অষ্টম শ্রেণী: ইতিহাস, অধ্যায় – 6: জাতীয়তাবাদের প্রাথমিক বিকাশ’ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
অধ্যায় 6: জাতীয়তাবাদের প্রাথমিক বিকাশ
(সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর – মান: 2) – পর্ব 1
নিচের প্রশ্নগুলির দু-তিনটি বাক্যে উত্তর দাও:
1. 19 শতকের দ্বিতীয়ার্ধকে ‘সভাসমিতির যুগ’ (Age of Associations) বলা হয় কেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: 19 শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ভারতে (বিশেষ করে বাংলায়) পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত মধ্যবিত্তদের উদ্যোগে রাজনৈতিক অধিকার ও দাবিদাওয়া আদায়ের জন্য বহু আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন বা সভাসমিতি গড়ে উঠেছিল। তাই ড. অনিল শীল এই সময়কালকে ‘সভাসমিতির যুগ’ বলেছেন।
2. ‘বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা’ (1836)-এর প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: এটি ছিল ভারতের প্রথম রাজনৈতিক সংগঠন। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ধর্ম বা সমাজ সংস্কার নয়, বরং সরকারের বিভিন্ন কাজের আলোচনা করা এবং করকাঠামো ও প্রশাসনিক বিষয়ে দেশবাসীর অভাব-অভিযোগ সরকারের কাছে তুলে ধরা।
3. ‘জমিদার সভা’ (Landholders’ Society) কেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: 1838 খ্রিস্টাব্দে রাধাকান্ত দেব ও দ্বারকানাথ ঠাকুরের উদ্যোগে জমিদার সভা প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলার জমিদারদের নিজস্ব স্বার্থ, জমিদারি রক্ষা এবং সরকারের কাছে তাদের অধিকার ও দাবিদাওয়াগুলি তুলে ধরা।
4. ‘হিন্দু মেলা’ (1867) প্রতিষ্ঠার প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: নবগোপাল মিত্র প্রতিষ্ঠিত হিন্দু মেলার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষিত যুবকদের মধ্যে হিন্দু ধর্মের অতীত গৌরব স্মরণ করিয়ে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধ জাগিয়ে তোলা এবং দেশীয় কুটিরশিল্প ও শরীরচর্চার বিকাশ ঘটানো।
5. ‘ভারত সভা’ (Indian Association) কবে, কাদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তর দেখো
উত্তর: 1876 খ্রিস্টাব্দে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, আনন্দমোহন বসু এবং শিবনাথ শাস্ত্রীর উদ্যোগে কলকাতায় ‘ভারত সভা’ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ছিল তৎকালীন ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী রাজনৈতিক সংগঠন।
6. ‘ভারত সভা’-র (Indian Association) দুটি প্রধান উদ্দেশ্য লেখো।
উত্তর দেখো
উত্তর: (1) দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে শক্তিশালী রাজনৈতিক জনমত গঠন করা। (2) হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলা এবং রাজনৈতিক স্বার্থে সমস্ত ভারতবাসীকে একজোট করা।
7. লর্ড লিটনের ‘অস্ত্র আইন’ (Arms Act, 1878) কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: লর্ড লিটন 1878 খ্রিস্টাব্দে একটি বৈষম্যমূলক অস্ত্র আইন পাস করেন। এই আইনে বলা হয় যে, কোনো ভারতীয় সরকারি লাইসেন্স বা অনুমতি ছাড়া কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নিজের কাছে রাখতে পারবে না, তবে ইউরোপীয়দের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য ছিল না।
8. ‘দেশীয় মুদ্রাযন্ত্র আইন’ (Vernacular Press Act, 1878) কেন পাস করা হয়েছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: ভারতীয় সংবাদপত্রগুলি ব্রিটিশ সরকারের বিভিন্ন কাজের তীব্র সমালোচনা করে জাতীয়তাবাদ প্রচার করত। তাই ভারতীয় ভাষায় প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলির কণ্ঠরোধ করার জন্য ভাইসরয় লর্ড লিটন 1878 খ্রিস্টাব্দে এই দমনমূলক আইনটি পাস করেছিলেন।
9. ইলবার্ট বিল (Ilbert Bill) কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: 1883 খ্রিস্টাব্দে ভাইসরয় লর্ড রিপনের আইনসচিব কোর্টনি ইলবার্ট একটি বিল বা খসড়া আইন রচনা করেন। এতে ভারতীয় বিচারকদের ইউরোপীয় বা শ্বেতাঙ্গ অপরাধীদের বিচার করার অধিকার দেওয়া হয়েছিল, যা আগে ভারতীয়দের ছিল না।
10. ‘শ্বেতাঙ্গ বিদ্রোহ’ (White Mutiny) বলতে কী বোঝায়?
উত্তর দেখো
উত্তর: ইলবার্ট বিলে ভারতীয় বিচারকদের ইউরোপীয়দের বিচার করার অধিকার দেওয়ায়, ভারতে বসবাসকারী ইউরোপীয়রা চরম বর্ণবিদ্বেষের বশবর্তী হয়ে এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করে যে প্রবল ও সংঘবদ্ধ আন্দোলন শুরু করেছিল, তাকেই শ্বেতাঙ্গ বিদ্রোহ বলা হয়।
11. ভারতের জাতীয় কংগ্রেস (Indian National Congress) কবে, কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তর দেখো
উত্তর: 1885 খ্রিস্টাব্দের 28 ডিসেম্বর বোম্বাইয়ের (বর্তমান মুম্বই) গোকুলদাস তেজপাল সংস্কৃত কলেজে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ছিল ভারতের প্রথম সর্বভারতীয় রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।
12. অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম (A. O. Hume) কে ছিলেন? জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম ছিলেন একজন অবসরপ্রাপ্ত ও উদারপন্থী ব্রিটিশ সিভিলিয়ান। তিনি ভারতীয়দের ক্ষোভ প্রশমিত করার জন্য একটি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক মঞ্চ তৈরির কথা ভাবেন এবং মূলত তাঁরই উদ্যোগে ও প্রচেষ্টায় 1885 খ্রিস্টাব্দে জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়।
13. জাতীয় কংগ্রেসের ক্ষেত্রে ‘সেফটি ভালভ’ (Safety Valve) তত্ত্ব বলতে কী বোঝায়?
উত্তর দেখো
উত্তর: অনেক ঐতিহাসিকের মতে, হিউম ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে রক্ষা করার জন্যই কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যাতে ভারতীয়দের পুঞ্জীভূত রাজনৈতিক ক্ষোভ সরাসরি বিদ্রোহের আকার না নিয়ে এই মঞ্চের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে (প্রেসার কুকারের সেফটি ভালভের মতো) বেরিয়ে যেতে পারে।
14. জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনের সভাপতি কে ছিলেন? এই অধিবেশনে কতজন প্রতিনিধি যোগ দেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: 1885 খ্রিস্টাব্দে বোম্বাইতে অনুষ্ঠিত জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন বাঙালি আইনজীবী উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (W. C. Bonnerjee)। এই অধিবেশনে সারা দেশ থেকে মোট 72 জন প্রতিনিধি যোগ দিয়েছিলেন।
15. ‘নরমপন্থী’ (Moderates) কাদের বলা হতো?
উত্তর দেখো
উত্তর: জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম কুড়ি বছরের (1885-1905) নেতাদের (যেমন- দাদাভাই নওরোজি, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়) নরমপন্থী বলা হতো। কারণ তাঁরা ব্রিটিশ শাসনের প্রতি অনুগত থেকে, আইনসম্মত পথে আবেদন-নিবেদন নীতির মাধ্যমে দাবি আদায়ে বিশ্বাসী ছিলেন।
16. আদি পর্বের নরমপন্থী নেতাদের প্রধান দাবিগুলি কী কী ছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: নরমপন্থীদের প্রধান দাবিগুলি ছিল— আইনসভাগুলিতে ভারতীয়দের নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি করা, সিভিল সার্ভিস (ICS) পরীক্ষার বয়স বাড়িয়ে ভারতে ও ইংল্যান্ডে একসঙ্গে পরীক্ষা নেওয়া এবং সামরিক ব্যয় কমিয়ে কৃষির উন্নতি করা।
17. ‘অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ’ (Economic Nationalism) বলতে কী বোঝায়?
উত্তর দেখো
উত্তর: 19 শতকের দ্বিতীয়ার্ধে দাদাভাই নওরোজি, রমেশচন্দ্র দত্ত প্রমুখ নেতারা তথ্য ও পরিসংখ্যান দিয়ে প্রমাণ করেন যে, ব্রিটিশ শাসনই ভারতের দারিদ্র্যের মূল কারণ। ব্রিটিশদের এই অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে ভারতীয়দের মনে যে তীব্র প্রতিবাদী চেতনার জন্ম হয়েছিল, তাকেই অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ বলা হয়।
18. ‘সম্পদের নির্গমন’ (Drain of Wealth) তত্ত্বটি কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: দাদাভাই নওরোজি সর্বপ্রথম এই তত্ত্বটি প্রচার করেন। এর অর্থ হলো, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও ব্রিটিশ সরকার কোনো রকম বাণিজ্যিক বা অর্থনৈতিক প্রতিদান ছাড়াই ভারতের বিপুল পরিমাণ অর্থ, কাঁচামাল এবং সম্পদ জোর করে ইংল্যান্ডে পাচার করছিল, যা ভারতকে চরম দরিদ্র করে তুলেছিল।
19. দাদাভাই নওরোজি কে ছিলেন? তাঁকে কেন ‘ভারতের বৃদ্ধ মানুষ’ বলা হতো?
উত্তর দেখো
উত্তর: দাদাভাই নওরোজি ছিলেন জাতীয় কংগ্রেসের আদি পর্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নরমপন্থী নেতা এবং ‘Poverty and Un-British Rule in India’ গ্রন্থের রচয়িতা। তাঁর অগাধ জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের জন্য তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে ‘ভারতের বৃদ্ধ মানুষ’ বা ‘Grand Old Man of India’ বলা হতো।
20. সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন ‘মুকুটহীন রাজা’ বলা হতো?
উত্তর দেখো
উত্তর: ‘ভারত সভা’-র প্রতিষ্ঠাতা সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন একজন বাগ্মী ও তেজস্বী নেতা। ইলবার্ট বিল বিতর্ক এবং দেশীয় মুদ্রাযন্ত্র আইনের বিরুদ্ধে তিনি সারা বাংলা জুড়ে যে প্রবল গণআন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন, তার জন্যই মানুষের ভালোবাসায় তিনি ‘মুকুটহীন রাজা’ বা ‘রাষ্ট্রগুরু’ উপাধি পান।
21. ‘পুনা সার্বজনিক সভা’ (1870) কবে, কেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: 1870 খ্রিস্টাব্দে মহাদেব গোবিন্দ রানাডে এবং গণেশ বাসুদেব যোশির উদ্যোগে মহারাষ্ট্রে এই সভা প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকার ও জনগণের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করা এবং কৃষকদের অভাব-অভিযোগ সরকারের কাছে তুলে ধরা।
22. ‘মাদ্রাজ মহাজন সভা’ কবে, কাদের উদ্যোগে গঠিত হয়?
উত্তর দেখো
উত্তর: দক্ষিণ ভারতে রাজনৈতিক চেতনা প্রসারের উদ্দেশ্যে 1884 খ্রিস্টাব্দে পি. আনন্দ চালু, সুব্রহ্মণ্য আয়ার এবং বীররাঘব আচারিয়ার উদ্যোগে ‘মাদ্রাজ মহাজন সভা’ গঠিত হয়।
23. ‘বম্বে প্রেসিডেন্সি অ্যাসোসিয়েশন’ (1885) কারা প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: লর্ড লিটনের প্রতিক্রিয়াশীল নীতির প্রতিবাদে 1885 খ্রিস্টাব্দে বোম্বাইতে ফিরোজশাহ মেহতা, বদরুদ্দিন তায়াবজি এবং কাশীনাথ ত্রিম্বক তেলাং-এর উদ্যোগে ‘বম্বে প্রেসিডেন্সি অ্যাসোসিয়েশন’ প্রতিষ্ঠিত হয়।
24. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি কে ছিলেন এবং তিনি কবে নির্বাচিত হন?
উত্তর দেখো
উত্তর: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি ছিলেন বদরুদ্দিন তায়াবজি। তিনি 1887 খ্রিস্টাব্দে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত জাতীয় কংগ্রেসের তৃতীয় অধিবেশনে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
25. ‘দেশীয় মুদ্রাযন্ত্র আইন’ (Vernacular Press Act) কে বাতিল করেন এবং কেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: লর্ড লিটনের প্রণয়ন করা এই দমনমূলক আইনের বিরুদ্ধে ভারত সভা প্রবল আন্দোলন গড়ে তোলে। অবশেষে উদারপন্থী ভাইসরয় লর্ড রিপন ভারতীয়দের অসন্তোষ দূর করার জন্য 1882 খ্রিস্টাব্দে এই আইনটি বাতিল করেন।
26. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: 1882 খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে দেশমাতৃকাকে দেবী হিসেবে কল্পনা করে ভারতবাসীকে আত্মত্যাগের মন্ত্রে দীক্ষিত করা হয়েছিল। এই উপন্যাসের ‘বন্দে মাতরম’ গানটি পরবর্তীকালে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের জাতীয় ধ্বনিতে পরিণত হয়।
27. স্বামী বিবেকানন্দের ‘বর্তমান ভারত’ গ্রন্থটি কীভাবে জাতীয়তাবাদ বিকাশে সাহায্য করেছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: ‘বর্তমান ভারত’ গ্রন্থে স্বামী বিবেকানন্দ ভারতের অতীত গৌরব স্মরণ করিয়ে দেশবাসীকে দুর্বলতা ও ভীরুতা ঝেড়ে ফেলে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি দেশের কৃষক, শ্রমিক ও দরিদ্র মানুষকে দেশের আসল শক্তি বলে বর্ণনা করে তাদের মধ্যে এক প্রবল আত্মবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছিলেন।
28. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গোরা’ উপন্যাসের মূল বক্তব্য কী ছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গোরা’ উপন্যাসে ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বে উঠে এক উদার ও ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদের কথা বলা হয়েছে। এই উপন্যাসে দেখানো হয়েছে যে, প্রকৃত ভারতবাসী হতে গেলে সংকীর্ণ ধর্মীয় গণ্ডি পেরিয়ে সমস্ত মানুষকে আপন করে নিতে হয়।
29. জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব কী ছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: প্রথম অধিবেশনে বেশ কিছু প্রস্তাব নেওয়া হয়, যার মধ্যে প্রধান দুটি হলো— (1) ভারতের প্রশাসন ও সামরিক ব্যয় কমানোর জন্য একটি রাজকীয় কমিশন গঠন করা। (2) কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইনসভাগুলিতে নির্বাচিত ভারতীয় সদস্যদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা।
30. ইলবার্ট বিল বিতর্কের ফলাফল বা গুরুত্ব কী ছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: ইউরোপীয়দের শ্বেতাঙ্গ বিদ্রোহের চাপে সরকার ইলবার্ট বিল সংশোধন করতে বাধ্য হলে ভারতীয়রা ব্রিটিশদের আসল বর্ণবিদ্বেষী রূপটি চিনতে পারে। এর ফলে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সমগ্র ভারতে এক তীব্র রাজনৈতিক চেতনার জন্ম হয়, যা পরে জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করেছিল।