নবম শ্রেণি: ভূগোল, অধ্যায় – 8 পশ্চিমবঙ্গ বিশ্লেষণাত্মক প্রশ্নত্তোর মান 3

অধ্যায় ৮: বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর (পর্ব-১)

১. পশ্চিমবঙ্গের অবস্থানগত বা ভৌগোলিক গুরুত্ব আলোচনা করো।

বিস্তারিত উত্তর

ভারতের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যটির ভৌগোলিক গুরুত্ব অপরিসীম:

  • উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার: পশ্চিমবঙ্গের সংকীর্ণ ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডোর দিয়েই ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে উত্তর-পূর্বের ৭টি রাজ্যের (“Seven Sisters”) যোগাযোগ রক্ষা করা হয়।
  • আন্তর্জাতিক সীমানা ও বাণিজ্য: নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের সাথে সীমানা থাকায় এই রাজ্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষ করে কলকাতা বন্দরের মাধ্যমে নেপাল ও ভুটানের বৈদেশিক বাণিজ্য চলে।
  • কৌশলগত গুরুত্ব: চীন সীমান্তের খুব কাছে অবস্থিত হওয়ায় এবং একাধিক দেশের সীমানা থাকায় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার দিক থেকে এই রাজ্যের গুরুত্ব অনেক।

[Image of West Bengal map location importance]


২. পশ্চিমবঙ্গের পার্বত্য অঞ্চলের ভূপ্রকৃতির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।

বিস্তারিত উত্তর

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ভাগে দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের উত্তরাংশ নিয়ে এই অঞ্চল গঠিত।

  • বৈশিষ্ট্য: এটি অত্যন্ত উঁচু ও বন্ধুর। এখানকার পাহাড়গুলি পাললিক ও রূপান্তরিত শিলা দ্বারা গঠিত।
  • বিভাজন: তিস্তা নদী এই অঞ্চলকে দুই ভাগে ভাগ করেছে—

    ক) পশ্চিম ভাগ: এখানকার পাহাড়গুলি বেশি উঁচু। প্রধান পর্বতশ্রেণি হলো সিঙ্গলিলা (সর্বোচ্চ শৃঙ্গ সান্দাকফু) এবং দার্জিলিং-কার্শিয়াং শৈলশিরা (টাইগার হিল)।

    খ) পূর্ব ভাগ: এখানকার পাহাড়গুলি কম উঁচু। প্রধান শৈলশিরা হলো দুরবিনদারা ও চোল। ঋষিলা এখানকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।


৩. তাল, বরেন্দ্রভূমি ও দিয়ারা বলতে কী বোঝো?

বিস্তারিত উত্তর

উত্তরবঙ্গ সমভূমির তিনটি বিশেষ ভূ-প্রাকৃতিক ভাগ হলো:

  • তাল (Tal): কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি জেলার নিচু জলাভূমিগুলিকে ‘তাল’ বলে। বর্ষাকালে এগুলি প্লাবিত হয়। যেমন—রাসিক বিল।
  • বরেন্দ্রভূমি (Barind Tract): মালদা ও দক্ষিণ দিনাজপুরের প্রাচীন পলিমাটি গঠিত, ঈষৎ ঢেউখেলানো এবং লালচে মাটির শক্ত ভূমিভাগকে বরেন্দ্রভূমি বলে।
  • দিয়ারা (Diara): মালদা জেলার কালিন্দি নদীর দক্ষিণ দিকের নবীন পলিমাটি গঠিত অত্যন্ত উর্বর ও ঘনবসতিপূর্ণ সমভূমিকে দিয়ারা বলে।

৪. পশ্চিমবঙ্গের মালভূমি অঞ্চলের ভূপ্রকৃতির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।

বিস্তারিত উত্তর

সমগ্র পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়া, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর ও বর্ধমানের পশ্চিমাংশ নিয়ে এই অঞ্চল গঠিত।

  • গঠন: এটি ছোটনাগপুর মালভূমির অংশ। প্রাচীন গ্রানাইট ও নিস শিলা দ্বারা গঠিত।
  • বৈশিষ্ট্য: অঞ্চলটি ঢেউখেলানো এবং জায়গায় জায়গায় কঠিন শিলা টিলার আকারে দাঁড়িয়ে আছে, যাদের স্থানীয় ভাষায় ‘ডুংরি’ বলে।
  • পাহাড়: এখানকার উল্লেখযোগ্য পাহাড়গুলি হলো—অযোধ্যা (সর্বোচ্চ শৃঙ্গ গোর্গাবুরু), বাঘমুন্ডি, পাঞ্চেত (পুরুলিয়া), সুশুনিয়া, বিহারীনাথ (বাঁকুড়া) এবং মামা-ভাগ্নে (বীরভূম)।

৫. সুন্দরবন অঞ্চলের ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করো।

বিস্তারিত উত্তর

দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও উত্তর ২৪ পরগনার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত সক্রিয় বদ্বীপ অঞ্চলটি সুন্দরবন নামে পরিচিত। এর বৈশিষ্ট্য:

  • দ্বীপভূমি: অসংখ্য ছোট-বড় দ্বীপ (যেমন- সাগরদ্বীপ, জম্বুদ্বীপ), নদী ও খাঁড়ি দিয়ে এই অঞ্চল গঠিত।
  • সক্রিয় গঠন: নদীগুলি এখানে এখনও পলি সঞ্চয় করে চলেছে, ফলে নতুন নতুন চড়া বা দ্বীপ গড়ে উঠছে (যেমন- পূর্বাশা বা নিউমুর দ্বীপ)।
  • লবণাক্ত মাটি: জোয়ারের জল প্রবেশ করায় এখানকার মাটি ও জল অত্যন্ত লবণাক্ত এবং কর্দমাক্ত।

[Image of Sundarbans delta map]


৬. পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় সমভূমির পরিচয় দাও।

বিস্তারিত উত্তর

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দক্ষিণ অংশ জুড়ে বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী এই সমভূমি অবস্থিত।

  • বালিয়াড়ি: সমুদ্রের সমান্তরালে বায়ুবাহিত বালি জমে অসংখ্য বালিয়াড়ি সৃষ্টি হয়েছে, যাদের স্থানীয় ভাষায় ‘থিই’ বা ‘থিস’ বলে। দিঘার বালিয়াড়ি বিখ্যাত।
  • প্যারালেল গঠন: বালিয়াড়িগুলি উপকূল রেখার সমান্তরালে অবস্থান করে।
  • মৎস্যশিকার: কৃষিকাজের চেয়ে মৎস্যশিকার এখানকার প্রধান জীবিকা।

৭. তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলের ভূপ্রকৃতির পার্থক্য বা বৈশিষ্ট্য লেখো।

বিস্তারিত উত্তর

হিমালয়ের পাদদেশে নুড়ি, কাঁকর ও বালি মিশ্রিত পলি দ্বারা গঠিত অঞ্চল এটি।

  • তরাই (পশ্চিম): তিস্তা নদীর পশ্চিম দিকের অংশ। এখানকার জমি নিচু, স্যাঁতসেঁতে এবং জলাভূমিপূর্ণ। এখানে ঘন জঙ্গল দেখা যায়।
  • ডুয়ার্স (পূর্ব): তিস্তা নদীর পূর্ব দিকের অংশ। এর উচ্চতা তরাইয়ের চেয়ে একটু বেশি। এখানে অসংখ্য চা বাগান গড়ে উঠেছে। এটি ভুটানে যাওয়ার প্রবেশদ্বার।

৮. মৃতপ্রায়, পরিণত ও সক্রিয় বদ্বীপ বলতে কী বোঝায়?

বিস্তারিত উত্তর
  • মৃতপ্রায় বদ্বীপ (Moribund): নদীয়া ও মুর্শিদাবাদ। এখানে নদী মজে গেছে এবং নতুন ভূমি গঠন বন্ধ হয়ে গেছে।
  • পরিণত বদ্বীপ (Mature): কলকাতা, হাওড়া, হুগলি। এখানে ভূমি গঠন প্রায় শেষ, জমি শক্ত এবং ভরাট হয়ে গেছে।
  • সক্রিয় বদ্বীপ (Active): সুন্দরবন অঞ্চল। এখানে নদী এখনও পলি ফেলছে এবং বদ্বীপ গঠনের কাজ বা ভূমি গঠন প্রক্রিয়া এখনও চলছে।

৯. পশ্চিমবঙ্গের ‘রাঢ়’ অঞ্চলের ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য লেখো।

বিস্তারিত উত্তর

পশ্চিমের মালভূমি এবং ভাগীরথী-হুগলি নদীর মধ্যবর্তী অংশকে রাঢ় সমভূমি বলে।

  • মাটি: এখানকার মাটি ল্যাটেরাইট জাতীয়, কাঁকরপূর্ণ এবং লাল রঙের।
  • ভূমিভাগ: জমিটি পশ্চিম থেকে পূর্বে ক্রমশ ঢালু হয়ে গেছে এবং মাঝে মাঝে ক্ষয়প্রাপ্ত টিলা বা ঢিবি দেখা যায়।
  • কৃষি: জলসেচের সাহায্যে এখানে প্রচুর ধান চাষ হয়, তাই একে ‘ধানের ভাণ্ডার’ বলা হয় (বিশেষ করে বর্ধমান জেলাকে)।

১০. পশ্চিমবঙ্গের কোন অংশে বালিয়াড়ি দেখা যায় এবং কেন?

বিস্তারিত উত্তর

পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার উপকূলীয় অংশে (যেমন- দিঘা, কাঁথি, রামনগর) বালিয়াড়ি দেখা যায়।

কারণ:

  • সমুদ্র থেকে প্রবল বেগে বাতাস বালি উড়িয়ে এনে উপকূলের সমান্তরালে জমা করে।
  • জোয়ারের সময় জল সরে গেলে তটভূমি শুকিয়ে যায় এবং সেই বালি বাতাসে উড়ে বালিয়াড়ি গঠন করে।


অধ্যায় ৮: বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর (পর্ব-২)

১১. উত্তরবঙ্গের নদনদীগুলির তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য লেখো।

বিস্তারিত উত্তর
  • নিত্যবহ: নদীগুলি হিমালয়ের বরফগলা জলে পুষ্ট, তাই সারা বছর জল থাকে।
  • খরস্রোতা: পার্বত্য অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীগুলির স্রোত খুব প্রবল এবং এরা গভীর গিরিখাত সৃষ্টি করে।
  • বন্যাপ্রবণ: বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টির জল ও পাহাড়ি ঢলে নদীগুলিতে প্রায়ই ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয় (যেমন- তিস্তা)।

১২. সুন্দরবন অঞ্চলের নদনদীগুলির বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।

বিস্তারিত উত্তর
  • জোয়ারের জলে পুষ্ট: নদীগুলি কোনো পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়নি, এরা মূলত গঙ্গার শাখানদী এবং জোয়ারের জলে পুষ্ট। তাই জল লবণাক্ত।
  • উভমুখী প্রবাহ: জোয়ারের সময় জল স্থলভাগের দিকে এবং ভাটার সময় সাগরের দিকে প্রবাহিত হয়।
  • ফানেল আকৃতি: মোহনার কাছে নদীগুলো খুব চওড়া বা ফানেল আকৃতির হয়, যাকে ‘খাঁড়ি’ বলে।

১৩. পশ্চিমবঙ্গের মালভূমি অঞ্চলের নদনদীগুলির বৈশিষ্ট্য কী?

বিস্তারিত উত্তর
  • অনিত্যবহ: নদীগুলি বৃষ্টির জলে পুষ্ট, তাই বর্ষাকাল ছাড়া অন্য সময় জল খুব কম থাকে বা শুকিয়ে যায়।
  • হড়পা বান: বর্ষাকালে হঠাৎ প্রবল বৃষ্টি হলে নদীগুলিতে আকস্মিক বন্যা বা হড়পা বান (Flash Flood) দেখা দেয়।
  • পূর্ব বাহিনী: ভূমির ঢাল অনুসারে নদীগুলি পশ্চিম থেকে পূর্ব বা দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে ভাগীরথী-হুগলিতে মিশেছে।

১৪. সুন্দরবনের সক্রিয় বদ্বীপ অঞ্চলের মাটি লবণাক্ত কেন?

বিস্তারিত উত্তর
  • জোয়ারের প্রভাব: সুন্দরবন সমুদ্রের খুব কাছে অবস্থিত। প্রতিদিন জোয়ারের সময় সমুদ্রের নোনা জল নদী ও খালের মাধ্যমে এই অঞ্চলের মাটিতে প্রবেশ করে।
  • কৈশিক প্রক্রিয়া: শুষ্ক ঋতুতে বাষ্পীভবনের হার বেশি হলে মাটির নিচ থেকে লবণাক্ত জল ওপরে উঠে আসে এবং লবণ মাটিতে থেকে যায়।
  • বাঁধ ভাঙা: ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাসে বাঁধ ভেঙে নোনা জল চাষের জমিতে ঢুকে মাটি লবণাক্ত করে।

১৫. দামোদর নদকে ‘বাংলার দুঃখ’ বলা হতো কেন? এখন কি বলা হয়?

বিস্তারিত উত্তর

অতীত: আগে বর্ষাকালে দামোদরের বন্যায় বর্ধমান, হুগলি ও হাওড়া জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল ডুবে যেত, ফসল নষ্ট হতো এবং প্রচুর প্রাণহানি হতো। এই ধ্বংসলীলার জন্যই একে ‘বাংলার দুঃখ’ বলা হতো।

বর্তমান: ডিভিসি (DVC) পরিকল্পনায় নদীর ওপর বাঁধ দেওয়ার ফলে বন্যার প্রকোপ অনেকটা কমেছে। তবে জলাধার থেকে হঠাৎ জল ছাড়লে এখনও বন্যা হয়, যাকে ‘ম্যান-মেড বন্যা’ বলা হয়।


১৬. পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুতে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব আলোচনা করো।

বিস্তারিত উত্তর
পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ু মূলত ‘ক্রান্তীয় মৌসুমি’ প্রকৃতির।

  • ঋতু পরিবর্তন: মৌসুমি বায়ুর আগমন (বর্ষাকাল) এবং প্রত্যাগমন (শরৎকাল) অনুসারে ঋতুচক্র আবর্তিত হয়।
  • বৃষ্টিপাত: রাজ্যের মোট বৃষ্টিপাতের ৯০ ভাগই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বর্ষাকালে (জুন-সেপ্টেম্বর) হয়।
  • উষ্ণতা হ্রাস: গ্রীষ্মের দাবদাহের পর মৌসুমি বৃষ্টিপাত উষ্ণতা কমিয়ে আরামদায়ক পরিবেশ আনে।

১৭. পশ্চিমী ঝঞ্ঝা (Western Disturbance) পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুকে কীভাবে প্রভাবিত করে?

বিস্তারিত উত্তর
শীতকালে ভূমধ্যসাগর থেকে আগত দুর্বল ঘূর্ণাবাতের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গে মাঝে মাঝে আকাশ মেঘলা থাকে এবং হালকা ঝিরঝিরে বৃষ্টি হয়। একে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা বলে।

প্রভাব: এই বৃষ্টি রবিশস্য (গম, ডাল) চাষের উপকার করে, কিন্তু বেশি হলে আলু বা সবজি চাষের ক্ষতি হয় এবং শীতের প্রকোপ বাড়িয়ে দেয়।


১৮. কালবৈশাখীর গুরুত্ব বা প্রভাব লেখো।

বিস্তারিত উত্তর
গ্রীষ্মকালে বিকেলের দিকে যে বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়বৃষ্টি হয়, তাকে কালবৈশাখী বলে।

  • উপকারিতা: এই বৃষ্টি গ্রীষ্মের অসহ্য গরম থেকে স্বস্তি দেয় এবং পাট, আউশ ধান ও সবজি চাষের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
  • অপকারিতা: ঝড়ের তীব্রতা বেশি হলে কাঁচা ঘরবাড়ি ভাঙে এবং আম বা লিচু ফলের ক্ষতি করে।

১৯. অতিরিক্ত জলসেচে মাটির লবণতা বাড়ে কেন?

বিস্তারিত উত্তর
অতিরিক্ত জলসেচ করলে বা জমিতে জল জমে থাকলে মাটির নিচের জলস্তর ওপরে উঠে আসে (কৈশিক প্রক্রিয়া)। সূর্যের তাপে জল বাষ্পীভূত হয়ে উড়ে যায়, কিন্তু জলে দ্রবীভূত লবণ (সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম) মাটির ওপরের স্তরে পড়ে থাকে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এমন হতে থাকলে জমি লবণাক্ত ও ক্ষারীয় হয়ে চাষের অযোগ্য হয়ে পড়ে।

২০. ভাগীরথী-হুগলি নদীর সমস্যাগুলি কী কী?

বিস্তারিত উত্তর
  • নাব্যতা হ্রাস: ফারাক্কা বাঁধের কারণে পলি জমে নদীগর্ভ ভরাট হয়ে যাচ্ছে, ফলে গভীরতা কমছে।
  • জোয়ারের প্রকোপ: নদীতে মিষ্টি জলের প্রবাহ কমে যাওয়ায় জোয়ারের নোনা জলের প্রভাব বাড়ছে।
  • দূষণ: দুই তীরের অসংখ্য কলকারখানা ও শহরের বর্জ্য সরাসরি নদীতে পড়ায় জল মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।


অধ্যায় ৮: বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর (পর্ব-৩)

২১. পশ্চিমবঙ্গের চা শিল্পের সমস্যাগুলি লেখো।

বিস্তারিত উত্তর
  • পুরানো গাছ: দার্জিলিংয়ের অধিকাংশ চা বাগানের গাছগুলি ১০০ বছরের বেশি পুরোনো, তাই উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাচ্ছে।
  • রুগ্ন বাগান: মালিক ও শ্রমিক বিরোধ, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বহু বাগান বন্ধ বা রুগ্ন হয়ে পড়েছে।
  • প্রতিযোগিতা: শ্রীলঙ্কা ও কেনিয়ার চায়ের সাথে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ছে।

২২. হলদিয়া পেট্রোরসায়ন শিল্পের গুরুত্ব আলোচনা করো।

বিস্তারিত উত্তর
হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস (HPL) পশ্চিমবঙ্গের শিল্প মানচিত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে:

  • অনুসারী শিল্প: একে কেন্দ্র করে প্লাস্টিক, পলিমার, কৃত্রিম রবার, রং ইত্যাদি হাজার হাজার ছোট ও মাঝারি অনুসারী শিল্প (Downstream Industry) গড়ে উঠেছে।
  • কর্মসংস্থান: প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
  • অর্থনৈতিক উন্নয়ন: এটি রাজ্যের শিল্পায়নে ও রাজস্ব আয়ে বড় ভূমিকা রাখছে।

২৩. পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা ও সমস্যা লেখো।

বিস্তারিত উত্তর
  • সম্ভাবনা: পাহাড় (দার্জিলিং), জঙ্গল (ডুয়ার্স/সুন্দরবন), সমুদ্র (দিঘা) এবং ঐতিহাসিক স্থান (মুর্শিদাবাদ) থাকায় পর্যটনের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।
  • সমস্যা: ১) অনুন্নত পরিকাঠামো (রাস্তাঘাট, হোটেল)। ২) রাজনৈতিক অস্থিরতা (পাহাড়ে)। ৩) প্রচারের অভাব।

২৪. পশ্চিমবঙ্গের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের উন্নতির কারণ কী?

বিস্তারিত উত্তর
  • মেধাসম্পদ: পশ্চিমবঙ্গে সুলভে প্রচুর ইংরেজি জানা দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার ও প্রযুক্তিবিদ পাওয়া যায়।
  • পরিকাঠামো: সল্টলেক সেক্টর-৫ এবং রাজারহাটে উন্নত আইটি পার্ক, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটের সুব্যবস্থা রয়েছে।
  • সরকারি উদ্যোগ: রাজ্য সরকার সহজ শর্তে জমি ও কর ছাড় দিয়ে বিনিয়োগ টানছে।
  • বসবাসের খরচ কম: বেঙ্গালুরু বা মুম্বাইয়ের তুলনায় কলকাতায় জীবনযাত্রার খরচ কম।

২৫. পশ্চিমবঙ্গের জনঘনত্ব অত্যধিক হওয়ার কারণ কী?

বিস্তারিত উত্তর
  • উর্বর জমি: গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের উর্বর পলিমাটি কৃষিকাজের পক্ষে আদর্শ, তাই প্রাচীনকাল থেকে জনবসতি ঘন।
  • সমতল ভূমি: রাজ্যের অধিকাংশ স্থান সমতল হওয়ায় যাতায়াত ও বসবাস সহজ।
  • শিল্পায়ন: কলকাতা, হুগলি ও দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে প্রচুর কর্মসংস্থানের টানে মানুষ ভিড় করেছে।
  • উদ্বাস্তু আগমন: দেশভাগের সময় পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ এখানে এসে বসতি গড়েছে।

২৬. খড়গপুর আইআইটি (IIT)-র গুরুত্ব কী? (Bonus)

বিস্তারিত উত্তর
১৯৫১ সালে স্থাপিত খড়গপুর আইআইটি হলো ভারতের প্রথম এবং অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রযুক্তিবিদ্যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটি বিশ্বমানের ইঞ্জিনিয়ার ও গবেষক তৈরি করে দেশের প্রযুক্তিগত উন্নয়নে বিশাল অবদান রাখছে। এটি ‘জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান’ (Institute of National Importance)।

২৭. সামাজিক বনসৃজনের (Social Forestry) উদ্দেশ্য কী? (Bonus)

বিস্তারিত উত্তর
  • পরিবেশ রক্ষা: গাছ লাগিয়ে দূষণ কমানো ও ভূমিক্ষয় রোধ করা।
  • জ্বালানি ও কাঠ: গ্রামের মানুষের জন্য জ্বালানি কাঠ ও আসবাবের কাঠের জোগান দেওয়া।
  • কর্মসংস্থান: গ্রামের বেকার যুবক-যুবতীদের বনসৃজন প্রকল্পে কাজে লাগানো।
  • অব্যবহৃত জমির ব্যবহার: রাস্তার ধার বা পতিত জমিকে কাজে লাগানো।

২৮. কলকাতা বন্দরের সমস্যাগুলি কী কী? (Bonus)

বিস্তারিত উত্তর
  • নাব্যতার অভাব: হুগলি নদীতে পলি জমে গভীরতা কমে যাওয়ায় বড় জাহাজ সরাসরি বন্দরে ঢুকতে পারে না।
  • জোয়ার নির্ভরতা: জাহাজ চলাচলের জন্য জোয়ারের জলের ওপর নির্ভর করতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ।
  • বাঁক: নদীপথে অসংখ্য বাঁক থাকায় জাহাজ চলাচলে অসুবিধা হয়।

২৯. সুন্দরবন অঞ্চলের নদীগুলোতে বাঁধ দেওয়া সমস্যা কেন? (Bonus)

বিস্তারিত উত্তর
সুন্দরবনের মাটি খুব নরম, পলিযুক্ত ও কাদাটে। এই নরম মাটিতে শক্ত ও টেকসই বাঁধ তৈরি করা খুব কঠিন। প্রবল জোয়ার বা জলোচ্ছ্বাসে মাটির বাঁধ সহজেই ধসে যায় বা ভেঙে যায়, ফলে নোনা জল ঢুকে চাষের জমি ও বসতি নষ্ট করে।

৩০. পশ্চিমবঙ্গের কোথায় কোথায় রেশম শিল্প গড়ে উঠেছে? (Bonus)

বিস্তারিত উত্তর
পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, মালদা, বাঁকুড়া ও বীরভূম জেলায় রেশম শিল্প উন্নত।

  • মুর্শিদাবাদ: এখানকার বালুচরী শাড়ি বিখ্যাত।
  • মালদা: সুজাপুর ও কালিয়াচক রেশম উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র।
  • বাঁকুড়া: বিষ্ণুপুর সিল্ক শাড়ির জন্য বিখ্যাত।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার