অষ্টম শ্রেণী: ইতিহাস, অধ্যায় – 7 ‘ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন’ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর মান ২
অধ্যায় 7: জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন
(সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর – মান: 2) – পর্ব 1
নিচের প্রশ্নগুলির দু-তিনটি বাক্যে উত্তর দাও:
1. লর্ড কার্জন কী যুক্তিতে বঙ্গভঙ্গ (1905) করেছিলেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: লর্ড কার্জন দাবি করেছিলেন যে, বাংলা প্রদেশটি আয়তনে অনেক বড় হওয়ায় একজন গভর্নরের পক্ষে তা শাসন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই প্রশাসনিক সুবিধার অজুহাত দেখিয়েই তিনি 1905 খ্রিস্টাব্দে বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করেছিলেন।
2. বঙ্গভঙ্গের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: বঙ্গভঙ্গের প্রকৃত উদ্দেশ্য প্রশাসনিক সুবিধা ছিল না। এর আসল লক্ষ্য ছিল— হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টি করে এবং বাঙালি জাতিকে ভৌগোলিকভাবে খণ্ডিত করে, বাংলার বুকে গড়ে ওঠা শক্তিশালী ব্রিটিশ বিরোধী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে চিরতরে দুর্বল করে দেওয়া।
3. ‘স্বদেশি’ ও ‘বয়কট’ আন্দোলন বলতে কী বোঝায়?
উত্তর দেখো
উত্তর: বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে ব্রিটিশদের তৈরি সমস্ত বিদেশি দ্রব্য, স্কুল-কলেজ ও উপাধি বর্জন করাকে ‘বয়কট’ বলা হয়। আর বয়কটের পাশাপাশি নিজেদের দেশে তৈরি জিনিসপত্র ব্যবহার এবং দেশীয় শিল্পের বিকাশ ঘটানোর উদ্যোগকে ‘স্বদেশি আন্দোলন’ বলা হয়।
4. বঙ্গভঙ্গের দিনটিতে কেন ‘রাখিবন্ধন’ উৎসব পালন করা হয়েছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: 1905 সালের 16 অক্টোবর যেদিন বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয়, সেদিন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আহ্বানে হিন্দু ও মুসলিমরা একে অপরের হাতে রাখি পরিয়ে দেন। ব্রিটিশ সরকার বাংলাকে ভাগ করলেও, বাংলার মানুষ যে মনে প্রাণে এক ও অবিচ্ছেদ্য—তা প্রমাণ করতেই এই উৎসব পালিত হয়।
5. জাতীয় কংগ্রেসে ‘চরমপন্থী’ (Extremists) কাদের বলা হতো?
উত্তর দেখো
উত্তর: 20 শতকের শুরুতে বাল গঙ্গাধর তিলক, বিপিনচন্দ্র পাল, লালা লাজপত রায় প্রমুখ নেতারা নরমপন্থীদের ‘আবেদন-নিবেদন’ নীতিকে ‘রাজনৈতিক ভিক্ষাবৃত্তি’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন। ব্রিটিশদের হাত থেকে স্বরাজ আদায়ের জন্য তাঁরা বয়কট, নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ ও লড়াকু নীতিতে বিশ্বাস করতেন বলে তাঁদের চরমপন্থী বলা হতো।
6. ‘সুরাট বিচ্ছেদ’ (Surat Split, 1907) কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: 1907 খ্রিস্টাব্দে জাতীয় কংগ্রেসের সুরাট অধিবেশনে স্বদেশি, বয়কট ও স্বরাজ প্রস্তাব গ্রহণ এবং সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নরমপন্থী ও চরমপন্থীদের মধ্যে প্রবল দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এর ফলে কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে দুটি দলে বিভক্ত হয়ে যায়, যা ইতিহাসে সুরাট বিচ্ছেদ নামে পরিচিত।
7. ‘অনুশীলন সমিতি’ (1902) প্রতিষ্ঠার প্রধান লক্ষ্য কী ছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: প্রমথনাথ মিত্র প্রতিষ্ঠিত অনুশীলন সমিতির প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল লাঠিখেলা ও শরীরচর্চার মাধ্যমে বাংলার যুবসমাজকে মানসিকভাবে ও শারীরিকভাবে শক্তিশালী করে তোলা। তবে এর গোপন লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের জন্য যুবকদের প্রস্তুত করা।
8. ক্ষুদিরাম বসু এবং প্রফুল্ল চাকী কেন কিংসফোর্ডকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: কিংসফোর্ড ছিলেন মজঃফরপুরের একজন অত্যন্ত নিষ্ঠুর ব্রিটিশ বিচারক। তিনি স্বদেশি আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী বন্দিদের ওপর, বিশেষ করে ছাত্রদের ওপর, অমানবিক শারীরিক অত্যাচার ও কঠোর শাস্তির নির্দেশ দিতেন। এই অন্যায়ের প্রতিশোধ নিতেই বিপ্লবীরা তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
9. ‘আলীপুর বোমা মামলা’ (1908) বলতে কী বোঝায়?
উত্তর দেখো
উত্তর: মজঃফরপুরে কিংসফোর্ডকে হত্যার চেষ্টার পর ব্রিটিশ পুলিশ কলকাতার মুরারিপুকুরে বিপ্লবীদের গুপ্ত আস্তানায় হানা দিয়ে প্রচুর বোমা ও অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করে। এই ঘটনায় অরবিন্দ ঘোষ, বারীন্দ্রকুমার ঘোষ সহ বহু বিপ্লবীদের গ্রেপ্তার করে ব্রিটিশ সরকার যে মামলা দায়ের করে, তা আলীপুর বোমা মামলা নামে পরিচিত।
10. ‘গদর পার্টি’ (Ghadar Party) কবে, কোথায় এবং কী উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তর দেখো
উত্তর: 1913 খ্রিস্টাব্দে আমেরিকার সান ফ্রান্সিসকো শহরে লালা হরদয়াল গদর পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতের বাইরে থেকে বিদেশি অস্ত্র ও অর্থের সাহায্যে ভারতে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে এক ভয়ংকর সশস্ত্র বিদ্রোহ (গদর) সংগঠিত করা।
11. ‘বুড়িবালামের যুদ্ধ’ (1915) কাদের মধ্যে হয়েছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: 1915 খ্রিস্টাব্দের 9 সেপ্টেম্বর ওড়িশার বালেশ্বরে বুড়িবালাম নদীর তীরে চার্লস টেগার্টের নেতৃত্বে বিশাল ব্রিটিশ পুলিশ বাহিনীর সাথে মহান বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (বাঘা যতীন) এবং তাঁর চার সঙ্গীর সম্মুখ সশস্ত্র যুদ্ধ হয়েছিল। এটিই বুড়িবালামের যুদ্ধ নামে পরিচিত।
12. ‘রাওলাট আইন’ (Rowlatt Act, 1919)-এর প্রধান দুটি শর্ত কী ছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: ব্রিটিশদের প্রবর্তিত এই দমনমূলক কালাকানুনে বলা হয়— (1) বিনা পরোয়ানায় বা বিনা প্রমাণে যে কোনো ভারতীয়কে গ্রেপ্তার করা যাবে। (2) বিনা বিচারে যে কাউকে অনির্দিষ্টকালের জন্য জেলে আটকে রাখা যাবে এবং এর বিরুদ্ধে কোনো আপিল করা যাবে না।
13. জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ড (1919) কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: 1919 সালের 13 এপ্রিল পাঞ্জাবের অমৃতসরে জালিয়ানওয়ালাবাগের একটি ঘেরা মাঠে রাওলাট আইনের প্রতিবাদে এবং বৈশাখী মেলা উপলক্ষে হাজার হাজার নিরস্ত্র মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। ব্রিটিশ জেনারেল ডায়ার কোনো সতর্কবার্তা ছাড়াই ওই নিরস্ত্র জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে কয়েকশো মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেন।
14. খিলাফত আন্দোলন (Khilafat Movement) কেন শুরু হয়েছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্ক হেরে গেলে ব্রিটিশরা তুরস্কের সুলতান বা খলিফাকে (যিনি ছিলেন সমগ্র মুসলিম জগতের ধর্মগুরু) ক্ষমতাচ্যুত ও অপমানিত করে। এর প্রতিবাদে এবং খলিফার হৃত সম্মান পুনরুদ্ধারের দাবিতে ভারতের মুসলিমরা আলি ভাইদের নেতৃত্বে যে আন্দোলন শুরু করেছিল, তা খিলাফত আন্দোলন নামে পরিচিত।
15. মহাত্মা গান্ধীর ‘সত্যাগ্রহ’ (Satyagraha) দর্শনের মূল ভিত্তি কী ছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: ‘সত্যাগ্রহ’ শব্দের অর্থ হলো সত্যের প্রতি আগ্রহ বা সত্যকে আঁকড়ে ধরে থাকা। গান্ধীজির এই দর্শনের মূল ভিত্তি ছিল সম্পূর্ণ অহিংসা, নৈতিক সাহস এবং অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করা। তিনি মনে করতেন, হিংসার আশ্রয় না নিয়েও কেবল সত্যের জোরে শত্রুকে পরাজিত করা সম্ভব।
16. অসহযোগ আন্দোলন (Non-Cooperation Movement, 1920) বলতে কী বোঝায়?
উত্তর দেখো
উত্তর: জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যা ও খিলাফত সমস্যার প্রতিবাদে 1920 সালে গান্ধীজির নেতৃত্বে শুরু হওয়া ভারতের প্রথম সর্বভারতীয় গণআন্দোলন হলো অসহযোগ আন্দোলন। এর মূল নীতি ছিল সম্পূর্ণ অহিংস পদ্ধতিতে ব্রিটিশ সরকারের সাথে সমস্ত রকম রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সহযোগিতা বন্ধ করে দেওয়া।
17. ‘চৌরিচৌরা ঘটনা’ (1922) কী? এর ফলাফল কী হয়েছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: 1922 খ্রিস্টাব্দে উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর জেলার চৌরিচৌরা গ্রামে পুলিশ বিনা প্ররোচনায় অহিংস জনতার ওপর গুলি চালালে, উত্তেজিত জনতা একটি পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং 22 জন পুলিশকর্মী মারা যান। এই হিংসাত্মক ঘটনার জেরে ব্যথিত হয়ে গান্ধীজি অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন।
18. ‘স্বরাজ্য দল’ (Swaraj Party, 1923) কেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: গান্ধীজি অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করলে চিত্তরঞ্জন দাশ এবং মতিলাল নেহরু মনে করেন যে, আন্দোলন থামিয়ে রাখা ঠিক নয়। তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন যে, আইনসভায় প্রবেশ করে ভেতর থেকে ব্রিটিশ সরকারের অন্যায় আইনগুলির বিরোধিতা করবেন, এবং এই উদ্দেশ্যেই 1923 সালে তাঁরা ‘স্বরাজ্য দল’ প্রতিষ্ঠা করেন।
19. ‘সাইমন কমিশন’ (Simon Commission, 1928) কেন গঠন করা হয়েছিল এবং ভারতীয়রা কেন এর বিরোধিতা করেছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: 1919 সালের ভারত শাসন আইনের কার্যকারিতা খতিয়ে দেখার জন্য ব্রিটিশ সরকার জন সাইমনের নেতৃত্বে এই কমিশন গঠন করে। কিন্তু ভারতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য তৈরি এই কমিশনে কোনো ভারতীয় সদস্য না থাকায় (সবাই ব্রিটিশ ছিল), ভারতীয়রা একে অপমানজনক মনে করে এবং কালো পতাকা দেখিয়ে এর তীব্র বিরোধিতা করে।
20. জাতীয় কংগ্রেসের লাহোর অধিবেশনে (1929) গৃহীত ‘পূর্ণ স্বরাজ’ (Purna Swaraj) প্রস্তাবের ঐতিহাসিক গুরুত্ব কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: 1929 সালে জওহরলাল নেহরুর সভাপতিত্বে লাহোর অধিবেশনে কংগ্রেস প্রথমবারের জন্য ভারতের চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে ‘পূর্ণ স্বরাজ’ বা সম্পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি ঘোষণা করে। এই অধিবেশনেই সিদ্ধান্ত হয় যে, 1930 সালের 26 জানুয়ারি সারা দেশে প্রথম স্বাধীনতা দিবস পালিত হবে।
21. ‘আইন অমান্য আন্দোলন’ (Civil Disobedience Movement) বলতে কী বোঝায়?
উত্তর দেখো
উত্তর: 1930 সালে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল সম্পূর্ণ অহিংস পথে এবং শান্তিপূর্নভাবে ব্রিটিশ সরকারের তৈরি করা বিভিন্ন অন্যায় আইন (যেমন- লবণ আইন, বন আইন) ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করা বা ভেঙে দেওয়া এবং কর দেওয়া বন্ধ করা।
22. ‘ডান্ডি অভিযান’ (Dandi March, 1930) কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: ব্রিটিশ সরকার লবণের ওপর কর বসালে, এর প্রতিবাদে 1930 খ্রিস্টাব্দে মহাত্মা গান্ধী তাঁর 78 জন অনুগামীকে নিয়ে সবরমতী আশ্রম থেকে গুজরাটের সমুদ্রতীরবর্তী ডান্ডি গ্রাম পর্যন্ত প্রায় 385 কিমি পথ পায়ে হেঁটে অতিক্রম করেন। সেখানে সমুদ্রের জল থেকে লবণ তৈরি করে তিনি আইন অমান্য আন্দোলনের সূচনা করেন।
23. ‘সীমান্ত গান্ধী’ কাকে বলা হতো? তাঁর দলের নাম কী ছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে খান আবদুল গফফর খান গান্ধীজির অহিংস নীতির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আন্দোলন পরিচালনা করেছিলেন বলে তাঁকে ‘সীমান্ত গান্ধী’ বলা হতো। তাঁর গঠিত অহিংস স্বেচ্ছাসেবক দলের নাম ছিল ‘খোদাই খিদমতগার’ (ঈশ্বরের সেবক) বা লালকোর্তা বাহিনী।
24. মাস্টারদা সূর্য সেনের ‘চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন’ (1930) সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর দেখো
উত্তর: 1930 খ্রিস্টাব্দের 18 এপ্রিল মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে ‘ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি’-র কয়েকজন তরুণ ও নির্ভীক বিপ্লবী চট্টগ্রামের দুটি পুলিশ অস্ত্রাগার দখল করে নেন এবং শহরের টেলিফোন ও টেলিগ্রাফ লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেন। এর ফলে কয়েকদিনের জন্য চট্টগ্রাম ব্রিটিশ শাসনমুক্ত হয়েছিল।
25. ‘অলিন্দ যুদ্ধ’ (1930) কাদের মধ্যে এবং কেন হয়েছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: কারা-পরিদর্শক সিম্পসন রাজনৈতিক বন্দিদের ওপর চরম অমানবিক অত্যাচার করতেন। এর প্রতিশোধ নিতে 1930 সালের 8 ডিসেম্বর বাংলার তিন বিপ্লবী বিনয়, বাদল ও দীনেশ রাইটার্স বিল্ডিংয়ে প্রবেশ করে সিম্পসনকে হত্যা করেন। এরপর বারান্দায় বা অলিন্দে ব্রিটিশ পুলিশের সাথে তাঁদের যে দীর্ঘ সশস্ত্র লড়াই হয়, তা অলিন্দ যুদ্ধ নামে পরিচিত।
26. ‘পুনা চুক্তি’ (Poona Pact, 1932) কাদের মধ্যে এবং কেন স্বাক্ষরিত হয়েছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: 1932 খ্রিস্টাব্দে মহাত্মা গান্ধী এবং দলিত নেতা ড. বি. আর. আম্বেদকরের মধ্যে পুনা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ব্রিটিশ সরকার দলিতদের হিন্দুদের থেকে আলাদা করে নির্বাচন করার অধিকার দিলে হিন্দু সমাজ ভাগ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তাই দলিতদের জন্য আলাদা নির্বাচনের বদলে আইনসভায় বেশি আসন সংরক্ষণের শর্তে এই চুক্তি হয়।
27. ‘ভারত ছাড়ো আন্দোলন’ (Quit India Movement, 1942) কেন শুরু হয়েছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ভারতের স্বাধীনতার দাবি নিয়ে আসা ‘ক্রিপস মিশন’ সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয় এবং জাপানি সেনাবাহিনী ভারতের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়। এই পরিস্থিতিতে ভারতকে রক্ষা করার জন্য গান্ধীজি উপলব্ধি করেন যে ব্রিটিশদের অবিলম্বে ভারত ত্যাগ করা উচিত। এই উদ্দেশ্যেই 1942 সালের আগস্ট মাসে ভারত ছাড়ো আন্দোলন শুরু হয়।
28. ‘করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে’ (Do or Die) ধ্বনির তাৎপর্য কী ছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: 1942 সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলনে গান্ধীজি ভারতবাসীকে এই মন্ত্র দিয়েছিলেন। এর অর্থ হলো— হয় আমরা ভারতকে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত করব (করেঙ্গে), নয়তো এই স্বাধীনতার সংগ্রাম করতে গিয়ে নিজেদের জীবন বিসর্জন দেব (মরেঙ্গে)। এটি ছিল ভারতবাসীর চরম আত্মত্যাগের শপথ।
29. সুভাষচন্দ্র বসু কেন ‘ফরোয়ার্ড ব্লক’ (Forward Bloc, 1939) গঠন করেছিলেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: 1939 সালের ত্রিপুরি কংগ্রেসে গান্ধীজির প্রার্থীর বিরুদ্ধে জয়লাভ করেও, গান্ধীজি ও কংগ্রেস হাইকমান্ডের সাথে চরম আদর্শগত বিরোধের কারণে সুভাষচন্দ্র বসু কংগ্রেসের সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন। এরপর বামপন্থী ও প্রগতিশীল যুবকদের একত্রিত করে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়তে তিনি কংগ্রেসের ভেতরেই ফরোয়ার্ড ব্লক গঠন করেন।
30. আজাদ হিন্দ ফৌজের (Indian National Army) প্রধান লক্ষ্য কী ছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: রাসবিহারী বসু এবং ক্যাপ্টেন মোহন সিং-এর তৈরি করা এই সেনাবাহিনীর দায়িত্ব পরে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু গ্রহণ করেন। এর প্রধান লক্ষ্য ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সুযোগ নিয়ে জাপান ও জার্মানির মতো শক্তিগুলির সাহায্য নিয়ে, ভারতের বাইরে থেকে সশস্ত্র আক্রমণের মাধ্যমে ব্রিটিশদের হাত থেকে ভারতবর্ষকে মুক্ত করা।
31. নৌ-বিদ্রোহ (Naval Mutiny, 1946) কোথায় এবং কেন শুরু হয়েছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: 1946 খ্রিস্টাব্দের 18 ফেব্রুয়ারি বোম্বাই বন্দরে ‘তলোয়ার’ নামক জাহাজে ভারতীয় নৌসেনারা বিদ্রোহ করেন। নিম্নমানের খাবার, ব্রিটিশ অফিসারদের চরম বর্ণবৈষম্যমূলক আচরণ এবং আজাদ হিন্দ ফৌজের বন্দি সেনাদের বিচারের প্রতিবাদেই এই বিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠেছিল।
32. ক্যাবিনেট মিশন বা মন্ত্রী মিশন (Cabinet Mission, 1946) ভারতে আসার প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ সরকার বুঝতে পারে ভারতে তাদের দিন ফুরিয়েছে। তাই ভারতীয় নেতাদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করার রূপরেখা তৈরি করা এবং স্বাধীন ভারতের জন্য একটি ‘গণপরিষদ’ বা সংবিধান রচনা করার সভা গঠনের উদ্দেশ্যেই ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার তিনজন সদস্য ভারতে এসেছিলেন।
অধ্যায় 7: জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন
(অতিরিক্ত সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর – 100% প্রস্তুতির জন্য)
নিচের প্রশ্নগুলির দু-তিনটি বাক্যে উত্তর দাও:
33. ‘জাতীয় শিক্ষা পরিষদ’ (National Council of Education, 1906) কেন গঠিত হয়েছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: বঙ্গভঙ্গ ও স্বদেশি আন্দোলনের সময় ব্রিটিশ প্রবর্তিত দাসত্বমূলক শিক্ষাব্যবস্থা বয়কট করে, দেশীয় আদর্শে ও জাতীয় স্বার্থে ভারতীয় ছাত্র-ছাত্রীদের বিজ্ঞান, সাহিত্য ও কারিগরি শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে 1906 খ্রিস্টাব্দে ‘জাতীয় শিক্ষা পরিষদ’ গঠিত হয়।
34. ‘অ্যান্টি-সার্কুলার সোসাইটি’ (Anti-Circular Society, 1905) কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় ব্রিটিশ সরকার ‘কার্লাইল সার্কুলার’ জারি করে ছাত্রদের আন্দোলনে যোগ দিতে নিষেধ করে এবং স্কুল-কলেজ থেকে বিতাড়িত করার হুমকি দেয়। এর প্রতিবাদে এবং বিতাড়িত ছাত্রদের বিকল্প শিক্ষার ব্যবস্থা করতে ছাত্রনেতা শচীন্দ্রপ্রসাদ বসু 1905 সালে ‘অ্যান্টি-সার্কুলার সোসাইটি’ গঠন করেছিলেন।
35. 1916 সালের ‘লখনউ চুক্তি’ (Lucknow Pact)-এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: 1916 সালে জাতীয় কংগ্রেস এবং মুসলিম লিগের মধ্যে লখনউ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর ফলে ভারতের হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে শক্তিশালী রাজনৈতিক ঐক্য স্থাপিত হয়। পাশাপাশি কংগ্রেসের চরমপন্থী ও নরমপন্থী নেতারাও পুনরায় একত্রিত হন, যা ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনকে অনেকটা এগিয়ে নিয়েছিল।
36. ‘কাকোরি ষড়যন্ত্র মামলা’ (Kakori Conspiracy Case, 1925) বলতে কী বোঝায়?
উত্তর দেখো
উত্তর: 1925 সালে ‘হিন্দুস্থান রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশন’-এর বিপ্লবীরা (রামপ্রসাদ বিসমিল, চন্দ্রশেখর আজাদ প্রমুখ) সশস্ত্র বিপ্লবের জন্য অস্ত্র কেনার অর্থ জোগাড় করতে উত্তরপ্রদেশের কাকোরি স্টেশনের কাছে একটি সরকারি ট্রেন থেকে রাজকোষ বা টাকা লুঠ করেন। ব্রিটিশ পুলিশ এর বিরুদ্ধে যে মামলা দায়ের করে, তা কাকোরি ষড়যন্ত্র মামলা নামে পরিচিত।
37. ‘তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার’ (Tamralipta Jatiya Sarkar) কবে, কোথায় গঠিত হয়েছিল? এর প্রধান কে ছিলেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: 1942 সালের ‘ভারত ছাড়ো আন্দোলন’-এর সময় মেদিনীপুর জেলার তমলুকে দেশপ্রাণ সতীশচন্দ্র সামন্তের নেতৃত্বে ‘তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার’ গঠিত হয়েছিল। এটি ছিল ব্রিটিশ শাসনমুক্ত একটি স্বাধীন সমান্তরাল সরকার, যা প্রায় দু-বছর নিজেদের নিজস্ব পুলিশ ও আদালত নিয়ে সফলভাবে কাজ করেছিল।
38. ‘তেভাগা আন্দোলন’ (Tebhaga Movement, 1946) কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: 1946 সালে অবিভক্ত বাংলায় ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির কিষাণ সভার নেতৃত্বে ভাগচাষিরা জমিদার ও জোতদারদের বিরুদ্ধে যে প্রবল সংগ্রাম শুরু করেছিল, তা ‘তেভাগা আন্দোলন’ নামে পরিচিত। তাদের মূল দাবি ছিল— উৎপন্ন ফসলের অর্ধেক নয়, বরং দুই-তৃতীয়াংশ (তেভাগা) অধিকার কৃষকদের দিতে হবে।
39. ‘রশিদ আলি দিবস’ (Rashid Ali Day) কেন পালিত হয়েছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: আজাদ হিন্দ ফৌজের অন্যতম সেনাপতি ক্যাপ্টেন রশিদ আলিকে ব্রিটিশ সরকার বিচারে 7 বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়। এর প্রতিবাদে এবং তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে 1946 সালের 11 ফেব্রুয়ারি কলকাতায় ছাত্র ও সাধারণ মানুষ যে বিশাল ধর্মঘট ও বিক্ষোভ পালন করেছিল, তা রশিদ আলি দিবস নামে পরিচিত।
40. ‘মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা’ (Mountbatten Plan) কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: ভারতের দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর জন্য ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন 1947 সালের 3 জুন একটি পরিকল্পনা পেশ করেন। এতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, ভারতবর্ষকে খণ্ডিত করে ‘ভারত’ ও ‘পাকিস্তান’ নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম দেওয়া হবে। এটিই মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা নামে পরিচিত।