অষ্টম শ্রেণী: ইতিহাস, অধ্যায় – 7 ‘ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন’ রচনাধর্মী প্রশ্নত্তোর মান 5
অধ্যায় 7: জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন
(বর্ণনামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 5)
নিচের প্রশ্নগুলির নির্দেশমতো বিস্তারিত উত্তর দাও:
1. বঙ্গভঙ্গ বিরোধী (স্বদেশি ও বয়কট) আন্দোলনের কারণ, প্রসার এবং সীমাবদ্ধতাগুলি আলোচনা করো।
উত্তর দেখো
ভূমিকা: 1905 খ্রিস্টাব্দে লর্ড কার্জন হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করেন। এর প্রতিবাদেই সমগ্র বাংলা জুড়ে স্বদেশি ও বয়কট আন্দোলন শুরু হয়।
আন্দোলনের প্রসার ও কর্মসূচি:
- বয়কট ও স্বদেশি: বাংলার মানুষ ব্রিটিশদের তৈরি কাপড়, লবণ, চিনি সহ সমস্ত বিদেশি দ্রব্য বয়কট করে এবং দেশীয় কারখানায় তৈরি জিনিসপত্র ব্যবহার (স্বদেশি) শুরু করে। জায়গায় জায়গায় বিলিতি কাপড়ের বহ্ন্যুৎসব করা হয়।
- ছাত্র ও নারীদের যোগদান: সরকারি স্কুল-কলেজ ছেড়ে হাজার হাজার ছাত্র আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অন্দরমহল থেকে বেরিয়ে এসে বাংলার নারীরাও পিকেটিংয়ে অংশ নেন এবং অরন্ধন ও রাখিবন্ধন উৎসব পালন করেন।
- জাতীয় শিক্ষা ও শিল্পের বিকাশ: বিদেশি শিক্ষার বিকল্প হিসেবে ‘জাতীয় শিক্ষা পরিষদ’ গঠিত হয়। পাশাপাশি আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের ‘বেঙ্গল কেমিক্যালস’-এর মতো একাধিক দেশীয় কলকারখানা গড়ে ওঠে।
সীমাবদ্ধতা:
- কৃষক ও মুসলিমদের অনীহা: এই আন্দোলনের মূল নেতৃত্বে ছিলেন শহরের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত হিন্দু সমাজ। গরিব কৃষক এবং সাধারণ মুসলিম সমাজের একটি বড় অংশ এই আন্দোলন থেকে দূরে ছিল।
- ব্রিটিশ দমননীতি: কার্লাইল সার্কুলার জারি করে ছাত্রদের ওপর নির্মম অত্যাচার এবং নেতাদের জেলে বন্দি করার ফলে 1908 সালের পর থেকে আন্দোলনটি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে।
উপসংহার: কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও স্বদেশি আন্দোলনই প্রথম ভারতবাসীকে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের পথ দেখিয়েছিল।
2. মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে পরিচালিত ‘অসহযোগ আন্দোলন’-এর (1920-1922) কারণ, কর্মসূচি ও ফলাফল আলোচনা করো।
উত্তর দেখো
ভূমিকা: 1920 খ্রিস্টাব্দে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ভারতের প্রথম সর্বভারতীয় গণআন্দোলন শুরু হয়, যা অসহযোগ আন্দোলন নামে পরিচিত।
আন্দোলনের কারণ:
- রাওলাট আইন ও জালিয়ানওয়ালাবাগ: ব্রিটিশদের দমনমূলক ‘রাওলাট আইন’ এবং 1919 সালের জালিয়ানওয়ালাবাগের নির্মম হত্যাকাণ্ড সমগ্র ভারতবাসীকে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ করে তুলেছিল।
- খিলাফত ইস্যু: প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের খলিফার প্রতি ব্রিটিশদের অপমানের প্রতিবাদে ভারতীয় মুসলিমরা খিলাফত আন্দোলন শুরু করেন। গান্ধীজি এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যবদ্ধ অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন।
কর্মসূচি:
- সম্পূর্ণ অহিংস পথে ব্রিটিশ সরকারের সমস্ত উপাধি, স্কুল-কলেজ, আদালত এবং আইনসভা বয়কট করা।
- বিদেশি দ্রব্য বর্জন করে চরকায় বোনা দেশি খাদি কাপড় ব্যবহার করা।
- সরকারকে কোনো প্রকার কর বা ট্যাক্স প্রদান না করা।
ফলাফল ও প্রত্যাহার:
আন্দোলন যখন চরম আকার ধারণ করেছে, তখন 1922 সালের 4 ফেব্রুয়ারি উত্তরপ্রদেশের চৌরিচৌরায় উত্তেজিত জনতা পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন লাগিয়ে 22 জন পুলিশকে পুড়িয়ে মারে। এই হিংসাত্মক ঘটনায় ব্যথিত হয়ে গান্ধীজি আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন। আন্দোলন তাৎক্ষণিকভাবে ব্যর্থ হলেও, এটি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামকে মুষ্টিমেয় শিক্ষিত মানুষের গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দিয়েছিল।
3. ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের (মাস্টারদা সূর্য সেন, বাঘা যতীন ও অন্যান্য বিপ্লবীদের) অবদান মূল্যায়ন করো।
উত্তর দেখো
ভূমিকা: কংগ্রেসের নরমপন্থী ও চরমপন্থী—উভয় ধারার রাজনীতি ব্যর্থ হলে 20 শতকের শুরুতে ভারতের যুবসমাজ ব্রিটিশদের দেশ থেকে তাড়ানোর জন্য সশস্ত্র বিপ্লবের পথ বেছে নেয়।
বিপ্লবীদের বীরত্বপূর্ণ কার্যাবলি:
- বাঘা যতীন ও বুড়িবালামের যুদ্ধ: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় জার্মান অস্ত্রের সাহায্যে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করেন। 1915 সালে ওড়িশার বালেশ্বরে ব্রিটিশ বাহিনীর সাথে সম্মুখ সমরে বীর বিক্রমে লড়াই করে তিনি শহিদ হন।
- মাস্টারদা সূর্য সেন: 1930 সালে মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে একদল তরুণ বিপ্লবী চট্টগ্রামের অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করেন এবং কয়েকদিনের জন্য চট্টগ্রামকে ব্রিটিশ শাসনমুক্ত করে সেখানে স্বাধীন ভারতের পতাকা উত্তোলন করেন।
- বিনয়-বাদল-দীনেশ: 1930 সালে এই তিন তরুণ বিপ্লবী রাইটার্স বিল্ডিংয়ে প্রবেশ করে অত্যাচারী সিম্পসনকে হত্যা করেন এবং অলিন্দ যুদ্ধে অসীম সাহসিকতার পরিচয় দেন।
- ভারতের বাইরে: গদর পার্টির মাধ্যমে লালা হরদয়াল এবং হিন্দুস্থান সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশন-এর মাধ্যমে ভগৎ সিং, চন্দ্রশেখর আজাদ প্রমুখ বিপ্লবীরা ব্রিটিশ সরকারের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন।
মূল্যায়ন: ব্রিটিশদের চরম দমননীতির কারণে সশস্ত্র বিপ্লবীরা সরাসরি স্বাধীনতা আনতে না পারলেও, তাঁদের হাসিমুখে ফাঁসির দড়ি বরণ করে নেওয়ার এই আত্মত্যাগ সারা ভারতের যুবসমাজকে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার জন্য প্রবলভাবে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল।
4. 1942 খ্রিস্টাব্দের ‘ভারত ছাড়ো আন্দোলন’-এর (Quit India Movement) প্রেক্ষাপট, বিস্তার এবং গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর দেখো
প্রেক্ষাপট: 1942 সালে একদিকে ক্রিপস মিশন ভারতীয়দের স্বাধীনতার দাবি পূরণে ব্যর্থ হয়, অন্যদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশদের পরাজিত করে জাপানি সেনাবাহিনী ভারতের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়। এর সাথে মুদ্রাস্ফীতি ও চরম অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিলে, 1942 সালের আগস্ট মাসে গান্ধীজি ব্রিটিশদের অবিলম্বে ভারত ছেড়ে যাওয়ার ডাক দেন এবং দেশবাসীকে ‘করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে’ (Do or Die) মন্ত্র দেন।
আন্দোলনের বিস্তার (গণঅভ্যুত্থান):
- আন্দোলন ঘোষণার পরের দিনই ব্রিটিশ সরকার গান্ধীজি সহ কংগ্রেসের প্রথম সারির সব নেতাকে গ্রেপ্তার করে।
- নেতাবিহীন অবস্থায় সাধারণ কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র ও মহিলারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে পথে নেমে আসেন। তাঁরা রেললাইন উপড়ে ফেলে, টেলিগ্রাফের তার কেটে এবং থানা ও সরকারি দপ্তরে আগুন লাগিয়ে ব্রিটিশ প্রশাসনকে অচল করে দেন।
- মেদিনীপুরের তমলুকে 73 বছরের বীরাঙ্গনা মাতঙ্গিনী হাজরা পুলিশের গুলিতে প্রাণ দেন এবং সেখানে সতীশচন্দ্র সামন্তের নেতৃত্বে ‘তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার’ গঠিত হয়।
গুরুত্ব: ব্রিটিশ পুলিশ ও সেনাবাহিনী নির্মম অত্যাচার চালিয়ে (প্রায় দশ হাজার মানুষকে হত্যা করে) আন্দোলনটি দমন করলেও, এই স্বতঃস্ফূর্ত গণবিস্ফোরণ ব্রিটিশদের বুঝিয়ে দিয়েছিল যে জোর করে আর ভারত শাসন করা সম্ভব নয়।
5. ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং আজাদ হিন্দ ফৌজের অবদান মূল্যায়ন করো।
উত্তর দেখো
ভূমিকা: গান্ধীজির অহিংস নীতির বিপরীতে সুভাষচন্দ্র বসু মনে করতেন যে, অস্ত্রের আঘাত ছাড়া ব্রিটিশদের ভারত থেকে তাড়ানো সম্ভব নয়। তাঁর এবং আজাদ হিন্দ ফৌজের সশস্ত্র সংগ্রাম ভারতের স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত করেছিল।
মহাভিনিষ্ক্রমণ ও আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন:
- ব্রিটিশ পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে 1941 সালে সুভাষচন্দ্র গৃহত্যাগ করেন এবং জার্মানি হয়ে 1943 সালে জাপানে পৌঁছান।
- সেখানে রাসবিহারী বসুর হাত থেকে তিনি ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’ (INA)-এর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সিঙ্গাপুরে স্বাধীন ভারতের অস্থায়ী সরকার (‘আজাদ হিন্দ সরকার’) গঠন করেন।
- তিনি নারীদের নিয়ে ‘ঝাঁসির রানি ব্রিগেড’ গঠন করেন এবং দেশবাসীকে আহ্বান জানান— “তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব।”
সশস্ত্র অভিযান ও ফলাফল:
আজাদ হিন্দ ফৌজ বীর বিক্রমে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ভারতের মণিপুরের মৈরাঙ্গ দখল করে নেয় এবং সেখানে স্বাধীন ভারতের পতাকা উত্তোলন করে। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের পরাজয় এবং প্রবল বর্ষা ও খাদ্যাভাবের কারণে আজাদ হিন্দ ফৌজ শেষ পর্যন্ত আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।
মূল্যায়ন: আজাদ হিন্দ ফৌজের সামরিক অভিযান ব্যর্থ হলেও, তাদের বীরত্বের কাহিনি সারা ভারতে ব্রিটিশ বিরোধী প্রবল উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। তাদের বিচারকে কেন্দ্র করেই 1946 সালে নৌ-বিদ্রোহ শুরু হয়, যা ব্রিটিশদের ভারত ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছিল।
6. মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে পরিচালিত ‘আইন অমান্য আন্দোলন’-এর (1930-1934) কারণ, বিস্তার এবং গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর দেখো
ভূমিকা: 1929 সালের লাহোর অধিবেশনে কংগ্রেস ‘পূর্ণ স্বরাজ’-এর দাবি গ্রহণ করার পর, মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে 1930 সালে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে ভারতের দ্বিতীয় সর্বভারতীয় গণআন্দোলন বা ‘আইন অমান্য আন্দোলন’ শুরু হয়।
আন্দোলনের কারণ ও ডান্ডি অভিযান:
- সাইমন কমিশনের ব্যর্থতা: সাইমন কমিশনে কোনো ভারতীয় সদস্য না থাকায় ভারতীয়রা ক্ষুব্ধ ছিল এবং ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের স্বায়ত্তশাসনের দাবি মানতে অস্বীকার করে।
- লবণ আইন ভঙ্গ: সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় লবণের ওপর ব্রিটিশ সরকার কর বসালে, 1930 সালের 12 মার্চ গান্ধীজি তাঁর অনুগামীদের নিয়ে সবরমতী আশ্রম থেকে ডান্ডি পর্যন্ত পদযাত্রা করেন। 6 এপ্রিল তিনি সমুদ্রের জল থেকে লবণ তৈরি করে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটিশ আইন ভঙ্গ করেন এবং আন্দোলনের সূচনা করেন।
বিস্তার ও কর্মসূচি:
- সারা দেশের মানুষ বিদেশি কাপড়, মদ ও লবণ বয়কট করে এবং কর বা ট্যাক্স দেওয়া বন্ধ করে দেয়।
- উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে খান আবদুল গফফর খানের (সীমান্ত গান্ধী) নেতৃত্বে ‘খোদাই খিদমতগার’ বা লালকোর্তা বাহিনী এক অসামান্য অহিংস আন্দোলন গড়ে তোলে। নারী ও ছাত্র সমাজ এই আন্দোলনে ব্যাপক হারে অংশগ্রহণ করে।
গুরুত্ব: ব্রিটিশ সরকার চরম দমননীতি ও পুলিশি লাঠিচার্জ করে এই আন্দোলন থামানোর চেষ্টা করে। শেষ পর্যন্ত গান্ধী-আরউইন চুক্তির মাধ্যমে আন্দোলন সাময়িক স্থগিত হলেও, এটি সারা দেশের কৃষক ও সাধারণ মানুষকে জাতীয় কংগ্রেসের পতাকাতলে একত্রিত করেছিল।
7. 20 শতকের প্রথমার্ধে ভারতের কৃষক ও শ্রমিক আন্দোলনের একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা দাও। ‘তেভাগা আন্দোলন’ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর দেখো
ভূমিকা: 20 শতকের শুরুতে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম কেবল রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং জমিদার, জোতদার ও ব্রিটিশ মালিকদের শোষণের বিরুদ্ধে দেশের কৃষক ও শ্রমিকরাও ঐক্যবদ্ধ হতে শুরু করে।
শ্রমিক আন্দোলন:
- স্বদেশি আন্দোলন এবং অসহযোগ আন্দোলনের সময় কলকারখানার শ্রমিকরা ধর্মঘট শুরু করে। বামপন্থী নেতাদের উদ্যোগে 1920 সালে ‘নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস’ (AITUC) গঠিত হয়, যা শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
- রেল, চটকল এবং সুতাকল শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধি এবং কাজের সময় কমানোর দাবিতে লাগাতার ধর্মঘট ও আন্দোলন করেছিল।
কৃষক আন্দোলন ও তেভাগা:
- গান্ধীজির নেতৃত্বে বিহারের চম্পারণ সত্যাগ্রহ (1917) এবং গুজরাটের খেদা সত্যাগ্রহ কৃষকদের অধিকার রক্ষায় সফল হয়। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের নেতৃত্বে বারদৌলি সত্যাগ্রহ কর বৃদ্ধি রদ করতে বাধ্য করে।
- তেভাগা আন্দোলন (1946): অবিভক্ত বাংলায় কমিউনিস্ট পার্টির কিষাণ সভার নেতৃত্বে ভাগচাষিরা জমিদার ও জোতদারদের বিরুদ্ধে এক ভয়ংকর সংগ্রাম শুরু করে। তাদের মূল দাবি ছিল— উৎপন্ন ফসলের অর্ধেক নয়, বরং দুই-তৃতীয়াংশ বা তিন ভাগের দু-ভাগ (তেভাগা) কৃষকদের দিতে হবে। পুলিশের গুলিতে বহু কৃষক প্রাণ দিলেও এই আন্দোলন বাংলার গ্রামীণ সমাজে এক বিশাল আলোড়ন ফেলেছিল।
উপসংহার: এই কৃষক ও শ্রমিক আন্দোলনগুলি ভারতের জাতীয়তাবাদী সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী এবং শিকড়-বিস্তৃত করেছিল।