অধ্যায় ৪: আপনার দেওয়া সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (পর্ব-১)
১. পৃথিবীপৃষ্ঠের উপরিভাগ অসমতল ও বন্ধুর হলো কেন?
উত্তর দেখো
পৃথিবীর অভ্যন্তরের অন্তর্জাত শক্তি (ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত, পাত সঞ্চালন) ক্রমাগত ভূপৃষ্ঠকে উঁচু-নিচু করে পর্বত, মালভূমি সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে, বহির্জাত শক্তি (নদী, বায়ু, হিমবাহ) সেই উঁচু স্থানগুলোকে ক্ষয় করে এবং নিচু স্থানে সঞ্চয় করে ভূমিরূপের পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। এই দুই শক্তির অবিরত লড়াইয়ের ফলেই পৃথিবীপৃষ্ঠ অসমতল ও বন্ধুর।
২. পরিচলন স্রোত কী?
উত্তর দেখো
বিজ্ঞানী আর্থার হোমসের মতে, ভূগর্ভের গুরুমণ্ডলে (Mantle) তেজস্ক্রিয় পদার্থের উপস্থিতির কারণে প্রচণ্ড তাপের সৃষ্টি হয়। এই তাপে গলিত ম্যাগমা হালকা হয়ে ওপরে ওঠে এবং অপেক্ষাকৃত শীতল ও ভারী ম্যাগমা নিচে নেমে যায়। ভূগর্ভে ম্যাগমার এই চক্রাকার চলনকেই পরিচলন স্রোত (Convection Current) বলে। এটি পাত সঞ্চালনের মূল কারণ।
[Image of convection currents in earth mantle]
৩. অন্তর্জাত প্রক্রিয়া কী?
উত্তর দেখো
পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগে সৃষ্ট তাপ ও চাপের প্রভাবে ভূত্বকের যে ধীর (যেমন—মহাদেশ গঠন) বা আকস্মিক (যেমন—ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত) পরিবর্তন ঘটে, তাকে অন্তর্জাত প্রক্রিয়া বা Endogenic Process বলে।
৪. বহির্জাত প্রক্রিয়া কী?
উত্তর দেখো
ভূপৃষ্ঠের ওপরে বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি ক্রমাগত ক্ষয়, বহন ও সঞ্চয় কাজের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের উঁচু-নিচু ভূমিরূপকে সমতল বা পরিবর্তন করার যে প্রক্রিয়া চালিয়ে যায়, তাকে বহির্জাত প্রক্রিয়া বা Exogenic Process বলে।
৫. বহির্জাত প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী শক্তিগুলি কী কী?
উত্তর দেখো
বহির্জাত প্রক্রিয়ার প্রধান শক্তিগুলি হলো— ১) নদীর জলধারা, ২) বায়ুপ্রবাহ, ৩) হিমবাহ, ৪) সমুদ্রের ঢেউ, ৫) ভৌমজল এবং ৬) আবহাওয়া ও জলবায়ুর বিভিন্ন উপাদান (উষ্ণতা, বৃষ্টিপাত)।
৬. মানুষ কীভাবে ভূমিরূপের পরিবর্তন ঘটায়?
উত্তর দেখো
মানুষ প্রধানত তার অর্থনৈতিক ও উন্নয়নের কাজের মাধ্যমে ভূমিরূপের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটায়। যেমন— খনিজ সম্পদ উত্তোলনের জন্য গভীর খাদ বা খনি তৈরি করা, পাহাড় কেটে রাস্তা বা সুড়ঙ্গ বানানো, নদীর ওপর ড্যাম বা বাঁধ নির্মাণ করা এবং বনভূমি কেটে শহর বা কৃষিজমি তৈরি করা।
৭. ভূমিরূপের শ্রেণিন্যাস করো।
উত্তর দেখো
ভূমিরূপকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়:
১ম ক্রমের ভূমিরূপ: মহাদেশ ও মহাসাগর।
২য় ক্রমের ভূমিরূপ: পর্বত, মালভূমি ও সমভূমি।
৩য় ক্রমের ভূমিরূপ: নদী উপত্যকা, বদ্বীপ, গিরিখাত, পাহাড় ইত্যাদি (যা ২য় ক্রমের ভূমিরূপের ওপর সৃষ্টি হয়)।
৮. পর্বত কী?
উত্তর দেখো
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাধারণত ৯০০ বা ১০০০ মিটারের বেশি উচ্চতাবিশিষ্ট, বহুদূর বিস্তৃত, খাড়া ঢালযুক্ত এবং তীক্ষ্ণ চূড়াবিশিষ্ট বিশাল শিলাস্তূপকে পর্বত (Mountain) বলে।
৯. পর্বত কয় প্রকার ও কী কী?
উত্তর দেখো
উৎপত্তি ও গঠনের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী পর্বত প্রধানত চার প্রকার। যথা— ১) ভঙ্গিল পর্বত, ২) স্তূপ পর্বত, ৩) আগ্নেয় বা সঞ্চয়জাত পর্বত এবং ৪) ক্ষয়জাত বা অবশিষ্ট পর্বত।
১০. ভঙ্গিল পর্বত কী?
উত্তর দেখো
গিরিজনি আলোড়নের প্রভাবে দুটি পাত পরস্পরের দিকে এগিয়ে এলে মহীখাতে জমে থাকা পাললিক শিলায় প্রবল পার্শ্বচাপ পড়ে। এর ফলে শিলাস্তরে ভাঁজ (Fold) পড়ে যে উঁচু পর্বতের সৃষ্টি হয়, তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলে।
১১. পৃথিবী বিখ্যাত ভঙ্গিল পর্বতগুলির নাম লেখো।
উত্তর দেখো
পৃথিবীর বিখ্যাত ভঙ্গিল পর্বতগুলি হলো— এশিয়ার হিমালয়, ইউরোপের আল্পস, উত্তর আমেরিকার রকি এবং দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতমালা।
১২. পর্বত গ্রন্থি কী?
উত্তর দেখো
ভূপৃষ্ঠের যে উঁচু ও বিস্তীর্ণ পাহাড়ি অঞ্চল বা কেন্দ্র থেকে একাধিক পর্বতমালা বিভিন্ন দিকে প্রসারিত হয় বা এসে মিলিত হয়, তাকে পর্বত গ্রন্থি (Mountain Knot) বলে। যেমন— পামির গ্রন্থি, আর্মানীয় গ্রন্থি।
[Image of Pamir knot showing radiating mountain ranges]
১৩. পাত কী?
উত্তর দেখো
পৃথিবীর উপরিভাগের শিলামণ্ডল (Lithosphere) অখণ্ড নয়, বরং এটি কতগুলি ছোট-বড় বিশাল, কঠিন ও চলনশীল শিলাখণ্ডে বিভক্ত। এই ভাসমান ও দৃঢ় শিলাখণ্ডগুলিকেই পাত বা Plate বলে।
১৪. পাত সংস্থান তত্ত্ব কী?
উত্তর দেখো
যে আধুনিক বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের সাহায্যে পৃথিবীর শিলামণ্ডলের পাতগুলির চলন এবং এই চলনের ফলে সৃষ্ট বিভিন্ন ভূতাত্ত্বিক ঘটনা (যেমন—পাহাড়-পর্বত গঠন, ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত) বিজ্ঞানসম্মতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়, তাকে পাত সংস্থান তত্ত্ব (Plate Tectonics Theory) বলে।
[Image of tectonic plates world map]
১৫. পাত সংস্থান তত্ত্বের মাধ্যমে কোন কোন ভূত্বকীয় পরিবর্তন ব্যাখ্যা করা হয়?
উত্তর দেখো
এই তত্ত্বের মাধ্যমে প্রধানত— ১) ভঙ্গিল পর্বতের উৎপত্তি, ২) আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও আগ্নেয় পর্বত সৃষ্টি, ৩) ভূমিকম্পের কারণ, ৪) সমুদ্রখাত বা পরিখার সৃষ্টি এবং ৫) মহাদেশীয় সরণ বা চলন নিখুঁতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়।
১৬. পৃথিবীর প্রধান পাতগুলির নাম লেখো।
উত্তর দেখো
পৃথিবীতে মোট ৭টি প্রধান পাত রয়েছে। যথা— ১) ইউরেশীয় পাত, ২) ভারতীয় পাত, ৩) প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাত (বৃহত্তম), ৪) উত্তর আমেরিকান পাত, ৫) দক্ষিণ আমেরিকান পাত, ৬) আফ্রিকান পাত এবং ৭) আন্টার্কটিকা পাত।
১৭. জিও সিনক্লাইন বা মহীখাত কী? উদাহরণ দাও।
উত্তর দেখো
ভূত্বকের ওপর অবস্থিত দীর্ঘ, সংকীর্ণ এবং অগভীর জলভাগ বা অবনমিত অঞ্চলকে মহীখাত বা জিওসিনক্লাইন (Geosyncline) বলে। এই মহীখাতে দীর্ঘকাল ধরে নদীর পলি সঞ্চিত হয়ে পরবর্তীতে ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টি করে।
উদাহরণ: টেথিস মহীখাত (যার পলিতে ভাঁজ পড়ে হিমালয় সৃষ্টি হয়েছে)।
১৮. নবীন ভঙ্গিল পর্বত কী? এর উদাহরণ দাও।
উত্তর দেখো
টারশিয়ারি যুগে (প্রায় ৭ থেকে ১০ কোটি বছর আগে) পৃথিবীর নবীনতম গিরিজনি আলোড়নের ফলে যে সব উঁচু এবং তীক্ষ্ণ চূড়াবিশিষ্ট পর্বত সৃষ্টি হয়েছে, তাদের নবীন ভঙ্গিল পর্বত বলে।
উদাহরণ: হিমালয়, আল্পস, রকি, আন্দিজ।
১৯. প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বত কী? এর উদাহরণ দাও。
উত্তর দেখো
টারশিয়ারি যুগের অনেক আগে (কয়েকশো কোটি বছর আগে) প্রাচীন গিরিজনি আলোড়নের ফলে যে পর্বত সৃষ্টি হয়েছিল এবং যা বর্তমানে প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে ক্ষয় পেয়ে অনুচ্চ পাহাড়ে পরিণত হয়েছে, তাদের প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বত বলে।
উদাহরণ: ভারতের আরাবল্লী, রাশিয়ার উরাল পর্বত।
২০. আগ্নেয় পর্বত কী? এর উদাহরণ দাও。
উত্তর দেখো
অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ভূগর্ভের উত্তপ্ত লাভা, ছাই, শিলাখণ্ড ইত্যাদি জ্বালামুখের চারপাশে ক্রমাগত সঞ্চিত ও কঠিন হয়ে যে শঙ্কু বা মোচাকৃতির পর্বত সৃষ্টি করে, তাকে আগ্নেয় বা সঞ্চয়জাত পর্বত বলে।
উদাহরণ: জাপানের ফুজিয়ামা, ইতালির ভিসুভিয়াস।
২১. চ্যুতি (Fault) কী?
উত্তর দেখো
ভূ-আলোড়নের ফলে ভূত্বকে প্রবল টান বা সংকোচনের সৃষ্টি হলে শিলাস্তরে ফাটল দেখা যায়। এই ফাটল বরাবর শিলাস্তর যখন ওপর-নিচে বা পাশাপাশি স্থানচ্যুত হয় বা সরে যায়, তখন তাকে ভূতাত্ত্বিক ভাষায় চ্যুতি বা Fault বলে। এর ফলেই স্তূপ পর্বত তৈরি হয়।
২২. স্তূপ পর্বত কী? এর উদাহরণ দাও。
উত্তর দেখো
ভূত্বকে ফাটল বা চ্যুতির ফলে যখন দুটি সমান্তরাল চ্যুতির মাঝখানের ভূখণ্ড ওপরে উঠে যায় অথবা দুই পাশের অংশ নিচে বসে গিয়ে মাঝের অংশ খাড়াভাবে দাঁড়িয়ে থাকে, তখন সেই উন্নত ভূমিরূপকে স্তূপ পর্বত (Block Mountain) বলে।
উদাহরণ: ভারতের বিন্ধ্য ও সাতপুরা, জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট।
২৩. গ্রস্ত উপত্যকা কী? এর উদাহরণ দাও。
উত্তর দেখো
দুটি সমান্তরাল চ্যুতির মাঝখানের ভূখণ্ড যখন নিচে বসে গিয়ে একটি দীর্ঘ ও সংকীর্ণ খাত বা উপত্যকার সৃষ্টি করে, তখন তাকে গ্রস্ত উপত্যকা বা ‘গ্রাবেন’ (Rift Valley) বলে।
উদাহরণ: ভারতের বিন্ধ্য ও সাতপুরা পর্বতের মাঝে নর্মদা নদীর উপত্যকা।
২৪. ক্ষয়জাত বা অবশিষ্ট পর্বত কী? এর উদাহরণ দাও。
উত্তর দেখো
প্রাকৃতিক শক্তিগুলির (নদী, বায়ু ইত্যাদি) প্রভাবে প্রাচীন পর্বত বা উচ্চভূমি ক্ষয় পেতে থাকলে, নরম শিলাগুলি দ্রুত ক্ষয় পায়। কিন্তু কঠিন শিলা গঠিত অংশগুলি ক্ষয় প্রতিরোধ করে অনুচ্চ পর্বতের মতো দাঁড়িয়ে থাকে। এদের ক্ষয়জাত বা অবশিষ্ট পর্বত (Residual Mountain) বলে।
উদাহরণ: আরাবল্লী, নীলগিরি, পরেশনাথ পাহাড়।
২৫. পার্বত্য অঞ্চল কুটিরশিল্পে উন্নত কেন?
উত্তর দেখো
পার্বত্য অঞ্চলে সমতল জমির অভাবে বড় শিল্প গড়ে তোলা কঠিন। কিন্তু সেখানে প্রচুর কাঠ, পশুর লোম, ফলমূল পাওয়া যায় এবং খরস্রোতা নদী থেকে সস্তা জলবিদ্যুৎ মেলে। তাছাড়া পর্যটকদের কাছে স্থানীয় হস্তশিল্পের ব্যাপক চাহিদা থাকে। এই সমস্ত সুবিধার কারণে পাহাড়ি এলাকায় কাঠের কাজ, পশম শিল্প, ফল প্রক্রিয়াকরণ প্রভৃতি কুটিরশিল্প খুব উন্নত।
২৬. মালভূমি কী?
উত্তর দেখো
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাধারণত ৩০০ মিটারের বেশি উঁচুতে অবস্থিত, বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে থাকা, যার উপরিভাগ প্রায় সমতল বা সামান্য ঢেউখেলানো এবং চারপাশ খাড়াভাবে নিচু হয়ে সমভূমিতে মিশেছে, এমন ভূমিরূপকে মালভূমি (Plateau) বলে।
২৭. মালভূমিকে টেবিল ল্যান্ড বলা হয় কেন?
উত্তর দেখো
টেবিলের উপরিভাগ যেমন সমতল হয় এবং তার পায়াগুলো খাড়াভাবে মাটিতে নেমে আসে, মালভূমির চেহারাও ঠিক তেমনই। মালভূমির উপরিভাগ প্রায় সমতল এবং এর প্রান্তভাগ খাড়া ঢালযুক্ত হয়। এই আকৃতিগত মিলের জন্যই মালভূমিকে ‘টেবিল ল্যান্ড’ (Table Land) বলা হয়।
২৮. পর্বতবেষ্টিত মালভূমি কী ও এর উদাহরণ দাও。
উত্তর দেখো
ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টির সময় দুই পাশের পর্বতশ্রেণির মাঝখানের অংশ যখন উঁচু হয়ে মালভূমির আকার ধারণ করে, তখন তাকে পর্বতবেষ্টিত মালভূমি (Intermontane Plateau) বলে। এই মালভূমি চারদিক থেকে পর্বত দিয়ে ঘেরা থাকে।
উদাহরণ: তিব্বত মালভূমি।
২৯. পামির মালভূমির বিশেষত্ব কী?
উত্তর দেখো
পামির মালভূমির প্রধান বিশেষত্ব হলো— এটি পৃথিবীর উচ্চতম মালভূমি (গড় উচ্চতা প্রায় ৪,৮৮০ মিটার)। এছাড়া এটি একটি বিশাল পর্বত গ্রন্থি, যেখান থেকে হিমালয়, কারাকোরাম, তিয়েনশান প্রভৃতি পর্বতমালা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে।
৩০. পামির মালভূমিকে পৃথিবীর ছাদ বলা হয় কেন?
উত্তর দেখো
বাড়ির সবচেয়ে উঁচু অংশ যেমন ছাদ, তেমনি পামির মালভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪,৮৮০ মিটার উঁচুতে অবস্থান করে পৃথিবীর সর্বোচ্চ মালভূমির মর্যাদা পেয়েছে। এশিয়ার কেন্দ্রস্থলে বিশাল উচ্চতায় ছাদের মতো অবস্থান করায় একে ‘পৃথিবীর ছাদ’ (Roof of the World) বলা হয়।
৩১. কোন দুটি পর্বতের মাঝে তিব্বত মালভূমি অবস্থান করছে?
উত্তর দেখো
তিব্বত মালভূমির দক্ষিণে রয়েছে হিমালয় পর্বতমালা এবং উত্তরে রয়েছে কুনলুন পর্বতমালা।
৩২. ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি কী? এর উদাহরণ দাও。
উত্তর দেখো
প্রাকৃতিক শক্তি, বিশেষত নদী ও তার উপনদীগুলো দীর্ঘকাল ধরে কোনো বিস্তীর্ণ মালভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় গভীরভাবে উপত্যকা কেটে মালভূমিটিকে ছোট ছোট অংশে বিভক্ত বা খণ্ডিত করে দিলে তাকে ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি (Dissected Plateau) বলে।
উদাহরণ: ভারতের ছোটনাগপুর মালভূমি।
৩৩. লাভা মালভূমি কী? এর উদাহরণ দাও。
উত্তর দেখো
বিদার অগ্ন্যুৎপাতের মাধ্যমে ভূগর্ভের তরল ও ক্ষারীয় লাভা ভূপৃষ্ঠের ফাটল দিয়ে নিঃশব্দে বেরিয়ে এসে বহুদূর ছড়িয়ে পড়ে। এই লাভা ঠান্ডা ও কঠিন হয়ে যে বিস্তীর্ণ মালভূমি তৈরি করে, তাকে লাভা মালভূমি (Lava Plateau) বলে।
উদাহরণ: ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমি বা ডেকান ট্র্যাপ।
৩৪. ‘ডেকানট্র্যাপ’ (Deccan Trap) নামকরণের সার্থকতা লেখো。
উত্তর দেখো
‘ডেকান’ (Deccan) মানে দাক্ষিণাত্য বা দক্ষিণ দিক এবং ‘ট্র্যাপ’ (Trap) একটি সুইডিশ শব্দ, যার অর্থ সিঁড়ি বা ধাপ। ভারতের দাক্ষিণাত্য অঞ্চলে লাভা স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়ে ঠান্ডা হওয়ার ফলে মালভূমিটির প্রান্তভাগ অনেকটা সিঁড়ির মতো ধাপযুক্ত হয়ে সমভূমিতে মিশেছে। এই সিড়ির মতো গঠনের জন্যই একে ডেকানট্র্যাপ বলা হয়।
৩৫. মালভূমিতে খনিজ ভিত্তিক শিল্পের প্রাধান্য বেশি কেন?
উত্তর দেখো
অধিকাংশ প্রাচীন মালভূমি বা শিল্ড অঞ্চলগুলি প্রাচীন আগ্নেয় ও রূপান্তরিত শিলা দ্বারা গঠিত। এই শিলাস্তরে লোহা, কয়লা, বক্সাইট, তামা প্রভৃতি মূল্যবান খনিজ পদার্থ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় (যেমন—ছোটনাগপুর মালভূমি)। সুলভ কাঁচামাল এবং খনিজের প্রাচুর্যের জন্যই মালভূমিতে লৌহ-ইস্পাত বা অ্যালুমিনিয়ামের মতো খনিজ ভিত্তিক শিল্প বেশি গড়ে ওঠে।
৩৬. প্লাবন সমভূমি কী?
উত্তর দেখো
নদীর মধ্য ও নিম্ন প্রবাহে বর্ষাকালে নদীর জল দুকূল ছাপিয়ে বন্যা বা প্লাবন সৃষ্টি করে। বন্যার জল নেমে গেলে নদীর দুই তীরে বাহিত পলি, বালি ও কাদা সঞ্চিত হয়ে যে বিস্তীর্ণ ও উর্বর সমভূমি গঠন করে, তাকে প্লাবন সমভূমি (Flood Plain) বলে।
৩৭. খাদার ও ভাঙ্গার কী?
উত্তর দেখো
খাদার (Khadar): নদীর তীরবর্তী প্লাবন সমভূমির নবীন পলিমাটি যুক্ত উর্বর নিচু অঞ্চলকে খাদার বলে।
ভাঙ্গার (Bhangar): নদী থেকে দূরে অবস্থিত প্রাচীন পলিমাটি যুক্ত অপেক্ষাকৃত উচ্চ ও অনুর্বর ভূমিকে ভাঙ্গার বলে। এতে কাঁকড় বা চুন মেশানো থাকে।
৩৮. সমভূমি কী?
উত্তর দেখো
সমুদ্রপৃষ্ঠের প্রায় সমতলে বা খুব সামান্য উঁচুতে অবস্থিত (সাধারণত ৩০০ মিটারের কম), বিস্তীর্ণ, ঢেউখেলানো বা প্রায় সমতল ভূমিরূপকে সমভূমি (Plain) বলে। পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ সমভূমিতেই বসবাস করে।
৩৯. লোয়েস সমভূমি কী ও এর উদাহরণ দাও。
উত্তর দেখো
মরুভূমির অতি সূক্ষ্ম হলুদ রঙের বালি বা ধূলিকণা প্রবল বায়ুর সাহায্যে উড়ে গিয়ে বহুদূরে অপেক্ষাকৃত নিচু স্থানে সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমি তৈরি করে, তাকে লোয়েস সমভূমি (Loess Plain) বলে।
উদাহরণ: গোবি মরুভূমি থেকে বালি উড়ে গিয়ে চীনের হোয়াংহো অববাহিকায় বিশাল লোয়েস সমভূমি তৈরি করেছে।
৪০. পেডিমেন্ট সমভূমি কী?
উত্তর দেখো
মরু বা প্রায়-মরু অঞ্চলে পর্বতের পাদদেশে বায়ু ও সাময়িক জলধারার মিলিত ক্ষয়কাজের ফলে যে মৃদু ঢালু ও প্রায় সমতল প্রস্তরময় (পাথুরে) ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়, তাকে পেডিমেন্ট (Pediment) বলে। এটি ক্ষয়জাত সমভূমির একটি উদাহরণ।