অষ্টম শ্রেণী: পরিবেশ ও বিজ্ঞান, অধ্যায় – 5 প্রাকৃতিক ঘটনা ও তার বিশ্লেষণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর মান ২

অধ্যায় 5: প্রাকৃতিক ঘটনা ও তার বিশ্লেষণ
(সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর – 2 নম্বর)

1. ঘর্ষণের ফলে কীভাবে স্থিরতড়িৎ উৎপন্ন হয়?

উত্তর দেখো

উত্তর: দুটি উপযুক্ত বস্তুকে পরস্পরের সাথে ঘষলে তাদের মধ্যে ইলেকট্রন কণার আদান-প্রদান ঘটে। যে বস্তু থেকে ইলেকট্রন বেরিয়ে যায়, সেটি ধনাত্মক (Positive) আধানে আহিত হয়। অন্যদিকে, যে বস্তুটি ওই ইলেকট্রন গ্রহণ করে, সেটি ঋণাত্মক (Negative) আধানে আহিত হয়। এইভাবেই ঘর্ষণের ফলে স্থিরতড়িৎ উৎপন্ন হয়।

2. আকর্ষণ নয়, বিকর্ষণই তড়িৎগ্রস্ততার নিশ্চিত প্রমাণ—ব্যাখ্যা করো।

উত্তর দেখো

উত্তর: একটি আহিত বস্তু (যেমন পজিটিভ) একটি বিপরীত আধানে আহিত বস্তুকে (নেগেটিভ) আকর্ষণ করতে পারে, আবার একটি নিস্তরিৎ বস্তুকেও আবেশের মাধ্যমে আকর্ষণ করতে পারে। তাই শুধু আকর্ষণ দেখে বোঝা যায় না বস্তুটি আগে থেকেই আহিত কি না। কিন্তু, বিকর্ষণ কেবল দুটি সমজাতীয় আধানে আহিত বস্তুর মধ্যেই ঘটে। তাই বিকর্ষণ ঘটলেই নিশ্চিত হওয়া যায় যে দুটি বস্তুই আহিত।

[Image demonstrating electrostatic induction where a charged rod creates opposite charge on the near side of a neutral sphere]

3. স্থিরতড়িৎ আবেশ (Electrostatic induction) বলতে কী বোঝো?

উত্তর দেখো

উত্তর: একটি আহিত বস্তুকে কোনো নিস্তরিৎ পরিবাহীর কাছাকাছি আনলে (স্পর্শ না করিয়ে), নিস্তরিৎ পরিবাহীর নিকটবর্তী প্রান্তে বিপরীত প্রকৃতির আধান এবং দূরবর্তী প্রান্তে সমপ্রকৃতির আধান সাময়িকভাবে সঞ্চিত হয়। স্পর্শ না করে কেবল কাছাকাছি এনে আধান সৃষ্টির এই ঘটনাকেই স্থিরতড়িৎ আবেশ বলে।

4. আর্থিং (Earthing) কী? এটি কেন করা হয়?

উত্তর দেখো

উত্তর: সংজ্ঞা: কোনো আহিত বস্তুকে পরিবাহী তারের সাহায্যে মাটির (পৃথিবীর) সাথে যুক্ত করে তার সম্পূর্ণ আধান মাটিতে পাঠিয়ে বস্তুকে নিস্তরিৎ করার পদ্ধতিকে আর্থিং বলে।
কারণ: বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির বাইরের ধাতব আবরণে কোনো কারণে বিদ্যুৎ চলে এলে তা যাতে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে প্রাণঘাতী শকের সৃষ্টি করতে না পারে, তার জন্য সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আর্থিং করা হয়।

[Image showing separation of positive and negative charges in a storm cloud leading to lightning]

5. আকাশে বজ্রপাত (Lightning) কীভাবে সৃষ্টি হয়?

উত্তর দেখো

উত্তর: ঝড়ের সময় বাতাসের প্রবল ঊর্ধ্বমুখী এবং নিম্নমুখী প্রবাহের কারণে মেঘের জলকণা ও বরফকণার মধ্যে তীব্র ঘর্ষণ হয়। এর ফলে মেঘের ওপরের অংশে ধনাত্মক (+) এবং নিচের অংশে ঋণাত্মক (-) আধান প্রচুর পরিমাণে জমা হয়। এই বিপুল পরিমাণ আধান যখন মেঘ থেকে মেঘে বা মেঘ থেকে মাটিতে তীব্র বেগে ছুটে যায়, তখন বাতাস প্রচণ্ড গরম হয়ে উজ্জ্বল আলোর ঝলকানি ও শব্দের সৃষ্টি করে, একেই বজ্রপাত বলে।

6. বিদ্যুৎ চমকানোর কিছুক্ষণ পর মেঘের গর্জন শোনা যায় কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: আকাশে বজ্রপাতের সময় আলো এবং শব্দ একই সঙ্গে উৎপন্ন হয়। কিন্তু আলোর গতিবেগ (সেকেন্ডে প্রায় 3 লক্ষ কিলোমিটার) শব্দের গতিবেগের (সেকেন্ডে প্রায় 340 মিটার) চেয়ে অনেক অনেক বেশি। তাই বিদ্যুৎ চমকানোর আলো আমাদের চোখে প্রায় সঙ্গে সঙ্গে পৌঁছালেও, শব্দ কানে এসে পৌঁছাতে একটু বেশি সময় লাগে।

[Image illustrating how a lightning conductor provides a safe path for lightning current to reach the ground]

7. বজ্রবহ (Lightning conductor) কী? এর প্রধান কাজ কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: বজ্রবহ: এটি হলো তামা বা অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি একটি মোটা পরিবাহী দণ্ড, যার ওপরের দিকে তীক্ষ্ণ কাঁটা থাকে এবং এটি বাড়ির সবচেয়ে উঁচু স্থানে বসিয়ে নিচের অংশ মাটির গভীরে তামার পাতের সাথে যুক্ত করা হয়।
কাজ: এর প্রধান কাজ হলো বজ্রপাতের সময় মেঘ থেকে আসা বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎকে বাড়ির কোনো ক্ষতি না করে নিরাপদে মাটির ভেতরে (আর্থিং) পৌঁছে দেওয়া।

8. বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়স্থল কোনগুলি এবং কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: বজ্রপাতের সময় সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হলো পাকা বাড়ির ভেতর অথবা চারদিক বন্ধ থাকা গাড়ির ভেতর। কারণ পাকা বাড়িতে বজ্রবহ লাগানো থাকতে পারে যা বিদ্যুৎকে মাটিতে পাঠিয়ে দেয়। আর গাড়ির ধাতব আবরণ একটি পরিবাহী খোলকের মতো কাজ করে, ফলে বিদ্যুৎ গাড়ির বাইরের আবরণ দিয়ে মাটিতে চলে যায়, ভেতরের যাত্রীদের কোনো ক্ষতি হয় না (একে ফ্যারাডের খাঁচা বা Faraday cage প্রভাব বলে)।

15. ভূমিকম্পের সময় তুমি যদি বাড়ির ভেতরে থাকো, তবে আত্মরক্ষার জন্য কী কী সতর্কতা অবলম্বন করবে?

উত্তর দেখো

উত্তর:
1. ভয় না পেয়ে অবিলম্বে কোনো শক্ত টেবিল, খাট বা ডেস্কের নিচে আশ্রয় নিতে হবে, যাতে ছাদ থেকে কিছু ভেঙে মাথার ওপর না পড়ে।
2. কাঁচের জানালা, আলমারি, আয়না বা ভারী আসবাবপত্র থেকে দূরে থাকতে হবে।
3. লিফট ব্যবহার করা একেবারেই উচিত নয়, সম্ভব হলে সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত ফাঁকা জায়গায় বেরিয়ে আসতে হবে।


অধ্যায় 5: প্রাকৃতিক ঘটনা ও তার বিশ্লেষণ
(আরও 5টি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োগমূলক সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন)

16. শীতকালে সিন্থেটিক বা উলের সোয়েটার খোলার সময় চড়চড় শব্দ হয় এবং অন্ধকারে হালকা স্ফুলিঙ্গ দেখা যায় কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: শীতকালে বাতাস শুষ্ক থাকে। সোয়েটার খোলার সময় আমাদের শরীরের বা ভেতরের জামার সাথে উলের বা সিন্থেটিক কাপড়ের ঘর্ষণ হয়। এই ঘর্ষণের ফলে স্থিরতড়িৎ উৎপন্ন হয়। উৎপন্ন বিপরীত আধানের আকর্ষণে যখন আধানের দ্রুত আদান-প্রদান ঘটে, তখন বাতাসের অণুগুলি উদ্দীপিত হয়ে এই চড়চড় শব্দ তৈরি করে এবং অন্ধকারে হালকা আলোর স্ফুলিঙ্গ (Spark) দেখা যায়।

[Image showing a person carrying an umbrella with a metal tip during a lightning storm, depicting danger]

17. বজ্রপাতের সময় ধাতব হাতলযুক্ত ছাতা ব্যবহার করা বিপজ্জনক কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: বজ্রপাতের সময় মেঘ থেকে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসে। ছাতার ধাতব হাতল ও ডাঁটি বিদ্যুতের খুব ভালো সুপরিবাহী এবং ছাতাটি মাথার ওপরে উঁচু হয়ে থাকে। তাই বজ্রপাতের বিদ্যুৎ ছাতার ধাতব দণ্ড দিয়ে সহজেই মানুষের শরীরে প্রবেশ করে মারাত্মক প্রাণঘাতী শক দিতে পারে। এই কারণেই বজ্রপাতের সময় ধাতব হাতলের ছাতা ব্যবহার করা বিপজ্জনক।

18. পেট্রোল বা দাহ্য পদার্থ বহনকারী ট্রাকের পেছনে একটি ধাতব শিকল সবসময় মাটি ছুঁয়ে ঝুলতে থাকে কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: ট্রাক দ্রুতগতিতে চলার সময় বাতাসের সাথে ট্রাকের বডির এবং ভেতরের তেলের সাথে ট্যাংকারের দেয়ালের ঘর্ষণের ফলে প্রচুর স্থিরতড়িৎ উৎপন্ন হয়। এই জমে থাকা আধান থেকে স্ফুলিঙ্গ তৈরি হয়ে পেট্রোলে আগুন লেগে যাওয়ার ভয় থাকে। তাই ট্রাকের পেছনে একটি ধাতব শিকল মাটি ছুঁয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়, যাতে উৎপন্ন আধান ওই পরিবাহী শিকল দিয়ে সাথে সাথে মাটিতে (Earthing) চলে যায় এবং বিপদের ঝুঁকি না থাকে।

19. বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সময় বাড়িতে তারযুক্ত ল্যান্ডলাইন ফোনে কথা বলা বা প্লাগ-ইন করা টিভি/কম্পিউটার চালানো উচিত নয় কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: বজ্রপাতের সময় মেঘ থেকে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ টেলিফোনের তার, ডিশের তার বা ইলেকট্রিক তারের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে ঘরের ভেতরের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে চলে আসতে পারে। এই সময় ল্যান্ডলাইন ফোনে কথা বললে বা টিভি/কম্পিউটার চালালে ব্যবহারকারী মারাত্মক বৈদ্যুতিক শক খেতে পারেন এবং উচ্চ ভোল্টেজের কারণে যন্ত্রপাতিগুলোও পুড়ে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

20. ভূমিকম্পের সময় তুমি যদি খোলা রাস্তায় কোনো চলন্ত গাড়িতে থাকো, তবে আত্মরক্ষার জন্য তোমার কী করা উচিত?

উত্তর দেখো

উত্তর: ভূমিকম্পের সময় চলন্ত গাড়িতে থাকলে গাড়িটি ধীরে ধীরে রাস্তার একপাশে (যেখানে কোনো উঁচু বাড়ি, বড় গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি বা ফ্লাইওভার নেই) দাঁড় করিয়ে দেওয়া উচিত। এরপর ভূমিকম্প না থামা পর্যন্ত গাড়ির ভেতরেই বসে থাকা সবচেয়ে নিরাপদ, কারণ গাড়ির ছাদ সরাসরি মাথার ওপর কিছু ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করে।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার