অধ্যায় ৭: সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
১. সম্পদের সঠিক ব্যাখ্যা প্রথম কে দেন? তাঁর লেখা বইটির নাম কী?
উত্তর দেখো
বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও ভূগোলবিদ অধ্যাপক ই. ডব্লিউ. জিমারম্যান (E.W. Zimmermann) ১৯৩৩ সালে সম্পদের আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা দেন। তাঁর লেখা বিখ্যাত বইটির নাম হলো—‘World Resources and Industries’।
২. সম্পদ (Resource) কী?
উত্তর দেখো
সাধারণ অর্থে সম্পদ বলতে ধনসম্পত্তি বোঝালেও, ভূগোলে জিমারম্যানের মতে— “সম্পদ কোনো বস্তু বা পদার্থ নয়; বস্তুর বা পদার্থের মধ্যে লুকিয়ে থাকা যে কার্যকারিতা বা গুণ (Functionality) মানুষের অভাব মোচন করে এবং চাহিদা মেটায়, তাকেই সম্পদ বলে।” যেমন—কয়লা একটি বস্তু, কিন্তু তার তাপ উৎপাদন ক্ষমতা হলো সম্পদ।
৩. বসুন্ধরা সম্মেলনে সম্পদের নতুন কী সংজ্ঞা দেওয়া হয়?
উত্তর দেখো
১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত বসুন্ধরা সম্মেলনে (Earth Summit) সম্পদের সংজ্ঞায় বলা হয়— “যা কিছু পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে জীবজগৎ তথা মানবজাতির কল্যাণ সাধন করে এবং টেকসই উন্নয়ন (Sustainable Development) সুনিশ্চিত করে, তাই হলো সম্পদ।”
৪. সম্পদের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী?
উত্তর দেখো
সম্পদের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
- উপযোগিতা (Utility): মানুষের অভাব মোচনের ক্ষমতা থাকতে হবে।
- কার্যকারিতা (Functionality): কোনো কাজ করার ক্ষমতা থাকতে হবে।
- গ্রহণযোগ্যতা: সমাজ ও আইন দ্বারা স্বীকৃত হতে হবে।
- দুষ্প্রাপ্যতা: চাহিদার তুলনায় জোগান সীমিত হতে হবে।
৫. নিরপেক্ষ সামগ্রী (Neutral Stuff) কী?
উত্তর দেখো
প্রকৃতিতে এমন অনেক বস্তু আছে যা মানুষের কোনো উপকারও করে না, আবার ক্ষতিও করে না—সম্পদ ও বাধার মধ্যবর্তী এই অবস্থাকে নিরপেক্ষ সামগ্রী বলে। তবে ভবিষ্যতে জ্ঞান ও প্রযুক্তির সাহায্যে এগুলি সম্পদে পরিণত হতে পারে। উদাহরণ—পতিত জমি, আন্টার্কটিকার খনিজ।
৬. man ও MAN-এর তফাৎ কী?
উত্তর দেখো
জিমারম্যানের মতে:
- man (ছোট হাতের): বলতে সাধারণ মানুষ বা জীবতাত্ত্বিক প্রাণীকে বোঝায়, যে কেবল ভোগ করে এবং সংখ্যায় গণনা করা হয়।
- MAN (বড় হাতের): বলতে মানুষের গুণাবলি, জ্ঞান, বুদ্ধি, দক্ষতা এবং কারিগরি শক্তিকে বোঝায়, যা সম্পদ সৃষ্টি করে (Human Resource)।
৭. সৃষ্টির উপাদান অনুসারে সম্পদের শ্রেণিবিভাগ করো এবং তাদের উদাহরণ দাও।
উত্তর দেখো
সৃষ্টির উপাদান অনুসারে সম্পদ তিন প্রকার:
- প্রাকৃতিক সম্পদ: যা প্রকৃতি থেকে সরাসরি পাওয়া যায়। যেমন—সূর্যালোক, জল, খনিজ।
- মানবিক সম্পদ: মানুষের নিজস্ব গুণ ও দক্ষতা। যেমন—শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তিগত জ্ঞান।
- সাংস্কৃতিক সম্পদ: মানুষের উদ্ভাবনী শক্তি ও সংস্কৃতির ফসল। যেমন—বিদ্যালয়, বিজ্ঞান, শিল্পকলা।
৮. গচ্ছিত বা অপুনর্ভব সম্পদ (Non-renewable Resource) কী? উদাহরণ দাও।
উত্তর দেখো
যেসব সম্পদের ভাণ্ডার সীমিত এবং ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে যা একবার শেষ হয়ে গেলে আর নতুন করে তৈরি করা যায় না বা ফিরে পাওয়া যায় না, তাদের গচ্ছিত বা অপুনর্ভব সম্পদ বলে।
উদাহরণ: কয়লা, খনিজ তেল, আকরিক লোহা।
৯. পূরণশীল বা পুনর্ভব সম্পদ (Renewable Resource) কী? উদাহরণ দাও।
উত্তর দেখো
যেসব সম্পদ বারবার ব্যবহার করা সত্ত্বেও নিঃশেষ হয় না বা প্রাকৃতিক উপায়ে পুনরায় সৃষ্টি হয়ে ভাণ্ডার পূরণ করে দেয়, তাদের পুনর্ভব বা প্রবাহমান সম্পদ বলে।
উদাহরণ: সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, অরণ্য, মাছ।
১০. অবরুদ্ধ প্রবাহমান সম্পদ কী?
উত্তর দেখো
যে সমস্ত প্রবাহমান সম্পদ কোনো বাধার কারণে আর প্রবাহিত হতে পারে না বা যাদের প্রবাহ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়, তাদের অবরুদ্ধ প্রবাহমান সম্পদ বলে। যেমন—নদী বা মোহনার মুখ বালুচরে বন্ধ হয়ে গেলে সেই নদীটি অবরুদ্ধ প্রবাহমান সম্পদে পরিণত হয়।
১১. পরিবেশবান্ধব সম্পদ কী?
উত্তর দেখো
যে সমস্ত সম্পদের ব্যবহারে পরিবেশের কোনো ক্ষতি বা দূষণ হয় না, তাদের পরিবেশবান্ধব সম্পদ বা গ্রিন রিসোর্স বলে। যেমন—সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি।
১২. সম্পদ সংরক্ষণ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর দেখো
সম্পদের অপচয় রোধ করে, বর্তমানের চাহিদা মিটিয়ে ভবিষ্যতের জন্য সম্পদের ভাণ্ডার অক্ষুণ্ণ রাখার উদ্দেশ্যে যে সুপরিকল্পিত ও বিজ্ঞানসম্মত ব্যবহার করা হয়, তাকে সম্পদ সংরক্ষণ বলে।
১৩. খনিজ সম্পদ কী?
উত্তর দেখো
ভূ-গর্ভ থেকে খনি খনন করে যে সমস্ত প্রাকৃতিক অজৈব ও জৈব পদার্থ উত্তোলন করা হয় এবং যা মানুষের বিভিন্ন কাজে লাগে, তাদের খনিজ সম্পদ বলে। যেমন—কয়লা, লোহা, তামা।
১৪. খনিজ সম্পদের শ্রেণিবিভাগ করো।
উত্তর দেখো
খনিজ সম্পদকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়:
- ধাতব খনিজ: লোহা, তামা, সোনা (যা থেকে ধাতু পাওয়া যায়)।
- অধাতব খনিজ: অভ্র, চুনাপাথর, ডলোমাইট।
- জ্বালানি খনিজ: কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস (যা থেকে শক্তি পাওয়া যায়)।
১৫. খনিজ আহরণকে ‘লুণ্ঠন শিল্প’ বা ‘ডাকাত শিল্প’ (Robber Industry) বলে কেন?
উত্তর দেখো
খনিজ সম্পদ অপুনর্ভব। খনি থেকে একবার খনিজ তুলে নিলে তা চিরকালের মতো কমে যায় বা হারিয়ে যায়, নতুন করে সৃষ্টি হয় না। অর্থাৎ, প্রকৃতির ভাণ্ডার লুট করা হয় বলেই খনিজ আহরণকে লুণ্ঠন শিল্প বলে।
১৬. পিগ আয়রন (Pig Iron) কী?
উত্তর দেখো
আকরিক লোহাকে বাত্যা চুল্লিতে গলিয়ে যে অশুদ্ধ ও ভঙ্গুর লোহা পাওয়া যায়, যাতে কার্বনের পরিমাণ বেশি থাকে, তাকে পিগ আয়রন বলে। এটি ঢালাই লোহা তৈরির কাঁচামাল।
১৭. স্টেনলেস স্টিল (Stainless Steel) কী?
উত্তর দেখো
লোহার সাথে নির্দিষ্ট অনুপাতে ক্রোমিয়াম ও নিকেল মিশিয়ে যে বিশেষ ধরনের ইস্পাত তৈরি করা হয়, যাতে মরচে পড়ে না এবং যা খুব শক্ত ও চকচকে হয়, তাকে স্টেনলেস স্টিল বা কলঙ্কহীন ইস্পাত বলে।
১৮. আকরিক লোহার শ্রেণিবিভাগ করো।
উত্তর দেখো
লোহার পরিমাণ ও গুণমান অনুসারে আকরিক লোহাকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায়:
১) ম্যাগনেটাইট (সেরা), ২) হেমাটাইট (ভারতে বেশি), ৩) লিমোনাইট এবং ৪) সিডারাইট (নিকৃষ্ট)।
১৯. ভারত থেকে কোন কোন দেশে লোহা রপ্তানি হয়?
উত্তর দেখো
ভারত থেকে মূলত জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আকরিক লোহা রপ্তানি করা হয়। এর মধ্যে জাপান হলো ভারতের আকরিক লোহার বৃহত্তম ক্রেতা।
২০. কয়লাকে ব্ল্যাক ডায়মন্ড বা কালো হিরে বলে কেন?
উত্তর দেখো
হীরার মতো কয়লাও কার্বন দিয়ে তৈরি। এছাড়া হীরা যেমন মূল্যবান, আধুনিক শিল্প সভ্যতায় জ্বালানি ও কাঁচামাল হিসেবে কয়লার গুরুত্ব ও অর্থনৈতিক মূল্য অপরিসীম। কালো রঙের এই অমূল্য খনিজটির গুরুত্ব বোঝাতেই একে ‘কালো হিরে’ বলা হয়।
২১. কোক কয়লা কী? এটি কী কাজে ব্যবহার করা হয়?
উত্তর দেখো
বিটুমিনাস কয়লাকে বাতাসের অনুপস্থিতিতে ১০০০-১৩০০° সে. তাপমাত্রায় পোড়ালে যে কঠিন কার্বন অবশেষ পড়ে থাকে, তাকে কোক কয়লা বলে। এটি মূলত লৌহ-ইস্পাত শিল্পে আকরিক লোহা গলাতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
২২. কয়লার প্রধান উপাদানগুলি কী কী?
উত্তর দেখো
কয়লার প্রধান উপাদান হলো কার্বন। এছাড়া এতে উদ্দায়ী পদার্থ (Volatile matter), জলীয় বাষ্প (Moisture) এবং ছাই (Ash) বা অকার্বনীয় পদার্থ থাকে। কার্বনের পরিমাণ যত বেশি, কয়লার মান তত ভালো।
২৩. অ্যানথ্রাসাইট কয়লার গুরুত্ব লেখো।
উত্তর দেখো
এটি সর্বোৎকৃষ্ট মানের কয়লা (কার্বন ৯০-৯৫%)। এটি জ্বললে ধোঁয়া হয় না কিন্তু প্রচণ্ড তাপ দেয়। তাই ধাতু নিষ্কাশন, রাসায়নিক শিল্প এবং গৃহস্থালির কাজে উন্নত জ্বালানি হিসেবে এর গুরুত্ব খুব বেশি।
২৪. বিটুমিনাস কয়লার গুরুত্ব লেখো।
উত্তর দেখো
ভারতে প্রাপ্ত কয়লার ৮০% হলো বিটুমিনাস। এটি থেকে ভালো মানের কোক কয়লা তৈরি হয় যা লৌহ-ইস্পাত শিল্পে অপরিহার্য। এছাড়া তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন ও রান্নার গ্যাস তৈরিতে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। একে ‘শিল্পের রুটি’ বলা হয়।
২৫. খনিজ তেলকে তরল সোনা (Liquid Gold) বলা হয় কেন?
উত্তর দেখো
সোনার মতো খনিজ তেলেরও অর্থনৈতিক মূল্য এবং চাহিদা বিশ্বজুড়ে অপরিসীম। আধুনিক যান্ত্রিক সভ্যতা, পরিবহন, শিল্প এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—সবকিছুই খনিজ তেলের ওপর নির্ভরশীল। এর এই বহুমুখী গুরুত্ব ও মূল্যের জন্যই একে তরল সোনা বলা হয়।
২৬. খনিজ তেলের উপজাত দ্রব্যগুলো কী কী?
উত্তর দেখো
অপরিশোধিত খনিজ তেল শোধন করার সময় পেট্রোল, ডিজেল ছাড়াও ন্যাপথা, গ্যাসোলিন, প্যারাফিন মোম, পিচ, ভেসলিন, কৃত্রিম রবার, প্লাস্টিক, রাসায়নিক সার এবং বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী উপজাত দ্রব্য হিসেবে পাওয়া যায়।
২৭. বোম্বে হাই-এর গুরুত্ব কী?
উত্তর দেখো
মুম্বাই উপকূল থেকে ১৭৬ কিমি দূরে আরব সাগরে অবস্থিত বোম্বে হাই ভারতের বৃহত্তম খনিজ তেল উত্তোলক অঞ্চল। ভারতের মোট খনিজ তেলের প্রায় ৬৩% এখান থেকেই পাওয়া যায়। ‘সাগর সম্রাট’ ও ‘সাগর বিকাশ’ নামক ভাসমান জাহাজের সাহায্যে এখান থেকে তেল তোলা হয়।
২৮. ONGC কী?
উত্তর দেখো
ONGC (Oil and Natural Gas Corporation) হলো ভারতের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা যা ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর কাজ হলো ভারতের বিভিন্ন স্থানে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের অনুসন্ধান করা, উত্তোলন করা এবং বন্টন করা। এর সদর দপ্তর দেরাদুনে।
২৯. ভারতের পূর্ব উপকূলের খনিজ তেল শোধনাগারগুলির নাম লেখো।
উত্তর দেখো
পূর্ব উপকূলের প্রধান কয়েকটি তৈল শোধনাগার হলো—হলদিয়া (পশ্চিমবঙ্গ), পারাদ্বীপ (ওড়িশা), বিশাখাপত্তনম ও তাতিপাকা (অন্ধ্রপ্রদেশ) এবং চেন্নাই (তামিলনাড়ু)।
৩০. ভারতের প্রধান খনিজ তেল উত্তোলক সংস্থাগুলি কী কী?
উত্তর দেখো
ভারতের প্রধান দুটি তেল উত্তোলক সংস্থা হলো— ১) ওএনজিসি (Oil and Natural Gas Corporation) এবং ২) অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেড (Oil India Limited বা OIL)।
৩১. প্রচলিত শক্তি কী এবং এর উৎসগুলি কী কী?
উত্তর দেখো
যে সমস্ত শক্তি দীর্ঘকাল ধরে চিরাচরিত পদ্ধতিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, তাদের প্রচলিত শক্তি বলে। এর প্রধান উৎসগুলি হলো—কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, জলবিদ্যুৎ এবং পারমাণবিক শক্তি।
৩২. প্রচলিত শক্তি উৎপাদনের প্রধান অসুবিধা কী?
উত্তর দেখো
১) পরিবেশ দূষণ: জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ালে প্রচুর ধোঁয়া ও কার্বন নির্গত হয়।
২) সীমিত ভাণ্ডার: কয়লা বা তেলের ভাণ্ডার সীমিত, তাই ভবিষ্যতে এগুলি ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
৩৩. NTPC কী?
উত্তর দেখো
NTPC বা ‘ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কর্পোরেশন’ (১৯৭৫) হলো ভারতের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী ও পরিচালনকারী সংস্থা।
৩৪. জলবিদ্যুৎ কী?
উত্তর দেখো
খরস্রোতা নদীর জলপ্রবাহ বা বাঁধ দিয়ে আটকে রাখা জলের তীব্র গতিবেগকে কাজে লাগিয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়, তাকে জলবিদ্যুৎ বলে। এটি একটি পুনর্ভব ও দূষণহীন শক্তি।
৩৫. জলবিদ্যুতের প্রধান সুবিধা কী?
উত্তর দেখো
১) এটি পরিবেশবান্ধব, কোনো ধোঁয়া বা ছাই তৈরি করে না।
২) এর কাঁচামাল (জল) অফুরন্ত এবং বিনামূল্যে পাওয়া যায়।
৩) একে ‘সাদা কয়লা’ বলা হয়।
৩৬. অধিকাংশ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র পার্বত্য, পাহাড় ও মালভূমিতে গড়ে উঠেছে কেন?
উত্তর দেখো
জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জলের প্রবল স্রোত বা তীব্র গতিবেগের প্রয়োজন হয়। পার্বত্য বা মালভূমি অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি বন্ধুর ও ঢালু হওয়ায় নদীগুলি খুব খরস্রোতা হয়, যা টারবাইন ঘোরানোর জন্য আদর্শ। সমভূমিতে জলের গতিবেগ কম থাকে।
৩৭. দামোদর উপত্যকার কয়েকটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নাম লেখো।
উত্তর দেখো
দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (DVC)-এর অধীনস্থ প্রধান জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি হলো— মাইথন, পাঞ্চেত ও তিলাইয়া। এগুলি ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে অবস্থিত।
৩৮. NHPC কী?
উত্তর দেখো
NHPC (National Hydroelectric Power Corporation) হলো ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ একটি সংস্থা, যা জলবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং উন্নয়নের কাজ দেখাশোনা করে।
৩৯. পারমাণবিক শক্তি (Nuclear Energy) কী?
উত্তর দেখো
তেজস্ক্রিয় মৌলের পরমাণুর বিভাজন ঘটিয়ে যে বিপুল পরিমাণ তাপশক্তি উৎপন্ন হয়, তাকে কাজে লাগিয়ে যে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করা হয়, তাকে পারমাণবিক শক্তি বলে।
৪০. পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোন কোন কাঁচামাল দরকার হয়?
উত্তর দেখো
পারমাণবিক শক্তির প্রধান কাঁচামাল হলো— ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, প্লুটোনিয়াম, বেরিলিয়াম এবং ইলমেনাইট। ভারতে থোরিয়ামের সঞ্চয় বেশি।
৪১. পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনে ভারী জল (Heavy Water) প্রয়োজন হয় কেন?
উত্তর দেখো
পারমাণবিক চুল্লিতে নিউক্লীয় বিভাজন বা বিক্রিয়ার গতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এবং চুল্লিকে ঠান্ডা রাখার জন্য ‘মডারেটর’ বা ‘কুল্যান্ট’ হিসেবে ভারী জল (Deuterium Oxide – D2O) ব্যবহার করা হয়।
৪২. পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কীভাবে করা হয়?
উত্তর দেখো
পারমাণবিক চুল্লিতে ইউরেনিয়াম বা থোরিয়ামের পরমাণু বিভাজনের (Fission) ফলে যে প্রচণ্ড তাপ সৃষ্টি হয়, সেই তাপ দিয়ে জল ফুটিয়ে বাষ্প তৈরি করা হয়। সেই বাষ্পের চাপে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
৪৩. অপ্রচলিত শক্তি (Non-conventional Energy) কী?
উত্তর দেখো
যেসব শক্তির উৎস এখনও খুব বেশি প্রচলিত নয়, কিন্তু ভবিষ্যতে যার সম্ভাবনা উজ্জ্বল এবং যা ব্যবহার করলে পরিবেশ দূষণ হয় না, তাদের অপ্রচলিত বা অচিরাচরিত শক্তি বলে। এগুলি সাধারণত পুনর্ভব হয়।
৪৪. অপ্রচলিত শক্তির উৎসগুলি কী কী?
উত্তর দেখো
প্রধান উৎসগুলি হলো—সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জোয়ারভাটা শক্তি, ভূতাপীয় শক্তি, বায়োগ্যাস এবং বর্জ্য পদার্থ থেকে উৎপন্ন শক্তি।
৪৫. সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কীভাবে করা হয়?
উত্তর দেখো
সোলার প্যানেলে থাকা সিলিকন নির্মিত ‘ফোটোভোলটাইক কোষ’ (Photovoltaic Cell)-এর ওপর সূর্যের আলো পড়লে তা সরাসরি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এই পদ্ধতিতেই সৌরবিদ্যুৎ তৈরি হয়।
[Image of solar panels photovoltaic cells]
৪৬. ভারতের কোন কোন রাজ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা খুব বেশি?
উত্তর দেখো
ভারতের পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে রাজস্থান, গুজরাট এবং মহারাষ্ট্রে সৌরশক্তি উৎপাদনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। কারণ এখানে বছরের অধিকাংশ সময় আকাশ মেঘমুক্ত থাকে এবং সূর্যরশ্মি লম্বভাবে কিরণ দেয়।
৪৭. বায়ুশক্তিকে কী কী ভাবে ব্যবহার করা হয়?
উত্তর দেখো
বায়ুশক্তিকে কাজে লাগিয়ে উইন্ড মিল বা বায়ুকলের সাহায্যে—১) বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়, ২) ভূগর্ভস্থ জল তোলা হয় (সেচ ও পানীয় কাজের জন্য) এবং ৩) যাঁতাকল চালিয়ে শস্য পেষাই করা হয়।
৪৮. অফশোর বায়ুশক্তি (Offshore Wind Energy) কী?
উত্তর দেখো
স্থলভাগের পরিবর্তে সমুদ্রের অগভীর জলে বা উপকূল থেকে দূরে সমুদ্রের বুকে বায়ুকল স্থাপন করে যে বায়ুশক্তি উৎপাদন করা হয়, তাকে অফশোর বায়ুশক্তি বলে।
৪৯. অফশোর বায়ুবিদ্যুতের সুবিধা কী?
উত্তর দেখো
১) সমুদ্রে বাতাসের গতিবেগ স্থলভাগের চেয়ে অনেক বেশি ও নিরবচ্ছিন্ন থাকে, ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেশি হয়।
২) এতে স্থলভাগের মূল্যবান জমি নষ্ট হয় না এবং লোকালয়ে শব্দ দূষণ কম হয়।
৫০. ভূতাপ শক্তির (Geothermal Energy) উৎসগুলি কী কী?
উত্তর দেখো
ভূতাপ শক্তির প্রধান উৎসগুলি হলো—উষ্ণ প্রস্রবণ (Hot Springs), গেইজার (Geysers) এবং আগ্নেয়গিরি প্রবণ এলাকা, যেখানে মাটির নিচ থেকে গরম জল বা বাষ্প বেরিয়ে আসে। যেমন—হিমাচলের মনিকরণ।
৫১. ভূতাপ শক্তি কীভাবে উৎপাদন করা হয়?
উত্তর দেখো
মাটির গভীরে পাইপ ঢুকিয়ে ভূগর্ভস্থ উচ্চ তাপমাত্রার বাষ্প বা গরম জল ওপরে তুলে আনা হয়। সেই বাষ্পের প্রবল চাপকে কাজে লাগিয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
অধ্যায় ৭: ১০০% প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত প্রশ্ন (Bonus Set)
৫২. সম্পদ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন কেন?
উত্তর দেখো
১) সীমিত ভাণ্ডার: কয়লা বা খনিজ তেলের মতো গচ্ছিত সম্পদের পরিমাণ নির্দিষ্ট, অতিরিক্ত ব্যবহারে তা দ্রুত ফুরিয়ে যাবে।
২) ভবিষ্যৎ প্রজন্ম: আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সম্পদ বাঁচিয়ে রাখা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
৩) পরিবেশ রক্ষা: সম্পদের অপচয় কমালে পরিবেশ দূষণও কমে।
৫৩. ছোটনাগপুর মালভূমিকে ‘ভারতের খনিজ ভাণ্ডার’ বলা হয় কেন?
উত্তর দেখো
ভারতের ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চলে (ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ) ভারতের মোট খনিজ সম্পদের এক বিশাল অংশ পাওয়া যায়। কয়লা, আকরিক লোহা, অভ্র, বক্সাইট, তামা—প্রায় সব ধরনের মূল্যবান খনিজ এখানে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় বলেই একে ‘ভারতের খনিজ ভাণ্ডার’ (Storehouse of Minerals) বলা হয়।
৫৪. টেকসই উন্নয়ন (Sustainable Development) বলতে কী বোঝো?
উত্তর দেখো
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রয়োজন মেটানোর ক্ষমতায় কোনো ঘাটতি না ঘটিয়ে বর্তমান প্রজন্মের চাহিদা মেটানো এবং উন্নয়ন সাধন করাকে টেকসই উন্নয়ন বা স্থিতিশীল উন্নয়ন বলে। এটি পরিবেশ ও অর্থনীতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে।
৫৫. দক্ষিণ ভারতে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন বেশি হয় কেন?
উত্তর দেখো
১) বন্ধুর ভূপ্রকৃতি: দক্ষিণ ভারত মালভূমি অঞ্চল হওয়ায় নদীগুলো খরস্রোতা এবং অনেক জলপ্রপাত আছে।
২) কয়লার অভাব: দক্ষিণ ভারতে কয়লা খনি কম থাকায় তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ কম, তাই তারা জলবিদ্যুতের ওপর বেশি নির্ভরশীল।
৫৬. সম্পদ ও নিরপেক্ষ সামগ্রীর মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর দেখো
১) উপযোগিতা: সম্পদের উপযোগিতা বা অভাব মোচনের ক্ষমতা আছে, নিরপেক্ষ সামগ্রীর তা নেই।
২) ব্যবহার: সম্পদ মানুষের কাজে লাগে, নিরপেক্ষ সামগ্রী মানুষের কোনো কাজে লাগে না (আবার ক্ষতিও করে না)।
৫৭. CBM বা কোল বেড মিথেন কী?
উত্তর দেখো
কয়লা খনির ভেতরে কয়লা স্তরের ফাঁকে ফাঁকে বা শিলার রন্ধ্রে যে প্রাকৃতিক মিথেন গ্যাস জমে থাকে, তাকে কোল বেড মিথেন (CBM) বলে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি সম্পদ।
৫৮. বর্তমানে অপ্রচলিত শক্তির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে কেন?
উত্তর দেখো
১) দূষণহীনতা: অপ্রচলিত শক্তি (সৌর, বায়ু) পরিবেশ দূষণ ঘটায় না।
২) অফুরন্ত জোগান: জীবাশ্ম জ্বালানি একদিন শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু অপ্রচলিত শক্তির উৎস অফুরন্ত।
৩) ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা: শক্তি সংকট মোকাবিলার এটিই একমাত্র দীর্ঘমেয়াদী পথ।
৫৯. পুনর্ভব ও অপুনর্ভব সম্পদের দুটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর দেখো
১) স্থায়িত্ব: পুনর্ভব সম্পদ অফুরন্ত (যেমন- সৌরশক্তি), অপুনর্ভব সম্পদ সীমিত ও ব্যবহার করলে শেষ হয়ে যায় (যেমন- কয়লা)।
২) পরিবেশ প্রভাব: পুনর্ভব সম্পদ সাধারণত পরিবেশবান্ধব, অপুনর্ভব সম্পদ ব্যবহারে দূষণ বাড়ে।
৬০. সাগর সম্রাট কী এবং কেন বিখ্যাত?
উত্তর দেখো
সাগর সম্রাট হলো একটি বিশাল ভাসমান ড্রিলিং প্ল্যাটফর্ম বা জাহাজ। এটি ভারতের বৃহত্তম খনিজ তেল উত্তোলক অঞ্চল ‘বোম্বে হাই’ থেকে সমুদ্রের তলদেশ খুঁড়ে তেল উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত হয়।
৬১. তরল সোনা (Petroleum) ও কালো হিরের (Coal) মধ্যে মূল পার্থক্য কী?
উত্তর দেখো
কয়লা হলো কঠিন জীবাশ্ম জ্বালানি যা প্রধানত তাপবিদ্যুৎ ও শিল্পে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, পেট্রোলিয়াম হলো তরল জীবাশ্ম জ্বালানি যা পরিবহন ব্যবস্থা ও রাসায়নিক শিল্পের মূল ভিত্তি।
৬২. ‘কার্বন ক্রেডিট’ (Carbon Credit) ধারণাটি কী?
উত্তর দেখো
কার্বন ক্রেডিট হলো পরিবেশ দূষণ কমানোর একটি আন্তর্জাতিক পদ্ধতি। কোনো দেশ বা সংস্থা যদি নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে কম কার্বন (গ্রিনহাউস গ্যাস) নির্গত করে, তবে তারা একটি ‘ক্রেডিট’ পায়, যা তারা অন্য দূষণকারী দেশকে অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করতে পারে।
৬৩. গচ্ছিত সম্পদকে ‘লুণ্ঠনমূলক অর্থনীতি’ বলা হয় কেন?
উত্তর দেখো
খনিজ সম্পদ আহরণ করলে তা আর পূরণ হয় না, অর্থাৎ প্রকৃতির ভাণ্ডার কমে যায়। অনেকটা ডাকাতি বা লুঠ করার মতো প্রকৃতি থেকে এই সম্পদ কেড়ে নেওয়া হয় বলে একে ‘লুণ্ঠনমূলক অর্থনীতি’ বা ‘রাবার ইকোনমি’ বলা হয়।