নবম শ্রেণি: ভূগোল, অধ্যায় – 9 মানচিত্র ও স্কেল, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর মান ২

অধ্যায় ৯: সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (মান – ২)

১. মানচিত্র (Map) কাকে বলে?

উত্তর দেখো
নির্দিষ্ট স্কেল ও অভিক্ষেপ অনুসারে পৃথিবীর সমগ্র অংশ বা কোনো নির্দিষ্ট অংশের দ্বিমাত্রিক অংকনকে মানচিত্র বলে। মানচিত্রে বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক উপাদানকে প্রতীক চিহ্নের সাহায্যে দেখানো হয়।

২. মানচিত্রের স্কেল (Map Scale) বলতে কী বোঝো?

উত্তর দেখো
মানচিত্রের ওপর অবস্থিত যে-কোনো দুটি বিন্দুর মধ্যবর্তী দূরত্ব এবং ভূপৃষ্ঠের ওপর অবস্থিত ওই একই দুটি বিন্দুর প্রকৃত দূরত্বের অনুপাতকে মানচিত্রের স্কেল বা মাপনী বলে।

উদাহরণ: ১ সেমি = ১ কিমি।

৩. বিবৃতিমূলক স্কেল (Statement Scale) কাকে বলে?

উত্তর দেখো
যে স্কেলে মানচিত্রের দূরত্ব ও ভূমির দূরত্বের অনুপাতকে ভাষায় বা কথার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়, তাকে বিবৃতিমূলক স্কেল বলে।

উদাহরণ: ‘১ সেন্টিমিটারে ৫ কিলোমিটার’। এখানে সাধারণ মানুষ সহজেই দূরত্ব বুঝতে পারে।

৪. ভগ্নাংশসূচক স্কেল বা R.F. স্কেল (Representative Fraction) কী?

উত্তর দেখো
যে স্কেলে মানচিত্রের দূরত্ব ও ভূমির দূরত্বের অনুপাতকে একটি ভগ্নাংশের আকারে প্রকাশ করা হয় এবং যার লব সর্বদা ১ (এক) হয়, তাকে ভগ্নাংশসূচক স্কেল বলে।

উদাহরণ: ১ : ৫০,০০০ (1:50,000)।

৫. R.F. স্কেলকে ‘আন্তর্জাতিক স্কেল’ বা ‘সার্বজনীন স্কেল’ বলা হয় কেন?

উত্তর দেখো
R.F. স্কেলে কোনো নির্দিষ্ট একক (সেমি বা ইঞ্চি) উল্লেখ থাকে না, এটি শুধুই একটি সংখ্যার অনুপাত। তাই ভাষা বা দেশের এককের বাধা ছাড়াই পৃথিবীর যে-কোনো দেশের মানুষ এই স্কেল ব্যবহার ও বুঝতে পারে। এই সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতার জন্য একে আন্তর্জাতিক স্কেল বলে।

৬. লৈখিক বা রৈখিক স্কেল (Linear Scale) কাকে বলে?

উত্তর দেখো
যে স্কেলে মানচিত্রের দূরত্ব ও ভূমির প্রকৃত দূরত্বের অনুপাতকে একটি সরলরেখাকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে একে দেখানো হয়, তাকে লৈখিক বা রৈখিক স্কেল বলে। এর দুটি ভাগ থাকে—মুখ্য ভাগ ও গৌণ ভাগ।

৭. লৈখিক স্কেলের সুবিধা বা গুরুত্ব কী?

উত্তর দেখো
মানচিত্রকে যখন ফোটোগ্রাফিক পদ্ধতিতে ছোট বা বড় (Reduce or Enlarge) করা হয়, তখন মানচিত্রের আকার বদলানোর সাথে সাথে লৈখিক স্কেলটিও আনুপাতিক হারে ছোট বা বড় হয়ে যায়। ফলে স্কেলের মান বা নির্ভুলতা বজায় থাকে। অন্য কোনো স্কেলে এই সুবিধা নেই।

৮. মৌজা মানচিত্র বা ক্যাডাস্ট্রাল মানচিত্র (Cadastral Map) কী?

উত্তর দেখো
যে বৃহৎ স্কেলের মানচিত্রে কোনো গ্রাম বা শহরের প্রতিটি বাড়ি, জমি বা প্লটের সীমানা এবং মালিকানা নিখুঁতভাবে দেখানো হয়, তাকে মৌজা মানচিত্র বলে। রাজস্ব আদায়ের জন্য সরকার এই মানচিত্র তৈরি করে। এর প্রচলিত স্কেল ১৬ ইঞ্চিতে ১ মাইল।

৯. বিষয়ভিত্তিক মানচিত্র বা থিমেটিক ম্যাপ (Thematic Map) কাকে বলে?

উত্তর দেখো
যে মানচিত্রে একটি নির্দিষ্ট বিষয় বা থিমকে (যেমন—জনসংখ্যা, বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, খনিজ সম্পদ, অরণ্য) রঙের সাহায্যে বা বিশেষ পদ্ধতিতে ফুটিয়ে তোলা হয়, তাকে বিষয়ভিত্তিক মানচিত্র বলে। যেমন—ভারতের জনঘনত্বের মানচিত্র।

১০. ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র বা টোপোগ্রাফিক্যাল ম্যাপ (Topographical Map) কী?

উত্তর দেখো
যে মানচিত্রে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের প্রাকৃতিক উপাদান (যেমন- পাহাড়, নদী, বনভূমি) এবং সাংস্কৃতিক উপাদান (যেমন- রাস্তাঘাট, জনবসতি, রেলপথ) জরিপ কার্যের মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্কেলে ও রং ব্যবহার করে বিস্তারিতভাবে দেখানো হয়, তাকে ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র বলে। ভারতে এটি Survey of India তৈরি করে।

১১. মানচিত্র ও গ্লোবের দুটি প্রধান পার্থক্য লেখো।

উত্তর দেখো
১) মাত্রিকতা: মানচিত্র হলো দ্বিমাত্রিক (2D – দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ আছে), কিন্তু গ্লোব হলো ত্রিমাত্রিক (3D – দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা বা গোলকাকৃতি আছে)।
২) দৃশ্যমানতা: মানচিত্রে পুরো পৃথিবী বা কোনো দেশকে এক নজরে দেখা যায়, কিন্তু গ্লোবে একবারে পৃথিবীর অর্ধেক অংশ দেখা যায়।

১২. মানচিত্র ও নকশা বা স্কেচ (Sketch)-এর পার্থক্য কী?

উত্তর দেখো
১) স্কেল: মানচিত্র নির্দিষ্ট স্কেল মেনে আঁকা হয়, কিন্তু নকশা বা স্কেচ স্কেল ছাড়াই চোখের আন্দাজে আঁকা হয়।
২) নির্ভুলতা: মানচিত্র নিখুঁত ও বিজ্ঞানসম্মত, নকশা কেবল একটি আনুমানিক ধারণা দেয়।

১৩. মানচিত্র অঙ্কনে স্কেলের প্রয়োজনীয়তা বা গুরুত্ব কী?

উত্তর দেখো
বিশাল পৃথিবীকে বা তার কোনো বড় অংশকে হুবহু কাগজের ওপর আঁকা অসম্ভব। তাই স্কেলের সাহায্যে বিশাল দূরত্বকে ছোট করে বা সংকুচিত করে কাগজে আঁকা হয়। স্কেল ছাড়া মানচিত্রের দূরত্ব ও প্রকৃত দূরত্বের সম্পর্ক বোঝা অসম্ভব এবং মানচিত্রটি অর্থহীন হয়ে পড়ে।

১৪. বৃহৎ স্কেলের মানচিত্র ও ক্ষুদ্র স্কেলের মানচিত্রের উদাহরণসহ পার্থক্য লেখো।

উত্তর দেখো
  • বৃহৎ স্কেল: যখন ছোট জায়গাকে অনেক বড় করে ও বিস্তারিতভাবে দেখানো হয় (যেমন- মৌজা মানচিত্র)। এর R.F. বড় হয় (যেমন- ১:৫০০০)।
  • ক্ষুদ্র স্কেল: যখন বিশাল জায়গাকে খুব ছোট করে দেখানো হয় (যেমন- দেয়াল মানচিত্র বা অ্যাটলাস)। এর R.F. ছোট হয় (যেমন- ১:১,০০,০০,০০০)।

১৫. ডায়াগোনাল স্কেল (Diagonal Scale) কী?

উত্তর দেখো
যে রৈখিক স্কেলের সাহায্যে কর্ণের ধর্মকে কাজে লাগিয়ে মূল এককের শতাংশ বা দশমিক বিন্দুর পর দুই ঘর পর্যন্ত বা তিনটি একক (যেমন- মিটার, ডেসিমিটার, সেন্টিমিটার) একসাথে নির্ভুলভাবে মাপা যায়, তাকে ডায়াগোনাল স্কেল বলে।

অধ্যায় ৯: ১০০% প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত প্রশ্ন (Bonus SAQ)

১৬. মানচিত্রের গুরুত্ব বা ব্যবহার উল্লেখ করো।

উত্তর দেখো
১) অবস্থান নির্ণয়: পৃথিবীর যে-কোনো স্থানের সঠিক অবস্থান, দূরত্ব ও দিক নির্ণয় করতে মানচিত্র অপরিহার্য।
২) পরিকল্পনা: দেশের প্রতিরক্ষা, নগর পরিকল্পনা, রাস্তাঘাট নির্মাণ এবং পর্যটনের জন্য মানচিত্রের ব্যবহার খুব গুরুত্বপূর্ণ।

১৭. প্রচলিত প্রতীক চিহ্ন (Conventional Signs) বলতে কী বোঝো?

উত্তর দেখো
মানচিত্রে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রাকৃতিক (যেমন- পাহাড়, নদী) ও সাংস্কৃতিক (যেমন- মন্দির, মসজিদ, রেলপথ) উপাদানগুলিকে বোঝানোর জন্য যে সমস্ত সর্বজনগ্রাহ্য রং, রেখা বা চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, তাদের প্রচলিত প্রতীক চিহ্ন বলে। যেমন—নীল রং দিয়ে জলাশয় বোঝানো হয়।

১৮. সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (Survey of India) এবং ন্যাটমো (NATMO)-র কাজ কী?

উত্তর দেখো
  • Survey of India (SOI): ভারতের সমগ্র এলাকা জরিপ করা এবং টোপোগ্রাফিক্যাল মানচিত্র বা ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র প্রস্তুত করা।
  • NATMO: বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে বিষয়ভিত্তিক মানচিত্র বা থিমেটিক ম্যাপ (যেমন- কৃষি, শিল্প, জনসংখ্যা) এবং অ্যাটলাস তৈরি করা।

১৯. বিবৃতিমূলক স্কেল থেকে R.F. স্কেলে রূপান্তরের নিয়ম কী?

উত্তর দেখো
বিবৃতিমূলক স্কেলকে R.F.-এ নিতে হলে:
১) মানচিত্রের দূরত্ব ও ভূমির দূরত্ব উভয়কেই একই এককে (সাধারণত সেমি বা ইঞ্চিতে) নিয়ে আসতে হবে।
২) এরপর লব বা মানচিত্রের দূরত্বকে ‘১’ ধরে অনুপাতটি সাজাতে হবে।

সূত্র: $$R.F. = \frac{\text{মানচিত্রের দূরত্ব}}{\text{ভূমির দূরত্ব}}$$

২০. প্ল্যান (Plan) ও ম্যাপ (Map)-এর মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর দেখো
১) এলাকা: প্ল্যান খুব ছোট এলাকার (যেমন- একটি বাড়ি বা স্কুল) আঁকা হয়। ম্যাপ বিশাল এলাকার (যেমন- দেশ বা মহাদেশ) আঁকা হয়।
২) স্কেল: প্ল্যান খুব বৃহৎ স্কেলে আঁকা হয় (যেমন- ১ সেমি = ১ মিটার)। ম্যাপ তুলনামূলক ক্ষুদ্র স্কেলে আঁকা হয়।

২১. উত্তর রেখা (North Line) বা নির্দেশিকা রেখা কী?

উত্তর দেখো
মানচিত্রের ওপরের ডানদিকের কোণে একটি তিরচিহ্ন বা রেখা আঁকা থাকে, যার মাথায় ‘N’ বা ‘উ’ লেখা থাকে। এটি মানচিত্রের উত্তর দিক নির্দেশ করে, যাতে বাকি দিকগুলো (দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম) সহজেই বোঝা যায়। একে উত্তর রেখা বলে।

২২. রোটামিটার ও প্ল্যানিমিটার যন্ত্রের কাজ কী?

উত্তর দেখো
  • রোটামিটার (Rotameter): মানচিত্রে আঁকাবাঁকা পথের (যেমন- নদী বা রাস্তা) দূরত্ব মাপার জন্য ব্যবহৃত হয়।
  • প্ল্যানিমিটার (Planimeter): মানচিত্রে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের ক্ষেত্রফল বা আয়তন (Area) মাপার জন্য ব্যবহৃত হয়।

২৩. মানচিত্রের সূচক বা লেজেন্ড (Index/Legend) কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর দেখো
মানচিত্রে ব্যবহৃত বিভিন্ন রং, রেখা ও প্রতীক চিহ্নের অর্থ মানচিত্রের নিচে বা পাশে একটি বক্সে তালিকা করে দেওয়া থাকে। এই তালিকাকেই সূচক বলে। সূচক ছাড়া মানচিত্রের সাংকেতিক ভাষা বা বিষয়বস্তু বোঝা অসম্ভব।

২৪. বিবৃতিমূলক স্কেলের একটি সুবিধা ও একটি অসুবিধা লেখো।

উত্তর দেখো
  • সুবিধা: সাধারণ মানুষ সহজেই বুঝতে পারে (যেমন- ১ কিমি)।
  • অসুবিধা: এক দেশের একক (যেমন- মাইল) অন্য দেশের মানুষ বুঝতে পারে না, তাই এটি সার্বজনীন নয়।

২৫. ভগ্নাংশসূচক স্কেলের (R.F.) একটি সুবিধা ও একটি অসুবিধা লেখো।

উত্তর দেখো
  • সুবিধা: এটি এককহীন এবং আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য। যে কেউ নিজের দেশের এককে এটি বসিয়ে নিতে পারে।
  • অসুবিধা: সাধারণ মানুষের পক্ষে এই আনুপাতিক সংখ্যা দেখে দূরত্ব বোঝা কঠিন।

২৬. টোপোগ্রাফিক্যাল মানচিত্রের দুটি ব্যবহার লেখো।

উত্তর দেখো
১) সামরিক কাজ: দেশের প্রতিরক্ষা ও যুদ্ধের পরিকল্পনার জন্য এই মানচিত্র অপরিহার্য।
২) উন্নয়নমূলক কাজ: রাস্তাঘাট, বাঁধ নির্মাণ বা নগর পরিকল্পনার জন্য এই মানচিত্র ব্যবহৃত হয়।

২৭. রাজনৈতিক মানচিত্র ও প্রাকৃতিক মানচিত্রের পার্থক্য কী?

উত্তর দেখো
  • রাজনৈতিক মানচিত্র: এতে দেশ, রাজ্য, জেলা বা মহকুমারের প্রশাসনিক সীমানা দেখানো হয়।
  • প্রাকৃতিক মানচিত্র: এতে পাহাড়, পর্বত, নদী, মালভূমি বা সমভূমির মতো প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য দেখানো হয়।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার