অষ্টম শ্রেণী: ইতিহাস, অধ্যায় – 4: ঔপনিবেশিক অর্থনীতির চরিত্র’ রচনাধর্মী প্রশ্নত্তোর মান 5
অধ্যায় 4: ঔপনিবেশিক অর্থনীতির চরিত্র
(বর্ণনামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 5)
নিচের প্রশ্নগুলির নির্দেশমতো বিস্তারিত উত্তর দাও:
1. 1793 খ্রিস্টাব্দে লর্ড কর্নওয়ালিস প্রবর্তিত ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’-এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি কী ছিল? বাংলার গ্রামীণ সমাজ ও কৃষকদের ওপর এর কী প্রভাব পড়েছিল?
উত্তর দেখো
প্রধান বৈশিষ্ট্য:
- স্থায়ী মালিকানা: জমিদারদের জমির স্থায়ী ও বংশানুক্রমিক মালিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তারা স্বাধীনভাবে জমি বিক্রি বা দান করতে পারত।
- নির্দিষ্ট রাজস্ব: জমিদারদের ব্রিটিশ কোম্পানিকে প্রদেয় রাজস্বের পরিমাণ চিরকালের জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়।
- সূর্যাস্ত আইন: বছরের নির্দিষ্ট দিনে সূর্যাস্তের আগে জমিদারকে তার প্রদেয় রাজস্ব জমা দিতে হতো, না হলে জমিদারি নিলামে বিক্রি করে দেওয়া হতো।
গ্রামীণ সমাজ ও কৃষকদের ওপর প্রভাব:
- কৃষকদের অধিকার লোপ: জমির ওপর কৃষকদের কোনো অধিকার থাকল না। তারা জমিদারের দয়ানির্ভর প্রজায় পরিণত হলো।
- চরম শোষণ: জমিদাররা ব্রিটিশদের নির্দিষ্ট রাজস্ব দিলেও, নিজেদের মুনাফা বাড়ানোর জন্য কৃষকদের ওপর যথেচ্ছ কর ও বেআইনি আবওয়াব চাপিয়ে চরম শোষণ শুরু করে। খরা বা বন্যাতেও কৃষকরা ছাড় পেত না।
- নতুন জমিদার শ্রেণির উদ্ভব: অনেক পুরনো জমিদার সূর্যাস্ত আইনের কোপে জমিদারি হারায়। শহরের ধনী ব্যবসায়ীরা সেই জমি কিনে নতুন জমিদার শ্রেণিতে পরিণত হয়। এরা গ্রামে না থেকে শহরে বসে নায়েব-গোমস্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের শোষণ করত (যাকে ‘অনুপস্থিত জমিদারতন্ত্র’ বলা হয়)।
উপসংহার: চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে ব্রিটিশ সরকার এবং জমিদারদের লাভ হলেও বাংলার কৃষকদের জীবন চরম দুর্দশা ও দারিদ্র্যের অন্ধকারে তলিয়ে যায়।
2. ‘অবশিল্পায়ন’ (Deindustrialization) বলতে কী বোঝায়? ব্রিটিশ আমলে ভারতের দেশীয় হস্তশিল্প ও তাঁতশিল্প ধ্বংসের প্রধান কারণগুলি আলোচনা করো।
উত্তর দেখো
হস্তশিল্প ধ্বংসের প্রধান কারণসমূহ:
- শিল্পবিপ্লব ও যন্ত্রের ব্যবহার: ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লবের ফলে কারখানায় যন্ত্রের সাহায্যে প্রচুর পরিমাণে এবং খুব সস্তায় উন্নত মানের সুতির কাপড় তৈরি হতে থাকে। ভারতের তাঁতিরা হাতে বোনা কাপড়ের দাম ও উৎপাদনের গতিতে এই যন্ত্রের সাথে পাল্লা দিতে পারেনি।
- অসম শুল্ক নীতি: ব্রিটিশ সরকার 1813 খ্রিস্টাব্দের পর ‘অ অবাধ বাণিজ্য নীতি’ গ্রহণ করে। ভারতের তৈরি কাপড় ইংল্যান্ডে রপ্তানির ক্ষেত্রে তারা 70% থেকে 80% পর্যন্ত চড়া শুল্ক চাপায়, ফলে সেখানে ভারতীয় কাপড়ের দাম প্রচুর বেড়ে যায়। অন্যদিকে ব্রিটিশ পণ্য বিনা শুল্কে ভারতের বাজারে প্রবেশ করে।
- দেশীয় রাজদরবারের বিলোপ: ভারতের রাজা, নবাব ও জমিদাররাই ছিলেন দামি দেশীয় রেশম ও সুতির কাপড়ের প্রধান ক্রেতা। ব্রিটিশদের রাজ্যজয়ের ফলে এই রাজদরবারগুলি ধ্বংস হয়ে গেলে দেশীয় হস্তশিল্প তাদের প্রধান ক্রেতাদের হারায়।
- কাঁচামাল পাচার: ব্রিটিশরা ভারতের উন্নত মানের কাঁচামাল (যেমন- কাঁচা তুলো ও রেশম) জোর করে সস্তায় কিনে ইংল্যান্ডে পাঠিয়ে দিত। ফলে দেশীয় কারিগররা চরম কাঁচামালের অভাবে ভুগত।
উপসংহার: এই কারণগুলির ফলে ভারতের সমৃদ্ধশালী হস্তশিল্প পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। লক্ষ লক্ষ কারিগর কর্মহীন হয়ে কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল হতে বাধ্য হয়, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছিল।
3. কৃষির বাণিজ্যকরণ (Commercialization of Agriculture) বলতে কী বোঝায়? ব্রিটিশ আমলে ভারতের কৃষকদের ওপর এর কী নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর দেখো
কৃষকদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব:
- খাদ্যাভাব ও দুর্ভিক্ষ: ধান বা গমের মতো খাদ্যশস্যের বদলে কৃষকরা লাভের আশায় বা বাধ্য হয়ে জমিতে পাট, নীল বা তুলো চাষ করতে শুরু করে। এর ফলে দেশে খাদ্যশস্যের তীব্র ঘাটতি দেখা দেয় এবং ঘন ঘন ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ (যেমন ছিয়াত্তরের মন্বন্তর) দেখা দেয়।
- দাদন প্রথা ও শোষণ: বাণিজ্যিক ফসল চাষের খরচ অনেক বেশি হওয়ায় কৃষকদের নীলকর সাহেব বা দেশীয় মহাজনদের কাছ থেকে ‘দাদন’ বা অগ্রিম ঋণ নিতে হতো। একবার এই দাদনের ফাঁদে পা দিলে কৃষকরা পুরুষানুক্রমে সেই ঋণ শোধ করতে পারত না এবং চরম শোষণের শিকার হতো (যেমন- নীল চাষিদের দুর্দশা)।
- মহাজনদের আধিপত্য ও জমি হারানো: ফসলের বাজারদর সম্পূর্ণ ব্রিটিশদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। বিশ্ববাজারে তুলো বা পাটের দাম কমে গেলে কৃষকরা লোকসানে পড়ত। রাজস্ব ও ঋণ শোধ করতে না পারায় মহাজনরা প্রতারণার মাধ্যমে কৃষকদের জমি, গবাদি পশু কেড়ে নিত।
- কৃষক বিদ্রোহ: এই চরম শোষণের ফলেই কৃষকরা বারবার বিদ্রোহ করতে বাধ্য হয়েছিল। এর বড় উদাহরণ হলো 1859-60 সালের বাংলার নীল বিদ্রোহ এবং 1875 সালের মহারাষ্ট্রের দাক্ষিণাত্য হাঙ্গামা।
উপসংহার: কৃষির বাণিজ্যকরণের ফলে ব্রিটিশ পুঁজিপতি ও দেশীয় মহাজনরা প্রচুর লাভবান হলেও সাধারণ ভারতীয় কৃষকদের জীবন চরম আর্থিক সংকট ও দারিদ্র্যের মধ্যে নিপতিত হয়।
4. ‘সম্পদের নির্গমন’ (Drain of Wealth) বলতে কী বোঝায়? কীভাবে ভারত থেকে সম্পদ ব্রিটেনে পাচার হতো এবং ভারতের অর্থনীতিতে এর কী প্রভাব পড়েছিল?
উত্তর দেখো
সম্পদ পাচারের মাধ্যম:
- কোম্পানির লাভ ও কর্মচারীদের অর্থ পাচার: ব্রিটিশ কোম্পানি ভারত থেকে আদায় করা রাজস্ব দিয়েই ভারতের জিনিসপত্র কিনে বিদেশে চড়া দামে বিক্রি করত। কোম্পানির কর্মচারীরা ব্যক্তিগত বাণিজ্য, ঘুষ ও উপঢৌকন (যেমন- ক্লাইভের পলাশীর লুণ্ঠন) হিসেবে পাওয়া বিপুল অর্থ নিজেদের দেশে পাঠিয়ে দিত।
- স্বরাষ্ট্র ব্যয় (Home Charges): লন্ডনে কোম্পানির ‘বোর্ড অব কন্ট্রোল’-এর সদস্যদের বেতন, সামরিক সরঞ্জাম কেনার খরচ, এবং ভারতে বিনিয়োগ করা ব্রিটিশ পুঁজিপতিদের চড়া সুদ ভারতের রাজস্ব থেকেই মেটানো হতো।
অর্থনীতিতে প্রভাব:
- মূলধনের শূন্যতা: দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ক্রমাগত বেরিয়ে যাওয়ার ফলে ভারতে তীব্র মূলধনের ঘাটতি দেখা দেয়। টাকার অভাবে ভারতে কোনো নতুন শিল্প গড়ে উঠতে পারেনি।
- দারিদ্র্য বৃদ্ধি: সম্পদের এই বিপুল শূন্যতা পূরণ করার জন্য ব্রিটিশরা সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের ওপর করের বোঝা দ্বিগুণ করে দেয়, যার ফলে দেশে চরম দারিদ্র্য ও অনাহার দেখা দেয়।
5. ব্রিটিশ সরকার কী উদ্দেশ্যে ভারতে রেলপথ স্থাপন করেছিল? ভারতের অর্থনীতিতে রেলপথের ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাবগুলি আলোচনা করো।
উত্তর দেখো
ইতিবাচক প্রভাব:
- যাতায়াত ও যোগাযোগ: সাধারণ ভারতীয়দের যাতায়াতের ব্যাপক সুবিধা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমে যাওয়ায় ভারতীয়দের মধ্যে ঐক্য ও জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটে।
- দুর্ভিক্ষ মোকাবিলা: দেশের কোনো অংশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে রেলপথের মাধ্যমে দ্রুত সেখানে খাদ্যশস্য পৌঁছে দেওয়া সহজ হয়েছিল।
নেতিবাচক প্রভাব:
- হস্তশিল্পের বিনাশ: ট্রেনের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের কারখানায় তৈরি সস্তা পণ্য অতি সহজেই ভারতের গ্রামে গ্রামে পৌঁছে যায়, যা দেশীয় হস্ত ও কুটিরশিল্পকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়।
- সম্পদের নির্গমন বৃদ্ধি: রেলপথ নির্মাণের সমস্ত সরঞ্জাম (লোহা, রেল ইঞ্জিন) ইংল্যান্ড থেকে চড়া দামে কেনা হতো এবং ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীদের 5% চড়া সুদ (‘গ্যারান্টি ব্যবস্থা’) দেওয়া হতো, যা ভারতের সম্পদের নির্গমনকে মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে তুলেছিল।
উপসংহার: কার্ল মার্কস বলেছিলেন, রেলপথ ভারতের আধুনিকীকরণের পথ প্রশস্ত করবে। এটি সত্যি হলেও, ব্রিটিশ আমলে রেলপথ মূলত ভারতের অর্থনৈতিক শোষণের একটি বড় হাতিয়ার হিসেবেই কাজ করেছিল।
6. বাংলায় ‘নীল বিদ্রোহ’ (1859-60) কেন সংঘটিত হয়েছিল? এই বিদ্রোহে বাংলার শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজের ভূমিকা কীরূপ ছিল?
উত্তর দেখো
বিদ্রোহের কারণ:
- দাদন প্রথা ও জোরজুলুম: ইউরোপীয় নীলকররা বাংলার কৃষকদের জোর করে সামান্য কিছু টাকা অগ্রিম বা ‘দাদন’ দিত। একবার দাদন নিলে কৃষকদের বংশানুক্রমিক ভাবে নীল চাষ করতে হতো।
- খাদ্যাভাব: কৃষকদের সবচেয়ে উর্বর জমিতে ধান বা খাদ্যশস্যের বদলে নীল চাষ করতে বাধ্য করা হতো। ফলে কৃষকদের ঘরে খাদ্যের তীব্র অভাব দেখা দিত।
- অলাভজনক চাষ: নীলের দাম নির্ধারণ করত নীলকররা নিজেই। তারা এত কম দাম দিত যে, সারাবছর খেটেও কৃষকদের দাদনের ঋণ শোধ হতো না।
- শারীরিক অত্যাচার: কোনো কৃষক নীল চাষে অস্বীকার করলে তার ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হতো, গবাদি পশু কেড়ে নেওয়া হতো এবং নীলকুঠিতে আটকে রেখে চাবুক মারা হতো। এই সীমাহীন অত্যাচারের ফলেই কৃষকরা বিদ্রোহ করতে বাধ্য হয়।
শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজের ভূমিকা:
- পত্রপত্রিকার প্রচার: হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় ‘হিন্দু প্যাট্রিয়ট’ পত্রিকা এবং অক্ষয়কুমার দত্তের ‘তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা’ নীলকরদের এই নির্মম অত্যাচারের খবর ধারাবাহিকভাবে ছাপিয়ে জনমত গঠন করে।
- নীল দর্পণ নাটক: দীনবন্ধু মিত্র তাঁর যুগান্তকারী ‘নীল দর্পণ’ নাটকের মাধ্যমে নীল চাষিদের দুর্দশার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করে তা ব্রিটিশ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্তাদের কাছে পৌঁছে দেন।
- আইনি সহায়তা: বাংলার বহু শিক্ষিত আইনজীবী এবং ছাত্র সমাজ নীলকরদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে কৃষকদের বিনা পারিশ্রমিকে সাহায্য করেছিলেন।
উপসংহার: কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ লড়াই এবং শিক্ষিত সমাজের বলিষ্ঠ সমর্থনের ফলেই ব্রিটিশ সরকার 1860 সালে ‘নীল কমিশন’ গঠন করতে বাধ্য হয় এবং বাংলায় বলপ্রয়োগ করে নীল চাষ বেআইনি ঘোষণা করে।
7. ব্রিটিশ ভারতে প্রবর্তিত রায়তওয়ারি ও মহলওয়ারি বন্দোবস্ত কোথায় এবং কেন চালু করা হয়েছিল? এই ব্যবস্থাগুলিতে কৃষকদের অবস্থা কেমন ছিল?
উত্তর দেখো
রায়তওয়ারি বন্দোবস্ত (Ryotwari Settlement):
- কোথায় চালু হয়: দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম ভারতে (মাদ্রাজ, বোম্বাই প্রেসিডেন্সি ও আসামের কিছু অংশে) টমাস মুনরো এবং আলেকজান্ডার রিড এই ব্যবস্থা চালু করেন।
- পদ্ধতি: এখানে জমিদারদের বদলে সরাসরি কৃষকদের (রায়ত) সাথে 20 থেকে 30 বছরের জন্য রাজস্বের চুক্তি করা হয়।
- কৃষকদের অবস্থা: জমিদার না থাকলেও কৃষকদের অবস্থার উন্নতি হয়নি। রাজস্বের হার উৎপাদনের প্রায় 50% ছিল এবং তা নগদে শোধ করতে হতো। ফলে কৃষকরা মহাজনদের ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ত এবং নির্দিষ্ট সময়ে কর না দিলে ব্রিটিশ সরকার তাদের জমি কেড়ে নিত।
মহলওয়ারি বন্দোবস্ত (Mahalwari Settlement):
- কোথায় চালু হয়: উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ভারতে (গঙ্গা উপত্যকা, মধ্যপ্রদেশ ও পাঞ্জাবের কিছু অংশে) হোল্ট ম্যাকেঞ্জির উদ্যোগে এই ব্যবস্থা চালু হয়।
- পদ্ধতি: এই ব্যবস্থায় কোনো একজন ব্যক্তির বদলে কয়েকটি গ্রাম নিয়ে গঠিত একটি ‘মহল’ বা এস্টেটকে রাজস্ব আদায়ের একক ধরা হতো। রাজস্ব জমা দেওয়ার দায়িত্ব ছিল সমগ্র মহলের কৃষকদের যৌথ।
- কৃষকদের অবস্থা: এখানেও রাজস্বের পরিমাণ বারবার বৃদ্ধি করা হতো। খরা বা বন্যায় ফসল নষ্ট হলেও গ্রামের মোড়ল বা প্রধানরা জোর করে কৃষকদের থেকে রাজস্ব আদায় করত, যার ফলে কৃষকরা চরম দারিদ্র্যের শিকার হয়।
উপসংহার: নাম ও পদ্ধতি আলাদা হলেও চিরস্থায়ী, রায়তওয়ারি এবং মহলওয়ারি— এই তিনটি ব্যবস্থারই মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় কৃষকদের চরম শোষণ করে ব্রিটিশ কোষাগার ভরানো।