অষ্টম শ্রেণী: ইতিহাস, অধ্যায় – 2: ‘আঞ্চলিক শক্তির উত্থান’ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর মান ২

অধ্যায় ২: আঞ্চলিক শক্তির উত্থান
(সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর – মান: ২)

নিচের প্রশ্নগুলির দু-তিনটি বাক্যে উত্তর দাও:

1. মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের দুটি প্রধান কারণ লেখো।

উত্তর দেখো

উত্তর: মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের দুটি প্রধান কারণ হলো— প্রথমত, সম্রাট ঔরঙ্গজেবের দীর্ঘস্থায়ী দাক্ষিণাত্য নীতি এবং ধর্মীয় গোঁড়ামি, যা রাজপুত ও মারাঠাদের মুঘলদের শত্রুতে পরিণত করেছিল। দ্বিতীয়ত, ঔরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরাধিকারীদের চরম অযোগ্যতা এবং মুঘল দরবারে অভিজাতদের মধ্যে তীব্র ক্ষমতা দখলের লড়াই।

2. ফারুকশিয়ারের ফরমান (1717) বলতে কী বোঝো?

উত্তর দেখো

উত্তর: 1717 খ্রিস্টাব্দে মুঘল সম্রাট ফারুকশিয়ার ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে একটি নির্দেশনামা জারি করেন, যা ফারুকশিয়ারের ফরমান নামে পরিচিত। এই ফরমান বলে কোম্পানি বার্ষিক মাত্র 3,000 টাকার বিনিময়ে বাংলায় বিনা শুল্কে বাণিজ্য করার এবং নিজস্ব মুদ্রা ব্যবহারের অধিকার পেয়েছিল।

3. ‘দস্তক’ কী? এর অপব্যবহার কীভাবে নবাব ও ইংরেজদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করেছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: ‘দস্তক’ হলো বিনা শুল্কে বাণিজ্য করার ছাড়পত্র। ফারুকশিয়ারের ফরমান অনুযায়ী এই দস্তক কেবল কোম্পানির ব্যবসার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য ছিল। কিন্তু কোম্পানির কর্মচারীরা তাদের ব্যক্তিগত ব্যবসাতেও এই দস্তকের অপব্যবহার শুরু করে, যার ফলে নবাবের প্রচুর রাজস্ব ক্ষতি হতে থাকে এবং নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে ইংরেজদের চরম দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।

4. কর্ণাটকের যুদ্ধ কাদের মধ্যে এবং কেন সংঘটিত হয়েছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: অষ্টাদশ শতকে দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়, তাকে কর্ণাটকের যুদ্ধ বলা হয়। এর মূল কারণ ছিল ভারতের বাণিজ্যে একচেটিয়া অধিকার লাভ এবং ইউরোপীয় রাজনীতিতে ইংরেজ ও ফরাসিদের চিরাচরিত শত্রুতা।

5. ‘অন্ধকূপ হত্যা’ (Black Hole Tragedy) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর দেখো

উত্তর: ইংরেজ কর্মচারী হলওয়েলের প্রচার অনুযায়ী, 1756 খ্রিস্টাব্দে নবাব সিরাজউদ্দৌলা কলকাতা দখল করার পর 146 জন ইংরেজ বন্দিকে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গের একটি 18 ফুট লম্বা ও 14 ফুট 10 ইঞ্চি চওড়া ছোটো ও অন্ধকার ঘরে আটকে রাখেন। প্রচণ্ড গরমে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে 123 জন বন্দি মারা যান; এই মর্মান্তিক ঘটনাকেই ইতিহাসে ‘অন্ধকূপ হত্যা’ বলা হয়।

6. আলিনগরের সন্ধি (1757) কেন স্বাক্ষরিত হয়েছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: 1757 খ্রিস্টাব্দে রবার্ট ক্লাইভ ও ওয়াটসনের নেতৃত্বে ইংরেজ বাহিনী কলকাতা পুনরুদ্ধার করলে, নবাব সিরাজউদ্দৌলা পিছু হটতে বাধ্য হন। কলকাতার উপর ইংরেজদের নিয়ন্ত্রণ এবং তাদের সামরিক শক্তির কাছে কোণঠাসা হয়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলা 1757 সালের 9 ফেব্রুয়ারি ইংরেজদের সঙ্গে একটি অপমানজনক চুক্তি করতে বাধ্য হন, যা আলিনগরের সন্ধি নামে পরিচিত।

7. ‘পলাশীর লুন্ঠন’ (Plunder of Plassey) বলতে কী বোঝো?

উত্তর দেখো

উত্তর: পলাশীর যুদ্ধে (1757) সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের পর মীরজাফরকে বাংলার নবাব বানানোর শর্ত হিসেবে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও তার কর্মচারীরা নবাবের রাজকোষ থেকে কোটি কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ ও উপঢৌকন হিসেবে আদায় করে। বাংলা থেকে কোম্পানির এই বিপুল পরিমাণ সম্পদ জোরপূর্বক ইংল্যান্ডে পাচার করার ঘটনাকেই ঐতিহাসিকরা ‘পলাশীর লুন্ঠন’ বলেছেন।

8. মীরকাশিম কেন বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদ থেকে মুঙ্গেরে স্থানান্তরিত করেছিলেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: নবাব মীরকাশিম ছিলেন একজন স্বাধীনচেতা শাসক। তিনি চেয়েছিলেন ইংরেজদের অন্যায় হস্তক্ষেপ থেকে নিজেকে এবং প্রশাসনকে মুক্ত রাখতে। মুর্শিদাবাদে ইংরেজদের গোয়েন্দা এবং প্রভাব অত্যন্ত বেশি থাকায়, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে স্বাধীনভাবে শাসনকাজ পরিচালনার উদ্দেশ্যেই তিনি রাজধানী মুঙ্গেরে স্থানান্তরিত করেছিলেন।

9. বক্সারের যুদ্ধ (1764) কাদের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: 1764 খ্রিস্টাব্দে বিহারের বক্সার নামক স্থানে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনীর (সেনাপতি হেক্টর মুনরো) সঙ্গে বাংলার ক্ষমতাচ্যুত নবাব মীরকাশিম, অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা এবং মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সম্মিলিত বাহিনীর যুদ্ধ হয়, যা বক্সারের যুদ্ধ নামে পরিচিত।

10. দেওয়ানি লাভ (1765) বলতে কী বোঝো?

উত্তর দেখো

উত্তর: ‘দেওয়ানি’ কথার অর্থ হলো রাজস্ব আদায় ও দেওয়ানি বিচারের আইনি অধিকার। বক্সারের যুদ্ধে জয়ের পর 1765 খ্রিস্টাব্দে এলাহাবাদের দ্বিতীয় চুক্তি অনুযায়ী রবার্ট ক্লাইভ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমকে বার্ষিক 26 লক্ষ টাকা পেনশনের বিনিময়ে বাংলা, বিহার ও ওড়িশার দেওয়ানি বা রাজস্ব আদায়ের বৈধ অধিকার লাভ করেন।

11. বাংলায় ‘দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর দেখো

উত্তর: 1765 খ্রিস্টাব্দে দেওয়ানি লাভের পর বাংলায় রবার্ট ক্লাইভ যে অভিনব শাসন কাঠামোর প্রবর্তন করেন, তাই দ্বৈত শাসন। এই ব্যবস্থায় কোম্পানির হাতে থাকে ক্ষমতাশালী ও লাভজনক রাজস্ব আদায় এবং প্রতিরক্ষার দায়িত্ব (ক্ষমতাযুক্ত দায়িত্বহীনতা); আর নবাবের হাতে থাকে ক্ষমতাহীন ও ব্যয়বহুল বিচার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব (দায়িত্বপূর্ণ ক্ষমতাহীনতা)।

12. ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (1770) কেন হয়েছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার কুফলস্বরূপ কোম্পানির কর্মচারীদের নির্মম ও বলপূর্বক রাজস্ব আদায়, কৃষকদের চরম দুর্দশা এবং তার পাশাপাশি পরপর কয়েক বছর প্রবল অনাবৃষ্টির কারণে 1770 খ্রিস্টাব্দে (বাংলা 1176 বঙ্গাব্দ) বাংলায় যে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, তা ইতিহাসে ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত। এই দুর্ভিক্ষে বাংলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

13. রেগুলেটিং অ্যাক্ট বা নিয়ামক আইন (1773) পাসের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারীদের অপরিসীম দুর্নীতি ও স্বৈরাচারী আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা এবং ভারতে কোম্পানির কার্যকলাপের ওপর ব্রিটিশ পার্লামেন্টের আইনি নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করাই ছিল 1773 খ্রিস্টাব্দের রেগুলেটিং অ্যাক্ট পাসের মূল উদ্দেশ্য।

14. ‘অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি’ (Subsidiary Alliance) কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: 1798 খ্রিস্টাব্দে লর্ড ওয়েলেসলি ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য যে আগ্রাসী নীতি গ্রহণ করেন, তা অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি নামে পরিচিত। এই নীতি অনুযায়ী, কোনো দেশীয় রাজা এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করলে তাকে ব্রিটিশদের বশ্যতা স্বীকার করে নিতে হতো এবং তার রাজ্যে একদল ইংরেজ সেনাবাহিনী মোতায়েন রাখতে হতো, যার ব্যয়ভার সেই রাজাকেই বহন করতে হতো।

15. ‘স্বত্ববিলোপ নীতি’ (Doctrine of Lapse) বলতে কী বোঝো?

উত্তর দেখো

উত্তর: লর্ড ডালহৌসি ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সীমানা বৃদ্ধির জন্য যে সাম্রাজ্যবাদী নীতি প্রবর্তন করেন, তা স্বত্ববিলোপ নীতি নামে পরিচিত। এই নিয়ম অনুযায়ী, কোম্পানির আশ্রিত কোনো দেশীয় নিঃসন্তান রাজা দত্তক পুত্র গ্রহণ করতে পারতেন না; ওই রাজার মৃত্যুর পর তাঁর রাজ্যটি স্বাভাবিকভাবেই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হয়ে যেত (যেমন- সাতারা, ঝাঁসি)।

16. সলবাইয়ের সন্ধি (1782) এবং বেসিনের সন্ধির (1802) একটি করে গুরুত্ব লেখো।

উত্তর দেখো

উত্তর: সলবাইয়ের সন্ধির ফলে প্রথম ইঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধের অবসান ঘটে এবং আগামী 20 বছরের জন্য মারাঠাদের সঙ্গে ইংরেজদের শান্তি বজায় থাকে। অন্যদিকে, বেসিনের সন্ধির মাধ্যমে পেশোয়া দ্বিতীয় বাজিরাও ইংরেজদের অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি গ্রহণ করতে বাধ্য হন, যা মারাঠা স্বাধীনতাকে কার্যত ধ্বংস করে দিয়েছিল।

17. বক্সারের যুদ্ধের (1764) দুটি গুরুত্ব লেখো।

উত্তর দেখো

উত্তর: বক্সারের যুদ্ধের জয় পলাশীর মতো কোনো চক্রান্তের ফল ছিল না, এটি ছিল ইংরেজদের প্রকৃত সামরিক বিজয়। এই যুদ্ধের ফলেই ইংরেজরা মুঘল সম্রাট, অযোধ্যার নবাব ও বাংলার নবাবের সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করে সমগ্র উত্তর ভারতে নিজেদের অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।

18. রবার্ট ক্লাইভ কেন মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে ‘দেওয়ানি’ লাভ করেছিলেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: পলাশীর যুদ্ধের পর কোম্পানি নবাবের কাছ থেকে অবাধে সম্পদ লুন্ঠন করলেও, তাদের বাণিজ্য এবং সামরিক বাহিনীর বিপুল খরচ মেটানোর জন্য একটি স্থায়ী আয়ের উৎস প্রয়োজন ছিল। তাই বিনা বাধায় ও আইনসম্মতভাবে বাংলার বিপুল রাজস্ব আদায়ের আইনি অধিকার পাওয়ার জন্যই রবার্ট ক্লাইভ 1765 খ্রিস্টাব্দে দেওয়ানি লাভ করেছিলেন।

19. দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার ফলে বাংলার কৃষকদের কী অবস্থা হয়েছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: দ্বৈত শাসন ব্যবস্থায় নবাবের হাতে কোনো ক্ষমতা বা অর্থ ছিল না, অন্যদিকে ইংরেজদের হাতে ক্ষমতা থাকলেও প্রজাকল্যাণের কোনো দায়বদ্ধতা ছিল না। ফলে কোম্পানির নায়েব-দেওয়ানদের নির্মম অত্যাচারে এবং জোরপূর্বক মাত্রাতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের কারণে বাংলার কৃষকরা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ে, যার চরম পরিণতি ছিল ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’।

20. 1773 খ্রিস্টাব্দের রেগুলেটিং অ্যাক্টে (Regulating Act) কী কী প্রধান সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: এই আইনে স্থির হয় যে, বাংলার গভর্নর এখন থেকে ‘গভর্নর জেনারেল’ হবেন এবং বোম্বাই ও মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি তাঁর অধীনে থাকবে। এছাড়া, কোম্পানির কর্মচারীদের ব্যক্তিগত বাণিজ্য ও উপহার নেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয় এবং কলকাতায় একটি সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

21. পিটের ভারত শাসন আইন (1784) কেন পাস করা হয়েছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: রেগুলেটিং অ্যাক্টের বেশ কিছু ত্রুটি দূর করার জন্য এবং ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কার্যকলাপের ওপর ব্রিটিশ পার্লামেন্টের পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে 1784 খ্রিস্টাব্দে পিটের ভারত শাসন আইন পাস হয়। এই আইনের মাধ্যমেই লন্ডনে একটি ‘বোর্ড অফ কন্ট্রোল’ গঠন করা হয়েছিল।

22. প্রথম ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধের (1767-1769) প্রধান কারণ কী ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: মহীশূরের শাসক হায়দার আলির ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি এবং দাক্ষিণাত্যে ফরাসিদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ইংরেজদের আতঙ্কিত করে তুলেছিল। তাই মারাঠা ও নিজামদের সঙ্গে জোট বেঁধে ইংরেজরা হায়দার আলির ক্ষমতা খর্ব করার চেষ্টা করলে প্রথম ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধের সূচনা হয়।

23. ম্যাঙ্গালোরের সন্ধি (1784) কাদের মধ্যে এবং কেন স্বাক্ষরিত হয়?

উত্তর দেখো

উত্তর: দ্বিতীয় ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ (1780-1784) অমীমাংসিতভাবে শেষ হলে ইংরেজ এবং টিপু সুলতানের মধ্যে 1784 খ্রিস্টাব্দে ম্যাঙ্গালোরের সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়। এই সন্ধির ফলে উভয় পক্ষই একে অপরের বিজিত স্থানগুলি ফেরত দেয় এবং যুদ্ধবন্দিদের মুক্তি দিতে সম্মত হয়।

24. টিপু সুলতান কীভাবে তাঁর সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করেছিলেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: টিপু সুলতান তাঁর সামরিক বাহিনীকে ইউরোপীয় ধাঁচে আধুনিক করার জন্য ফরাসি সেনাপতিদের সাহায্য নিয়েছিলেন। তিনি পদাতিক ও অশ্বারোহী বাহিনীর ব্যাপক উন্নতি সাধন করেন এবং আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ও কামান তৈরির জন্য মহীশূরে নিজস্ব কারখানা স্থাপন করেন।

25. শ্রীরঙ্গপত্তনমের সন্ধির (1792) দুটি অপমানজনক শর্ত লেখো।

উত্তর দেখো

উত্তর: তৃতীয় ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধে পরাজিত হয়ে টিপু সুলতান এই অপমানজনক সন্ধি স্বাক্ষর করেন। এর শর্তানুযায়ী (১) টিপুকে তাঁর রাজ্যের অর্ধেক অংশ ইংরেজ ও তাদের মিত্রদের ছেড়ে দিতে হয়, এবং (২) যুদ্ধজয়ের ক্ষতিপূরণ হিসেবে 3 কোটি টাকা ও নিজের দুই পুত্রকে জামিন হিসেবে ইংরেজদের হাতে তুলে দিতে হয়।

26. লর্ড ওয়েলেসলির অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির মূল শর্ত কী ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি গ্রহণকারী দেশীয় রাজাকে তাঁর স্বাধীন বৈদেশিক নীতি কোম্পানির হাতে তুলে দিতে হতো এবং নিজ রাজ্যে একদল ব্রিটিশ সৈন্য স্থায়ীভাবে রাখতে হতো। এর বিনিময়ে কোম্পানি সেই রাজাকে অন্যান্য শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিত।

27. প্রথম ইঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধের (1775-1782) প্রধান কারণ কী ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: মারাঠা পেশোয়া পদের উত্তরাধিকার নিয়ে রঘুনাথ রাও এবং মন্ত্রী নানা ফড়নবিশের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব শুরু হলে ইংরেজরা এই সুযোগে মারাঠা রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে। রঘুনাথ রাও ক্ষমতা পাওয়ার লোভে ইংরেজদের সঙ্গে সুরাটের সন্ধি (1775) করলে প্রথম ইঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধের সূত্রপাত হয়।

28. রঞ্জিত সিং কীভাবে শিখদের ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: অষ্টাদশ শতকের শেষে শিখরা বারোটি ছোটো ছোটো ‘মিসল’-এ বিভক্ত ছিল। শুকরচাকিয়া মিসলের নেতা রঞ্জিত সিং তাঁর অসামান্য সামরিক দক্ষতা ও কূটনীতির সাহায্যে অন্যান্য মিসলগুলিকে পরাজিত বা মিত্রতায় আবদ্ধ করে সমগ্র পাঞ্জাব অঞ্চলে এক শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ শিখ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন।

29. অমৃতসরের সন্ধির (1809) গুরুত্ব কী ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: 1809 খ্রিস্টাব্দে রঞ্জিত সিং ও ইংরেজদের মধ্যে স্বাক্ষরিত অমৃতসরের সন্ধির ফলে শতদ্রু নদীকে শিখ এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সীমানা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। এর ফলে শতদ্রুর পূর্ব দিকে রঞ্জিত সিং-এর রাজ্য বিস্তারের সম্ভাবনা চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।

30. প্রথম ইঙ্গ-শিখ যুদ্ধে (1845-1846) শিখদের পরাজয়ের মূল কারণ কী ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: প্রথম ইঙ্গ-শিখ যুদ্ধে সাধারণ শিখ সেনাবাহিনীর অসীম বীরত্ব ও দেশপ্রেম থাকা সত্ত্বেও, তাদের প্রধান সেনাপতি লাল সিং এবং তেজ সিং-এর চরম বিশ্বাসঘাতকতার কারণেই শিখরা ইংরেজদের কাছে পরাজিত হতে বাধ্য হয়েছিল।

31. লর্ড ডালহৌসির স্বত্ববিলোপ নীতির মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: লর্ড ডালহৌসির স্বত্ববিলোপ নীতির মূল উদ্দেশ্য ছিল সম্পূর্ণ বিনা যুদ্ধে আইনি অজুহাতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সীমানা বিস্তার করা। কোনো কোম্পানির আশ্রিত দেশীয় রাজ্যে উত্তরাধিকারীর অভাব ঘটলে সেই রাজ্যটিকে সরাসরি ব্রিটিশ শাসনের অধীনে আনাই ছিল এর লক্ষ্য।

32. পলাশীর যুদ্ধ এবং বক্সারের যুদ্ধের মধ্যে কোনটি ব্রিটিশদের ভারতে ক্ষমতা বিস্তারে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: বক্সারের যুদ্ধ বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পলাশীর যুদ্ধ ছিল মূলত একটি চক্রান্ত যার মাধ্যমে শুধু বাংলায় সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটেছিল। কিন্তু বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজরা নিজেদের সামরিক শক্তির জোরে বাংলার নবাব, অযোধ্যার নবাব এবং মুঘল সম্রাটের সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করে সমগ্র উত্তর ভারতে প্রকৃত শাসন ক্ষমতা লাভ করেছিল।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার