অষ্টম শ্রেণী: পরিবেশ ও বিজ্ঞান, অধ্যায় – 8 মানুষের খাদ্য ও খাদ্য উৎপাদন, ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর মান 3 এবং 5

অধ্যায় 8: মানুষের খাদ্য ও খাদ্য উৎপাদন
(12টি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর – 3 বা 5 নম্বর)

[Image showing the step-by-step agricultural practices from ploughing to harvesting]

1. কৃষিকাজের প্রধান ধাপগুলি পর্যায়ক্রমে আলোচনা করো।

উত্তর দেখো

উত্তর: একটি ফসল উৎপাদন করতে কৃষকদের পর্যায়ক্রমে যে কাজগুলি করতে হয়, সেগুলি হলো:
1. মাটি প্রস্তুতকরণ (Preparation of soil): লাঙল বা ট্রাক্টরের সাহায্যে মাটি কর্ষণ করে মাটিকে আলগা ও ঝুরঝুরে করা হয়।
2. বীজ বপন (Sowing): সুস্থ ও উন্নত মানের বীজ নির্বাচন করে সঠিক গভীরতায় ও নির্দিষ্ট দূরত্বে বীজ বোনা হয়।
3. সার প্রয়োগ (Adding Manure and Fertilizers): মাটির হারানো পুষ্টি ফিরিয়ে আনতে জৈব বা রাসায়নিক সার প্রয়োগ করা হয়।
4. জলসেচ (Irrigation): ফসলের প্রয়োজন অনুযায়ী কৃত্রিম উপায়ে নির্দিষ্ট সময়ে জমিতে জল দেওয়া হয়।
5. আগাছা দমন (Weeding): মূল ফসলের বৃদ্ধি স্বাভাবিক রাখতে নিড়ানি বা রাসায়নিকের সাহায্যে অবাঞ্ছিত উদ্ভিদ তুলে ফেলা হয়।
6. ফসল তোলা (Harvesting): ফসল পেকে গেলে তা কাটা হয় এবং মাড়াই (Threshing) করে শস্যদানা আলাদা করা হয়।
7. সঞ্চয় (Storage): শস্যদানা রোদে শুকিয়ে সাইলোগার বা শস্যাগারে বিজ্ঞানসম্মতভাবে মজুত করা হয়।

2. জৈব সার (Organic manure) এবং রাসায়নিক সারের (Chemical fertilizer) মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য লেখো। কৃষিকাজে জৈব সার ব্যবহার করা বেশি ভালো কেন?

উত্তর দেখো
উত্তর:

পার্থক্যর বিষয় জৈব সার রাসায়নিক সার
১. প্রকৃতি ও উৎস এটি প্রাকৃতিক উপাদান (উদ্ভিদ ও প্রাণীর বর্জ্য) পচিয়ে তৈরি হয়। এটি কারখানায় রাসায়নিক উপাদানের সাহায্যে তৈরি কৃত্রিম সার।
২. মাটির গঠন মাটির জল ধারণ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মাটিকে ঝুরঝুরে করে। দীর্ঘদিন ব্যবহারে মাটির স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হতে পারে।
৩. পরিবেশ দূষণ পরিবেশের কোনো দূষণ ঘটায় না। বৃষ্টির জলে ধুয়ে পুকুরে পড়লে জল দূষণ ঘটাতে পারে।

জৈব সারের সুবিধা: এটি মাটিতে উপকারী জীবাণুর সংখ্যা বাড়ায়, মাটির রন্ধ্রতা বৃদ্ধি করে বাতাস চলাচলে সাহায্য করে এবং পরিবেশের কোনো ক্ষতি করে না বলে এটি রাসায়নিক সারের চেয়ে বেশি উপকারী।

3. আধুনিক জলসেচের ফোয়ারা সেচ (Sprinkler) এবং বিন্দু সেচ (Drip irrigation) ব্যবস্থা সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উত্তর দেখো

উত্তর: জলের অপচয় রোধ করার জন্য আধুনিক কৃষিকাজে এই দুটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়:
1. ফোয়ারা সেচ (Sprinkler System): এই পদ্ধতিতে লম্বা পাইপের মাথায় ঘূর্ণায়মান নজেল লাগানো থাকে। পাম্পের সাহায্যে জোরে জল পাঠালে সেই জল নজেলের সাহায্যে বৃষ্টির মতো চারপাশের ফসলের ওপর ছড়িয়ে পড়ে। উঁচু-নিচু বা অসমতল জমিতে এই সেচ খুব কার্যকর।
2. বিন্দু সেচ (Drip Irrigation System): এই ব্যবস্থায় পাইপের গায়ে ছোট ছোট ছিদ্র থাকে, যার মাধ্যমে জল সরাসরি বিন্দু বিন্দু আকারে বা ফোঁটায় ফোঁটায় গাছের একেবারে গোড়ায় পড়ে। এর ফলে জলের একটুও অপচয় হয় না। যেসব অঞ্চলে জলের খুব অভাব, সেখানে এটি একটি আশীর্বাদস্বরূপ।

4. জৈব দমন পদ্ধতি (Biological control) বলতে কী বোঝো? রাসায়নিক আগাছানাশক বা কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষতিকর দিকগুলি কী কী?

উত্তর দেখো

উত্তর:
জৈব দমন পদ্ধতি: ক্ষতিকারক রাসায়নিক বিষ ব্যবহার না করে, প্রকৃতিতে থাকা এক ধরনের প্রাণী বা পরজীবী পোকামাকড় দিয়ে যখন ফসলের ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গ বা আগাছাকে মেরে ফেলা হয় বা দমন করা হয়, তখন তাকে জৈব দমন পদ্ধতি বলে। (যেমন- এক বিশেষ ধরনের মথ দিয়ে ক্যাকটাস জাতীয় আগাছা দমন করা)।
রাসায়নিক কীটনাশকের ক্ষতিকর দিক:
1. এগুলি খাদ্যের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে নানা রকম জটিল রোগ সৃষ্টি করতে পারে।
2. বৃষ্টির জলের সাথে ধুয়ে পুকুর বা নদীতে মিশলে জল দূষণ হয় এবং মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটতে পারে।
3. ক্ষতিকারক পোকা মারার সাথে সাথে অনেক উপকারী কীটপতঙ্গও (যেমন- মৌমাছি) মারা যায়।

5. ধান চাষের ক্ষেত্রে বীজতলা তৈরি (Seedbed preparation) এবং চারা রোপণ পদ্ধতির (Transplantation) বর্ণনা দাও।

উত্তর দেখো

উত্তর:
বীজতলা তৈরি: ধান চাষে সরাসরি বড় মাঠে বীজ না ছড়িয়ে, প্রথমে একটি ছোট জমিতে খুব ভালোভাবে কর্ষণ করে ও সার দিয়ে কাদা তৈরি করা হয়। একেই বীজতলা বলে। এখানে উন্নত মানের ধানের বীজ ঘন করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। 20 থেকে 30 দিন পর এই বীজগুলো থেকে ছোট ছোট সুস্থ ও সতেজ চারাগাছ তৈরি হয়।
চারা রোপণ: বীজতলা থেকে সুস্থ চারাগাছগুলিকে সাবধানে তুলে নিয়ে আসা হয়। এরপর মূল জমিটিকে জল ও লাঙল দিয়ে কাদা কাদা করে প্রস্তুত করা হয় এবং সেই মূল জমিতে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে চারাগাছগুলিকে সারিবদ্ধভাবে পুঁতে দেওয়া হয়। একেই চারা রোপণ বলে। এতে ফলন অনেক বেশি হয়।

[Image demonstrating the steps of Grafting in a Mango tree with stock and scion]

6. আমের জোড়কলম বা গ্রাফটিং (Grafting) পদ্ধতিটি কীভাবে সম্পন্ন করা হয় তা বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর দেখো

উত্তর: গ্রাফটিং হলো কৃত্রিম অঙ্গজ জননের একটি উন্নত পদ্ধতি। এর ধাপগুলি হলো:
1. স্টক ও সিয়ন নির্বাচন: একটি দেশি, মজবুত ও রোগ প্রতিরোধী গাছের মূলকাণ্ড নেওয়া হয়, যাকে স্টক বলে। আর একটি খুব উন্নত, মিষ্টি ও বেশি ফলনশীল জাতের আমের ডাল নেওয়া হয়, যাকে সিয়ন বলে।
2. কাটা ও জোড়া লাগানো: স্টক ও সিয়নের ডাল দুটিকে তেরছা করে এমনভাবে কাটা হয় যাতে তারা একে অপরের সাথে খাপে খাপে বসে যায়।
3. বাঁধা: কাটা অংশ দুটিকে একসাথে জুড়ে দিয়ে তার ওপর দড়ি বা টেপ দিয়ে শক্ত করে বেঁধে দেওয়া হয়। খেয়াল রাখা হয় যেন উভয়ের ক্যাম্বিয়াম কলা একসাথে মিশে যায়।
4. কয়েকদিনের মধ্যে ওই কাটা অংশ দুটি জুড়ে গিয়ে একটি সম্পূর্ণ নতুন গাছ তৈরি করে এবং ডালপালা ছড়াতে শুরু করে। এতে খুব কম সময়ে উন্নত মানের আম পাওয়া যায়।

7. চা পাতা প্রক্রিয়াকরণ করে কীভাবে ব্যবহারযোগ্য চা তৈরি করা হয় তার প্রধান ধাপগুলি লেখো।

উত্তর দেখো

উত্তর: বাগান থেকে ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’ তোলার পর কারখানায় নিচের ধাপগুলির মাধ্যমে চা প্রস্তুত করা হয়:
1. শুকানো (Withering): প্রথমে পাতাগুলিকে গরম বাতাসে ছড়িয়ে দিয়ে পাতার ভেতরের জলীয় অংশ শুকিয়ে পাতাগুলিকে নরম করা হয়।
2. দুমড়ানো ও কাটা (Rolling and Cutting): বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে পাতাগুলিকে দুমড়ে-মুচড়ে ছোট ছোট টুকরো করা হয়। এর ফলে পাতার ভেতরের রস বাইরে বেরিয়ে আসে। (CTC পদ্ধতিতে পাতাগুলি ছোট দানা বা গুঁড়ো করা হয়)।
3. সন্ধান বা গাঁজন (Fermentation): কাটা পাতাগুলিকে আর্দ্র ও ঠান্ডা ঘরে কিছুক্ষণ রেখে দেওয়া হয়। এর ফলে পাতার রং সবুজ থেকে তামাটে কালো হয়ে যায় এবং চায়ের আসল স্বাদ ও গন্ধ তৈরি হয়।
4. ভাজা (Drying): এরপর পাতাগুলিকে গরম বাতাসে সেঁকে নেওয়া হয় যাতে আর কোনো আর্দ্রতা না থাকে। তারপর চালুনির সাহায্যে আকার অনুযায়ী ভাগ করে প্যাকেটজাত করা হয়।

8. কার্প (Carp) কাদের বলে? মেজর কার্প ও মাইনর কার্পের তিনটি পার্থক্য উদাহরণসহ লেখো।

উত্তর দেখো
উত্তর: কার্প: যেসব মিষ্টি জলের অস্থিযুক্ত মাছের মাথায় কোনো আঁশ থাকে না, চোয়ালে দাঁত থাকে না, কিন্তু অতিরিক্ত শ্বাসযন্ত্র থাকে না, তাদের কার্প বলে।

বৈশিষ্ট্য মেজর কার্প (Major Carp) মাইনর কার্প (Minor Carp)
১. আকার ও বৃদ্ধি আকারে অনেক বড় হয় এবং খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়। আকারে ছোট হয় এবং বৃদ্ধি খুব ধীর গতিতে হয়।
২. বাণিজ্যিক গুরুত্ব বাজারে চাহিদা ও দাম বেশি, তাই বাণিজ্যিক চাষ লাভজনক। বাণিজ্যিক চাহিদা ও দাম মেজর কার্পের তুলনায় কম।
৩. উদাহরণ রুই, কাতলা, মৃগেল। বাটা, পুঁটি।

[Image showing Induced breeding process: injecting pituitary extract to a fish]

9. মাছের প্রণোদিত প্রজনন (Induced breeding) পদ্ধতির সুবিধাগুলি কী কী? এই পদ্ধতিতে পিটুইটারি গ্রন্থির ভূমিকা কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: সুবিধা:
1. প্রাকৃতিক উপায়ে নদী থেকে সংগ্রহ করা মাছের ডিমে অনেক রাক্ষুসে মাছের ডিম মিশে থাকার ভয় থাকে, কিন্তু প্রণোদিত প্রজননে সম্পূর্ণ খাঁটি এবং বিশুদ্ধ ডিমপোনা পাওয়া যায়।
2. নিজের পছন্দমতো উন্নত জাতের সুস্থ-সবল মাছ বেছে নিয়ে এই প্রজনন ঘটানো যায়।
3. যেকোনো সময় কৃত্রিমভাবে এই প্রজনন ঘটিয়ে প্রচুর পোনা মাছ উৎপাদন করা সম্ভব।
পিটুইটারি গ্রন্থির ভূমিকা: মাছের পিটুইটারি গ্রন্থির নির্যাস থেকে বিশেষ হরমোন পাওয়া যায়। এই হরমোন মাছের শরীরে ইনজেকশন হিসেবে প্রবেশ করালে তা মাছের জনন গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে। এর প্রভাবেই স্ত্রী মাছ সময়মতো ডিম পাড়তে এবং পুরুষ মাছ শুক্রাণু ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।

10. মিশ্র চাষ (Composite fish culture) পদ্ধতিতে রুই, কাতলা এবং মৃগেল মাছকে কেন একসাথে চাষ করা হয় তা বিজ্ঞানসম্মতভাবে ব্যাখ্যা করো।

উত্তর দেখো

উত্তর: এই তিন প্রজাতির মাছকে একসাথে চাষ করার প্রধান বৈজ্ঞানিক কারণ হলো এদের খাদ্যাভ্যাস সম্পূর্ণ আলাদা। এরা পুকুরের আলাদা আলাদা স্তর থেকে খাবার খায়, ফলে এদের মধ্যে খাদ্যের কোনো অভাব বা প্রতিযোগিতা হয় না।
1. কাতলা মাছ (Surface feeder): এরা জলের একেবারে ওপরের স্তর থেকে ক্ষুদ্র উদ্ভিদকণা (ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন) ও প্রাণীকণা খায়।
2. রুই মাছ (Column feeder): এরা জলের মাঝখানের স্তর থেকে ক্ষুদ্র প্রাণীকণা (জুপ্ল্যাঙ্কটন) এবং পচা গলিত জৈব পদার্থ খায়।
3. মৃগেল মাছ (Bottom feeder): এরা পুকুরের একেবারে নিচের স্তর বা কাদার মধ্যে থাকা জৈব পদার্থ, কীটপতঙ্গ এবং শামুক-ঝিনুক খায়।
খাদ্যের স্তর আলাদা হওয়ার কারণে পুকুরের সব স্তরের প্রাকৃতিক খাদ্যের পুরোপুরি ব্যবহার হয় এবং অল্প জায়গায় অনেক বেশি মাছের উৎপাদন পাওয়া যায়।

11. পোলট্রিতে মুরগি পালনের আধুনিক ‘ডিপ লিটার’ (Deep litter) পদ্ধতিটি কীভাবে তৈরি করা হয় তা বর্ণনা করো।

উত্তর দেখো

উত্তর: ডিপ লিটার হলো মুরগিদের বিজ্ঞানসম্মতভাবে মেঝেতে পালন করার একটি স্বাস্থ্যকর ব্যবস্থা। এটি তৈরির ধাপগুলি হলো:
1. উপাদান: প্রথমে একটি ভালোভাবে বাতাস চলাচল করতে পারে এমন ঘরের পাকা মেঝেতে ছোট করে কাটা খড়, কাঠের গুঁড়ো (Sawdust), শুকনো পাতা, তুলোর বীজ বা ধানের তুষ বিছিয়ে দেওয়া হয়।
2. পুরুত্ব: এই বিছানাটি ধীরে ধীরে পুরু করা হয়। এটি সাধারণত কয়েক ইঞ্চি পুরু একটি নরম গদির মতো হয়, একেই লিটার (Litter) বলে।
3. পরিচর্যা: মুরগিরা এই লিটারের ওপর স্বাধীনভাবে ঘোরাফেরা করে এবং মলত্যাগ করে। মাঝে মাঝে এই লিটার একটু উল্টে-পাল্টে ঘেঁটে দেওয়া হয় এবং যাতে এটি স্যাঁতসেঁতে না হয় সেদিকে নজর রাখা হয়।
সুবিধা: মুরগির মল এবং লিটারের উপাদানগুলি ধীরে ধীরে পচে গিয়ে খুব উন্নত মানের জৈব সার তৈরি করে, যা পরে কৃষিকাজে দারুণভাবে ব্যবহার করা যায়। পাশাপাশি মুরগিরা একটি শুষ্ক ও আরামদায়ক পরিবেশ পায়।

12. একটি স্বাভাবিক মৌচাকে থাকা তিন প্রকার মৌমাছির নাম লেখো এবং মৌচাকে তাদের নিজ নিজ ভূমিকা আলোচনা করো।

উত্তর দেখো

উত্তর: একটি মৌচাকে কাজের ওপর ভিত্তি করে তিন প্রকার মৌমাছি দেখা যায়:
1. রানি মৌমাছি (Queen bee): এটি প্রজননে সক্ষম স্ত্রী মৌমাছি। আকারে এরা সবথেকে বড় হয়। এদের একটাই মাত্র কাজ, তা হলো ডিম পাড়া এবং মৌচাকের জনসংখ্যা বৃদ্ধি করা। একটি মৌচাকে সাধারণত একটিই রানি থাকে।
2. পুরুষ মৌমাছি বা ড্রোন (Drone bee): এদের আকার রানির চেয়ে ছোট কিন্তু কর্মীদের চেয়ে বড়। এদের একমাত্র কাজ হলো রানি মৌমাছির সাথে প্রজননে অংশগ্রহণ করা। এরা মধু বা পরাগরেণু কিছুই সংগ্রহ করে না।
3. কর্মী মৌমাছি (Worker bee): এরা হলো প্রজননে অক্ষম বা বন্ধ্যা স্ত্রী মৌমাছি। আকারে এরা সবচেয়ে ছোট হলেও মৌচাকের যাবতীয় কাজ এরাই করে। এদের কাজ হলো— ফুল থেকে মকরন্দ (Nectar) ও পরাগরেণু সংগ্রহ করা, মধু তৈরি করা, মোম তৈরি করে চাক নির্মাণ করা, চাক পাহারা দেওয়া এবং রানি ও ছানাদের যত্ন নেওয়া।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার