অষ্টম শ্ৰেণী: ইতিহাস, অধ্যায় – 3 ঔপনিবেশিক কতৃত্ব প্রতিষ্ঠা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

অধ্যায় ৩: ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা
(সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর – মান: ২) – পর্ব ১

নিচের প্রশ্নগুলির দু-তিনটি বাক্যে উত্তর দাও:

1. সিভিল সার্ভিস (Civil Service) বা অসামরিক প্রশাসন বলতে কী বোঝায়?

উত্তর দেখো

উত্তর: সামরিক বাহিনী বা সেনাবাহিনীর বাইরে সরকারি প্রশাসন পরিচালনার জন্য যে দক্ষ আধিকারিক বা আমলাদের নিয়োগ করা হয়, তাদের কাজের ব্যবস্থাকেই সিভিল সার্ভিস বা অসামরিক প্রশাসন বলা হয়। ভারতে লর্ড কর্নওয়ালিস এই ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছিলেন।

2. লর্ড কর্নওয়ালিস কেন সিভিল সার্ভিস ব্যবস্থা চালু করেছিলেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারীদের মধ্যে চরম দুর্নীতি ও ঘুষ নেওয়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছিল। প্রশাসনকে এই দুর্নীতিমুক্ত করতে, রাজস্ব আদায়ে শৃঙ্খলা আনতে এবং দক্ষ ও সৎ আমলাতন্ত্র গড়ে তুলতেই লর্ড কর্নওয়ালিস সিভিল সার্ভিস ব্যবস্থা চালু করেছিলেন।

3. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ (1800) কেন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: ইংল্যান্ড থেকে ভারতে আগত তরুণ সিভিল সার্ভেন্ট বা ব্রিটিশ আমলাদের ভারতের ভাষা, সংস্কৃতি, রীতিনীতি এবং আইনকানুন সম্পর্কে ভালোভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই লর্ড ওয়েলেসলি 1800 খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

4. ‘কর্নওয়ালিস কোড’ (1793) কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: 1793 খ্রিস্টাব্দে লর্ড কর্নওয়ালিস কোম্পানির দেওয়ানি (রাজস্ব) প্রশাসন এবং বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ আলাদা করে আইন ও বিচার সংক্রান্ত যে একটি নতুন ও লিখিত বিধিমালার সংকলন তৈরি করেন, তাকেই ‘কর্নওয়ালিস কোড’ বলা হয়।

5. ‘দারোগা ব্যবস্থা’ কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য লর্ড কর্নওয়ালিস জমিদারদের হাত থেকে পুলিশের ক্ষমতা কেড়ে নেন এবং প্রতিটি জেলাকে কয়েকটি থানায় বিভক্ত করেন। প্রতিটি থানার দায়িত্ব দেওয়া হয় একজন পুলিশ আধিকারিকের ওপর, যাকে ‘দারোগা’ বলা হতো। এটিই দারোগা ব্যবস্থা।

6. দারোগাদের ক্ষমতা কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হতো?

উত্তর দেখো

উত্তর: দারোগাদের যাতে নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করতে না পারে, তার জন্য তাদের কাজের ওপর কড়া নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল জেলার প্রধান বা ম্যাজিস্ট্রেটদের (Magistrates) ওপর।

7. ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সেনাবাহিনীতে ‘সিপাহি’ কাদের বলা হতো?

উত্তর দেখো

উত্তর: ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে তাদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির জন্য মূলত উত্তরপ্রদেশ (অযোধ্যা) ও বিহারের সাধারণ কৃষক সম্প্রদায় থেকে যে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় পদাতিক সেনা নিয়োগ করেছিল, তাদেরকেই ‘সিপাহি’ (Sepoy) বলা হতো।

8. ‘রুল অফ ল’ (Rule of Law) বা আইনের শাসন বলতে কী বোঝায়?

উত্তর দেখো

উত্তর: ‘আইনের শাসন’ বা ‘Rule of Law’ বলতে বোঝায় যে আইন সবার ঊর্ধ্বে এবং আইনের চোখে সমস্ত নাগরিক সমান। জাতি, ধর্ম বা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ একই আইনের দ্বারা বিচার পাবে; লর্ড কর্নওয়ালিস ভারতে এর নীতিগত প্রয়োগ ঘটিয়েছিলেন।

9. সুপ্রিম কোর্ট কবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর প্রাথমিক উদ্দেশ্য কী ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: 1773 সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট অনুযায়ী 1774 খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ কোম্পানির কর্মচারীদের দুর্নীতি ও অপরাধের বিচার করা এবং ভারতে বসবাসকারী ইউরোপীয়দের জন্য ব্রিটিশ আইন প্রয়োগ করা।

10. প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য শিক্ষা বিষয়ক দ্বন্দ্ব (Orientalist-Anglicist controversy) কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: 1813 সালের সনদ আইনে জনশিক্ষার জন্য বরাদ্দ 1 লক্ষ টাকা কোন খাতে ব্যয় করা হবে তা নিয়ে বিবাদ তৈরি হয়। একাংশ (প্রাচ্যবাদী) চেয়েছিলেন ওই টাকা সংস্কৃত বা আরবি শিক্ষায় ব্যয় হোক, আর অন্য অংশ (পাশ্চাত্যবাদী) চেয়েছিলেন তা ইংরেজি শিক্ষায় ব্যয় হোক। এটিই প্রাচ্য-পাশ্চাত্য শিক্ষা দ্বন্দ্ব নামে পরিচিত।

11. ‘মেকলে মিনিট’ (Macaulay Minute) কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: 1835 খ্রিস্টাব্দের 2 ফেব্রুয়ারি জনশিক্ষা কমিটির সভাপতি টমাস ব্যাবিংটন মেকলে ভারতে প্রাচ্য শিক্ষার তীব্র সমালোচনা করে সরকারি খরচে কেবল পাশ্চাত্য বা ইংরেজি শিক্ষার প্রসারের সপক্ষে যে বিখ্যাত স্মারকলিপি বা প্রস্তাব পেশ করেন, তা ‘মেকলে মিনিট’ নামে পরিচিত।

12. চার্লস উডের ডেসপ্যাচ (Wood’s Despatch) কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: 1854 খ্রিস্টাব্দে বোর্ড অফ কন্ট্রোলের সভাপতি চার্লস উড ভারতে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থার একটি সুসংগঠিত রূপরেখা ও নির্দেশনামা প্রকাশ করেন। একেই ‘উডের ডেসপ্যাচ’ বলা হয়, যা ভারতের আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তিমূল স্থাপন করেছিল।

13. ‘শ্রীরামপুর ত্রয়ী’ কাদের বলা হয় এবং কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: শ্রীরামপুরের তিনজন খ্রিস্টান মিশনারি— উইলিয়াম কেরি, জশুয়া মার্শম্যান এবং উইলিয়াম ওয়ার্ড-কে একসঙ্গে ‘শ্রীরামপুর ত্রয়ী’ বলা হয়। 1800 খ্রিস্টাব্দে শ্রীরামপুর ব্যাপটিস্ট মিশন প্রতিষ্ঠা করে বাংলায় শিক্ষা বিস্তার এবং সমাজ সংস্কারে তাদের অসামান্য অবদানের জন্যই তারা এই নামে পরিচিত।

14. 1813 খ্রিস্টাব্দের সনদ আইনের (Charter Act) শিক্ষাগত গুরুত্ব কী ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: 1813 খ্রিস্টাব্দের সনদ আইনের সবচেয়ে বড় শিক্ষাগত গুরুত্ব হলো, এই আইনে ভারতে জনশিক্ষা ও বিজ্ঞানের প্রসারের জন্য ব্রিটিশ কোম্পানিকে প্রতি বছর অন্তত 1 লক্ষ টাকা ব্যয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এর ফলেই ভারতে সরকারি উদ্যোগে শিক্ষা বিস্তারের প্রথম দ্বার উন্মুক্ত হয়।

15. পিটের ভারত শাসন আইন (1784) কেন পাস হয়েছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: 1773 সালের রেগুলেটিং অ্যাক্টের ত্রুটিগুলি দূর করতে এবং ভারতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সমস্ত কাজের ওপর ব্রিটিশ পার্লামেন্ট বা সরকারের প্রত্যক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ কায়েম করার উদ্দেশ্যেই 1784 খ্রিস্টাব্দে পিটের ভারত শাসন আইন পাস হয়েছিল।

16. ‘বোর্ড অফ কন্ট্রোল’ (Board of Control) কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: পিটের ভারত শাসন আইন (1784) অনুসারে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাজের ওপর কড়া নজরদারি চালানোর জন্য লন্ডনে 6 জন সদস্য নিয়ে যে সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তাকেই ‘বোর্ড অফ কন্ট্রোল’ বলা হয়।

17. ‘উপযোগিতাবাদ’ (Utilitarianism) কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: উপযোগিতাবাদ হলো একটি বিশেষ দর্শন বা তত্ত্ব, যার মূল কথা হলো ‘সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের সর্বোচ্চ সুখ’ নিশ্চিত করা। জেমস মিল, জেরেমি বেন্থাম প্রমুখের এই তত্ত্বটি ভারতে ব্রিটিশ প্রশাসনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।

18. ওয়ারেন হেস্টিংস বিচার ব্যবস্থায় কী কী সংস্কার করেছিলেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: 1772 খ্রিস্টাব্দে ওয়ারেন হেস্টিংস বাংলার বিচার ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজান। তিনি প্রতিটি জেলায় একটি করে দেওয়ানি আদালত (রাজস্ব ও সম্পত্তির বিবাদের জন্য) এবং একটি করে ফৌজদারি আদালত (অপরাধমূলক মামলার জন্য) প্রতিষ্ঠা করেন। এর ওপরে কলকাতায় আপিল করার জন্য সদর আদালত গঠন করেন।

19. লর্ড কর্নওয়ালিস বিচার ব্যবস্থায় কী পরিবর্তন আনেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: লর্ড কর্নওয়ালিস রাজস্ব আদায় এবং বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ আলাদা করে দেন, ফলে কালেক্টরদের হাতে আর বিচারের ক্ষমতা থাকেনি। তিনি জেলাগুলিতে ব্রিটিশ বিচারক নিয়োগ করেন এবং নিম্ন আদালতে বিচারের জন্য ‘মুনসেফ’ ও ‘সদর আমিন’ নামে ভারতীয় বিচারকদের দায়িত্ব দেন।

20. ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কেন ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারে আগ্রহী হয়েছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: ব্রিটিশরা চেয়েছিল তাদের বিশাল প্রশাসন পরিচালনার জন্য এমন একদল অনুগত ভারতীয় তৈরি করতে, যারা রক্তে ও বর্ণে ভারতীয় হলেও রুচি ও চিন্তাধারায় হবে ব্রিটিশ। এছাড়া প্রশাসনের নিচুতলার কাজের জন্য সস্তায় ইংরেজি-জানা কেরানি তৈরি করাও পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল।

21. কলকাতা মাদ্রাসা (1781) এবং বারাণসী সংস্কৃত কলেজ (1791) প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: ব্রিটিশ বিচারকদের ভারতীয় আইন বুঝতে অনেক সময় অসুবিধা হতো। তাই হিন্দু ও মুসলিম আইনকানুনগুলি ব্রিটিশ বিচারকদের সঠিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য দেশীয় পণ্ডিত ও মৌলবি তৈরি করাই ছিল সংস্কৃত কলেজ ও কলকাতা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য।

22. শিক্ষাক্ষেত্রে প্রাচ্যবাদী (Orientalist) এবং পাশ্চাত্যবাদী (Anglicist) কাদের বলা হতো?

উত্তর দেখো

উত্তর: ব্রিটিশ প্রশাসনের যে অংশ (যেমন- এইচ. টি. প্রিন্সেপ) ভারতে সরকারি খরচে দেশীয় ভাষা, সংস্কৃত বা আরবি-ফারসি শিক্ষার প্রসার চেয়েছিলেন, তাঁদের ‘প্রাচ্যবাদী’ বলা হতো। অন্যদিকে যাঁরা (যেমন- মেকলে, আলেকজান্ডার ডাফ) কেবল ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার চেয়েছিলেন, তাঁদের ‘পাশ্চাত্যবাদী’ বলা হতো।

23. আলেকজান্ডার ডাফ কে ছিলেন? ভারতে তাঁর অবদান কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: আলেকজান্ডার ডাফ ছিলেন একজন স্কটিশ খ্রিস্টান মিশনারি এবং ভারতে ইংরেজি শিক্ষা বিস্তারের অন্যতম প্রধান সমর্থক। তিনি 1830 খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় ‘জেনারেল অ্যাসেম্বলিজ ইনস্টিটিউশন’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা বর্তমানে স্কটিশ চার্চ কলেজ নামে পরিচিত।

24. ডেভিড হেয়ার কে ছিলেন? তাঁর অবদান উল্লেখ করো।

উত্তর দেখো

উত্তর: ডেভিড হেয়ার ছিলেন পেশায় একজন স্কটিশ ঘড়ি প্রস্তুতকারক, যিনি নিজের উপার্জিত সমস্ত অর্থ ভারতে শিক্ষা বিস্তারে ব্যয় করেছিলেন। তিনি 1817 খ্রিস্টাব্দে হিন্দু কলেজ এবং পরে ক্যালকাটা স্কুল বুক সোসাইটি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

25. উডের ডেসপ্যাচের (1854) দুটি প্রধান সুপারিশ উল্লেখ করো।

উত্তর দেখো

উত্তর: চার্লস উডের ডেসপ্যাচের দুটি প্রধান সুপারিশ হলো: (১) প্রতিটি প্রদেশে একটি করে শিক্ষা দপ্তর (Department of Education) স্থাপন করতে হবে। (২) লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকরণে কলকাতা, বোম্বাই এবং মাদ্রাজে একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

26. হেইলিবারি কলেজের (Haileybury College) গুরুত্ব কী ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথমে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে সিভিল সার্ভেন্টদের প্রশিক্ষণ দিলেও পরে তা বন্ধ করে দেয়। তার বদলে 1806 খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডে হেইলিবারি কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়, যেখানে ভারতে কাজে যোগ দেওয়ার আগেই ব্রিটিশ আমলাদের উন্নত মানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো।

27. মেকলে মিনিটের (Macaulay Minute, 1835) ফলাফল কী হয়েছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: মেকলে মিনিটের ফলে ভারতে দীর্ঘস্থায়ী প্রাচ্য-পাশ্চাত্য শিক্ষা দ্বন্দ্বের অবসান ঘটে। গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক মেকলের প্রস্তাব গ্রহণ করেন এবং 1835 সালের মার্চ মাসে সরকারিভাবে ঘোষণা করেন যে, ব্রিটিশ সরকারের শিক্ষা তহবিলের সমস্ত অর্থ কেবল ইংরেজি বা পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারেই ব্যয় করা হবে।

28. 1773 সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট অনুযায়ী বাংলার গভর্নরের পদমর্যাদায় কী পরিবর্তন আসে?

উত্তর দেখো

উত্তর: 1773 সালের রেগুলেটিং অ্যাক্টের মাধ্যমে বাংলার গভর্নরকে ‘গভর্নর জেনারেল’ (Governor General) পদে উন্নীত করা হয়। তাঁর ক্ষমতা বৃদ্ধি করে বোম্বাই ও মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির গভর্নরদের তাঁর অধীনে নিয়ে আসা হয়, যার ফলে ভারতে একটি কেন্দ্রীয় ব্রিটিশ প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি হয়।

29. ভারতে ঔপনিবেশিক প্রশাসনকে বৈধতা দিতে ব্রিটিশরা কোন কোন মতাদর্শের সাহায্য নিয়েছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: ভারতে নিজেদের শাসনকে ন্যায়সঙ্গত প্রমাণ করতে ব্রিটিশরা বিভিন্ন সময়ে বেশ কিছু মতাদর্শ বা তত্ত্বের সাহায্য নিয়েছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— প্রাচ্যবাদ, উপযোগিতাবাদ (Utilitarianism) এবং ‘সভ্য করার মিশন’ (Civilizing Mission), যেখানে তারা দাবি করত যে অনগ্রসর ভারতীয়দের সভ্য করার দায়িত্ব ব্রিটিশদের ওপরই ন্যস্ত।

30. ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ‘সিপাহি’দের সামাজিক অবস্থান কেমন ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সিপাহিরা মূলত ছিল উত্তর ভারতের অযোধ্যা ও বিহার অঞ্চলের কৃষক এবং সাধারণ পরিবারের সন্তান। এঁদের অনেকেই ছিলেন উচ্চবর্ণের হিন্দু বা মুসলিম, যাঁরা নিজেদের ধর্মীয় রীতিনীতি ও সামাজিক অবস্থান সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন ছিলেন।

31. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের শিক্ষা বিষয়ক নীতির গুরুত্ব কী ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক ভারতে বহু বছর ধরে চলা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য শিক্ষা বিষয়ক দ্বন্দ্বের পাকাপাকি অবসান ঘটিয়েছিলেন। তিনি 1835 খ্রিস্টাব্দে মেকলের সুপারিশ মেনে ইংরেজি শিক্ষাকেই ব্রিটিশ সরকারের সরকারি শিক্ষানীতি হিসেবে ঘোষণা করেন, যা ভারতের আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল।

32. এশিয়াটিক সোসাইটি (1784) প্রতিষ্ঠার সুফল কী হয়েছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: স্যার উইলিয়াম জোনস প্রতিষ্ঠিত এশিয়াটিক সোসাইটি ভারতের প্রাচীন ইতিহাস, সাহিত্য, বিজ্ঞান ও দর্শন চর্চায় যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে। এই প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগেই বহু প্রাচীন সংস্কৃত ও ফারসি গ্রন্থ ইংরেজিতে অনূদিত হয়, যা ইউরোপীয়দের কাছে ভারতের সমৃদ্ধ অতীতকে তুলে ধরেছিল।

33. সিভিল সার্ভিস ব্যবস্থায় ভারতীয়দের কেন নিয়োগ করা হতো না?

উত্তর দেখো

উত্তর: লর্ড কর্নওয়ালিস ভারতীয়দের প্রতি চরম অবজ্ঞাপূর্ণ ও বর্ণবিদ্বেষী মনোভাব পোষণ করতেন। তাঁর ধারণা ছিল ভারতীয়রা দুর্নীতিগ্রস্ত এবং অযোগ্য। তাই প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত রাখার অজুহাতে তিনি ভারতীয়দের সিভিল সার্ভিসের উচ্চপদ থেকে দূরে রেখেছিলেন।

34. ব্রিটিশ শাসনকালে ‘ম্যাজিস্ট্রেট’ বা ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেটের ভূমিকা কী ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: ব্রিটিশ শাসনকালে একটি জেলার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ক্ষমতাসম্পন্ন আমলা ছিলেন ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট। জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা, পুলিশের (দারোগাদের) কাজের ওপর নজরদারি করা এবং রাজস্ব আদায় সঠিকভাবে হচ্ছে কি না তা তদারকি করাই ছিল তাঁর প্রধান কাজ।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার