নবম শ্রেণি: ভূগোল, অধ্যায় – 4 ‘ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া ও পৃথিবীর বিভিন্ন ভূমিরূপ’ রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর মান ৫
অধ্যায় ৪: ৫ নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর
১. পাতগাঠনিক তত্ত্বের (Plate Tectonics Theory) মাধ্যমে ভঙ্গিল পর্বতের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করো।
বিস্তারিত উত্তর
ভূমিকা: ভঙ্গিল পর্বতের উৎপত্তির সর্বাধুনিক এবং সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য বৈজ্ঞানিক তত্ত্বটি হলো ‘পাত সংস্থান তত্ত্ব’ বা Plate Tectonics Theory। ১৯৬০-এর দশকে পিঁচো, উইলসন, মর্গ্যান প্রমুখ বিজ্ঞানী এই তত্ত্বের বিকাশ ঘটান।
উৎস ও প্রক্রিয়া: এই তত্ত্ব অনুযায়ী, ভঙ্গিল পর্বতের সৃষ্টির পর্যায়গুলি নিচে আলোচনা করা হলো—
- পাতের চলন: পৃথিবীর শিলামণ্ডল কতগুলি কঠিন ও বিশাল খণ্ডে বিভক্ত, যাদের পাত (Plate) বলে। ভূগর্ভের গুরুমণ্ডলের পরিচলন স্রোতের প্রভাবে এই পাতগুলি উত্তপ্ত অ্যাসথেনোস্ফিয়ারের ওপর দিয়ে অত্যন্ত ধীর গতিতে ভাসমান অবস্থায় চলাচল করে।
- মহীখাত বা জিওসিনক্লাইন গঠন: দুটি পাতের মাঝখানে অনেক সময় দীর্ঘ ও অগভীর সমুদ্রখাত বা মহীখাত থাকে। কোটি কোটি বছর ধরে দুই দিকের ভূখণ্ড থেকে নদীর মাধ্যমে প্রচুর পলি এসে এই মহীখাতে সঞ্চিত হতে থাকে।
- অভিসারী চলন ও প্রবল পার্শ্বচাপ: যখন দুটি পাত পরস্পরের দিকে অগ্রসর হয় (যাকে অভিসারী পাত সীমানা বলে), তখন মাঝখানের মহীখাতে জমে থাকা নরম পাললিক শিলাস্তরের ওপর প্রবল পার্শ্বচাপের সৃষ্টি হয়।
- ভঙ্গিল পর্বতের উত্থান: দুই পাতের এই প্রবল চাপে এবং সংঘর্ষে মহীখাতের সঞ্চিত পলিস্তরে প্রচণ্ড ভাঁজ (Fold) পড়ে। এই ভাঁজপ্রাপ্ত শিলাস্তর ক্রমশ ওপরের দিকে মাথা তুলে উঠে ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টি করে।
উদাহরণ: ভারতীয় পাত এবং ইউরেশীয় পাতের পরস্পর অভিসারী চলনের ফলে মাঝখানে থাকা ‘টেথিস’ মহীখাতের পলিতে ভাঁজ পড়ে হিমালয় পর্বতমালা সৃষ্টি হয়েছে।
[Image of plate tectonics fold mountain formation]
২. ভঙ্গিল পর্বতের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।
বিস্তারিত উত্তর
পৃথিবীর দীর্ঘতম ও উচ্চতম পর্বতমালাগুলি হলো ভঙ্গিল পর্বত। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
- শিলাপ্রকৃতি ও জীবাশ্ম: ভঙ্গিল পর্বত প্রধানত মহীখাতে সঞ্চিত পাললিক শিলা দিয়ে গঠিত। সমুদ্রের তলায় পলি জমার সময় তাতে সামুদ্রিক প্রাণী ও উদ্ভিদের দেহ চাপা পড়ে, তাই এই পর্বতে প্রচুর জীবাশ্ম (Fossils) দেখতে পাওয়া যায়।
- ভাঁজ ও চ্যুতি: প্রবল পার্শ্বচাপে তৈরি হয় বলে এই পর্বতের শিলাস্তরে অসংখ্য ঊর্ধ্বভঙ্গ (উঁচু অংশ) ও অধোভঙ্গ (নিচু অংশ) নিয়ে গঠিত ভাঁজ (Fold) দেখা যায়। অত্যধিক চাপে অনেক সময় শিলাস্তরে ফাটল বা চ্যুতিও (Fault) সৃষ্টি হয়।
- উচ্চতা ও শৃঙ্গ: নবীন ভঙ্গিল পর্বতগুলির উচ্চতা অত্যন্ত বেশি হয় এবং এদের উপরিভাগ বা চূড়াগুলি খুব খাড়া ও সুঁচালো (তীক্ষ্ণ শৃঙ্গবিশিষ্ট) হয়। যেমন—হিমালয়ের মাউন্ট এভারেস্ট।
- বিস্তৃতি: ভঙ্গিল পর্বত কোনো একটি জায়গায় ছোট টিলার মতো থাকে না, এটি হাজার হাজার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে শিকলের মতো বিস্তৃত থাকে।
- অস্থিরতা ও ভূমিকম্প: এই পর্বত অঞ্চলগুলি ভূতাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত নবীন ও অস্থির। পাতের চলন এখনও অব্যাহত থাকায় এই অঞ্চলগুলি অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ হয়।
৩. আগ্নেয় পর্বতের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করো।
বিস্তারিত উত্তর
ভূমিকা: অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ভূগর্ভের উত্তপ্ত ম্যাগমা বাইরে বেরিয়ে এসে সঞ্চিত হয়ে যে পর্বত গঠন করে, তাকে আগ্নেয় পর্বত (Volcanic Mountain) বা সঞ্চয়জাত পর্বত বলে।
উৎপত্তি ও গঠন প্রক্রিয়া:
- ম্যাগমা সৃষ্টি: পাত সীমানা বরাবর বা পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ প্রচণ্ড তাপ ও চাপে ভূগর্ভের গুরুমণ্ডলের শিলা গলে গিয়ে উত্তপ্ত, তরল ও গ্যাসীয় গ্যাসমע মিশ্রিত ‘ম্যাগমা’-য় পরিণত হয়।
- ভূত্বকের ফাটল বা দুর্বল অংশ: ভূত্বকের কোনো দুর্বল অংশ বা ফাটল (বিশেষত পাত সীমানা বরাবর) পেলে এই প্রবল চাপযুক্ত ম্যাগমা ওপরে ওঠার পথ খুঁজে পায়।
- অগ্ন্যুৎপাত: ভূগর্ভের ম্যাগমা অত্যন্ত প্রবল বেগে ভূপৃষ্ঠের ওই ফাটল বা ছিদ্রপথ (জ্বালামুখ) দিয়ে লাভা, ছাই, ভস্ম, কাঁকর ও জলীয় বাষ্প রূপে বাইরে বেরিয়ে আসে। একে অগ্ন্যুৎপাত বা Volcanic Eruption বলে।
- সঞ্চয় ও পর্বত গঠন: জ্বালামুখ দিয়ে বেরিয়ে আসা এই লাভা ও অন্যান্য পদার্থ আগ্নেয়গিরির চারধারে স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়। বছরের পর বছর এই সঞ্চয় চলতে থাকলে তা ক্রমশ উঁচু ও ঠান্ডা হয়ে মোচা বা শঙ্কু আকৃতির পর্বতে পরিণত হয়।
উদাহরণ: জাপানের ফুজিয়ামা, ইতালির ভিসুভিয়াস, ভারতের ব্যারেন।
[Image of volcanic mountain formation diagram]
৪. স্তূপ পর্বতের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করো।
বিস্তারিত উত্তর
ভূমিকা: ভূত্বকের শিলাস্তরে চ্যুতি বা ফাটল সৃষ্টির মাধ্যমে ভূখণ্ডের উত্থান বা পতনের ফলে যে পর্বত সৃষ্টি হয়, তাকে স্তূপ পর্বত (Block Mountain) বলে। মহীভাবক আলোড়ন এর প্রধান কারণ।
উৎপত্তি বা গঠন প্রক্রিয়া: প্রধানত দুটি উপায়ে স্তূপ পর্বত সৃষ্টি হতে পারে—
পদ্ধতি ১: মাঝের অংশের উত্থান (উত্থিত স্তূপ পর্বত):
- ভূ-আলোড়নের ফলে ভূত্বকের শিলাস্তরে দুটি সমান্তরাল ফাটল বা চ্যুতির সৃষ্টি হয়।
- পৃথিবীর ভেতরের প্রবল চাপে অনেক সময় ওই দুটি চ্যুতির মাঝখানের ভূখণ্ড ওপরে উঠে যায়। এই ওপরে ওঠা খাড়া ঢালযুক্ত অংশটিকে স্তূপ পর্বত (বা হর্স্ট/Horst) বলে।
পদ্ধতি ২: দুই পাশের অংশের পতন (অবমিত স্তূপ পর্বত):
- এক্ষেত্রে ভূত্বকে দুটি সমান্তরাল ফাটল সৃষ্টির পর, ভেতরের টানে ফাটলের দুই পাশের ভূখণ্ড নিচে বসে যায়।
- এর ফলে মাঝখানের ভূখণ্ডটি নিজের জায়গাতেই খাড়াভাবে পর্বতের মতো দাঁড়িয়ে থাকে। এটিও একপ্রকার স্তূপ পর্বত। নিচে বসে যাওয়া অংশ দুটি গ্রস্ত উপত্যকা গঠন করে।
উদাহরণ: ভারতের বিন্ধ্য পর্বত এবং সাতপুরা পর্বত, জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট।
[Image showing Block Mountain and Horst formation]
৫. মানবজীবনে পর্বতের প্রভাব ব্যাখ্যা করো।
বিস্তারিত উত্তর
মানবজীবনের ওপর পর্বতের অনুকূল (ইতিবাচক) এবং প্রতিকূল (নেতিবাচক)—উভয় প্রকার প্রভাবই রয়েছে।
অনুকূল প্রভাব (সুবিধা):
- জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ: সুউচ্চ পর্বতমালা জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ুকে বাধা দিয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায় (যেমন—হিমালয়ে বাধা পেয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বৃষ্টিপাত)। আবার শীতকালে তীব্র শীতল বায়ুকে আটকে দেয়।
- নদীর উৎস: পর্বতচূড়ায় জমে থাকা বরফ বা হিমবাহ গলে অসংখ্য নিত্যবহ (চিরপ্রবাহী) নদীর সৃষ্টি হয়। এই নদীগুলি সারা বছর পানীয় জল ও কৃষিকাজের জল সরবরাহ করে (যেমন—গঙ্গা, সিন্ধু)।
- বনজ সম্পদ ও জলবিদ্যুৎ: পর্বতের ঢালে গহন অরণ্য থাকে, যেখান থেকে কাঠ, ভেষজ উদ্ভিদ ও মধু পাওয়া যায়। এছাড়া খরস্রোতা পাহাড়ি নদী থেকে প্রচুর সস্তা জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়।
- পর্যটন শিল্প: পর্বতের মনোরম আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে প্রচুর মানুষ বেড়াতে আসে। ফলে দার্জিলিং, সিমলা, কাশ্মীরের মতো জায়গায় পর্যটন শিল্প খুব উন্নত।
প্রতিকূল প্রভাব (অসুবিধা):
- ভূমির ঢাল খাড়া হওয়ায় এবং মাটি পাথুরে হওয়ায় কৃষিকাজ করা খুব কঠিন।
- উঁচু-নিচু বন্ধুর ভূপ্রকৃতির কারণে রাস্তাঘাট বা রেললাইন তৈরি করা ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য, তাই যাতায়াত ব্যবস্থা অনুন্নত থাকে। ফলে জনবসতি খুব কম হয়।
৬. মানবজীবনে মালভূমির গুরুত্ব লেখো।
বিস্তারিত উত্তর
মানবজীবনে, বিশেষত কোনো দেশের অর্থনীতিতে মালভূমির গুরুত্ব অপরিসীম:
- খনিজ ভাণ্ডার: মালভূমি অঞ্চলগুলি, বিশেষত প্রাচীন শিল্ড মালভূমিগুলি অত্যন্ত খনিজ সমৃদ্ধ হয়। এখানে লোহা, কয়লা, তামা, বক্সাইট প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। (ভারতের ছোটনাগপুর মালভূমি এর শ্রেষ্ঠ উদাহরণ)।
- শিল্পের বিকাশ: প্রচুর খনিজ সম্পদ এবং কাঁচামাল হাতের কাছে পাওয়ায় মালভূমি অঞ্চলে লৌহ-ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, সিমেন্ট প্রভৃতি ভারী খনিজ ভিত্তিক শিল্প দ্রুত বিস্তার লাভ করে।
- কৃষিকাজ: মালভূমি সাধারণত পাথুরে হলেও, লাভা গঠিত মালভূমির মাটি (কালো মাটি বা রেগুর) অত্যন্ত উর্বর হয়। যেমন—ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমিতে প্রচুর কার্পাস বা তুলো এবং আখ চাষ হয়।
- পশুপালন: মালভূমি অঞ্চলে যেখানে বৃষ্টিপাত কম হয়, সেখানে বিস্তীর্ণ তৃণভূমি (ঘাসের প্রান্তর) গড়ে ওঠে। এই সব তৃণভূমিতে ব্যাপকভাবে ভেড়া, ছাগল ও গবাদি পশুপালন করা হয় (যেমন—অস্ট্রেলিয়া বা পামপাস মালভূমি)।
- জলবিদ্যুৎ উৎপাদন: মালভূমির এবড়োখেবড়ো ও ধাপযুক্ত ভূপ্রকৃতির ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় নদীগুলি অসংখ্য জলপ্রপাত (Waterfalls) সৃষ্টি করে। এই জলপ্রপাতগুলি থেকে খুব সহজেই জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।
৭. ক্ষয়কার্যের মাধ্যমে সমভূমি কীভাবে গঠিত হয়?
বিস্তারিত উত্তর
ভূমিকা: বহির্জাত শক্তিগুলি (নদী, বায়ু, হিমবাহ) দীর্ঘকাল ধরে ভূপৃষ্ঠের কোনো পর্বত বা মালভূমিকে ক্রমাগত ক্ষয় করে তার উচ্চতা হ্রাস করে। এইভাবে উচ্চভূমি ক্ষয় পেয়ে যে সমভূমি গঠন করে, তাকে ক্ষয়জাত সমভূমি (Erosional Plain) বলে।
ক্ষয়কার্যের মাধ্যমে সৃষ্ট বিভিন্ন সমভূমি:
- সমপ্রায় সমভূমি (Peneplain): কোটি কোটি বছর ধরে নদী ও বৃষ্টির জলের নিরবচ্ছিন্ন ক্ষয়কাজের ফলে প্রাচীন মালভূমি বা উচ্চভূমি ক্ষয় পেয়ে এক বিস্তীর্ণ, মৃদু ঢেউখেলানো প্রায়-সমতল ভূমিতে পরিণত হয়। একে সমপ্রায় সমভূমি বলে (যেমন—ছোটনাগপুর মালভূমির কিছু অংশ)। এর মাঝে থাকা কঠিন শিলার টিলাগুলিকে মোনাডনক বলে।
- পেডিমেন্ট সমভূমি (Pediplain): মরুভূমি বা শুষ্ক অঞ্চলে বায়ু ও ক্ষণস্থায়ী প্রবল বৃষ্টির জলের মিলিত ক্ষয়কাজের ফলে পর্বতের পাদদেশ ক্ষয় পেয়ে যে মৃদু ঢালু পাথুরে সমভূমি তৈরি হয়, তাকে পেডিমেন্ট সমভূমি বলে। এর মাঝে থাকা টিলাগুলিকে ইনসেলবার্গ বলে।
- হিমবাহ সমভূমি (Glacial Plain): সুমেরু ও কুমেরু অঞ্চলে বিশাল বরফের স্তূপ বা হিমবাহের প্রবল ঘর্ষণ ও ক্ষয়কাজের ফলে উঁচু-নিচু ভূভাগ ক্ষয় পেয়ে সমতল বা ঢেউখেলানো সমভূমিতে পরিণত হয় (যেমন—কানাডার শিল্ড অঞ্চলের সমভূমি)।
- তরঙ্গ কর্তিত সমভূমি: সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলে সমুদ্রের ঢেউয়ের ক্রমাগত আঘাতে খাড়া পাহাড় বা ভৃগু ক্ষয় পেয়ে ক্রমশ সমতল হয়ে এই সমভূমি তৈরি করে।
৮. মানবজীবনে সমভূমির প্রভাব লেখো।
বিস্তারিত উত্তর
পৃথিবীর প্রায় ৯০% মানুষ সমভূমি অঞ্চলে বসবাস করে। মানবসভ্যতার বিকাশ ও জীবনযাত্রায় সমভূমির অবদান সবচেয়ে বেশি। এর প্রধান প্রভাবগুলি হলো:
- সভ্যতার সূতিকাগার: প্রাচীনকাল থেকেই সমভূমির উর্বর মাটি ও পর্যাপ্ত জলের সুবিধার জন্য নদীর তীরবর্তী সমভূমিগুলোতে প্রাচীন সভ্যতাগুলি (যেমন—সিন্ধু সভ্যতা, মিশরীয় সভ্যতা) গড়ে উঠেছিল।
- উন্নত কৃষিকাজ: নদী গঠিত সমভূমি (প্লাবন সমভূমি, বদ্বীপ) নতুন পলিমাটি দ্বারা গঠিত হওয়ায় অত্যন্ত উর্বর হয়। ফলে সমভূমি অঞ্চলে বিপুল পরিমাণে ধান, গম, পাট প্রভৃতি কৃষিজ ফসলের চাষ হয়, যা মানুষের খাদ্যের জোগান দেয়।
- সহজ যাতায়াত ও যোগাযোগ: ভূমিরূপ সমতল হওয়ার কারণে এখানে খুব সহজেই উন্নত মানের সড়কপথ, রেলপথ এবং বিমানবন্দর নির্মাণ করা যায়। খাল বা নদীর মাধ্যমে জলপথেও যোগাযোগ সহজ হয়।
- শিল্প ও বাণিজ্য: উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা, প্রচুর কাঁচামাল এবং ঘন বসতির কারণে সস্তা শ্রমিকের সুবিধা থাকায় সমভূমিতে কলকারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের বিপুল উন্নতি ঘটে।
- ঘন জনবসতি ও নগরায়ণ: জীবনধারণের সমস্ত অনুকূল সুযোগ-সুবিধা (কৃষি, শিল্প, জল, যাতায়াত) থাকার জন্য সমভূমি অঞ্চলে বড় বড় শহর ও নগর গড়ে ওঠে এবং জনবসতি অত্যন্ত ঘন হয় (যেমন—গঙ্গা অববাহিকায় কলকাতা, দিল্লি)।
৯. সঞ্চয়কার্যের ফলে সৃষ্ট যেকোনো তিন প্রকার সমভূমির উৎপত্তির বিবরণ দাও।
বিস্তারিত উত্তর
ভূমিকা: প্রাকৃতিক শক্তিগুলির (নদী, বায়ু, হিমবাহ) দ্বারা বাহিত পলি, বালি, কাঁকর প্রভৃতি দীর্ঘদিন ধরে কোনো নিচু স্থানে সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমি গঠন করে, তাকে সঞ্চয়জাত সমভূমি (Depositional Plain) বলে। প্রধান তিন প্রকার সঞ্চয়জাত সমভূমির বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
১. প্লাবন সমভূমি (Flood Plain):
- উৎপত্তি: নদীর মধ্য ও নিম্ন প্রবাহে ভূমির ঢাল খুব কম থাকায় নদী ধীর গতিতে বয়। বর্ষাকালে নদীতে হঠাৎ জল বাড়লে তা দুকূল ছাপিয়ে বন্যা বা প্লাবন ঘটায়। বন্যার জল নেমে যাওয়ার পর নদীর জলে মিশে থাকা পলি, কাদা ও বালি নদীর দুই তীরে সঞ্চিত হয়। বছরের পর বছর এই পলি জমে যে উর্বর সমভূমি তৈরি করে, তাকে প্লাবন সমভূমি বলে।
- উদাহরণ: গঙ্গা নদীর অববাহিকার সমভূমি, নীল নদের প্লাবন সমভূমি।
২. বদ্বীপ সমভূমি (Deltaic Plain):
- উৎপত্তি: নদী যখন মোহানায় এসে সমুদ্রে মেশে, তখন তার স্রোত বা বহন ক্ষমতা একেবারেই থাকে না। ফলে নদীর বাহিত সমস্ত পলি মোহানার কাছেই সঞ্চিত হতে শুরু করে। ক্রমাগত পলি জমতে জমতে তা সমুদ্রের জলতলের ওপরে জেগে ওঠে এবং মাত্রাহীন ‘ব’ (Δ) অক্ষরের মতো দেখতে যে সমভূমি গঠন করে, তাকে বদ্বীপ সমভূমি বলে।
- উদাহরণ: গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র নদীর বদ্বীপ সমভূমি (সুন্দরবন অঞ্চল)।
৩. লোয়েস সমভূমি (Loess Plain):
- উৎপত্তি: ‘লোয়েস’ কথাটির অর্থ স্থানচ্যুত বস্তু। শুষ্ক মরুভূমির অতি সূক্ষ্ম বালি ও ধূলিকণা প্রবল বায়ুপ্রবাহের সাহায্যে উড়ে গিয়ে মরুভূমির সীমানা ছাড়িয়ে বহু দূরে কোনো নিচু জায়গায় বছরের পর বছর ধরে সঞ্চিত হয়। এই সঞ্চয়ের ফলে যে উর্বর সমভূমি তৈরি হয়, তাকে লোয়েস সমভূমি বলে।
- উদাহরণ: মধ্য এশিয়ার গোবি মরুভূমি থেকে বালি উড়ে গিয়ে চীনের হোয়াংহো নদীর অববাহিকায় বিস্তীর্ণ লোয়েস সমভূমি তৈরি করেছে।
১০. উৎপত্তি অনুসারে মালভূমির শ্রেণিবিভাগ করো এবং যেকোনো তিন প্রকার মালভূমির বিবরণ দাও।
বিস্তারিত উত্তর
শ্রেণিবিভাগ: উৎপত্তি ও অবস্থান অনুসারে মালভূমিকে প্রধানত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়: ১) পর্বতবেষ্টিত মালভূমি, ২) মহাদেশীয় মালভূমি বা শিল্ড, ৩) লাভা মালভূমি এবং ৪) ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি। এর মধ্যে তিনটির বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
১. পর্বতবেষ্টিত মালভূমি (Intermontane Plateau):
- উৎপত্তি: ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টির সময় মহীখাতের দুই দিকের পর্বতশ্রেণি উঁচু হয়ে গেলেও মাঝখানের ভূখণ্ড তুলনামূলক কম চাপে টেবিলের মতো সমতলভাবে ওপরে উঠে গিয়ে এই মালভূমি তৈরি করে। এর চারদিক সুউচ্চ পর্বত দিয়ে ঘেরা থাকে।
- উদাহরণ: তিব্বত মালভূমি (হিমালয় ও কুনলুন পর্বত দ্বারা ঘেরা)।
[Image of Intermontane Plateau Formation]
২. ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি (Dissected Plateau):
- উৎপত্তি: প্রাচীন ও সুবিস্তীর্ণ কোনো মালভূমির ওপর দিয়ে যুগ যুগ ধরে অসংখ্য নদী ও তার শাখা-প্রশাখা প্রবাহিত হলে, তাদের প্রবল জলস্রোত মালভূমিটিকে গভীরভাবে কেটে ছোট ছোট অংশে খণ্ডিত করে দেয়। এই নদী-খণ্ডিত মালভূমিকেই ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি বলে।
- উদাহরণ: ভারতের ছোটনাগপুর মালভূমি (দামোদর, সুবর্ণরেখা প্রভৃতি নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন)।
৩. লাভা মালভূমি (Lava/Volcanic Plateau):
- উৎপত্তি: বিদার অগ্ন্যুৎপাতের মাধ্যমে ভূগর্ভের তরল ব্যাসাল্ট লাভা ভূপৃষ্ঠের ফাটল দিয়ে নিঃশব্দে বেরিয়ে আসে এবং বহুদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এই লাভা যুগে যুগে স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়ে ঠান্ডা ও কঠিন হয়ে যে মালভূমি গঠন করে, তাকে লাভা মালভূমি বলে। এর মাটি কালো রঙের হয়।
- উদাহরণ: ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমি বা ডেকান ট্র্যাপ।
১১. ভঙ্গিল পর্বত ও স্তূপ পর্বতের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
বিস্তারিত উত্তর
ভূমিকা: উৎপত্তির কারণ ও গঠনের দিক থেকে ভঙ্গিল পর্বত ও স্তূপ পর্বতের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। নিচে এদের প্রধান পার্থক্যগুলি আলোচনা করা হলো:
| বিষয় | ভঙ্গিল পর্বত (Fold Mountain) | স্তূপ পর্বত (Block Mountain) |
|---|---|---|
| ১. উৎপত্তির কারণ | গিরিজনি আলোড়নের ফলে প্রবল অণুভূমিক পার্শ্বচাপে শিলাস্তরে ভাঁজ পড়ে এর সৃষ্টি হয়। | মহীভাবক আলোড়নের ফলে প্রবল টান বা সংকোচনে শিলাস্তরে উল্লম্ব চ্যুতি বা ফাটল সৃষ্টির মাধ্যমে এর উৎপত্তি ঘটে। |
| ২. শৃঙ্গ বা চূড়া | এই পর্বতের চূড়াগুলি বরফে ঢাকা থাকে এবং অত্যন্ত তীক্ষ্ণ বা সুঁচালো হয়। | এই পর্বতের উপরিভাগ বা চূড়া চ্যাপ্টা বা টেবিলের মতো সমতল প্রকৃতির হয়। |
| ৩. শিলা ও জীবাশ্ম | এটি প্রধানত পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত হয়, তাই এতে প্রচুর সামুদ্রিক জীবাশ্ম থাকে। | এটি প্রধানত আগ্নেয় ও রূপান্তরিত শিলা দ্বারা গঠিত হয়, তাই এতে কোনো জীবাশ্ম থাকে না। |
| ৪. বিস্তৃতি ও উচ্চতা | এগুলি পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতমালা এবং হাজার হাজার কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত থাকে। | এগুলির উচ্চতা খুব বেশি হয় না এবং এগুলি খুব বেশি বিস্তৃতও নয়। |
| ৫. সংশ্লিষ্ট ভূমিরূপ | ভঙ্গিল পর্বতের সাথে অনেক সময় পর্বতবেষ্টিত মালভূমি দেখা যায় (যেমন—তিব্বত)। | স্তূপ পর্বতের ঠিক পাশেই গ্রস্ত উপত্যকা অবস্থান করে (যেমন—নর্মদা উপত্যকা)। |
| ৬. উদাহরণ | হিমালয়, আল্পস, রকি, আন্দিজ। | ভারতের বিন্ধ্য ও সাতপুরা, জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট। |
অধ্যায় ৪: পার্থক্য বা তুলনামূলক প্রশ্নোত্তর
১. মহীভাবক আলোড়ন ও গিরিজনি আলোড়নের পার্থক্য
উত্তর দেখো
| পার্থক্যের বিষয় | মহীভাবক আলোড়ন (Epeirogenic) | গিরিজনি আলোড়ন (Orogenic) |
|---|---|---|
| ১. কাজের দিক | ভূপৃষ্ঠে উল্লম্বভাবে (ওপর-নিচে বা পৃথিবীর ব্যাসার্ধ বরাবর) কাজ করে। | ভূপৃষ্ঠে অণুভূমিকভাবে (পাশাপাশি বা স্পর্শক বরাবর) কাজ করে। |
| ২. সৃষ্ট ভূমিরূপ | এর ফলে বিশাল মহাদেশ, মহাসাগর, স্তূপ পর্বত ও গ্রস্ত উপত্যকা সৃষ্টি হয়। | এর ফলে শিলাস্তরে ভাঁজ পড়ে ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টি হয়। |
| ৩. শিলার পরিবর্তন | শিলাস্তরে টান বা সংকোচনের ফলে চ্যুতি বা ফাটল দেখা যায়। | প্রবল পার্শ্বচাপের ফলে শিলাস্তরে ভাঁজের (Fold) সৃষ্টি হয়। |
২. অবরোহণ এবং আরোহণ প্রক্রিয়ার পার্থক্য
উত্তর দেখো
| পার্থক্যের বিষয় | অবরোহণ (Degradation) | আরোহণ (Aggradation) |
|---|---|---|
| ১. প্রকৃতি | এটি একটি ক্ষয়কারী প্রক্রিয়া। প্রাকৃতিক শক্তি উঁচু ভূমিকে ক্ষয় করে। | এটি একটি সঞ্চয়কারী প্রক্রিয়া। ক্ষয়প্রাপ্ত পদার্থ নিচু স্থানে সঞ্চিত হয়। |
| ২. ভূমির উচ্চতা | এই প্রক্রিয়ায় ভূপৃষ্ঠের উচ্চতা হ্রাস পায় বা কমে যায়। | এই প্রক্রিয়ায় ভূপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায় বা বাড়ে। |
| ৩. সৃষ্ট ভূমিরূপ | ক্ষয়জাত পর্বত, সমপ্রায় সমভূমি, গিরিখাত প্রভৃতি ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়। | বদ্বীপ সমভূমি, প্লাবন সমভূমি, পাদদেশীয় সমভূমি প্রভৃতি সৃষ্টি হয়। |
৩. অন্তর্জাত প্রক্রিয়া ও বহির্জাত প্রক্রিয়ার পার্থক্য
উত্তর দেখো
| পার্থক্যের বিষয় | অন্তর্জাত প্রক্রিয়া (Endogenic) | বহির্জাত প্রক্রিয়া (Exogenic) |
|---|---|---|
| ১. শক্তির উৎস | এর প্রধান শক্তির উৎস হলো ভূগর্ভের উত্তাপ ও চাপ, পাত সঞ্চালন ইত্যাদি। | এর প্রধান শক্তির উৎস হলো সূর্যতাপ, নদী, বায়ু, হিমবাহ ইত্যাদি। |
| ২. কাজের স্থান | এটি পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগে বা ভূগর্ভে কাজ করে। | এটি ভূপৃষ্ঠের ওপরে বা ঠিক উপরিভাগে কাজ করে। |
| ৩. ভূমিরূপের পরিবর্তন | এটি ভূপৃষ্ঠকে উঁচু-নিচু বা বন্ধুর করে তোলে (যেমন পর্বত, মালভূমি সৃষ্টি)। | এটি উঁচু-নিচু ভূপৃষ্ঠকে ক্ষয় ও সঞ্চয়ের মাধ্যমে সমতল করে তোলে। |
৪. পর্বত ও পাহাড়ের পার্থক্য
উত্তর দেখো
| পার্থক্যের বিষয় | পর্বত (Mountain) | পাহাড় (Hill) |
|---|---|---|
| ১. উচ্চতা | সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা সাধারণত ৯০০ মিটারের বেশি হয়। | এর উচ্চতা সাধারণত ৩০০ থেকে ৯০০ মিটারের মধ্যে হয়। |
| ২. বিস্তৃতি | পর্বত বহুদূর পর্যন্ত বা বিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত থাকে। | পাহাড় সাধারণত অল্প জায়গা জুড়ে বা বিক্ষিপ্তভাবে অবস্থান করে। |
| ৩. চূড়া ও ঢাল | এর ঢাল অত্যন্ত খাড়া এবং চূড়া বা শৃঙ্গ তীক্ষ্ণ বা সুঁচালো হয়। | এর ঢাল তুলনামূলক মৃদু এবং চূড়া অনেকটা গোলাকার হয়। |
৫. নবীন ভঙ্গিল পর্বত ও প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বতের পার্থক্য
উত্তর দেখো
| পার্থক্যের বিষয় | নবীন ভঙ্গিল পর্বত | প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বত |
|---|---|---|
| ১. উৎপত্তিকাল | টারশিয়ারি যুগে (প্রায় ৭ কোটি বছর আগে) নবীন গিরিজনি আলোড়নে সৃষ্টি। | প্যালিওজোয়িক বা প্রাক-ক্যাম্ব্রিয়ান যুগে (কয়েকশো কোটি বছর আগে) সৃষ্টি। |
| ২. উচ্চতা ও চূড়া | উচ্চতা অনেক বেশি, চূড়া তীক্ষ্ণ এবং বরফে ঢাকা থাকে। | দীর্ঘকাল ক্ষয়ের ফলে উচ্চতা অনেক কম, চূড়া ভোঁতা বা গোলাকার এবং বরফমুক্ত। |
| ৩. ভূমিকম্প | গঠনকার্য এখনও চলছে বলে এই অঞ্চল অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ। | গঠনকার্য বহু আগে শেষ হয়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলগুলি স্থিতিশীল। |
| ৪. উদাহরণ | হিমালয়, আল্পস, রকি, আন্দিজ। | ভারতের আরাবল্লী, রাশিয়ার উরাল, আমেরিকার অ্যাপেলেশিয়ান। |
৬. পর্বতবেষ্টিত মালভূমি ও ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমির পার্থক্য
উত্তর দেখো
| পার্থক্যের বিষয় | পর্বতবেষ্টিত মালভূমি | ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি |
|---|---|---|
| ১. উৎপত্তি | ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টির সময় প্রবল চাপে মাঝখানের ভূভাগ সমতলভাবে ওপরে উঠে এর সৃষ্টি হয়। | প্রাচীন সুবিস্তীর্ণ মালভূমি একাধিক নদী দ্বারা গভীরভাবে ক্ষয় পেয়ে ও খণ্ডিত হয়ে এর সৃষ্টি হয়। |
| ২. অবস্থান | এটি চারদিক থেকে সুউচ্চ পর্বত দ্বারা ঘেরা থাকে। | এটি চারদিক উন্মুক্ত থাকে এবং মাঝে অসংখ্য নদী উপত্যকা দেখা যায়। |
| ৩. উচ্চতা | উচ্চতা সাধারণত অনেক বেশি হয় (পৃথিবীর সর্বোচ্চ মালভূমিগুলি এই শ্রেণির)। | প্রাচীন ও ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ায় এর উচ্চতা তুলনামূলকভাবে কম হয়। |
| ৪. উদাহরণ | তিব্বত মালভূমি, বলিভিয়া মালভূমি। | ভারতের ছোটনাগপুর মালভূমি, কর্ণাটক মালভূমি। |
৭. বদ্বীপ সমভূমি ও উপকূলীয় সমভূমির পার্থক্য
উত্তর দেখো
| পার্থক্যের বিষয় | বদ্বীপ সমভূমি (Deltaic Plain) | উপকূলীয় সমভূমি (Coastal Plain) |
|---|---|---|
| ১. অবস্থান | এটি নদীর নিম্নগতিতে একদম মোহানার কাছে অবস্থান করে। | এটি মহাদেশের প্রান্তে সমুদ্রের তীর বরাবর অবস্থান করে। |
| ২. উৎপত্তি | নদীর বাহিত পলি ও কাদা দীর্ঘকাল ধরে মোহানায় সঞ্চিত হয়ে সৃষ্টি হয়। | সমুদ্র তরঙ্গের দ্বারা বালি সঞ্চিত হয়ে অথবা ভূ-আন্দোলনে সমুদ্রতল উত্থিত হয়ে সৃষ্টি হয়। |
| ৩. আকৃতি | এর আকৃতি মাত্রাহীন ‘ব’ বা গ্রিক অক্ষর ডেল্টা (Δ)-এর মতো ত্রিভুজাকার হয়। | এটি দেখতে দীর্ঘ ও সংকীর্ণ ফালির মতো বা ফিতের মতো হয়। |
| ৪. মাটির প্রকৃতি | মাটি অত্যন্ত উর্বর পলিমাটি দ্বারা গঠিত, কৃষিকাজের জন্য সেরা। | মাটি মূলত বালুকাময় ও লবণাক্ত, কৃষিকাজের জন্য খুব একটা উপযোগী নয়। |
৮. সঞ্চয়জাত পর্বত ও ক্ষয়জাত পর্বতের পার্থক্য
উত্তর দেখো
| পার্থক্যের বিষয় | সঞ্চয়জাত পর্বত (Accumulated) | ক্ষয়জাত পর্বত (Residual) |
|---|---|---|
| ১. উৎপত্তি | অগ্ন্যুৎপাতের ফলে নির্গত লাভা, ছাই ইত্যাদি সঞ্চিত হয়ে সৃষ্টি হয়। | প্রাচীন উচ্চভূমি বা পর্বত প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে সৃষ্টি হয়। |
| ২. আকৃতি | এর আকৃতি সাধারণত শঙ্কু বা মোচাকৃতির হয়। চূড়ায় একটি জ্বালামুখ থাকে। | এর আকৃতি সাধারণত গম্বুজাকার বা গোলাকার হয়। এর চূড়া ভোঁতা হয়। |
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
অধ্যায় ৪: ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া ও পৃথিবীর বিভিন্ন ভূমিরূপ | নবম শ্রেণী ভূগোল