?
উত্তর দেখো
ভারতের দ্রাঘিমার বিস্তার ৬৮°০৭’ পূর্ব থেকে ৯৭°২৫’ পূর্ব পর্যন্ত। এই বিস্তারের প্রায় মাঝখান দিয়ে এলাহাবাদের ওপর দিয়ে ৮২°৩০’ পূর্ব দ্রাঘিমা গেছে। তাই সারা দেশে সময়ের সামঞ্জস্য রাখতে এটিকে প্রমাণ দ্রাঘিমা ধরা হয়েছে।
২৪. কলকাতার স্থানীয় সময় ও প্রমাণ সময়ের পার্থক্য কত?
উত্তর দেখো
২৪ মিনিট। কারণ ভারতের প্রমাণ দ্রাঘিমা ৮২°৩০’ পূর্ব এবং কলকাতার দ্রাঘিমা ৮৮°৩০’ পূর্ব। পার্থক্য ৬°। তাই সময়ের পার্থক্য ৬ × ৪ = ২৪ মিনিট।
২৫. নিরক্ষরেখা বরাবর হাঁটলে সময় পরিবর্তন হয় কিন্তু মূলমধ্যরেখা বরাবর হাঁটলে জলবায়ু পরিবর্তন হয় কেন?
উত্তর দেখো
নিরক্ষরেখা বরাবর হাঁটলে আমরা এক দ্রাঘিমা থেকে অন্য দ্রাঘিমায় যাই, তাই স্থানীয় সময় বদলায়। কিন্তু মূলমধ্যরেখা বরাবর উত্তর-দক্ষিণে হাঁটলে আমরা অক্ষাংশ পরিবর্তন করি (নিরক্ষীয় থেকে মেরুর দিকে), তাই সূর্যরশ্মির পতন কোণের পরিবর্তনে জলবায়ুর পরিবর্তন হয়।
২৬. নিরক্ষরেখা বরাবর প্রতিপাদ স্থানের জলবায়ুর কোনো পরিবর্তন হয় না কেন?
উত্তর দেখো
নিরক্ষরেখায় অবস্থিত কোনো স্থানের প্রতিপাদ স্থানও নিরক্ষরেখাতেই (বিপরীত দিকে) অবস্থিত হবে। যেহেতু নিরক্ষরেখা বরাবর সারা বছর সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়ে এবং একই অক্ষাংশে অবস্থিত, তাই উভয় স্থানের জলবায়ু প্রায় একই থাকে (উষ্ণ ও আর্দ্র)।
২৭. ভারতের কোন কোন রাজ্যের ওপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা বিস্তৃত?
উত্তর দেখো
মোট ৮টি রাজ্যের ওপর দিয়ে: ১) গুজরাট, ২) রাজস্থান, ৩) মধ্যপ্রদেশ, ৪) ছত্তিশগড়, ৫) ঝাড়খণ্ড, ৬) পশ্চিমবঙ্গ, ৭) ত্রিপুরা এবং ৮) মিজোরাম।
২৮. কোন কোন মহাদেশের ওপর দিয়ে নিরক্ষরেখা বিস্তৃত?
উত্তর দেখো
দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা এবং এশিয়া (ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপপুঞ্জ) মহাদেশের ওপর দিয়ে।
২৯. স্থানীয় সময় ও প্রমাণ সময়ের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর দেখো
১) ভিত্তি: স্থানীয় সময় মধ্যাহ্ন সূর্যের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। প্রমাণ সময় দেশের মাঝখান দিয়ে যাওয়া নির্দিষ্ট দ্রাঘিমার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।
২) সংখ্যা: একটি দেশে অসংখ্য স্থানীয় সময় থাকতে পারে, কিন্তু প্রমাণ সময় সাধারণত একটিই থাকে (বড় দেশে একাধিক হতে পারে)।
৩০. অক্ষাংশ ও অক্ষাংশের সমান্তরাল রেখা (অক্ষরেখা)-র মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর দেখো
অক্ষাংশ হলো কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্ব (যেমন—২৩.৫° উঃ)। আর অক্ষরেখা হলো সেই কৌণিক মান যুক্ত কাল্পনিক বৃত্তাকার রেখা যা পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে।
৩১. নিরক্ষরেখা ও মূলমধ্যরেখার মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর দেখো
১) আকৃতি: নিরক্ষরেখা একটি পূর্ণবৃত্ত, কিন্তু মূলমধ্যরেখা একটি অর্ধবৃত্ত।
২) দিক: নিরক্ষরেখা পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত, কিন্তু মূলমধ্যরেখা উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত।
৩২. ভূজালক (Earth Grid) কাকে বলে?
উত্তর দেখো
গ্লোব বা মানচিত্রের ওপর অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখাগুলি পরস্পরকে লম্বভাবে ছেদ করে যে জালের মতো ছক বা খোপ সৃষ্টি করে, তাকে ভূজালক বলে। এর সাহায্যে কোনো স্থানের সঠিক অবস্থান নির্ণয় করা হয়।
৩৩. কলকাতার অক্ষাংশ ২২°৩৪’ উত্তর বলতে কী বোঝো?
উত্তর দেখো
এর অর্থ হলো, কলকাতা নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর দিকে অবস্থিত এবং পৃথিবীর কেন্দ্রে নিরক্ষীয় তলের সঙ্গে কলকাতার কৌণিক দূরত্ব হলো ২২°৩৪’।
৩৪. সেক্সট্যান্ট (Sextant) যন্ত্রের ব্যবহার কী?
উত্তর দেখো
এই যন্ত্রের সাহায্যে সূর্যের বা ধ্রুবতারার উন্নতি কোণ মেপে কোনো স্থানের অক্ষাংশ নির্ণয় করা হয়। নাবিকরা সমুদ্রে জাহাজের অবস্থান জানতে এটি ব্যবহার করেন।
৩৫. ১° দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য ৪ মিনিট হয় কেন?
উত্তর দেখো
পৃথিবী ৩৬০° ঘুরতে সময় নেয় ২৪ ঘণ্টা বা ১৪৪০ মিনিট।
সুতরাং, ১° ঘুরতে সময় নেয় = ১৪৪০ ÷ ৩৬০ = ৪ মিনিট।
৩৬. ‘কোকনদ’ বা ‘কাকিনাড়া’র গুরুত্ব কী?
উত্তর দেখো
অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়া বা কোকনদ শহরের ওপর দিয়ে ভারতের প্রমাণ দ্রাঘিমারেখা (৮২°৩০’ পূর্ব) বিস্তৃত হয়েছে। যদিও সাধারণত এলাহাবাদের নামই বেশি উল্লেখ করা হয়।
৩৭. জিপিএস (GPS) এর দুটি ব্যবহার লেখো।
উত্তর দেখো
১) বিমান ও জাহাজ চলাচলের দিক নির্ণয় করতে।
২) মোবাইলে গুগল ম্যাপের মাধ্যমে অচেনা জায়গা খুঁজে বের করতে।
৩৮. কোনো স্থানের দ্রাঘিমা ২০° পূর্ব হলে তার প্রতিপাদ স্থানের দ্রাঘিমা কত?
উত্তর দেখো
১৮০° – ২০° = ১৬০°। যেহেতু পূর্ব গোলার্ধ, তাই প্রতিপাদ স্থান হবে পশ্চিম গোলার্ধে।
উত্তর: ১৬০° পশ্চিম।