নবম শ্রেণি: ভূগোল, অধ্যায় – 5 আবহবিকার রচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর মান 5

অধ্যায় ৫: রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

১. যান্ত্রিক আবহবিকারের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দাও।

বিস্তারিত উত্তর

সংজ্ঞা: উষ্ণতা, বৃষ্টিপাত, তুষার, চাপ প্রভৃতি ভৌত বা প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে শিলার রাসায়নিক ধর্মের কোনো পরিবর্তন না ঘটিয়ে, শিলা যখন কেবল যান্ত্রিকভাবে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে টুকরো হয়ে যায়, তাকে যান্ত্রিক আবহবিকার বলে।

প্রধান প্রক্রিয়াসমূহ:

  1. সূর্যতাপের প্রভাব: মরু অঞ্চলে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্যে শিলা প্রসারিত ও সংকুচিত হয়ে ফেটে যায়। এর ফলে শল্কমোচন, ক্ষুদ্রকণা বিশরণ ও প্রস্তর চাই খণ্ডীকরণ ঘটে।
  2. তুষারের কার্য: শীতল অঞ্চলে ফাটলের জল বরফে পরিণত হয়ে আয়তনে বাড়ে এবং প্রবল চাপে শিলাকে ফাটিয়ে দেয় (তুহিন খণ্ডীকরণ)।
  3. চাপ হ্রাস: ওপরের শিলাস্তর ক্ষয় পেলে নিচের শিলাস্তরের ওপর চাপ কমে যায়, ফলে শিলা প্রসারিত হয়ে ফাটল সৃষ্টি করে।
  4. বৃষ্টির আঘাত: প্রবল বৃষ্টির আঘাতে শিলা অনেক সময় আলগা হয়ে যায়।

২. উষ্ণতার পরিবর্তনে যান্ত্রিক আবহবিকার কীভাবে কার্যকর হয় ব্যাখ্যা করো।

বিস্তারিত উত্তর

উষ্ণ মরু অঞ্চলে দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যাপক পার্থক্যের কারণে শিলাস্তর পর্যায়ক্রমে প্রসারিত ও সংকুচিত হয়। এর ফলে প্রধানত তিনটি উপায়ে শিলা চূর্ণবিচূর্ণ হয়:

  1. শল্কমোচন (Exfoliation): গ্রানাইটের মতো সমসত্ত্ব শিলায় তাপের প্রভাবে বাইরের স্তর ও ভেতরের স্তরের মধ্যে অসম প্রসারণ ঘটে। ফলে বাইরের স্তরটি পেঁয়াজের খোসার মতো গোলাকারভাবে খুলে আসে।
  2. ক্ষুদ্রকণা বিশরণ (Granular Disintegration): বিভিন্ন খনিজ গঠিত বিষমস্বত্ব শিলায় খনিজগুলো অসমভাবে প্রসারিত হয়। ফলে শিলা সশব্দে ফেটে বালুকণায় পরিণত হয়।
  3. প্রস্তর চাই খণ্ডীকরণ (Block Disintegration): ব্যাসাল্টের মতো ফাটলযুক্ত শিলায় প্রসারণ ও সংকোচনের ফলে ফাটলগুলো বরাবর শিলা চৌকো ব্লকের মতো ভেঙে যায়।

৩. রাসায়নিক আবহবিকার প্রক্রিয়া সমূহের ব্যাখ্যা দাও।

বিস্তারিত উত্তর

বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন গ্যাস ও বৃষ্টির জলের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় শিলার বিয়োজনকে রাসায়নিক আবহবিকার বলে। এর প্রধান প্রক্রিয়াগুলি হলো:

  1. জারণ (Oxidation): জলের উপস্থিতিতে লোহার সাথে অক্সিজেন যুক্ত হয়ে ‘ফেরাস অক্সাইড’ ‘ফেরিক অক্সাইডে’ পরিণত হয় ও মরচে পড়ে।
  2. অঙ্গারযোজন (Carbonation): বৃষ্টির জল ও CO2 মিশে কার্বনিক অ্যাসিড তৈরি করে, যা চুনাপাথরকে দ্রবীভূত করে।
  3. জলযোজন (Hydration): খনিজের সাথে জল যুক্ত হয়ে আয়তন বাড়ায় এবং শিলাকে নরম করে (যেমন- হেমাটাইট থেকে লিমোনাইট)।
  4. আর্দ্র বিশ্লেষণ (Hydrolysis): জলের অণু ভেঙে হাইড্রোজেন আয়ন তৈরি হয় যা ফেল্ডস্পারকে কাদায় পরিণত করে।
  5. দ্রবণ (Solution): লবণ বা জিপসাম জাতীয় শিলা সরাসরি জলে গলে অপসারিত হয়।

৪. আবহবিকারের ফলাফল বা গুরুত্ব আলোচনা করো।

বিস্তারিত উত্তর

আবহবিকারের গুরুত্ব অপরিসীম:

  1. মৃত্তিকা সৃষ্টি: আবহবিকারের ফলেই কঠিন শিলা চূর্ণ হয়ে রেগোলিথ এবং শেষে উর্বর মাটি তৈরি হয়, যা উদ্ভিদ ও কৃষি বাচিয়ে রাখে।
  2. ভূমিরূপের বিবর্তন: এর ফলে পাহাড়ের উচ্চতা কমে এবং বিভিন্ন ভূমিরূপ (যেমন- গম্বুজাকৃতি পাহাড়, কার্স্ট গুহা) সৃষ্টি হয়।
  3. খনিজের প্রাপ্তি: শিলার ওপরের আবরণ সরে গিয়ে মূল্যবান খনিজ (বক্সাইট, লোহা) উন্মুক্ত হয়, যা খনি থেকে তোলা সহজ হয়।
  4. দৃশ্যমান সৌন্দর্য: গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের মতো নানা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয়।

৫. মৃত্তিকা সৃষ্টিতে জলবায়ুর ভূমিকা আলোচনা করো।

বিস্তারিত উত্তর

মৃত্তিকা সৃষ্টির প্রধান সক্রিয় নিয়ন্ত্রক হলো জলবায়ু।

  1. উষ্ণতা: উষ্ণতা বেশি হলে শিলার রাসায়নিক বিয়োজন ও ব্যাকটেরিয়ার কাজ বাড়ে, ফলে মাটি দ্রুত তৈরি হয়। শীতল অঞ্চলে মাটি তৈরি হতে অনেক সময় লাগে।
  2. বৃষ্টিপাত: বৃষ্টি বেশি হলে ধৌত প্রক্রিয়া বা এলুভিয়েশন বাড়ে, ফলে মাটির ওপরের স্তর থেকে খনিজ নিচে চলে যায় এবং মাটি আম্লিক হয় (যেমন- লেটারেটিক মাটি)। বৃষ্টি কম হলে মাটিতে লবণাক্ততা বাড়ে এবং পেডোক্যাল মাটি তৈরি হয়।

৬. মাটি কোন কোন পদ্ধতিতে ক্ষয় হয়?

বিস্তারিত উত্তর

মাটি ক্ষয়ের প্রধান পদ্ধতিগুলি হলো:

  1. বৃষ্টির আঘাত জনিত ক্ষয়: বৃষ্টির ফোঁটা সরাসরি মাটিতে পড়লে মাটির কণা আলগা হয়ে ছিটকে যায়।
  2. চাদর ক্ষয় (Sheet Erosion): প্রবল বৃষ্টির ফলে ঢালু জমির ওপরের উর্বর মাটির স্তর চাদরের মতো অপসারিত হয়।
  3. রিল ক্ষয় (Rill Erosion): বৃষ্টির জল গড়িয়ে যাওয়ার সময় মাটিতে সরু সরু আঙুলের মতো রেখা বা নালি তৈরি করে।
  4. গালি ক্ষয় (Gully Erosion): রিল ক্ষয় গভীর ও চওড়া হয়ে নর্দমা বা খাদের আকার নেয়, যা গালি বা নালি ক্ষয় নামে পরিচিত।
  5. বায়ুপ্রবাহ দ্বারা ক্ষয়: শুষ্ক মরু অঞ্চলে প্রবল বাতাসে ওপরের আলগা মাটি উড়ে যায় (অপসারণ)।

৭. মৃত্তিকা সংরক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতি আলোচনা করো।

বিস্তারিত উত্তর

মৃত্তিকা ক্ষয় রোধ করার জন্য গৃহীত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিগুলি হলো:

  1. বৃক্ষরোপণ (Afforestation): এটি শ্রেষ্ঠ উপায়। গাছের শিকড় মাটিকে আঁকড়ে ধরে রাখে এবং বৃষ্টির আঘাত থেকে বাঁচায়।
  2. ধাপ চাষ (Terrace Farming): পাহাড়ি ঢালে সিঁড়ির মতো ধাপ কেটে চাষ করলে জলের গতি কমে এবং ক্ষয় রোধ হয়।
  3. ফালি চাষ (Strip Cropping): ঢালু জমিতে আড়াআড়িভাবে শস্য ও ঘন ঝোপযুক্ত উদ্ভিদ পর্যায়ক্রমে চাষ করা।
  4. সমোন্নতি রেখা বরাবর চাষ: পাহাড়ের সমান উচ্চতা বরাবর জমি চষে চাষ করলে জল নিচে গড়াতে বাধা পায়।
  5. মালচিং (Mulching): জমির ফাঁকা অংশ খড় বা পাতা দিয়ে ঢেকে দেওয়া।

৮. মৃত্তিকা সৃষ্টিতে আদি শিলা ও ভূপ্রকৃতির ভূমিকা আলোচনা করো।

বিস্তারিত উত্তর

আদি শিলার ভূমিকা: মাটি মূলত আদি শিলা চূর্ণ হয়েই তৈরি হয়। আদি শিলার প্রকৃতি মাটির রং, গ্রথন এবং রাসায়নিক ধর্ম নির্ধারণ করে। যেমন—ব্যাসাল্ট শিলা থেকে কালো মাটি এবং গ্রানাইট থেকে বেলে মাটি তৈরি হয়।

ভূপ্রকৃতির ভূমিকা: ভূমির ঢাল মাটি তৈরিকে প্রভাবিত করে। খাড়া ঢালে মাটি দাঁড়াতে পারে না, ধুয়ে নিচে চলে যায়, তাই সেখানে মাটির স্তর পাতলা হয়। কিন্তু সমতল বা মৃদু ঢালু জমিতে মাটি সঞ্চিত হওয়ার সুযোগ পায়, তাই সেখানে মাটির স্তর পুরু বা গভীর হয়।


৯. মানুষের কার্যাবলি কীভাবে মৃত্তিকা ক্ষয় বৃদ্ধি করে?

বিস্তারিত উত্তর

মানুষের অবৈজ্ঞানিক কাজকর্ম মৃত্তিকা ক্ষয়ের অন্যতম প্রধান কারণ:

  1. নির্বিচারে বৃক্ষচ্ছেদন: বসতি স্থাপন, আসবাবপত্র বা জ্বালানির জন্য বনভূমি ধ্বংস করার ফলে মাটি আলগা হয়ে যায় এবং সহজেই ধুয়ে যায়।
  2. অবৈজ্ঞানিক কৃষিকাজ: পাহাড়ি ঢালে ঝুম চাষ বা ঢাল বরাবর জমি চষার ফলে মাটি ক্ষয় বাড়ে।
  3. অনিয়ন্ত্রিত পশুচারণ: তৃণভূমিতে অতিরিক্ত গবাদি পশু চরালে ঘাসের আচ্ছাদন নষ্ট হয় এবং পায়ের চাপে মাটি আলগা হয়ে ধুলোয় পরিণত হয়।
  4. খনি ও নির্মাণকাজ: খনিজ উত্তোলনের জন্য মাটি খোঁড়া এবং রাস্তা বা বাঁধ তৈরির ফলে প্রচুর মাটি ক্ষয় হয়।

১০. আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবনের মধ্যে পার্থক্যগুলি আলোচনা করো।

বিস্তারিত উত্তর

আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবনের প্রধান পার্থক্যগুলি হলো:

বিষয় আবহবিকার ক্ষয়ীভবন
১. প্রকৃতি এটি একটি স্থৈতিক (Static) প্রক্রিয়া। এটি একটি গতিশীল (Dynamic) প্রক্রিয়া।
২. স্থানচ্যুতি শিলাচূর্ণ স্বস্থানেই পড়ে থাকে, স্থানান্তরিত হয় না। শিলাচূর্ণ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অপসারিত হয়।
৩. শক্তি মূলত আবহাওয়া ও বায়ুমণ্ডলের উপাদান কাজ করে। নদী, বায়ু, হিমবাহের মতো গতিশীল প্রাকৃতিক শক্তি কাজ করে।
৪. ফলাফল রেগোলিথ ও মাটি সৃষ্টি হয়। ভূপৃষ্ঠের উচ্চতা হ্রাস পায় এবং সমতলীকরণ ঘটে।

অধ্যায় ৫: গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যসমূহ

১. আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবন (Weathering vs Erosion)

পার্থক্যের বিষয় আবহবিকার ক্ষয়ীভবন
১. প্রকৃতি এটি একটি স্থৈতিক (Static) বা স্থিতিশীল প্রক্রিয়া। শিলা স্থানচ্যুত হয় না। এটি একটি গতিশীল (Dynamic) প্রক্রিয়া। শিলা স্থানচ্যুত হয়।
২. কাজ এর মূল কাজ হলো শিলাকে চূর্ণবিচূর্ণ ও বিয়োজিত করা। এর মূল কাজ হলো শিলাচূর্ণকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবহন বা অপসারণ করা।
৩. শক্তি বায়ুমণ্ডলের উপাদান (উষ্ণতা, আর্দ্রতা, গ্যাস) এতে প্রধান ভূমিকা নেয়। প্রাকৃতিক শক্তি (নদী, বায়ু, হিমবাহ) এতে প্রধান ভূমিকা নেয়।

২. আবহবিকার ও পুঞ্জিত ক্ষয় (Weathering vs Mass Wasting)

পার্থক্যের বিষয় আবহবিকার পুঞ্জিত ক্ষয়
১. নিয়ন্ত্রক শক্তি এটি মূলত আবহাওয়ার উপাদান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এটি মূলত মাধ্যাকর্ষণ শক্তি (Gravity) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
২. স্থানচ্যুতি এতে শিলাচূর্ণের কোনো স্থানচ্যুতি ঘটে না (স্বস্থানে থাকে)। এতে শিলাচূর্ণ ও মাটি ওপর থেকে নিচে নেমে আসে (স্থানচ্যুতি ঘটে)।
৩. পূর্বশর্ত আবহবিকার ঘটার জন্য পুঞ্জিত ক্ষয়ের প্রয়োজন নেই। পুঞ্জিত ক্ষয় ঘটার জন্য আগে শিলার আবহবিকার ঘটা বা আলগা হওয়া প্রয়োজন।

৩. প্রস্তরচাঁই খন্ডিকরন ও শল্কমোচন (Block Disintegration vs Exfoliation)

পার্থক্যের বিষয় প্রস্তরচাঁই খন্ডিকরন শল্কমোচন
১. শিলার প্রকৃতি এটি মূলত ফাটল বা দারণযুক্ত শিলায় (যেমন- ব্যাসাল্ট) ঘটে। এটি মূলত স্তরবিহীন সমসত্ত্ব শিলায় (যেমন- গ্রানাইট) ঘটে।
২. প্রক্রিয়া ফাটল বরাবর প্রসারণ ও সংকোচনের ফলে শিলা চৌকো ব্লকের মতো ভেঙে যায়। শিলার ওপরের স্তর পেঁয়াজের খোসার মতো গোলাকারভাবে খুলে আসে।
৩. ভূমিরূপ এর ফলে চ্যাপ্টা শীর্ষদেশযুক্ত বা সিঁড়ির মতো ভূমিরূপ তৈরি হতে পারে। এর ফলে পাহাড়ের আকৃতি গম্বুজাকার বা গোলাকার হয়।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

অধ্যায় ৫: আবহবিকার (Weathering) | নবম শ্রেণী ভূগোল

১. আবহবিকার (Weathering) কাকে বলে?

আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান (যেমন- রোদ, বৃষ্টি, বাতাস) এবং জীবজগতের প্রভাবে ভূপৃষ্ঠের শিলা যখন নিজস্ব স্থানেই (in-situ) ভেঙে টুকরো টুকরো হয় বা বিয়োজিত হয়, তখন তাকে আবহবিকার বলে। এটি মাটি সৃষ্টির প্রথম ধাপ।

২. শল্কমোচনকে কেন ‘পেঁয়াজের খোসা’ বলা হয়?

মরু অঞ্চলে গ্রানাইট শিলার ওপরের স্তরগুলি তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে মূল শিলা থেকে পেঁয়াজের খোসার মতো গোলাকারভাবে খুলে আসে। এই আকৃতিগত মিলের জন্যই শল্কমোচন (Exfoliation)-কে অনেক সময় ‘Onion Weathering’ বলা হয়।

৩. আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবনের (Erosion) মূল পার্থক্য কী?

সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো—আবহবিকার হলো একটি স্থৈতিক প্রক্রিয়া, যেখানে শিলা ভাঙে কিন্তু স্থানচ্যুত হয় না। অন্যদিকে, ক্ষয়ীভবন হলো একটি গতিশীল প্রক্রিয়া, যেখানে ভাঙা শিলা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় অপসারিত হয়।

৪. রেগোলিথ (Regolith) কী এবং এটি কীভাবে তৈরি হয়?

আবহবিকারের ফলে আদি শিলা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে ভূপৃষ্ঠের ওপর যে শিথিল ও অসংলগ্ন শিলাচূর্ণের স্তর তৈরি করে, তাকে রেগোলিথ বলে। এটি মাটি বা মৃত্তিকা সৃষ্টির প্রাথমিক উপাদান।

৫. লোহায় মরচে পড়ে কোন প্রক্রিয়ায়?

এটি জারণ বা অক্সিডেশন (Oxidation) নামক রাসায়নিক আবহবিকারের ফল। জলের উপস্থিতিতে বাতাসের অক্সিজেন লোহার সাথে মিশে ফেরিক অক্সাইড তৈরি করে, যাকে আমরা মরচে বলি। এর ফলে শিলা দুর্বল হয়ে যায়।

৬. পাহাড়ি অঞ্চলে মৃত্তিকা সংরক্ষণের সেরা উপায় কী?

পাহাড়ি ঢালে মৃত্তিকা ক্ষয় রোধের সেরা উপায় হলো ধাপ চাষ (Terrace Farming)। এতে পাহাড়ের গা কেটে সিঁড়ির মতো ধাপ তৈরি করা হয়, যা জলের গতি কমিয়ে দেয় এবং মাটিকে ধুয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার