অষ্টম শ্রেণী: ইতিহাস, অধ্যায় – ৪ : সাম্প্রদায়িকতা থেকে দেশভাগ’ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর মান ২

অধ্যায় 8: সাম্প্রদায়িকতা থেকে দেশভাগ
(সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর – মান: 2) – পর্ব 1

নিচের প্রশ্নগুলির দু-তিনটি বাক্যে উত্তর দাও:

1. ব্রিটিশদের ‘ভাগ করো ও শাসন করো’ (Divide and Rule) নীতি বলতে কী বোঝায়?

উত্তর দেখো

উত্তর: 1857 সালের মহাবিদ্রোহে হিন্দু ও মুসলিমদের ঐক্য দেখে ব্রিটিশরা ভয় পেয়েছিল। তাই ভারতে নিজেদের শাসন দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য ব্রিটিশ সরকার সুকৌশলে হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে অবিশ্বাস ও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে তাদের রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার যে চক্রান্ত করেছিল, তাকেই ‘ভাগ করো ও শাসন করো’ নীতি বলা হয়।

2. স্যার সৈয়দ আহমেদ খান কী উদ্দেশ্যে ‘আলিগড় আন্দোলন’ শুরু করেছিলেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: 19 শতকে হিন্দুরা আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষা গ্রহণ করে এগিয়ে গেলেও মুসলিম সমাজ পিছিয়ে ছিল। তাই মুসলিম সমাজের মধ্যে আধুনিক ইংরেজি ও বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে তাদের ব্রিটিশ সরকারের অনুগত এবং আর্থ-সামাজিকভাবে উন্নত করার উদ্দেশ্যেই তিনি আলিগড় আন্দোলন শুরু করেছিলেন।

3. স্যার সৈয়দ আহমেদ খান কেন জাতীয় কংগ্রেসের বিরোধিতা করেছিলেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: স্যার সৈয়দ আহমেদ খান বিশ্বাস করতেন যে, ব্রিটিশ সরকারই একমাত্র মুসলিমদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটাতে পারে। তাই তিনি মনে করতেন, ব্রিটিশ বিরোধী প্রতিষ্ঠান ‘জাতীয় কংগ্রেস’-এ যোগ দিলে মুসলিমরা ব্রিটিশদের বিরাগভাজন হবে এবং তাদের ক্ষতি হবে, এই ভেবেই তিনি কংগ্রেসের প্রবল বিরোধিতা করেছিলেন।

4. থিওডোর বেক (Theodore Beck) কে ছিলেন? তাঁর ভূমিকা কী ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: থিওডোর বেক ছিলেন আলিগড়ের ‘মহমেডান অ্যাংলো-ওরিয়েন্টাল কলেজ’-এর প্রথম ব্রিটিশ অধ্যক্ষ। তিনি সুকৌশলে স্যার সৈয়দ আহমেদ খান এবং মুসলিম ছাত্রদের মনে কংগ্রেস তথা হিন্দু বিরোধী মনোভাব জাগিয়ে তুলেছিলেন এবং মুসলিমদের ব্রিটিশদের প্রতি অনুগত হতে প্ররোচিত করেছিলেন।

5. ‘ইউনাইটেড ইন্ডিয়ান প্যাট্রিয়টিক অ্যাসোসিয়েশন’ (1888) কেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: জাতীয় কংগ্রেসের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও জনপ্রিয়তা হ্রাস করার জন্য এবং মুসলিমদের কংগ্রেস থেকে দূরে রাখার উদ্দেশ্যে স্যার সৈয়দ আহমেদ খান 1888 খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশদের মদতে এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

6. 1906 সালে ‘মুসলিম লিগ’ (Muslim League) গঠনের প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: 1906 সালে ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহ এবং আগা খানের উদ্যোগে মুসলিম লিগ গঠিত হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ সরকারের প্রতি ভারতের মুসলিমদের আনুগত্য বৃদ্ধি করা এবং মুসলিম সমাজের রাজনৈতিক ও আইনি অধিকার রক্ষা করা।

7. 1909 সালের ‘মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইন’-এর সাম্প্রদায়িক গুরুত্ব কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: এই আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার মুসলিমদের জন্য ‘পৃথক নির্বাচন’ (Separate Electorate)-এর দাবি মেনে নেয়। এর ফলে হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে রাজনৈতিক বিভেদ আইনি স্বীকৃতি পায়, যা ভবিষ্যৎ ভারত ভাগের বীজ বপন করেছিল।

8. ‘হিন্দু মহাসভা’ (1915) প্রতিষ্ঠার কারণ কী ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: মুসলিম লিগ প্রতিষ্ঠা এবং মর্লে-মিন্টো আইনে মুসলিমদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ফলে হিন্দুদের একাংশ নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে। তাই হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ করতে এবং তাদের অধিকার রক্ষার উদ্দেশ্যে 1915 সালে পণ্ডিত মদনমোহন মালব্যের নেতৃত্বে হিন্দু মহাসভা প্রতিষ্ঠিত হয়।

9. 1920-এর দশকে ‘শুদ্ধি’ ও ‘সংগঠন’ আন্দোলন কী ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: 1920-এর দশকে আর্য সমাজ হিন্দু ধর্মকে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী করার জন্য এই আন্দোলন শুরু করে। ‘শুদ্ধি’-র মাধ্যমে অন্য ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়া মানুষদের পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয় এবং ‘সংগঠন’-এর মাধ্যমে হিন্দুদের রাজনৈতিকভাবে একজোট করার কাজ শুরু হয়।

10. ‘দ্বিজাতি তত্ত্ব’ (Two-Nation Theory) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর দেখো

উত্তর: মহম্মদ আলি জিন্নাহর প্রচারিত এই তত্ত্বের মূল কথা হলো— ভারতের হিন্দু ও মুসলিমরা কেবল দুটি পৃথক ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায় নয়, বরং তারা ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং জীবনযাত্রার দিক থেকে সম্পূর্ণ আলাদা দুটি ‘জাতি’ (Nation)। তাই একটি স্বাধীন দেশে এই দুই জাতির একসঙ্গে থাকা সম্ভব নয়।

11. ‘পাকিস্তান’ (Pakistan) শব্দটির উৎপত্তি কীভাবে হয়েছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: 1933 খ্রিস্টাব্দে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র চৌধুরী রহমত আলি তাঁর ‘Now or Never’ পুস্তিকায় প্রথম ‘পাকিস্তান’ শব্দটি ব্যবহার করেন। তিনি উত্তর-পশ্চিম ভারতের মুসলিম অধ্যুষিত প্রদেশগুলির (Punjab, Afghan province, Kashmir, Sind, BaluchisTAN) আদ্যক্ষর নিয়ে এই নামটি তৈরি করেছিলেন।

12. 1940 সালের ‘লাহোর প্রস্তাব’ (Lahore Resolution)-এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: 1940 সালে মুসলিম লিগের লাহোর অধিবেশনে এ. কে. ফজলুল হক একটি প্রস্তাব পেশ করেন, যেখানে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলিকে নিয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের দাবি জানানো হয়। এটিই পরবর্তীকালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

13. ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস’ (Direct Action Day, 1946) কেন পালন করা হয়েছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: 1946 সালে ক্যাবিনেট মিশন ভারতের ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনা পেশ করলে মুসলিম লিগ অনুভব করে যে তাদের স্বাধীন পাকিস্তান গঠনের দাবি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর প্রতিবাদে এবং পাকিস্তান রাষ্ট্র আদায়ের দাবিতে বলপ্রয়োগ করার জন্য জিন্নাহ 1946 সালের 16 আগস্ট ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস’ পালনের ডাক দেন।

14. ‘দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ (Great Calcutta Killing) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর দেখো

উত্তর: 1946 সালের 16 আগস্ট মুসলিম লিগের ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস’-কে কেন্দ্র করে কলকাতায় এক চরম ভয়াবহ হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়। টানা চারদিন ধরে চলা এই উন্মত্ত হত্যাযজ্ঞে হাজার হাজার নিরীহ মানুষের মৃত্যু হয়, যা ভারতের ইতিহাসে ‘দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ নামে এক কালো অধ্যায় হয়ে আছে।

15. 1946 সালের দাঙ্গার সময় মহাত্মা গান্ধীর ভূমিকা কী ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: কলকাতার দাঙ্গার আগুন যখন পূর্ববঙ্গের নোয়াখালি ও বিহারে ছড়িয়ে পড়ে, তখন 77 বছর বয়সী মহাত্মা গান্ধী নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খালি পায়ে নোয়াখালির গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ান। তিনি দাঙ্গাপীড়িত মানুষকে সান্ত্বনা দেন এবং হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন।

16. ‘ক্যাবিনেট মিশন’ (Cabinet Mission, 1946) কেন ভারতে এসেছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ সরকার বুঝতে পারে যে ভারতে তাদের শাসন আর দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তাই ভারতের স্বাধীনতা, ভারতীয় নেতাদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর এবং স্বাধীন ভারতের সংবিধান রচনার বিষয়ে আলোচনার জন্যই ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার তিনজন সদস্য ভারতে এসেছিলেন।

17. ‘মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা’ (Mountbatten Plan, 1947) কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: 1947 সালের 3 জুন তৎকালীন ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারতের সাম্প্রদায়িক সমস্যা মেটানোর জন্য যে পরিকল্পনা পেশ করেন, তাই মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা। এতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, ভারতবর্ষকে খণ্ডিত করে ‘ভারত’ ও ‘পাকিস্তান’ নামে দুটি সম্পূর্ণ স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম দেওয়া হবে।

18. ‘ভারতের স্বাধীনতা আইন’ (Indian Independence Act, 1947) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর দেখো

উত্তর: মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনার ভিত্তিতে 1947 সালের 18 জুলাই ব্রিটিশ পার্লামেন্টে যে আইন পাস হয়, তা ভারতের স্বাধীনতা আইন নামে পরিচিত। এই আইনের মাধ্যমেই 1947 সালের 15 আগস্ট ভারতকে সরকারিভাবে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং ব্রিটিশ শাসনের চির অবসান ঘটে।

19. ‘র‍্যাডক্লিফ লাইন’ (Radcliffe Line) কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: 1947 সালে দেশভাগের সময় স্বাধীন ভারত ও স্বাধীন পাকিস্তানের ভৌগোলিক সীমানা নির্ধারণ করার জন্য ব্রিটিশ আইনজীবী স্যার সিরিল র‍্যাডক্লিফের নেতৃত্বে একটি বাউন্ডারি কমিশন তৈরি হয়। তাঁর তৈরি করা ভারত ও পাকিস্তানের এই বিভাজন রেখাই ‘র‍্যাডক্লিফ লাইন’ নামে পরিচিত।

20. 1947 সালে ‘স্বাধীন ও অখণ্ড বাংলা’ (United Sovereign Bengal) গঠনের প্রস্তাব কারা এবং কেন দিয়েছিলেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: দেশভাগের প্রাক্কালে বাংলা যেন খণ্ডিত না হয়, তার জন্য বাংলার নেতা শরৎচন্দ্র বসু এবং হোসেন শাহিদ সুহরাবর্দি বাংলাকে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হিসেবে গঠন করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু কংগ্রেস ও মুসলিম লিগের প্রবল বিরোধিতায় এই প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়।

21. দেশভাগের ফলে ভারতের কোন কোন প্রদেশকে ভাগ করা হয়েছিল এবং কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: দেশভাগের ফলে মূল দুটি প্রদেশ— ‘বাংলা’ (Bengal) এবং ‘পাঞ্জাব’ (Punjab)-কে ভাগ করা হয়েছিল। কারণ এই দুটি প্রদেশেই হিন্দু এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের জনসংখ্যার অনুপাত প্রায় কাছাকাছি ছিল, তাই ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে এদের দ্বিখণ্ডিত করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বন্টন করা হয়।

22. দেশভাগের ফলে সৃষ্ট ‘উদ্বাস্তু সমস্যা’ (Refugee Crisis) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর দেখো

উত্তর: 1947 সালে দেশভাগের পর ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হলে, লক্ষ লক্ষ হিন্দু ও শিখ পরিবার পাকিস্তান (পশ্চিম ও পূর্ব পাকিস্তান) থেকে নিজেদের বাড়িঘর ও সম্পত্তি ফেলে প্রাণভয়ে ভারতে পালিয়ে আসতে বাধ্য হন। পরিচয়হীন এই ছিন্নমূল মানুষদের পুনর্বাসন ও খাদ্যের ব্যবস্থাই স্বাধীন ভারতের কাছে সবচেয়ে বড় ‘উদ্বাস্তু সমস্যা’ হয়ে দাঁড়ায়।

23. ‘দেশীয় রাজ্য’ (Princely States) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর দেখো

উত্তর: ব্রিটিশ ভারতে সরাসরি ব্রিটিশদের শাসনাধীন এলাকার বাইরে এমন অনেক ছোট-বড় রাজ্য ছিল (যেমন: হায়দ্রাবাদ, জুনাগড়, কাশ্মীর) যেগুলি স্থানীয় ভারতীয় রাজা বা নবাবদের দ্বারা শাসিত হতো। ব্রিটিশদের বশ্যতা স্বীকার করে রাজত্ব করা এই রাজ্যগুলিকেই ‘দেশীয় রাজ্য’ বা Princely States বলা হতো।

24. দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তির ক্ষেত্রে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ভূমিকা কী ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: 1947 সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার সময় প্রায় 500-র বেশি দেশীয় রাজ্যকে ভারত বা পাকিস্তান যেকোনো রাষ্ট্রে যোগ দেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছিল। স্বাধীন ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল তাঁর অসামান্য কূটনৈতিক বুদ্ধি এবং দৃঢ় মানসিকতা দিয়ে এই রাজ্যগুলিকে ভারতের সাথে যুক্ত করে এক ভৌগোলিকভাবে অখণ্ড ও শক্তিশালী ভারত গঠন করেন।

25. স্বাধীন ভারতের সংবিধান রচনার জন্য ‘গণপরিষদ’ (Constituent Assembly) কীভাবে কাজ করেছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: 1946 সালে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে ভারতের গণপরিষদ গঠিত হয়। ড. রাজেন্দ্র প্রসাদের সভাপতিত্বে এবং ড. বি. আর. আম্বেদকরের নেতৃত্বে এই পরিষদ প্রায় 2 বছর 11 মাস ধরে নিরলস আলোচনার মাধ্যমে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশের একটি শক্তিশালী ও লিখিত সংবিধান রচনা করেছিল।

26. ভারতের সংবিধানে ড. বি. আর. আম্বেদকরের ভূমিকা কী ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: ড. বি. আর. আম্বেদকর ছিলেন গণপরিষদের ‘খসড়া কমিটি’ (Drafting Committee)-র চেয়ারম্যান। তাঁর অসাধারণ আইনি জ্ঞান এবং মেধা প্রয়োগ করে তিনি সমাজের সকল স্তরের মানুষের (বিশেষত দলিত ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণির) অধিকার সুনিশ্চিত করে ভারতের সংবিধানের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করেছিলেন।

27. 1950 সালের 26 জানুয়ারি দিনটি ভারতের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: 1950 সালের 26 জানুয়ারি স্বাধীন ভারতের লিখিত সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে সমগ্র দেশে কার্যকর হয়। এই দিনেই ভারতবর্ষ একটি গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও ‘প্রজাতন্ত্র’ (Republic) দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। 1930 সালের 26 জানুয়ারি প্রথম স্বাধীনতা দিবসের শপথকে সম্মান জানাতেই এই দিনটি বেছে নেওয়া হয়েছিল।

28. ভারতের স্বাধীনতা লাভে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব কতটা ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশরা জয়লাভ করলেও অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে তারা একেবারে ভেঙে পড়েছিল। বিশ্বজুড়ে উপনিবেশবাদের অবসান হতে শুরু করে এবং আমেরিকাসহ অন্যান্য দেশের চাপে দুর্বল ব্রিটিশ সরকারের পক্ষে বিশাল ভারতবর্ষে আর জোর করে শাসন চালানো সম্ভব ছিল না।

29. হিন্দু ও মুসলিম নেতাদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব কীভাবে দেশভাগকে ত্বরান্বিত করেছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: স্বাধীনতার ঠিক আগে কে ভারতের শাসন ক্ষমতা ভোগ করবে, তা নিয়ে জাতীয় কংগ্রেস এবং মুসলিম লিগের মধ্যে চরম অবিশ্বাস তৈরি হয়। ব্রিটিশ ক্যাবিনেট মিশনের প্রস্তাবগুলি উভয় দলই নিজেদের স্বার্থে ব্যাখ্যা করে এবং কোনো রাজনৈতিক ঐক্যে পৌঁছাতে না পারায় দেশভাগ অনিবার্য হয়ে ওঠে।

30. জাতীয় কংগ্রেস শেষ পর্যন্ত দেশভাগের প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: 1946 সালে মুসলিম লিগের ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস’-এর পর দেশজুড়ে চরম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও রক্তপাত শুরু হয়। এই ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ ও নিরীহ মানুষের মৃত্যু স্থায়ীভাবে বন্ধ করার জন্যই জওহরলাল নেহরু ও প্যাটেলের মতো নেতারা ভারী মনে শেষ পর্যন্ত দেশভাগ বা মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার